ভারতঃ নাগাল্যান্ড-মণিপুর সীমান্তে সেনা অভিযানে নিহত হলেন স্বাধীনতাকামী কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও)-এর প্রধান জীবন সিংহ ?

download

নাগাল্যান্ড-মণিপুর সীমান্তে সেনা অভিযানে মারা গেলেন কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও)-এর প্রধান জীবন সিংহ৷ বৃহস্পতিবার ভোরে মায়ানমারের মধ্যে একটি কেএলও শিবির আক্রমণ করে ভারতীয় সেনা৷ ওই অভিযানেই জীবন সিংহ-সহ ২০ জন কেএলও নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ মারা গিয়েছেন কেএলও-র বর্তমান সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড নিত্যানন্দ ওরফে জামাই৷ এ দিন রাতেই জীবনের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে৷ সেখানে ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷ অসমের কোকরাঝাড়েই দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে রয়েছেন জীবনের স্ত্রী, কেএলও নেত্রী ভারতী রায়৷

আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বাসিন্দা জীবন সিংহ ১৯৯৮ সালে কেএলও প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই এই সংগঠনের সভাপতি। গত বছর সংগঠনের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড টম অধিকারীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ ২০০৩ সালে ভুটানে সেনা অভিযানে বড়সড় ধাক্কা খায় কেএলও৷ তার পর থেকেই কেএলও নেতাদের একটা বড় অংশ হয় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, নয়তো পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছেন৷ কিন্তু এত দিন অধরাই থেকে গিয়েছিলেন জীবন সিংহ৷

হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান জীবন সিংহ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করার পরই কেএলও আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন৷ উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি-সহ ৬টি জেলা এবং অসমের ১১টি জেলা নিয়ে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনে নেমে পড়েন জীবন সিংহ৷ সংগঠন গড়ার পর পরই একবার আলিপুরদুয়ারের পুলিশের হাতে ধরা পড়েন জীবন৷ অসম পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতেও নেয়৷ পরে জামিন পেয়ে উধাও হয়ে যান জীবন৷ আর তাঁর নাগাল পায়নি পুলিশ৷ গত কয়েক দিন ধরেই মায়ানমারে মণিপুরি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা৷ এ দিন তারই অঙ্গ হিসেবে মায়ানমারের একটি কেএলও শিবিরে হামলা চালানো হয়। ২০০৩ সালে ভুটানের অভিযানের পরই জীবন পালিয়ে যান বাংলাদেশে৷ তার পর থেকে বাংলাদেশেই ঘাঁটি গেড়ে ছিলেন তিনি৷ কিন্ত্ত পরিস্থিতি পাল্টে যায় শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর৷ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন হাসিনা৷ কেওলও, আলফা নিজেদের শিবির সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়৷ গত কয়েক বছর ধরে মায়ানমারের জঙ্গলে আশ্রয় নেন জীবন৷ অনুমান, আলফা নেতা পরেশ বড়ুয়াও রয়েছেন সেখানে৷ মাঝেমধ্যে ব্যাঙ্ককেও থাকতেন জীবন৷ কয়েক বছর আগে জীবনকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তাঁর স্ত্রী ভারতী রায়কে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাঠায় পুলিশ৷ ভারতীও কেএলও নেত্রী৷ কিন্তু পুলিশের ছক ব্যর্থ করে দিয়ে ভারতীকে বিয়ে করে বাংলাদেশেই পাকাপাকি রয়ে যান জীবন৷ তাঁদের দুই ছেলেমেয়ের জন্মও বাংলাদেশেই৷ বর্তমানে ভারতী অবশ্য সন্তানদের নিয়ে অসমের কোকরাঝাড়ে রয়েছেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ৷ কোকরাঝাড়েই রয়েছেন জীবনের বোন সুমিত্রা৷ তাঁর স্বামীও কেএলও নেতা৷ গত বছর টম অধিকারী গ্রেপ্তার হওয়ার পর কেএলও বড়সড় ধাক্কা খায়৷ তার পর পরেশ বড়ুয়ার সাহায্যে কেএলও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন জীবন সিংহ৷ উত্তর-পূর্বের সশস্ত্র সংগঠনগুলিকে নিয়ে যৌথ মঞ্চেও সামিল হয়েছিল কেএলও৷

