মার্কসবাদ এবং আফগানিস্তানে জাতি প্রশ্ন !

আফগানিস্তানের ওয়ার্কার্স অর্গানাইজেশন (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী, প্রধানতঃ মাওবাদী)র দলিল

মার্কসবাদ এবং আফগানিস্তানে জাতি প্রশ্ন!

“গনতান্ত্রিক বিপ্লব সারবস্তুতে কী? তা হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে একটা কৃষক যুদ্ধ যা চার শ্রেণীর সমন্বয়ে একটি নয়া রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে চায়, তার চার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে সাম্রাজ্যবাদ, বড় বুর্জোয়া ও images afghanmapভূস্বামীকে ধ্বংস করতে চায়। গণতান্ত্রিক বিপ্লবের একটি প্রধান ধরণের সংগ্রাম রয়েছে তা হচ্ছে গণযুদ্ধ এবং প্রধান ধরণের এক সংগঠন রয়েছে তা হচ্ছে বাহিনী, যা হচেছ ভূমি সমস্যার সমাধান, জাতীয় সমস্যার সমাধান এবং ভূস্বামী-আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও তার মেরুদন্ড, তার রক্ষাকারী প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনীর ধ্বংসের প্রশ্ন, একটি নয়া রাষ্ট্র, একটি নয়াগণতন্ত্র-এর রাষ্ট্র গড়ার রাজনৈতিক লক্ষ্য পুরণ করতে, আর নয়াগণতন্ত্রের গণপ্রজাতন্ত্র গড়তে যা অচিরেই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দিকে অগ্রসর হবে। সংশ্লেষণে, গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে মূর্ত করা যায় কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে চালিত কৃষক যুদ্ধ দ্বারা, আর অন্য কোন ধরণ হচ্ছে ভূস্বামী আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত।”

— সভাপতি গনসালো

[নিচের দলিলটি আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলন (আইসিএম) এর প্রতি নিবেদিত]

শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে, আফগানিস্তানের মার্কসবাদী বিপ্লবীরা জাতি প্রশ্ন বিবেচনা করে থাকেন। জাতীয় প্রেক্ষাপটে সংশোধনবাদীদের থেকে তাই তাঁদের দৃস্টিভঙ্গী সম্পূর্ন আলাদা। সংশোধনবাদীরা বিগত পাঁচ দশক যাবত এই বিষয়টিকে কখনো অবমূল্যায়ন বা কখনো অতি মূল্যায়ন করে এসেছেন। তাদের কর্তৃক আফগানিস্থানের জাতি প্রশ্নটি একটি শ্রেণী বহির্ভূত বিষয় হিসাবে বিশ্লেষণ এই অবমুল্যায়ন বা অতিমুল্যায়ন জন্ম দেয়। মার্কসীয় শিক্ষা অনুসারে, সামন্তবাদী, আধা সামন্তবাদী, আধা উপনিবেশবাদী/উপনিবেশবাদী দেশগুলিতে জাতিপ্রশ্ন মানেই হলো কৃষক প্রশ্ন। আফগানিস্তান বিগত ১৫০ বছরে200px-Akramyariউপনিবেশ বা আধা উপনিবেশিক দেশ হয়ে ছিল। বৃটিশদের আগ্রাসনের ভেতর দিয়ে আফগানিস্তানে এর সূচনা হয়েছিলো। আফগানিস্তানের জনগণ ব্রিটিশ উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে তিনটি বীরত্ব ব্যঞ্জক লড়াই পরিচালনা করেছেন। আমাদের জনগণ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আমীর আমানুল্লা খানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক এবং সামরিক বিজয় অর্জন করেছিলেন। কিন্তু, এটা এক দশকও টিকলো না। মাত্র দশ বছরের মধ্যেই প্রথমে হাবিবুল্লাহ কালাকানি এবং এর পর নাদির শাহ আবারো প্রগতিশীল ধারার যবনিকাপাত ঘটায়। নাদের শাহের অধীনে সামন্তবাদের অবশেষের পাশে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের উদ্ভবের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা সাম্রাজ্যবাদের লেজুরবৃত্তি করে। আফগানিস্তান এক আধা-সামন্তবাদী আধা-উপনিবেশিক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয় যেখানে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ উদ্ভুত হয়। কিন্তু এই “পুঁজিবাদ” এর জন্মের প্রক্রিয়া ছিল খুবই ধীর গতির, আর তখনো নাদের শাহ আমলাতান্ত্রিক হওয়ার চেয়ে সামন্ত রাজাই ছিল। এই দলিলটি প্রধানভাবে জাতি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে, আফগানিস্তানে যা অত্যাবশ্যকীয়ভাবে কৃষক প্রশ্ন ।

