ভারতঃ সরকারের কাছে আত্মহত্যার অনুমতি চাইলেন কৃষকেরা

farmer-655x360

নাগপুর: দেনায় জর্জরিত কৃষকেরা আত্মহত্যার অনুমতি চাইলেন সরকারের কাছে। মহারাষ্ট্রের ঘটনা। জেলা প্রশাসনকে গিয়ে সাতজন কৃষক জিজ্ঞাসা করলেন, ”আমরা কি আমাদের জীবন শেষ করে দিতে পারি?” এদের মধ্যে তিনজন মহিলা। দেনার দায়ে এতটাই খারাপ অবস্থা হয়েছে তাঁদের।
কিশোর ইংগালে, ভানুদাস ওয়াদাদকর, পঙ্কজ গাওয়ান্ডে, শঙ্কর খাদসে, কুন্দাবাই লোংকার, কমলা ওয়ারহাদে ও বসন্ত গিংগাভকর- ওয়াদাদ গ্রামের বাসিন্দা এই কৃষকেরা এদিন প্রশাসনের কাছে গিয়ে আবেদন করেন। লিখিতভাবে এই আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। কালেকটরের অফিসে সেই আবেদনপত্র জমা দেন তিনি।
নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক চাষিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪,০০০ টাকা দেওয়ার কথা। যা তাঁরা পাননি। এছাড়া চলতি বছরেও ৭০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। তার জন্যই তাঁদের এই আবেদন।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/can-we-commit-suicide-3-women-farmers-ask-maharashtra-government.html

Advertisements

অরণ্যের দিনরাত্রি – ছত্তিসগড়ে মাওবাদীদের সাথে ২৩ দিনের ধারাবাহিক গল্প (১ম পর্ব)

একটি বিপ্লবের অরণ্যের জীবনের গল্প

(লাল সংবাদ প্রতিবেদনটি বাংলায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করছে)

প্রথম পর্ব :

অবুঝমাদের গ্রামবাসী

(এ এক দুর্লভ সুযোগ। মাওবাদীদের ক্যাম্পে বাস করে, তাদের সাথে একত্রে খাবার ভাগ করে খেয়ে, ল্যাপটপে সিনেমা দেখে এবং মাওকে নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদক আশুতোষ ভরদ্বাজ ছত্তিসগড়ে ২৩ দিন কাটিয়ে এলেন মাওবাদীদের সাথে। গত বছরের (২০১৪) ফেব্রুয়ারিতে ছত্তিসগড়ের অবুঝমাদ অরণ্যে প্রবেশের দুর্লভ অনুমতি পেয়ে যান আশুতোষ ভরদ্বাজ। অবুঝমাদ মাওবাদীদের একটি মুক্তাঞ্চল। এখানে মাওবাদীদের নেটওয়ার্ক মানবদেহের ধমনীর থেকেও বেশী বিস্তৃত। এটি বিপ্লবের অরণ্যে জীবনের গল্প।)

3

ক্যাম্পে পানি নিয়ে আসছেন এক মাওবাদী ক্যাডার। দলের ৪০ শতাংশ ক্যাডার নারী হওয়ায় বিপ্লবের মেরুদণ্ড ভাগে রয়েছেন নারীরা। নারী ও পুরুষদের মাঝে সকল দায়িত্ব সমান ভাগে বিভক্ত হয়ে থাকে। নারীরা বিশেষ খাদ্য অধিকার পেয়ে থাকেন।

উল্টো দিকে একটা ভূমি মাইন ও বিস্ফোরক পাতার আগে ওরা তিনজন দাঁতে টর্চ লাইট কামড়ে ধরে লম্বা প্যাঁচানো তার খুলে ঝোপের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এখন ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। এই রাতের বেলা ওদের তিনজনকে শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো ভূতের মত দেখাচ্ছিল। ওদের কমরেডরা কাছের একটা ঝরণায় থালাবাসন ধুচ্ছে, কেউ কেউ মাটিতে তেরপল বিছিয়ে বসে আছে আবার কেউ আগুন ঘিরে বসে আছে। ছত্তিসগড়ের নারায়ণপুর জেলার অবুঝমাদের গভীর অরণ্য ঘেরা এই স্থানে মাওবাদীদের এই স্কোয়াডটি রাতের জন্য যাত্রা বিরতি দিয়েছে।

স্কোয়াডের নেতা রজনু মান্দভী ভূমি মাইনটি শেষবারের মত একবার দেখশুনে নিলেন। ওদের সাথে আজ আমার তৃতীয় রাত, আমি বেশ অবাক হলাম। বললাম, “আপনি বলেছিলেন এই জায়গাটা নিরাপদ। আপনাদের গুপ্তচররা সতর্ক বার্তা পাঠাবে না আপনাদের?”

