‘বাবাকে যেমন পেয়েছি’- কমরেড চারু মজুমদার স্মরণে

charu-mazumdar

আজ ২৮ শে জুলাই ভারতের মাওবাদী তথা নকশাল আন্দোলনের প্রাণপুরুষ কমরেড চারু মজুমদারের শহীদ দিবস। আজ ২৮ শে জুলাই থেকে ৩রা আগস্ট পর্যন্ত ৭ দিন ব্যাপী শহীদ সপ্তাহ পালনের ডাক দিয়েছে সিপিআই(মাওবাদী)।  

cm-sd-src

নকশাল আন্দোলনের প্রাণপুরুষ হিসেবে কমরেড চারু মজুমদার ছিলেন ভারতের জীবন্ত কিংবদন্তী। ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই কলকাতার পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাঁকে, ২৮ জুলাই পুলিশ হেফাজতেই তাকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর ওজন ছিল মাত্র ৯৬ পাউন্ড। মৃত্যুর ৪৪ বছর পরও তাঁর দেখানো মাওবাদী সশস্ত্র সংগ্রামে কাঁপছে ভারত। আজ চারু মজুমদারের মৃত্যুর ৪৪ বছর পার হবে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে সামনের সময় আরো কথা উঠবে, চলবে আরো আলোচনা। রাজনীতির চশমায় নয়, সন্তানদের চোখে চারু মজুমদারকে দেখা যাক এক ঝলক। তাঁর ৩ সন্তান অনিতা মজুমদার, মধুমিতা মজুমদার ও অভিজিৎ মজুমদার- এর স্মৃতিতে কেমন ছিলেন তাঁদের বাবা?

মধুমিতা মজুমদার : বাবাকে আমরা খুব যে বেশি পেয়েছি, তা নয়। রাজনৈতিক কাজে খুব ব্যস্ত থাকতেন, কিন্তু তাঁর একটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিল, যখন বাড়িতে থাকতেন, আমাদের খুবই সময় দিতেন। ছোটবেলায় আমার মাকে ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হতো, শীতকালে জামাকাপড় পরানো থেকে শুরু করে, বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে কি না, বাবা তাও নজর রাখতেন। ছোটবেলা মার চেয়ে বাবাকে অনেক বেশি কাছে পেয়েছি; ক্লাস নাইনে ওঠার পর জোর দিলেন_আমাকে শাড়ি পরতে হবে। সেই সময়ের যে রকম ফ্যাশন সেইভাবে শাড়ি পরিয়ে দিতেন। মা সময় পেতেন না বলে বাবা চুলও বেঁধে দিতেন, বলতেন এমন কোনো কাজ করবে না যাতে রাস্তার লোকে খারাপ বলে। বাড়িতে তিনটা পর্যন্ত সবাইকে থাকতে হবে, তারপরে যেখানে হোক যেতে পারে। খেলতে গেলে চটি ফেলে আসতাম আমি, পরে বাড়ি এসে মনে পড়ত। এরকম দু-তিন জোড়া হারানোর পর মা খুব বকুনি দিচ্ছে। বাবা গম্ভীর হয়ে বললেন, আজ যদি চটি খুঁজে না পাও তাহলে তোমার মুণ্ডু একদিকে থাকবে, হাত-পা একদিকে থাকবে। আমি তো বেরিয়ে চটি খুঁজে না পেয়ে মাঠের মধ্যে একটা চাঁপাগাছের তলায় বসে আছি। ভাবছি মুণ্ডু আর হাত-পা আলাদা হয়ে যাবে। ওদিকে তখন তিনটে বাজেনি, দিদি আমাকে খুঁজতে এসেছে। বাবা মারবেন আমাদের তিনটের আগে বেরিয়েছি বলে। তা তখন কিছু বললেন না। সন্ধ্যাবেলা ধরলেন, কেন তিনটের আগে বেরিয়েছি। বললাম, ‘তুমি বলেছো মুণ্ডু একদিকে, হাত-পা একদিকে করে দেবে!’ বাবা হেসে আদর করে বললেন, ‘সে তো মজা করে বলেছিরে।’ খুব আদর করলেন তখন। আমাকে লিপি বলে ডাকতেন। অভিজিৎকে অভি আর দিদিকে অনিতা বলেই ডাকতেন, তাই ওরা অভিযোগও করত।

