ভারতঃ ‘মাওবাদী দমনে কড়া পদক্ষেপ’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং

maoist-2

রায়পুর: মাওবাদী দমনে কড়া পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্র৷ রায়পুরে গিয়ে বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর৷ দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে সরকার সবসময় বদ্ধপরিকর বলে এদিন জানিয়েছেন তিনি৷ তবে, এই বিষয়ে সরকারের স্ট্র্যাটেজি কী হবে তা নিয়ে এদিন মুখ খুলতে চান নি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

শনিবার নয়া রায়পুরে পুলিশের সদর দফতরে নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন রাজনাথ সিং৷ এরপরই, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উচ্চ-পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি৷ মাও অধ্যুষিত এই রাজ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যে সব লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল সেগুলি এদিন খতিয়ে দেখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ তবে, আধা সামরিকবাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমণ্বয়ের ক্ষেত্রে কোনও অভাব নেই বলেও বৈঠকের পর মন্তব্য করেন তিনি৷

ইতিমধ্যেই, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত ও জঙ্গল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ছত্তিশগড় পুলিশের এক উচ্চ-পদস্থ কর্তা৷

সুত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/strong-step-against-maoist-rajnath.html

Advertisements

মেক্সিকোঃ ৪৩ জন ছাত্রকে গণহত্যার প্রতিবাদ ও স্মরণ

দেম ভল্কেন দিয়েনেন থেকে 

1

2

3


ভারতঃ দিল্লির তিহার জেলে আটককৃত রাজনৈতিক বন্দী কোবাদ গান্ধী অনশনে যাচ্ছেন

11351235_1082607471755473_838892894812323698_n

তিহার কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজনৈতিক বন্দী কোবাদ গান্ধীর উপর হয়রানি চলছে এখনো। বর্তমানে তাকে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানেই রাখার জন্য তার একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ এখন তাকে ৮ নম্বর কারাগারে স্থানান্তর করছে । সীমিত পরিসরে হলেও এখানে তার মত শারীরিকভাবে অসুস্থ একজন সিনিয়র বন্দী নাগরিকের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া, যাবতীয় বই পুস্তক জিনিসপত্র এক জেল থেকে বহুদূরে অবস্থিত অন্য জেলে টেনে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত শ্রম সাপেক্ষ বিষয় যা এ মুহূর্তে কোবাদের বর্তমান ভঙ্গুর শারীরিক অবস্থায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু এটা পরিস্কার যে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে স্থানান্তর করবেই; তার অসংখ্যবার অনুরোধের পরেও তার কোন কথা তারা কানে তুলছে না, এ পরিস্থিতিতে এই ধরনের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে অনশনে যাওয়া ছাড়া কোবাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।

তিহার কারা কর্তৃপক্ষের অমানবিক স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতি নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক বন্দী কোবাদ গান্ধীর অনশনের প্রতি সমর্থন জানান ও কারাগারের ডিরেক্টর জেনারেলের কাছে – দিল্লি, তিহার কেন্দ্রীয় কারাগার কমপ্লেক্স, এই ঠিকানায় বিচারাধীন রাজনৈতিক বন্দী কোবাদ গান্ধীকে ৮ নম্বর কারাগারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদন জানান।

সুত্রঃ https://www.facebook.com/lalsalampage?fref=ts

        Date -30.05.2015


ভারতঃ মাদ্রাজ IIT র ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াও, সামনের দিন জোর লড়াই- USDF এর বিবৃতি

