ভারতের গণযুদ্ধে শহীদ নারী (১১), কমরেড ভেলপুলা ভাগ্যলক্ষ্মী

vagya

 কমরেড ভেলপুলা ভাগ্যলক্ষ্মী 

কমরেড ভেলপুলা ভাগ্যলক্ষ্মী (ওরফে শোভা) হনুমাকোন্দার এক গরীব পরিবারে জন্মেছেন। দারিদ্র্য ও পিতৃতান্ত্রিক পারিবারিক নিপীড়নের কারণে বাল্যকালে হাইস্কুল পর্যন্ত পড়াও তার ভাগ্যে জোটেনি। প্রথমেই তিনি বাল্য বিবাহের শিকার হন, অবশ্য পরে সে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। তারপর তার এক ভগ্নিপতির সাথে বিয়ে হলে চরম নির্যাতন লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়। সমাজের বাস্তব অবস্থা আর নিজের ওপর  এর ক্রিয়া উপলব্ধি করার সাথে সাথেই তিনি পারিবারিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, বিবাহ জীবনের নাগপাশ ছিন্ন করে স্বাধীনতার দিকে পা রাখেন। তিনি বুঝতে সক্ষম হলেন সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজের মৌলিক পরিবর্তনের পথ নারী জীবনের অন্যায় উৎপীড়নের জগদ্দল বোঝা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। তিনি বিপ্লবী আন্দোলনে এগিয়ে গেলেন।

   ১৯৮০ দশকের প্রথম থেকেই ওয়ারাঙ্গল নগরীর ছাত্র-যুব আন্দোলনে তিনি অংশ নিতে শুরু করেন। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি বিপ্লবী আন্দোলনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পার্টির ও আন্দোলনের গোপন কাজকর্ম করতে শুরু করেন। প্রশিক্ষণ ছাড়াই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নার্সের কাজে যোগ দিলেন এবং অপারেশন থিয়েটারে একজন দক্ষ সরকারী নার্স-এ পরিণত হলেন। তিনি ওয়ারাঙ্গল নগরীর বেসরকারী হাসপাতালের নার্সদেরকে বিপ্লবী আন্দোলনে সংগঠিত করেন, একটি ইউনিয়ন গড়ে তোলেন ও এর সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। নার্সদের দাবী দাওয়া নিয়ে তিনি বহু সংগ্রাম পরিচালনা করেন। হাসপাতালগুলির ব্যক্তিমালিকেরা কমরেড ভাগ্যলক্ষীর ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকত।

   পাশবিক পুলিশী দমন-পীড়নের মাঝে কমরেড ভাগ্যলক্ষ্মী ব্যাপক নারী প্রচারটিম সংগঠিত করেন এবং ওয়ারাঙ্গলের চারপাশে অনেক গ্রামে বড় বড় অভিযান চালান। ১৯৮৪ সালের ১৮ই ডিসেম্বর ওয়ারাঙ্গলের পুলিশ বাহিনী কমরেড কোদাবতী সুদর্শনকে গ্রেফতার করে। সর্ব সাধারণের চোখের সামনে তাঁকে প্রধান রাস্তা দিয়ে হেঁচড়ে ও-পাশবিক প্রহার করে পুলিশের বন্দীশালায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সে অবস্থায় তাকে হত্যা করে জঙ্গলে নিয়ে তাঁর মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। পুলিশ এ ব্যাপারে সবকিছু সম্পূর্ণ অস্বীকার করে, এমনকি তাকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানায়। সমস্ত ঘটনা ভাগ্যলক্ষ্মীর চোখের সামনে ঘটেছিল, কোর্টের অনুসন্ধানকালে তিনি নির্ভীক সাহসিকতার সাথে সত্য ঘটনা প্রকাশ করেন, তা দেশব্যাপী এক প্রচন্ড আলোড়ন সৃষ্টি ফলে তার উপর পুলিশের নজরদারী ও নিপীড়ন দ্বিগুণ হলো। তারপর তিনি আন্দোলনের জন্য সার্বক্ষণিক হওয়াই পছন্দ করলেন এবং আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি কমরেড পুলি অঞ্জন্না (সাগর)-কে বিয়ে করেন। কিছুদিনের জন্য তিনি উত্তর তেলেঙ্গানা আঞ্চলিক কমিটির জন্য টেকনিক্যাল কাজে ব্যস্ত থাকেন, তারপর রাজ্য কমিটির ব্যবস্থাপনার কাজ হাতে তুলে নেন। কমরেড ভাগ্যলক্ষ্মী অতি অল্প সময়ের মধ্যে ইংরেজি, হিন্দি ও কান্নাডা ভাষা শিখে নিলেন, লতুন নতুন এলাকার জনগণ ও তাদের সংস্কৃতির সাথে মিশে যান এবং এভাবে টেকনিক্যাল কাজের জন্য নিজেকে ভালভাবে প্রস্তুত করে তোলেন।

