ভারতঃ মাওবাদী দমনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

maoist1-655x360

নাগপুর: মাওবাদী দমনে এবার আরও কোমর বেঁধে নামছে সরকার। বুধবার সিআরপিএফের (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) তরফে যৌথ সংস্থার বৈঠকের আয়োজন করা হয়। নাগপুরের সিআরপিএফের সদর দফতর হিঙ্গানায় বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্র ও ছত্তিসগড়ের প্যারা মিলিটারি ফোর্সের অফিসারেরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিআরপিএফের ইন্সপেক্টর জেনারেল(আইজিপি) সঞ্জয় কৌশিক, নাগপুরের আইজিপি রেঞ্জার রবীন্দ্র কাদাম, রাজ্যের চরম বামপন্থি নিয়ন্ত্রণ ডিভিশনের আইজি রাজ্যবর্ধন। এছাড়াও এদিনের বৈঠকে বিশেষ রিপোর্ট পেশ করেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের অফিসারেরা ও ভারত-তিব্বত সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর অফিসারেরা।

উল্লেখ্য, গত পরশু বিহারে অপহরণ করা হয় চারজন পুলিশ অফিসারকে। বাসে করে যাওয়ার সময় তাদের অপহরণ করা হয় বলে খবর মেলে। এর পর বুধবার তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়াও বিহার ছত্তিশগড় জুড়ে মাওবাদী আগ্রাসন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বৈঠক সূত্রে খবর, অপারেশন মাওবাদী অল আউট শুরু করার কথা ভাবছেন কেন্দ্রীয় সরকার।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/multi-agency-meeting-held-to-spruce.html

Advertisements

ভারতঃ গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচারের কারণেই ৪ পুলিশকে জন আদালতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে মাওবাদীরা

mao-two-655x360

ভারতের ছত্তিশগড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর অত্যাচারকারী ৪ পুলিশ সদস্যকে জন আদালতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে মাওবাদীরা।

মাওবাদীদের প্রচার পত্র থেকে জানা যে, ওই পুলিশকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর অত্যাচার করতো। যার পরিপ্রেক্ষিতে মাওবাদীরা জন আদলাতে এই পুলিশদের বিচার করে।
আজ (বুধবার) সকালে বীজাপুরের কুত্রুয় গুডমা গ্রাম এলাকার অপহরণ স্থান হতে ৫ কিমি দূরে একটি সড়কের উপরে মাওবাদীদের প্রচারপত্র সহ ঐ ৪ পুলিশের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঐ প্রচারপত্রে বলা হয়, এই পুলিশকর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর অত্যাচার করতো বলেই তাদের এই পরিণতি। এছাড়া ভবিষ্যতে যারা গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচার করবে তাদেরও ক্ষমা করা  হবে না বলে হুঁশিয়ার করা হয় ঐ প্রচারপত্রে।

এদিকে পুলিশের ডিএসপি (অপারেশন) সুখনন্দন রাঠোর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বীজাপুর জেলা পুলিশ কর্মকর্তা কে এল ধ্রুব জানান, ‘জেলার কুত্রু থানা এলাকা থেকে অপহৃত ৪ পুলিশকর্মীকে হত্যা করে তাদের লাশ গুডমা গ্রাম এলাকার একটি সড়কের উপর ফেলে দেয়া হয়েছে। আজ সকালে এ ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে পুলিশের একটি দল রওনা হয়ে গেছে।’

এদিকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামসেবক পাকরা এই ঘটনায় হতবাক।  পুলিশকর্মীদের হত্যাকারীদের ধরতে  পুলিশের স্পেশাল অ্যান্টি নকশাল অপারেশন টিমকে এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও  তিনি জানিয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে শুধু পুলিশই নয় পুরো ছত্তিশগড় রাজ্যসরকারই চরম দূর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি খোদ রাজ্যের  মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংয়ের ৩৬ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কাহিনী বেরিয়ে এসেছে।  এ ঘটনায় সুপ্রিমকোর্ট দ্বারা বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করারও দাবি জানিয়েছে দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট অজয় মাকেন ।
এরকম পরিস্থিতিতে এই দুর্নীতিবাজ পুলিশদের বিচার করলো মাওবাদীরা।