“ওদেরও গুপ্তচর আছে।”

“আপনি কি ভাবছেন আজ রাতে পুলিশ হামলা চালাবে?”

তেরপলের উপর শুয়ে মান্দভী বললেন, “আমাদের প্রহরীরা বাঁশি বাজাবে। আমি মাইন বিস্ফোরণ ঘটাব, ওদের কয়েকজন মরবে। আমরা গুলি ছুঁড়ব, আপনাকে কভার দেব। সব কিছু ফেলে রেখে দৌড় দিয়ে ঐ পাহাড়টার পিছনে চলে যাবেন।”

একটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে জীবনের নিরাপত্তার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে না। রাতের অন্ধকারে ধেয়ে আসা বুলেট এড়িয়ে তীব্র গতিতে ছুটে চলা, গ্রেনেড ছুঁড়ে মারা, পুলিশের ধাওয়া- এসব মিলিয়েই দণ্ডকারণ্য। যে কোন মুহূর্তই যদি জীবনের অন্তিম মুহূর্ত হয়, সেক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তই অতুলনীয় শক্তি দিয়ে অনুভব করা যায় আর প্রতিটি পদক্ষেপের পিছনে কেবল একটাই আকাঙ্ক্ষা কাজ করে আর তা হল-টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষা। সেই রাতের পর থেকে আমি সবসময় পায়ে জুতা পরে, দুই হাতে আমার ল্যাপটপটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ঘুমাতাম।

2

দণ্ডকারণ্য অরণ্যে মাওবাদী স্কোয়াডের রাত্রী যাপনের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প। মাওবাদীরা অত্যন্ত কঠোর জীবন যাপন করে থাকে। খাদ্য ও তামাকের সরবরাহ অত্যন্ত হিসাব করে করা হয়। স্থানীয় আদিবাসীদের মদ সহ সব ধরনের সুরা জাতীয় পানিয় নিষিদ্ধ।

সারাক্ষণ শত্রুকে ফাঁকি দিতে হয় বলে একজন গেরিলা এক স্থানে পরপর কয়েক রাত কাটায় না। আমরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিই, পাহাড় ডিঙ্গাই; নদী, বন পার হই। রাতের বেলা অন্তত একজন ক্যাডারকে ঘন্টা হিসেবে পাহারায় মোতায়েন করা হয়।

এখন রাতে অনেক ঠান্ডা পড়ে কিন্তু মাওবাদীরা শুধু একটা পাতলা কম্বল গায়ে দিয়ে আদিগন্ত খোলা আকাশের নীচে ঘুমায়।

ভোর ছয়টার দিকে সকালের ড্রিল শুরু হয়, এসময় স্কোয়াডের নেতা ক্যাডারদেরকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়; কেউ রান্নার জন্য লাকড়ি নিয়ে আসে, কেউ আবার গ্রামে যায় সভায় যোগ দিতে। মাঝে মাঝে ভোর পাঁচটায় বাঁশি বেজে উঠে। চারদিক এখনো অন্ধকার কিন্তু স্কোয়াডের নেতা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থান বদল করার। হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ কেবল তিনিই জানেন।

মাওবাদীদেরকে আট মিনিটের মধ্যে সবকিছু গোছগাছ করে রওনা দিতে হবে।

(চলবে)


ভারতঃ ছত্তিশগড়ে মাওবাদী বিস্ফোরণ, জখম দুই সিআরপিএফ জওয়ান

Chhattisgarh-Blast-655x360

রায়পুর: ছত্তিশগড়ের সুকমায় ফের আইইডি বিস্ফোরণ৷ ঘটনায় জখম হন এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর সহ দুই সিআরপিএফ জওয়ান৷ সোমবার সুকমায় বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা৷

