যুদ্ধ পরিস্থিতিঃ রাষ্ট্র ও বিপ্লব এবং নবারুণ (নবারুণ ভট্টাচার্য স্মরণে)

10456320_10152266509589748_14381377_n

হারবার্ট এর পর নকশালবাড়ির বিপ্লবী রাজনীতি রাষ্ট্র ও বিপ্লবের আঙিনায় নবারুণ আবার ফিরলেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। মাঝে লিখেছেন ভোগী। হারবার্ট-এ নকশালবাড়ির যোদ্ধা বিনু ছিল এক পার্শ্বচরিত্র আর নায়ক হারবার্ট তাতে নেহাতই ক্ষীণভাবে ক্ষণিক সময়ের জন্য যুক্ত। যুদ্ধ পরিস্থিতির নায়ক রণজয় কিন্তু সরাসরি নকশালবাড়ি রাজনীতির মানুষ তার স্মৃতি আর সত্তা বিপ্লবী ভাবনায় জারিত। একদা গেরিলা যোদ্ধা ও বর্তমানে মানসিক ভারসাম্য হারানো প্রৌঢ় যে রণজয়কে আমরা এই আখ্যানে দেখি, সে সত্তরের আগুনঝরা সময়ে রাষ্ট্রের সঙ্গে রণে নেমেছিল এবং ধাক্কার মুখে পড়েছিল। রণজয় ও তার বিপ্লব প্রচেষ্টা রাষ্ট্রের তীব্র দমননীতি এবং আরো কিছু কারণে আপাত পরাজিত, কিন্তু লড়াইয়ের অঙ্গীকারে তারপরেও আত্মজাগ্রত। সময়টা সত্তরের পর। কেটে গেছে আরো পঁচিশ বছর। কিন্তু ১৯৯৪-তে যে বছর সিপিআই  নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারও আপোশ করে নিল কেন্দ্রের নয়া উদারনীতির সঙ্গে  যখন রাষ্ট্রের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য লুকিয়ে রাখা রাইফেলের স্তূপের ওপর উঠে গেল ফ্ল্যাটবাড়ি সে বছরও রণজয় গেরিলা যুদ্ধ আর বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাতেই নিবিষ্ট। বাস্তবতা মেনেই সমাজ সংসার আর পারিবারিক শুভানুধ্যায়ীদের তৎপরতায় তার স্থান হয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু সেখানে থাকলেও বিপ্লবের নির্মম শত্রু রাষ্ট্রের সতর্ক পাহারাদার  যেমন দেবী রায়ের ডানহাত বসাক তার ভয় থেকে মুক্ত হতে পারে না  কারণ ‘শ্রেণিশত্রু লিক্যুইডেট’ করার কাজ শেষ হয়নি।

যুদ্ধ পরিস্থিতি  উপন্যাসের নায়ক রণজয় বস্তুত বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষার এক এমবডিমেন্ট । তার চেতনায় ভিড় করে ছিল আছে চিরকাল থাকবে রুশ বিপ্লব চিন বিপ্লব মার্কিন আগ্রাসন ও নাপাম বোমার মুখে ভিয়েতনামের প্রতিবাদী প্রতিরোধ ফ্যাসিবাদবিরোধী নকশালবাড়ির বিপ্লবী কর্মকাণ্ড  কমরেড লেনিন, কমরেড স্ট্যালিন, কমরেড মাও সে তুং কমরেড ও শ্রদ্ধেয় নেতা চারু মজুমদার। ভিড় করে আছে অসংখ্য সহযোদ্ধা কমরেড যারা স্বপ্ন দেখেছে, লড়াই করেছে, অত্যাচারিত হয়েছে, শহিদ হয়েছে বারাসাতে, বেলেঘাটায়, বরানগরে, কাশীপুরে, সন্তোষপুরে, মেদিনীপুরে, মুর্শিদাবাদে পুলিশ লক আপে ময়দানে দিনের আলোয় রাতের অন্ধকারে। বস্তুতপক্ষে যুদ্ধ পরিস্থিতি উপন্যাসটি একই সঙ্গে সত্তরের উত্তুঙ্গ দিনকালের বিশ্বস্ত দিনলিপি, আবার আবহমান বিপ্লবী স্বপ্নের চিরায়ত নির্যাস হিসেবে আমাদের সামনে হাজির থাকে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি উপন্যাসে একটানা কোনো কাহিনি নেই। আছে রণজয় ও তার কাছাকাছি থাকা কিছু মানুষের জীবনের টুকরো টুকরো কিছু কথা। রণজয়-এর মধ্য দিয়ে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতিকেই আসলে নবারুণ এখানে সামনে এনেছেন। প্রত্যক্ষত, নকশালবাড়ি আন্দোলন এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কেন্দ্রে কিন্তু তাকে ঘিরে আছে আরো আরো যুদ্ধ পরিস্থিতি  যার কোনোটা রাশিয়ার পেট্রোগ্রাডে কোনোটা চিনের লং মার্চে কোনোটা ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবার কোনোটা স্পেনে ফ্রাঙ্কোর ফ্যাসিবাদী হামলার বিরুদ্ধে  কোনোটা নাৎসি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চলমান। আখ্যানকার নবারুণ ব্যক্তিগতভাবেও যে নকশালবাড়ির বিপ্লবী রাজনীতি দ্বারা কতটা প্রাণিত হয়েছিলেন, সেটা বিভিন্ন সময়ে নানা সাক্ষাৎকারে খোলাখুলি জানিয়েছেন।  ১৯৯৮  তথ্যকেন্দ্র পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন-

সত্তরের আন্দোলন দ্বারা যে আমি প্রভাবিত হয়েছিলাম একথা তো সবাই জানে। আমার রেসপন্সটা কিন্তু ছিল লেখক হিসেবেই। আমার যেটা দায় সেটা আমি লেখা দিয়েই পূরণ করে দিয়েছি। সত্তরের ত্যাগটা যদি আমাদের এখানে কেউ অস্বীকার করে বা ভুলে যায় তাহলে সে খুব অন্যায় কাজ করবে। (নবারুণ ভট্টাচার্যর উপন্যাস সমগ্রর গ্রন্থ পরিচিতি থেকে গৃহীত)

উপন্যাসের মেরুদণ্ড যুদ্ধ পরিস্থিতি হওয়ায় এখানে স্বাভাবিকভাবেই সশস্ত্র অভ্যুত্থান ও গেরিলা রণনীতি নিয়ে বিস্তৃত বয়ান আছে। নকশালবাড়ি আন্দোলনের পর্বে বিশেষত প্রথম দিকে চারু মজুমদারের নির্দেশ ছিল ঘরোয়া অস্ত্র ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। কৃষকদের মধ্যে থেকেই বানিয়ে নিতে হবে আর্মড ইউনিট। চেয়ারম্যান মাও শিখিয়েছিলেন, অস্ত্র যেন রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ না করে রাজনীতি যেন অস্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মধ্যবিত্ত স্তর থেকে আসা বুদ্ধিজীবী কমরেডদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দিকে একটা ঝোঁক ছিলই। রণজয় চারু মজুমদারকে বোঝার চেষ্টা করেছে:

