ভারতঃ শহীদ মাওবাদী কিশোর কমরেড বিবেক কোডামাগুন্ডলা(১৯)র স্মরণে একটি গান

Advertisements

বাংলাদেশঃ হোটেল শ্রমিক বাদশা মিয়ার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করুন

10672289_589670451174871_1027934336355599570_n

দুনিয়ার মজদুর এক হও

শ্রমিক নেতা বাদশা মিয়ার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করুন
আলোচনা সভা- ৩০ জুন ২০১৫, সন্ধ্যা ৭-৩০মি., ৮ বি বি এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ঢাকা

সংগ্রামী সাথীরা,
আপনারা জানেন এদেশের শ্রমিক কৃষক মেহনতী মানুষের মুক্তি সংগ্রামে অগ্রণী ও লড়াকু সৈনিক বাদশা মিয়ার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আমরা পালন করতে যাচ্ছি। শ্রমিক- কৃষক মেহনতী মানুষের রক্ত ঘাম ঝরা শ্রমই পৃথিবীর অগ্রগতি উন্নতি ঘটে অথচ তাদের আন্দোলন-সংগ্রামকে দমন করার জন্য শোষক শ্রেণী গড়ে তোলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা যে ব্যবস্থা প্রতিনিয়ত দমন করে উৎপাদনকারী শক্তিকে। শোষণ নির্যাতন নীপিড়নকারী স্বৈরাচারি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে মেহনতী মানুষের রাষ্ট্র সরকার সংবিধান প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম তাকেই বলে মুক্তির সংগ্রাম। স্বৈরাচারি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে শোষক শ্রেণীর এক সরকারের পরিবর্তে আর এক সরকার ক্ষমতার পালা বদলকে মুক্তির সংগ্রাম বলা মানে শোষিত শ্রমিক কৃষক মেহনতী মানুষকে ধোকা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই না। বাদশা মিয়া এই সত্যটি উপলদ্ধি করে মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত মেহনতী মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই সংগ্রাম করে ছিলেন।

স্বাধীনতা গণতন্ত্রের নামে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে যে বাংলাদেশের জন্ম হয়, সে বাংলাদেশের শ্রমিক-কৃষক মেহনতী মানুষের মুক্তি আসা দূরে থাক বরং স্বৈরাচারি পাকিস্তান আমলে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত অধিকার সমূহ হরণ করছে এদেশের শোষক শ্রেণী। তাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার দমনপীড়নের মাধ্যমে আজো আমরা ৮ ঘণ্টা শ্রম এর অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরী, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই, সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক, বছরে ১০দিন নৈমিত্তিক, ১৪ দিন অসুস্থতার, ২০ দিন অর্জিত ছুটি পাই না। শ্রম আইনের সুযোগ-সুবিধা প্রতিনিয়ত কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর কারণ হলো নয়াউপনিবেশিক পাকিস্তানের জায়গায় নয়াউপনিবেশিক বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে, অব্যাহত রয়েছে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা দালাল পুজির শোষণ লুণ্ঠন ও স্বৈরাচারি শাসন। যার ফলে এদেশে কলকারখানা গড়ে উঠে নাই। বেকার সমস্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, জনশক্তি কাজে লাগাতে না পেরে বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা রেমিটেন্স বাড়াচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মন্দা-মহামন্দায় নিমর্জ্জিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে জনশক্তি রপ্তানি প্রায় বন্ধ। যার দরুণ জায়গা-জমি সহায় সম্পদ হারিয়ে একটু বাঁচার আশায় বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে রাষ্ট্র ও দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার নামে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য রাষ্ট্রে গণকবরে পরিণত হচ্ছে। সমুদ্রে ভাসমান মানুষের মিছিলই শোষক শ্রেণীর উন্নয়নের ফানুস ফেটে পড়ছে এর পূর্বেও ইউরোপে যাওয়ার জন্য ভূমধ্য সাগরে এদেশের অনেকেই জীবন দিয়েছে। এ বাস্তবতা বুঝে বাদশা মিয়া বর্তমান শোষণ মূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পরিবর্তণের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু তিনি তা সম্পন্ন করতে পারেননি। এ দায়িত্ব পড়েছে আজ শ্রমিক শ্রেণীর উপর। আসুন বাদশা মিয়ার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শপথ নেই তার অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করে মুক্তির লাল সূর্য ছিনিয়ে আনি।