পিটিআইকে এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, চিংটাগুফা পুলিশ থানার অন্তর্গত তেমেলওয়াড়া বনাঞ্চলে কেন্দ্রের সংরক্ষিত পুলিশবাহিনী (সিআরপি) যখন রাস্তা পরিষ্কার করছিল, ঠিক তখনই এই বিস্ফোরণটি ঘটে৷ জায়গাটি ছিল ওই বনাঞ্চলের ডোরনাপল-চিংটাগুফা এলাকায়৷ সকাল ১১টা নাগাদ বিস্ফোরণটি ঘটে৷ গুরুতর জখম হন এএসআই শিব প্রসাদ এবং কনস্টেবল প্রদীপ৷ এর পরই শুরু হয় দু’পক্ষের গুলির লড়াই৷ কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলার পর বনের ভিতরে পালিয়ে যায় মাওবাদীরা৷ আহত দুই জওয়ানকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে৷ তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে৷

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/blast-in-chattisgarh.html


ভারতঃ “বদ্রু, হেমলা ভগতকে গণবিরোধী ও পার্টি বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্যে খতম করা হয়েছে”- সিপিআই(মাওবাদী)

মাওবাদী গণ আদালত

মাওবাদী গণ আদালত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)/সিপিআই(মাওবাদী) ছত্তিশগড়ের গোলযোগপূর্ণ বস্তার অঞ্চলে তাদের ২ সিনিয়র নেতা বদ্রু, হেমলা ভগতকে গণবিরোধী ও পার্টি বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্যে খতম করার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।

বস্তারে সক্রিয় চার মাওবাদী গেরিলা গত কয়েক দিন আগে তাদের নিজস্ব পার্টি গেরিলাদের হাতে নিহত হয়।

একজন মাওবাদী নেতাকে আটক করা হয়, অপর মাওবাদী নেতা তার নিজের কমরেডদের বন্দিদশা থেকে পালিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

গত রবিবার এক সংবাদ বিবৃতিতে সি পি আই(মাওবাদী) দারবা বিভাগের সম্পাদক সুরিন্দর বলেন  “আমাদের পার্টির গণআদালত বদ্রু(দারবা এলাকার একটি ডিভিসির সদস্য) এবং হেম্লা ভগত(অন্য দারবা এলাকার একটি ডিভিসির সদস্য ও মাওবাদীদের একই এলাকার ‘সামরিক গোয়েন্দা’ শাখার প্রধান) কে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দুজনকেই গণবিরোধী ও পার্টি বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার জন্যে খতম করা হয়। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং দলের কিছু সিনিয়র নেতাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করছিল। তারা শত্রুর(পুলিশ) আগেই অস্ত্র সহ আত্মসমর্পণের ষড়যন্ত্র করছিল।”

যদিও এই বিবৃতিতে জুনের শেষ সপ্তাহে পার্টি কর্তৃক নিহত অন্য ২ নেতাদের( হিঙ্গে ও কোশী) সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

“বদ্রু এবং হেমলা ভগতকে ব্যবহার করে মাওবাদী সংগঠন ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র, পুলিশের কৌশলের একটি অংশ ছিল। বদ্রু এবং ভগত মৃত্যুর জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়ী করে সুরিন্দর বলেন,- তারা যদি এইরুপ গণবিরোধী কার্যক্রম বন্ধ না করে তা হলে, আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়াশীল কার্যক্রম জোরদার করতে বাধ্য হবো। বদ্রু এবং ভগতের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে বস্তারের জনগণকে সচেতন করে দিয়ে সুরিন্দর বলেন, পুলিশ এবং সরকার মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এই বলে মিথ্যা ছড়াচ্ছে যে, যে সব কমরেড পার্টি ছেড়ে দিতে চান বা বাড়ী চলে যেতে চান তাদের মাওবাদীরা হত্যা করে।”

মাওবাদী নেতা সুরিন্দর আরো বলেন- “আমাদের পার্টি কখনোই বাড়ী যেতে চাওয়া কমরেডের হত্যা করে না। আমরা শুধুমাত্র বিশ্বাসঘাতক এবং পার্টি ও আন্দোলনের যারা ক্ষতি করে তাদেরকেই শাস্তি দিয়ে থাকে। আমরা এই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্যে জনগণের কাছে আবেদন রাখছি।”

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/national/maoists-admit-to-killing-their-own-leaders-in-chhattisgarh/article7414112.ece