সুত্রঃ http://eisamay.indiatimes.com/state/KLO-chief-Jiban-Sinha-has-been-killed/articleshow/47639578.cms

আনন্দবাজার পত্রিকা জানাচ্ছে – গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানায়, হামলায় নিহতের মধ্যে কেএলও প্রধান জীবন সিংহও রয়েছেন। জীবন সিংহের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশ জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। যদিও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে গোয়েন্দারা জানান, নিহত জঙ্গিদের পরিচয় মেলেনি। ফলে তাদের মধ্যে কেএলও প্রধান রয়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

untitled-7_41193

এক নজরে গেরিলা দল কেএলও –
১৯৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অস্থিত্ব জানান দেয় ‘কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও)’ নামের এ গেরিলা দলটি। ভারতের মোট ছয়টি জেলাকে একত্রিত করে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির দাবি নিয়েই জন্ম এ গেরিলা দলটির। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদাকে প্রধান ধরে আসামের সংযুক্ত চারটি জেলা- কোঁকড়াঝাড়, বনগাঁ, ধুবলী আর গোয়ালপাড়াসহ এই কামতাপুরের সীমারেখা। কামতাপুরী ভাষার ভিত্তিতে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় দিতে আগ্রহী। গোটা ভারতের মধ্যে একরকম সবচেয়ে অবহেলিত ও নিগৃহীত এই এলাকাগুলোর জনগণ। ব্যাপক সংখ্যক বেকারত্ব, জমি দখল, দারিদ্র্য, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের ফলে এসব এলাকার মানুষের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে, যার প্রতিফলন ঘটে ‘কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (কেএলও)’ গেরিলা দলটির মধ্যে দিয়ে। ‘কেএলও’র চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে তামির দাস, যিনি মূলত জীবন সিংহ ছদ্মনামে রয়েছেন। সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে রয়েছেন মিল্টন বর্মণ, যাঁর পরিচিত ছদ্মনাম মিহির দাস ও ক্র্যাক স্কোয়াড চিফ জয়দেব রায়ের ছদ্মনামে টম অধিকারী। কেএলও গেরিলা দলটির কার্যক্রম পরিচালিত ছিল প্রকাশ্যেই। ভারত সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয় এই নেতাদের ধরতে। গ্রেপ্তারও হয় কয়েকজন। সরকারের এমন একরোখা আচরণের ফলাফল হলো দলটি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়। নিজেদের অস্তিত্ব ও আদর্শ রক্ষার্থে সশস্ত্র সংগ্রাম যে জরুরি, তা টের পেতে থাকে। তাই পরবর্তী সময়ে ‘উলফা’র সাহায্যে নিজেদের আর্মড উইংকে আরো বিস্মৃত ও প্রশিক্ষিত করার ট্রেনিং নিতে থাকে। জলপাইগুড়িসহ এই জেলাগুলোতে ‘কেএলও’ বেশ জোরালো অবস্থানেই রয়েছে। বর্তমানে ‘কেএলও’, ‘উলফা’ এবং ‘এনডিএফবি’ পরস্পর আমব্রেলা অর্গানাইজেশন হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া কেএলও-এর সঙ্গে একই দাবিতে আন্দোলন করা কামতাপুর পিপলস পার্টির (কেপিপি) সঙ্গেও রয়েছে সখ্য। নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় মূল ভিত্তি হলেও সাম্যবাদ ও মাওবাদের আদর্শে তারা পরিচালিত।

 

Advertisements

ভারতঃ পালামু-নিধনের প্রতিবাদ পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্যে আজ থেকে ৩ দিনের মাওবাদী বন্‌ধ

15731327-0985-4bb4-8862-555109813524wallpaper1

পলামুর জঙ্গি নিধনের প্রেক্ষিতে ৭২ ঘন্টার বন্‌ধের ডাক দিল মাওবাদীরা। আজ সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ১২ থেকে ১৪ জুন, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার জুড়ে এই বন্‌ধ পালিত হবে।