আমাদের সংগঠন আফগানিস্তানে জাতি প্রশ্ন বিশ্লেষন করে অনেক দলিল ইতিমধ্যিই প্রকাশ করেছে। তবে, যেহেতুএর অধিকাংশই ফার্শি ভাষায়, আমরা তাই আইসিএম এর জন্য এই দলিলটি ইংরেজিতে প্রকাশ করলাম।

সংশোধনবাদী, আর যাদের মতাদর্শিক জ্ঞানের দৈন্যতা আছে তারা ব্যাপকভাবে ও মিথ্যাচারযুক্তভাবে ঘোষণা করেন ও যুক্তি তুলে ধরেন যে আফগানিস্তানের জনগণ একটি জাতি। তাদের “আফগান জাতি” স্লোগান হলো একটি লড়াইয়ের হাতিয়ার যার দ্বারা “আফগান মিল্লাত (= আফগান জাতি)” পার্টি নাদির শাহের পুত্র জহির শাহের আমলে অপরাপর জাতি ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন করেছে। রাজতন্ত্রও এরূপ প্রতিক্রিয়াশীল এজেন্ডাকে রক্ষা করার মধ্যে তাদের উপজাতিয় স্বার্থকে খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু মাওবাদীরা এরূপ এজেন্ডার বিরোধিতা করেছে, মার্কসবাদের তত্ত্বানুসারে, জাতি কি, তার সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেঃ আফগানিস্তানের জনগণ কোন জাতি গঠনতো করেইনা, বরং “আফগান জাতি” কথাটা একটা লড়াইয়ের হাতিয়ার যার দ্বারা প্রতিক্রিয়াশীলরা বরাবর বিপ্লবীদের ও জনগণকে দমন করেছে। নীচু তত্ত্বগত জ্ঞান রয়েছে মাওসেতুঙ চিন্তাধারার জঙ্গীদের মাঝে এমন কিছু অংশ আফগানিস্তানের জনগণকে আফগান জাতি বলে অভিহিত করার শিকার হয়েছে। আফগানিস্তানের মাওবাদিদের অধিকাংশের কাছে এ বিষয়টি পরিস্কার ছিল যে একটি জাতি হওয়ার জন্য যে শর্তসমূহ প্রয়োজন তা আমাদের নেই। মার্কসবাদ ও জাতি প্রশ্নে কমরেড স্তালিন মহান রচনা রেখে গেছেন তা মাওবাদীদের জন্য সর্বদাই একটি শক্তিশালী তত্ত্বীয় উৎস হিসেবে কাজ করেছে যারা জাতি প্রশ্নকে শ্রেণীগত দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখেছেন। আফগানিস্তানে জাতিগত নিপীড়নকে অধ্যয়নে, আমরা বুঝতে পারি যে, রাজতন্ত্র কর্তৃক জাতিগত নিপীড়নের কালো প্রচেষ্টাকে আমরা অবহেলা করতে পারিনা, যারা সর্বদাই দাবী করেছে যে পশতুন জাতি, যাদেরকে আফগানও বলা হয়, তারা জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু এটা একটা কেবল রাজনৈতিক ইস্যু, যার কোন বস্তুগত ভিত্তি নেই। বিশ শতকের অধিকাংশ সময়জুড়ে আফগানিস্তানে সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের মদদপুষ্ট পশতুন শাসনকালে তারা কখনও সেখানকার জনসংখ্যার ও জাতিসমূহের অনুপাতের পরিসংখ্যান গ্রহন করার অনুমতি দেয়নি। সংশোধনবাদী পিডিপিএ এর শাসনামলে একটি পরিসংখ্যান, যা জাতিসংঘও উদ্ধৃত করে থাকে, প্রতিক্রিয়াশীল, উগ্র-জাতীয়তাবাদী পশতুন রাজনীতিবিদদের দ্বারা প্রায় অবহেলিত ইহয়েছে। পিডিপিএর শাসকদের পরিসংখ্যানে আফগানিস্তানে জনসংখ্যার মাত্র ৩৯% পশতুন জাতির। সংশোধনবাদীরা সেই পরিসংখ্যানের প্রক্রিয়াকে গ্রহন তো করেইনি বরং তা অব্যাহত রাখার বিরোধিতা করে। পিডিপিএর দুই সংশোধনবাদী নেতা তারাকি ও আমিন ছিল পশতুন, আর তাদের উগ্রজাতীয়তাবাদী বিশ্বাস ছিল যা বস্তুনিষ্ঠ রাজনীতির অনুমোদন দেয়নি।