অনিতা মজুমদার : ব্যক্তিজীবনে একদম রাশভারি ছিলেন না। খুব আমুদে ছিলেন। আমরা যথেচ্ছভাবে কোলে উঠেছি, ঘাড়ে চড়েছি। দুপুরে বারোটায় খেয়েদেয়ে আমরা সবাই শুয়ে পড়তাম। তিনটের সময় বাড়িতে চা হতো। আমাদের তখন একটা বড় কাঠের ঘর ছিল। বাথরুম ছিল। এই ঘরেই দাদু ছিলেন। পাশের ঘরটাতে আমরা পড়তাম। আমাদের যতই কাজ থাক, সাধারণভাবে কেউ এলে আমরা বড় ঘরে যেতাম না। প্রচুর কাকু দেখেছি আমরা_রাতে হয়তো সেদ্ধ ভাত খেলেন; কাউকে কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হতো না। মা অনেক সময় নিজের খাবার দিয়ে দিতেন। সকাল আটটা থেকে লোক আসত। একবার চা করে বাসন ধুতে না ধুতে আবার চা করতে হতো। বাবাকে আমরা যখন পেয়েছি, তখন তিনি অসুস্থ। তাঁর স্বাস্থ্যই পারমিট করত না নিয়মের বাইরে যেতে। কালু ডাক্তার বাবার বন্ধুও ছিলেন। বাবা যাতে সিগারেট ছাড়েন, সেই জন্য কালু ডাক্তার নিজে সিগারেট ছেড়ে দিয়েছিলেন। বাবা নিয়ম মানার লোক ছিলেন না। আবার সিগারেট ধরলেন।
আমি যখন নাইনে উঠলাম বাবা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী হবে’? ‘আমি বললাম, ডাক্তার।’ বাবা বললেন, ‘দেখ, আমি তোমার জন্য প্রাইভেট টিউটর রাখতে পারব না। তুমি যদি চান্স পাও, তোমার মা যদি পয়সা দিয়ে চালাতে পারেন, তাহলে তুমি পড়বে।’ আমি দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজে ফিজিক্স অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। হোস্টেলের নিয়মকানুন ভালো লাগল না। সাতদিন বাদে পালিয়ে চলে এলাম। মাকে সবাই বলেছিল, আনবে না। বাপি বলতেন, ও কলকাতায় যাক। আমি শিলিগুড়ি কলেজের ইংরেজি অনার্সের ফর্ম নিয়ে বসে আছি। একদিন সকালে কালু ডাক্তার রিকশা করে এসে খবর দিলেন, আমি ন্যাশনাল মেডিক্যালে চান্স পেয়েছি। এরকম কথা চালু হয়েছিল যে কালু ডাক্তার কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি করেছেন। অনেকে ভাবত কালুবাবু মাকে মাসে মাসে টাকা দিতেন। আমার মা জীবনে ওঁর কাছ থেকে টাকা নেননি। আমার খুব ছোটবেলায় বাবা জেলে ছিলেন। আমি যখন ফাইভে পড়ি তখন বাবা ফিরে আসেন। ফাইভে আমি অঙ্কে পঁচিশে চার পেয়েছি! আমি মামাত বোনকে বলেছিলাম, আমি ঘুমিয়ে পড়লে বাবাকে বলবে। বাবা আমাকে অঙ্ক করাতেন। অন্যমনস্ক হলে গাঁটে মারতেন পেন্সিল দিয়ে। আমাদের পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত ঘরভর্তি লোক_তার মধ্যেই পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতাম।

মধুমিতা মজুমদার : টেনশন হতো অন্য কারণে। হয়তো দুদিন ধরে এই কাকু আসছেন না। পরে জানা গেল, মারা গেছেন। এ রকম অভাব বোধ করতাম। স্কুলে, বাইরে কেউ আমাদের সঙ্গে মিশত না। ওই অবস্থা মেনে নিয়ে চলতে হতো।
বাবা গানে খুব উৎসাহ দিতেন। গান না শিখলেও কি রাগ বলে দিতে পারতেন। ওঁর ইচ্ছে ছিল আমি ক্লাসিক্যাল ভালোভাবে শিখি। পরে জলপাইগুড়ি থেকে এসে শিলিগুড়ির মিত্র সংঘের সভ্য হন। ওখানে নাটকের ডিরেকশন দিতেন, আবৃত্তি শেখাতেন, নিজে আবৃত্তি করতেন। পরের দিকে শুধু ক্লাসিক্যাল নয়, আধুনিক গানের কথাও বলতেন। ‘ফিরে এসো অনুরাধা’ গাইতে শুনেছি। আন্ডারগ্রাউন্ডে যখন শেষবার দেখা হলো বললেন, ‘গান গা তো’। খুব মন দিয়ে শুনলেন। পড়ার ক্ষেত্রে আধুনিক উপন্যাসও পড়তেন। ওর বন্ধুর দেওয়া হ্যারল্ড রবিন্সের বই পড়েছেন।

