ভারতের গণযুদ্ধের লাল সংবাদ-১০/০৩/২০১৫

file (3)

-বহুবিবাহের ধারা বিরোধী ছত্তিসগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা

বহুবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ধারাকে অনুসরণ ক’রে ছত্তিসগড়ে বিবাহিত পুরুষ অপেক্ষা বিবাহিত নারীর সংখ্যার আধিক্য যেখানে বহুবিবাহের নির্দেশ করে, সেখানে ছত্তিসগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিবাহিত পুরুষের সংখ্যার আধিক্যের মাধ্যমে বহুবিবাহ বিরোধী ধারা পরিলক্ষিত হয়।

-ছত্তিসগড়ে রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত বাহনে মাওবাদীদের অগ্নিসংযোগ

রবিবার বিজাপুর জেলার পুন্নুর গ্রামে রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত দুইটি বাহনে অগ্নিসংযোগ করেছে সিপিআই (মাওবাদী) এর ক্যাডাররা।

সূত্রঃ timesofindia.indiatimes.com/ satp.org


MLKP এর যোদ্ধা ইভানা হফম্যান, তেল তামর এর বাইরে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত

Marxist Leninist Communist Party Turkey

(MLKP)

10405676_976413155702454_5313717097509866950_n

 

 

 “আমাদের কমরেড আভাশিন, তেল তামর এর আসিরিয়ান গ্রামগুলোতে আইএস জঙ্গিদের রক্তক্ষয়ী হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র হাতে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেছেন… এই লড়াইয়ে আইএস জঙ্গিদের অনেক সদস্য খতম হয়েছে। YPG এর যোদ্ধাদের সাথে আমাদের কমরেড আভাশিন বন্দুকের শেষ বুলেটটি পর্যন্ত যুদ্ধ করে গেছেন”।

-MLKP(Marxist Leninist Communist Party Turkey) এর বিবৃতি

Source– signalfire.org


প্রতি তিন দিনে একজন সিআরপিএফ জওয়ান আত্মহত্যা করে বলে পরিসংখ্যানে প্রকাশ

09Fir06.qxp

 

 

ভারত

মাওবাদীদের বুলেটে ভারত যত না মিলিটারি জওয়ান হারাচ্ছে তার চেয়ে বেশী হারাচ্ছে কর্মক্ষেত্রে দরিদ্র অবস্থা ও উচ্চ মানসিক চাপের কারণে। আশংকাজনক এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতি তিন দিনে একজন প্যারামিলিটারি জওয়ান আত্মহত্যা করে। মাওবাদীদের সাথে যুদ্ধরত সিআরপিএফ জওয়ানরা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে থাকে।

হৃদরোগ, ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি র মত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সিআরপিএফ বাহিনীর জওয়ানরা। গত পাঁচ বছরে এই তিনটি রোগে ১,১৩১ জন জওয়ান মৃত্যবরণ করেছে অথচ মাওবাদীদের হাতে মৃত্যুবরণ করেছে মাত্র ৩২৩ জন। দেশটির বৃহত্তম প্যারামিলিটারি বাহিনী সিআরপিএফ এ তিন লাখের বেশি জওয়ান রয়েছে যারা প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধরত। জঙ্গলে মাওবাদীদের সাথে, জম্মু ও কাশ্মীরে, উত্তর পূর্ব অঞ্চলে সর্বত্র জওয়ানদের পরিস্থিতি শোচনীয়। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্যারামিলিটারি বাহিনীর ৩৭০ জন জওয়ান আত্মহত্যা করে। প্যারামিলিটারি বাহিনীর ভেতরে সিআরপিএফ এ জওয়ানদের ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশী। অন্যান্য বাহিনীর ভেতরে এ হার সীমিত অথচ সিআরপিএফ ঝরে পড়ার হার অনেক বেশী। ২০১৪ সালে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন জওয়ানকে হারায় এ বাহিনী। ২০১৪ সালে পরিণত হবার আগেই ছয় হাজারের বেশী জওয়ান বাহিনী ত্যাগ করে। অপরদিকে ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪১৮৬। টয়লেটের অভাব সহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ সুবিধার অভাবে মাওবাদী অধ্যুষিত জঙ্গলগুলোতে বাহিনীর জওয়ানরা রোগাক্রান্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মানবেতর অবস্থার কারণে সিআরপিএফ এর জওয়ানরা বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সূত্রঃ dailymail.co.uk


বিএড ছাত্র ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ালো মাওবাদীরা, দাবী মানল বিশ্ববিদ্যালয়

