সামরিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে সিপিএন মাওবাদী (CPN Maoist)

NATIONAL_20121011091538

পার্টির পূর্ণকালীন ক্যাডারদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে নবগঠিত পার্টিকে সামরিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করতে আরম্ভ করা হয়েছে বলে দাবী করেছে নেত্র বিক্রম চাঁদ এর নেতৃত্বাধীন সিপিএন মাওবাদী। সিপিএন মাওবাদী এর অধিকাংশ সদস্য প্রাক্তন পিপল লিবারেশন আর্মি (PLA) ও যুব কমিউনিস্ট লীগ হতে আগত।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সিপিএন মাওবাদী এর এক আলোচনা সভায় যত দ্রুত সম্ভব দলের সামরিক বাহিনীকে গড়ে তোলার প্রস্তুতি গ্রহণের সীদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সামরিকীকরণকে গুরুত্ব দিয়ে দলকে পুনর্গঠিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করা হয় বলে জানান সভায় অংশগ্রহণকারী নেতারা।
নেতারা আরও বলেন, পূর্বের আলোচনা অনুযায়ী কোন পৃথক সামরিক ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাদের নেই। পার্টির সমন্বয়কারী চাঁদ এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির একটি দল বাহিনীটিকে নেতৃত্ব দেবে।

মোহন বৈদ্যের নেতৃত্বাধীন সিপিএন মাওবাদী দল থেকে পৃথক হয়ে গঠিত সিপিএন-মাওবাদী দলটিতে প্রায় ৪০ শতাংশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রয়েছে। দলটিতে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ পূর্ণকালীন ক্যাডার রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেতারা জানিয়েছেন, বাম মতাদর্শ সমর্থনকারী ইউসিপিএন (মাওবাদী) ও সিপিএন-মাওবাদী ক্যাডারদের একটি বড় অংশ নতুন পার্টিতে যোগ দিচ্ছে।
প্যারামিলিটারি কর্মকাণ্ডের জন্য পার্টি ঠিক কীভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবস্থা করবে তা এই মুহূর্তে পরিস্কার নয়। পার্টির কাছে গণযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত কয়েকশত অস্ত্র রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, অস্ত্র, গোলাবারুদ ক্রয় ও দলের অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে পার্টি ডোনেশন এর জন্য প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য বলেন, “মূল বিষয় হল দলের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে পার্টিকে একটি সশস্ত্র বাহিনীর রূপ দেয়া এবং আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম পরিচালনা করা। এটি সময়সাপেক্ষ”।

তবে এই মুহূর্তে সামরিক ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা্র বিষয়টি খারিজ করেছেন সিনিয়র নেতা খাদগা বাহাদুর বিশ্বকর্মা। তিনি বলেন, খুব শীঘ্র আন্ডারগ্রাউন্ডে যাওয়ার কিংবা যুদ্ধে ফিরে যাবার কোন ইচ্ছে দলের নেই। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্তর পর্যন্ত দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চলমান ‘ক্রুসেড’কে তরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। পার্টি এসকল কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করবে বলে বিশ্বাস করেন নেতারা। পার্টির প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর আরোপ করা হয় তবে এ ধরনের ইউনিট গঠনের কোন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়নি।

সূত্রঃ ekantipur.co

Advertisements