অনিতা মজুমদার : শেষ দেখা ১৯৭১ সালে। তখন খুব অসুস্থ ছিলেন। দেখা করার জন্য সৌরেন বসুর বাড়িতে উঠি। দেখা মানে কিছুই না_সকালবেলা তিনি এলেন, পরের দিন ভোরবেলা চলে গেলেন। পার্টি কংগ্রেসের কথা বললেন। বললেন, তোমাকে আনতে চেয়েছিলাম। একজন শ্রমিক নেতা সম্পর্কে খুব উৎসাহ দেখিয়েছিলেন। নাম অবশ্য বলেননি। আমি গেলে বাবার কাছে বসে থাকতাম, লোকজন এলে কথাবার্তা বলতাম। সেদিন বলেছিলেন লোকে কি রকম উৎসাহিত হচ্ছে। আমি সাউথে গেছি। এক মহিলা তার স্বামীকে বলেছিলেন, ভদ্রলোক যদি এত অসুস্থতা নিয়ে এত কিছু করতে পারেন তাহলে তুমি পারবে না কেন? এর পথেই তোমাকে যেতে হবে। একবার ভোট বয়কটের মিছিলে গিয়েছিলাম। বাবা খুব খুশি। খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন সব। আর একবার দেওয়ালে লিখেছি। বাবা শুনে খুব খুশি হলেন।
শিলিগুড়িতে একটা কিছু করতে হলে বাবা না থাকলে কালু ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করতাম; কিন্তু তার বাইরে ছিল পার্টি। পার্টি যা বলবে তাই আমাদের করতে হবে, তাই বলতেন। তবে পার্টির কারো নাম নির্দিষ্ট করে বাবাও বলতেন না। সমর জেঠু, অমর সরকার আমাদের খুব সাহায্য করতেন। বাবা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাওয়ার পর আমাদের মুভেবল প্রপার্টিগুলো সিজ করে নেওয়া হলো। তখন বাড়ির সামনে জমিটুকু নিয়ে মা চিন্তায় পড়ে গেলেন। ওটা কেড়ে নিলে আমরা কী করব! সমর জেঠু জমিটা বিক্রি করার জন্য খুব সাহায্য করেছেন আমাদের।

মধুমিতা মজুমদার : পুলিশের অত্যাচার তেমন কিছু দেখিনি। যুক্তফ্রন্ট ভাঙার পর ভোরবেলা পুলিশ এল। মা বললেন, ‘অসুস্থ শরীরে এখন যেতে দেব না।’ দু ঘণ্টা পরে চা খেয়ে বাবা গেলেন। ভীতি তেমন ছিল না। একদিন দুপুরবেলা হঠাৎ প্রচুর পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। জানালো, সার্চ করবে। দিদি বললেন, সার্চ ওয়ারেন্ট দেখান। তখন বলল, মাকে ডেকে আনুন। আমি গেলাম। আমার সঙ্গে দুজন আর্মড পুলিশ গেল।
আমার হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার আগের রাতে পুলিশ এল। ভাড়াটে এক ভদ্রলোক তাঁর বাড়িতে একটি ছেলেকে রেখে গেছেন। সে আমাদের বাড়িতে খাচ্ছে।
রাত সাড়ে ৯টা। পুলিশ এসে বলল, ‘আপনার বাবা কোথায়?’ আমি বললাম, ‘খুঁজে নিন।’ পুলিশ ছেলেটিকে ধরে নিয়ে যায়। বাবার ওপর পুলিশের অত্যাচার বুঝতে পেরেছি লালবাজারে। শরীরটা খারাপ দেখে মা দুপুরে ঘুমের কথা বল। বাবা বললেন, ঘুমোব কী করে, দুপুরে তো এরা আসে।

