কলম্বিয়াঃ মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলাদের ভূমি মাইন হামলায় BLACK HAWK হেলিকপ্টার বিস্ফোরিত, নিহত ৪ সেনা, আহত ৬

Part-MVD-Mvd6692058-1-1-0

সোমবার কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর Black Hawk হেলিকপ্টার অবতরণের সময় মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলা দলের সদস্যদের পেতে রাখা ভূমি মাইন বিস্ফোরিত হয়ে চারজন সৈনিক নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারী কর্মকর্তারা। ২০১২ সাল থেকে চলে আসা শান্তি আলোচনা স্তিমিত হয়ে পড়ায় মার্কসবাদী দল হামলা চালানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার, দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির জন্য ফার্ক আহ্বান জানায় কিন্তু সরকার বরাবরের মতো এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করে জানিয়েছে এ ধরনের যুদ্ধবিরতি গেরিলাদেরকে পুনর্গঠিত ও পুনরায় সশস্ত্র হবার সুযোগ করে দেবে।

ভেনেজুয়েলার সীমান্তে নর্তে সান্তান্দর দপ্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তেলের পাইপলাইন পাহারা দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারটি কর্তব্যরত ছিল।

Black Hawk হেলিকপ্টারটি ভূমিতে অবতরণ করলে এটি পুঁতে রাখা ভূমি মাইনে আঘাত করে ও মাইনটি বিস্ফোরিত হয় বলে জানান আর্মির জেনারেল লুইস মালদোনাদো। তিনি বলেন গেরিলারা মাইনটি পুঁতে রেখেছিল।

মালদোনাদো বলেন, “তেওরামাতে আজ চারজন সৈনিকের মৃত্যু হয়েছে।”

রবিবারে আরেকটি তেলের পাইপলাইনে ফার্কের হামলা ঘটে।

এ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো গেরিলারা সরকারী বাহিনী ও পাইপলাইনের উপর হামলা চালালো।

সূত্রঃ http://news.yahoo.com/farc-rebels-kill-four-rupture-colombian-pipeline-110914208.html


কিউবার বিপ্লবী নায়ক হোসে মার্তি

cuba___jose_marti_by_utico-d5ajtgm

হোসে মার্তি। একজন কিউবান দেশপ্রেমিক। একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। একজন কবি। স্বপ্ন ছিল কিউবার মুক্তি। জীবদ্দশায় তিনি এই মুক্তির সাক্ষী হতে পারেননি। কিন্তু ইতিহাসে তিনি জাতির আদর্শ পুরুষ রূপে অমর।

ঊনিশ শতকের শেষ দিকে বিপ্লবের ধারণা মানুষের মনকে প্রভাবিত করেছিল। সেই সময় স্পেনের আধিপত্য ছিল কিউবার উপর। অনেকেই স্পেনের পক্ষে ছিলেন কিন্তু কেউ কেউ এমনও ছিলেন যাঁরা বুঝতেন কিউবার উপর এই প্রভাবের পরিণতি — তাঁদের মধ্যে অন্যতম হোসে মার্তি। তাঁর অসাধারণ লেখা, বাগ্মীতা এবং অনমনীয় অদম্য মনোবল কিউবার মানুষদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে উদ্দীপিত করে।

36113-004-7559FEF5 (1)
হোসে মার্তির জন্ম কিউবার হাভানায়। ২৮শে জানুয়ারি, ১৮৫৩-তে। তাঁর প্রথম জীবন অতিবাহিত হয় স্পেনে। বাবা মারিয়ানো মার্তি ও মা লেনোরের সঙ্গে। তিনি খুব আহত হতেন কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের প্রতি অমানবিক ব্যবহারে এবং তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতেন। দশ বছরের যুদ্ধের শুরুতে মার্তির দৃঢ় প্রভাবশালী মন্তব্য প্রকাশের ফলশ্রুতিস্বরূপ তাঁকে কারারুদ্ধ হতে হয় এবং তিনি পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পান।

