‘বাবাকে যেমন পেয়েছি’- কমরেড চারু মজুমদার স্মরণে

charu-mazumdar

আজ ২৮ শে জুলাই ভারতের মাওবাদী তথা নকশাল আন্দোলনের প্রাণপুরুষ কমরেড চারু মজুমদারের শহীদ দিবস। আজ ২৮ শে জুলাই থেকে ৩রা আগস্ট পর্যন্ত ৭ দিন ব্যাপী শহীদ সপ্তাহ পালনের ডাক দিয়েছে সিপিআই(মাওবাদী)।  

cm-sd-src

নকশাল আন্দোলনের প্রাণপুরুষ হিসেবে কমরেড চারু মজুমদার ছিলেন ভারতের জীবন্ত কিংবদন্তী। ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই কলকাতার পুলিশ গ্রেপ্তার করে তাঁকে, ২৮ জুলাই পুলিশ হেফাজতেই তাকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর ওজন ছিল মাত্র ৯৬ পাউন্ড। মৃত্যুর ৪৪ বছর পরও তাঁর দেখানো মাওবাদী সশস্ত্র সংগ্রামে কাঁপছে ভারত। আজ চারু মজুমদারের মৃত্যুর ৪৪ বছর পার হবে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে সামনের সময় আরো কথা উঠবে, চলবে আরো আলোচনা। রাজনীতির চশমায় নয়, সন্তানদের চোখে চারু মজুমদারকে দেখা যাক এক ঝলক। তাঁর ৩ সন্তান অনিতা মজুমদার, মধুমিতা মজুমদার ও অভিজিৎ মজুমদার- এর স্মৃতিতে কেমন ছিলেন তাঁদের বাবা?

মধুমিতা মজুমদার : বাবাকে আমরা খুব যে বেশি পেয়েছি, তা নয়। রাজনৈতিক কাজে খুব ব্যস্ত থাকতেন, কিন্তু তাঁর একটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিল, যখন বাড়িতে থাকতেন, আমাদের খুবই সময় দিতেন। ছোটবেলায় আমার মাকে ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হতো, শীতকালে জামাকাপড় পরানো থেকে শুরু করে, বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে কি না, বাবা তাও নজর রাখতেন। ছোটবেলা মার চেয়ে বাবাকে অনেক বেশি কাছে পেয়েছি; ক্লাস নাইনে ওঠার পর জোর দিলেন_আমাকে শাড়ি পরতে হবে। সেই সময়ের যে রকম ফ্যাশন সেইভাবে শাড়ি পরিয়ে দিতেন। মা সময় পেতেন না বলে বাবা চুলও বেঁধে দিতেন, বলতেন এমন কোনো কাজ করবে না যাতে রাস্তার লোকে খারাপ বলে। বাড়িতে তিনটা পর্যন্ত সবাইকে থাকতে হবে, তারপরে যেখানে হোক যেতে পারে। খেলতে গেলে চটি ফেলে আসতাম আমি, পরে বাড়ি এসে মনে পড়ত। এরকম দু-তিন জোড়া হারানোর পর মা খুব বকুনি দিচ্ছে। বাবা গম্ভীর হয়ে বললেন, আজ যদি চটি খুঁজে না পাও তাহলে তোমার মুণ্ডু একদিকে থাকবে, হাত-পা একদিকে থাকবে। আমি তো বেরিয়ে চটি খুঁজে না পেয়ে মাঠের মধ্যে একটা চাঁপাগাছের তলায় বসে আছি। ভাবছি মুণ্ডু আর হাত-পা আলাদা হয়ে যাবে। ওদিকে তখন তিনটে বাজেনি, দিদি আমাকে খুঁজতে এসেছে। বাবা মারবেন আমাদের তিনটের আগে বেরিয়েছি বলে। তা তখন কিছু বললেন না। সন্ধ্যাবেলা ধরলেন, কেন তিনটের আগে বেরিয়েছি। বললাম, ‘তুমি বলেছো মুণ্ডু একদিকে, হাত-পা একদিকে করে দেবে!’ বাবা হেসে আদর করে বললেন, ‘সে তো মজা করে বলেছিরে।’ খুব আদর করলেন তখন। আমাকে লিপি বলে ডাকতেন। অভিজিৎকে অভি আর দিদিকে অনিতা বলেই ডাকতেন, তাই ওরা অভিযোগও করত।