অনিতা মজুমদার : আমার মনে হয়, বাবার ছিল মায়োকার্ডিয়াল ইসকিমিয়া উইথ অ্যানজাইনা। ব্যাপারটা হচ্ছে হার্টে ব্লাড সাপ্লাই কমে যাওয়া। দুবার হার্ট অ্যাটাকও হয়ে গেছে। প্রথম ব্যথা হয় দার্জিলিংয়ে পার্টির মিটিংয়ে গিয়ে। হেঁটে ওপরে ওঠার সময় বুকে অসম্ভব ব্যথা হয়। আমি তখন ফাইভে পড়ি। শিলিগুড়িতে ফিরে আসেন। কালু ডাক্তার ইনজেকশন দেন, সারা রাত ছটফট করেছিলেন। ইনভেস্টিগেশনের জন্য বাবাকে নিয়ে মা কলকাতা যান, অভি সঙ্গে যায়। শত্রুজিৎ দাশগুপ্ত বাবাকে দেখেন, সেই সময় ভীষণ ব্যথা হয় বুকে। সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়_হার্ট অ্যাটাক। এক মাস ভর্তি ছিলেন ফ্রি বেডে। ডাক্তাররা বলে রেস্ট্রিক্টেড লাইফ লিড করতে হবে এবং সিগারেট ছাড়তে হবে। আমি যখন সিক্সে পড়ি তখন সঙ্গে গিয়েছিলাম ন্যাশনাল মেডিক্যালে চেক আপের জন্য। তারপর থেকে অ্যানজাইনার পেইনটা উঠত। তখন কন্ট্রোল করা যেত না; আর তখন তো এই রকম ওষুধ বেরোয়নি।
আমি তখন ন্যাশনাল মেডিক্যালের ছাত্রী। দোতলায় দিদিদের সঙ্গে ক্লাস করছিলাম, এমন সময় একজন কেউ এসে আমাকে বললেন, আমার ভিজিটর এসেছে। শুনে ভীষণ আশ্চর্য হলাম, কারণ দীর্ঘ ছয় মাসের মধ্যে আমার কোনো ভিজিটর আসেনি এবং আমার ক্লাসের বা হোস্টেলের কেউ জানতও না, যে আমার বাবাই চারু মজুমদার। যে দু-একজনকে বলেছিলাম তারাও বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রেখেছিলেন। যাই হোক, আমি করিডর দিয়ে যাচ্ছি, এমন সময় একজন আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেলেন, তোমার বাবা মারা গেছেন_ তাঁকে চিনতে পারলাম না। নিচে নেমে এসে দেখলাম পুলিশ আমার জন্য অপেক্ষা করছে, তাঁরা আমাকে জানাল, আপনার বাবা মারা গেছেন, আপনি তাকে দেখতে যাবেন কি? দিদিরা কেউ কেউ বলল, না ওদের সঙ্গে যেতে হবে না, ওরা চলে গেলে আমরাই তোকে পেঁৗছে দেব। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওরা আমাকে বলল, দেখ, ওরা তোকে না নিয়ে যাবে না, তারা নিচে এখনো অপেক্ষা করছে; ফলত আমি পুলিশের সঙ্গেই রওনা হয়ে গেলাম। ওরা আমাকে লালবাজারে নিয়ে গেল; সেখানে আমাকে জানানো হলো, চারুবাবুকে অসুস্থতার কারণে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তিনি মারা গেছেন। তারপর ওরাই আমাকে সেখানে নিয়ে গেল। দেখি ওঁর মৃতদেহ, বুকের পের একটি কাগজে মৃত্যুর কারণ লেখা একটি স্লিপ লাগানো রয়েছে। কোথাও কোনো রকম অত্যাচারের চিহ্ন লক্ষ করিনি। সে সময় পোস্টমর্টেম হয়নি। সে সময় আমার পরিবারের আমি একাই ছিলাম সেখানে। আমার কাছে বাবার মৃত্যু রহস্যজনক যে যে কারণে, সেগুলো :
১. মর্গ থেকে যখন ওঁর শবদেহ গাড়িতে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছিল ওরা, ঠিক সেই মুহূর্তে চারদিকের আলো নিভে গেল। ৫-৬ মিনিট বাদেই আলো জ্বলতেই দেখি ওঁর শবদেহ গাড়িতে তোলা হয়ে গেছে।
২. আমাকে যখন ওরা এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন এক পুলিশ অফিসার অন্য একজনকে খুব সাধারণভাবেই বলে ফেলেছিলেন, ‘শেষমুহূর্ত পর্যন্তও চারুবাবু মাথা নোয়ালেন না।’
৩. আমরা শবদেহ শিলিগুড়ি নিয়ে আসতে চাইলে ওরা আমাদের কথায় রাজি হয়নি।
৪. মর্গ থেকে কেওড়াতলা শ্মশান পর্যন্ত শবদেহের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাপড় বাঁধা ছিল এবং শ্মশানে আমার ছোটভাই মুখাগি্ন করল বা শবদেহ ফার্নেসে ঢোকানো হলো পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাপড় বাঁধা অবস্থাতেই। ওরা আমাদের বলেছিল পুরোহিত ডাকবে কি না; আমরা সে সময়ে পুরোহিতের প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনি।