এসবের সূত্রপাত ১৮৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে যখন একটি কিউবান ছাত্র নিহত হয় স্পেনীয় অফিসারের হাত থেকে বেরোতে না পেরে। কালচক্রে ঠিক তার পরের দিন মার্তির প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় তাঁরই বন্ধু ফেরমিন ভালদেস দোমিনগেজের সহায়তায়। এই কবিতাটির জন্য মার্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বন্ধু দোমিনগেজের বাড়ি তল্লাশি করে মার্তির একজন সহপাঠীকে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। সেই চিঠিতে তাঁর এক বন্ধুকে স্পেনীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার জন্য প্রতারক বলা হয়। চিঠিটিকে সাক্ষ্য প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা হয় যখন তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়। যখন বিচারক দোমিনগেজ ও মার্তিকে সওয়াল করেন তাঁর উত্তরে মার্তি কিউবার স্বাধীনতার অধিকারের প্রসঙ্গে ভাষণ দেন এবং ছয় বছরের জন্য সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

এই সময়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় তাঁকে এবং চিরজীবনের জন্য বেতের লাঠি তাঁর সঙ্গী হয়। স্পেনে থাকাকালীন তিনি ‘স্পেনের রাজনৈতিক কারাগার’ লেখেন। রাজনৈতিক কারারুদ্ধ হবার বিভীষিকা সম্পর্কে লিখেছেন।

জেল থেকে ছাড়া পাবার পর তিনি পড়াশুনো চালু রাখেন এবং মাদ্রিদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পরে জারাগোজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন, দর্শন ও সাহিত্যে ডিগ্রি পান। খুব সামান্য সময়ের জন্য ফ্রান্সে ছিলেন যেখানে তিনি ‘ভালবাসাই ভালবাসা দেয়’ লেখেন স্পেনীয় অভিনেত্রী বঞ্চা পাদিইয়ার জন্য যা একযোগে বিতর্ক ও সাফল্য আনে।

১৮৮৭ সালে হোসে মার্তি মধ্য নাম হুলিয়ান এবং তাঁর মায়ের বিবাহ পূর্ববর্তী পদবি পেরেস ব্যবহার করেন, কারণটা ছিল কিউবায় প্রত্যাবর্তন। কিউবায় এসে তিনি কোন চাকরি খুঁজে পাচ্ছিলেন না এবং তার কারণটাও অনুধাবন করলেন যে কিউবার স্বাধীনতার উদ্দেশ্য হারাতে বসেছিল সে সময়। তিনি গুয়াতেমালা চলে যান। সেখানে ইতিহাস এবং সাহিত্যের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। এই সময়ে তাঁর অনেক লেখা প্রকাশিত হয় এবং তিনি দাসত্বের তীব্র বিরোধিতা করেন। গণতান্ত্রিক সমতার কথা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন। তাঁর বিপ্লবী লেখা তাঁকে প্রবল শত্রুতার সম্মুখীন করে। কিন্তু ক্রমশ তাঁর প্রভাবশালী লেখা জনগণকে প্রভাবিত করে ফলস্বরূপ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন। স্পেন ছাড়ার আগে তিনি কিউবার এক ধনী নির্বাসিত মানুষের কন্যা কারমেন জায়াস বাজানের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন।

১৮৭৮ সালে মার্তি তাঁর স্ত্রী কারমেনের সাথে কিউবায় ফেরেন জানহোনের সন্ধির পর দশ বছরের যুদ্ধের (১৮৬৮-১৮৭৮) শেষে এবং রাজনৈতিক নির্বাসিতদের মুক্তির প্রতিবিধান হয়। এই সন্ধি যদিও সামান্য পরিবর্তিত করেছিল কিউবার জনগণকে তার ছোটো যুদ্ধের (১৮৭৯—১৮৮০) শুরুতে ২৫শে সেপ্টেম্বর ১৮৭৯ সালে সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগে মার্তিকে নির্বাসিত করা হয়। তিনি স্পেনীয় জেল থেকে পালিয়ে নিউ ইয়র্কে চলে যান যেখানে তিনি চার বছর অতিবাহিত করেন।

