ভারতঃ ‘কেরালা পুলিশ ও সরকার আমাকে মাওবাদী বানিয়েছে’- সাইনা

download (7)

কোয়েম্বাটোরঃ পুলিশের হয়রানির ফলে শিকড়হীন ও বাসস্থানচ্যুত হয়ে মাওবাদী নেতা রূপেশের স্ত্রী সাইনা ২০০৮ সালে কেরালার তৎকালীন মুখ্য মন্ত্রী ভি এস আচুদানন্দনকে একটি চিঠি লেখেন। নিপীড়নকারী রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রতিনিয়ত পুলিশের হয়রানি কীভাবে তাকে মাওবাদী আন্দোলনে যোগদান করতে বাধ্য করেছে সে বিষয়ে চিঠিতে লেখেন তিনি। ই-মেইলটিতে সাইনা বর্ণনা করেছেন কীভাবে গ্রেফতার এড়াতে এক রাতে হঠাৎ তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। আবেগের সাথে স্মরণ করেন তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে তিনি আর কখনো সন্তানদের সাথে তার বাড়িতে ঘুমাতে পারবেন না। ই-মেইলে তিনি লিখেছেন, “আমার বাচ্চারা অনেক দিন ধরে কাঁঠাল খাওয়ার জন্য আর ওদের ইউনিফর্ম পরার জন্য অপেক্ষা করে ছিল; সেগুলো ওদেরকে ছেড়ে চলে যেতে হল। আমাদের সব প্রিয়জনদের ছেড়ে বাড়ি ছেড়ে আমরা পালালাম। সেই সন্ধ্যায় আমরা জানলাম পুলিশ আমার বাড়িতে আমার ল্যাপটপের জন্য হামলা চালিয়েছে অথচ ঐ ল্যাপটপ আমার ছিলই না।” “বাচ্চাদেরকে ওদের নানির বাড়িতে নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে আমি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাই। জেনেছিলাম পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমার বাড়িতে হানা দিয়েছিল। খবরের কাগজে পড়েছি আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্সি ও UAPA (Unlawful Activities Prevention Act) এর অধীনে অভিযোগ আনা হবে।”

আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবার আগে কেরালা হাই কোর্টের ক্লার্ক ছিলেন সাইনা। তিনি তার চিঠিতে লিখেছেন, যেহেতু তিনি শ্রমিকদের সাথে সংহতি জানিয়েছিলেন এবং প্রায়ই ইউনিয়ন নেতাদের সাথে ও কোচিন ইকোনোমিক জোনের শ্রমিকদের সাথে কিংবা আদিবাসীদের সাথে আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকতেন, সেহেতু সরকার সবসময় তাকে ভাতা ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করেছে। তিনি বর্ণনা করেছেন পুলিশ কীভাবে তাকে হয়রানি করা শুরু করল। বামধারার ম্যাগাজিন ‘পিপলস মার্চ’ এর সম্পাদক গোভিন্দন কুট্টির সাথে সাক্ষাৎ করতে একটি সত্য অনুসন্ধানী দলের সাথে তিনি ভিয়ুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। এসময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করে; পুলিশের দাবী ছিল তিনি নাম ভাঁড়িয়ে কুট্টির সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন।

তবে সাইনা ও জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের এই দাবী মিথ্যে প্রমাণিত হয়। জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীরই নাম ভাঁড়িয়ে কারাগারে ঢোকার অভিযোগ আনা হয়েছিল সাইনার বিরুদ্ধে। দুই দিন পর সাইনা দাবী করেন পুলিশ চারজন ব্যক্তিকে মাওবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে এবং তাদেরকে আশ্রয় দেবার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করেছে; নন্দীগ্রামে সহিংসতার উপর কেরালায় সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন এই চারজন। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রাম আন্দোলন কর্মীদেরকে পুলিশ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। কলমাসেরি থানায় লক আপে ঢুকিয়ে পুলিশ তাদের পোশাক খুলে ফেলে। আমার বাচ্চারা এক রাত কারাগারে কাটাতে বাধ্য হয়।” “ছাড়া পাবার পর আমাদেরকে সাংবাদিক সম্মেলন ডাকতে বাধ্য করা হয় যাতে করে প্রমাণ হয় যে আমরা সন্ত্রাসী না কিংবা গোপন কোন সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে আসা মাওবাদী না। ব্রংকাইটিসের চিকিৎসা চলাকালীন সাইনা জানতে পারেন মল্ল রাজা রেড্ডি ও তার স্ত্রীকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হবে। “আমাকে বলা হয়েছিল যদি আমি বাচ্চাদের নিয়ে শীঘ্রই পালিয়ে না যাই তাহলে আমার ভাগ্যও গোভিন্দন কুট্টির মতো হবে।”

সাইনা ই-মেইল শেষ করেছেন এভাবে, “আমি উপলব্ধি করেছি কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রতি আমার জোরালো অবস্থান আমার সরকারি চাকরীকে প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীন করে ফেলেছিল। আমি উপলব্ধি করেছি আমরা ন্যায্য প্রশ্ন করা শুরু করলে রাষ্ট্রযন্ত্র আমাদেরকে হত্যা করবে। আমি বুঝেছি, যে ব্যক্তির চিন্তা ও কর্ম রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত, বিদ্রোহ ছাড়া তার আর কোন পথ নেই। আমাকে মাওবাদী বানিয়েছে আপনার পুলিশ এবং সরকার।”

সূত্রঃ  

http://www.newindianexpress.com/states/tamil_nadu/Kerala-Police-Government-Made-Me-a-Maoist/2015/07/19/article2928272.ece



Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.