মধুমিতা মজুমদার : আমি ও আমার মা ওঁর গ্রেপ্তারের পর অসুস্থতার কারণে দেখা করতে যাই ছোট ভাই অভিকে নিয়ে (অভিজিৎ মজুমদার)। শেষবার যেদিন আমরা লালবাজার থেকে চলে আসছি, পেছন পেছন কয়েকজন পুলিশ অফিসার বাইরে পর্যন্ত আমাদের জিজ্ঞেস করতে করতে চলে এসেছিল_’ওর যদি কিছু হয়ে যায় তবে আপনাদের কোন ঠিকানায় খবর দেব।’ সেদিনই আমার ও আমার মায়ের মনে সন্দেহ হয়, কিছু একটা অঘটন হতে চলেছে। ওঁকে দাহ করে আমরা যখন চলে আসি, প্রচুর সাংবাদিক আমাদের স্টেশন পর্যন্ত ধাওয়া করে বারবার একই কথা জানতে চাইছিলেন, আমার বাবাকে মেরে ফেলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমরা কী মনে করছি। কেউ কেউ ভীষণ ব্রুটাল বিহেভ করে ফেলেছিলেন আমাদের সঙ্গে। কিন্তু সে মুহূর্তে কাউকে কোনো উত্তর দেওয়ার মতো মানসিকতা ছিল না আমাদের। তবে আমরা, মানে আমাদের পরিবারের সবাই সেদিনও একমত ছিল, আজও একমত, আমার বাবাকে ওরা মেরে ফেলেছে।

সূত্রঃ   ‘এবং জলার্ক’ পত্রিকা থেকে


বাংলাদেশঃ আজ কমরেড ‘চারু মজুমদার’ স্মরণে গণমুক্তির গানের দলের অনুষ্ঠান

11754947_1609321512651823_1220878069016241731_n

 

11754674_1609321805985127_8228803210662647735_o


আজ পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা)র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ টুটুলের শহীদ দিবস

ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুল
ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুল

গত ২৭ জুলাই ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের হাতে তথাকথিত ক্রসফায়ারে নিহত মাওবাদী কমরেড ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুল ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় তিনি বোর্ড-স্ট্যাণ্ড করেন। এর পরে তিনি ডাক্তারী পড়ার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। মেডিক্যাল কলেজের সব থেকে মেধাবী এ-ছাত্রটি সাম্যবাদী আদর্শে দীক্ষিত হয়ে সমাজ বদলের সশস্ত্র ধারার রাজনীতি পূর্ব-বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন।

শহীদ ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুল
শহীদ ডাঃ মিজানুর রহমান টুটুল

ডাঃ টুটুল সশস্ত্র মাওবাদী ধারার রাজনীতিতে দ্রুত জনপ্রিয় সাংগঠনিক ও তাত্ত্বিক নেতায় পরিণত হন। এবং খুব অল্প সময়েই পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) বাংলাদেশের বৃহত্তম মাওবাদী দলে পরিণত হয়। ২০০২ সালে দলের অপর তাত্ত্বিক নেতা মোফাখকার চৌধুরীর সাথে বিপ্লবের প্রশ্নে দ্বিমত পোষণ করে দল ছেড়ে বেরিয়ে এসে গঠন করেন পূর্ব-বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা; পরবর্তীতে যা লাল পতাকা নামে অধিক পরিচিত)।

images

১৯৮৫ সালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন টুটুল। এরপর অল্প কিছু দিনের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে চাকরী করেন তিনি। ঝিনাইদহ কৌট চাঁদপুরের এলেঙ্গায় উচ্চবিত্ত এক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন টুটুল। টুটুলের বাবা দাউদ হোসেন বেঁচে না থাকলেও ৮০ বছরের বৃদ্ধা নভেরা খাতুন এখোনো বেঁচে আছেন। এক মাত্র বোন নুরজাহান বেবীর বিয়ে হয়ে গেছে বেশ আগেই। অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে টুটুল অপরের উপকার করতে গিয়ে নিজেদের জমিজমার প্রায় সবটুকু বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

