ভারতঃ গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালালো স্বাধীনতাকামী দল গুলো

NSCN_20100322

গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর যৌথ হামলা চালালো উত্তর-পূর্বের স্বাধীনতাকামী দল গুলো।  

nscn

সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভাঙার পর ফের নিরাপত্তাবাহিনীর উপরে আঘাত হানল এনএসসিএন খাপলাং বাহিনী। আজ সকালে অরুণাচলপ্রদেশে ওই সশস্ত্র হামলায় তিন সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়। এর আগে নাগাল্যান্ডের ওখায় আসাম রাইফেল্‌স-এর কনভয়ে হামলা চালিয়ে ৪ জওয়ানকে জখম করেছিল খাপলাং বাহিনী। কোহিমা থেকে সেনা মুখপাত্র এমরন মুসাভি জানান, এ দিন লংডিং জেলা থেকে মায়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা তিরাপ জেলা যাচ্ছিল সেনা কনভয়। খোনসা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলে থাকা সশস্ত্র সদস্য হামলা চালায়। ৬ জওয়ান জখম হন। দু’পক্ষে সংঘর্ষের পর সশস্ত্র সদস্যরা জঙ্গলে পালায়। জখম জওয়ানদের তিন জনকে ডিব্রুগড়ের সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের মৃত্যু হয়। সেনা সূত্রে খবর, খাপলাং বাহিনী ভারত সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি ভাঙার আগে থেকেই তিরাপ ও খোনসা জেলায় তাদের সঙ্গে এনএসসিএন (আইএম) বাহিনীর এলাকা দখলের লড়াই চলছে। সেনাবাহিনী ও আসাম রাইফেল্‌সও নাগা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। দু’পক্ষের লড়াইয়ে কয়েক জন নাগা সশস্ত্র সদস্য মারা গিয়েছে। মায়ানমারে খাপলাংদের আশ্রয়ে থাকা পরেশ বরুয়ার নেতৃত্বাধীন আলফা ও মণিপুরের পিএলএ ভারত সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় খাপলাংকে সমর্থন জানায়। তারা যৌথ ভাবে লড়াইয়েরও অঙ্গীকার করেছে। পিএলএ ৩১ মার্চ মণিপুরের উখরুলে আসাম রাইফেল্‌স-এর কনভয়ে হামলা চালিয়ে দুই জওয়ানকে মারে। সেনাসূত্রে খবর, এই ঘটনায় খাপলাং বাহিনীর সঙ্গে আলফা সশস্ত্র সদস্যদেরও জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।

RPF_20070925

গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ পেয়েই আসাম রাইফেল্‌স-এর কনভয়ে হামলা চালানো হয়— এমনই দাবি করল মণিপুরি সশস্ত্র সংগঠন আরপিএফ-এর সামরিক শাখা পিএলএ। ৩১ মার্চ উখরুল জেলার কামজং কুলে ওই হানায় দুই জওয়ান প্রাণ হারান। এক জঙ্গিও মারা যায়। সশস্ত্র সদস্যদের বক্তব্য, গ্রামের বাসিন্দাদের উপরে জওয়ানরা নিয়মিত অত্যাচার করত। উপায় না পেয়ে গ্রামবাসীরা তাদের শরণাপন্ন হন। পিএলএ-র প্রচার সচিব রবেন খুমান বলেন, ‘‘যত ক্ষণ না আসাম রাইফেল্‌স বাহিনী উখরুল ছেড়ে চলে না যাবে, তত দিন হামলা চলতে থাকবে।’’

নোট

উল্লেখ্য যে,  পঞ্চাশ বছর আগে ভারতের ১৬ নম্বর অঙ্গরাজ্য হিসেবে আবির্ভাবের আগে নাগাল্যান্ড ছিল আসামেরই একটি জেলা। কিন্তু পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে নাগাদের আন্দোলন চলছে তারও অনেক আগে থেকে – সেই ১৯৪৭ সালেই আঙ্গামি ফিজোর নেতৃত্বে নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল প্রথম এই দাবি তোলে।

পরে ১৯৮০তে তৈরি হয় এনএসসিএন বা ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড – যাদের দাবি ছিল গ্রেটার নাগাল্যান্ড গঠন।

                                     নাগা নেতা টি মুইভাহ

সেই এনএসসিএন পরে দুভাগ হয়েছে আইজ্যাক-মুইভা আর খাপলাং, এই সব নাগা গোষ্ঠীর নেতারা গ্রেটার নাগাল্যান্ডে এখনকার নাগাল্যান্ড ছাড়াও অন্তর্ভুক্ত করতে চান আসামের কাছাড় হিলস ও মণিপুর রাজ্যের একাংশকে – যা ভারত সরকার মানতে রাজি নয়।

সুত্র – http://www.bbc.co.uk/, http://www.anandabazar.com/


ভারতের গণযুদ্ধে শহীদ নারী (৮), কমরেড মাধবী লতা

maoists-danger-in-india

 

কমরেড মাধবী লতা

কমরেড মাধবীলতা তেনাল্লী শহরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর নিজের ভরণপোষণের জন্য ও মাকে সাহায্য করতে এক মহিলা দর্জি দোকানে চাকরী নেন। একজন নারী শ্রমিক হিসেবে তিনি বিপ্লবী রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন। তিনি উপলব্ধি করলেন তাদের দুঃখ-দৈন্য ও মায়ের দুর্দশা শোষণমূলক এই সমাজের সাথে অবিচ্ছেদ্য বিষয় এবং এই সমস্যার বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম জয়যুক্ত হবে যদি তাকে জনগণের শ্রেণী সংগ্রামের সাথে মেলানো যায়। এজন্য তিনি পেশাদার বিপ্লবী হলেন। তিনি তেনাল্লী ও রেপাল্লী এলাকার নারীদের নারী সমস্যা কেন্দ্রীক ঐক্যবদ্ধ করেন এবং তাদের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা নেন। তিনি গুনতুর শহরের নারী শ্রমিকদের সাথে গভীরভাবে মিশে যান এবং তাদেরকে দৈনন্দিন দাবী-দাওয়ার ইস্যুতে সংগ্রামে পরিচালনা করেন। ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গতদের সাহায্যার্থে ত্রাণ সামগ্রী ও অর্থ সংগ্রহে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে তিনি কৃষক গেরিলা কমান্ডার কমরেড রামকৃষ্ণকে বিয়ে করেন ও সশস্ত্র স্কোয়াডে যোগ দেন। বিয়ের দশদিনের মাথায় উভয়ই কৃষ্ণ নদীর তীরে বন্দরবাংকাদিব্বায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। নারীমুক্তি ও সমাজ পরিবর্তনে কমরেড মাধবীলতার অবদান সকল নারী কর্মীকে এক বলিষ্ঠ বিপ্লবী নারী আন্দোলন গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করবে।

সুত্র

http://bannedthought.net/India/CPI-Maoist- Docs/Women/WomenMartyrsNaxalbariTo2010-Vol-1.pmd.pdf