রাত করে কোনও সভা ? সেখানে গেরিলা অ্যাকশন সম্বন্ধে কমরেড মজুমদারের কথাগুলো বোঝার ও বোঝানোর চেষ্টা করা ?বুদ্ধিজীবী সংগ্রামী হিসেবে সঙ্গে একটা ছোট পিস্তল ছিল ? কিন্তু কমরেড লড়াই এর এই স্তরে কোনোরকম আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। রণজয় কুপির আলোটার দিকে এগোয়। গেরিলা ইউনিটকে সম্পূর্ণভাবে দা বল্লম সরকি কাস্তের ওপর আস্থা রাখতে হবে। না কমরেড এটা দেশী বন্দুক কেনা বা তৈরি করা বা বন্দুক দখলের পক্ষে উপযুক্ত সময় নয়। হাতে বন্দুক পেলেই কি আমরা দখলে রাখতে পারব না। পুলিশ ঠিক ওগুলো দখল করে নেবে।

আন্দোলনের পরবর্তী পর্বে রাষ্ট্রের দমননীতির বিরুদ্ধে রণকৌশল বদলাতে হয়। বন্দুক দখল ও ব্যবহারের ওপর জোর পড়ে:

ওখানে একটা লোকাল অপারেশন চলছে। তাকে প্রতিহত করতে কোণঠাসা করতে চূর্ণ করতে দরকার অস্ত্রের। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে চীনা গণমুক্তি ফৌজ ৩২০ টি রাইফেল নিয়ে বিপ্লবী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আমরা না হয় ৬০ টি রাইফেল আর ২০০ টি পাইপগান নিয়ে আমাদের প্রথম গণমুক্তি ফৌজ তৈরি করব।

মাও সে তুং-এর গেরিলা যুদ্ধ সম্পর্কিত নির্দেশিকাকে রণজয়ের ভাবনাসূত্রে সরাসরি তুলে এনেছেন নবারুণ:

ঘাঁটি এলাকা গড়ে তুলতে হলে প্রথমে চাই একটি স্থায়ী সৈন্যবাহিনী এবং চাই রাজনীতি সচেতন জনতা। এই দুটি শর্ত পালিত হলেই টেরেনের প্রশ্ন আসে। টেরেনের প্রশ্নের দুটি দিক আছে। একটা প্রাকৃতিক এবং অন্যটা নিজেদের হাতে তৈরি করা। সমতলভূমিতে ঘাঁটি এলাকা হতে পারে। তার প্রমাণ জাপ বিরোধী যুদ্ধের সময় পিকিং শহরের উপকণ্ঠে সাতটি এরকম ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল।

nabarun-bhattacharjee_11249

গ্রামাঞ্চলে কৃষক আন্দোলনের ওপর ভর করেই এগোতে চেয়েছিল নকশালবাড়ির মুক্তিসংগ্রাম  আর তাই ছাত্র-যুবদের ডাক দেওয়া হয়েছিল । তরুণ শিক্ষক  ইতিহাসের মেধাবী ছাত্র রণজয় এই ডাকে সারা দিয়েই গিয়েছিল উত্তরবঙ্গে। গিয়েছিল শ্রদ্ধেয় নেতার নির্দেশ মেনে ভূমিহীন কৃষকের সঙ্গে একাত্ম হতে। এরকমই আরো অজস্র নবীন প্রাণ সাথী হয়েছিল রণজয়ের। বাস্তবের এক চরিত্র যাদবপুরের স্নাতকোত্তরের বাংলা বিভাগের ছাত্র সম্ভাবনাময় সাহিত্যিক তিমিরবরণ সিংহর কর্মকাণ্ড ও শহিদ হওয়ার প্রসঙ্গ এখানে এনেছেন নবারুণ। এসেছে বাস্তব ও বাস্তবকল্প এরকম আরো অনেক চরিত্র।

বিপ্লবী কর্মকাণ্ডকে শোধনবাদী চিন্তার মোকাবিলা করেই এগোতে হয় নকশালবাড়ি আন্দোলন ও তার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই দিশা ভারতীয় কমিউনিস্ট আন্দোলনে শুধু নয়  আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনেই সতর্কবার্তা হিসেবে বারবার এসেছে। বিভিন্ন প্রসঙ্গে নবারুণ এখানে সেগুলি ছুঁয়ে গিয়েছেন। কমিউনিস্ট শিবিরের মধ্যেকার টু লাইন স্ট্রাগল বস্তুতপক্ষে এখানে জীবন্ত হয়ে উঠেছে এই লড়াইকে রণজয়ের আত্মস্থ করার সূত্রে। রণজয় স্মরণ করে মাও-এর সেই অমোঘ উক্তি: বিপ্লব কোনও ভোজসভা নয়। সূচিশিল্প বা প্রবন্ধ রচনা নয় । রণজয় তার পাঠ-অভিজ্ঞতা থেকে জানে:

বিপ্লবের পথে শ্রেণি শত্রুরা ছাড়াও মেকি বিপ্লবী ও দালাল গুপ্তচরদের বাধা থাকবেই- সেই কাউটস্কি, বার্নস্টাইন থেকে শুরু করে মেনশেভিক জিনোভিয়েভ,  কামেনেভ, বুখারিন, ট্রটস্কি, লি শাও চিদের কথা ভুললে চলবে না। ভুললে চলবে না ডাঙ্গেচক্র, নয়া সংশোধনবাদী ও খোকনচক্রের কথা।

তবে রণজয় যাদের শোধনবাদী পণ্ডিত বলেছে তাদের বই থেকেও প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে কোনো ছুৎমার্গ দেখায়নি। ইতিহাসবিদ সুশোভন সরকারের কথা এখানে এসেছে। বস্তুতপক্ষে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবিলার এক বিরাট পাঠ-প্রস্তুতির তালিকা হাজির করেন নবারুণ। ছেলে কোবা পড়বে এ সব বই প্রস্তুত হবে আগামী এক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য এমনই ভাবে রণজয়:

কোবা বড় হয়ে দুনিয়া কাঁপানো দশদিন পড়বে। চাপায়েভের গল্প পড়বে। ধীরে বহে সাগরে মিলায়ে ডন পড়বে। পড়বে ডাইসন কার্তার এর সোভিয়েত বিজ্ঞান, লিও কিয়াচেলি নতুন দিনের আল্‌ ডিয়ানা লেভিন এর সোভিয়েত রাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা, দিলীপকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ছোটদের সোভিয়েত, তিন খণ্ডে অমল দাশগুপ্ত, রবীন্দ্র মজুমদার ও অনিল কুমার সিংহের অনুবাদে ১৯৪২ সালের স্ট্যালিন পুরস্কার পাওয়া পারীর পত্‌ লু সুন, লাও চাও, তিৎ লিঙ ও অন্যান্য পাঁচজনের লেখা এগারোটি গল্প  নীহার দাশগুপ্তের অনুবাদে গোর্কির নবজাতক

hqdefault

ছাত্র কৌশিককে ইতিহাসের তরুণ শিক্ষক রণজয় পাঠক্রমের বাইরে গিয়েই এক ব্যাপ্ত জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল পড়তে দিয়েছিল অনেক বই:

রণজয় কৌশিককে একটার পর একটা বই পড়তে দিত। ঘন্টার পর ঘন্টা ওকে যুদ্ধের গল্প স্তালিনগ্রাদ লং মার্চ ভিয়েতনাম কিউবার মুক্তিযুদ্ধ বর্ণনা করে যেত

রণজয়ের স্মৃতি আর সত্তার মধ্যে সংযোগের উপায় হিসেবে রাস্তা থেকে খুঁজে পাওয়া মানুষটিকে অনেক দিন আগে তারই দেওয়া বইগুলি দেখানোর কথা ভাবে কৌশিক:

কৌশিকের মনে হল রণজয়দার সই করা একটা বই নিয়ে গিয়ে বলবে যে বইটা চিনতে পারছে কিনা। যেমন, ভিলহেলম লিবনেখত এর ‘অন দা পলিটিকাল পোজিশন অফ সোশ্যাল ডেমোক্র্যাসি’ বা কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের অনুবাদে ক্লারা সেৎকিন-আমার স্মৃতিতে লেনিন অথবা রিডার্স গাইড টু দা মার্কসিস্ট ক্লাসিকস -মরিস কনফোর্থের -লরেন্স অ্যান্ড উইশার্ট লিমিটেড, ১৯৫৩ বা গিওর্গি দিমিত্রভের  ইউনাইটেড ফ্রন্ট অব দা ওয়ার্কিং ক্লাস এগেন্সট ফ্যাসিজম।

একটি বিপ্লব প্রচেষ্টা শত্রুর আক্রমণ ও অন্যান্য কারণে কিছুটা পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এ জন্যই যারা নকশালবাড়ি আন্দোলন তথা ভারতে বিপ্লব প্রচেষ্টার পোস্টমর্টেম শুরু করে দিয়েছিলেন, নবারুণ বা তার উপন্যাসের নায়ক রণজয় তাদের বিপ্রতীপ মেরুতে অবস্থান করেন। বাস্তবের মাটিতেও আমরা দেখেছি সত্তরের ব্যর্থতা ও ভুলগুলি থেকে নিজস্ব নিজস্ব বিশ্লেষণ অনুযায়ী শিক্ষা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু দৃপ্ত বলিষ্ঠতায় বিপ্লবী গণ আন্দোলনগুলি গড়ে উঠছে বিহারের আরা ভোজপুরের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে সমস্ত হিন্দি বলয়ে অন্ধ্রের বারুদ বিস্ফোরিত হচ্ছে আদিবাদী বাসভূমিগুলিতে। গণ আন্দোলনের ঢেউয়ে ঢেউয়ে রাষ্ট্রের দমন-পীড়নকে উপেক্ষা করে নকশালবাড়ির শপথকে তেভাগা তেলেঙ্গানার উত্তরাধিকারকে মনে রাখা হচ্ছে। এজন্য দরকার ছিল সত্তরের ধাক্কার পর সংহত হওয়ার তৈরি হওয়ার জেদটা। আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনকেও এরকম ধাক্কা ও পুনর্গঠনের পর্বের মুখোমুখি হতে হয়েছে। চিনে সাংহাই বিপর্যয়ের পর বা রাশিয়ায় বিপ্লবী আন্দোলনের সাময়িক স্থিতাবস্থার পর এরকম পরিস্থিতি এসেছিল। পিছু হঠার জন্য নয় নতুন শুরুর প্রস্তুতির জন্যই বিপ্লবী আন্দোলনে কখনো কখনো ওয়ান স্টেপ ফরওয়ার্ড টু স্টেপ ব্যাক জাতীয় কৌশলের দরকার হয়। এই উপন্যাসে লেনিনের শিক্ষাকে সরাসরি সামনে আনা হয়েছে আগামী দিনে রাষ্ট্র ও বিপ্লবের আরেকটি নতুন অধ্যায় লেখার জন্যই:

পৃথিবীব্যাপী বিপ্লবের প্রথম জলোচ্ছ্বাস সরে গেছে। দ্বিতীয়টি এখনো ওঠেনি। এ বিষয়ে কোনোরকম বিভ্রম পোষণ করা আমাদের পক্ষে বিপজ্জনক হবে। আমরা সম্রাট জারেক্স নই যিনি সমুদ্রকে শেকল দিয়ে আঘাত করতে আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনা পরম্পরাকে এইভাবে বোঝার অর্থ কি চুপ করে বসে থাকা অর্থাৎ লড়াই পরিত্যাগ করা। আমাদের তৈরি হতে হবে খুব ভালো করে তৈরি হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে বিপ্লবের ঢেউ এলে তাকে সজ্ঞানে ও সবলে সম্যকভাবে কাজে লাগাতে পারি।

লেখকঃ সৌভিক ঘোষাল


ভারতঃ মাওবাদীদের পুলিশের গুপ্তচরদের হত্যা করার প্রবণতা – একটি বিশ্লেষণ

images 

২০১৫ সালের ১৬ই জুন উড়িষ্যার কালাহান্দি জেলার এম রামপুর থানাধীন পুইঝরি গ্রামের ৪২ বছর বয়সী খ্রীস্টান যাজক রমেশ মাঝিকে ‘পুলিশের গুপ্তচর’ সন্দেহে হত্যা করে সিপিআই (মাওবাদী) এর ক্যাডাররা। মৃতদেহের পাশে উদ্ধারকৃত পোস্টারে উল্লেখ ছিল ‘পুলিশের গুপ্তচর’ হিসেবে কাজ করার অপরাধে প্রজা আদালতে (জনতার আদালত) মাঝিকে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের ৮ই জুন ছত্তিসগড়ের সুকমা জেলার পোলামাপল্লী গ্রামে ‘পুলিশের গুপ্তচর’ সন্দেহে সোদি চন্দ্র সিং নামে এক গ্রামবাসীকে হত্যা করে মাওবাদী ক্যাডাররা। মৃতদেহের পাশে পড়ে থাকা দক্ষিণ বস্তার বিভাগের কোন্তা এরিয়া কমিটির বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়েছিল, “২০১৩ সাল থেকে সোদি চন্দ্র সিং পুলিশের গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত। সে ক্রমাগত আমাদের পিলজিএ (People’s Liberation Guerrilla Army) এর সভা অনুষ্ঠানের খবর পুলিশকে জানাত। ১০ই এপ্রিল STF (Special Task Force) এর একটি দল যখন পিএলজিএ এর উপর হামলা চালাতে পিদমেদে আসে তখন সে পুলিশের গুপ্তচরের কাজ করেছিল।”