মার্তি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেন কিউবার স্বাধীনতার জন্য। কিউবা শাসিত ও শোষিত হবে স্পেনীয় সরকারের দ্বারা তা তিনি কিছুতেই মানতে পারতেন না এবং অস্বাভাবিক বলে মনে করতেন। কারণ কিউবার নিজস্ব স্বাতন্ত্র এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি রয়েছে। ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৮৭৩ সালে একটি পুস্তিকা ‘‘স্পেনীয় প্রজাতন্ত্র এবং কিউবার বিপ্লব’’ বের করেন। তিনি বলেন, ‘‘কিউবার মানুষ স্পেনীয়দের মতো থাকতে পারেন না, তারা অন্যরকম জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, বিভিন্ন দেশগুলির সাথে যোগাযোগ আছে এবং তাদের আনন্দ প্রকাশের রীতিও সম্পূর্ণ বিপরীত, তাদের মধ্যে কোন সার্বজনীন বাসনা অথবা তাদের লক্ষ্য এক নয় যা দুই জাতিকে সুখ স্মৃতিতে একত্রিত করে। মানুষ একত্রিত হয় ভালবাসায় ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে।’’

মার্তি দাসত্বের তীব্র বিরোধিতা করতেন এবং দাসত্ব মোচনে অসাফল্যের জন্য স্পেনের তীব্র সমালোচনা করেন। ২৪শে জানুয়ারি, ১৮৭৯ সালে নিউ ইয়র্কের স্টেক হলে স্পেনের বিরুদ্ধে লড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, তিনি মনে করিয়ে দেন দশ বছরের যুদ্ধের দেশপ্রেম ও যন্ত্রণা, তিনি ঘোষণা করেন কিউবার প্রকৃত রাষ্ট্রের মতো স্বাধীনতার অধিকার আছে। স্পেন শান্তি চুক্তির শর্তগুলি অনুমোদন করেনি, নির্বাচনের মিথ্যা প্রহসন, করের বোঝা বাড়ানো, দাসত্ব মোচনে অসফল, কিউবার মুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

মার্তি চেয়েছিলেন কিউবাকে গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে দেখতে। এর জন্য কিছু বৈধ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন। তিনি মাক্সিমো গোমেজকে ১৮৮২ সালে একটি চিঠি লেখেন বিপ্লবী দল তৈরির প্রস্তাব পেশ করে। তিনি কিউবাকে হোমরুল পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে আটকাবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। হোমরুল পার্টি ছিল শান্তিকামী দল যা কিউবার আশু স্বাধীনতা লাভের অদম্য ইচ্ছাকে বিলম্বিত ও দমিত করতে পারতো। উনি জানতেন যে কিউবায় সামাজিক বিভাগ ছিল বিশেষত জাতিগত বিভাগ। ১৮৮২ সালে ২০শে জুলাই তিনি মাসেওকে চিঠিতে লেখেন, ‘‘কিউবার সমস্যা আছে, তবে তার রাজনৈতিক সমাধানের থেকে সামাজিক সমাধানের প্রয়োজন যা অর্জন করা যাবে না দুই জাতির মধ্যে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য ছাড়া। কোন দেশ গড়ে তুলতে যেখানে প্রবল ঘৃণার পরিবেশ ছিল, বিভিন্ন উপাদানগুলি(?) তাদের প্রকৃত অধিকার ভোগ করবে।’’

তিনি নিউ ইয়র্ক এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলি থেকে প্রকাশিত অসংখ্য সংবাদপত্রে লেখেন। তিনি আমেরিকান নেশানসে বিদেশী সংবাদ প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেন এবং সম্পাদকীয়ও লিখতেন। এই সময় তিনি কবিতার কতগুলি ছোট সংস্করণ প্রকাশ করেন যা তাঁর জীবনের সব থেকে সেরা রচনা বলে বিবেচিত হয়। তিনি ‘মন্তেক্রিস্টির ঘোষণা’ লেখেন। কিউবাকে মুক্ত করার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন তা থেকে তিনি কখনোই সরে আসেননি। তিনি অনেকটা সময় অতিবাহিত করেছেন কিউবান নির্বাসিতদের সাথে কথা বলে, চেষ্টা করেছেন স্বাধীনতা আন্দোলনে সমর্থন বাড়ানোর।