জহির শাহের শাসনামলে আফগানিস্তানে একজন অ-পশতুন রাজনীতিক ছিলেন। তার নাম তাহের বাদাখশী, তিনিও মার্কসবাদী দাবিদার হয়ে আফগানিস্তানের একটি জাতীয় পটভুমি তুলে ধরেন। তার ধারাটা “জাতিগত নিপিড়নবিরোধী ধারা” হিসেবে লেবেল পায়। কিন্তু তিনি মার্কসবাদের ভিত্তিতে প্রস্তাবনাটি উপস্থাপন করেননি। তিনি ছিলেন একজন পাতি বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী যার ছিলো জাতীয় মুক্তি প্রশ্নে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী। তিনি শ্রেণী সংগ্রামের চেয়ে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী সমূহের মুক্তি চাইলেন। ফলে আফগানিস্তানের বিপ্লবী শক্তিসমূহ তার প্রস্তাবনাকে নিন্দা ও প্রত্যাখান করলেন। মাওবাদীদের বক্তব্য হলো যদিও এটা প্রতিয়মান হয় যে পশতুনরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, যদিও যে ‘সংখ্যালগিষ্ঠ’ ও ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’র প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে তা মুলত প্রতিক্রিয়াশীল শাসক শ্রেণীর একটি রাজনৈতিক ফাঁদ, যার উদ্দেশ্য হল,অ-পশতুন জনগণের উপর নিপীড়ন চালানো, তথাপি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সঙ্গত ও বিপ্লবী নয়। মার্কসবাদ জাতি প্রশ্নে কেবল শ্রেণী বিশ্লেষণ দাবি করে। এটা একটা বাস্তবতা যে পশতুন শাসকরা সর্বদাই অ-পশতুন জনগণের উপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে আসছেন, তবে আমাদের এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, দশক দশক লক্ষ পশতুন জনগণ সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ দ্বারা শ্রেণী শোষণের শিকার। সকলেই জানেন যে, পশতুন শাসকরা অ-পশতুন অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে জমি বন্টনে পশতুনদের অনেক বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে প্রধানত নাদের শাহ এবং জাহের শাহের আমলে, কিন্তু আমাদের এও ভুলে গেলে চলবে না যে, এখনও দশক দশক লক্ষ পাশতুন রয়েছেন যারা ভুমিহীন এবং সেইসাথে দরিদ্র কৃষক, এরা নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রকৃত শক্তি। তাই, আফগানিস্তানের বিপ্লবী মাওবাদীরা তাহের বাদাখশীর “জাতীয় নিপীড়ন বিরোধিতা” থিসিস গ্রহন করেননি। এই থিসিসটি সংকীর্ণ ও শ্রেণী চেতনা বহির্ভূত, যা প্রধানভাবে অ-পশতুন প্রতিক্রিয়াশীল সামন্ত শ্রেনীর পক্ষে ছিল। তাই মাওবাদীরা “নিপীড়ন বিরোধী ধারা”কে সঠিকভাবেই একটি প্রতিক্রিয়াশীল ইস্যু হিসাবে চিহ্নিত করে যা কিনা সমগ্র পশতুন জনগণকে অন্যান্য জাতির শত্রু হিসেবে হাজির করে। মাওবাদিরা মনে করে সমগ্র পশতুন জনগণ প্রতিক্রিয়াশীল নয়, পশতুনদের মধ্যকার এক অতি ক্ষুদ্র অংশ যারা ক্ষমতায় আছে, যারা আমলাতান্ত্রিক পুঁজি ও ভুস্বামীদের স্বার্থ রক্ষা করছে তারা প্রতিক্রিয়াশীল। তবে, মাওবাদিরা এটা পরিস্কার করেছেন যে, শাসক শ্রেনীর অংশটি গরীব পশতুন জনগণকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত করে, অন্যান্য জনগণের উপর এদেরকে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করে। এই পরিস্থিতিতে, গরীব পশতুনদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা কম থাকায় বহুবার তারা অন্যান্য অ-পশতুনদের উপর নিপড়কদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছেন, তথাপি পশতুন জাতিকে প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে নিশানা করা সঠিক নয়। আমাদের সত্যিকার শত্রুঃ সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও জমিদার শ্রেণীকে নিশানা করতে হবে।

জিহাদী–রোনাল্ড রিগানের তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা, যারা বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ প্রধানত মার্কিন এর পক্ষে ছিল, তারা যে বাস্তবতা বিবির্জিত ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ভুয়া জিকির তুলে এসেছে, তা গভীরভাবে প্রথিত ছিল জাতীয়তাবাদী প্রহেলিকার মূলে। পশতুনদের জিহাদিবাদী নেতা গুলুবুদ্দিন হেকমতিয়ার পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার মদদপুষ্ট ছিল, আর তার ছিল মার্কিন বন্ধন। তার পার্টি আফগানিস্তানের ইসলামিক পার্টি প্রধানত পশতুনদেরকে তাদের সদস্য বানিয়েছে। অন্যদিকে, আর এক জিহাদিবাদী নেতা আহমদ শাহ মাসুদ ছিল অ-পশতুন, সে তাজিক জাতিয়তার পক্ষে বলে, সেও নিজের ইসলামি পরিচয় দাবি করে, প্রধানত তাজিক যোদ্ধাদের সংগঠিত করে, তার বন্ধনের এক দিক ছিল ফরাসি সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে, অপর প্রান্ত কেজিবির সাথে বাঁধা।

