মার্কিন পুলিশি বর্বরতায় আবারও কৃষ্ণাঙ্গ খুন: ব্যাপক গণবিক্ষোভ

ir

 

আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে একজন নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নিহত হওয়ায় সেখানে গণ-বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় শুরু হয়েছে।

প্রতিবাদীরা দক্ষিণ ক্যারোলিনার চার্লেস্টোন শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে মার্কিন পুলিশের বর্ণবাদী আচরণের তীব্র নিন্দা জানান। প্রতিবাদীদের বেশিরভাগই ছিলেন মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক। তারা ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনেরও মূল্য আছে’, ‘বর্ণবাদ আর নয়’ প্রভৃতি শ্লোগান দেন।

একজন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন পুলিশ নিরপরাধ এক কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিককে গুলি করে হত্যা করার পর বর্ণবাদ বিরোধী এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়। কৃষ্ণাঙ্গ ওই নাগরিক ছিলেন একজন গাড়ী চালক।

মার্কিন পুলিশ নিরস্ত্র ওই কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকের ওপর ৮ বার গুলি বর্ষণ করে বলে এক ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে। ৩৩ বছর বয়স্ক ওই পুলিশ দাবি করেছিল যে ৫০ বছর বয়স্ক ওই কৃষ্ণাঙ্গ বন্দুক নিয়ে তাকে আক্রমণ করায় তিনি গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু ভিডিওতে দেখা গেছে যে,  নিরস্ত্র ওই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি যখন পালিয়ে যাচ্ছিল তখন তার ওপর গুলি ছুঁড়তে থাকে কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশ।

মার্কিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ প্রায়ই কৃষ্ণাঙ্গদের গুলি করে হত্যা করছে। গত কয়েক মাসে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটায় দেশটিতে বর্ণবাদী উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সুত্র – http://bangla.irib.ir/


ভারতের ছত্তিশগড়ে ১০০ জন মাওবাদীর হামলায় ৭ পুলিশ নিহত, আহত ১২

abuhmarh

embed1

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদীদের হামলায় পুলিশের সাত এসটিএফ জওয়ান নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্য ১২ জন পুলিশ।

আজ (শনিবার) ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার চিন্তাগুফার পিড়মেল-পোলামপল্লি এলাকায় পেডমাল জঙ্গলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ছত্তীসগঢ় পুলিশের নকশাল দমন শাখার প্রধান, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল আর কে ভিজ জানিয়েছেন, পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি দল শনিবার সুকমা জেলার চিন্তাগুফার পিড়মেল-পোলামপল্লি এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনীর (এসটিএফ) ৬১ জন জওয়ানদের ওই  দলটি পিডমেল জঙ্গল হয়ে দরনাপাল অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন । অন্ধ্র প্রদেশের সীমানা এলাকায়  অপারেশনের জন্য রওনা হয়েছিলেন তারা। খবর পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় মাওবাদীরা, এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে সশস্ত্র মাওবাদীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যু হয় ওই জওয়ানদের। জওয়ানরা পাল্টা জবাব দিলেও গভীর জঙ্গলের আড়ালে পালাতে সক্ষম হয় মাওবাদীরা। আহত জওয়ানদের আকাশপথে চপারে করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের এডিজি (অ্যান্টি মাওয়িস্ট অপারেশন) আর কে ভিজ জানিয়েছেন।

জঙ্গলে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় প্রায় ১০০ জন মাওবাদী তাদের উপর হামলা চালায়। এই সময় এসটিএফ জওয়ানদের সঙ্গে মাওবাদীদের মধ্যে প্রায় টানা দু’ঘন্টা ধরে বন্দুক যুদ্ধ চলে। নিহত সাত পুলিশ কর্মীরা হল, প্লাটুন কমান্ডার শঙ্কর রাও, হেডকনস্টেবল রোহিত সোধি এবং মনোজ বাঘেল, কনস্টেবল মোহন ভিকে, রাজকুমার মারকাম, কিরণ দেশমুখ এবং রঞ্জন টিকাম।

২০১০ সালের এপ্রিলে ছত্তিশগড়ের সুকমাতে নকশালপন্থীদের হামলায় ৭৪ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়। ২০১৩ তে রাজ্যে কয়েকজন শীর্ষ কংগ্রেস নেতাসহ ২৫ জনকে হত্যা করে মাওবাদীরা।

সুত্র – http://indianexpress.com/article/india/india-others/seven-stf-personnel-killed-11-injured-in-maoist-attack-in-chhattisgarh/