টুটুল বিয়ে করেছিলেন খুলনা ফুলতলা উপজেলার দামোদার গ্রামে। গোপন বিপ্লবী জীবনের কারণে বিয়ের কিছুদিন পরে স্ত্রী লুসি খানম তাকে ছেড়ে চলে যায়। পিতুল নামে টুটুলের একটি ছেলে রয়েছে। পিতুল বর্তমানে ঢাকায় পড়াশোনা করছে।

বৃদ্ধা মায়ের আকুতি বাঁচাতে পারলো না টুটলকে

টুটুলের মা নভেরা খাতুনের বক্তব্য অনুযায়ী ২৬ জুলাই কোট চাঁদপুর পুলিস বাড়ীতে এসে টুটুলকে গ্রেফতারকরার খবর জানায়। এরপর টুটলের মা প্রায় ২শো মানুষ সাথে নিয়ে ঝিনাইদহ ডিসির কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। স্মারকলিপিতে নভেরা খাতুন উল্লেখ করেন যে, তার ছেলে কোনো সন্ত্রাসী নয়। কোনো খুনের সাথে জড়িত নয়। এলাকায় ভালো মানুষ ও দয়ালু ডাক্তার হিসেবে টুটুলের সুনাম রয়েছে। ছেলেকে ক্রসফায়ারে না দিয়ে বিচারের মুখোমুখি জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান মা নভেরা খাতুন। কিন্তু টুটুলের মায়ের এ-আর্তি ডিসি গ্রহণ করেনি। শেষ পযর্ন্ত ছেলের প্রাণের জন্য নভেরা খাতুনকে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদসম্মেলন করতে হয়। রাষ্ট্রের কানে টুটুলের মায়ের হাহাকার গিয়ে শেষ পযর্ন্ত পৌছায়নি। ২৭ জুলাই ভোর রাতে তথাকথিত ক্রসফায়ারের টুটুলকে হত্যা করা হয়।

একই গল্পঃ মানুষ আর বিশ্বাস করছে না

সংবাদপত্রে ক্রসফায়ারে মৃত্যুর সংবাদ সব দিনের জন্য সব পত্রিকার জন্য সমান। একই সংবাদ শুধু ভিকটিমের নাম ও স্থান পাল্টে যায়। গল্পটা প্রত্যেকবার হয় মোটামুটি এ-রকমঃ

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গোপন আস্তানা বা অস্ত্রের সন্ধান দেয়ার জন্য আটক রাখার স্থান থেকে বাইরে নিয়ে যায় র‍্যাব বা পুলিশ। এ-সময় আটক ব্যক্তিটিকে মুক্ত করে নেয়ার জন্য ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আক্রান্ত হবার কারণে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পালটা গুলি চালাতে হয়। গোলাগুলির সময় পালাতে গিয়ে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিটি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

রাষ্ট্রের দেয়া এহেন বক্তব্যের আদৌ কোনো গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে নেই। সকলেই জানে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিটিকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে সরকারী বাহিনীর সদস্যরা। ডাঃ টুটুলের ক্ষেত্রেও ঘটানো হয়েছে একই ঘটনা। দেয়া হয়েছে একই বক্তব্য।