আফগানিস্তানে যখন জিহাদিদের পতন হলো, এবং আল কায়দার আধিপত্যের সময়, যখন তালিবানরা দেশের একটি বিরাট অংশ শাসন করত, তখন ফ্রান্স ও রাশিয়ার সাথে মাসুদের সম্পর্ক ছিল একটা “রহস্য”, আর ঐ দুই সাম্রাজ্যবাদী দেশ মাসুদের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত “জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট”কে সমর্থন করে। মাসুদের শেষ বছরে তার ইউরোপ সফরকে পশ্চিমা ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা ঊষ্ণ আবহে স্বাগত জানায়। সংবাদ মাধ্যমের সামনে একজন ফ্যাসিবাদি গনহত্যাকারী কমান্ডারের এটা আরেক “গণতান্ত্রিক” ভঙ্গী।

জেনারেল আব্দুর রশিদ দোস্তাম, একজন মিলিশিয়া নেতা, আফগানিস্তানের উজবেক জাতি থেকে উঠে আসা সেও একজন যুদ্ধবাজ যে কিনা উজবেক সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারের কথা বলার অভিনয় করে, বস্তুত সে উজবেক প্রতিক্রিয়াশীল ভুস্বামীদের পক্ষে এবং উজবেক ধনিক শ্রেনীর স্বার্থ রক্ষা করে।

আব্দুল আলী মাজারি ছিল হাজারা জাতির শিয়া ধর্মীয় নেতা। সেও একজন জিহাদি কমান্ডার ছিল। হাজারা জাতির অধিকারের কথা বললেও, সে ইরানী মোল্লাতন্ত্র থেকে উত্থিত, এবং গরীব ও নিপীড়িত মানুষের দুষমন ছিল। সেও একজন সামন্ত যুদ্ধবাজ, আর হাজারাদের ধনিক শ্রেনীর লাভের জন্য সেও কাজ করছিল।

এখনও অন্ততঃএক ডজন জিহাদি ধর্মীয় নেতা জীবিত আছে যারা আফগানিস্থানে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতনের পর এখন ধর্মীয় শ্লোগান বাদ দিয়ে পিছলিয়ে নিজ জাতির জাতীয়তাবাদি ধারায় মত্ত হয়েছে। তারা জাতিগত নিপীড়ন পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে নিজ জাতিকে প্রতারণা করে তাদের মধ্যে সম্মান ভোগ করছে।

অসচেতন পশতুনদের কিছু অংশের মাঝে এখন একটি প্রহেলিকা কাজ করছে যে, পশতুন কমান্ডার গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার মার্কিনীদের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এটা সত্য নয়।

গুলবদ্দিন আর মাসুদের মাঝে কোন ফারাক নেই। মাসুদ হাজার হাজার মাওবাদিকে হত্যা করেছে। গুলবদ্দিনও একজন মৌলবাদি ইসলামবাদী চরমপন্থি। তা ছাড়া সে একজন পশতুন উগ্র জাতিয়তাবাদী। বাদশাহ জহের এবং বাদশাহ নাদের শাহের উগ্রতার সাথে তার কোন পার্থক্য নেই।

সংশোধনবাদী, জিহাদিবাদী, তালিবান এবং চূড়ান্তত আফগানিস্তানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পুতুল প্রেসিডেন্ট হামিদ কার্জাইয়ের পুতুল “টেকনোক্র্যাট” দল– এদের কারোরই জাতি প্রশ্নে কিছুই বলার নেই, আর তার বদলে তারা নানা জাতিতে লড়াইয়ের পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। আফগানিস্তান হলো একটি মিশ্র জাতিসত্ত্বার দেশ। একটা জাতি হওয়ার বদলে আমাদের এখানে কমপক্ষে ত্রিশটি জাতিগোষ্ঠী ও চারটি বড় জাতি রয়েছে।

পশতুনঃ আফগানিস্তানে এটা সর্বাধিক আধিপত্যকারি জাতি। বিশ্বাসঘাতক যেমন গুলবুদ্দিন (ইসলামবাদী নেতা), সাইয়াফ (ইসলামবাদী নেতা), কার্জাই (আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট), তারাকি (সংশোধনবাদী পিডিপিএ খালেক গ্রুপের নেতা এবং আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট), হাফিজুল্লাহ আমিন ( পিডিপিএ খালেক গ্রুপের আরও একজন সংশোধনবাদী নেতা, যিনি ৯০ দিনের জন্য আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট ছিলেন), মোল্লা ওমর ( তালিবান প্রতিক্রিয়াশীল গ্রুপের নেতা) হচ্ছে পশতুন জাতির সর্বাধিক বড় বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি, যারা পশতুন জাতির সাথে প্রতারণা করেছে আর অন্যান্য জাতিসত্ত্বাকে নিপীড়নের যুদ্ধ চালিয়েছে। তারা আফগানিস্তানের দশক দশক লক্ষ নিরীহ মানুষের প্রান কেড়ে নিয়েছে। তারা সকলেই স্ব স্ব পার্টিসমেত যুদ্বাপরাধী।

