ভারত- পুলিশ বনাম মাওবাদীঃ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী কি শক্তিশালী?

images

এসটিএফ (STF) এর প্লাটুন কমান্ডার শংকর রাওয়ের জন্য ১১ই এপ্রিল শনিবার ছিল একটি রক্তাক্ত দিন। এই দিন তিনি তার ৬১ জন সদস্যের সশস্ত্র দল নিয়ে মাওবাদী দমন অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। এসময় তারা ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলার পিদমেল-পলামপল্লী এলাকায় একটি উন্মুক্ত ত্রিভূজ এমবুশের মুখে পড়ে যায়। তিন দিক থেকে চালানো এ অতর্কিত হামলায় পড়ে এসটিএফ জওয়ানরা এমবুশ থেকে বের হয়ে আসার যথাসাধ্য চেষ্টা চালায়; অন্যদিকে মাওবাদীরা বেশ ভালরকম ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হয়। তারা সাতজন জওয়ান খতম করে ও এগারো জনকে আহত করে। এ ছিল কেবল শুরু। পরবর্তী তিন দিনে ভারতের সর্বোচ্চ আভ্যন্তরীণ হুমকি হিসেবে বিবেচিত মাওবাদীরা চারটি বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে রাজ্যের আরো চারজন পুলিশ ও একজন বিএসএফ জওয়ান খতম হয়। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিল যে প্রতিদিনকার রাজনৈতিক বুলি সত্ত্বেও মাওবাদীরা এখনো আঘাত করার ক্ষমতা রাখে এবং তারা চাইলে আঘাত করতে পারে।

jawans-2

রক্তাক্ত রণক্ষেত্র

ছত্তিসগড়ের এই হামলা গুলো নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতর বিতর্কের ঝড় তুলেছে আর বিতর্কের বিষয়বস্তু হল মাওবাদী দমন অপারেশন একটি বিশাল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে কিনা এবং ১০টি রাজ্য জুড়ে ৭৬টি জেলায় পরিচালিত রাজ্য পুলিশ ও সিআরপিএফ এর যৌথ বাহিনী মাওবাদীদের মোকাবেলা করার মতো পরিস্থিতিতে রয়েছে কিনা। কিছু তথ্যের দিকে নজর দেয়া যাক। ভারত রাষ্ট্রের মাওবাদী দমন অপারেশন বিষয়ে বিগত দশকের (২০০৫-২০১৫) সরকারী ডাটায় ভয়ংকর তথ্য পাওয়া যায়ঃ মোট ৪,৫১০ জন -১৭৫৩ জন জওয়ান ও ২৭৫৭ জন সাধারণ মানুষ মাওবাদীদের হাতে নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ২১৯৩ জন মাওবাদীকে হত্যা করেছে।

এর মানে দাঁড়ায়, মাওবাদীরা যুদ্ধে নিজেদের একজনকে হারানোর বিনিময়ে গড়ে দুইজনকে খতম করেছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর থেকে ৫৩৬টি অত্যাধুনিক অস্ত্রও কেড়ে নিয়েছে। যেটি উদ্বেগগজনক তা হল পুলিশের গুপ্তচরদেরকে হত্যা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে প্রায় ১৯ জন পুলিশের গুপ্তচর খতম হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮৭৯। এ তথ্য থেকেই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন চলে আসে আর তা হলঃ মাওবাদী আন্দোলনের উপর রাষ্ট্র কি কোন আঘাত হানতে পেরেছে?

একজন উর্ধ্বতন আইপিএস  (IPS) কর্মকর্তা তার বইয়ে লিখেছেনঃ “আমরা যুদ্ধটা করছি তাদের (মাওবাদীদের) মতো করে, আমাদের মতো করে নয়”। ব্যাপক আকারে বিনিয়োগ ও বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা সত্ত্বেও মাওবাদী দমন অপারেশন ফলপ্রসূ না হওয়ার পিছনে কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “ট্রাজেডি হল, এত বিশাল সম্পদ তাদের দায়িত্বে দেয়া হয়েছে যাদের কমান্ড দেয়ার যোগ্যতা নেই, যাদের যুদ্ধ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই”। যদিও মাওবাদী দমন অপারেশন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশের সম্মিলিত কার্যক্রম, এ কার্যক্রমে মোট ১০৮ টির বেশি ব্যাটেলিয়নকে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। ১০৮ টি ব্যাটেলিয়নের মধ্যে (প্রায় ১৩৪,৬৬৭ জন সদস্য) সিআরপিএফ এর ৮৩টি ব্যাটেলিয়ন, বিএসএফ এর ১৫টি ব্যাটেলিয়ন, আইটিবিপি (Indo-Tibetan Border Police) ও সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এর প্রতিটি বাহিনীর রয়েছে ৫টি করে ব্যাটেলিয়ন। রাজ্যগুলো তিরিশ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। পুরো শক্তিকে যদি একত্রিত করা হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে, আনুমানিক ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ সশস্ত্র মাওবাদীদের দমন করার জন্য মাটির উপর ১৬৪,৬৬৭ জোড়া বুট মোতায়েন করা হয়েছে- একজন মাওবাদীকে হত্যা করার জন্য আছে ১০ জন জওয়ান।

সূত্রঃ

http://www.newindianexpress.com/magazine/Police-vs-Maoists-Are-Indian-Security-Forces-Strong-Against-Naxals/2015/04/25/article2779418.ece

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.