তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর্দোগানের মেয়ের হাসপাতালে চলছে আইএস জঙ্গিদের চিকিৎসা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এর্দোগানের মেয়ে সুমেইয়ে এর্দোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এর্দোগানের মেয়ে সুমেইয়ে এর্দোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এর্দোগানের মেয়ের প্রতিষ্ঠিত একটি ‘গোপন’ হাসপাতালে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএলের আহত জঙ্গিদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ খবর জানিয়েছেন হাসপাতালটির একজন নার্স।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নার্স জানিয়েছেন, তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সানলিউরফায় হাসপাতালটি অবস্থিত। ওই নার্সের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও গণমাধ্যম বিষয়ক সংস্থা গ্লোবাল রিসার্স বলেছে, তুর্কি প্রেসিডেন্টের মেয়ে সুমেইয়ে এর্দোগান হাসপাতালটি পরিচালনা করছেন।

৩৪ বছর বয়সি নার্স বলেছেন, সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে আহত আইএসআইএল সন্ত্রাসীদেরকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। তিনি আরো জানান, হাসপাতালটিতে মাত্র সাত মাস কাজ করেছেন তিনি। এই সময়ে “প্রায় প্রতিদিন ট্রাকে করে অসংখ্য আহত জঙ্গিকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হতো। সঙ্গে সঙ্গে আমরা অপারেশন রুম প্রস্তুত করে জঙ্গিদের চিকিৎসায় ডাক্তারদের সহযোগিতা করতাম।”

ওই নার্স জানান, এর্দোগানের মেয়েকে তিনি বহুবার ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করতে দেখেছেন। তিনি বলেন, তার আলাভি মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালটি থেকে বের করে দেয়া হয়। তুরস্কের পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করতে পারে ভেবে বর্তমানে তিনি শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

এর্দোগান কন্যা সুমেইয়ে এর্দোগান সম্প্রতি ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল শহর পরিদর্শন করেন। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল নিয়ন্ত্রিত শহরটি সফর শেষে তিনি জানান, জঙ্গিদের সহায়তা করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে মসুল নিয়ন্ত্রণ করছে আইএস জঙ্গিরা।

ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর মানবতা বিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এর্দোগান। সারাবিশ্ব থেকে আসা সন্ত্রাসীরা মূলত তুরস্ক হয়ে সিরিয়া ও ইরাকে প্রবেশ করছে। ওই দুই দেশে প্রবেশের আগে জঙ্গিদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করছে তুর্কি সরকার।

তুরস্কের সানলিরউফা প্রদেশের সুরাক শহরে, কোবানিতে আটকে থাকা বেসামরিক লোকজনের জন্য ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া বামপন্থীদের প্রায় ৩শ’ তরুণ একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘আমারা সংস্কৃতি কেন্দ্রে‘ সোস্যালিস্ট ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশনের সমাবেশে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন নিহত ও প্রায় ১০০ মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় তুরস্কের মাওবাদী ও বামপন্থী কুর্দিরা অভিযোগ করে আসছিল যে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সরকার আইএস জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে এবং উক্ত সমাবেশে হামলার ঘটনার সাথে তুরস্ক সরকার জড়িত। মাওবাদীরা ওই হামলার পর থেকেই তুরস্ক রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর উপর হামলা শুরু করেছে, এরই ধারাবাহিকতায় আজ PKK-পিকেকে ২ তুর্কি পুলিশকে খতম করে।

সূত্রঃ http://bangla.irib.ir/2010-04-21-08-29-09/2010-04-21-08-29-54/item/75553-%E0%A6%8F%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%BE

Advertisements

তুরস্কঃ বামপন্থীদের হত্যার প্রতিবাদে আইএসকে সহায়তাকারী ২ তুর্কি পুলিশকে খতম করল কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (PKK- পিকেকে)

২ পুলিশের লাশ উদ্ধারের পরে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা

২ পুলিশের লাশ উদ্ধারের পরে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা

সিরিয়া সীমান্তের কাছে তুরস্কের দুই পুলিশকে খতম করা হয়েছে। তুরস্ক সরকারের সহায়তায় আই এসের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১জন বামপন্থীদের হত্যার ও শতাধিক আহতের প্রতিবাদে খতমের এ ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করেছে দেশটির স্বাধীনতাকামী সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে।

