গ্রীসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ২টি দ্বান্দ্বিক সংবাদ

000ad0e8-642

৬১ শতাংশের বেশি গ্রিক গণভোটে না কে সমর্থন করে বুঝিয়ে দিল তারা  ঋণের ফাঁদ থেকে আপাতত স্বস্তির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্তে রাজি নয়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে গ্রিসের বেরিয়ে আসা শুধুই সময়ের অপেক্ষা। গত ৫ বছর ধরে গ্রিসে সময় সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ঋণদাতা সংস্থাগুলোর শর্ত মেনে সরকারি খরচ ও সামাজিক প্রকল্পে কাটতি করা হয়েছে। এর জেরে গ্রিসে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঋণের সুদ মেটাতে ফের ঋণ নিতে হচ্ছে গ্রিসকে। আর এই ঋণের ইউরো ঢুকছে জার্মানি ও ফ্রান্সের ব্যাঙ্কগুলোতে। ফলে ঋণ নিয়ে গ্রিক জনসাধরণের কোন লাভ হচ্ছিল না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদদের একটা বড় অংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের  অধীনে থাকা গ্রিস মঙ্গলবার দিতে পারল না IMF এর ১৫০ কোটি ইউরোর কিস্তি।  এদিকে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ জোশেফ স্টিগলিজ মনে করেন গ্রিসের সঙ্কটের জন্য দায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বামপন্থী সরকারকে ফেলে দিতে চাইছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ঋণ ফেরত পাওয়াটা এখন মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হল তাদের শর্ত মেনে চলতে বাধ্য করা। গ্রিসকে যে ঋণ এ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে তার অনেকটাই গেছে জার্মানি ও ফ্রান্সের ব্যাঙ্কের পকেটে, গ্রিস পেয়েছে অত্যন্তই কম।

গত রবিবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলায় আগামী ৭দিন সব ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল গ্রিসের সরকার। ATM  থেকে  প্রতিদিন মাত্র ৬৬ ডলার তোলার অনুমতি দিয়েছে ব্যাঙ্ক। যা পারবে না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর গ্রিসকে ঋণ  দিতে রাজি নয়। কারণ ইতিমধ্যে গ্রিসের  ঋণের পরিমাণ ৩২৩০০ কোটি ইউরো। যার মধ্যে ৬০ শতাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের। গ্রিসকে দেখে মনে পড়ে যাচ্ছে ১৯৯৮ এর আর্জেন্টিনার অবস্থা।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=3001

গ্রীস সংকট ও গণভোট সম্পর্কে ইতালির মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি (PCm Italy)

2015-02-04t160405z_905415275_pm1eb241aae01_rtrmadp_3_eurozone-greece-france.jpg_1718483346

গ্রীসের প্রলেতারিয়েত জনগণ যারা ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাদের সাথে সংহতি জানাচ্ছে ইতালির মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি। সিরিজা সরকার ও ‘ত্রৈকা’র মধ্যে যে কোন চুক্তি গ্রীসের জনসাধারণের জীবনযাত্রা ও কাজকর্মের অবনতি সাধন করবে; তাই  সাধারণ সংগ্রাম ও অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই আক্রমণের জবাব দিতে হবে ও যে কোন মূল্যে একে প্রতিরোধ করতে হবে। সিরিজার গণভোটের সিদ্ধান্ত একটি অদূরদর্শী কৌশলগত চাল যার কোন পরিপ্রেক্ষিত নেই।

যদি ‘না’ জয়ী হয় (যেটা আমরা নিশ্চিতভাবে চাই), পরিস্থিতি কিছুই বদলাবে না; ত্রৈকার ব্ল্যাকমেইল চলতেই থাকবে এবং আরো বৃদ্ধি পাবে। ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী সরকারদের মদদে ব্ল্যাকমেইল যদি চলতেই থাকে এবং ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয় তবে সেটি হবে জীবন্ত আত্মহত্যার শামিল এবং এতে করে সরকারের পতনের রাস্তা উন্মুক্ত হবে, ত্রৈকা ও গ্রীক বুর্জোয়াদের হাতে নতুন একটা সরকার তৈরী হবে। কিন্তু সর্বোপরি সিরিজা সরকার এর ব্যর্থতার দায়ভার জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ পাবে।

সুতরাং, PCm Italy সংহতি জানাবার সব উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে, কিন্তু ‘না’ এর ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকছে এবং গ্রীসের কমিউনিস্ট ও বিপ্লবী শক্তিকে সমর্থন জানাচ্ছে যাদের সাথে সিরিজার নির্বাচনী, সংসদীয় ও সরকারতন্ত্রীয় কর্মকাণ্ডের কোন মিল নেই।

PCm Italy

সূত্রঃ

http://www.signalfire.org/2015/07/01/pcm-italy-about-greece-crisis-and-referendum-unofficial-traslation/



Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.