ভারতের গণযুদ্ধের লাল সংবাদ – ১০/০৪/২০১৫, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী লেনিনবাদী(নয়া গনতন্ত্র) এর কমান্ডার গ্রেফতার

naxalsstory

-ছত্তিসগড়ে কাঙ্কার জেলা পুলিশ আন্তাগ্রাহ ব্লকের বাদ্রাঙ্গি জঙ্গল থেকে সিপিআই(মাওবাদী)র ৫ জন ক্যাডারকে গত ৯ই এপ্রিল গ্রেফতার করেছে। এরা হচ্ছেন পিনেশ, সোমরাম, দশরথ, মনিরাম ও রাম প্রসাদ। তাদের সকলেরই বাড়ী বাদ্রাঙ্গি গ্রামে। এ সময় তাদের কাছ থেকে পার্টির বই, প্রচার পত্র, বন্দুক, মোবাইল ব্যাটারি, ও বিভিন্ন বিস্ফোরক সামগ্রি জব্দ করা হয়।

বিহারের গয়া জেলার বিরনাওান গ্রামের কাছে মাওবাদীদের পেতে রাখা দুটো ল্যান্ডমাইনের বিস্ফোরণের হাত থেকে অল্পের জন্যে বেঁচে গেছে নকশাল বিরোধী অপারেশনের দায়িত্ব পালনরত বেশ কিছু পুলিশ সদস্য।

 

-গত ৯ই এপ্রিল তেলেঙ্গনায়  খাম্মাম জেলার পুলিশ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী লেনিনবাদী(নয়া গনতন্ত্র) [CPI-ML (New Democracy)] এর গুন্দালা এলাকার দলম( সশস্ত্র স্কোয়াড) কমান্ডার দুব্বাকা রামাইয়াহ ওরফে জাজ্ঞান্না(৬০) কে কমারারাম(ইয়েল্লেন্দু মান্দাল-প্রশাসনিক ইউনিট) হতে গ্রেফতার করেছে । তার বিরুদ্ধে ৪টি ফৌজদারি মামলা সহ জেলায় পুলিশের সাথে গুলি বিনিময়ের অভিযোগ রয়েছে।

সুত্র

http://www.satp.org/satporgtp/detailed_news.asp?date1=4/10/2015&id=10#10

http://www.satp.org/satporgtp/detailed_news.asp?date1=4/10/2015&id=7#7

http://post.jagran.com/cops-escape-landmine-attack-by-maoists-in-bihar-1428660518


ভারতের গণযুদ্ধে শহীদ নারী (১৬), কমরেড বিজয়াক্কা(নির্মলা,লক্ষী)

maoists-danger-in-india

কমরেড বিজয়াক্কা(নির্মলা,লক্ষী)

কমরেড বিজয়াক্কা কুডাপা জেলার কোভারাম গুট্টা পল্লীর একটি মধ্যবিত্ত রেড্ডী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একজন ডাক্তারকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের দু’টি সন্তান হয়েছিল। কিন্তু পরে সে সম্পর্ক তাকে ভেঙ্গে দিতে হয়। তিরুপতিতে আত্মীয়স্বজনদের সাথে বসবাস করার সময় তিনি বিপ্লবী রাজনীতি ও কার্যক্রমের সংস্পর্শে আসেন এবং আন্দোলনে একজন সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ১৯৮৩ সালে কমরেড কিসটাপ্পাকে বিয়ে করলেন। তিনি বিভিন্ন পার্টি-মিটিং এ ও বিভিন্ন স্তরের অনেক পার্টি-নেতার নিরাপত্তা রক্ষা করতে গোপন আশ্রয়স্থলের(ডেরা) তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি উদ্যমশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ কাজে অবদান রাখতেন। মাঝে মাঝে কয়েক মাস তিনি অসুস্থ কর্মীদের সেবা করেন যারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বাইরে আসতেন চিকিৎসা গ্রহণ করতে। তিনি কমরেড কিসটাপ্পার সাথে স্কোয়াড সদস্য হিসেবে যুদ্ধমাঠে কাজ করেছেন। তিনি ১৯৯১- এর সংকটের সময় পার্টির পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। সশস্ত্র স্কোয়াডের একজন সদস্য হিসেবে তিনি কালানজি ও স্বর্ণমূখী এলাকায় তাড়ি বিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। কেভিবিপুরম এলাকায় তিনি মদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ডেরা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তার ভূমিকা বজায় রাখতে জীবনের শেষ দিনগুলোতে একটি কারখানায় তিনি দৈনিক ১৫ রুপি মজুরীতে দিন মজুর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি সবসময় সার্বক্ষণিক পার্টি কাজ করতে দাবী করতেন এবং সর্বদাই তিনি কঠিন কাজ পছন্দ করতেন। ১৩ বছরের পার্টি জীবনে বিরাট ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম এবং কমরেডদের প্রতি ও জনগণের প্রতি যে সীমাহীন ভালবাসা প্রদর্শন করেছেন তা সবার জন্যই এক চির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৯৯৬ সালের ১০ই এপ্রিল কাদাপা জেলার গুত্তাপাল্লিতে এক সাজানো এনকাউণ্টারে এই মহান কমরেডকে হত্যা করে পুলিশ।

সুত্র – 

http://bannedthought.net/India/CPI-Maoist- Docs/Women/WomenMartyrsNaxalbariTo2010-Vol-1.pmd.pdf