usdf

wpid-fb_img_1432997415758

ঝুলি থেকে বেড়াল তাহলে বেরিয়েই পড়ল। অনেকদিন ধরেই উঁকি মারছিল। মহারাষ্ট্রতে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ, তারপর গরুর মাংস খেলে পাকিস্তান পাঠানোর হুমকি ইত্যাদি চলছিল। এবার আক্রমণ বেশ জোরেই নামল। মাদ্রাজ IIT তে বন্ধকরে দেওয়া হল দলিত ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন “আম্বেদকর পেরিয়ার স্টাডি সার্কেল ” কে । মেরুদণ্ড বিহীন IIT কতৃপক্ষ কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সুরে সুর মিলিয়ে ছাত্রছাত্রী সংগঠনটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে তারা নাকি গরুর মাংস নিষিদ্ধকরণ, লাভ জিহাদ, ঘর ওয়াপ্সি ইত্যাদির বিরুদ্ধে প্রচার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য যে ভারতে দলিত আন্দোলন হিন্দু ধর্ম বা ব্রাহ্মণ্যবাদের জাত পাত এর শোষণ অত্যাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছেন, তাদের মধ্যে অনেকে দলিত দের হিন্দু বলে মনে করেনা। 25 December 1927 সালে বি আর আম্বেদকর প্রকাশ্যে হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ ‘মনু সংহিতা’ পুড়িয়েছিলেন। আমাদের প্রশ্ন youth for equaliyর নামে যখন উচ্চবর্ণ ছাত্ররা দলিত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে লাগাতার ঘৃণা ও অপমান মূলক কর্মসূচি নিয়ে গেছে তখন কেন্দ্রীয় সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক বা IIT কতৃপক্ষের কি ভুমিকা ছিল? সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র শাখা ABVP যখন লাভ জিহাদ এর নামে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রচারে নেমেছে গোটা দেশ জুড়ে তখন কতৃপক্ষ বা সরকারের ভুমিকা কি থেকেছে? নিষিদ্ধ করণ তো দূরে থাক youth for equaliy বকলমে ABVP র বিরুদ্ধে কতৃপক্ষ বা সরকার কি কোনো রকম ব্যাবস্থা নিয়েছে? (যদিও usdf মনে করে যে দক্ষিনপন্থি দের রাজনৈতিক মতামত,জনবিরোধী আন্দোলন কে বিপ্লবী রাজনৈতিক মতামত ও পাল্টা আন্দোলন দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে ,কতৃপক্ষ বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নয়)। আর প্রশ্ন এই যে আমাদের দেশে কি সরকার ,প্রধানমন্ত্রী বা উচ্চ জাতের বিরুদ্ধে সমালোচনা করার অধিকার নেই বলে ঘোষণা করা হচ্ছে? কোন সভ্য দেশে কি সরকারের সমালোচনার জন্য কোন ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ হতে পারে? বস্তুত ভারত রাষ্ট্র উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা বহন করেই মেহনতি জনতা,দলিত, আদিবাসি, ধর্মীও সংখ্যালঘুু ,নিপীড়িত জাতিসত্তা ও তার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন গুলো কে নৃশংস আক্রমন করেছে বার বার। ছাত্র ছাত্রী দের সংগঠনও এর বাইরে নয়। এটা প্রথম নয় এর আগেও Andhra Pradesh radical students’ union, Punjab radical studnts union সহ একাধিক ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন কে নিষিদ্ধ হতে হয়েছে ভারতের শ্রেণী বৈষম্য,শোষণের বিরধিতা করে নয়া গনতান্ত্রিক বিপ্লবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য। ৯/১১ এর পর ভারতে bjp সরকার “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের” জোটে সামিল হয়ে বড় দাদা আমেরিকার কাছে good boy সাজতে বলীর পাঁঠা বানিয়ে নিষিদ্ধ করেছে মূলত হিন্দি বলয়ে abvp র অন্য তম প্রতিপক্ষ SIMI কে।দিল্লির জহরলাল ইউনিভার্সিটি তে democratic students union কে হুমকির মুখে পরতে হচ্ছে বারবার, এমন কি সেখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ব্যাক্তি ছাত্র,ও ক্যাম্পাসের প্রগতিশীল ব্যাক্তিবরগের মঞ্চ forum against war on people কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে খনিজ সম্পদের লোভে যে রাষ্ট্রীয় উদ্যগে আদিবাসি নিধন যজ্ঞ চলছে ‘operation green hunt’ এর নামে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য। এছাড়াও usdf  ও কলকাতার বিভিন্ন সরকার বিরোধী প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন, ক্যাম্পাস ভিত্তিক সংগঠন বা ‘স্বাধীন সংগঠন’ গুলোর সাথে নিষিদ্ধ মাওবাদী কম্যুনিস্ট পার্টি র নাম জড়িয়ে প্রচার করা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। যা বহুল প্রচারিত ভারতীয় গনতন্ত্রের গনতান্ত্রিক,সহনশীল চরিত্রের উপর প্রশ্ন তুলে দেয় বার বার। আর যতো দিন সমাজে অন্যায় অত্যাচার শোষণ থাকবে সমাজের সব চেয়ে সংবেদনশীল অংশ ছাত্রছাত্রীরা লড়াই করবে , সেই পুরনো প্রশ্নটাই করবে বার বার “রাজা তোর কাপড় কোথায়?” বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছাত্রছাত্রী সংগঠন কে নিষিদ্ধ করে ভারত রাষ্ট্র আত্ম তৃপ্তি পেতেই পারেন। কিন্তু বাস্তব ঘটনা হল যে সাময়িক ধাক্কা কে সামলে ছাত্রছাত্রীরা শোষণ বৈষম্য,অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছে বারবার । মাদ্রাস IIT র ছাত্রছাত্রীরা নিষিদ্ধ হওয়ার পড়েও লড়াই ছেড়ে চলে যায়নি, ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন লেখিকা আরুন্ধতি রায় সহ ভারতের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন গনতন্ত্র প্রিয় মানুষ। সারা দেশ জুরে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ জানিয়েছে নিষিদ্ধ করণের বিরুদ্ধে। ঐক্য বদ্ধ ছাত্র আন্দোলনই পারে ফ্যাসিস্ত আগ্রাসন কে রুখে দিতে ক্যাম্পাসের বাইরে বা ভিতরে।

