ভারতঃ নাগপুর কারাগার আবু গারিব কারাগারের মতঃ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জি এন সাইবাবা

11668060_1465745373739655_1604000832_n

সিপিআই (মাওবাদী) এর শীর্ষ মাওবাদী নেতা হিসেবে অভিযুক্ত ও গ্রেফতারকৃত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জি এন সাইবাবাকে ৫৯ সপ্তাহ ৬ দিন পর গত শুক্রবার নাগপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

মেরুদণ্ডের সমস্যা ও অন্যান্য নিউরোলজিকাল ব্যাধির চিকিৎসার জন্য শারীরিকভাবে ৯০ ভাগ পঙ্গুত্ব বরণ করা সাইবাবাকে মুম্বাই হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ জামিন মঞ্জুর করে।

দিল্লি গামী ফ্লাইটে চড়ার আগে সাইবাবা, তার স্ত্রী বসন্ত ও তাদের আইনজীবীরা স্থানীয় এক কর্মীর বাড়িতে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নেন। কারাগারের অন্যান্য বন্দীদের উপর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি নাগপুর কেন্দ্রীয় কারাগারকে ইরাকের আবু গারিব কারাগারের সাথে তুলনা করেন।

সাইবাবা বলেন, শিক্ষিত লোকেরা গণ মানুষ ও তাদের দুঃখ-দুর্দশা থেকে দূরে সরে গেছে আর মাওবাদী মতাদর্শে এ কথাই বলা আছে।

সাইবাবা বলেন, “আমার শিক্ষা ও পড়াশোনা আমার ভেতরে আমাকে সমাজের দুর্বল অংশের জন্য কাজ করার, গণমানুষের জন্য সংগ্রাম করার ও দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন তৈরী করেছে । এর জন্য সমাজ আমাকে একজন সন্ত্রাসীর সাথে তুলনা করতে পারে না কিংবা এ জাতীয় অপমানজনক কোন তকমা এঁটে দিতে পারে না।” তিনি বলেন, “১৪ মাস পর কারাগার থেকে বের হয়ে এসে স্বাধীনতার মূল্য আমি অনেক বেশি অনুভব করতে পারছি।”

মামলা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন তার আইনজীবীরা আদালতে তার পক্ষে উপস্থাপন করবে। তিনি বলেন, “আমাকে চিকিৎসার জন্য জামিন মঞ্জুর করা হয়েছ, মামলার ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে পারব না।”

সাইবাবা বলেন, “রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়মিত সহিংসতা বেড়েই চলেছে। কোন একটি গোষ্ঠী কর্তৃক সহিংসতা হল রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভেতরেই নিহিত আগ্রাসনের বহিঃপ্রকাশ। নিয়মতান্ত্রিক সহিংসতা না থামলে কোন সহিংসতাই থামবে না। আমি এই সহিংসতার ইতি টানতে চাই।”

নিজের শ্রেণীকক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, কারাগারে বন্দীদের মধ্যে অধিকাংশ দলিত, মুসলমান ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ যাদের তুচ্ছ অপরাধে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।

কারাগারে অল্প কয়েকজন গ্যাংস্টার ও উচ্চ শ্রেণীর গুটিকয়েক কয়েদী রয়েছে।

সাইবাবা বলেন, “অনেক আদিবাসী লোককে মাওবাদী আখ্যা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তারা বিনা বিচারে ও অধিকার বঞ্চিত হয়ে কারাগারে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।”

gn_saibaba_20150518.jpg

সূত্রঃ http://epaperbeta.timesofindia.com/Article.aspx?eid=31804&articlexml=Nagpur-jail-like-Abu-Ghraib-DU-prof-04072015015040


ফিলিপিনের শহীদ মাওবাদী কমরেড ‘কা পারাগো’র প্রতি জনগণ ও কমরেডদের ভালোবাসা ছবি

11011797_101071823573772_8967528093516563134_n

11200788_101071806907107_1861649585659599335_n
11241225_101071816907106_5412101736747320966_n
11665498_101071830240438_7963984305150167601_n
11705103_101071833573771_7304460263969414942_n

 

11249028_101071793573775_8613927605916845281_n

10405384_101071766907111_8236337102714808220_n

 

11666296_101071783573776_748897143810391649_n

 

 

 

11540901_745061235627550_2027762338467051325_n

 

11659323_745061202294220_6420724430385602734_n

11695019_745061138960893_1727674133997607061_n

11659567_10204852053527494_4737579885147489478_n

11701193_745060135627660_1151873609078438608_n

 


ভারতঃ পুলিশী হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ মাওবাদীদের

police-kerala.jpg.image_.784.410

কোয়েম্বাটোরঃ দুই মাস আগে শহরের প্রান্ত থেকে গ্রেফতার হওয়া মাওবাদীরা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন পুলিশী হেফাজতে তাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে কেরালা পুলিশ এবং মারাত্মক পরিণতি হবে হুমকি দিয়ে তাদেরকে জোরপূর্বক কিছু বিষয় স্বীকার করতে বলে।

