ফিলিপিনঃ শহীদ কমরেড ‘কা পারাগো’ স্মরণে মাওবাদী ‘নিউ পিপলস আর্মি’র বিবৃতি-

0249

গোটা পাঁচেক প্রতিক্রিয়াশীল সরকারের আমলে কা পারাগো ছিলেন দৃঢ় ও সদা হুঁশিয়ার

নিউ পিপলস আর্মি আঞ্চলিক কমান্ড,

দক্ষিণ মিন্দানাও

২৯ জুন ২০১৫

প্রেস বিবৃতি

মহান নেতা ও যোদ্ধা কা পারাগো ওরফে লিওনসিও পিতাও এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে- নিউ পিপলস আর্মির দক্ষিণ মিন্দানাও আঞ্চলিক কমান্ড ও সমগ্র বিপ্লবী বাহিনী। ২০১৫ সালের ২৮শে জুন দাভাও সিটির পাকুইবাতো জেলার বারাঙ্গে পানালুমে দুপুর আড়াইটার দিকে তার উপর হামলা চালানো হয় ও তাকে হত্যা করা হয়। এসময় তার চিকিৎসারত গেরিলা মেডিক কা কাইলকেও হত্যা করা হয়। কা পারাগোর ডায়বেটিস, হাইপারথাইরয়েডিজম ও হেপাটাইটিসের চিকিৎসা চলছিল; এসময় প্রথম স্কাউট রেঞ্জার রেজিমেন্টের অধীনস্থ ষষ্ঠ স্কাউট রেঞ্জার কোম্পানি ও দ্বিতীয় স্কাউট রেঞ্জার ব্যাটেলিয়নের একটি হামলাকারী দল তাকে গুলি বিদ্ধ করে হত্যা করে। কা পারাগোকে সেবারত কা কাইল ওরফে ভানেসা লিমপাগ তার হাত তুলে চিৎকার করে বলেন যে, তিনি একজন মেডিক কিন্তু তাকেও মিলিটারি আঘাত করে, সাথে সাথেই তার মৃত্যু হয়। একজন অত্যন্ত অসুস্থ রোগী ও একজন নিরস্ত্র মেডিককে হত্যা করতে পেরে ফিলিপিনের আর্মি নিশ্চয়ই খুব গর্বিত ও আনন্দিত হয়েছে।

জেনেভা কনভেনশনে উল্লেখিত যুদ্ধ প্রটোকলের অধীনে যে সব নীতিমালা রয়েছে ও মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের যে চুক্তি রয়েছে সেসবের প্রতি কোন তোয়াক্কা তারা করেনি। কা পারাগো প্রায় ৩৭ বছর জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি জাতীয় গণতন্ত্রের লক্ষ্যে তার সম্পূর্ণ মনোযোগ উৎসর্গ করেছিলেন; তার জীবনের বড় সময়টা তিনি জনগণের জন্য ব্যয় করেছেন। লাল দলের কমান্ডার হিসেবে তিনি অনেক তরুণ যোদ্ধাকে গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ৮০ ও ৯০ এর দশকে অসংখ্য নিরস্ত্রকরণ অপারেশন থেকে শুরু করে ১৯৯৯ সালে জেনারেল ওবিল্লো ও ক্যাপ্টেন মন্তেয়ালতোকে আটক করা, দাভাও পেনাল কলোনিতে হামলা এবং আরো অসংখ্য সুপরিকল্পিত হামলা পরিচালনা করেছে পুলং বাগানি কোম্পানি যার কমান্ডার ছিলেন কা পারাগো। মার্কোসের স্বৈরতন্ত্র থেকে শুরু করে চলমান মার্কিন-আকিনো সরকারের সময় পর্যন্ত গোটা পাঁচেক প্রতিক্রিয়াশীল সরকারের আমলে কা পারাগো ছিলেন দৃঢ় ও সদাসতর্ক।

