আইএস বিরোধী যুদ্ধে কুর্দি কমিউনিস্ট নারী গেরিলারা

maxresdefault

কাঁধে ঝুলছে রাইফেল। কোমর–বন্ধনীতে মজুত গ্রেনেড। পুরোদস্তুর যুদ্ধের সাজে তেকোশিন। এক কুর্দি নারী যোদ্ধা তিনি। উত্তর ইরাকের পাহাড়ি অঞ্চলে লড়ছেন ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। তেকোশিনের লক্ষ্য, তাঁর ভাষায়, নারীদের স্বাধীন করা।

আইএসের বিপক্ষে পুরুষের পাশাপাশি লড়াই করছেন তেকোশিনের মতো আরও বেশ কয়েকজন নারী। বিশেষ করে নারীদের প্রতি আইএস জঙ্গিদের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন তাঁরা।

উত্তর ইরাকের মাখমুর পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) যোদ্ধাদের তুমুল লড়াই চলছে এখন।

কট্টর সুন্নি ইসলামপন্থী আইএস যোদ্ধারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরাক ও প্রতিবেশী সিরিয়ার বড় একটা অংশ। আইএস তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শরিয়া আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তাদের ঘোষিত ‘খেলাফত রাষ্ট্রে’ নারী স্বাধীনতার ওপর নেমে এসেছে কঠোর বিধিনিষেধের খড়্গ।

17228524-edc4-433a-bf25-ad2d6afdae6b-1024x768
কুর্দি পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা যোদ্ধা তেকোশিন (২৭) বলেন, ‘আইএস জঙ্গিরা শুধু কুর্দিস্তানের জন্যই হুমকি নয়, এরা নারী স্বাধীনতার ঘোর বিরোধী। নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আইএস জঙ্গিরা নারীদের বাজারে যেতে দেয় না। হিজাব পরতে বাধ্য করে। আর ঠিক এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে নারীদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে। আমরা নারীরা এই জঙ্গিপনা রুখতে চাই।’

পিকেকের অন্তত ৫০ জন নারী যোদ্ধা লড়াই করছেন কুর্দিস্তানের পাহাড়ি মাখমুর শহরে। পিকেকে নিজেও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’। ১৯৮৪ সালে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই শুরু করেছিল তারা। ২০১২ সালে শুরু করে শান্তি আলোচনা।

তেকোশিন জানালেন, সাধারণত একটি দলে চারজন নারী যোদ্ধা থাকে। তিনি এমনই একটি দলের কমান্ডার। লড়াই শুরু হলে পুরুষ যোদ্ধাদের সঙ্গেও যোগ দেন তাঁরা।

বিবাহিতা কিনা জানতে চাইলে হেসে ওঠেন তেকোশিন। তারপর বলেন, ‘বিয়ে করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। এর পরও এখানে বেশির ভাগ নারীই অবিবাহিত। আমি মাত্র ১৪ বছর বয়সে পিকেকেতে যোগ দিয়েছিলাম।’

সূত্র: এএফপি


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ আরো ২ জন মাওবাদী লিঙ্কম্যান গ্রেফতার

image

মাওবাদী লিঙ্কম্যান সন্দেহে পুরুলিয়ার বলরামপুর থেকে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁদের নাম খড়ি হাঁসদা ও মুটরু হাঁসদা। দু’জনেই বলরামপুর থানার খেঁকরিডি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে তাঁদের বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার বলেন, ‘‘সোমবার বলরামপুর থানার মাহালিটাঁড়ের যে তিনজনকে উরমা স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়, তাঁদের জেরা করেই এই দু’জনের নাম পাওয়া গিয়েছে। বাড়ি থেকেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।’’ তাঁর দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে মাওবাদী নামাঙ্কিত ব্যানার ও পোস্টার মিলেছে।’’ উল্লেখ্য, মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে মাওবাদীদের শহিদ সপ্তাহ। সে জন্য সম্প্রতি পোস্টারও পড়ে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায়। তারই সূত্র ধরে ওই পাঁচজনকে ধরা হয়েছে বলে পুলিশ কর্তাদের দাবি।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/district/purolia-birvhum-bankura/police-arrested-two-people-as-maoist-link-man-1.184267