তবে এর ঠিক পুলিস নয়। আদিবাসী যুবকদের সামান্য বেতনে মাওবাদীদের সঙ্গে লড়াই করতে নামিয়েছে ছত্তিশগড় সরকার। যদিও এদের নিয়োগকে বেআইনি বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তা সত্ত্বেও কী করে এরা পুলিসের হয়ে কাজ করছেন তা মিডিয়া রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট নয়।

সূত্রঃ NDTV


অরণ্যের দিনরাত্রি – ছত্তিসগড়ে মাওবাদীদের সাথে ২৩ দিনের ধারাবাহিক গল্প (২য় পর্ব)

একটি বিপ্লবের অরণ্যের জীবনের গল্প

(লাল সংবাদ প্রতিবেদনটি বাংলায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করছে)

দ্বিতীয় পর্ব :

(এ এক দুর্লভ সুযোগ। মাওবাদীদের ক্যাম্পে বাস করে, তাদের সাথে একত্রে খাবার ভাগ করে খেয়ে, ল্যাপটপে সিনেমা দেখে এবং মাওকে নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদক আশুতোষ ভরদ্বাজ ছত্তিসগড়ে ২৩ দিন কাটিয়ে এলেন মাওবাদীদের সাথে। গত বছরের (২০১৪) ফেব্রুয়ারিতে ছত্তিসগড়ের অবুঝমাদ অরণ্যে প্রবেশের দুর্লভ অনুমতি পেয়ে যান আশুতোষ ভরদ্বাজ। অবুঝমাদ মাওবাদীদের একটি মুক্তাঞ্চল। এখানে মাওবাদীদের নেটওয়ার্ক মানবদেহের ধমনীর থেকেও বেশী বিস্তৃত। এটি বিপ্লবের অরণ্যে জীবনের গল্প।)

কয়েক বছর আগে এনকাউন্টারে নিহত মঙ্গলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বালি বেরা গ্রামের বাইরে নির্মিত স্মৃতিফলক। মঙ্গলের বোন সিমরি বলেন, "গ্রামের লোকেরা পুলিশের ভয়ে ওর নাম মুছে দিয়েছে।"

কয়েক বছর আগে এনকাউন্টারে নিহত মঙ্গলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বালি বেরা গ্রামের বাইরে নির্মিত স্মৃতিফলক। মঙ্গলের বোন সিমরি বলেন, “গ্রামের লোকেরা পুলিশের ভয়ে ওর নাম মুছে দিয়েছে।”

ওদের জিনিসপত্র বলতে একটা প্লেট, অল্প কিছু জামা কাপড় আর নিত্য প্রয়োজনীয় প্রসাধন সামগ্রী; একটা পিঠ ব্যাগেই সব এঁটে যায়। গুলি ভরা একটা রাইফেল সবসময় কাঁধে ঝুলে থাকে; নদীতে গোসলে যাবার সময়েও একজন নারী সাথে করে তার রাইফেলটা নিয়ে যায়।

গত তিন দিন ধরে ছয় সদস্য বিশিষ্ট এই স্কোয়াডটিতে একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে আছেন ফুলো দেবী (২৪)। অস্ত্র প্রশিক্ষণ হোক কিংবা রান্নাবান্নার কাজ হোক, সব দায়িত্বই স্কোয়াডের সদস্যরা তার সাথে সমানভাবে ভাগ করে নেয়। পুরুষ সদস্যদের মাঝখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিনা কিংবা অস্বস্তি বোধ হয় কিনা জানতে চাইলে হেসে ফেলে বললেন, “মোটেই না”।