এক পুলিশ কর্তার বক্তব্য, এই বন্‌ধ প্রত্যাশিতই ছিল। সেই কারণে আগে থেকেই মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে আগে থেকেই অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আজ জারি করা হয়েছে চরম সতর্কতা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বন্‌ধে মাওবাদীদের সহজ লক্ষ্য সাধারণ ভাবে রেল লাইন ও ট্রেন। যে কারণে রেল কর্তাদেরও পুলিশ বাড়তি সতর্ক করে দিয়েছে। রেল লাইনে নাশকতা রুখতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে।

পলামুর জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত তিন কিশোরের পরিচয় এখনও অজ্ঞাত। জেলার এসপি ময়ূর পটেল জানিয়েছেন, ওই তিন জনের কোনও আত্মীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ৭২ ঘণ্টা পরও কেউ না এলে, নিয়ম মেনে ওই দেহগুলি কবর দেওয়া হবে। শনাক্তকরণের জন্য আরও কয়েক দিন কেন অপেক্ষা করা হবে না? পলামুর ডেপুটি কমিশনার কে শ্রীবাসনের জবাব, ‘‘শবদেহ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখার মতো পরিকাঠামো জেলায় নেই। তাই নিয়ম অনুযায়ী ৭২ ঘন্টার পরই ওই সেগুলি কবর দেওয়া হবে।’’

এ দিকে গত কাল দুপুরে ফের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষ হয়। চৈনপুর থানার কটকথি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত স্কুলবাড়ির সামনে ঘটনাটি ঘটে। পরে, তল্লাশি চালিয়ে তিন মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে, ২০ জন মাওবাদী পালায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এক গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মাও-সংগঠনের সাব-জোনাল কম্যান্ডার অরবিন্দজি ওরফে প্রসাদ লকড়া। তার মাথার উপর ১০ লক্ষ টাকা ইনাম ঘোষমা করা হয়েছিল। চৈনপুর থানা ও ব্লক অফিসে হামলা এবং পাঁচ পুলিশকর্মীকে খুনের অভিযোগ ছিল অরবিন্দ বোমা মারা সহ বেশ কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল অরবিন্দজি।

পুলিশ জানিয়েছে, গত কাল চৈনপুরের ওই সংঘর্ষে ক্রিস্টোফার গিড় (৪০) নামে গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়।

মূল সুত্রঃ

ঝাড়খণ্ডে  মঙ্গলবার ভোররাতে মাওবাদী সন্দেহে পুলিশের গুলিতে নিহত হলেন ১২জন।এদের মধ্যে তিন জনের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

ঝাড়খন্ডের পালামৌতে একটি গাড়ি করে যখন ওই ১২ জন যাচ্ছিলেন সেই সময় আগে থেকে খবর পেয়ে ওত্ পেতে বসেছিল পুলিশ-কোবরার জওয়ানরা। গাড়ি লক্ষ করে পুলিশ গুলি চালালে, গাড়ির ভিতর থেকে পাল্টা গুলি চালায় মাওবাদীরা। পালানোর চেষ্টা করায়  ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১২জনের। উদ্ধার হয় বেশ কিছু অস্ত্র। এমনটাই জানাচ্ছে ndtv। অন্যদিকে first post ও india today এর ওয়েব সাইটের রিপোর্ট অনুযায়ী দুটি গাড়ি করে মাওবাদীরা যাচ্ছিল। পুলিশের চেকিংয়ের সামনে পড়ে গিয়ে একটি গাড়ি গতি বাড়িয়ে দেয় অন্যটি থেকে মাওবাদীরা নেমে কোবরা জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা গুলি চালায় নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ানরাও। আর এতেই নিহত হন ওই ১২জন। একই ঘটনা ভিন্ন রিপোর্টিং।  অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন পুলিশ- মাওবাদী সংঘর্ষই যদি হয় তাহলে কী করে শুধু মাওবাদীদেরই মৃত্যু হল ?