আইএস মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান কুর্দি কমিউনিস্ট গেরিলাদের

147562Image1

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি আইএস মুক্ত এলাকা গঠনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন তুরস্কের কুর্দি কমিউনিস্ট নেতারা। এদিকে কুর্দি গেরিলাদের সাথে কোন ধরনের শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আইএস ও কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি– পিকেকে’র বিরুদ্ধে তুরস্কের বিমান হামলার প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে ন্যাটো।

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সামনে মঙ্গলবার জড়ো হয় শত শত কুর্দি। সিরিয়া সীমান্তে পিকেকে-র অবস্থান লক্ষ্য করে তুরস্কের চালানো বিমান হামলার প্রতিবাদ জানায় তারা। কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আইএস মুক্ত এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের উদ্যোগে কোন ‘সেফ জোন’ গঠন করতে দেয়া হবে না বলেও আওয়াজ তোলে বিক্ষোভকারীরা। বিদেশে যখন এই বিক্ষোভ চলছে তখন তুর্কী সরকারের চালানো বিমান হামলা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে তুরস্কে থাকা কুর্দিদের মাঝে।

কুর্দিরা বলেন, শান্তি আলোচনা বন্ধ করতেই পরিকল্পিত ভাবে এ কাজ করেছে সরকার। কোনো ভাবেই কুর্দিদের বিভক্ত করতে পারবে না তুরস্ক সরকার।

এ-অবস্থায় কমিউনিস্ট পিকেকের সঙ্গে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের বামপন্থী কুর্দি রাজনৈতিক দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান সালেহ্‌আত্তিন দিমিরতাস। আইএস বিরোধী অভিযানের নামে তুরস্ক সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান সালেহ্‌আত্তিন দিমিরতাস বলেন, “সেফ জোন তৈরীর নামে আইএস নয় কুর্দিদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে তুরস্ক সরকার। কুর্দিদের সাথে কোনো ধরণের সমঝোতায় আসতে না পেরে সিরিয়ার ভেতরেই একটি স্বায়ত্বশাসিত এলাকা গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। সেফ জোন গঠন করতে চাইলে কুর্দিদের তাড়িয়ে নয়, সাথে নিয়েই করতে হবে।”

তবে তুরস্কের কুর্দি বিদ্রোহীদের সাথে কোন ধরনের শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। কুর্দিরা তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও ঐক্যের জন্য হুমকিস্বরূপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সাথে তুরস্কের যোগাযোগ আছে বলে আবারও অভিযোগ উঠেছে মার্কিন সরকারি মহল থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, যে প্রেক্ষাপটে তুরস্ক এতদিন পর কুর্দি গেরিলাদের পাশাপাশি আইএস দমনে উদ্যোগী হয়েছে তা বিবেচনায় নিলেই বোঝা যায় আইএস-এর সঙ্গে তুরস্কের যোগাযোগ ছিল। এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে বলেও জানান ঐ মার্কিন কূটনৈতিক।

তবে তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পিকেকের চালানো হামলার নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত বছর অক্টোবরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন।

সূত্রঃ http://rudaw.net/mobile/english/kurdistan/29072015


তুর্কি সরকারের কমিউনিস্ট গেরিলাদের উপর ‘সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযান’ আন্তরিক না লোক-দেখানো ?

dc2c0e0129c6e2f416dc83cc55f533b5_XL

ইউরোপীয় সংসদ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল ও কুর্দি কমিউনিস্ট গেরিলা দল কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি-পিকেকে‘র ওপর হামলা বন্ধ করতে তুর্কি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