পূর্ব সূত্রঃ  

চেন্নাই: আইআইটি মাদ্রাজের যে ছাত্ররা নরেন্দ্র মোদী সরকারের সমালোচনা করার অভিযোগে কর্তৃপক্ষের রোষের মুখে পড়েছে, তাদের সমর্থনে রাস্তায় নামল বামপন্থী ছাত্র-যুবরা। তারা কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে।

অম্বেডকর পেরিয়ার স্টুডেন্টস সার্কল ছাত্রগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা হিন্দি ভাষার প্রসার, গোমাংসে নিষেধাজ্ঞাকে ইস্যু করে কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার করছে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোয় প্ররোচনা দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে তাদের নিষিদ্ধ করেছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি আইআইটি কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন । তাঁর স্পষ্ট কথা, ছাত্র সংগঠনটি ভাল করেই জানত, প্রতিষ্ঠানের পদ্ধতি-প্রক্রিয়া না মানলে তাদের স্বীকৃতি বাতিল  করে  দেবেন ডিন।

কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নির্দেশেই ছাত্র সংগঠনটির স্বীকৃতি বাতিল করেছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ, এমনই অভিযোগ করে বাম ছাত্ররা।

সুত্রঃ https://usdfeimuhurte.wordpress.com/2015/05/31/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8-iit-%E0%A6%B0-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87/


ডাক্তারি শিক্ষা নিয়ে মেয়েকে লেখা চারু মজুমদারের চিঠি

charubabu

বিপ্লবী হতে হলে নিজের সঙ্গে অনেক লড়াই করতে হয়। তবেই তো একটা মানুষের পরিবর্তন হয়। সে নতুন বিপ্লবী মানুষে পরিণত হয়।

তোমাদের এখন শেখার সময়। এখন নিশ্চয় শিখতে হবে। এখন শেখা বলতে শাসক শ্রেণী কী কী বোঝে আর আমরা কী বুঝি। শাসক শ্রেণী বোঝে যে শিক্ষা এমন হোক যাতে তাদের প্রয়োজন মেটে এবং সেই শিক্ষা মারফতে তারা তোমাদের উপযুক্ত করে তুলতে চায়, তাদের স্বার্থ সংরক্ষনের হাতিয়ার হিসাবে। তাই তারা শিক্ষাকে বাস্তব কাজ থেকে আলাদা করে রাখে এবং শিক্ষার ভেতর দিয়ে তারা তোমাদের জনতা বিরোধী আত্মচিন্তাকে প্রধান করে তোলে। তাই চেয়ারম্যান বলেছেন ‘The more you read,the more you become foolish’। কারণ যতো পড়বে ততো বাস্তব কাজ থেকে তুমি যাবে দূরে সরে এবং যতো পড়বে ততো তুমি হবে জনবিরোধী, আত্মম্ভির এবং আত্মকেন্দ্রিক; স্বার্থপরতা বেড়ে যাবে এবং বাস্তব কাজ থেকে বিচ্যুত থাকায় জনতার সেবার পক্ষে তুমি হবে ততো অনুপযুক্ত। তাহলে আমরা শিক্ষা বলতে কি বুঝি? আমরা জানি জ্ঞানের তিনটি সূত্র,