    ১৯৯০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের সামরিক ক্যাম্পে নার্সের কাজের মাধ্যমে বহু অসুস্থ কমরেডকে সাহায্য করে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সে ক্যাম্পে অধিকাংশ কমরেডই ম্যালেরিয়া বা অন্য কোন রোগে কিছু সময়ের জন্য আক্রান্ত ছিল। উত্তর তেলেঙ্গানার গহীন জঙ্গলে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ক্লাসগুলিতে তিনি স্কোয়াড সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন কিছুদিনের জন্য। তিনি বহু বছর একাধারে বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, গোপন আশ্রয়স্থলের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ, বন্দুক ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং বাহিনীর তহবিল, দলিলপত্র নিরাপদে শেল্টারিং-এর দায়িত্ব পালন করে এক কষ্টকর ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করেন। কমরেড ভাগ্যলক্ষ্মী আন্দোলনে তার দুই ভাইকে হারিয়েও দৃঢ়তার সাথে বিপ্লবী কর্তব্য পালন করে যান।

    গর্ভসঞ্চার যাতে না হয় সেজন্য সচেতনভাবে তিনি লাইগেশন করেন। এজন্য পরে সমস্যা হলেও তিনি দুর্বল স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্যম সহকারে কাজ করে যান।

    ১৯৯৩ সালের ২৭শে অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ(AP) পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স কমরেড সাগরসহ তাকে ব্যাঙ্গালোরের এক শেল্টার থেকে গ্রেফতার করে এবং বর্বর নির্যাতনের পর স্বামীসহ তাকে হত্যা করে। কমরেড ভাগ্যলক্ষ্মীর কঠোর পরিশ্রম, উল্লেখযোগ্য সাফল্য, বিপ্লবী সর্বাত্মক আত্মনিবেদন, অবিচল সংগ্রামী চেতনা এই মহৎ আদর্শগুলিকে প্রতিটি নারী বিপ্লবীকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। তাঁর যোদ্ধা জীবন, সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ গণআন্দোলনে কর্মীদের জন্য বিপ্লবী পথ প্রদর্শন করে।

 সুত্র – 

http://bannedthought.net/India/CPI-Maoist- Docs/Women/WomenMartyrsNaxalbariTo2010-Vol-1.pmd.pdf


ভারতঃ বিহারের গয়াতে মাওবাদী দমন অভিযান জোরদার করা হচ্ছে

 10516671_1015811215101766_8350912350522522988_n

গয়াতে চলমান মাওবাদী দমন অভিযানকে আরো কার্যকরী ও মাওবাদীদের কোণঠাসা করতে দুমারিয়া-ইমামগঞ্জ অঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্প মোতায়েন করা হবে। পুলিশ ও সিআরপিএফ এর এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইজি অপারেশন সুশীল খোপাদে, বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সিআরপিএফ এর ডিআইজি রাজকুমার, মগধ রেঞ্জের ডিআইজি পি কে শ্রীবাস্তব, গয়ার এসএসপি পি কান্নান, নগর এসপি রাকেশ কুমার ও আইপিএস প্রবেশনার জগন্নাথ রেড্ডি। এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদীদের উত্থান, ভূমি মাইন বিস্ফোরণ, মাওবাদী দলগুলোর ভেতরে অন্তর্কোন্দল ও অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পের স্থান সংক্রান্ত বিষয় সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিহার পুলিশ ও সিআরপিএফ এর মধ্যকার অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আইজি অপারেশন সুশীল খোপাদে অনাস্থার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, মাওবাদী দমনে নিযুক্ত বাহিনীগুলোর ভেতরে নিখুঁত বোঝাপড়া বিদ্যমান ও মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৈঠকে চলমান মাওবাদী দমন অভিযানে আরো বেশি উদ্যম যোগাতে ও দুমারিয়া-ইমামগঞ্জ এলাকা থেকে মাওবাদীদের বিতাড়িত করতে নয়টি সেক্টরকে বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্প মোতায়েন করার হবে বলেও তিনি জানান। অবশ্য, প্রস্তাবিত পুলিশ ক্যাম্পগুলোর অবস্থান সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।