সংগ্রামী অভিনন্দনসহ

আবদুল খালেক
সভাপতি

রফিকুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক

বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন রেজি: নং বি-২০৩৭
প্রচার সম্পাদক রহমত আলী কর্তৃক ৮ বি বি এভিনিউ থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত।


বাংলাদেশঃ ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে তা প্রমাণের জন্য মার্কিন রিপোর্টের প্রয়োজন নেই’

1429440749.

দেখুন, বাংলাদেশ সরকার স্বেচ্ছাচারী ও বিচারবহির্ভূত হক্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে এ খবরের সত্যতা বিশ্বাস করার জন্য মার্কিন মানবাধিকার রিপোর্টের কোনো প্রয়োজন নেই।

এমন মন্তব্য করেছেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির

 তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে মাসের পর মাস র‍্যাব ও পুলিশের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবারের বিশেষত যারা সরকার বিরোধী নানা সংগঠনের সাথে জড়িত তাদেরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে কারো কারো লাশ পাওয়া গেছে কারো কারো লাশ পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ঠাণ্ডা মাথায়  রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের মিডিয়ায় নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। তারই ভিত্তিতে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিবেদন করছে। ফলে এতে আমাদের বিস্মিত হওয়ার মতো কিছু নেই।

বিশিষ্ট এ সাংবাদিক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদেরকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এর কারণ হচ্ছে, বর্তমানে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত আছে সে সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে এবং জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসেনি। এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য অবৈধভাবে র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে। আর এসব সংস্থা খুব ভালো করেই জানে সরকারের কাছে তাদের উপযোগিতা অনেক বেশি। ফলে তারা যখন স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে তখন সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণের নৈতিক অধিকার রাখে না।

নুরুল কবির এ প্রসঙ্গে আরো বলেছেন, একদিকে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে তার প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য অন্যদিকে এই বাহিনীগুলো নিজেরাই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সরকারের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতার সুযোগ থাকছে না। এসব কারণ মিলিয়েই বাংলাদেশে ভয়াবহ একটা শ্বাসরুদ্ধকর অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সংঘবদ্ধ সচেতন মানুষের কার্যকর প্রতিবাদ ছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়।

গম কেলেঙ্কারির বিষয়টি এরইমধ্যে জাতীয় স্ক্যান্ডালে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নুরুল কবির। তিনি বলেন,  একদিকে অনেক বেশি দাম দিয়ে পচা খাদ্য কেনা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে সেটা লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু তার খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রী সেটা মানছেন না। এখন মন্ত্রী মানুন আর নাই মানুন দেশের মানুষ জেনে গেছে যে এরমধ্যে খুব বড় ধরণের দুর্নীতি ছিল।

সূত্রঃ http://bangla.irib.ir/home16/%E0%A6%95%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE/item/74785-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87


আমেরিকা বলেছে- বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা, অথচ আমেরিকাতেই প্রতিদিন ৩৩ জন বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার

MXGM-Report-Every-36-hours-w563

আমেরিকা বলেছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটালেও সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিচারবহির্ভূত হত্যা ও জোর করে তুলে নিয়ে গুম বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা। এর পরই রয়েছে অনলাইন ও গণমাধ্যমে মত প্রকাশে নানা প্রতিবন্ধকতা, খুবই নিম্নমানের কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার না থাকা।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে মার্কিন স্টেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে ২০১৪ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃংখলা বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে কিংবা কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে, বলতে গেলে তিনি কোনো শাস্তির মুখোমুখিই হন না। এটি বাংলাদেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ভয়াবহতম সমস্যা।

অথচ-

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে গড়ে ৩৩ জন মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ফেডারেল প্রশাসনের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী গত ১৯ জুনের আগ পর্যন্ত আড়াই বছরে বন্দুকের গুলিতে ২৯ হাজার ৭ শ’ ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই হতাহতের বড় একটি অংশ শিশু-কিশোর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চার্চ, রেস্টুরেন্ট ও জনসমাগমে এসব অতর্কিত হামলা হয়েছে।