১৮৯৪ সালে মার্তি কয়েকজন নির্বাসিত মানুষকে একত্রিত করে বিপ্লব ঘটানোর উদ্দেশ্যে কিউবায় ফেরেন। কিন্তু তাঁর এই অভিযান ব্যর্থ হয়। পরের বছর বৃহৎ আকারে বিদ্রোহ দেখা দেয়। একদল নির্বাসিত মানুষ সৈনাপত্য বিদ্যা বিশারদ মাক্সিমো গোমেজ ও আন্তোনিও মাসেও ঐ দ্বীপে অবতরণ করেন এবং পাহাড়ে লুকিয়ে থেকে একটি ছোটখাটো সেনাদল জমায়েত করেন। মার্তি দীর্ঘদিন এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে সক্ষম হননি, কারণ এই উত্থানের প্রথম সংঘর্ষেই তিনি প্রাণ হারান ১৮৯৫ সালে। বিদ্রোহের ফলে প্রাথমিক লাভ হয় বটে কিন্তু এই বিপ্লব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ১৮৯৮ সালে স্পেনীয় আমেরিকান যুদ্ধের আগে পর্যন্ত স্পেনের আধিপত্য থেকে কিউবা মুক্ত হয়নি।

১৯০২ সালে কিউবাকে স্বাধীন ঘোষণা করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের নিজস্ব সরকার গঠিত হয়। মাত্র ষোলো বছর বয়স থেকে মার্তির একমাত্র লক্ষ্য ছিল কিউবার স্বাধীনতা লাভ, দাসত্বহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। হোসে মার্তির উদ্দীপক ভাষণ, কাজ এবং বলিষ্ঠ লেখার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তরবারির চেয়ে কলমের শক্তি অনেক বেশি।

হাভানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও তাঁর নামে নামাঙ্কিত। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নায়ক হিসেবে উনি আজ অবধি কিউবার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন।

লেখকঃ দেবদত্তা মৈত্র


পুঁজিবাদ প্রসঙ্গে এক ডজন কল্পকাহিনী

images (1)

পশ্চিমী দুনিয়ায় যখন সামাজিক ক্ষেত্রে আলোড়ন তুলেছে পুঁজিবাদ বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা টিকে থাকে যে বহুল প্রচারিত কল্পকাহিনীগুলির ভিত্তিতে তার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে এখানে।

এদিকে যেটা লক্ষণীয়, নয়া-উদারবাদী রূপে পুঁজিবাদ নিজের ক্ষয় ধরিয়েছে আর শোচনীয় ধরনের সঙ্কটে পড়েছে। আর্থিক হাঙররা অবশ্য মুনাফা ছাড়তে রাজি নয়। তারা ঋণের মূল বোঝা চাপাচ্ছে জনসাধারণের ঘাড়ে। এর জন্য জনমতকে ব্যবহার করারও বিভিন্ন উপায় আছে। যার ভিত্তিতে পুঁজিবাদের মতবাদের পটভূমি তৈরি করা হয়। আর প্রচারমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পারিবারের বিশ্বাস, ধর্মীয়-প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে এই কল্পকাহিনীগুলির প্রচার করা হয়। যার উদ্দেশ্য হলো পুঁজিবাদকে বিশ্বাসযোগ্য রূপে বর্ণনা করা আর জনসাধারণের সমর্থন ও আস্থা অর্জন করা।

কল্পকাহিনী ১: পুঁজিবাদে কঠিন পরিশ্রম করেন এমন যেকোন ব্যক্তিই ধনী হতে পারেন।

এই কল্পকাহিনী অনুযায়ী কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তিদের আপনা থেকেই সম্পদ জোগাবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। এমতে শ্রমিকদের অজান্তেই এক অলীক আশা জাগে। আর যদি প্রচেষ্টায় ফল না মেলে, কেবলমাত্র নিজেদেরকেই দায়ী করেন তাঁরা। এই কল্পকাহিনীটি তৈরি করেছেন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অনুগামীরা, যারা একে সমর্থন করেন।

বাস্তবে কিন্তু পুঁজিবাদে আপনি যতই কাজ করুন না কেন, সাফল্য অর্জনের সম্ভবনা লটারি জেতার সামিল। এক্ষেত্রে কিছু দুর্লভ ব্যতিক্রম ছাড়া কখনোই সম্পদ কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয় না, বরং তা মেলে প্রতারণার ফলস্বরূপ; আর তা সংরক্ষিত থাকে অধিকতর প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের জন্য।

