ভারতে গত বছর ১২৩৬০জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন

farmer-suicide

কৃষকদের আত্মহত্যার মিছিল অব্যাহত। মধ্যবিত্তের মনে এখন আর তেমন একটা প্রভাব পড়ে বলে মনে হয় না। তবে কৃষকদের আত্মহত্যার পরিসংখ্যানটা যথেষ্ট উদ্বেগের। ২০১৪ সালে দেশে ১২৩৬০ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছিলেন। আগের বছর সংখ্যাটা ছিল ১১৭৩২। দেশে কৃষক আত্মহত্যার তালিকায় প্রথম নাম রয়েছে আর্থিক রাজধানী মুম্বই যে রাজ্যে অবস্থিত সেই মহারাষ্ট্রের। গত বছর ৪০০০ কৃষক এখানে আত্মহত্যা করেছিলেন। যদিও এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের কোন আলু চাষী বা ধান চাষীর নাম নেই! ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে ২০০৫ থেকে  ২০১৪ সালে দেশে ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৮২৬জন কৃষক আত্মহত্যার বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও অনেক কৃষকই যে আত্মহত্যা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ তার প্রমাণ। কারণ ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত বছর এ রাজ্যে কোন কৃষকই আত্মহত্যা করেননি!

সূত্রঃ  http://satdin.in/?p=3392


ভারতঃ জম্মু-কাশ্মীর ও মাওবাদী এলাকার জন্য ১৮৭০০ পুলিস নিয়োগ করতে চলেছে কেন্দ্র

PB-1

জম্মু- কাশ্মীর ও মাওবাদী প্রভাবিত এলাকার জন্য ইন্ডিয়া রিজার্ভ  পুলিসের ১৭টি ব্যাটেলিয়ান গঠন করতে চলেছে কেন্দ্র। ১৮৭০০ পুলিস কর্মীদের এই ১৭টি ব্যাটেলিয়নের প্রতিটিতে  ১১০০ পুলিস কর্মী থাকবেন। এর মধ্যে ৫টি জম্মু- কাশ্মীরের জন্য আর ১২টি ব্যাটেলিয়ন মাওবাদী এলাকায় নামান হবে। মাওবাদী এলাকায় যে পুলিস কর্মীরা কাজ করবেন তাঁদের নিযুক্তি করা হবে ২৯টি সব থেকে বেশি মাওবাদী প্রভাবিত জেলাগুলি থেকে। প্রতিটি ব্যাটেলিয়ন গঠন করতে খরচ হবে ৬১ কোটি টাকা। এর ৭৫ শতাংশ দেবে কেন্দ্র, বাকিটা বহন করতে হবে রাজ্যকে। যদিও আধা সামরিক বাহিনীর প্রতি ব্যাটেলিয়ন গঠন করতে খরচ হয় ১৬০ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ১৪৪টি ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানদের নিয়োজিত করা হয়েছে।

সূত্রঃ বিজনেস স্ট্যানডার্ড


অরণ্যের দিনরাত্রি – ছত্তিসগড়ে মাওবাদীদের সাথে ২৩ দিনের ধারাবাহিক গল্প (৪র্থ পর্ব)

একটি বিপ্লবের অরণ্যের জীবনের গল্প

(লাল সংবাদ প্রতিবেদনটি বাংলায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করছে)

চতুর্থ  পর্ব :

( এক দুর্লভ সুযোগ। মাওবাদীদের ক্যাম্পে বাস করে, তাদের সাথে একত্রে খাবার ভাগ করে খেয়ে, ল্যাপটপে সিনেমা দেখে এবং মাওকে নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদক আশুতোষ ভরদ্বাজ ছত্তিসগড়ে ২৩ দিন কাটিয়ে এলেন মাওবাদীদের সাথে। গত বছরের (২০১৪) ফেব্রুয়ারিতে ছত্তিসগড়ের অবুঝমাদ অরণ্যে প্রবেশের দুর্লভ অনুমতি পেয়ে যান আশুতোষ ভরদ্বাজ। অবুঝমাদ মাওবাদীদের একটি মুক্তাঞ্চল। এখানে মাওবাদীদের নেটওয়ার্ক মানবদেহের ধমনীর থেকেও বেশী বিস্তৃত। এটি বিপ্লবের অরণ্যে জীবনের গল্প)

২৮শে ফেব্রুয়ারি সবার মানসিক অবস্থা বদলে গেল কারণ সেই একই রেডিওতে দান্তেওয়াদায় পাঁচজন পুলিশ নিহত হবার সংবাদ শোনানো হচ্ছে। কেউ একজন বলল,  “এত পুলিশ মরছে তারপরেও এরা থামছে না (Itne maare jate hain ye policewale, phir bhi nahi maante)”   

forest6২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মাওবাদী, সাধারণ নাগরিক ও পুলিশের গুপ্তচর সহ মোট ১৩৫ জন নিহত হয়েছে; এবছর ৫০ জন নিহত হয়েছে