অনিতা মজুমদার : ব্যক্তিজীবনে একদম রাশভারি ছিলেন না। খুব আমুদে ছিলেন। আমরা যথেচ্ছভাবে কোলে উঠেছি, ঘাড়ে চড়েছি। দুপুরে বারোটায় খেয়েদেয়ে আমরা সবাই শুয়ে পড়তাম। তিনটের সময় বাড়িতে চা হতো। আমাদের তখন একটা বড় কাঠের ঘর ছিল। বাথরুম ছিল। এই ঘরেই দাদু ছিলেন। পাশের ঘরটাতে আমরা পড়তাম। আমাদের যতই কাজ থাক, সাধারণভাবে কেউ এলে আমরা বড় ঘরে যেতাম না। প্রচুর কাকু দেখেছি আমরা_রাতে হয়তো সেদ্ধ ভাত খেলেন; কাউকে কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হতো না। মা অনেক সময় নিজের খাবার দিয়ে দিতেন। সকাল আটটা থেকে লোক আসত। একবার চা করে বাসন ধুতে না ধুতে আবার চা করতে হতো। বাবাকে আমরা যখন পেয়েছি, তখন তিনি অসুস্থ। তাঁর স্বাস্থ্যই পারমিট করত না নিয়মের বাইরে যেতে। কালু ডাক্তার বাবার বন্ধুও ছিলেন। বাবা যাতে সিগারেট ছাড়েন, সেই জন্য কালু ডাক্তার নিজে সিগারেট ছেড়ে দিয়েছিলেন। বাবা নিয়ম মানার লোক ছিলেন না। আবার সিগারেট ধরলেন।
আমি যখন নাইনে উঠলাম বাবা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী হবে’? ‘আমি বললাম, ডাক্তার।’ বাবা বললেন, ‘দেখ, আমি তোমার জন্য প্রাইভেট টিউটর রাখতে পারব না। তুমি যদি চান্স পাও, তোমার মা যদি পয়সা দিয়ে চালাতে পারেন, তাহলে তুমি পড়বে।’ আমি দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজে ফিজিক্স অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। হোস্টেলের নিয়মকানুন ভালো লাগল না। সাতদিন বাদে পালিয়ে চলে এলাম। মাকে সবাই বলেছিল, আনবে না। বাপি বলতেন, ও কলকাতায় যাক। আমি শিলিগুড়ি কলেজের ইংরেজি অনার্সের ফর্ম নিয়ে বসে আছি। একদিন সকালে কালু ডাক্তার রিকশা করে এসে খবর দিলেন, আমি ন্যাশনাল মেডিক্যালে চান্স পেয়েছি। এরকম কথা চালু হয়েছিল যে কালু ডাক্তার কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি করেছেন। অনেকে ভাবত কালুবাবু মাকে মাসে মাসে টাকা দিতেন। আমার মা জীবনে ওঁর কাছ থেকে টাকা নেননি। আমার খুব ছোটবেলায় বাবা জেলে ছিলেন। আমি যখন ফাইভে পড়ি তখন বাবা ফিরে আসেন। ফাইভে আমি অঙ্কে পঁচিশে চার পেয়েছি! আমি মামাত বোনকে বলেছিলাম, আমি ঘুমিয়ে পড়লে বাবাকে বলবে। বাবা আমাকে অঙ্ক করাতেন। অন্যমনস্ক হলে গাঁটে মারতেন পেন্সিল দিয়ে। আমাদের পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত ঘরভর্তি লোক_তার মধ্যেই পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতাম।