কল্পকাহিনী ২: পুঁজিবাদ সকলের জন্য সম্পদ ও সমৃদ্ধি সৃষ্টি করে।

এই কল্পকাহিনীতে বলা হয় যে মুষ্টিমেয়র হাতে সঞ্চিত সম্পদ একদিন না একদিন সকলের মধ্যে পুনর্বণ্টিত হবেই। এই প্রচারের লক্ষ্য হচ্ছে বিনা প্রশ্নে নিয়োগকর্তাকে সম্পদ সঞ্চয় করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া; আর সেইসঙ্গে আশা জিইয়ে রাখা হয় যে একদিন না একদিন শ্রমিকরা তাঁদের কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেনই।

তবে কার্ল মার্কস দেখিয়েছিলেন যে পুঁজিবাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পদ বণ্টন করা নয়, বরং তার সঞ্চয়ন ও কেন্দ্রীভবন ঘটানো। যার প্রমাণস্বরূপ বিশেষত নয়া-উদারবাদী কর্তৃত্ব কায়েমের পরবর্তী সাম্প্রতিক দশকগুলিতে ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যেকার ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের উল্লেখ করা যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই দ্বিতীয় কল্পকাহিনীটি সর্বাধিক প্রচারিত হয় যুদ্ধপরবর্তী ‘‘সামাজিক কল্যাণ’’-এর পর্যায়ে। আর এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিকে ধ্বংস করা।

কল্পকাহিনী ৩: আমরা সকলে একই নৌকার আরোহী।

এক্ষেত্রে দাবি করা হয়, পুঁজিবাদী সমাজে কোন শ্রেণী নেই। অতএব, ব্যর্থতা ও সঙ্কটের দায়ও চাপে সকলের উপর। আর প্রত্যেককেই এর মূল্য দিতে হবে।

এই প্রচারের লক্ষ্য শ্রমিকদের মনে একটা অপরাধবোধ তৈরি করা। যা পুঁজিবাদীদের আয় বৃদ্ধি করার ও জনসাধারণের উপর ব্যয়ভার চাপানোর সুযোগ করে দেবে।

বাস্তবে কিন্তু সঙ্কটের জন্য সম্পূর্ণতই দায়ী কোটিপতিরা, যারা সরকারকে সমর্থন করেন ও সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পান। আর কর আরোপণ, টেন্ডার, আর্থিক ফাটকা, স্বজন পোষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সব সময়ই প্রচুর সুবিধা ভোগ করেন এরা।

কল্পকাহিনী ৪: পুঁজিবাদের অর্থ স্বাধীনতা।

এই কল্পকাহিনীতে যুক্তি খাড়া করা হয় যে তথাকথিত ‘‘বাজারের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ’’-এর সহায়তায় পুঁজিবাদেই কেবলমাত্র প্রকৃত মুক্তি মেলে।

এই প্রচারের লক্ষ্য হচ্ছে বাজার মৌলবাদ নির্দেশিত পথে ‘‘বিনিয়ন্ত্রণ’’-এর নামে বাজারের উপর পুঁজির একতরফা নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা। আর পুঁজিবাদের ধর্মবিশ্বাসের অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করা যেখানে সমস্তকিছুকেই যেমন আছে – তেমন ভাবে নেওয়া হয় আর বৃহত্তর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনসাধারণের অংশগ্রহণের অধিকার অস্বীকার করা হয়। ফলে পুঁজিবাদী সমাজে স্বাধীনতার চূড়ান্ত রূপ — সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা মেলে না জনসাধারণের বা এমনকি সরকারী সংস্থাগুলিরও। এই স্বাধীনতা ভোগ করেন কেবলমাত্র কিছু মুষ্টিমেয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি।

তাছাড়া সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতে কোন স্বাধীনতা নেই, শুধু শাসন কায়েম রয়েছে — এমনটা ধরে নিয়ে এই কপটতার ভিত্তিতে সেই দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করাকে ন্যায়সঙ্গত বলে প্রতিপন্ন করার জন্যও এই কল্পকাহিনীটিকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