সর্বশেষ সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লস্টনে শত বছরের পুরনো গির্জায় এক বন্দুকধারীর গুলিতে ৯ জন নিহত হন।

B9f7lvsIAAAMU6f


চিলিতে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংঘর্ষ

Students clash with riot police during a protest to demand Chilean President Sebastian Pinera's government to improve the public education quality, in Santiago, on May 8, 2013. AFP PHOTO/MARTIN BERNETTI

চিলিতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার দাবিতে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংঘর্ষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চিলির রাজধানী সান্টিয়াগোতে এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয় হাজার হাজার শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরাও। শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শুরু করা হলেও এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

প্রেসিডেন্ট মিশেল ক্ষমতায় আসার আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং ছাত্রদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হবে। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ করে আসছে দেশটির হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

সূত্রঃ http://www.presstv.ir/Detail/2015/06/26/417545/Latin-America-Chile-Santiago-Confech–President-Michelle-Bachelet


ভারতঃ মাওবাদী হিসেবে চিহ্নিত অধ্যাপককে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার কথা ভাবছে হাইকোর্ট

gn_saibaba_20150518.jpg

মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহে বন্দি দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জিএন সাইবাবাকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেওয়ার কথা ভাবছে বোম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মোহিত শা ও একে মেননের ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে বেসরকারি হাসপাতলে  সাইবাবার চিকিত্সা  করানোর অনুমতি দিয়েছিল বোম্বে হাইকোর্ট। বন্দি অধ্যাপকের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই জামিনের আবেদনের পুনর্বিবেচনা করতে চাইছে হাইকোর্ট। অধ্যাপককে গৃহবন্দি করে রাখা যায় কিনা তা সরকারকে ভাবতে বলেছে আদলত। ৩০ জুন সরকার তাদের মত আদালতকে জানাবে।

গত বছর মে মাসে দিল্লির ফ্ল্যাট  থেকে কার্যত অপহরণের কায়দায় ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইবাবাকে  গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্রের পুলিস। এর পর তাঁকে রাখা হয়েছে নাগপুরের কুখ্যাত আন্ডা সেলে। সাইবাবার মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন বহু বিশিষ্টজন। কিন্তু সারাদেশে অসংখ্য গরীব মানুষ বিনা বিচারে বা জামিনের অর্থ জোগার করতে না পেরে জেলেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=2614


ম্যাকডোনাল্ডের আমেরিকা!

filepicker_nnDrKYvwRqqsq7523g8T_McDonalds

প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য উৎপাদন হওয়ার পরও কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত? এই একটা প্রশ্নের পেছনে ছুটে বেড়িয়েছেন মাইকেল পোলান।

১৯৭০-এ পাঁচটি মোড়কে মোড়া মাংস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাজারের শতকরা ২৫ভাগ নিয়ন্ত্রণ করতো। আর এখন সেখানে চারটি কোম্পানি বাজারের শতকরা ৮০ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। একথা তো বলাই যায়, মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ৫০বছর আগের তুলনায় এখন বাচ্চা উৎপাদনের হার বেড়েছে প্রচুর পরিমাণে। ডিম থেকে মুরগিতে পরিণত হতে লাগছে আগের তুলনায় অর্ধেক সময়। অর্থাৎ ৭০দিনের জায়গায় লাগছে মাত্র ৪৮দিন। আকারে বড় হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। অথচ, প্রকৃত কৃষক তাদের মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ‘টাইসন’-এর মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাচ্চা উৎপাদনের প্রথম দিন থেকেই তার মালিক হচ্ছে। আর যান্ত্রিক উপায়ে মাংস উৎপাদনের মধ্য দিয়ে প্রথম একটি পর্বের শেষ হয়। শুরু হয় ব্যক্তি মালিকানা উপাখ্যানের নতুন পর্ব।