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তিন ঘণ্টা গুলির লড়াই চলে। নিহত হয় ১২ মাওবাদী। এদের মধ্যে তিন জনের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, এই তিন কিশোর কী ভাবে মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত হল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদিও সংঘর্ষের ধরন ও তিন নাবালকের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাঁদের বক্তব্য, নিহতদের প্রত্যেকের দেহেই গুলির মারাত্মক ক্ষত রয়েছে। কিন্তু পুলিশ ও কোবরার গোটা বাহিনীই অক্ষত। অথচ পুলিশই নাকি অতর্কিত হামলার মুখে পড়েছিল। স্করপিও থেকেই প্রথম গুলি চলেছিল বলে তারা দাবি করছে। সে ক্ষেত্রে অন্ধকারে ঘন জঙ্গলে তিন ঘণ্টা সংঘর্ষের পরেও পুলিশের গায়ে কেন আঁচড়টুকুও লাগল না— সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। স্বাভাবিক ভাবেই ইঙ্গিতটা ভুয়ো সংঘর্ষের দিকে।

সুত্রঃ  http://www.anandabazar.com/national/maoist-call-72-hour-bandh-1.158851


কমরেড ইব্রাহিম কায়াপাক্কায়াকে নির্যাতন ও হত্যাকারী প্রাক্তন কর্নেলকে শাস্তি প্রদান করল তুরস্কের মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (MKP)

 11304510_941276359268590_1472528578_n

n_83618_1

তুরস্ক ও উত্তর কুর্দিস্তান মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, বিপ্লবী নেতা মাহির কাইহান ও তার কমরেডদের এবং ইব্রাহিম কায়াপাক্কায়াকে নির্যাতন ও হত্যাকারী প্রাক্তন কর্নেল ফেহমি আলতিনবিলেককে ৪০ বছর পর ইস্তাম্বুলে গুলি করে শাস্তি প্রদান করেছে তাদের সশস্ত্র নগর শাখা পার্টিজান পিপলস ফোর্সেস (PHG)।

১৮৭২ সালের ২৭শে মার্চ কিজিলদেরেতে বিপ্লবী নেতা মাহির সায়হান ও তার কমরেডদের বিরুদ্ধে অপারেশনের কমান্ডার ছিল ফেহমি আলতিনবিলেক। প্রাক্তন MKP, TKP/ML TIKKO এর বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশনের কমান্ডারও ছিল সে। এই অপারেশনে TIKKO এর প্রথম কমান্ডার আলি হায়দার ইলদিজ নিহত হন এবং কমিউনিস্ট নেতা ইব্রাহিম কায়াপাক্কায়া জখম হন ও গ্রেফতার হন।

MKP এর বিবৃতিটি বিপ্লবী পত্রিকা HALKIN GNLÜGÜ তে প্রকাশিত হয়েছে।

নিম্নে অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলঃ 

  

নির্যাতনকারী প্রাক্তন কর্নেলকে শাস্তি প্রদান করল মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (MKP)

ফেহমি আলতিনবেককে শাস্তি প্রদান করল আমাদের পার্টি

ফেহমি আলতিনবেককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কারণ আমাদের নেতা ইব্রাহিম কায়াপক্কায়াকে নির্যাতন ও হত্যা করার পিছনে যারা দায়ী ছিল তাদের মধ্যে সে ছিল একজন। ফ্যাসিবাদী ক্যু দিয়ে আমাদের প্রথম কমান্ডার আলি হায়দার ইলদিজকে হত্যা করার পিছনে ছিল সে। এবং কিজিলদেরে গণহত্যায় মাহির সায়হান ও তার কমরেডদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তার গোটা জীবনটাই নির্যাতন চালানোর কাহিনীতে পূর্ণ। সে ছিল গণশত্রু, অপারেশন গ্ল্যাডিও থেকে উৎপন্ন হওয়া গেরিলা বিরোধী গোপন রাজনৈতিক পুলিশ এজেন্সি JITEM (Gendarmerie Intelligence and Counter-Terrorism) এ তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তার সমস্ত অপরাধের শাস্তি হিসেবে ৬/৬/২০১৫ তারিখে আমাদের পার্টিজেন পিপলস ফোর্সেস(PHG) ফেহমি আলতিনবিলেককে শাস্তি প্রদান করে।

তার স্ত্রীর মৃত্যু ছিল একটি দুর্ঘটনা

তার স্ত্রীর মৃত্যু ছিল একটি দুর্ঘটনা। সে কখনোই আমাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল না, তবে তার মৃত্যুর জন্য আমরা দায়ী এবং আমাদের বিপ্লবী দায়বদ্ধতার কারণে আমরা এই দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে আমাদের বিপ্লবী কার্যকলাপকে বিকৃত করা উচিৎ হবে না।