১) উৎপাদনের জন্য সংগ্রাম
২) শ্রেণী সংগ্রাম
৩) বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংগ্রাম।

জ্ঞানের তিনটি সূত্র সত্যি সত্যি তোমরা পাবে যদি তোমরা উৎপাদনের সাথে যুক্ত হও। আজকের সমাজে তোমাদের সে সুযোগ খুবই কম। তাই আজকের যুগে তোমাদের শিক্ষার ভিত্তি হওয়া উচিৎ-

১) মার্ক্সবাদ, লেনিনবাদ, মাও-সে-তুঙের এর চিন্তাধারা আয়ত্ত করার শিক্ষা।
২) ভারতবর্ষের সংগ্রামের ইতিহাস
৩) আমাদের জীবনে দৈনন্দিন কাজের সমস্যা।

এইগুলোকে ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যয়ন করতে হবে।এই শিক্ষাই খাঁটি শিক্ষা এবং এগুলো থেকেই তোমার ভবিষ্যৎ জীবনের গতিপথ নির্ধারিত হবে। ডাক্তারি যদি শিখতেই হয় তাহলে শিখতে হবে এই ভারতবর্ষের মানুষকে রোগ ব্যাধি থেকে মুক্ত করার জন্য। এই ভারতবর্ষ হচ্ছে কৃষকের দেশ কাজেই কোটি কোটি কৃষকের জীবনে আধুনিক বিজ্ঞান এবং মনুষ্য সমাজের সমস্ত আরোগ্য পদ্ধতি নিয়ে যেতে হবে, যাতে তারা রোগের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হতে পারে। এই সংগ্রামে তুমি হবে সৈনিক এবং তোমার লক্ষ হবে ব্যাপক কৃষক জনতাকে যাতে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারো-কয়েকটি বিশেষ রোগের বিশেষজ্ঞ হবার জন্য নিশ্চয় নয়। আমরা যা কিছু করবো, যা কিছু শিখবো সবই জনতার জন্য; তার মানে আমাদের দেশ কৃষকের জন্য। এই কৃষককে চেনা, কৃষককে বোঝা, কৃষকদের সাহায্য করার নামই হল দেশপ্রেম, যে দেশপ্রেমের জন্য জীবন দেওয়া প্রত্যেকটি মানুষের একটি পবিত্র কাজ। দৈহিক পরিশ্রম করতে যারা ভয় পায় তারা কিছু করতে পারেনা। আলস্য, নিষ্ক্রিয়তা হল সামন্তশ্রেণীর দান। শ্রমিক শ্রেণীর দর্শন শেখায় অক্লান্ত পরিশ্রম করতে। ভীরুতা, কাপুরুষতা ধনিক শ্রেণীর দান- কারণ তারা ব্যাক্তি স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়। তাই ধনিক শ্রেণীর সাহিত্যে কাপুরুষতার প্রশস্তি গাওয়া হয়েছে। শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থ যেহেতু সকলে মিলেই সিদ্ধ হতে পারে এবং সফল হতে পারে চরম ত্যাগস্বীকারে, তাই শ্রমিক শ্রেণীর দর্শন শেখায় মৃত্যুঞ্জয়ী সাহসের অধিকারী হতে।

ভবিষ্যতের মানুষ হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি কর।মনকে বিপ্লবী বানাতে হয় প্রথম।মানুষের অগ্রগতির ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। আর সংগ্রাম করতে হয় নিজের সাথে। বারবার ব্যাক্তি স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে। এই ব্যাক্তি স্বার্থ শোষণভিত্তিক সমাজের দান। স্বার্থপরতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম মানুষের চরিত্র পরিবর্তনের সংগ্রাম।সামাজিক মানুষ হওয়া সাধারন নয়। এই লড়াই শুরু হয়েছে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে।বিরাট জয়ের সম্ভাবনা আমাদের সামনে। তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত কর।

[ “এবং জলার্ক” পত্রিকার  অক্টোবর ২০০৯ – মার্চ ২০১০ সংখ্যায় প্রকাশিত “চারু মজুমদারের অপ্রকাশিত চিঠি” এর নির্বাচিত অংশ। ]


