দেশব্যাপী সংগঠিত অপরাধ থেকে মেক্সিকোকে রক্ষার জন্যে শত শত নারী অস্ত্র হাতে নেমে পড়েছেন –

protecting-bell

মেক্সিকান শহরের এক্সালতিয়াঙ্গুইস এর শত শত  নারী  সংগঠিত অপরাধ থেকে তাদের শহরকে রক্ষা করতে নিজস্ব সম্প্রদায়ের  প্রতিরক্ষা সংস্থা গঠন করেছে।  এই সব নারীরা Union of Peoples and Organizations of Guerrero State বা UPOEG এর হয়ে সংগঠিত হয়েছেন ।

স্থানীয় এই সম্প্রদায়ের আত্মরক্ষা বাহিনী কমান্ডার মিগুয়েল এঞ্জেল জিমেনেয এর মতে, এসব নারী বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে এক্সালতিয়াঙ্গুইস এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় টহল দেবে।
যা শুধু আকাপূল্কো এর বাইরে একটি ছোট শহর কেন্দ্রিক।

এঞ্জেল জিমেনেয বলেন, “আমাদের মাত্র ৮০টি অস্ত্র আছে। প্রতিটি নারী সদস্যই অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। তারা পালা বদল করে অস্ত্র গুলো ব্যবহার করেন। আমি বিশ্বাস করি, একসময় যখন জনগণ দেখবে যে, নারীরা ব্যাপকভাবে অংশ নিচ্ছে, তখন জনগণই অস্ত্রের জোগান দেবে।”

সিলভিয়া হিপ্লিতো ২ সন্তানের মা, এমন আরও অনেক মা আছেন যারা এই সংস্থায় যোগ দিয়েছেন ।

হিপ্লিতো বলেন, নারীরা সাহসী হয়, এতে করে আমরা আমাদের শহর রক্ষা করতে সক্ষম।

সরকার এবং স্থানীয় পুলিশ বাহিনী অপরাধ দমন করতে ব্যর্থ হাওয়ায় সারা মেক্সিকো জুড়ে এই ধরণের নিজস্ব সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবক  প্রতিরক্ষা সংস্থা গঠন হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মেক্সিকোতে বর্তমানে গণ অপহরণ ও ৪৩ জন ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশব্যাপী বড় আকারের বিক্ষোভ হচ্ছে।  বলা হচ্ছে, এই বিষয়ে সরকার ও সংগঠিত অপরাধী উভয়েই একটি বড় ভূমিকা পালন করছে ।

সুত্র– https://redpowermedia.wordpress.com/2014/12/08/hundreds-of-armed-women-defend-mexican-city-from-cartels/

Advertisements

তুরস্ক – কমিউনিস্ট মিলিশিয়ারা তাদের ধর্মরাষ্ট্র/পুঁজিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে তুরস্কের রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন –

আজ সকালে তুরস্ক পুলিশ কর্তৃক কমিউনিস্ট সদস্য হত্যা ও ২২ সদস্যকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তুরস্কের মার্কসবাদী বামপন্থী দল রেভ্যুলেশনারি পিপলস লিবারেশন পার্টি-ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি/সি) এর  কমিউনিস্ট মিলিশিয়ারা তাদের ধর্মরাষ্ট্র/পুঁজিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে তুরস্কের রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন – 

 

11094683_873812702675087_3992416292114066473_n

 

11124712_873812696008421_8438610342295714113_n

 

11102643_873812692675088_2555360827832588317_n

 