কল্পকাহিনী ৫: পুঁজিবাদের অর্থ গণতন্ত্র।

এই কল্পকাহিনী অনুযায়ী গণতন্ত্র থাকতে পারে কেবলমাত্র পুঁজিবাদেই। সামাজিক ব্যবস্থার অন্যান্য সমস্ত মডেলই হচ্ছে একনায়কতন্ত্র।

এই কাহিনীটি তৈরি করা হয়েছে সামাজিক ব্যবস্থার অন্যান্য মডেল সম্পর্কে আলোচনা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে। যদিও বাস্তবে পুঁজিবাদী গণতন্ত্র আনুষ্ঠানিক; যা জনসাধারণের কার্যকর ক্ষমতায়ন ঘটায় না। শ্রেণী-বিভক্ত পুঁজিবাদী সমাজে ধনীরা খুব অল্প সংখ্যায় হলেও তারাই অন্যান্য সকলের উপর কর্তৃত্ব করেন। ফলে পুঁজিবাদী ‘‘গণতন্ত্র’’ ছদ্মবেশী একনায়কতন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

এদিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলিও গণতন্ত্র সম্পর্কে তাদের একতরফা ব্যাখ্যাকে অছিলা হিসাবে ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য কায়েমের লক্ষ্যে।

কল্পকাহিনী ৬: নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রতিশব্দ।

অ-বুর্জোয়া নির্বাচনের মাধ্যমে, অর্থাৎ প্রার্থীর বয়স, অভিজ্ঞতা বা জনপ্রিয়তার গুণের ভিত্তিতে যেখানে নেতা নির্ধারণ করা হয়, তেমন রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থা বিষয়ক আলোচনায় বাধা দেওয়া আর অন্যান্য সামাজিক ব্যবস্থাগুলিকে কালিমালিপ্ত করাই এই প্রচারের লক্ষ্য।

যদিও বাস্তবে দেখা যায়, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়ই বরং নির্বাচনকে অবিরত শাসকশ্রেণীর স্বার্থে ব্যবহার করা হয় আর অর্থবল দ্বারা প্রভাবিত করা হয়, যেখানে ভোট হয়ে দাঁড়ায় কেবলমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক ক্রিয়া।

কল্পকাহিনী ৭: পালা করে ক্ষমতাসীন দলগুলি বিকল্পের সমতুল্য।

এই প্রচারের লক্ষ্য হচ্ছে কর্তৃত্বকারী শ্রেণীগুলির স্বার্থে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে চিরস্থায়ী করা। যদিও বাস্তবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ধনীদের দলের বিভিন্ন পক্ষ। যাদের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই — কেবল মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কারণ সব পক্ষেরই নীতি নির্ধারণ করা হয় আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজি ও কর্পোরেট লবির স্বার্থ রক্ষার দিকে নজর রেখে। ফলে এই ব্যবস্থায় নাগরিকদের বাছাবাছি করারও সুযোগও অত্যন্ত সীমিত।

কল্পকাহিনী ৮: নির্বাচিত রাজনীতিবিদরা জনসাধারণের প্রতিনিধিত্ব করেন আর সেজন্য তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এই কল্পকাহিনীর লক্ষ্য হচ্ছে জনসাধারণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর বাস্তবে কার্যকর করা হবে যে ব্যবস্থাগুলি তা গোপন রাখা। পুঁজিবাদী অর্থ-ভিত্তিক রাজনীতিতে নির্বাচিত নেতৃত্ব তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন না, বরং অঘোষিত কর্মসূচীই রূপায়ণ করতে আরম্ভ করেন। যাতে প্রায়ই মূল সংবিধানকে অস্বীকার করা হয়। পুঁজিবাদে গণতন্ত্রকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার এই রীতি ভোটদানে বিরত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিরও অন্যতম কারণ।

কল্পকাহিনী ৯: পুঁজিবাদের কোন বিকল্প নেই।

পুঁজিবাদ নিখুঁত নয়, তবে এটাই একমাত্র কার্যকর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা; আর সেজন্য সবচেয়ে উপযোগী — এমনটাই দাবি করা হয় এই কল্পকাহিনীতে।