Maoist-Killing-Malkangiri

২০১৫ সালের ৫ই জুন, উড়িষ্যার কোরাপুট জেলার পোত্তঙ্গি থানাধীন পেত্রু গ্রামে জগ খিলো নামে এক গ্রামরক্ষীকে হত্যা করে মাওবাদীরা। মৃতদেহের পাশে মাওবাদীরা একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে যায় যাতে জগ ‘পুলিশের গুপ্তচর’ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। সন্দেহ করা হয় এটি সিপিআই (মাওবাদী) এর অন্ধ্র উড়িষ্যা সীমান্ত বিশেষ জোনাল কমিটির শ্রীকাকুলাম-কোরাপুট বিভাগের কাজ। ২০১৫ সালে এখন পর্যন্ত (২১শে জুন পর্যন্ত সংগ্রহকৃত তথ্য অনুযায়ী) মাওবাদী অধ্যুষিত বিভিন্ন রাজ্যে মাওবাদীদের হাতে ২৪ জন ‘পুলিশের গুপ্তচর’ নিহত হয়েছে। চলতি বছরে সারা দেশে মাওবাদী সহিংসতায় নিহত সাধারণ মানুষের সংখ্যা ৪৪।

maoists-kerala-forests.jpg.image_.784.410

দেখা যাচ্ছে, এইসময়ে নিহত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ৫৪.৫৪ শতাংশকে ‘পুলিশের গুপ্তচর অভিযোগে’ খতম করেছে মাওবাদীরা। ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বরে সিপিআই (মাওবাদী) গঠিত হবার পর থেকে এই ধরনের খতম ঘটে চলেছে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে। দক্ষিণ এশিয়া সন্ত্রাসবাদ পোর্টাল (South Asia Terrorism Portal  -SATP) সংগৃহীত আংশিক তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১শে সেপ্টেম্বরের পর থেকে মাওবাদী অধ্যুষিত বিভিন্ন রাজ্যে সর্বমোট ৪৯৯ জনকে ‘পুলিশের গুপ্তচর’ অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে এধরনের সহিংসতায় নিহত সাধারণ নাগরিকদের সংখ্যা সর্বমোট ২৮০০। এসময়ে নিহত সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ১৭.৮২ শতাংশকে ‘পুলিশের গুপ্তচরের’ অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এই সময়কালে উড়িষ্যায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এ জাতীয় খতম সংঘটিত হয়েছে, ২৭৩ জন নিহত সাধারণ নাগরিকের ভেতরে ১১৩ জন (৪১.৩৯%); ঝাড়খণ্ডে ৫৯৬জনের মধ্যে ৯৫ জন (১৫.৯৩ %); ছত্তিসগড়ে ৬৯১ জনের ভেতর ৮৮ জন (১২.৭৩%); অন্ধ্র প্রদেশে ২৬১ জনের মধ্যে ৭৬ জন (২৯.১১%); পশ্চিমবঙ্গে ৫৪৪ জনের মধ্যে ৫৩ জন (৯.৭৪%); মহারাষ্ট্রে ১৩৯ জনের মধ্যে ৫১ জন (৩৬.৬৯%); বিহারে ২৮৪ জনের মধ্যে ১৮ জন (৬.৩৩%); উত্তর প্রদেশে ২ জনের মধ্যে ২ জন (১০০%); তেলেঙ্গানায় ৩ জনের মধ্যে ২ জন (৬৬.৬৬%) এবং কর্ণাটকে ৭ জনের মধ্যে ১ জন (১৪.২৮%)।

এক বছর থেকে অন্য বছরে এ ধরনের খতম হারে তারতম্য ঘটেছে। তবে ২০১১ সালের শুরু থেকে মাওবাদী অ্যাকশনে ভাটা পড়লেও সন্দেহভাজন ‘পুলিশের গুপ্তচর’দের খতমের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তবে ২০১৩ সালে এ হার কম। পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত তথ্য (২০১০ সাল থেকে) অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত ‘পুলিশের গুপ্তচর’ অভিযোগে মাওবাদীদের হাতে নিহতের সংখ্যা ৯০১। একই সময়কালে নিহত সাধারণ নাগরিকের সংখ্যা সর্বমোট ২০৩৯। নিহত সাধারণ নাগরিকদের ভেতরে ‘পুলিশের গুপ্তচর’ অভিযোগে নিহতের হার ৪৪.১৮%। বার্ষিক হারের তারতম্য এক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে অনিয়মিত।

সূত্রঃ

http://www.eurasiareview.com/22062015-india-disturbing-trend-of-killing-police-informers-analysis/


দূর থেকেই ক্ষমা চেয়েছি বাপ্পার কাছে : মহাশ্বেতা দেবী (একমাত্র পুত্র নবারুণ ভট্টাচার্য স্মরণে)

1082014247031-large

(প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী ও অভিনেতা বিজন ভট্টাচার্যের একমাত্র সন্তান ছিলেন নবারুণ। প্রথাবদ্ধ চিন্তার দেয়াল ভাঙতে চাওয়া লেখক ছিলেন নবারুণ।   )

ওকে যে আমি ইচ্ছা করে ছেড়ে এসেছিলাম , তা নয়৷ আমাকে দুনিয়া হয়তো খুব নিষ্ঠুর মা হিসাবেই দেখবে৷ ’ একান্ত সাক্ষাত্কারে মহাশ্বেতা দেবী ৷ আলাপে রাহুল দাশগুন্ত

মনে হয়, আমার বিষয়ে আমার ছেলে শুধুই ক্রিটিকাল ছিল না , ওর মধ্যে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংও ছিল৷ অ্যাট দ্য এন্ড অফ মাই লাইফ , আজ সেই হাহাকার নেই যে , তাকে চোখে দেখিনি কত দিন

Nabarun--621x414
রাহুল দাশগুন্ত : আপনি এক বার লিখেছিলেন , ‘হাজার চুরাশির মা ’ বইয়ে ব্রতীর শৈশবচিত্র তো আমার ছেলে নবারুণেরই শৈশব৷ ওঁর শৈশব নিয়ে যদি কিছু বলেন৷