তাজিকঃ আফগানিস্তানে আরেক উল্লেখযোগ্য বড় জাতি ।

বিশ্বাসঘাতক ও ইসলামিক অপরাধী যেমন বুরহানুদ্দিন রাব্বানী (তালিবানদের ক্ষমতা গ্রহনের আগে আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ছিল), আহমদ শাহ মাসুদ (একজন ইসলামবাদি চরমপন্থী, যে কিনা অ-পশতুন এলাকায় প্রধানতঃ মাওবাদী যোদ্ধাদের হত্যা করেছে)। উস্তাদ আতা (বালখ প্রদেশের গবর্নর, তাজিক জাতির একজন উল্লেখযোগ্য জিহাদিবাদী নেতা)। এর কেউই সত্যিকার অর্থে আফগানিস্তানের তাজিক জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে না। বরং তারা আফগানিস্তানের প্রগতিশীল মানুষের হত্যাকারী।

উজবেকঃ আফগানিস্তানের আর একটি বড় জাতি ।

জেনারেল দুস্তাম, তিনি একজন উজবেক মিলিশিয়া। যিনি তার স্কুল জীবনই ভালভাবে শেষ করেননি, তাকে জিহাদি সিবগাতুলাহ মুজাদ্দেদি দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান হিসাবে নিয়োগ দান করেছিলেন। তাকে এই সম্মান প্রদানের কারণ ছিল পিডিপিএ শাসন উৎখাতে জিহাদীবাদীদের সাথে তার অবদান।

হাজারাঃ আফগানিস্তানের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বড় জাতি।

আব্দুল আলী মাজারী ( আফগানিস্তানের ইসলামিক ঐক্য পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ) অ-হাজরা এবং পাশতুন জনগোষ্ঠীর ওপর গনহত্যার হুকুম দিয়েছিলেন। তিনি ইরানী শিয়া শাসকদের এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন।

মুহাক্বিক হচ্ছে আফগানিস্তানের ইসলামিক ঐক্য পার্টির ধর্মীয় ফ্যাসিস্ট আরেক নেতা।

খলিলি হচ্ছে আরেক হাজারা গৌত্রীয় ফ্যাসিস্ট। সে এখন হামিদ কার্যাইর ভাইস প্রসিডেন্ট এবং সামরিক দখলদারদের পুতুল ভুয়া শাসকদের ভাগিদার।

উপরের ঐ বিশ্বাসঘাতকেরা সকলেই আফগানিস্তানের জনগণের চরম শত্রু ।

আরও বেশ কিছু সংগঠন আছে গোপন বা আধা গোপন অবস্থায় তৎপর। তারা নিজেদেরকে অ-ইসলামিক বা জিহাদ বিরোধী বলে দাবী করলেও তারা কিন্তু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বা অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াশ্রেনীর সেবা করছে। তারা আফগানিস্তানে ন্যাটো নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনকে নিন্দা করেনি, এবং হামিদ কার্যাইয়ের পক্ষ নিয়েছে। আফঘানিস্তানের নারীদের বিপ্লবী সংগঠন (রেভ্যুলিউশনারী অর্গানাইজেশন অব দি ওম্যান অব আফগানিস্তান– রাওয়া) হলো এমন একটি শক্তি। রাওয়া কার্যাই শাসনের আওতায় নিজেদের গোপন “সংগ্রাম” পরিত্যাগ করে। তারা কাবুলে “৮ মার্চ” পালন করেছে। পুতুল শাসকদের প্রাদেশিক কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছে। রাওয়া হলো আফগানিস্তান মুক্তি সংস্থা এএলওর একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন। এএলও হল একটি তেঙ শিয়াও পিং পন্থী সংগঠন। তিন বিশ্ব তত্ত্বের ভিত্তিতে এর জন্ম। এর নেতা ডক্টর ফাইয়াজ আহমাদ আফগান অর্থনীতিবাদের প্রতিষ্ঠাতা। সে বিপ্লবী সংগ্রাম ত্যাগ করে এবং সশস্ত্র সংগ্রামে গণযুদ্ধের রণনীতি বর্জন করে। আজ এই সংগঠনটি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের পক্ষ নিয়েছে, আর আফগানিস্তানে পুতুল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এর কোন বিরোধিতা নেই।

আমাদের সংগঠন সব সময়েই রাওয়া এবং এএলওর নিন্দা করে এসেছে। তারা সেই সব সংগঠন যারা হামিদ কার্যাইয়ের আমলা মুৎসুদ্দি শাসকদের সেবা করে। তারা নিজেদের দেশকে সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য বিক্রি করে দিয়েছে।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে কার্যাই এক বীর। তাই, সে এএলও আর তার নারী শাখা রাওয়ার কাছেও বীর হয়েছে।

মাসূদ ফরাসি সাম্রাজ্যবাদের কাছে একজন বীর, সুতরাং জিহাদিদের কাছেও সে নমস্য!