foodinc1
মার্কিন চিত্র পরিচালক রবার্ট কেনার এবং সহপরিচালক এরিক এসক্লোসার ও মাইকেল পোলান তাদের ভিটেমাটিতে বহুজাতিক খাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলির নির্মম শোষণের চিত্র তুলে ধরেছেন ‘Food, Inc.’ সিনেমায়। সিনেমার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর মার্কিন মুলুকে প্রথম মুক্তি পায় ২০০৯সালে। ছবিটির মূল বিষয়বস্তুতে দেখানো হয় যে, একচেটিয়া পুঁজি-মুনাফার ব্যবস্থা কেন অধিকাংশ মানুষের নিরাপদ এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান দিতে পারে না। তুলে ধরা হয়েছে মার্কিন মুলুকে মানুষের সামনে করপোরেট খাদ্য কোম্পানিগুলো তাদের খাদ্যের গুণাগুণ, সরবরাহ ও উৎপাদন সম্পর্কিত যে ‘পবিত্র ভাবমূর্তি’ দেখানোর চেষ্টা করছে এবং ক্রেতাসাধারণ তাতে কীভাবে মোহাবিষ্ট হয়ে বিষাক্ত কিংবা ভেজাল খাদ্য কেনায় আগ্রহী হয়ে পড়ে।

ধরুন, বহুজাতিক কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ড-এর কথাই। ‘বার্গার এবং ফ্রাই’-এর বিশ্বজোড়া যাদুকরী ব্রাণ্ডনেম এই ‘ম্যাকডোনাল্ড’। Food, Inc.’ সিনেমায় দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, শ্রমিকদের শোষণ-বঞ্চনার ‘স্বাভাবিক’ চিত্র- কীভাবে দৈত্যাকার খাদ্য উৎপাদনকারী খামারগুলো অসংখ্য কারখানায় শ্রমিকদের অমানবিক পরিস্থিতি বর্তমান রেখে খাদ্য উৎপাদন করে। বর্তমান ‘আধুনিক’ খাদ্য উৎপাদনের সাধারণ চিত্রটি, বিশেষ করে ম্যাকডোনাল্ডসের মতো ফাস্টফুড প্রস্ত্ততকারী কারখানার নেপথ্যের চিত্রটি তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে, ম্যাকডোনাল্ডস কী প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করে এবং ম্যাকডোনাল্ড ভ্রাতৃদ্বয় তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য খাদ্য তালিকায় অনেক উপাদানকে কাটছাঁট করে অল্প কয়েকটি ‘মৌলিক’ খাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। কারণ, সীমিত কয়েকটি জিনিস প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করা হলে এবং জনসাধারণকে যদি সেই খাদ্যের প্রতি নির্ভরশীল করে তোলা যায় তাহলে তা বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা হবে। অন্যদিকে, একজন শ্রমিক একটি কাজ অনবরত করতে থাকার কারণে তিনিও দক্ষ হয়ে উঠবেন। এতে লাভ দুটো। প্রথমত, এক ধরনের কাজ করার কারণে তাকে অল্প পয়সা মজুরি দেওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, খুব সহজেই একজন শ্রমিককে কাজ থেকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে নেওয়া যায়। এসব কৌশল-পদ্ধতি অবলম্বনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম মাংস ক্রেতায় পরিণত হয় এবং সব মাংস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তাদের সাফল্য আকাশচুম্বী হতে থাকে। ম্যাকডোনাল্ডস ফাস্টফুডের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে।

সহপরিচালক মাইকেল পোলান তুলে ধরেছেন, প্রতিটি সুপার মার্কেটে সাজানো বৈচিত্র্যপূর্ণ, মনোহর পণ্য সমারোহের নেপথ্যের চিত্রটি। পোলান বলছেন, ‘একে বলে পণ্যবৈচিত্র্যের মোহময়তা। মুষ্টিমেয় কয়েকটি কোম্পানি এবং অল্প কয়েকটি খাদ্যশস্য কোম্পানি এই দুনিয়ায় প্রকৃত খেলোয়াড়। অল্প কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি নির্দিষ্ট কয়েকটি শস্য থেকে হরেকরকম খাদ্য প্রস্ত্তত করে সাধারণ মানুষকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। মানুষও তাদের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন।’