জামাত-বিএনপি আমলে গঠিত র‌্যাবের হাতে ২০০৮ পযর্ন্ত ৪১৯টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫১১ জন। র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৪৮টি ঘটনায় ক্রসফায়ারে ২৮৪ জন এবং ১৭১টি ঘটনায় এনকাউন্টারের ঘটনায় ২২৭ জন মারা গেছে। এর বাইরে আরও ২১ জন রাাব হেফাজতে মারা গেছে। র‍্যাবের দাবী হার্ট এট্যাকে মারা গেছে এরা।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রধান ও সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালের মতে, ৫০০ বার একই ধরণের ঘটনা কীভাবে ঘটলো? রাষ্ট্রের হেফাজতে বার-বার মানুষ মারা যাচ্ছে এটা কাম্য হতে পারে না। আইনে বলা আছে আটক হওয়ার পর ওই লোকটির নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। তা তারা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতে, রাষ্ট্র যখন ক্রমাগতভাবে বিনা বিচারে হত্যার কারণ হয়, তখন সেই রাষ্ট্রে আইন ও সাংবিধানিক শাসনের সম্ভাবনা সুদূরপরাহত হয়ে যায়। এসব বাক্যকে অবশ্য বুর্জোয়া নীতি বাক্য হিসাবেই দেখছেন অনেকে। একাধিক বামপন্থী-কর্মী একান্ত আলাপে জানা যায়, টুটুলকে হত্যা করা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। কারণ তাঁর বেঁচে থাকাটা রাষ্ট্রের জন্য বিপদজনক ছিলো। এরা মনে করেন নেপাল ও ভারতে মাওবাদী আন্দোলনের বিকাশ ও সাফল্য দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় সম্প্রসারনবাদ। এ-কারণেই বাংলাদেশে আণ্ডারগ্রাউন্ড বামদের নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সূত্রঃ http://www.ukbengali.com/MainNews/MN2008/MN200808/MN20080802-Who-was-Dr-Tutul.htm


যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পিপার স্প্রে নিক্ষেপ

cleveland27n-3-web

cleveland27n-1-web

cleveland27n-2-web

2dagYwUeER210VLI

cl

DLX91_BgpbWNiBHf

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের সঙ্গে অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

রোববার ভয়াবহ সংঘর্ষের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ওপর পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধ করে রাখায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পিপার স্প্রে ছোড়ে তারা। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ফার্গুসন ও বাল্টিমোরের মতোই ক্লিভল্যান্ডে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ।

এদিকে গত সপ্তাহে ক্লিভল্যান্ডের স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পুলিশ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে অংশ নেয়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সামাজিক আন্দোলন কর্মীরা মার্কিন পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে বলে জানায় গণমাধ্যম।

সূত্রঃ http://www.huffingtonpost.com/entry/cops-pepper-spray-black-lives-matter-protestors-in-cleveland-reports_55b55998e4b0a13f9d18e364


জার্মানিতে গণযুদ্ধের জন্য সমর্থন

1

2

3

4

5

বার্লিন, হামবুর্গ এবং কলনের রাস্তায় আন্দোলন

বার্লিন, হামবুর্গ এবং কলনের রাস্তায় আন্দোলন

 

বার্লিনে সংহতি ইভেন্ট

বার্লিনে সংহতি ইভেন্ট


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ বারিকুলে মাওবাদী পোস্টার

বারিকুলের শুশুনিয়া গ্রামে মাওবাদীদের পোস্টার

বারিকুলের শুশুনিয়া গ্রামে মাওবাদীদের পোস্টার

বেলপাহাড়ির পরে বারিকুল। কিষেণজিকে ‘হত্যার প্রতিবাদে’ ফের মাওবাদী পোস্টার মিলল জঙ্গলমহলে। বেলপাহাড়িতে ছিল তাড়াহুড়োর ছাপ। বারিকুলের ক্ষেত্রে মাওবাদীদের প্রস্তুতি ও স্থানীয়দের সমর্থনের ছাপ বেশ স্পষ্ট।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মাওবাদী শীর্ষনেতা কিষেণজিকে ‘হত্যা’ করেছে বলে সপ্তাহখানেক আগে বেলপাহাড়ির এক সভায় মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে জোর রাজনৈতিক তরজা চলেছে গত ক’দিন। কিন্তু সে দিনের ওই সভার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সভাস্থল থেকে ১২-১৫ কিলোমিটার দূরে কয়েকটি গ্রামের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল মাওবাদীদের পোস্টার। সাদা কাগজে আলতা দিয়ে তড়িঘড়ি লেখা। রবিবার সকালে দেখা যায় বারিকুলের বিভিন্ন গ্রামের দেওয়ালে, গাছে সাঁটা রয়েছে পোস্টার। রয়েছে কিছু ব্যানারও। তার চেয়েও যেটি লক্ষ্যণীয়, পোস্টার সাঁটা হয়েছে বাঁকুড়ার বারিকুল থানা, মন্ডলডিহা ফাঁড়ির পাশেই। এ ছাড়াও পোস্টার পাওয়া গিয়েছে শুশুনিয়া, রসপাল, ভেলাবাঁধি, সুতান, মাজগেড়িয়া, ঝিলিমিলি-সহ কয়েকটি গ্রামে। পোস্টারগুলি সিপিআই-মাওবাদীর নামে লেখা। বক্তব্য, ‘কিষেণজি অমর রহে’ এবং ‘কিষেণজিকে হত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’।