মহাশ্বেতা দেবী : আমার ছেলেকে তোমরা নবারুণ বলে চেনো৷ ওর ডাকনাম , বাপ্পা৷ আর আমি তো ওকে ‘বাবু’ বলে ডাকতাম৷ বাবুর জন্ম , ১৯৪৮ সালে৷ দেশ সবে স্বাধীন হয়েছে৷ আমি তখন বাবা -মা ’র কাছে ছিলাম৷ ও বাড়িতেই জন্মেছে৷ ওর জন্মের পর আমার বাবা মনীশ ঘটক অসম্ভব আনন্দ পেয়েছিলেন৷ একদম শিশুর মতো হয়ে উঠেছিলেন৷ বলেছিলেন , তোমরা মনে রেখো , ওর সঙ্গে আমার বন্ধুত্বই সবার আগে হবে৷ মা যেন এর মধ্যে মাথা না গলান ! বাবু ছিল ‘তুতুল ’ মানে আমার বাবার বড়ো নাতি৷ কলকাতায় এলেই বাবুর জন্য বাবা চকোলেট আনতেন৷ ‘পাতাবাহার ’ আর ‘শিলালিপি ’ উপহার দিয়েছিলেন৷ বাপ্পা খুবই দুরন্ত ছিল৷ বাবা ওকে বাগে আনার চেষ্টা করতেন৷ পারতেন না৷ সত্তর দশকের গোড়ায় বাপ্পার ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না ’ প্রকাশিত হয়৷ বইটি পড়ে বাবা ওকে একটা পোস্ট কার্ডও পাঠান৷ লেখাটার বেশ তারিফ করেছিলেন উনি৷ বাপ্পার জন্মের পর বিজনও খুব খুশি ছিলেন৷ বাপ্পাকে নিয়ে ওঁর বাবা কত কবিতা আর গান যে বানিয়েছিলেন , তা বলে শেষ করা যাবে না৷ বিজন বলতেন , আমাকে একদম বাধা দেবে না৷ ছোটবেলায় শিশুরা মা -সর্বস্ব হয় ঠিকই , কিন্ত্ত এ ব্যাপারে বাবাকেও যথেষ্ট আমল দিতে হবে৷ মা তাকে যত ভালোবাসে , বাবা কিছু কম ভালোবাসে না !
রাহুল দাশগুন্ত : বাপ্পাকে যখন ছেড়ে এলেন , সেই সময়কার কথা কিছু যদি বলেন৷
মহাশ্বেতা দেবী : আমার ছেলের ১৪ বছর বয়সে স্বামীকে ছেড়ে এসেছিলাম৷ ঠিক করেছিলাম , একা থাকব৷ এমন নয় যে , বিজন আমাকে কোনো বাধা দিয়েছিলেন৷ উনি আমার সব কাজেই আমাকে অসম্ভব উত্সাহ দিয়েছেন৷ বলা যায়, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা৷ আমার অসম্ভব স্বাধীনতা ছিল৷ আমার সব কিছু, প্রতিটি কাজকর্মেই তিনি থাকতেন৷ মানুষ হিসাবে অসম্ভব খোলামেলা৷ আর একদম খাঁটি শিল্পী৷ কিশোর নবারুণ আর বিজনকে ছেড়ে আমি বালিগঞ্জ স্টেশন রোডে জ্যোতির্ময় বসুর গেস্ট হাউসের একটা ছোটো ঘর ভাড়া নিয়ে চলে আসি৷ মনে করেছিলাম , আমার ‘একলা হওয়া ’ খুব দরকার৷ একলা ছিলাম , এটাও সত্যি৷ সন্তান জন্মানোর পর নিজের সাধ্যমতো চেষ্টায় তাকে বড়ো করতে লাগলাম৷ এমন নয় যে , আমার সঙ্গে বিজনের কোনো বড়োসড়ো ঝগড়া হয়েছে৷ কোনো কথা -কাটাকাটিও হয়নি , যা হয়েছে সে যত্সামান্য মতবিরোধ৷ অত্যন্ত তুচ্ছ কারণে৷ বাট আই ওয়াজ ফোর্সড টু লিভ মাই সান৷ ১৪ বছর বয়সে সেই যে নবারুণকে ছেড়ে আসি , তারপর আর আমাদের একসাথে থাকা হয়নি বলতে গেলে৷ কিন্ত্ত ওকে ছেড়ে আসলেও ওর লেখাপড়ার খরচ ও অন্যান্য সব কিছুর দেখাশুনো সাধ্যমতো পিছন থেকে আমিই করতাম৷ বিজনও চেয়েছিল , যতটা সময় একসঙ্গে থাকা যায়৷ বিজনের দিক থেকে কোনও বাধাও ছিল না৷ বাপ্পার বাবা যেভাবে স্নেহ আর যত্নে ওকে মানুষ করেছিল , তার কোনও তুলনা হয় না৷ তারপর একটা সময় পর ওর বিয়েও হয়ে যায় , নিজের একটা স্বতন্ত্র পরিবারও হয়৷ বাপ্পার সঙ্গে যোগাযোগটা আমার ছিলই৷ তারপর ক্রমে সেই যোগাযোগ ক্ষীণ হতে শুরু করে৷ আমি মাঝে মাঝে চিঠি লিখতাম , উত্তর পেতাম না৷ সে সব কথা আজ আর তুলতেও ইচ্ছা করে না৷ আমি দীর্ঘ দিন যে বিজনকে ছেড়ে ছিলাম , তার পিছনে আমাদের দু’জনের মধ্যেকার ভুল -বোঝাবুঝি সম্পূর্ণ দায়ী৷ পরে এ -জন্য আমি যথেষ্ট অনুশোচনা করেছি৷ আর বাপ্পার সঙ্গে তো মনের দিক থেকে আমি সব সময়ই জড়িয়ে ছিলাম৷ ওকে যে আমি ইচ্ছা করে ছেড়ে এসেছিলাম , তা নয়৷ সবটাই আমার হাতের বাইরে চলে গেছিল৷ আমাকে দুনিয়া হয়তো খুব নিষ্ঠুর মা হিসাবেই দেখবে৷mohashata-debi
রাহুল দাশগুন্ত : নবারুণদার লেখা আপনার কেমন লাগতো ?
মহাশ্বেতা দেবী : খুব পজিটিভ আর খুব পাওয়ারফুল৷ কবিতা -গল্প -উপন্যাস , সবকিছুতেই ও দক্ষতা দেখিয়ে গেছে! ওঁর লেখা বেরোলেই আমি সাধ্যমতো জোগাড় করে পড়তাম৷ কারণ সেই লেখার মধ্যেই আমার ছেলেকে আমি খুঁজে পেতাম৷ ও যা লিখেছে , নিজের হাতে কলম দিয়ে লিখেছে , সেটাই আমার কাছে বিরাট পাওয়া৷ লেখক হিসাবে ও যে দাঁড়িয়েছে , এটা আমার কাছে একটা মস্ত বড় প্রান্তি৷ বাপ্পা তো অনেক লেখেনি৷ ওর লেখা ওর সমসাময়িকদের চেয়ে অন্য রকম , ভিন্ন স্বাদের ছিল৷ ও লিখতেই এসেছিল৷ ওর লেখা যে মানুষের ভালো লেগেছে , স্বীকৃতি পেয়েছে , এটাই তো সবচেয়ে ইতিবাচক ব্যাপার৷ ভবিষ্যতে ওর লেখা থেকে যাবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওনা৷
রাহুল দাশগুন্ত : বাবা না ছেলে , কার কথা আপনার বেশি মনে পড়ে ?