ভারতঃ পুলিশদের ‘বিপ্লবী সংগ্রামে’ যোগদানের আহবান জানালো মাওবাদীরা

11328940_933391860057040_1863204626_n

সিপিআই (মাওবাদী) এর মুখপাত্র মালাজুল্লা ভেনুগোপাল ওরফে অভয় এর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ও রাজনৈতিক নেতাদের অশুভ ও ফ্যাসিবাদী চক্রান্তকে পরাজিত করে বিপ্লবে যোগদান করার আহ্বান জানিয়েছে মাওবাদী নেতারা। বিপর্যস্ত পুলিশ সদস্য যারা নিজেদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে তাদের কথা উল্লেখ করে বলা হয় মাওবাদী দমন অপারেশনে এক হাজারেরও বেশী পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। বিবৃতিতে অভয় উল্লেখ করেন, “আপনারা কোথা থেকে এসেছেন সে কথা ভাবুন। আপনারা সমাজের নিম্নতর পর্যায়ে রয়েছেন। এটা অস্বীকার করতে পারেন না যে দরিদ্র আদিবাসী, শ্রমিক ও কৃষক পরিবার থেকে আপনারা উঠে এসেছেন। ভেবে দেখুন আপনারা আপনাদের পরিবারকে চালানোর জন্য এই চাকরী করছেন। আমরা জানি যে আপনাদের এই চাকরীতে যা যা করতে হয় তার সাথে আপনারা সত্যিকার অর্থে একমত নন এবং এ চাকরী করতে হচ্ছে বলে আপনাদের পরিবারের সদস্যরাও খুশি নয়। মাওবাদীদেরকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাঁড় করিয়ে দিয়ে আপনাদের উর্ধ্বতন অফিসাররা, ভণ্ড রাজনীতিবিদরা আপনাদের মনের ভেতরে মিথ্যে দেশপ্রেম ঢোকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, পুলিশের চাকরী ছেড়ে দেয়ার হার প্রতি তিন জনের মধ্যে একজন। জনগণের সম্পদ লুট করার রাজনীতিবিদদের স্বার্থপর ধান্দা আপনাদেরকে অবশ্যই বুঝতে হবে।”

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক রাজনৈতিক নেতারা দুর্নীতিপরায়ণ বলে দাবী করা হয়েছে এ বিবৃতিতে। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ২০০২ সালের গুজরাট রায়টের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভয় বলেন, “Make in India স্লোগান দিয়ে সেই মোদীই এখন ভারতের সম্পদ বিদেশীদের কাছে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে গোটা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই কারণেই বারাক ওবামা, স্টিফেন হারপার ও এনজেলা মেরকেলের মতো নেতারা তার প্রশংসা করছে। আপনাদের বন্দুকগুলো দেয়া হয়েছে কৃষকদের থেকে জোর করে তাদের ভূমি কেড়ে নেবার জন্য। আপনারা কি এই সমস্ত লোকদের জন্য আপনাদের রক্ত বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত?”। মাওবাদী দমন অপারেশনে নিযুক্ত পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক পুলিশ সদস্য চাকরী ছেড়ে দিয়েছে দাবী করে অভয় বলেন, “ভেবে দেখুন, কেন আপনাদের কেউ কেউ আত্মহত্যা করছেন ও নিজেদের অফিসারদের হত্যা করছেন। আপনারা কি আপনাদের উর্ধ্বতনদের থেকে সঠিক আচরণ পাচ্ছেন? গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে আপনাদের দুর্ভোগে ভরা জীবনের দুঃখজনক বাস্তবতা প্রকাশিত হয়েছে। নিজেদের কাছের মানুষ ও আপনজনদের থেকে দূরে থাকবেন না। দরিদ্র কৃষক, শ্রমিক, নারী ও অন্যান্য আক্রান্ত মানুষদের সংগ্রামে আপনাদের যোগ দেয়া উচিৎ… নরেন্দ্র মোদী, মোহন ভগত ও অমিত সিংদের হীন চক্রান্তে্র শিকার হবেন না… জনগণের সম্পদ লুট করার নীল নকশা হল অপারেশন গ্রিন হান্ট।”

 

সূত্রঃ

http://indianexpress.com/article/cities/mumbai/naxals-call-upon-cops-to-join-struggle/


ভারতঃ ‘এমন রাত্রি নেই যা প্রভাত হয় না’ – ছত্রধর মাহাতোর প্রতি কমরেড সব্যসাচী গোস্বামীর খোলা চিঠি

Page_00001

 

Page_00002

 

Page_00003

 

সুত্রঃ http://sanhati.com/articles/13585/