মধুমিতা মজুমদার : টেনশন হতো অন্য কারণে। হয়তো দুদিন ধরে এই কাকু আসছেন না। পরে জানা গেল, মারা গেছেন। এ রকম অভাব বোধ করতাম। স্কুলে, বাইরে কেউ আমাদের সঙ্গে মিশত না। ওই অবস্থা মেনে নিয়ে চলতে হতো।
বাবা গানে খুব উৎসাহ দিতেন। গান না শিখলেও কি রাগ বলে দিতে পারতেন। ওঁর ইচ্ছে ছিল আমি ক্লাসিক্যাল ভালোভাবে শিখি। পরে জলপাইগুড়ি থেকে এসে শিলিগুড়ির মিত্র সংঘের সভ্য হন। ওখানে নাটকের ডিরেকশন দিতেন, আবৃত্তি শেখাতেন, নিজে আবৃত্তি করতেন। পরের দিকে শুধু ক্লাসিক্যাল নয়, আধুনিক গানের কথাও বলতেন। ‘ফিরে এসো অনুরাধা’ গাইতে শুনেছি। আন্ডারগ্রাউন্ডে যখন শেষবার দেখা হলো বললেন, ‘গান গা তো’। খুব মন দিয়ে শুনলেন। পড়ার ক্ষেত্রে আধুনিক উপন্যাসও পড়তেন। ওর বন্ধুর দেওয়া হ্যারল্ড রবিন্সের বই পড়েছেন।

অনিতা মজুমদার : শেষ দেখা ১৯৭১ সালে। তখন খুব অসুস্থ ছিলেন। দেখা করার জন্য সৌরেন বসুর বাড়িতে উঠি। দেখা মানে কিছুই না_সকালবেলা তিনি এলেন, পরের দিন ভোরবেলা চলে গেলেন। পার্টি কংগ্রেসের কথা বললেন। বললেন, তোমাকে আনতে চেয়েছিলাম। একজন শ্রমিক নেতা সম্পর্কে খুব উৎসাহ দেখিয়েছিলেন। নাম অবশ্য বলেননি। আমি গেলে বাবার কাছে বসে থাকতাম, লোকজন এলে কথাবার্তা বলতাম। সেদিন বলেছিলেন লোকে কি রকম উৎসাহিত হচ্ছে। আমি সাউথে গেছি। এক মহিলা তার স্বামীকে বলেছিলেন, ভদ্রলোক যদি এত অসুস্থতা নিয়ে এত কিছু করতে পারেন তাহলে তুমি পারবে না কেন? এর পথেই তোমাকে যেতে হবে। একবার ভোট বয়কটের মিছিলে গিয়েছিলাম। বাবা খুব খুশি। খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন সব। আর একবার দেওয়ালে লিখেছি। বাবা শুনে খুব খুশি হলেন।
শিলিগুড়িতে একটা কিছু করতে হলে বাবা না থাকলে কালু ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করতাম; কিন্তু তার বাইরে ছিল পার্টি। পার্টি যা বলবে তাই আমাদের করতে হবে, তাই বলতেন। তবে পার্টির কারো নাম নির্দিষ্ট করে বাবাও বলতেন না। সমর জেঠু, অমর সরকার আমাদের খুব সাহায্য করতেন। বাবা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাওয়ার পর আমাদের মুভেবল প্রপার্টিগুলো সিজ করে নেওয়া হলো। তখন বাড়ির সামনে জমিটুকু নিয়ে মা চিন্তায় পড়ে গেলেন। ওটা কেড়ে নিলে আমরা কী করব! সমর জেঠু জমিটা বিক্রি করার জন্য খুব সাহায্য করেছেন আমাদের।