মহাশ্বেতা দেবী :  বাপ্পা , আমার ছেলের কথাই খুব বেশি করে মনে পড়ে৷ হ্যাঁ, বিজনের থেকেও বেশি৷ বিজন খুব আনন্দময় মানুষ ছিলেন৷ অসম্ভব দারিদ্রের মধ্যে বড়ো হয়েছেন৷ আমাকে উনি ভীষণ শ্রদ্ধা করতেন৷ আর নবারুণ ? আমি তার মা৷ অথচ আমরা তো বেশি দিন একসঙ্গে থাকি নি৷ ও আসলে বাবার খুব কাছের ছিল৷ ওদের দু’জনের কাছেই আমি একটা রিয়েলিটি৷ ‘অ্যাজ আ পার্সন আই এক্সিস্ট৷ ’ এটা ওদের দু’জনের কেউই অস্বীকার করতে পারবে না৷ মনে হয় , আমার বিষয়ে আমার ছেলে শুধুই ক্রিটিকাল ছিল না , ওর মধ্যে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংও ছিল৷ অ্যাট দ্য এন্ড অফ মাই লাইফ , আজ সেই হাহাকার নেই যে , তাকে চোখে দেখিনি কত দিন৷ এক সময় খুব মনে হতো , আমার ছেলেকে আমি জানতে চাই , তার সঙ্গে কথা বলতে চাই , তাকে আমার বাড়িতে আনতে চাই , কাছে পেতে চাই৷ ইচ্ছা করত , তার হাত ধরে নিয়ে আসি৷ সে -ও নিশ্চয়ই আমাকে গ্রহণ করবে , ভালোবাসবে৷ ‘হি ইজ বর্ন অফ মি ’, এই সম্পর্কটা তো কেউ কোনও দিন অস্বীকার করতে পারবে না ! অন্যরা দূর থেকেই আমার বিচার করে যাবে৷ কিন্ত্ত আমার ভিতরটা কি কেউ দেখতে পাচ্ছে ? কেউ জানে , আমার ভিতরে কী হয় ? দূর থেকে কত বার যে ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে গেছি , নিজের ছেলের কাছে , ‘কনটিনিউয়াস ’, কেউ জানে তা ? কত বার মনে হয়েছে , আমি মা , আমারই তো আগে যাওয়া উচিত৷ ও আমার কাছে একটা মস্ত বড় রিয়েলিটি হয়ে ছিল , ও যে আছে সেটাই , মনে হতো , চাইলেই তো যে কোনও সময় গিয়ে ওর সঙ্গে দেখা করতে পারবো ! ও কেমন আছে , কী লিখছে , কী ভাবছে , এইসব চিন্তা আমাকে অস্থির করে তুলতো৷ আরও মনে হত , ও কি আমার কথা ভাবে ? আমি কেমন আছি জিগ্যেস করে ? আমার লেখা পড়ে ? ওকে যে সে ভাবে আমি কাছে পাই নি , তার মধ্যে আমারও ভুল অনেকটাই আছে৷ কিন্ত্ত বাপ্পা বা ওর বাবা আমাকে কখনও কোনও সমালোচনা করেনি৷ আজ মনে হয় , কেন করে নি ? করলে ভালো হত৷
রাহুল দাশগুন্ত :  নবারুণদাকে যাঁরা চেনেন না , তাদের জন্য যদি কিছু বলেন …
মহাশ্বেতা দেবী : বাপ্পা বই -পাগল ছিল৷ বই পড়তে ভীষণ ভালোবাসতো৷ ওর মতো ছেলের নিজস্ব একটা জগত্ থাকবেই৷ সেই জগতেই ও থাকত৷ ও একেবারে বইয়ের জঙ্গলের মধ্যে শিকারী হয়ে ঘুরে বেড়াতো৷ ওর চেনাজানা জঙ্গল ! বিজন নাটক লিখত , আমি গল্প -উপন্যাস৷ বাপ্পা শুরুই করেছিল কবিতা দিয়ে৷ ওর একটা কবিতা খুব মনে পড়ে , ‘একটা কথার ফুলকি উড়ে শুকনো ঘাসে পড়বে কবে / সারা শহর উথাল -পাথাল , ভীষণ রাগে যুদ্ধ হবে / ফাটবে চিবুক, পোড় খাবে বুক, একটা নদী উতল হয়ে ’, আর মনে পড়ছে না ! কিছু দিন পর ও খুব মন দিয়ে গল্প লিখতে শুরু করল৷
বই পড়ার পাশাপাশি ও খেতেও খুব ভালোবাসতো৷ মাংসের একটা রান্না আমি করতাম , পুরনো দিনের , রেজালা , সেটা ছিল ওর খুব পছন্দের৷ রেজালা ছিল কম ঝোলের , আর সেটাই বাপ্পা ভালোবাসতো৷ মাংসটাই বেশি মনে পড়ে৷ আমি তখন জীবনে খুবই ব্যস্ত৷ খুব যে গুছিয়ে রান্নাবান্না করে ওকে খাওয়াবো , সেটা আর হয়ে উঠতো না৷ রান্নাবান্না করতামও কালেভদ্রে৷ ও সিনেমা দেখতে খুব ভালোবাসত৷ কিন্ত্ত ওকে নিয়ে সিনেমা যাওয়া -টাওয়াও আমার খুব একটা হয় নি৷ ছোটবেলায় খুব দুরন্ত হলেও , ১২-১৩ বছর বয়স থেকেই ও যেন বদলে যেতে শুরু করলো৷ জীবনের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস হয়ে গেল৷ অ্যাজ আ সিরিয়াস পার্সন , ওর নিজের ইনটিগ্রিটি , ওর নিজের ডেপথ গড়ে উঠেছিল৷ ও কী করতে চায় বা না চায় , সে বিষয়ে ওর নিজের মনেই খুব স্পষ্ট ধারণা তৈরি গেছিল৷ ওকে গভীর ভাবে চিন্তা করতে দেখতাম৷ বাপ্পা এই রকমই ছিল …গত দশ বছরে আপনাদের মধ্যে যোগাযোগ আর ছিলো না বললেই চলে …আসলে বাপ্পা ওর নিজের জীবন ও পরিবার নিয়ে আলাদা হয়ে গেছিল৷ আমার কাজ , আমার একাকিত্ব , আমার ব্যস্ততা নিয়ে আমিও সরে থেকেছি৷
মনে আছে , আমার নাতি তথাগতকে সমস্ত কলেজ স্ট্রিট তিন -চার দিন ঘুরে ঘুরে  বিভূতিভূষণের যত বই পেরেছি জোগাড় করে জন্মদিনে দিয়েছিলাম৷ কী মধুর স্মৃতি সেটা আমার জীবনের ! আমি তো ওদের সবাইকে নিয়েই থাকতে চেয়েছি৷ কিন্ত্ত শুধু পরিবার তো কখনও আমার জীবন ছিল না ! আমার অন্যান্য দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা বরাবরই ছিল৷ সে ব্যাপারে কখনও আমার পরিবার নিজেদের জড়াতে চায়নি৷ আমি যখন বিভিন্ন আদিবাসী গ্রামে যেতে আরম্ভ করেছি , তখনও বাপ্পা আমার কাছে থাকে নি৷ বয়স হলে মা -বাবারা ছেলেমেয়েদের কাছেই থাকতে চায়৷ কিন্ত্ত আমার আর অতীতে ফিরে যেতে ইচ্ছা করেনি৷ দূর থেকেই আমার ছেলের খোঁজ নিতাম৷ ওর শুভকামনা করতাম৷ ওকে ভালোবাসতাম৷ ওর সাফল্য কামনা করতাম৷ কখনও মনে হতো , সব মিটিয়ে ফেলা যাক৷ আমিও আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করি৷ পরে বুঝতাম , সে আর হয় না৷ আর সে সব সম্ভব নয় ! শেষ বছরগুলোয় আর কোনও ভাবেই আমাদের দেখাসাক্ষাত্ সম্ভব হয়ে ওঠেনি ! অথচ ওকেই , আমার ছেলেকে , আজ সবচেয়ে বেশি দেখতে ইচ্ছা করছে৷