১৯৯৯ সালে তাকে বন্দী করা হয়, শত্রু পক্ষ তাকে বিপুল পরিমাণ ‘অর্থ পুরস্কার’ দিতে চেয়েছিল কিন্তু তিনি কোনদিন জনগণ ও বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তিনি তার প্রত্যয়ে ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিপ্লবী শক্তি ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার কমিউনিস্ট নীতির প্রতি তিনি সারা জীবন বিশ্বস্ত ছিলেন। ২০০৯ সালে মিলিটারির গোয়েন্দারা তার কন্যা রেবেলিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করে; সেই দুঃখ ও যন্ত্রণাময় সময়েও কা পারাগো রাজনৈতিক জ্ঞানের চর্চা চালিয়ে গেছেন। দক্ষিণ মিন্দানাও এর জনগণ তাদের সবচেয়ে স্নেহময় সন্তান হিসেবে তাকে স্মরণ করে যিনি বিপদে আপদে যে কোন সমস্যায় সবসময় তাদের পাশে ছিলেন (ফিলিপিন আর্মির জেনারেলদের সম্পূর্ণ বিপরীতে, যাদের কাজ হামলা চালানো আর জনগণের বোঝা বাড়ানো)।

তিনি খুব সাধারণ জীবন যাপন করতেন। ফিলিপিন আর্মির দুর্নীতিবাজ জেনারেলদের পুরো বিপরীত ছিলেন তিনি। প্রতিটি বিপ্লবী যারা কা পারাগোকে যারা জানতেন ও তার সাথে কাজ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে তার বিপ্লবী জীবন এক কালজয়ী উদাহরণ। প্রকৃতপক্ষে, তিনি অসুস্থ হবার পর থেকে বহু বছর তিনি পার্টির দেয়া অসুস্থতাজনিত ছুটি নেননি। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি চেয়েছিলেন গণমানুষের সাথে থাকতে ও তাদের জন্য কাজ করে যেতে।

বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক! জনগণ দীর্ঘজীবী হোক! এই ছিল কা পারাগোর শেষ সাহসী উচ্চারণ যা সমগ্র দ্বীপপুঞ্জে অনুরণিত হচ্ছে। সত্যিকার অর্থে তিনি মানুষের হৃদয়ে আছেন। আমরা তার মৃত্যুকে শ্রদ্ধা জানাই। এই মহান গেরিলা যোদ্ধার দ্বারা অনুপ্রাণিত হাজার হাজার তরুণ বিপ্লবী এখন তার পদাংক অনুসরণ করছে। জনগণ ও কমরেডগণ তার মৃত্যুতে শোকাহত কিন্তু এই তারা এই শোককে আরো মহৎ বিপ্লবী আবেগে রূপান্তরিত করেছে চলমান গণযুদ্ধের জন্যে।

রিগোবার্তো এফ সানচেজ

মুখপাত্র

দক্ষিণ মিন্দানাও আঞ্চলিক কমান্ড

নিউ পিপলস আর্মি (New People’s Army)

সূত্রঃ http://www.signalfire.org/2015/06/30/ka-parago-remained-strong-and-vigilant-under-no-less-than-five-reactionary-regimes/

Advertisements

ভারতঃ মাওবাদী নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দায়ের করল জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা

maoist_pune_759

কলকাতা থেকে আটক মাওবাদী নেতা মোহন বিশ্বকর্মার বিরুদ্ধে চার্জশিট দায়ের করল জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)। কলকাতায় এনআইএ র বিশেষ আদালতে ওই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে অর্জুন গঞ্জু নামে অন্য আরও এক মাওবাদীর বিরুদ্ধেও। দু’জনের বিরুদ্ধেই হাত গ্রেনেড তৈরির অভিযোগ ছিল। মোহন বিহারের ইমামগঞ্জের বাসিন্দা। আর অর্জুনের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের লাতেহারে। ২০১২ সালে মোহনকে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। প্রায় ৮০০টি হাত গ্রেনেড অসম্পূর্ণ অবস্থায় একটি পরিবহণ সংস্থার থেকে আর কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে সেই সময় আটক করেছিল এনআইএ। মোহনকে গ্রেফতারের পরের দিন রাঁচিতে এসটিএফের হাতেই ধরা পড়েছিল অর্জুন।

সূত্রঃ

http://www.anandabazar.com/state/%E0%A6%AE-%E0%A6%93%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%A8-%E0%A6%A4-%E0%A6%B0-%E0%A6%AC-%E0%A6%B0-%E0%A6%A6-%E0%A6%A7-%E0%A6%9A-%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%B6-%E0%A6%9F-%E0%A6%A6-%E0%A7%9F-%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2-%E0%A6%9C-%E0%A6%A4-%E0%A7%9F-%E0%A6%97-%E0%A7%9F-%E0%A6%A8-%E0%A6%A6-%E0%A6%B8-%E0%A6%B8-%E0%A6%A5-1.169859#