মধুমিতা মজুমদার : পুলিশের অত্যাচার তেমন কিছু দেখিনি। যুক্তফ্রন্ট ভাঙার পর ভোরবেলা পুলিশ এল। মা বললেন, ‘অসুস্থ শরীরে এখন যেতে দেব না।’ দু ঘণ্টা পরে চা খেয়ে বাবা গেলেন। ভীতি তেমন ছিল না। একদিন দুপুরবেলা হঠাৎ প্রচুর পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। জানালো, সার্চ করবে। দিদি বললেন, সার্চ ওয়ারেন্ট দেখান। তখন বলল, মাকে ডেকে আনুন। আমি গেলাম। আমার সঙ্গে দুজন আর্মড পুলিশ গেল।
আমার হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষার আগের রাতে পুলিশ এল। ভাড়াটে এক ভদ্রলোক তাঁর বাড়িতে একটি ছেলেকে রেখে গেছেন। সে আমাদের বাড়িতে খাচ্ছে।
রাত সাড়ে ৯টা। পুলিশ এসে বলল, ‘আপনার বাবা কোথায়?’ আমি বললাম, ‘খুঁজে নিন।’ পুলিশ ছেলেটিকে ধরে নিয়ে যায়। বাবার ওপর পুলিশের অত্যাচার বুঝতে পেরেছি লালবাজারে। শরীরটা খারাপ দেখে মা দুপুরে ঘুমের কথা বল। বাবা বললেন, ঘুমোব কী করে, দুপুরে তো এরা আসে।

অনিতা মজুমদার : আমার মনে হয়, বাবার ছিল মায়োকার্ডিয়াল ইসকিমিয়া উইথ অ্যানজাইনা। ব্যাপারটা হচ্ছে হার্টে ব্লাড সাপ্লাই কমে যাওয়া। দুবার হার্ট অ্যাটাকও হয়ে গেছে। প্রথম ব্যথা হয় দার্জিলিংয়ে পার্টির মিটিংয়ে গিয়ে। হেঁটে ওপরে ওঠার সময় বুকে অসম্ভব ব্যথা হয়। আমি তখন ফাইভে পড়ি। শিলিগুড়িতে ফিরে আসেন। কালু ডাক্তার ইনজেকশন দেন, সারা রাত ছটফট করেছিলেন। ইনভেস্টিগেশনের জন্য বাবাকে নিয়ে মা কলকাতা যান, অভি সঙ্গে যায়। শত্রুজিৎ দাশগুপ্ত বাবাকে দেখেন, সেই সময় ভীষণ ব্যথা হয় বুকে। সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়_হার্ট অ্যাটাক। এক মাস ভর্তি ছিলেন ফ্রি বেডে। ডাক্তাররা বলে রেস্ট্রিক্টেড লাইফ লিড করতে হবে এবং সিগারেট ছাড়তে হবে। আমি যখন সিক্সে পড়ি তখন সঙ্গে গিয়েছিলাম ন্যাশনাল মেডিক্যালে চেক আপের জন্য। তারপর থেকে অ্যানজাইনার পেইনটা উঠত। তখন কন্ট্রোল করা যেত না; আর তখন তো এই রকম ওষুধ বেরোয়নি।
আমি তখন ন্যাশনাল মেডিক্যালের ছাত্রী। দোতলায় দিদিদের সঙ্গে ক্লাস করছিলাম, এমন সময় একজন কেউ এসে আমাকে বললেন, আমার ভিজিটর এসেছে। শুনে ভীষণ আশ্চর্য হলাম, কারণ দীর্ঘ ছয় মাসের মধ্যে আমার কোনো ভিজিটর আসেনি এবং আমার ক্লাসের বা হোস্টেলের কেউ জানতও না, যে আমার বাবাই চারু মজুমদার। যে দু-একজনকে বলেছিলাম তারাও বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রেখেছিলেন। যাই হোক, আমি করিডর দিয়ে যাচ্ছি, এমন সময় একজন আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেলেন, তোমার বাবা মারা গেছেন_ তাঁকে চিনতে পারলাম না। নিচে নেমে এসে দেখলাম পুলিশ আমার জন্য অপেক্ষা করছে, তাঁরা আমাকে জানাল, আপনার বাবা মারা গেছেন, আপনি তাকে দেখতে যাবেন কি? দিদিরা কেউ কেউ বলল, না ওদের সঙ্গে যেতে হবে না, ওরা চলে গেলে আমরাই তোকে পেঁৗছে দেব। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওরা আমাকে বলল, দেখ, ওরা তোকে না নিয়ে যাবে না, তারা নিচে এখনো অপেক্ষা করছে; ফলত আমি পুলিশের সঙ্গেই রওনা হয়ে গেলাম। ওরা আমাকে লালবাজারে নিয়ে গেল; সেখানে আমাকে জানানো হলো, চারুবাবুকে অসুস্থতার কারণে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তিনি মারা গেছেন। তারপর ওরাই আমাকে সেখানে নিয়ে গেল। দেখি ওঁর মৃতদেহ, বুকের পের একটি কাগজে মৃত্যুর কারণ লেখা একটি স্লিপ লাগানো রয়েছে। কোথাও কোনো রকম অত্যাচারের চিহ্ন লক্ষ করিনি। সে সময় পোস্টমর্টেম হয়নি। সে সময় আমার পরিবারের আমি একাই ছিলাম সেখানে। আমার কাছে বাবার মৃত্যু রহস্যজনক যে যে কারণে, সেগুলো :
১. মর্গ থেকে যখন ওঁর শবদেহ গাড়িতে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছিল ওরা, ঠিক সেই মুহূর্তে চারদিকের আলো নিভে গেল। ৫-৬ মিনিট বাদেই আলো জ্বলতেই দেখি ওঁর শবদেহ গাড়িতে তোলা হয়ে গেছে।
২. আমাকে যখন ওরা এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন এক পুলিশ অফিসার অন্য একজনকে খুব সাধারণভাবেই বলে ফেলেছিলেন, ‘শেষমুহূর্ত পর্যন্তও চারুবাবু মাথা নোয়ালেন না।’
৩. আমরা শবদেহ শিলিগুড়ি নিয়ে আসতে চাইলে ওরা আমাদের কথায় রাজি হয়নি।
৪. মর্গ থেকে কেওড়াতলা শ্মশান পর্যন্ত শবদেহের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাপড় বাঁধা ছিল এবং শ্মশানে আমার ছোটভাই মুখাগি্ন করল বা শবদেহ ফার্নেসে ঢোকানো হলো পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাপড় বাঁধা অবস্থাতেই। ওরা আমাদের বলেছিল পুরোহিত ডাকবে কি না; আমরা সে সময়ে পুরোহিতের প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনি।