নবারুণ ভট্টাচার্য স্মরণে- লাল সংবাদ

3514609 (1)


ভারতঃ মাওবাদী নেতা সিদ্ধার্থকে ফেরারী ঘোষণা করল আদালত

343670-339001-maoists-2

কলকাতাঃ  মাওবাদী নেতা সিদ্ধার্থ মণ্ডলকে এবার ‘ফেরারী’ ঘোষণা করল আদালত। আলিপুর অষ্টাদশ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক বিদ্যুৎ রায় ওই নির্দেশ দিয়েছেন। কিছুদিন আগেই ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পাশাপাশি ওই মাওবাদী নেতার সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আইনজীবী নবকুমার ঘোষ জানিয়েছেন, সিআইডি তদন্ত চালিয়ে জানতে পেরেছে, সিদ্ধার্থের কোনও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ছিল না। তাই সম্পত্তি ক্রোক করার প্রশ্নই ওঠে না। সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, রাজ্যের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্য আদালতের নজরে আনার পরই বিচারক ওই মাওবাদী নেতাকে ফেরারী দেখিয়ে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিষ্ণুপুরের আমতলা থেকে সিদ্ধার্থ মণ্ডলসহ পাঁচ মাওবাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছিল মাওবাদী সংক্রান্ত নানা পত্র পত্রিকা এবং লিফলেট। সেই মামলায় কিছুদিন আগে কলকাতা হাইকোর্ট সিদ্ধার্থকে জামিনে মুক্তি দেয়। রাজ্য সেই আদাশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায়। সুপ্রিম কোর্ট আটক ওই মাও নেতার জামিন বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি অভিযুক্তকে নিম্ন আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই আদাশের পরও মাওবাদী নেতা আলিপুর আদালতে হাজিরা না হওয়ায় বিচারক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/maoist-leader-announced-his-return-to-the-court-siddharthake.html


রোজাভা বিপ্লবীদের দুর্ধর্ষ হামলায় পিছু হটছে আইসিস

a

 

উল্লেখ্য যে,  YPG আন্তর্জাতিক মুক্তি ব্যাটেলিয়নের সহযোগী সদস্য।

পূর্বসূত্রঃ https://lalshongbad.wordpress.com/2015/06/14/rojava/

 


সিপিএমএলএম বাংলাদেশ দলিলঃ মানব পাচারঃ আধুনিক দাস প্রথা উন্মোচিত (২৩ জুন ২০১৫)

বঙ্গোপসাগরে নৌকাযোগে অভিবাসন যাত্রা

স্থানান্তর বনাম পাচার

প্রাচীন কাল থেকেই মানুষের স্থানান্তর। তখন ছিল কেবল প্রাকৃতিক বাঁধা। এটা ছিল স্বাভাবিক। এখন রয়েছে বিবিধ রাষ্ট্রের বাঁধা। এখনো মানুষের প্রয়োজন থেকে স্থানান্তরহওয়া, কিন্তু তা শোষক শ্রেণীর ভয়ানক শোষণের ফলাফল হিসেবে মারাত্মক অভাব ও দারিদ্র থেকে, আর মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে বল প্রয়োগে সাগর জঙ্গল পেরিয়ে আর এক নতুন দাস ব্যবস্থায় ভর্তি হওয়া। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী হয়েও সেখান থেকে বিতাড়িত হচ্ছেন। মিয়ানমারের রাষ্ট্র, সেনা শাসকরা আর সুকির মত তথাকথিত গণতন্ত্রীরা রোহিঙ্গাদেরকে সেদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করেনা, বরং তাদের উপর নামিয়ে এনেছে ভয়ংকর জাতিগত নিপীড়ণ। তারা বাঙালী হলেও তাদেরকে বাংলাদেশে ঢুকতে দিতে চায়না বাঙালী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সাইনবোর্ডধারীরা। বাংলাদেশের বাঙালীরা ভারতের বাঙালী অধ্যুষিত রাজ্যে ঢুকতে গেলে ভারতীয় রাষ্ট্র বর্ডারে কত মানুষকে গুলি করে মেরেছে ও মারছে তার সংখ্যা কেউ জানেনা। আর এখন যে চিত্রটি দেখা যাচ্ছে তা হল রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীরা বঙ্গোপসাগরে ও ভারত মহাসাগরে ভাসছে, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় আবিষ্কৃত হচ্ছে শত শত গণকবর যা পুর্ন হয়ে রয়েছে এই সব অনেক মানুষের দেহ দ্বারা, যাদের অনেকেই খাঁচায় আবদ্ধ হয়ে ছিল। এরা যেতে চায় মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া অথবা অন্য কোন দেশে। পাচারকারীরা অর্থের লোভে তাদের পাচার করে থাকে, পাচার করতে না পারলে দাস হিসেবে থাইল্যান্ড অথবা কোন দেশে বিক্রী করে দেয়। তাদের আটকে রেখে মুক্তি পন আদায় করে। না পেলে না খাইয়ে অথবা অন্য উপায়ে মেরে গণকবর দেয়।