এই প্রচারের লক্ষ্য হচ্ছে অন্যান্য ‌আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা বিষয়ক অধ্যয়ন বন্ধ করা। আর বলপ্রয়োগ সহ সম্ভাব্য সমস্ত উপায়ে প্রতিযোগিতা এড়িয়ে যাওয়া। যদিও বাস্তবে কার্যকর এমন অন্যান্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা আছে, যার মধ্যে অন্যতম বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র।

এদিকে পুঁজিবাদী মডেলের ভিত্তিই হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত লোভ। এই ব্যবস্থা নিজেই যেকোন মূল্যে সর্বোচ্চ মুনাফা লোটে। যা এর বৈশিষ্ট্য। ফলে পুঁজিবাদের যতই সংস্কার করা হোক না কেন, একে শোষণমুক্ত ব্যবস্থায় পরিণত করা অসম্ভব।

কল্পকাহিনী ১০: সঞ্চয়ন সম্পদ সৃষ্টি করে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের মাত্রাতিরিক্ত মজুরি ও সুযোগ-সুবিধাই অর্থ সঙ্কটের কারণ। যদি এগুলি ছাঁটাই করা হয়, সরকার সঞ্চয় করতে পারবে আর দেশ সম্পদশালী হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এই কল্পকাহিনীতে।

এই প্রচারের উদ্দেশ্য হলো পুঁজিবাদী ঋণ মেটানোর দায় রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের ও অবসরপ্রাপ্তদের উপর চাপানো। আর জনসাধরাণকে দারিদ্র্য মেনে নিতে বাধ্য করা এই যুক্তিতে যে তা অস্থায়ী। তাছাড়া এর দ্বারা রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের বেসরকারীকরণের পথও প্রশস্ত করা হয়।

কল্পকাহিনী ১১: বিশ্বায়নের মানবিক মুখ।

এই প্রচার এক অলীক আশা জাগায়। আর পুঁজিবাদী বিশ্বায়নের ‘‘মানবিক মুখ’’-র কল্পকাহিনী আড়াল করে এই প্রক্রিয়ার শোষণের দিকটিকে।

বস্তুত, লগ্নি পুঁজি পরিচালিত এই বিশ্বায়নের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কর্মসংস্থানহীন উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অসাম্য বৃদ্ধি। তাছাড়া সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদের উপরেও লুঠতরাজ চালানো হয়। যাতে পরিবেশ ধ্বংস হয়। আর যখনই পুঁজিবাদ সঙ্কটে পড়ে — সমাধান খুঁজে পায় না, যুদ্ধের পথ বেছে নেয়।

কল্পকাহিনী ১২: পুঁজিবাদের বর্তমান সঙ্কট স্বল্পমেয়াদী আর জনসাধারণের সুবিধার্থেই এর সমাধান হয়ে যাবে।

এই কল্পকাহিনী অনুযায়ী বর্তমান অর্থ সঙ্কট সাময়িক। যা পুঁজিবাদের কাঠামোগত সঙ্কট নয়, এমনটাই দাবি করা হয়।

যদিও বাস্তবে পুঁজিবাদী অর্থনীতির এই সঙ্কট পারিপার্শ্বিকতা নির্ভর নয়, স্পষ্টতই গঠনগত, কাঠামোগত। বেপরোয়া ঋণ ও ফাটকার মাধ্যমে লগ্নি পুঁজির ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমই বিশ্বময় সঙ্কট ডেকে এনেছে, যার শুরু ২০০৭-০৮ সালে।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে সঙ্কট থেকে পরিত্রাণের জন্য বুর্জোয়া সরকারগুলি বৃহৎ পুঁজি ও কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে বিপুল পরিমাণে সাহায্য করছে। অপরদিকে সরকারি ব্যয় সঙ্কোচনের পথে গিয়ে তারা সামাজিক কল্যাণের জন্য ব্যয় বরাদ্দ হ্রাস করার উদ্যোগ নিচ্ছে; আর বোঝা চাপাচ্ছে জনসাধারণের উপর, যাতে পুঁজিবাদের সঙ্কট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