10565131_873812676008423_8831880421586683459_n


ভারতের গণযুদ্ধে শহীদ নারী (৬), কমরেড মোরতাদ নারসাক্কা

maoists-danger-in-india

কমরেড মোরতাদ  নারসাক্কা

কমরেড মোরথাদা নারসাক্কা করিমনগর  জেলার ইলাপুর গ্রামের একটি গরীব হরিজন কৃষি শ্রমিক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পুলিশের সাথে একটি ভূয়া সংঘর্ষে ১৯৮৭ সালে তার এক ভাই মারা যান। কমরেড নারসাক্কা রাষ্ট্রযন্ত্র ও এর পুলিশ বাহিনীর খুনী চরিত্র উপলব্ধি করলেন এবং প্রত্যাঘাতের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন। তিনি বিপ্লবী যুবলীগ(RYL)-এ যোগ দিলেন। শীঘ্রই আত্মনিবেদিত প্রচেষ্টায় RYL-এর কার্যনির্বাহী সদস্যপদ লাভ করলেন। তিনি কৃষি ও গরীব কৃষকদের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রামে সমাবেশিত করেন ও তাদেরকে জঙ্গী লড়াইয়ে পরিচালিত করেন। কুখ্যাত জমিদার রাজ্য নরসিংহ রায়ের অধীনস্ত ৫০০ তেঁতুল গাছের ফল ও আম গাছের আম দখলে জনগণকে সংগঠিত করেন ও এতে অংশ নেন। সংসদীয় নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করানোর জন্য তিনি ঘরে ঘরে অভিযান চালান। ফলে গ্রামের ৬০০০(ছয় হাজার) ভোটের মধ্যে মাত্র ৯১টি ভোট বাক্সে যায়। তিনি নারী বিড়ি শ্রমিকদের সংগঠিত করে বিপ্লবী রাজনীতিতে দীক্ষা দেন। এক জাঁদরেল জমিদারের বাড়ী থেকে এক লক্ষ টাকার ধান ও অন্যান্য জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করতে প্রায় ৪০০০ কৃষকের নেতৃত্ব দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ গ্রামটি আক্রমণ করে ১২০ জন (যার অধিকাংশ নারী)-কে টাডা আইনে গ্রেফতার করে। এসব বর্বর সাংঘাতিক দমন-নিপীড়নের মাঝে কমরেড নারসাক্কা এমনভাবে জনগণের মধ্যে কাজ করেন যেন পানির মধ্যে মাছ। তিনি আশেপাশের ৪/৫টি গ্রামে সংগঠন গড়ে তোলেন। পুলিশ ক্যাম্প থাকা অবস্থায়ও তিনি ২৮শে জুলাই নিজ গ্রামে পার্টি প্রতিষ্ঠাতা কমরেড চারু মজুমদারের মৃত্যু দিবসে শহীদ দিবস পালন করেন। পুলিশের এক গুপ্তচরকে প্রকাশ্যে ধরে আনা হলে তিনি তাকে তিরস্কার করেন ও সাজা দেন। পুলিশ বাহিনী ও জমিদার গোষ্ঠী অবশেষে নারসাক্কার ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে আর যে কোন মূল্যে তাকে শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আগেই গুপ্তচরের তথ্য পেয়ে ১৯৯২ সালের ২৭শে জানুয়ারী এক অন্ধকার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে, অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ২০ বছরের কম বয়সী নিরস্ত্র নারসাক্কাকে হত্যা করে পুলিশ একটি “প্রতিরোধ সংঘর্ষ”-এর গাঁজাখুরী গল্প প্রচার করে।

   এই তরুনী নারী কমরেড তার কর্মজীবনে নির্ভীকতা, স্পষ্টবাদিতা, আন্তরিক সমালোচনা, নিরলস প্রচেষ্টা, পরিপূর্ণ জনসম্পৃক্ততা ও প্রচন্ড বিপ্লবী চেতনার আদর্শে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে যান। তার চির অম্লান স্মৃতি সকল নারী কর্মীদের এক ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাতে উৎসাহিত করবে।

নোট

চিন্নাক্কা- তেলেগু ভাষায় নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাডাক আক্কা, চিন্না+আক্কা=চিন্নাক্কা=চিন্নাদি (বাংলা)। আন্না-পুরুষদেরকে শ্রদ্ধাডাক আন্না, যেমন – রমেশ+আন্না=রমেশান্না=রমেশদা (বাংলা)।

ভূয়া সংঘর্ষ- অন্ধ্রপ্রদেশে পুলিশ বিপ্লবীদের গ্রেফতারের পর হত্যা করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত বলে প্রচার মাধ্যমে প্রচার করে, এটা নিত্যদিনের ঘটনা -অনুবাদ সম্পাদক)

সুত্র

http://bannedthought.net/India/CPI-Maoist- Docs/Women/WomenMartyrsNaxalbariTo2010-Vol-1.pmd.pdf


আইনজীবীকে আদালতের মধ্যেই বন্দি ও হত্যা করল- তুরস্কের সশস্ত্র মার্কসবাদী বামপন্থী দল

Turkey_2

এক আইনজীবীকে আদালতের মধ্যেই বন্দি ও হত্যা করল করল  মার্কসবাদী বামপন্থী দল রেভ্যুলেশনারি পিপলস লিবারেশন পার্টি-ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি/সি)

মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে তুরস্কের রাজধানী ইস্তানবুলে। ২০১৩ সালের মার্চে সরকার-বিরোধী একটি মিছিলে পুলিশের গুলিতে জখম হন বার্কিন ইভান নামে এক যুবক। ২৬৯ দিন কোমায় থাকার পরে মারা যান বার্কিন। প্রতিবাদে পথে নামে গোটা দেশ। ইস্তানবুলের আদালতে সেই  বার্কিনের মৃত্যু নিয়েই মামলা লড়ছিলেন  মহম্মদ সেলিম কিরাজ নামে ওই আইনজীবী। তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত খবর অনুযায়ী, তুরস্কে নিষিদ্ধ বাম সংগঠন ‘দ্য রেভলিউশনারি পিপলস লিবারেশন পার্টি ফ্রন্ট’ বা ডিএইচকেপি-সি’র সদস্য সমর্থকেরাই কিরাজকে বন্দি করেছে। সূত্রের খবর, কিরাজকে বন্দি করার পরে তাঁর হাত বেঁধে রেখে, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সেই ছবি ডিএইচকেপি-সি’র ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। হুমকি দেওয়া হয়, তাদের দাবি না মানা হলে কিয়াজকে মেরে ফেলা হবে।

আজ সকালে এই ঘটনার খবর ছড়াতেই তৎপর হয় পুলিশ ও সেনা। ইস্তানবুলের ওই আদালত চত্বর খালি করে দেওয়া হয়েছে। একটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, আদালতে সশস্ত্র ওই মার্কসবাদীরা ঢোকার পরেই গুলির আওয়াজ শোনা যায়। আদালত ভবনের পাঁচ তলায় ডিএইচকেপি-সি’র পতাকাও উড়তে দেখা গিয়েছে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছবিটিও জাতীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এবং তুরস্কে আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে  ডিএইচকেপি-সি’‌কে। ২০১৩ সালে মার্কিন দূতাবাসে আত্মঘাতী হামলায় অভিযুক্ত এই সংগঠনকে জঙ্গি সংগঠনের তকমা দেওয়া হয়েছে।সূত্রের খবর, ডিএইচকেপি-সি’র দাবি, সরকার বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নয়, তারা বার্কিনের হত্যার তদন্ত জনতার আদালতে করবে। যে পুলিশকর্মীর গুলিতে বার্কিনের মৃত্যু হয়েছে, তাকে অবিলম্বে টেলিভিশন চ্যানেলে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছে এই বাম সংগঠন। তাদের হুমকি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই পুলিশকর্মী ধরা না দিলে হত্যা করা হবে কিরাজকে। আজই ডিএইচকেপি-সি’ একটি দাবিপত্র প্রকাশ হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বার্কিনের হত্যার প্রতিবাদে  যাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব  মামলা তুলে নিতে হবে সরকারকে। তাদের দাবি, আদালতের মধ্যে আটকে থাকা ডিএইচকেপি-সি’র সশস্ত্র সদস্যদের পিছনের দরজা দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিতে হবে। অবিলম্বে সরকারের তরফে  ডিএইচকেপি-সি’র সঙ্গে কথা বলার জন্য একটি দল গঠন করার দাবিও তুলেছে তারা।

turkey-hostage-end-(1)_ther_72132

শেষ সংবাদ –

তুরস্কে ইস্তাম্বুলের  আদালতে বন্দী ঘটনার উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে দেশটির পুলিশ। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় বিতর্কিত একটি মামলায় জড়িত এক প্রসিকিউটরকে বন্দী করা হয়েছিল। ইস্তাম্বুলের পুলিশ প্রধান সালামি আলতিওক গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযান চলার সময় গুলিতে দুই মার্কসবাদী নিহত হয়েছে। এসময় গুরুতর আহত হন প্রসিকিউটর মেহমেত সেলিম কিরাজ। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। তিনি জানান, কিরাজকে বন্দী করে রাখার পর ও অভিযান চালানোর আগে ছয় ঘণ্টা মার্কসবাদীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, জিম্মি করে রাখা কক্ষটি থেকে গুলির আওয়াজ আসার পর আমরা অভিযান চালাই। এই বন্দীকারীরা মার্কসবাদী বামপন্থী দল রেভ্যুলেশনারি পিপলস লিবারেশন পার্টি-ফ্রন্ট (ডিএইচকেপি/সি) এর সঙ্গে জড়িত। উল্লেখ্য, মেহমেত সেলিম কিরাজ নামের ওই আইনজীবী বার্কিন এলভান নামের এক কিশোর নিহতের ঘটনার তদন্ত করছিলেন।

People hold portraits of Berkin Elvan during a sit-in demonstration in Ankara

২০১৩ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর আহত হয়। পরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সে মারা যায়। এদিকে কিরাজকে বন্দী করার পর মার্কসবাদীরা শর্ত দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে (যার গুলিতে ওই কিশোর আহত হয়) প্রকাশ্যে হত্যার দায় স্বীকার করতে হবে। সরকারি আদালত নয়, গণআদালতে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিচার করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ওই কিশোরের মৃত্যুর পর তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছিলেন, “সে হালকা আঘাত পেয়েছিল। সেইসঙ্গে ওই কিশোর সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেন তিনি”।

সুত্র – BBC,

http://www.hurriyetdailynews.com