41_big

বিহার বিশ্ববিদ্যালয় 

চার মাস ধরে পড়ুয়াদের লাগাতার বিক্ষোভ-আন্দোলনে যে কাজ হয়নি, মাওবাদী নেতার চিঠিতে ২৪ ঘণ্টায় তা হাসিল হল! বিএড পাঠ্যক্রমে ভর্তির জন্য কয়েকটি কলেজ অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছিল আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীরা। পড়ুয়াদের বক্তব্য, নালিশ জানালেও এ নিয়ে তৎপর হয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ, বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ও।

এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে গেল। মাওবাদীদের এক আঞ্চলিক কম্যান্ডারের স্বাক্ষরিত চিঠি মুজফ্ফরপুর-স্থিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দেওয়ালে ঝুলতে দেখা যায়। উপাচার্যকে উদ্দেশ করে তাতে হুঁশিয়ারির সুরে লেখা ছিল, বিএড পাঠ্যক্রম নিয়ে পড়ুয়াদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে ফল ভাল হবে না। একই চিঠি পাওয়া যায় ‘অভিযুক্ত’ কলেজগুলিতেও। তড়িঘড়ি তিন জনের কমিটি গড়ে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ।

কী লেখা ছিল মাওবাদী নেতার চিঠিতে? মুজফ্ফরপুরের ছাত্র সংগঠনের নেতা মুকুল শর্মা বলেন, “মাওবাদীদের আঞ্চলিক কম্যান্ডার লখিন্দ্র সাহনির স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে লেখা ছিল দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কর্তৃপক্ষ তার ফলাফলের জন্য দায়ী থাকবেন।”

মাওবাদী নেতার চিঠির কথা সরাসরি স্বীকার করেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কর্তা। তবে জেলার এসএসপি রঞ্জিৎ মিশ্র বলেন, “আমাদের কাছে এমনই খবর এসেছে। কিন্তু এ নিয়ে পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নিজস্ব সমস্যা।” পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের থানাকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজির্স্টার ভি কে শুক্লা এ দিন বলেন, “আবেদনকারীদের তালিকা এবং অন্য নথি মার্চ মাসের মধ্যে আমাদের কাছে পাঠানোর জন্য কলেজগুলির অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫ মার্চের মধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্টও জমা পড়বে।”

বি এডে আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীদের একাংশের অভিযোগ ছিল,  মুজফফ্রপুরের দু’টি এবং পূর্ব চম্পারণ ও বৈশালীর একটি করে কলেজ ওই পাঠ্যক্রমে ভর্তির জন্য অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। তার জন্য রসিদও মিলছে না। চার মাস ধরে পড়ুয়ারা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন। বিষয়টি বিহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়। কিন্তু তাতে লাভ কিছুই হয়নি। অজয় কুমার নামে এক ছাত্র বলেন, “কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ওই তরফ থেকে কোনও সাড়া পাইনি।”

সুত্র http://www.anandabazar.com/national/জঙ-গ-ন-ত-র-হ-মক-প-য়-ই-পড়-য়-দ-র-প-শ-ব-শ-বব-দ-য-লয়-1.119199


শেষ সময়ে বাবার পাশে জনগণের কমিটির জেলবন্দি নেতা ছত্রধর মাহাতো

image

শেষ সময়ে বাবার পাশে ছত্রধর

 

 

শেষ ফাল্গুনের বাতাসে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব। শনিবার মধ্য রাতে  লালগড়ের আমলিয়া গ্রামে তখনও উৎসাহী জনতার ভিড়। চার বছর পর ফের লাল ধুলো উড়িয়ে পুলিশের গাড়ি এসে থামল মাটির দোতলা বাড়িটার সামনে। সে বার প্যারোলে ছাড়া পেয়ে ভাইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে এসেছিলেন। এবার এলেন বাবার শেষকৃত্যে। সাদা ফতুয়ার উপর হলুদ-লাল ডুরে কাটা নীল রঙের কম্বল জড়ানো। ছাই রঙা মাফলারে কান ঢাকা। চোখে স্টিল ফ্রেমের পাওয়ার চশমা।  প্রিজন ভ্যান থেকে নামলেন জনগণের কমিটির জেলবন্দি নেতা ছত্রধর মাহাতো।