এর আগে, তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের একটি শহর থেকে দুই পুলিশের মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাদেশিক গভর্নর ইজ্জেদিন কুচাক জানান, নিহত দুই পুলিশের মাথায় গানশটের গুলির চিহ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, দুই পুলিশ নিহতের ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নিহত দু জনের একজন ছিলেন তুরস্কের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ বিভাগের সদস্য; অন্যজন দাঙ্গা পুলিশ হিসেবে কাজ করছিলেন।

তুরস্কের সানলিরউফা প্রদেশের সুরাক শহরে, কোবানিতে আটকে থাকা বেসামরিক লোকজনের জন্য ত্রাণ সহযোগিতা নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া বামপন্থীদের প্রায় ৩শ’ তরুণ একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘আমারা সংস্কৃতি কেন্দ্রে‘ সোস্যালিস্ট ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশনের সমাবেশে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন নিহত ও প্রায় ১০০ মানুষ আহত হওয়ার দু দিন পর পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলো। উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএআইএল ওই সমাবেশে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।

এদিকে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স(HPG) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই দুই পুলিশ অফিসার আইএস জঙ্গিদের সহায়তা করছিল। আজ ভোর ৬টায় তাদের খতম করা হয়েছে।

তুরস্কের মাওবাদী ও বামপন্থী কুর্দিরা অভিযোগ করে আসছিল যে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সরকার আইএস জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে এবং উক্ত সমাবেশে হামলার ঘটনার সাথে তুরস্ক সরকার জড়িত। মাওবাদীরা ওই হামলার পর থেকেই তুরস্ক রাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর উপর হামলা শুরু করেছে, এরই ধারাবাহিকতায় পিকেকে ২ পুলিশকে খতম করে।

সূত্রঃ http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/europe/turkey/11755018/Two-Turkish-police-officers-killed-close-to-Syria-border.html


যুদ্ধবিরতি শুরু করেছে মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলারা

farc members

কলম্বিয়া সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির বামপন্থি ফার্ক গেরিলারা।

৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কলম্বিয়ায় ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে সরকারের সংঘাত চলে আসছে। শান্তি প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে এলো যখন কলম্বিয়া সরকার সম্প্রতি এক গেরিলাকে মুক্তি দিয়েছে। শান্তি আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে সোমবার ওই বামপন্থি গেরিলাকে মুক্তি দেয়।

২০১২ সালে কিউবাতে শুরু হয় সরকার ও ফার্ক গেরিলাদের মধ্যে আলোচনা। গেল এপ্রিলে ১১ কলম্বীয় সেনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে ফার্ক। জবাবে মে মাসে ২৬ গেরিলাকে হত্যা করে সরকারী বাহিনী। এরপর আবারও দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, মার্কসপন্থী ফার্ক গেরিলারা ল্যাটিন আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বড় গেরিলা গ্রুপ; এবং ১৯৬৪ সাল থেকে তারা সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। তাদের তৎপরতা বন্ধে ২০১২ সালে হাভানায় শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ চলমান রয়েছে। বরং চলতি বছর তা আরো জোরদার হয়েছে।

0515


ভারতঃ বক্সাইট খনি নিয়ে এসপি এর ভূমিকা নিয়ে মাওবাদী নেতার অভিযোগ

বিশাখাপত্তনমে বক্সাইট খনি

বিশাখাপত্তনমে বক্সাইট খনি

সিপিআই(মাওবাদী) পূর্ব বিভাগের সম্পাদক মাওবাদী নেতা কাইলাসাম, কয়েকটি মিডিয়াতে প্রচার হওয়া এক অডিও বার্তায় অভিযোগ করেছে যে, বিশাখাপত্তনমের পুলিশ সুপেরিন্টেনডেণ্ট কয়া প্রাভীন, জেলায় বক্সাইট খনি উত্তোলনের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি এজেন্সি গুলোকে সাহায্য করছে ও জনগণের আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করছে। অডিও বার্তায় অভিযোগ করা হয়, এসপি বিশাখাপত্তম জেলার সংস্থা এলাকায় বক্সাইট খনির বিরুদ্ধে আদিবাসীদের আন্দোলন গড়ে উঠার প্ররোচনায় মাওবাদীদের দোষারোপ করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, এটি জনগণের আন্দোলন ছিল এই কারণে যে বক্সাইট খনির উত্তোলনের কাজ এখানে প্রজন্ম ধরে বসবাস করা আদিবাসীদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

এসপি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী নিযুক্ত করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের নামে  নিরীহ আদিবাসীদের ভয় দেখিয়ে এই অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করার চেষ্টা করছে বলে কাইলাসাম দাবি করেছেন।