ওদের খাবারের তালিকায় আছে ভাত, ডাল আর মাঝে মধ্যে সবজি যেগুলো গ্রামবাসীরা ওদেরকে যোগান দিয়ে থাকে; নারীরা প্রতি মাসে বাড়তি ২ কেজি চীনাবাদাম ও আধা কেজি গুড় পেয়ে থাকে আর চীনাবাদাম পাওয়া না গেলে দৈনিক একটা করে ডিম। মৌলিক সুযোগ সুবিধার ব্যাপক অভাব রয়েছে যেসব এলাকায় সেসব স্থানে নারী গেরিলাদের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধার ভেতরে রয়েছে বিশেষ খাবারের অধিকার। দণ্ডকারণ্যর ৪০ শতাংশ ক্যাডার নারী আর তারা এই বিপ্লবের মেরুদণ্ড।

৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আদিবাসী নারীদের কাছে তাদের অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করে দিবসটি পালন করে। বস্তারের পঞ্চম শ্রেণী অব্দি পড়া ৩০ বছর বয়সী রণিতা এই জোনটিকে কমান্ড দেয় যে জোনে সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা বসবাস করেন। অবুঝমাদের কুতুল এরিয়া কমিটির প্রধান রণিতা ১৪ বছর বয়সে মাওবাদীদের সাথে যোগ দিয়েছিল। ঐ বয়সে ওর মা-বাবা ওকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। রণিতা বললেন, “আমি পার্টির কাছে গেলাম। তারা বলল তোমার বয়স অল্প। তুমি যোগ দিতে পারবে না কিন্তু আমি জোরাজুরি করলাম।”

রণিতা বলেন, “পার্টি নারীদের জন্য অনেক কিছু করেছে। এমন অনেক কিছু যা আপনাদের সরকার করতে পারেনি। দিল্লির গণধর্ষণের ঘটনা মনে আছে? ঐ ধরনের ঘটনা এখানে কখনো শুনতে পাবেন না।” তিনি প্রায় ২৫টার মতো জনতানা সরকার কিংবা গ্রাম্য কাউন্সিলের দেখাশোনা করেন যেগুলো দণ্ডকারণ্যে সিপিআই (মাওবাদী) ‘সরকারের’ ভিত্তি ইউনিট। রণিতা বলেন, তিন দশক আগে বস্তারের নারীরা সব ধরণের শোষণের শিকার হত। এখন নারীরা পুরুষদের পাশাপাশি সমান অধিকার পাচ্ছে কারণ পার্টি পিতৃতন্ত্রের ইতি টেনেছে।”

নারী ক্যাডাররা উর্ধ্বতন নেতাদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়, পুলিশের এ ধরনের প্রচারণার কথা শুনে হেসে ফেললেন রণিতা। বললেন, “এমন ঘটনা যদি ঘটত তাহলে আমি এবং আরো অনেক নারী এখানে থাকতে পারত না।”

নারী পুরুষের সম্পর্ক বিষয়ে কঠোর নীতিমালা রয়েছে। মাওবাদী কোড বইতে নারী কমরেডদের সাথে ঠাট্টা করার ব্যাপারেও পুরুষ ক্যাডারদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিয়ে পূর্ববর্তী যৌন সম্পর্ক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও এর শাস্তি আরো কঠোর- পার্টির সদস্যদের জন্য দল থেকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, এরিয়া কমিটির সদস্যদের জন্য ছয় মাসের নিষীধাজ্ঞা ও বিভাগীয় কমিটি কিংবা জোনাল কমিটি সদস্যদের জন্য এক বছরের নিষেধাজ্ঞা।

ক্যাডাররা বলেন, নারী সদস্যদের ও বিপ্লবের মর্যাদা নিশ্চিত করতে এই নিয়ম করা হয়েছে।

আশির দশকে দণ্ডকারণ্যতে যোগদানকারী অন্ধ্র প্রদেশের প্রথম দিককার গেরিলাদের একজন ছিলেন লংকা পাপি রেড্ডি, যিনি কেন্দ্রীয় কমিটির অত্যন্ত সম্মানিত একজন সদস্য ছিলেন; বিপথগামীতার অভিযোগে তাকেও পদাবনতি দিয়ে পাঞ্জাবে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। পার্টির কাছে উপেক্ষিত হয়ে পরবর্তীতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

(চলবে)