রোহিঙ্গা অভিবাসীরা আন্দামান সাগরে ভাসমান

এইসব মানবদের প্রতি হাসিনার ক্রোধ

প্রতিক্রিয়াশীল সরকারের প্রধানমন্ত্রী সাগরে ভাসা মানবদের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করেছে আর হুশিয়ারি দিয়েছে যে কেউ যদি পাচার হয় তাহলে তার বিচার করা হবে।

সবাই যেটা বুঝতে পেরেছেন যে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন সম্পর্কে হাসিনার গাল গল্প

সমুদ্রে ভয়ংকর অভিবাসন যাত্রা

একমুহুর্তে যখন ফাঁকা প্রমাণ হয়ে গেল তখনই তার এ ক্রোধ প্রকাশ পেল। আরো যা সত্যি তা হল দাসপ্রথা উন্মোচিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিপুল বৃদ্ধি প্রচলিত সমাজে একটা বোঁঝা। আবার এই বিপুল জনসংখ্যাই প্রতিক্রিয়াশীলদের দাস সমাজের মজুদ। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিরাটাকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি ছোট আয়তনের দেশে এটা অনেক বেশি। জনসংখ্যা কম ছিল যখন তখনো মানুষের জীবন জীবিকার কোন নিশ্চয়তা ছিলনা, আর এখনতো ভুমিও বহু খণ্ডে ভাগ হয়ে গেছে। সুতরাং মানুষ বস্তুগতভাবেই বেরিয়ে পরবে কাজের সন্ধানে এটাই স্বাভাবিক। তাই এদেশের মানুষ পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র ও সরকারগুলো এতে বাঁধা দিচ্ছে। যেখানে যাচ্ছে সেখানে তাদের দাস হিসেবে খাটতে হচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকায় সাদারা যে কাজ করেনা তা তাদেরই করতে হচ্ছে দিনরাত দাঁড়িয়ে থেকে অল্প কিছু ডলারের জন্য। এজন্য ভুমধ্যসাগর পারি দিতেও দ্বিধা করছেনা অনেক বঙ্গ সন্তান। সেখানেও সমুদ্রে ডুবে তারা মারা যাচ্ছেন। সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যযুগীয় দাস হিসেবে ১০/১৫ হাজার টাকায় মরুভুমিতে দিনরাত কাজ করতে হয় আর মহিলারা গৃহস্থালী কাজে মালিকের যৌনদাসীতে পরিণত হয়। বাংলাদেশ সরকার লক্ষ লক্ষ মানবকে পাচারের জন্য চুক্তি সই করেছে সৌদি সরকারের সাথে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ায়ও অল্প মজুরিতে একই ভাবে দিন রাত তাদের খাটতে হয়।

এই যে পাচার হওয়া মানবগোষ্ঠী তারাই আবার পুঁজিবাদীদের জন্য পুঁজি এনে দিচ্ছে। এক কোটি বাংলাদেশী বিদেশ থেকে যে টাকা পাঠায় তা এই রাষ্ট্রের ডলার রিজার্ভ গড়ে তোলে। এটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক আয়ের উৎস।

এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ক্রমাগত গর্ব করে আসছে।

কিন্তু এই মানুষগুলোই যখন অসহায়, খাদ্যহীন, পানিহীন সমুদ্রে ভাসমান, তখন তাদের একবিন্দু খাদ্য তো দুরের কথা এমনকি সহানুভূতিও প্রকাশ করেনি প্রতিক্রিয়াশীলরা, বরং তাদেরকে হুশিয়ারি দিয়েছে। কত মানুষ সাগরে ডুবে, অনাহারে মারা গেছেন অথবা পাচারকারীদের বন্দীশালায় মারা গেছেন তা কেউ জানেনা।

ভাসমান অভুক্ত অভিবাসীরা

দুনিয়ার জনসংখ্যা সুষমভাবে বন্টিত হতে হবে

এটা সবাই জানেন যে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা অসমভাবে ছড়িয়ে আছে। পাচারের ঘটনাগুলো আবিষ্কৃত হওয়ার সাথে সাথে আরো পরিষ্কারভাবে এই চিত্র ফুঁটে উঠে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ অল্প কিছু স্থানে গাদাগাদি করে রয়েছে, আর অন্যদিকে অনেক দেশে জনসংখ্যা সামান্য, কিন্তু তারা অধিকাংশ স্থান দখল করে রয়েছে। রাশিয়ার জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়েও কম, কিন্তু সে একশ গুণ বেশি স্থান দখল করে আছে। বাঙ্গালী জাতি সংখ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা গোটা ইউরোপের চেয়ে বেশী হতে যাচ্ছে অথচ তার থাকার পর্যাপ্ত স্থান নেই। এটা মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্বের অধিকাংশ জাতিরই একই অবস্থা, তাই তারা মেনে নেবেনও না। দুনিয়ার জনগণের সুষম বন্টনের জন্য তারা অবশ্যই সংগ্রাম করবেন, আর সে সংগ্রাম হবে বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের এক অংশ।

বাংলাদেশের অর্থনীতি আধুনিক দাস শ্রমের ভিত্তিতে সংগঠিত

বিশ্ব অর্থনীতিও তাই

বাংলাদেশের অর্থনীতি তিনটি বৃহৎ খাত রয়েছেঃ

। কৃষি —– এখানে আদি ভুমিদাস প্রথা আধুনিক রূপে এখনো বিদ্যমান।

। শিল্প — প্রধানত পোশাক শিল্প, আধা সামন্ততান্ত্রিক ভুমিদাসসুলভ দাস প্রথা আধুনিক রূপে এখনো বিদ্যমান।

। প্রবাসী শ্রমিক যারা বিদেশে আধুনিক দাস শ্রমের স্বীকার।

সুতরং বাংলাদেশের অর্থনীতি আধুনিক দাস শ্রমের ভিত্তিতে সংগঠিত। সেটা অংশত মজুরি দাসত্ব, অংশত ভুমি দাসত্ব আর অংশত পুর্ন দাসত্ব।

তৃতীয় বিশ্বের সব দেশেই একই চিত্র।

সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী দেশগুলো তৃতীয় বিশ্বের মজুদ শ্রমকেই আবার দাস শ্রম হিসেবে ব্যবহার করছে।

সুতরাং, মানবদের কর্তব্য এর বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়া, লড়াই করা আর মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী

 

 

 

সুত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=1622