পূর্ব বিভাগের সম্পাদক দাবী করেন, এসপি কয়া প্রাভীন মিথ্যা অভিযোগ করে যে-  বক্সাইট খনির প্রতিবাদে এজেন্সী এলাকায় মাওবাদীদের ডাকা সাম্প্রতিক বনধ ব্যর্থ হয়েছে । ‘সশস্ত্র রাষ্ট্রীয় পাহারায় কয়েকটি পরিবহন চলাচলকে বনধ ব্যর্থতার সফলতা হিসেবে পরিমাপ করা যায় না’- অডিও বার্তায় কাইলাসাম জাহির করেন।

তিনি পুলিশের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন – পুলিশ মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে যে, মাওবাদীরা উক্ত খনি এলাকার ভেতরে আদিবাসীদের গাঁজা চাষ ও ব্যবসার বিষয়ে সমর্থন দিচ্ছে।

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/cities/Visakhapatnam/bauxite-mining-maoist-leader-alleges-sps-role/article7441904.ece


অরণ্যের দিনরাত্রি – ছত্তিসগড়ে মাওবাদীদের সাথে ২৩ দিনের ধারাবাহিক গল্প (৫ম পর্ব)

একটি বিপ্লবের অরণ্যের জীবনের গল্প

(লাল সংবাদ প্রতিবেদনটি বাংলায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করছে)

পঞ্চম পর্ব:

( এক দুর্লভ সুযোগ। মাওবাদীদের ক্যাম্পে বাস করে, তাদের সাথে একত্রে খাবার ভাগ করে খেয়ে, ল্যাপটপে সিনেমা দেখে এবং মাওকে নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদক আশুতোষ ভরদ্বাজ ছত্তিসগড়ে ২৩ দিন কাটিয়ে এলেন মাওবাদীদের সাথে। গত বছরের (২০১৪) ফেব্রুয়ারিতে ছত্তিসগড়ের অবুঝমাদ অরণ্যে প্রবেশের দুর্লভ অনুমতি পেয়ে যান আশুতোষ ভরদ্বাজ। অবুঝমাদ মাওবাদীদের একটি মুক্তাঞ্চল। এখানে মাওবাদীদের নেটওয়ার্ক মানবদেহের ধমনীর থেকেও বেশী বিস্তৃত। এটি বিপ্লবের অরণ্যে জীবনের গল্প)

আদিবাসীদের মন জয় করতে না পারলে রাষ্ট্র মাওবাদীদের পরাস্ত করতে পারবে না। এই যুদ্ধ যত বেশী দীর্ঘায়িত হবে রাষ্ট্র ও আদিবাসীদের ভেতরে ব্যবধান তত বেশী বৃদ্ধি পাবে। রাষ্ট্র প্রায়ই মাওবাদীদেরকে দোষারোপ করে যে তারা আদিবাসীদেরকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছে কিন্তু তারা এই বাস্তবতাটা দেখতে পায় না যে তাদের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে রাষ্ট্র যে মাওবাদীদের থেকে বেশী কার্যকরী এ বিষয়ে আদিবাসীদেরকে তারা আশ্বস্ত করতে পারেনি। অন্ধ্র প্রদেশ থেকে আশির দশকে দণ্ডকারণ্যতে প্রবেশের পর মাওবাদীরা এই অরণ্যকে তাদের ল্যাবরেটরী বানিয়েছে এবং মানবদেহের ধমনীর চাইতেও বেশী বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা এখানে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সরকার দশক প্রতি আদমশুমারিও চালাতে পারেনি এই এলাকায়। বস্তারের অনেক ভেতরের দিকের বিভিন্ন গ্রামের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। ভোটার তালিকা ভুলে ভরা, স্কুল আর বন বিভাগের রেস্টহাউস গুলো যেগুলোকে সরকার ভোটকেন্দ্র বলে জানে সেগুলো বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

মাওবাদীদের বিশাল রাজনৈতিক শাখা দৃশ্যের অন্তরালে নীরবে কাজ করছে। তাদের খুব অল্প সংখ্যকেরই পুলিশের খাতায় নাম আছে-ওরা ছদ্মবেশে কাজ করে যাওয়া আর্মি।  "আমাদের পার্টির নানা ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। এ্যামবুশ তার মধ্যে একটা মাত্র।"

মাওবাদীদের বিশাল রাজনৈতিক শাখা দৃশ্যের অন্তরালে নীরবে কাজ করছে। তাদের খুব অল্প সংখ্যকেরই পুলিশের খাতায় নাম আছে-ওরা ছদ্মবেশে কাজ করে যাওয়া আর্মি। “আমাদের পার্টির নানা ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। এ্যামবুশ তার মধ্যে একটা মাত্র।”