গুলবদ্দিন সাম্রাজ্যবাদ এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রের কাছে একজন বীর, তাই উগ্র জাতিয়তাবাদি পশতুনদের সে মদদ পায়, সকল পশতুনদের নয়।

আব্দুল আলী মাজারী ইরানের ইসলামবাদীদের কাছে এবং হাজারা জিহাদিবাদীদের কাছে একজন বীর। কিন্তু নিপীড়িত জনগণের কাছে নয়।

দুস্তাম উজবেকিস্তানের কাছে ও আফগানিস্তানের উজবেক ভুস্বামীদের কাছে একজন বীর, নিপীড়িত উজবেক জনগনের কাছে নয়।

আফগানিস্তানের প্রকৃত বীর হলেন, যিনি সাধারণ মানুষের বীর, যিনি আফগানিস্তানের মেহেনতি মানুষের মাঝে বৈপ্লবিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন, তিনি হলেন কমরেড আকরাম ইয়ারি। তিনি জাতিগতভাবে একজন হাজারা ছিলেন। তিনি হাজারা সংখ্যালঘুদের থেকে এসেছেন। কিন্তু তিনি নিজেকে কখনও হাজারা হিসেবে দেখেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, আফগানিস্তানের নিপীড়িত জনগনের মাঝে বিপ্লবের অন্তর্নিহিত মজুদ শক্তি রয়েছে। তাই, তিনি প্রথমেই হাজারা সামন্তপ্রভুদের বিরোধিতা করেন। তিনি হাজারা ভুস্বামী শ্রেনীর শত্রুতে পরিণত হন। এ কারণেই তার প্রথম বিরোধী হয়েছিল আপন চাচা ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজন যারা সকলেই ছিল ভুস্বামী।

আফগানিস্তানের সংগ্রামের প্রধান রূপ হল গণযুদ্ধ, এবং সংগঠনের প্রধান রূপ হল গণ মুক্তিবাহিনী, এবং এই দুই অস্ত্র আমাদের পথ দেখায় জাতীয় মুক্তির, গণতান্ত্রিক বিপ্লবের এবং আফগানিস্তানের নয়া গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম পরিচালনার জন্য।

আমাদের সংগঠন সর্বদাই আমাদের নিপীড়িত জনগণের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি পালন করে। আমরা সর্বদাই নওরোজ (ফার্সি নববর্ষ উৎসব)কে স্বাগত জানিয়েছি কেবল মেহেনতি মানুষের জন্য, যুদ্ধবাজদের জন্য নয়, প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেনীর জন্যও নয়।

এই দলিলটি যে আমরা বসন্তকালের জাতীয় উৎসব নওরোজ (নববর্ষ) দিবসে প্রকাশ করছি তা হচ্ছে আমাদের গতবছরের উদযাপনের ধারাবাহিকতা। আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের ওয়েব সাইটে নিপীড়িত গনমানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছি। প্রতি বছরই আমরা নিপীড়িত জনগণকে নওরোজের শুভেচ্ছা জানাই। এবছরও দশক দশক লক্ষ কৃষককে এজন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছি যারা দাবি করেন যেঃ নওরোজ হচ্ছে কৃষকদের দিবস, যে দিবস নতুন বছরের সূচনা ঘোষণা করে। সুতরাং এই দিবস হচ্ছে সেই নিপীড়িত জনগণের প্রতীক যারা দেশকে সেবা করেন। এ কারণেই, প্রায় একশত বছর ধরে নওরোজকে কৃষকদের উদযাপনের দিবস বলা হয়ে থাকে।

যেমনটা মার্কসবাদ আমাদের সর্বদাই শিক্ষা দিয়েছে, জাতি প্রশ্ন হোক কৃষক মুক্তির সংগ্রাম এবং নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য।

আফগানিস্তানের সকল জাতির প্রতিক্রিয়াশীল “প্রতিনিধি” দের প্রতি না বলুন!

পশতুন উগ্রজাতীয়তাবাদী বিশ্বাসঘাতকদের(পাশতুন জনগণ ব্যতিত) প্রতি না বলুন! সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী অ-পশতুন বিশ্বাসঘাতক নেতাদের প্রতি না বলুন ( তবে অ-পশতুন জনগণের প্রতি নয়)!

আফগানিস্তানের জনগণ এক ঐক্যবদ্ধ বাহু !

বিভক্ত হবেন না! এক হোন এবং পরাজিত করুন সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ এবং সামন্তবাদকে!