শুশুনিয়া গ্রামের চৌরাস্তার পাশে একটি গাছে জড়ানো লাল শালুর উপর সাদা কালিতে লেখা পোস্টারে আবার ডাক দেওয়া হয়েছে, ‘২৮ জুলাই থেকে ৩ অগস্ট ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে শহিদ সপ্তাহ পালন করুন’। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পোস্টারগুলি ছিঁড়ে ফেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরে বেলপাহাড়ির শিমুলপাল এলাকার গ্রামগুলিতে যে সব পোস্টার মিলেছিল, তাতেও শহিদ সপ্তাহ পালনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, কিষেণজিকে ‘ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা’ করার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

কিছু দিন ধরেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের গোয়েন্দা-কর্তারা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে ফের মাওবাদী তৎপরতা শুরু হয়েছে। পোস্টারে শুধু নয়, মাওবাদীদের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় স্থানীয় সমস্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আড়ালে থেকে তাঁদের সংগঠিত করার মতো ঘটনায়। সাম্প্রতিক তেমন কিছু ঘটনা গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে এ রাজ্যে। সাধারণ ভাবে মাওবাদী সংগঠনের সদস্যরা স্থানীয় ভাবে কাজ করলেও দায়িত্বে থাকেন কোনও পলিটব্যুরো স্তরের নেতা বা নেত্রী। এক সময় যেমন ছিলেন কিষেণজি। রাজ্য পুলিশকে যেটা ভাবাচ্ছে তা হল, এতগুলি গ্রামে এক রাতে পোস্টার দিতে গেলে স্থানীয় স্তরে সমর্থনের প্রয়োজন হয়। সেটা চিন্তার। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, এ সবের ছক কষে দিচ্ছেন কে? সে ব্যাপারে এখনও অন্ধকারে পুলিশ।

প্রাক-লালগড় আন্দোলন পর্বে জঙ্গলমহলের যে-সব জায়গা মাওবাদী নাশকতার মানচিত্রে উপরের দিকে ছিল, বারিকুল তার অন্যতম। ২০০৬ সালে মাওবাদীদের ‘বুবি ট্র্যাপ’ বুঝতে না পেরে বারিকুল থানার ওসি প্রবাল সেনগুপ্ত বিস্ফোরণে নিহত হন। ২০০৫ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বারিকুল থানা এলাকায় খুন হন সিপিএমের এক ডজনেরও বেশি নেতা কর্মী ও তাঁদের আত্মীয়। খুন হয়েছেন পুলিশকর্মীও। তাই বিধানসভা ভোটের বছরখানেক আগে বারিকুলে এই পোস্টার-ব্যানার উদ্ধারকে তাই হাল্কা ভাবে নিচ্ছে না পুলিশ-প্রশাসন ও শাসক দলের একাংশ। বারিকুলের এক-দু’টি পোস্টার সাঁটা হয়েছে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন ও তাদের প্রতীক চিহ্নের উপরে। রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের এক শীর্ষকর্তা বলেন, ‘‘বারিকুলের ওই তল্লাটে মাওবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীলরাই ওই পোস্টার দিয়েছে। বাইরে থেকে  এসে কারও পক্ষে এমনটা করা সম্ভব নয়। তারা কারা, সেটা চিহ্নিত করাই এখন চ্যালেঞ্জ।’’

বাঁকুড়ার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার অনুপ জায়সবালের মোবাইলে এ দিন দুপুরে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তবে, জেলা গোয়েন্দা দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতেই মাওবাদীদের লিঙ্কম্যানরা এই কাজ করে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের।’’ ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে গত চার বছরে কেউ খুন হননি। মাওবাদীদের পোস্টার, ব্যানারও দেখা যায়নি। কিন্তু, এ দিনের ঘটনায় জঙ্গলমহলের এক তৃণমূল নেতার স্বীকারোক্তি, “শনিবার রাতে যে ভাবে একযোগে এতগুলি পোস্টার-ব্যানার সাঁটা হয়েছে তাতে স্পষ্ট, গ্রামে গ্রামে নতুন করে সংগঠন গড়ছে মাওবাদীরা। এটাই চিন্তার।’’

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/government-sees-challenge-from-maoist-poster-at-barikul-1.183004