অন্যদিকে মাওবাদীরা মাঝে মাঝেই তাদের গ্রামগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে। এলাকার প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি পরিবারের  মুরগী, ছাগল এবং খাদ্য শস্যের তালিকা তাদের নোটবইতে লেখা থাকে। যদি একটা মোরগও খুঁজে পাওয়া না যায় কিংবা গ্রামের কোন ব্যক্তি যদি শহর থেকে না ফেরে কিংবা যদি ফিরতে দেরী করে সেটা মাওবাদীরা জেনে যায়। এক সন্ধ্যায় একটা গ্রামের পাশ দিয়ে যাবার সময় একজন ক্যাডার জানতে পারল গ্রামের দুইজন নিখোঁজ। ওরা কি পুলিশের গুপ্তচর হতে পারে? ওরা কি গ্রেফতার হয়েছে? মাওবাদীরা গ্রামে থামার সিদ্ধান্ত নিল, উত্তেজনা বাড়তে লাগল। পরদিন সকালে দুইজন ফিরল। খুব সাধারণ কোন কারণেই ফিরতে দেরী হয়েছিল কিন্তু মাওবাদীরা জানে কোন ঝুঁকি নেয়া তাদের উচিৎ হবে না। জিজ্ঞাসাবাদের পর দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হল। এখানে অবকাশের সুযোগ নেই বললেই চলে। গ্রামের অধিকাংশই চলমান ছবি বলতে যা বুঝে তা হল পার্টির তৈরী করা কোন এ্যামবুশ বা প্রোপাগান্ডার ভিডিও চিত্র কিংবা কিং কং এর মতো কোন এ্যাকশন চিত্র। এগুলো সৌর চার্জার ও ব্যাটারী চালিত কম্পিউটারে দেখানো হয়। এক রাতে ওরা এই প্রতিবেদকের ল্যাপটপে থিও এঞ্জেলপোলাসের সিনেমা ইউলিসেস গেজ (Ulysses’ Gaze) দেখল আর বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপে লেনিনের বিশালাকৃতির সাদা রং এর ভাস্কর্যকে টুকরো টুকরো করে আলাদা করার দৃশ্য দেখে ওরা চমৎকৃত। ওরা সিনেমার ভাষা কিংবা সাবটাইটেল কিছুই বুঝে না। ল্যাপটপটা শীঘ্রই ক্যাম্পের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তুতে পরিণত হল; মাওবাদীরা প্রতি রাতে আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে কখন এই যন্ত্রটা চালু করা হবে।

মার্চের ২ তারিখ রেডিওতে এশিয়া কাপে ভারত পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচের ধারাবিবরণী প্রচার শুরু হল; মাওবাদীরা মহেন্দ্র সিং ধোনি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল। সে দেখতে কেমন, সে কত রোজগার করে? “সে তো খেলোয়াড়, তার গায়ে নিশ্চয়ই অনেক জোর”। ওরা ধোনির কোন ছবি দেখেনি।

ম্যাচ শুরু হতে এখনো বাকি, রজনু মান্দভী তার বিপ্লবকে বাজি ধরলেন ভারতের জয়ের জন্য। বললেন, “ভারত জিতলে বিপ্লব সফল হবে।” স্কোয়াডের মাঝে উত্তেজনা বাড়তে লাগল। নেতা তার ক্যাডারদের পাশের গ্রামে পাঠালেন একটা বল নিয়ে আসার জন্য। আশেপাশে প্রচুর লাকড়ি আছে, একটা ব্যাট সহজেই বানিয়ে ফেলা যাবে। দল গঠন করা হল, ক্যাডারদের মধ্যে একটা ম্যাচ শুরু হবে কাছের একটা ঝরণার ধারে। কিন্তু বল খুঁজে পাওয়া গেল না।

(চলবে)


কলকাতাঃ আজ দুপুর ২.৩০মিনিটে কলেজ স্ট্রিট থেকে ‘শহিদ’ কিষেণজির জন্য মিছিল

mao kishenji

images

1336263185

কলকাতাঃ আজ দুপুর ২.৩০মিনিটে ‘শহিদ’ কিষেনজী হত্যার তদন্ত পুনরায় চালুর দাবীতে ও রাষ্ট্রের নিপীড়নের বিরুদ্ধে কলেজ স্ট্রিট থেকে  শুরু হওয়া র‍্যালীতে যোগদা্ন করুন- APDR

সেই ‘শহিদ’-এর নাম?