সেন্টার ফর ক্রপস ইউনিলাইজেশনের এক খাদ্যবিজ্ঞানী বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘কৃৎকৌশলকে কাজে লাগিয়ে আমরা এখন কৃত্রিম উপায়ে খাদ্যের ধরন বদলে দিচ্ছি। আমরা এখন জেনে গেছি ক্রেতাসাধারণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কোন কোন অংশের কী কী বিষয়কে কাজে লাগাতে হবে। অর্থাৎ জিহবার স্বাদ এবং গন্ধ ইত্যাদির মতো বিষয়কে বিবেচনা করেই আমরা আমাদের পণ্যগুলো তৈরি করছি। সাম্প্রতিককালে আমাদের বড় অগ্রগতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ঘনীভূত শর্করাজাত কর্ন সিরাপ। আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, আপনি এখন সুপার মার্কেটে গেলে দেখতে পাবেন সেখানকার তাকগুলোতে যে খাদ্যপণ্য রয়েছে তার শতকরা ৯০ভাগ হয় ভুট্টা না হয় সয়াবিন অথবা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই দুটোর সমন্বয়ে তৈরি করা।’

বছরের পর বছর মার্কিন সরকার খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী খামারগুলোকে প্রচুর পরিমাণে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন শস্য উৎপাদক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ট্রয় রাউস্ক জানাচ্ছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জমির প্রায় শতকরা ৩০ভাগ শস্য উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি সরকারি নীতি অনুসারেই করা হচ্ছে। অনেক সময় আমরা যা উৎপাদন করি তাতে উৎপাদন খরচও ওঠে না। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। আসল কথা হচ্ছে, সরকার আমাদের ভর্তুকি দিচ্ছে আরো বেশি বেশি করে উৎপাদনের জন্য, অতি উৎপাদনের জন্য। আমরা তাই-ই করি। তার একটি কারণ হলো, বৃহৎ আকারের বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থ। যেমন : কার্গিল, এ ডি এম (আর্চার ড্যানিয়েল মিডল্যান্ড), টাইসন, স্মিথফিল্ডের মতো দৈত্যাকার করপোরেট সংস্থা উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম দামে আমাদের শস্য কিনে নেয়। বিপুল ভর্তুকি দিয়ে সেই ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চালায় সরকার।’

এতোকাল গবাদিপশুকূল ঘাসের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এখন অধিকাংশ পশু উৎপাদনকারী কোম্পানি সে জায়গা থেকে সরে এসে তাদের নির্ভরশীল করছে ভুট্টাজাতীয় তৈরি খাদ্যের ওপর। কারণ, এই শস্য উৎপাদনে কম জমি প্রয়োজন, উৎপাদিত শস্য কম দামে কেনা যায় এবং যেটি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, এসব শস্য থেকে তৈরি খাদ্য খেয়ে গরুগুলো আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অল্প সময়ে বড় হয়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত মোটা হচ্ছে। একদিকে যেমন ঘাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমে এক খোঁয়াড়ে অসংখ্য গবাদিপশুকে রাখা যাচ্ছে হাইব্রিড খাবার খাওয়ানোর জন্য। এর পোশাকি নাম হলো ‘Concentrated Animal Feeding Operations’। বিশেষজ্ঞরা দেখাচ্ছেন, প্রক্রিয়াজাত ভুট্টা খাওয়ানোর ফলে গরুর পাকস্থলীতে উচ্চমাত্রার অ্যাসিড ক্ষরিত হয়। ই. কলাই O157:H7 নামক প্রচন্ড ক্ষতিকর জীবাণু ‘Concentrated Animal Feeding Operations’ প্রক্রিয়ার ফল নিঃসন্দেহে। যার জন্য দেখা যায়, এই জীবাণুর আক্রমণজনিত ভয়াবহতা থেকে বাঁচার জন্য গরুগুলো দিনভর তাদের নিজেদের গোবরের মধ্যেই পা ডুবিয়ে রাখে।