মধুমিতা মজুমদার : আমি ও আমার মা ওঁর গ্রেপ্তারের পর অসুস্থতার কারণে দেখা করতে যাই ছোট ভাই অভিকে নিয়ে (অভিজিৎ মজুমদার)। শেষবার যেদিন আমরা লালবাজার থেকে চলে আসছি, পেছন পেছন কয়েকজন পুলিশ অফিসার বাইরে পর্যন্ত আমাদের জিজ্ঞেস করতে করতে চলে এসেছিল_’ওর যদি কিছু হয়ে যায় তবে আপনাদের কোন ঠিকানায় খবর দেব।’ সেদিনই আমার ও আমার মায়ের মনে সন্দেহ হয়, কিছু একটা অঘটন হতে চলেছে। ওঁকে দাহ করে আমরা যখন চলে আসি, প্রচুর সাংবাদিক আমাদের স্টেশন পর্যন্ত ধাওয়া করে বারবার একই কথা জানতে চাইছিলেন, আমার বাবাকে মেরে ফেলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমরা কী মনে করছি। কেউ কেউ ভীষণ ব্রুটাল বিহেভ করে ফেলেছিলেন আমাদের সঙ্গে। কিন্তু সে মুহূর্তে কাউকে কোনো উত্তর দেওয়ার মতো মানসিকতা ছিল না আমাদের। তবে আমরা, মানে আমাদের পরিবারের সবাই সেদিনও একমত ছিল, আজও একমত, আমার বাবাকে ওরা মেরে ফেলেছে।

সূত্রঃ   ‘এবং জলার্ক’ পত্রিকা থেকে

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.