মাওবাদী শীর্ষনেতা মালোজুলা কোটেশ্বর রাও। এই নামটা খুব বেশি মানুষ জানে না। কিন্তু কিষেণজি বললে এক ডাকে চিনবে।

কিষেণজির নাম তাঁর মৃত্যুর তিন বছর আট মাসের মাথায় ফের বহুল ভাবে চর্চিত হচ্ছে তৃণমূল নেতা ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যের জেরে। অভিষেক বলেছেন, কিষেণজিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার খুন করেছে!

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, মাওবাদীদের গণ সংগঠনগুলো এবং মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন বিদ্বজ্জনেরা তো বটেই, এমনকী রাজনীতির মূলস্রোতে থাকা বিরোধী দলগুলো এতে যেন পুরনো একটা অস্ত্র হাতে পেয়ে গিয়েছে পুরোদস্তুর নতুন ও ধারালো চেহারায়। বেরিয়ে এসেছে শাসক শ্রেণীর গোপন চেহারা।

ফের কিষেণজির নাম খবরের শিরোনামে চলে আসায় সাংবাদিক-চিত্র সাংবাদিকদেরও অনেকের মনে উঁকি দিচ্ছে পুরনো স্মৃতি। বিশেষ করে যাঁরা তাঁর সাক্ষাৎকার পেয়েছেন, সামনাসামনি বসে কথা বলেছেন কিংবা কিষেণজির সঙ্গে টেলিফোনে যাঁদের কথা বলার সুযোগ হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ-প্রশাসন-মন্ত্রী-রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের একটা বড় অংশ খামোখা মিডিয়াকে চটিয়ে ফেলেন, এটা বাজারে বহু দিন ধরেই চালু। বিশেষ করে অভিযোগটা ওঠে প্রশাসন ও পুলিশের কর্তাদের ক্ষেত্রে। অনেক সময়েই মনে হয়, এঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে ঠিকঠাক ব্যবহার করতে পারেন না।

আর এই বিদ্যেটাই তাঁরা ভাল করে শিখতে পারতেন কিষেণজির কাছে।

মিডিয়াকে কী ভাবে নৈপুণ্যের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়, কোন কথাটা বললে হেডলাইন হয়, কোন চ্যানেলকে কোন ব্রেকিং নিউজটা খাওয়াতে হবে, একই সংস্থার দু’জন রিপোর্টারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ‘স্কুপ’ নিউজগুলো তাঁদের মধ্যে কী ভাবে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দিতে হবে, এ সবই ছিল তাঁর করায়ত্ত।

কোন সাংবাদিককে কখন কোন কথাটা বলতে হয়, সেটা কিষেণজি জানতেন বিলক্ষণ। কোনও সাংবাদিককে ভুল বুঝে থাকলে পরে সেটা সংশোধন করে নিতেও তাঁর কুণ্ঠা ছিল না।

জঙ্গলমহলের সেই উত্তাল সময়ে এক সাংবাদিকের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। কিষেণজি তাঁকে ফোন করে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, টাকা পয়সার প্রয়োজন আছে কি না। এমনকী, কোনও সাংবাদিককে মেরি ক্রিসমাস বা হ্যাপি নিউ ইয়ার-ও বলেছেন কিষেণজি।

২০১১-র ২৪ নভেম্বর অবশ্য সেই অধ্যায়ের ইতি। কিন্তু সে দিন কিষেণজি, সরকারের দাবি মতো, সত্যিই লড়াই করতে করতে মারা গিয়েছিলেন না কি তাঁকে আগেই পাকড়াও করে সে দিন প্রকৃত অর্থে হত্যা করা হয়েছিল, এখন নতুন করে সেই বিতর্ক চেগে উঠেছে।

এপিডিআর যেমন পুরনো সেই মামলার তদন্ত নতুন ভাবে করার দাবি জানাচ্ছে, তেমনই প্রয়োজনে তারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য তুলে ধরে নতুন একটি মামলা করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত কী হবে, কী জানা যাবে, সেটা পরের কথা। আপাতত এটা নিয়ে খবর করতে পারছেন সাংবাদিকেরা।

কিষেণজির জীবৎকালে তাঁর জন্য, তাঁকে নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রচুর খবর করতে পেরেছেন। এখনও পারছেন। নিহত হওয়ার প্রায় চার বছর পরেও কিষেণজিকে নিয়ে খবর করার সুযোগ করে পাচ্ছেন সাংবাদিকরা।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/apdr-called-rally-for-kishenji-1.179774#