রজনু মান্দভী এ প্রশ্নে দার্শনিকধর্মী। বললেন, “এটা একটা দীর্ঘ লড়াই। নিজেদের ক্যাডারদের মৃত্যুতে আমাদের হতাশ হলে চলবে না কিংবা পুলিশের লোকদের মৃত্যুতে আমাদের উল্লসিত হলে চলবে না। খুশিও না, দুঃখও না, আমাদেরকে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকতে হবে (Na hansi, na dukh, medium rehna hai)”।

একদিন সাহারা কোম্পানির প্রধান সুব্রত রায় এর গ্রেফতারে ওরা আনন্দ প্রকাশ করল। দণ্ডকারণ্যতে মাওবাদীদের দুটো মাত্র ব্যাটেলিয়ন আর তার প্রধান রামধের; নিরাপত্তা বাহিনীর উপর বেশ কয়েকটি বড় ধরনের হামলা পরিচালনা করেছেন তিনি। রামধের বললেন, “এই ধরনের পুঁজিবাদীরা যদি তাদের অন্যায় কাজের শাস্তি পায় তাহলে আমাদের বিপ্লবের কী প্রয়োজন?”

মাওবাদীদের বিপ্লব এমন একটা বাস্তবতা যেটা আত্মস্থ করার ইচ্ছা খুব কম লোকেরই আছে। মধ্য ভারতের অরণ্যে বসবাসরত হাজার হাজার সশস্ত্র নারী ও পুরুষ এই বিপ্লবী সংগ্রামের নেতৃত্বে রয়েছে যে সংগ্রামের শীঘ্রই ৫০তম বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে। কিছু শিক্ষিত ক্যাডার দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ করে থাকে। ২০১০ সালে এনকাউন্টারে নিহত হবার আগে পর্যন্ত সিপিআই (মাওবাদী) এর প্রাক্তন মুখপাত্র আজাদ তার কমরেড ও স্ত্রী পদ্মার সাথে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে বসবাস করতেন অনেক বছর ধরে। স্বামীর মৃত্যুর পর পদ্মা এখন হায়দ্রাবাদের একটা বাড়িতে বসবাস করেন; বাড়ির মালিকের ছেলে ঝাড়খণ্ডের কারাগারে আছেন আর তার পুত্রবধূ সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পদ্মা বললেন, “ও (আজাদ) ছিল ওর ব্যাচের সবচেয়ে মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারদের একজন কিন্তু আমরা গেরিলা জীবন বেছে নিয়েছিলাম কারণ আমরা একটা সম অধিকারের সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলাম।”

প্রায় প্রত্যেক ক্যাডার উপলব্ধি করে যে সে ‘ক্রান্তি’র (বিপ্লব) আগেই মারা যাবে। ওদের সাথে কথা বলে ‘বিপ্লবের’ লক্ষ্যটাকে অনেক বেশী দূরের, অনেক বেশী অস্পষ্ট বলে মনে হয়। একটা বড় অংশের কাছে এটা কেবলই ওদের ‘জল, জঙ্গল ও জমি’ রক্ষা করার যুদ্ধ।

কাঙ্কার জেলার নরেশ সিপিআই (মাওবাদী) এর রাওঘাট এরিয়া কমিটির সদস্য। রাওঘাট এলাকাতে সংরক্ষিত লোহার খনি আছে যে কারণে বড় বড় কোম্পানিগুলো এই এলাকার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।

নরেশ বলেন, অন্য কোন এলাকা হলে সরকার স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে আলাপ আলোচনায় বসত কিন্তু এখানে সরকার বিএসএফ ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন করেছে। নরেশের প্রশ্ন, “আপনি আমার ভূমি চান। আমি যখন তা দিতে অস্বীকার করলাম তখন আপনি আমার বাড়ির বাইরে ১০,০০০ সেনা পাঠালেন। কী করব আমি?”

(চলবে)   


ভারতঃ মাও নেতা কিষেণজিকে হত্যা করেছে মমতার সরকার মন্তব্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

download (5)

কিষেণজিকে হত্যা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বেলপাহাড়ির জনসভায় মমতার কৃতিত্ব দাবি করে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করে আসছিলেন আলোচনার জন্য ডেকে নিয়ে এসে ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয়েছে কিষেনজিকে। তৃণমূল সাংসদ এদিনে তার এই বক্তব্যে স্বীকার করে নিলেন সেই অভিযোগ। ২০১১ সালে ২৪ নভেম্বর নিহত হন মাওবাদী পলিটব্যুরোর সদস্য কিষেণজি। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধায়ায় জানিয়েছিলেন তিনি এবিষয়ে কিছুই জানতেন না। পরে জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যৌথবাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কিষেনজি।

সূত্রঃ

http://satdin.in/?p=3356