আমরা গণশত্রুর বিরুদ্ধে বিপ্লবী সহিংসতা প্রয়োগ করে যাব

বিপ্লবীদের উপর ফাতিহ আলতিনবেকের নির্যাতনের ঘটনাকে রাষ্ট্র গোপন করে রেখেছে। রাষ্ট্র ফাতিহ আলতিনবেককেও রক্ষা করেছে এবং তাকে ‘সেতিন ওগুজ’ হিসেবে সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিচয় প্রদান করেছে। এতকিছুর পরেও রাষ্ট্র তাকে আমাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। প্রলেতারিয়েতদের সশস্ত্র বাহিনী সকল গণশত্রুর বিরুদ্ধে বিপ্লবী সহিংসতা চালিয়ে যাবে।”

সূত্রঃ

http://www.signalfire.org/2015/06/10/torturer-and-former-colonel-punished-by-the-maoist-communist-party-mkp/


যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে আবারও বিক্ষোভ

mckinney-black-protests-police.si

কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর-কিশোরীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য। লস অ্যাঞ্জেলসেও মেয়রের বাসভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে বর্ণবাদ বিরোধীরা।

২০১৪ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ এজেল ফোর্ডের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যের বিচারের দাবি জানানো হয় ওই বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে।

টেক্সাসের ম্যাককিনিতে একদল কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর কিশোরীর ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার এই ভিডিও চিত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বর্ণবৈষম্য বিরোধী অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

একে পর এক কৃষ্ণাঙ্গ নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের এসব ঘটনায় এরই মধ্যে বিতর্কের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগ। নতুন করে পুলিশের এমন প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার নিন্দা জানাতে টেক্সাসের রাস্তায় সোমবার জড়ো হয় শতশত মানুষ। মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকদের সঙ্গে সঙ্গে যোগ দেন বর্ণবাদ বিরোধীরাও।

পুলিশ ওই কিশোর কিশোরীদের তাড়া করতে থাকে, এক পর্যায়ে ১৪ বছর বয়সী ওই মেয়েটি আক্রমণের শিকার হয়। তাকে নির্মমভাবে মাটিতে চেপে ধরে হাতকড়া পড়ানো হয়। পুলিশ আমাদের সাথে বর্ণবাদ আচরণ করেছে। আমরা এর বিচার চাই।

গত পাঁচ জুন ওই ভিডিওটি ইউটিউবে প্রকাশিত হলে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ওই কিশোর কিশোরীরা অনুমতি ছাড়াই সেখানে এক পার্টির আয়োজন করেছিল এবং তাদের চলে যেতে বলার পরও না যাওয়ায় তাদের তাড়া করা হয়। পুলিশ বিভাগ কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরীর ওপর চড়াও হওয়া ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করলেও, স্থানীয় গণমাধ্যম তার নাম এরিক কেসবোল্ট বলে জানিয়েছে।

এদিকে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ এজেল ফোর্ডের ন্যায়বিচারের দাবিতে সোমবার লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়রের বাসভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে নিহতের স্বজনরা। ওই সমাবেশ থেকে এজেল ফোর্ডের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত পুলিশের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী আচরণ করা হয় না- যতই একথা বলা হোক না কেন, আসল চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে কৃষ্ণাঙ্গদের সবসময়ই শ্বেতাঙ্গদের থেকে আলাদা করে দেখা হয়। অনেকের মধ্যেই কৃষ্ণাঙ্গ বিরোধী মনোভাব রয়েছে। সবার উচিত এমন মনোভাব ত্যাগ করা।

২০১৪ সালে ফার্গুসনে পুলিশের গুলিতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ যুবক মাইকেল ব্রাউন নিহত হওয়ার ২দিন পর বিক্ষোভ চলাকালে নিহত হয় ২৫ বছর বয়সী ফোর্ড। তবে পুলিশের দাবি, ফোর্ড পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হয়।

সুত্রঃ http://rt.com/usa/266053-mckinney-black-protests-police/