বাড়ির উঠোনে বরফের উপ রাখা ছিল অশীতিপর বাবা আশুতোষ মাহাতোর নিথর দেহ। পাশে বসে থাকা মা বেদনবালাদেবী বড় ছেলেকে দেখে ডুকরে কেঁদে বলে ওঠেন, “তোর আন্দোলনের সাথীরা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেল। আর তুই এখনও জেলে পচছিস। তোর বাবা তোকে শেষ বারের মতো দেখতে পেলেন না।” মাকে জড়িয়ে ধরে প্রথমে কেঁদে ফেলেন ছত্রধর। তারপর কোনও জবাব না দিয়ে বাবার দেহে হাত বুলিয়ে চোখের জল ফেলতে থাকেন। কুর্মি প্রথা অনুযায়ী বাবার শরীরে হলুদ, তেল ও চন্দন মাখিয়ে দেন ছত্রধর। শেষ যাত্রায় বাঁশের খাটিয়ায় আশুতোষবাবুর দেহ কাঁধে চাপিয়ে নিয়ে যান ছত্রধর ও তাঁর ছোট ভাই অনিল এবং ছত্রধরের ছোট ছেলে দেবীপ্রসাদ ও পরিজনরা। পুলিশের কড়া পাহারায় বাবার মুখাগ্নি করেন ছত্রধর। চিতা না নেভা পর্যন্ত শ্মশানেই বসে ছিলেন তিনি। ভোরের আলো ফোটার পরে দুই ছেলের হাত ধরে বাড়ি ফিরে প্রথামতো পা ধুয়ে পোষাক বদলান ছত্রধর। বাড়ির একতলার ঘরে পুলিশি প্রহরায় আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ চায়ে চুমুক দিয়ে পুলিশের গাড়িতে ওঠেন ছত্রধর।

২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হওয়ার পর টানা সাড়ে পাঁচ বছর জেলবন্দি রয়েছেন ছত্রধর। তবে চার বছর আগে ২০১১ সালের মার্চে মেজ ভাই মাওবাদী শীর্ষ নেতা শশধর মাহাতোর শেষকৃত্য, ঘাট ও শ্রাদ্ধে যোগ দিতে প্যারোলে ছাড়া তিন বার আমলিয়া গ্রামে এসেছিলেন ছত্রধর। তখন তাঁর ঠিকানা ছিল মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল। ছত্রধর এখন আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি। শুক্রবার রাতে আমলিয়া গ্রামের বাড়িতে আশুতোষবাবুর মৃত্যু হয়। বাবার শেষকৃত্যে বড় ছেলে ছত্রধর যাতে যোগ দিতে পারেন, সে জন্য শনিবার ঝাড়গ্রাম দ্বিতীয় এসিজেএম আদালতে আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী কৌশিক সিংহ। ছত্রধরের আইনজীবী কৌশিক সিংহ বলেন, “ক্ষৌরকর্ম ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যাতে ছত্রধর যোগ দিতে পারেন, সেই আবেদন জানাব।”

সুত্র

http://www.anandabazar.com/district/mednipore/ব-ব-র-ম-খ-গ-ন-করল-ন-ছত-রধর-1.122028


‘তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটি’র (টিপিসি) এক আঞ্চলিক কম্যান্ডারকে গুলি করে খতম করল মাওবাদীরা

0723_maoist

 

পুলিশের চর অভিযোগে ‘তৃতীয় প্রস্তুতি কমিটি’র (টিপিসি) এক আঞ্চলিক কম্যান্ডারকে গুলি করে খতম করল মাওবাদীরা। পুলিশ জানায়, কুলদীপ যাদব নামে ওই জঙ্গিনেতাকে ৭ মার্চ পলামুর কুলহিয়ার বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। সোমবার সকালে হরিহরগঞ্জের দোবাটিয়া মোড় এলাকা থেকে তার গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে মিলেছে কয়েকটি মাওবাদী পোস্টার। তদন্তকারীরা জানান, ২০১৩ সালে হোলির সময় চতরার লকড়বন্দায় মাওবাদীদের বৈঠক চলাকালীন টিপিসি জঙ্গিরা হামলা চালায়। অতর্কিত আক্রমণে ১৩ জন মাও জঙ্গির মৃত্যু হয়। তার জেরে ঝাড়খণ্ডে বন্ধ ডাকে মাওবাদীরা। পুলিশের মদতে টিপিসি জঙ্গিরা ওই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে মাওবাদী সংগঠন। তার জেরে থানায় হামলা চালানো হয়। কয়েক জায়গায় বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া রেল লাইন। ওই বৈঠকের খবর কুলদীপই পুলিশ ও টিপিসি নেতৃত্বকে দিয়েছিল বলে মাও জঙ্গিদের অভিযোগ। এ দিন ঘটনাস্থলে উদ্ধার মাওবাদী পোস্টারে এমনই কথা লেখা রয়েছে।

সুত্রhttp://www.anandabazar.com/national/brief-story-1.122428


ভারতীয় মাওবাদ বোঝার ক্ষেত্রে “তিন প্রজন্ম (১৯৬৭-২০১৩)” – অধ্যাপক সুমন্ত্র বোস, আন্তর্জাতিক ও তুলনামূলক রাজনীতি বিভাগ, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স 

 

ভারতীয় মাওবাদ বোঝার ক্ষেত্রে – “তিন প্রজন্ম (১৯৬৭-২০১৩)”

অধ্যাপক সুমন্ত্র বোস, আন্তর্জাতিক ও তুলনামূলক রাজনীতি বিভাগ, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স