করুমাথামপট্টি থেকে গ্রেফতারকৃত ৫ জনের ভিতর ৩ জনকে প্রথমে তামিলনাড়ু পুলিশের Q Branch ও পরে কেরালা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। বীরামণি, সাইনা ও অনুপের হেফাজতের সময়সীমা বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ায় তাদেরকে প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও সেশন আদালতে হাজিরা দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বীরামণি জানান যে বিশেষ কিছু মামলায় তাদের সম্পৃক্ততা আছে, এমনটা স্বীকার করতে বলে পুলিশ তাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছিল। তাদের কথা না মানলে ভয়ংকর পরিণতি হবে এমন হুমকি দেয় কেরালা পুলিশ। তিনি বলেন, “কিন্তু আমরা তাদের হুমকিতে নিজেদের অবস্থান থেকে সামান্যও সরে যাইনি।” মাওবাদী স্লোগান দিতে দিতে বিচারক আর শক্তিভেলের সামনে হাজির হন তিন মাওবাদী। অভিযুক্তদের ৮ই জুলাই আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন বিচারক এবং সাইনাকে কেরালায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যদিকে, বীরামণি ও অনুপকে কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।

সূত্রঃ http://english.manoramaonline.com/news/kerala/maoists-allege-torture-in-custody.html


ভারতঃ দু’রাজ্যে ৭ অভিযান, মাওবাদীরা অধরাই

maoists-attack-kills-seven-policemen

একটা-দু’টো নয়। পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের ধরতে এ বছর ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও সিআরপি-কে সঙ্গে নিয়ে সাত-সাতটা পুলিশি অভিযান হলেও নিট ফল এখনও শূন্য! রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (আইবি)-র রিপোর্টেই এ কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের এই পর্যবেক্ষণ সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ডাকা মাওবাদী কার্যকলাপের বিষয়ে পর্যালোচনা গোষ্ঠীর (রিভিউ গ্রুপ) বৈঠকেও জানানো হয়েছে।

জুনের ওই বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে সাতটি অভিযানের বিস্তারিত তথ্য। দুর্গম জঙ্গল এলাকায় বাহিনী যে হেঁটেই অভিযান চালিয়েছিল— তার উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে টানা ৭২ ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হয়েছে।

কিন্তু কোনও মাওবাদীকে ধরা তো দূরের কথা, অভিযানে অস্ত্র, এমনকী চকোলেট বোমাও উদ্ধার করা যায়নি! রাজ্য পুলিশের স্বীকারোক্তি: পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় পুলিশ-সিআরপি যৌথ ভাবে এরিয়া ডমিনেশন, নাকা, অ্যামবুশ, এলআরপি নিয়মিত চালালেও জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত তেমন সাফল্য মেলেনি।

শুধু এই বছরই নয়, ২০১২-র অগস্টে রঞ্জন মুন্ডা গ্রেফতার হওয়ার পর জঙ্গলমহলের আর কোনও গুরুত্বপূর্ণ মাওবাদী নেতা কেন ধরা পড়ল না, তার জবাবে রাজ্য পুলিশের কর্তাদের অনেকেরই বাঁধাধরা উত্তর— ‘‘ওরা পশ্চিমবঙ্গে বড় একটা ঢুকছে না। ঝাড়খণ্ডের সীমানা ঘেঁষা কিছু পাহাড়-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’’

এবং ওই সাতটি অভিযান হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সীমানা বরাবরই। পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি ও জামবনি, পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানা এলাকা এবং ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংহভূম জেলার চাকুলিয়া, গালুডি ও ঘাটশিলা থানার কিছু পাহাড় ও জঙ্গলে এবং প্রত্যন্ত গ্রামে ওই যৌথ অভিযানে কোথাও রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষিত বাহিনী সিআইএফ, কোথাও সিআরপি-র ১৪৮, ১৯৩ বা ১৬৫ নম্বর ব্যাটেলিয়ন সামিল হয়েছে। কিন্তু তাদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।

অথচ গোয়েন্দা-রিপোর্টেই দাবি, বেলপাহাড়ি ও চাকুলিয়া এলাকায় মদনের স্কোয়াড এবং শ্যামল ও রেখার স্কোয়াড, বান্দোয়ান ও পটমদা এলাকায় শচীনের স্কোয়াড আর জামবনি ও ঘাটশিলার সীমানা বরাবর জয়ন্তর স্কোয়াডের গতিবিধি রয়েছে।

তা হলে মাওবাদীরা ধরা পড়ছে না কেন?