 

 

সুত্র – http://sarbaharapath.com/?p=1026

Advertisements

মায়ের কাছে লেখা অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের শেষ চিঠি –

pr

মাগো,

তুমি আমায় ডাকছিলে? আমার যেন মনে হলো তুমি আমার শিয়রে বসে কেবলি আমার নাম ধরে ডাকছো, আর তোমার অশ্রু-জলে আমার বক্ষ ভেসে যাচ্ছে। মা, সত্যিই কি তুমি এত কাঁদছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারলাম না—তুমি আমায় ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে চলে গেলে।

স্বপ্নে একবার তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম—তুমি তোমার আদরের মেয়ের আবদার রক্ষা করতে এসেছিলে! কিন্তু মা, আমি তোমার সঙ্গে একটি কথাও বললাম না। দুচোখ মেলে কেবল তোমার অশ্রুজলই দেখলাম। তোমার চোখের জল মোছাতে এতটুকু চেষ্টা করলাম না।

মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো—তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম। তোমাকে এতটুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন আমার বুকে বেজেছে। তোমাকে দুঃখ দেওয়া আমার ইচ্ছা নয়। আমি স্বদেশ-জননীর চোখের জল মোছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ কর, নইলে আমার মনোবাঞ্ছা পুর্ণ হবে না।

একটিবার তোমায় দেখে যেতে পারলাম না! সেজন্য আমার হৃদয়কে ভুল বুঝোনা তুমি। তোমার কথা আমি এক মুহুর্তের জন্যও ভুলিনি মা। প্রতিনিয়তই তোমার আশির্বাদ প্রার্থনা করি।

আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি। মাগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় বসে সবাইকে ডেকে ডেকে বলছো—“ওগো তোমরা আমার রাণীশূন্য রাজ্য দেখে যাও”।
তোমার সেই ছবি আমার চোখের ওপর দিনরাত ভাসছে। তোমার এই কথাগুলো আমার হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে কান্নার সুর তোলে।

মাগো, তুমি অমন করে কেঁদোনা! আমি যে সত্যের জন্য-স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না?
কি করবে মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী যে বিদেশীর অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভারে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা!
তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে?
আর কেঁদোনা মা। যাবার আগে আর একবার তুমি আমায় স্বপ্নে দেখা দিও। আমি তোমার কাছে জানু পেতে ক্ষমা চাইবো।

আমি যে তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে এসেছি মা। ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে আমাকে বুকে টেনে নিতে চাইছো, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালা নিয়ে আমায় কত সাধাসাধিই না করেছো—আমি পিছন ফিরে চলে গেছি।

না, আর পারছি না। ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন আর আমার উপায় নেই। আমি তোমাকে দুদিন ধরে সমানে কাঁদিয়েছি। তোমার ক্রন্দন আমাকে এতটুকু টলাতে পারেনি।
কি আশ্চর্য মা! তোমার রাণী এত নিষ্ঠুর হতে পারলো কি করে? ক্ষমা করো মা; আমায় তুমি ক্ষমা করো!

(আত্মাহুতির আগের রাতে প্রীতিলতা মায়ের উদ্দেশে এই চিঠিটি লিখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুবরণের পর মাষ্টারদা এই পত্রটি প্রীতিলতার মায়ের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।)


বাংলাদেশঃ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে অনির্বাচিত ফ্যাসিবাদী সরকার গণতন্ত্রের মুখোশ পরতে চায়

315923_10150327700235513_1607024410_n

ঢাকা ও চট্টগ্রামে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের রাজনৈতিক প্রস্তাব (১৬ এপ্রিল ২০১৫ বৈঠকে গৃহীত)

যেহেতু, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াই ৫ জানুয়ারি ২০১৪ এক ধাপ্পাবাজির নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে এবং এক অনির্বাচিত সরকার গদিনসীন হয়েছে;

যেহেতু, ৫ জানুয়ারি ২০১৪-র ভোটারবিহীন নির্বাচনকে সাম্রাজ্যবাদী ভারত খোলাখুলিভাবে সমর্থন করেছে, এবং এর সাথে ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত হাসিনা-মনমোহন গোপন চুক্তির এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে, এবং এই ধাপ্পাবাজির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান হাসিনা সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে;

যেহেতু, জনগণের অসম্মতিতে গঠিত বর্তমান অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত ও দীর্ঘস্থায়ী করতে জনগণের সভা সমাবেশ মিছিল মত প্রকাশের উপর বাধা প্রদান ও হামলা করে চলেছে; দেশব্যাপী গণগ্রেফতার, আটক অবস্থায় নির্যাতন ও পায়ে গুলি, এবং বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা করছে; আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে অস্বীকার করে ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় জিডি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে রাষ্ট্র কর্তৃক এসব ব্যক্তিকে গুম করছে; দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস জনগণের জীবনকে নিরাপত্তাহীন করে চলেছে; সংবাদপত্র ও মিডিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেছে;