এখানেই শেষ নয়! ভাবুন একবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭০সালে যেখানে মাংস উৎপাদন কারখানা ছিল হাজারখানেক, সেখানে এখন মাত্র তেরটি কারখানা সেই কাজগুলো সম্পন্ন করে। একেকটি কারখানায় মাত্র এক ঘণ্টায় ৪০০পশুকে মেরে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। Food, Inc. সিনেমায় দেখানো হয়েছে, অসংখ্য পরিমাণের কারণে মাংসকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা একটি অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাংস অপরিচ্ছন্নই থেকে যায়। এ ছাড়া, যে বাক্সে ফালি ফালি করা মাংসের টুকরোকে বন্দি করা হয় তার মধ্যে জীবাণুর বসতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কারণ, জীবাণুমুক্ত না করেই একই বাক্সে দিনের পর দিন মাংস প্যাকিং হয়।

সিনেমায় বারবারা কোওয়ালকিকের নির্মম এক কাহিনী রয়েছে। মা বারবারা তার শিশুসন্তান কেভিনকে হারিয়েছেন। ই. কলাই জীবাণুর আক্রমণে অকস্মাৎ রক্তক্ষরণে শিশুটির মৃত্যু হয়। বার্গারের মধ্যে এই জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ১২দিনের মাথায় শিশুটি মারা যায়। মৃত্যুর ১৬দিন পরেও যে মাংস খেয়ে ছেলেটি মারা গেল, সেই মাংসের কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোনো উত্তর পাননি বারবারা। উলটে কেভিনের মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করে কোম্পানি। কয়েক বছর নানা ধরনের অসহযোগিতা সত্ত্বেও বারবারা কোওয়ালকিক লড়াই চালিয়ে যান। একপর্যায়ে প্রশাসন দায়ী কারখানার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।

এই সেই আমেরিকা যেখানে প্রতিদিন ১০লক্ষের বেশি শিশু খালি পেটে শুতে যায়। খোদ ওবামা প্রশাসনের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। আমেরিকার খাদ্য নিরাপত্তার পরিমাপ করার জন্য কৃষি দপ্তরের করা ‘হাউসহোল্ড ফুড সিকিউরিটি ইন দা ইউনাইটেড স্টেটস, ২০০৮’ সমীক্ষা অনুযায়ী মার্কিন জনসংখ্যার প্রতি ৬জনের একজন, সংখ্যার বিচারে প্রায় ৫কোটি মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্য কিনতে করতে পারেন না। ২০০৯সালের নভেম্বর মাসে এই সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৯৫সাল থেকে মার্কিন সরকার এই সমীক্ষা শুরু করে। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অনাহার আর অপুষ্টি মানেই যাঁদের চোখে ভেসে ওঠে আফ্রিকার হত দরিদ্র দেশের বুভুক্ষ মানুষের ছবি। তাঁদের ভুল ভাঙবে ক্ষুধার্ত আমেরিকার কথা জানলে।

আমেরিকার দক্ষিণের প্রদেশগুলিতেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। জনসংখ্যা অনুপাতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মিসিসিপিতে। তারপর রয়েছে টেক্সাস, আরাকানসাস। এই প্রদেশগুলির ক্ষুধার্ত মানুষদের অর্ধেকের বেশি হলো সংখ্যালঘু, কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিসপ্যানিক। আরো কয়েক লক্ষ মার্কিন নাগরিকের গরিব হিসেবে সরকারী পরিচিতিপত্র থাকায় ‘ফুড ব্যাঙ্ক’ থেকে খাবার পান। যেমন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার প্রতি ছয়জন পিছু একজন নাগরিকের এই ধরনের সরকারী পরিচিতিপত্র আছে। ফলে অত্যন্ত গরিব হলেও এই অংশের মানুষ ক্ষুধার্তদের তালিকাভুক্ত হননি।