লেখকঃ কৌশিক বিশ্বাস


ভারতঃ পালামুর বদলা নিতেই রেল লাইন উড়িয়েছে মাওবাদীরা

23_06_2015-24palamu012

latehar-district-759

পলামুতে মাও বিরোধী অভিযানের বদলা নিতেই লাতেহারে ট্রেন লাইন উড়িয়েছে মাওবাদীরা। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে উদ্ধার মাওবাদীদেরদের পোস্টারে এমনই লেখা রয়েছে। রাজ্য পুলিশের এডিজি (অপারেশন) সত্যনারায়ণ প্রধান বলেন, ‘‘পোস্টারে লেখা, সম্প্রতি পলামুতে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েক জনের মৃত্যুর প্রতিবাদেই রেল লাইনে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।’’ তিনি জানান, তার জেরে পলামু এক্সপ্রেসের তিনটে কামরা লাইনচ্যূত হয়। রেল জানিয়েছে, রাত ৮টা চল্লিশ নাগাদ লাতেহারের কুচিলার ছিপাদোহর স্টেশন ছাড়ে বরকাখানা থেকে পটনাগামী ট্রেনটি। তখনই চালক কিছু দূরে লাইনে কয়েক জনকে দেখতে পান। ট্রেনের গতি কমিয়ে দেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই বিস্ফোরণে লাইন উড়ে যায়। তখনই ইঞ্জিন ও তিনটি কামরা লাইনচ্যূত হয়।

সুত্রঃ http://www.anandabazar.com/national/%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%B2-%E0%A6%A8-%E0%A6%A4-%E0%A6%87-%E0%A6%B2-%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AC-%E0%A6%AE-1.165341


ভারতঃ অলিখিত জরুরি অবস্থা আজও চলছে

The-Darkest-Period-in-India

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ইন্দিরা গান্ধী দেশে জারি করেছিলেন  জরুরি অবস্থা।  ৪০ বছর পর এসেও বর্তমান শাসকদলের অন্যতম বড় নেতা আদবানি  ফের জরুরি অবস্থা ফিরে আসার আশঙ্কা দেখছেন। আদবানির ছুঁড়ে দেওয়া বল লুফে নিয় অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন তার প্রথমপর্ব হচ্ছে দিল্লিতে। জরুরি অবস্থার বর্ষপূর্তিতে শাসক -বিরোধী দলের আকাচাআকচি চলবে। কিন্তু এর থেকে বড় বিষয় হল সেদেশে কি আজও অলিখিত জরুরি অবস্থা নেই? ব্যাঙ্গ চিত্র  আঁকার কারণে জেলে যেতে হয় এক অধ্যাপককে, সারের দাম বাড়া নিয়ে প্রশ্ন করায় পুলিস ধরে এক কৃষককে। এক শিক্ষক ধর্ষিতাদের হয়ে লড়াই করছিলেন বলে রাজ্যের এক মন্ত্রীর মদতে তাঁকে খুন হতে হয়। জলভূমি বোজানরো প্রতিবাদ করায় আরেক মন্ত্রীর ইশারায় মরতে হয় শাসকদলেরই এক কর্মীকে। কামদুনি থেকে রাজ্যের সর্বত্র  আজ মহিলাদের সম্মান লুন্ঠিত।প্রতিবাদ করতে গেলে প্রান যাচ্ছে মানুষের। এটা কি জরুরি অবস্থার থেকে কম ভয়ের। এত গেল রাজ্যের অবস্থা। দেশের অবস্থা কম ভয়ঙ্কর নয়। কিছুদিন আগে তামিলনাড়ুতে ২০জন কাঠুরেকে গুলিকে মেরে দিল পুলিস। ঝাড়খণ্ড-ছত্তিশগড়ে ভুয়ো সংঘর্ষের খবর কাগজ খুললেই আমরা দেখতে পাই। এক ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী  অধ্যাপককে জেলে আটকে রাখা হয় ১ বছরের বেশি  সময় ধরে। অথচ সলমন বা জয়ললিতারা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ান।তাই অলিখিত জরুরি অবস্থা আজও চলছে।

সুত্রঃ http://satdin.in/?p=2529