সূত্রঃ 

http://timesofindia.indiatimes.com/City/Patna/Anti-Maoist-operation-to-be-intensified-in-Gaya/articleshow/46808715.cms

 


ভারতঃ “বেঙ্গল কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি “-এ শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে একটি যৌথ লিফলেট

10931247_908225365868199_3720608001223842434_n1

শুনলে হয়তো অবাক হতে পারো কিন্তু এটাই বাস্তব যে পূরণ না হওয়া আসন গুলো ভর্তি করতে শিক্ষকদেরই রেল স্টেশন , বাস স্টান্ডে থেকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ইচ্ছুক ছাত্র ছাত্রীদের ধরে আনতে হবে , এমনটাই নিদান দিয়েছে কতৃপক্ষ । সমস্ত বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলোর মত দুর্গাপুরে  তে ফেটে গেছে ভুয়ো campusing – placement এর ফানুস । নেই উপযুক্ত সংখ্যক শিক্ষক ,পরিকাঠামো , তাই স্বাবাভিক ভাবেই কমেছে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা । টান পরেছে মালিকের লাভের খাতায় ।চিন্তিত কতৃপক্ষ তাই এই হাস্যকর ,তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।শুধু তাই নয় শিক্ষকদের দ্বিগুন খাটিয়ে আধা বেতন দেওয়া , ছাত্র- ছাত্রী ,শিক্ষক ,কর্মচারীদের বরখাস্তের হুমকি ,সবরকম নায্য দাবির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারিকরা ,,সংগঠন বা ইউনিয়ন তৈরি করার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া সহ সমস্ত রকম অগণতান্ত্রিক কাজের আখড়া এই কলেজ গুলো । এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছাত্র ছাত্রী ,শিক্ষক ,কর্মচারী কারোরই কোনো রকম ভূমিকা থাকেনা । কলেজ চলে মালিক বা ম্যানেজমেন্ট এর মর্জিতে ।অনেক ক্ষেত্রেই যাদের ইতিহাস দেখে বোঝা যায় শিক্ষা ক্ষেত্র পরিচালনার সাথে কোনো সম্পর্কই কোনো কালে ছিলনা । কালো টাকাকে সাদা করা বা বিরাট অঙ্কের মুনাফা লাভের আশাতেই শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে তারা । অনুসন্ধান করলেই দেখা যাবে AICTE বা UGC এর গাইড লাইন তারা মানে না ।কিন্তু “বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয় ” বলে দায় সারতে চাইছে সরকার । যদিও শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রী রা এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে পুলিশ ,RAF নামিয়ে ঘটনায় হস্তক্ষেপ করাটাকে পবিত্র কর্তব্য বলে মনে করে তারা ।তাহলে এই বক্তব ঘুরিয়ে কোটি পতি কোলেজ মালিকের প্রতি সর্কারেব্র দায়বদ্ধতার পুনরাবৃত্তি নয় কি? হ্যা , সরকারের এই তথা কথিত নিরপেক্ষতা পাইকারী হারে শিক্ষাকে ভুইফোর ব্যবসায়ী দের হাতে তুলে দেওয়ার নীতি কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুচতুর কৌসল ।আর অরাজনৈতিকতার ধুয়ো তুলে শিক্ষার্থী বা শিক্ষকদের ইউনিয়ন তৈরির অধিকার কেড়ে নেওয়া আসলে কার হাত শক্ত করে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে , বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর ম্যানেজমেন্ট এর অত্যাচার এবং তার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিলিত প্রতিবাদ আমাদের কাছে এক শিক্ষনীয় বিষয় হয়ে উঠেছে । আমাদের দাবি ১) “বেঙ্গল কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি” এ কতৃপক্ষের সৈরাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতে হবে , শিক্ষক ,শিক্ষার্থীদের নায্য দাবি অবিলম্বে পূরণ করে তাদের কাজে পুনর্বহাল করতে হবে । ২)সমস্ত বেসরকারী কলেজ গুলোতে কলেজ পরিচালনায় শিক্ষার্থী- শিক্ষক- শিক্ষাকর্মীদের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে হবে । ৩) শিক্ষক শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কর্মীদের ইউনিয়ন গঠনের স্বীকৃতি দিতে হবে । সৌম্য ;9874426333 , প্রিয়াশ্মিতা ; 9804705600 ছন্দক: 9836245898 কর্তৃক প্রচারিত।

সুত্র– https://usdfeimuhurte.wordpress.com/2015/04/05/%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9C-%E0%A6%85%E0%E0%A6%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE-2/