এইরকম একটি ফুড ব্যাঙ্ক হলো ‘ফিডিং আমেরিকা’। তারা ২০০টি ফুড ব্যাঙ্ক চালায় মার্কিন দেশে। কম বেশি আড়াই কোটি মানুষের খাদ্যের সংস্থান হয় এখান থেকে। এইরকম একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ভিকি এসকারা বলেছেন, ক্ষুধার্ত মানুষের এই হিসেব ২০০৮-র রিপোর্ট, এরপর থেকে অর্থনীতি ক্রমশ দুর্বল হয়েছে এবং এই রিপোর্টে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার থেকে অনেক বেশি মানুষ এখন ক্ষুধার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। ফিডিং আমেরিকা জানিয়েছে, গোটা আমেরিকাজুড়ে ফুড ব্যাঙ্ক থেকে জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য সরবরাহের জন্য আবেদন আসছে। কোনো কোনো প্রদেশে একবছর আগে যে পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছে তার ৫০শতাংশেরও বেশি খাদ্য সরবরাহের দাবি জানানো হচ্ছে। ফিডিং আমেরিকার প্রধান এসকারা গার্ডিয়ান পত্রিকাকে জানিয়েছেন, অতীতে কখনও ফুড ব্যাঙ্ক থেকে এতো পরিমাণ খাদ্যের চাহিদা হয়নি। একদিকে যখন এতো বিপুল পরিমাণ খাদ্যের চাহিদা তখন দিনে প্রায় লক্ষাধিক টন খাবার অপচয় হচ্ছে আমেরিকায়। উন্নত পুঁজিবাদী সমাজের বিভাজিত ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক।

১৯৬২সাল। প্রকাশিত হলো ‘দ্য আদার অ্যামেরিকা’। লেখক মাইকেল হ্যারিংটন। উঠে এলো মার্কিন মুলুকের অন্ধকার দিক। অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পর্ষদের চেয়ারম্যান ওয়াল্টার হিলারকে তলব করে সমস্যা খতিয়ে দেখার কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন জন কেনেডি। এর ঠিক দু’বছর পর। ১৯৬৪সাল। আবার প্রকাশিত হলো ‘দ্য আদার অ্যামেরিকা’। এবার লিন্ডন জনসন বলতে বাধ্য হলেন তাঁর প্রশাসন ‘আমেরিকায় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে নিঃশর্ত যুদ্ধ চালাবে।’

কী লিখেছিলেন হ্যারিংটন তাঁর বইতে? ‘নীতি এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে এই অণ্য চেহারার আমেরিকাকে ধ্বংস করার জন্য প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব নেওয়া উচিত। মানব ইতিহাসে সব থেকে ধনী রাষ্ট্র যেভাবে দুরবস্থাকে বাড়তে দিচ্ছে তা অসহনীয়। এই অন্য আমেরিকার সমস্যার সমাধান করতে পারলে তাবৎ আমেরিকা সমস্যার সমাধান করতেও আমরা শিখে যাব।’ সমস্যার সমাধান করতে আমেরিকা তখনও পারেনি, আজও পারছে না।

একচেটিয়াকরনের মধ্যে দিয়েই বহুজাতিক সংস্হাগুলি এখন নিয়ন্ত্রন করছে তাবৎ বিশ্বের খাদ্যপণ্যের দামকেও। তাদের ক্ষমতা এতটাই যে, কেনার সময় তৃতীয় দুনিয়ার কৃষককে দাম দিচ্ছে নামমাত্র। আর বিশ্ব বাজারে তা বিকোচ্ছে চড়ামূল্যে। আর এভাবেই বানাচ্ছে মুনাফার পাহাড়।

উদারনীতির তিন দশকে বহুজাতিক কৃষি সংস্হাগুলি বিশ্ব কৃষির ওপর চালিয়েছে বেপরোয়া আগ্রাসন। একদিকে বাজারশক্তির দাপট, অন্যদিকে ফান্ড-ব্যাঙ্কসহ ডব্লিউ টি ও’র স্ট্রিম রোলার। আজ বদলে গিয়েছে কৃষি উৎপাদনের চিরায়ত পদ্ধতি, বদলে গিয়েছে আবিশ্ব বন্টণ ও বিপণন ব্যবস্হা। এই পরিবর্তন তাদের ঘর উপচে দিয়েছে বিপুল মুনাফায়। একইসঙ্গে তৈরি করেছে ক্ষুধার বিশ্ব। যে বিশ্বে খাদ্য সঙ্কট অনিবার্য।