যেহেতু, বর্তমান সরকার পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি প্রভৃতি রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক দমন-পীড়নের উপর ক্ষমতায় টিকে আছে, এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় এইসব বাহিনীর অংশীদারিত্ব স্বীকার করে নিয়েছে যা এসব বাহিনীর কর্মকর্তাদের ঔদ্ধত্যমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য, বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে; এবং নির্বাচন কমিশন নয়, পুলিশের আইজি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন;

যেহেতু, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ সম্ভব নয় বলেই হাসিনা সরকার এই সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছে, এবং সারাদেশে বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত বিরোধী দলীয় মেয়রদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে, গ্রেফতার করেছে, এসব মেয়র পদে প্রশাসক নিয়োগ করেছে;

যেহেতু, জনগণের অধিকার রয়েছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার, কিন্তু ক্ষমতাসীনদের পদলেহী নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ দলীয়করণের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বেই ১৫৩ জন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা ক্ষমতাসীনদের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারি চেহারা উন্মোচন করে দিয়েছে, এবং এখন অনির্বাচিত হাসিনা সরকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী চেহারা আড়াল করতে গণতান্ত্রিক মুখোশ পরতে চায়;

যেহেতু, এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ডামাডোল শাসক-শোষক শ্রেণীর বিষাক্ত গণবিরোধী রাজনীতি সমূলে উৎপাটিত হওয়ার প্রাথমিক শর্তের সম্ভাবনাগুলোকে যেন অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে পারে সে জন্য মিডিয়া, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, টকশোজীবীরা এমনভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে যেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর জুড়ে জনমনে আনন্দের জোয়ার বইছে;

যেহেতু, ভারতীয় সমর্থনে মদমত্ত, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণকারী, জনবিচ্ছিন্ন হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে শ্রমিক-কৃষক-নিপীড়িত জাতি ও জনগণের ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়ে চলেছে এবং এই পুঞ্জিভূত ক্ষোভ লুটেরা শাসক-শোষক শ্রেণীর সরকার বিরোধী জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রাম বিকাশের শর্ত তৈরী করে চলেছে;

যেহেতু, শ্রমিকদের উপর চরম মজুরী শোষণ বহাল রয়েছে, কর্মস্থলে ভবন ধসে ও আগুনে পুড়ে নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার করা হচ্ছে না, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না;

যেহেতু, এই নির্বাচনের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোটি কোটি গার্মেন্ট শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, রিক্সা শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, বস্তিবাসী, শ্রমজীবী মেহনতি জনগণের জীবনের কোনই সম্পর্ক নেই, এবং শ্রমিকদের প্রয়োজন শোষণ মুক্তির লক্ষ্যে সংগঠন ও সংগ্রাম গড়ে তোলা;

সেহেতু, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল মনে করে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হাসিনা সরকারের চালবাজি ছাড়া কিছু নয়; স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচনের নামে এ হলো শাসকশ্রেণীর সরকার, গণবিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে চলমান শ্রমিক-কৃষক-নিপীড়িত জাতি ও জনগণের বিক্ষোভকে বিভ্রান্ত ও বিভক্ত করা এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের মধ্যস্থতায় বিদ্যমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করার প্রক্রিয়াকে সচল রাখা; এবং বামপন্থী নামে পরিচিত যে সকল রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তারা শাসক শ্রেণীরই প্রতিনিধি এবং সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট;

সেহেতু, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে প্রত্যাখান করছে এবং দেশব্যাপী পরিচালিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত ও প্রতিরোধ তৈরী এবং সভা সমাবেশ মিছিলের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা (কক্ষ নং-৪জি), ৫ম তলা, ঢাকা- ১০০০।
মোবা: ০১৭১৩ ০৬৩৭৭৬। ১৮.৪.২০১৫


ভারতঃ মাওবাদীদের মোকাবেলায় কেন্দ্রের কৌশল

ggggn

শনিবার ছত্তিসগড়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তিশালী ধাক্কা দিতে কেন্দ্র থেকে একটি কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে এবং এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে অধিকতর ঐক্যমত আহ্বান করা হয়েছে। ছত্তিসগড়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে ইউনিয়ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এল সি গয়ালের নেতৃত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ছত্তিসগড়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রাজ্য সরকারকে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে মাওবাদীরা তিনটি হামলা চালায় ও রাজ্যের আটজন  নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য খতম হয়।

সূত্র জানায়, এক ঘন্টা দীর্ঘ এ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ ও বিএসএফ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বস্তারের গহীন জঙ্গলে মাওবাদী দমন অপারেশন পরিচালনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য পুলিশ বাহিনী ও সিআরপিএফ এর মধ্যে নিবিড় সামঞ্জস্যতা রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যাতে করে দমন অভিযানে কোনরকম ফাঁক না থাকে।

সূত্রঃ http://www.asianage.com/india/centre-firms-naxal-strategy-744