এক সিআইএফ কর্তার বক্তব্য, প্রাক্তন মাওবাদী, মাও-সমর্থকদের অনেকেই ভয়ে-ভক্তিতে বা আর্থিক কারণে শাসক দলের অনুগত হয়েছে। ‘‘এদের একাংশ মন থেকে তৃণমূলে যায়নি, সময় ও সুযোগের অপেক্ষা করছে। মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগও রাখছে। শুধু পাহাড়ে-জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে সাফল্য পাওয়া কঠিন,’’— বলেন ওই অফিসার। তাঁর মতে, কিছু পঞ্চায়েতে দুর্নীতি, ঠিকাদারি স্বজনপোষণ ও শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে মাওবাদীদের লিঙ্কম্যানরা উৎসাহ পাচ্ছে ও সাহস বেড়েছে মাওবাদীদের।

সম্প্রতি রাজ্য পুলিশ খবর পায়, ছত্তীসগঢ় ও ঝাড়খণ্ডে পুলিশের গুলিতে জখম কিছু মাওবাদী পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে চিকিৎসার জন্য আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সেই আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। ঘাটশিলায় পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত এক বাঙালির কথায়, ‘‘মাওবাদী নেতা রঞ্জিত পাল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে ওয়ান্টেড। কিন্তু ঘাটশিলার বহু মানুষের কাছে ওর ভাবমূর্তি এক জন রবিনহুডের। এখানে ওর নাম রাহুল। ওকে ধরা মুশকিল।’’ রঞ্জিতের বাড়ি বাঁকুড়ার বারিকুলে। এক গোয়েন্দা-অফিসারের দাবি, ‘‘রঞ্জিতের সঙ্গে ওর গ্রামের কয়েক জনের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তবু তাঁরা কিছুতেই আমাদের কাছে মুখ খোলেন না।’’

উল্টে, ছত্রধর মাহাতোর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তির বিরুদ্ধে মাওবাদীরা বনধের ডাক দিয়েছে বলে চাউর হতে না হতেই উৎসাহিত হয়েছেন বিনপুরের একদল যুবক। যাঁরা মাওবাদীদের তৈরি পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটির কর্তা ছিলেন। এখন ঠিকাদারির কাজ করেন ও শাসক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেন। তাঁদের কথায়, ‘‘আমরা তো ব্যবসা করে খাচ্ছি। যারা দুর্নীতি করছে, তারা এ বার বুঝবে!’’

আবার লালগড়ের এক যুবককে মাওবাদীরা তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে দিয়েছিল। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, ওই তিনটি বন্দুক থানায় জমা দিলে কিছু টাকা মিলবে। কিন্তু জনসাধারণের কমিটির এক প্রাক্তন নেতা তাঁকে বলেন, ‘‘পুরনো দিন ফিরে আসতে চলেছে। এগুলো কাজে লাগবে। পুলিশকে দিয়ে কী লাভ!’’ অথচ কমিটির ওই প্রাক্তন নেতা শাসক দলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, এলাকায় মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও পুলিশের খাতায় তিনি ‘ফেরার’।

আইবি-র এক কর্তা বলেন, ‘‘এ রকম বহু লোক শাসক দলের ঘনিষ্ঠ বলে ভেক ধরে রয়েছে।’’

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/police-starts-search-operation-for-maoist-1.170676


ভারতঃ মাওবাদী নেতার দেহদানের ইচ্ছাকে সাধুবাদ কোর্টের

343670-339001-maoists-2

নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক মাওবাদী নেতা শচীন ঘোষাল তাঁর মৃত্যুর পরে দেহদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ওই ইচ্ছাকে সাধুবাদ জানিয়েছে আদালত।

আলিপুর জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রশান্ত মজুমদার ও নবকুমার ঘোষ শনিবার জানান, বছর পঞ্চান্ন বয়সী শচীনবাবু এখন প্রেসিডেন্সি জেলে বিচারাধীন বন্দি। ২০০৯ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থেকে তিনি ও আরও পাঁচ মাওবাদী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।

প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রের খবর, গত ২৬ জুন শচীনবাবু জেল সুপারের কাছে একটি চিঠি লিখে জানান, তাঁর ‘শেষ ইচ্ছা’ হল, তিনি মৃত্যুর পরে দেহদান করতে চান। জেল সুপার ওই মাওবাদী নেতার চিঠিটি ওয়েলফেয়ার অফিসারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন আলিপুর আদালতে।

এ দিন আলিপুর জেলা আদালতের বিচারক বিদ্যুৎ রায়ের এজলাসে ওই চিঠিটি খোলা হয়। সরকারি আইনজীবীরা আদালতে জানান, এক জন মাওবাদী এই ধরনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ইচ্ছাকে তাঁরা সম্মান জানাচ্ছেন। বিচারক জেল সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন, শচীনবাবুর শেষ ইচ্ছার কথা রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজগুলিতে জানিয়ে দিতে। বিচারকের আরও নির্দেশ, যে সব মেডিক্যাল কলেজে মৃতদেহ রাখার সুব্যবস্থা রয়েছে, সেখানেই যেন এই খবর পাঠান জেল সুপার।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/maoist-leader-offers-his-body-for-medical-research-1.170372#