আজকের এই খাদ্য সঙ্কট একা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আসলে কৃষির সঙ্কট। ধণী দেশগুলি গত তিন দশক ধরে গরিব দেশগুলিকে তাদের বাজার হাট করে খুলে দিতে বাধ্য করেছে। এরপর সেই বাজারগুলিতে হয়েছে বিপুল ভরতুকি পাওয়া পণ্যের প্লাবন। যার অবধারিত পরিণতি—তৃতীয় বিশ্বের কৃষিতে ডেকে এনেছে বিপর্যয়।

এবং মনসান্টো, কার্গিলরা এখানেই থেমে থাকে নি। এই সময়েই তারা গরিব দেশগুলিকে বুঝিয়ে ছেড়েছে দেশীয় চাহিদার কথা মনে রেখে উৎপাদনের বদলে রপ্তানিমুখী কৃষিনীতি নেওয়ার জন্য। বলছেন মার্কিন চিত্র পরিচালক রবার্ট কেনার।

রবার্ট কেনার বলছেন, মার্কিন এক ডলার দিয়ে বাজারে যেখানে কোনো কাঁচা সবজি কেনা যায় না সেখানে এক ডলারের বিনিময়ে হয় একটি আস্ত চিজ বার্গার পাওয়া যায়, নয়তো চিপস, কুকিস কিংবা নরম পানীয়সমেত স্ন্যাকসজাতীয় খাবার পাওয়া যায়। মার্কিন সরকার বিভিন্ন শস্য, বিশেষ করে ভুট্টা উৎপাদনে কৃষককে ভর্তুকি দিচ্ছে অধিক পরিমাণে উৎপাদনের জন্য। অধিক পরিমাণে উৎপাদন মানে অনেক বেশি ক্যালরি। কিন্তু আসলে সরকার মূলত ভর্তুকি দিচ্ছে বহুজাতিকদের মুনাফার পাহাড় গড়ার জন্য। কারণ, এই বহুজাতিক কোম্পানিগুলি গরিব, সাধারণ মানুষকে বাধ্য করছে অল্প পয়সায় বার্গার, স্ন্যাকসজাতীয় কম ক্যালরিযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে। স্বল্প অর্থে উচ্চমাত্রার শর্করা ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে মানুষ স্থূলাকায় হতে থাকে। ডায়াবেটিস রোগ মানুষের শরীরে বাসা বাধে। এ আসলে খাদ্যব্যবস্থার করপোরেটাইজেশনের ফল।

ছবিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কসাইখানা নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্যে টার হিলে অবস্থিত স্মিথফিল্ড শূকর প্রক্রিয়াজাত কারখানার চিত্র গোপন ক্যামেরার সাহায্যে তোলা হয়েছে। কারণ, সরাসরি ছবি তোলাতে কারখানা কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা আছে। স্মিথফিল্ডের এক শ্রমিক জানিয়েছেন, ‘শূকর এবং শ্রমিকদের ব্যাপারে একই রকম মানসিকতা কারখানা কর্তৃপক্ষের। মারার সময় শূকরকে যতখানি কষ্ট দেওয়া যায়, ততখানিই শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও। দেখলে মনে হতেই পারে, শ্রমিকদের যন্ত্র ছাড়া আর কিছু ভাবার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেন মালিকদের জন্য উদয়াস্ত পরিশ্রম করা ছাড়া শ্রমিকদের আর কোনো জীবন নেই…।’

আমেরিকার নিজেরই নাগরিকদের অন্তহীন ক্ষুধার, সদা অতৃপ্তির অশ্লীল তাড়নায় কর্মক্ষেত্রের গতি একটা সময় শুধু জন্তুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, গিলে খায় মানুষের দাম্পত্য জীবন এবং পারিবারিক বন্ধনকে।

হারভার্ডের অর্থনীতিবিদ জুলিয়েট সোর আমেরিকান শ্রম দপ্তরের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে দেখিয়েছেন, ‘পুরো সময়ের মার্কিন শ্রমজীবীরা ১৯৬৯-এর তুলনায় বর্তমান সারা মাসে ১৬০ঘন্টার বেশি কাজ করতে বাধ্য হন। অথচ, গত তিন দশক মার্কিন শ্রমজীবীদের প্রকৃত আয় এক সেন্টও বাড়েনি।

লেখকঃ  মৃণালকান্তি দাস