সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে “সিঁদ” ভারতের মাওবাদীদের

civic-police

সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে সিঁদ মাওবাদীদের

সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে আন্দোলন বাধানোর চেষ্টায় রয়েছে মাওবাদীরা৷ অনিয়মিত বেতন-সহ আর্থিক নানা দাবিদাওয়া নিয়ে সিভিক ভলান্টিয়াররা গত বছর আন্দোলনে সামিল হয়েছিল৷ রাস্তায় নেমে মিটিং-মিছিল-সভা-সমাবেশ কোনও কিছুতেই পিছপা হয়নি তারা৷ সেই সময় কোনও মতে তা সামাল দিয়েছিল রাজ্য সরকার৷ সরকারি কর্তারা পরে এই অশান্তির প্রশাসনিক ময়নাতদন্ত করে যে খবরাখবর পেয়েছেন, তা অবশ্য আরও বড় মাপের সমস্যার অশনি সঙ্কেত দিয়েছে৷ কারণ, সরকারের কাছে খবর সিভিক ভলান্টিয়ারদের ধূমায়িত অসন্তোষ আন্দোলনের পথে নিয়ে যেতে উসকানি ছিল খোদ মাওবাদীদের৷ তাদের ভূমিকা ছিল আগুনে ঘি ঢালার মতোই৷ ফলে, সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে নবান্নের কর্তাদের শিরঃপীড়া বেড়েছে বই কমেনি৷ কারণ, মাওবাদীরা আরও বড় মাপের আন্দোলন বাধানোর জন্য সিভিক ভলান্টিয়ারদের মধ্যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা সহজে ছেড়ে দেবে, তা মনে করার কোনও কারণ দেখছেন না রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকেরা৷ মাওবাদীদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে হিসাবে সিভিক ভলান্টিয়াররা অত্যন্ত ‘সফট টার্গেট’৷ কারণ, সিভিক পুলিশের সদস্যরা বয়সে কুড়ি থেকে ত্রিশের মধ্যে৷ বেশির ভাগই আর্থিক ভাবে দুর্বলতর পরিবারের সদস্য৷ অন্যদিকে, রাষ্ট্রের উর্দিবাহিনীর প্রান্তিক অংশ হলেও সিভিক পুলিশ মাওবাদীদের অনুপ্রবেশের পক্ষে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও উর্বর জমিও বটে৷ উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে কলকাতা-সহ রাজ্যে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ারদের চুক্তির পুর্ননবীকরণ হবে৷ এই ব্যাপারে তোড়জোড় চলছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরেও৷ এর মধ্যে পাঁচ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার কর্মীকে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে৷ তবে, সরকার অন্তত অদূর ভবিষ্যতে নতুন করে আর কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে নারাজ৷ কারণ, রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের তাগিদেই মমতা-সরকার সিভিক ভলান্টিয়ার বাহিনী তৈরির মতো ‘জনপ্রিয়’ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ কিন্ত্ত, নবান্নের আর্থিক টানাটানির সংসারে সিভিক ভলান্টিয়ার বেতনের ভার বহন করাও ক্রমেই সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ অন্যদিকে স্বাভাবিক ভাবেই দৈনিক ১৪১ টাকা ৮০ পয়সা ভাতায় মন ভরার কথা নয় সিভিক ভলান্টিয়ারদের৷ আর, এই অসন্তোষ পুঁজি করেই এগোতে চাইছে মাওবাদীরা৷ নবান্নের কর্তারা জেনেছেন রাজ্যে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মাওবাদীদের যে ‘মাথা’গুলি সক্রিয় ছিল, তাঁদের কেউ কেউ এই ব্যাপারে মাথা ঘামাচ্ছেন ৷ কোনও কোনও মানবাধিকার সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও কেউ কেউ সিভিক পুলিশের বিষয়ে ‘সমব্যাথী’ বোধ করছেন বলেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর৷ এই সব সংগঠন আদতে মাওবাদীদের ‘ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন’ হওয়ায় সরকারি কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে৷ অবশ্য সরকারও চুপ করে বসে নেই৷ সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে৷ এর সমান্তরাল ধারায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন যেন নিয়মিত হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকছে সরকার৷ যাতে আর্থিক অনটনকে চাঁদমারি না করে তার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে না পারে মাওবাদীরা৷

সূত্র – http://eisamay.indiatimes.com/

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s