উত্তর ইরাকে পিকেকে গেরিলা অবস্থান ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল-এর ওপর তুরস্কের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে এ আহ্বান জানাল ইউরোপীয় সংসদ।
ইউরোপীয় সংসদের মতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল ও পিকেকে‘র মধ্যে গুণগত পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান চীনে তার সফরের প্রাক্কালে পিকেকে‘র সঙ্গে শান্তি আলোচনা অবসানের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি পিকেকে‘র সমর্থক রাজনীতিবিদদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদেরকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার এই হুঁশিয়ারি মূলত পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টিকে লক্ষ্য করে দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দলটিকে পিকেকে‘র সহযোগী দল বলে মনে করা হয়। দলটি সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। আর এ বিষয়টি এরদোগানের মত ব্যক্তিরা হজম করতে পারছেন না।

এরদোগান এটা বোঝাতে চাচ্ছেন যে পিকেকে‘র সঙ্গে আর আলোচনা করা যায় না। কারণ দলটি তুরস্কের স্বার্থ ও অবস্থানের ওপর হামলা করছে। এরদোগান পিকেকে‘র নেতাদের মধ্যে মতবিরোধকেও কাজে লাগাতে চাইছেন যাতে এই দলের গেরিলা অবস্থানে তুর্কি হামলাকে যৌক্তিক বলে দেখানো যায়।

কিন্তু তুরস্কের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি মনে করে দেশটিতে সম্ভাব্য নতুন সংসদ নির্বাচনের আগে কুর্দিদেরকে হতাশ করার জন্যই উত্তর ইরাকে পিকেকে‘র অবস্থানে হামলা চালাচ্ছে এরদোগান সরকার।

সন্ত্রাসবাদ দমনের আড়ালে কুর্দি কমিউনিস্ট দল পিকেকে কে দমনের জন্যই তুর্কি সরকার সিরিয়ায় আইএসআইএল-অবস্থানে হামলা চালিয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। অন্য কথায় তাদের মতে আইএসআইএল-অবস্থানে তুর্কি হামলার বিষয়টি একটি আই-ওয়াশ মাত্র। কারণ, তুর্কি সরকার আইএসআইএল-কে নানা সময়ে অস্ত্রসহ নানা ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে এসেছে বলে নানা তথ্য-প্রমাণ প্রকাশিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএসআইএল-এর প্রতি তুর্কি সরকারের সহায়তার অভিযোগগুলো খণ্ডনের জন্যেও এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানো বা হামলা চালানোর অভিনয় করা এরদোগান সরকারের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছিল। সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে তুর্কি সরকারের ওপর দেশের ভেতর ও বাইরে চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। এ অবস্থায় তুর্কি সরকার একই সময়ে কুর্দি গেরিলা ও আইএসআইএল-এর ওপর হামলা চালানোর পথ বেছে নিয়েছে যাতে পিকেকের সঙ্গে আলোচনায় যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে তা থেকেও বেরিয়ে আসা যায়।

সূত্রঃ http://bangla.irib.ir/2010-04-21-08-29-09/2010-04-21-08-32-06/item/75804-%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%80-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%95-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ আত্মসমর্পণ করে কেমন আছেন জাগরী বাস্কে ?

image (1)

২০১১-র ১৭ নভেম্বর মাওবাদী দম্পতি রাজারাম-জাগরী বাস্কে মহাকরণে এসে আত্মসমর্পণ করল । সাত দিন বাদে বুড়িশোলের জঙ্গলে যৌথবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারালেন মাওবাদী শীর্ষ নেতা কিষেণজি। সাময়িক সুবিধার লোভে এই দম্পতি দলের তথ্য ফাঁস করেছেন। সহযোদ্ধাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন, সেই বিশ্বাসঘাতকতার কৃত কর্মের ফল ভোগের ভয় পেয়ে বসেছে এই দম্পতিকে।

একটা সময় জঙ্গলমহলের বিশাল তল্লাটে তাঁদেরই ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত শাসকদলের নেতা-কর্মী থেকে পুলিশ— সকলের ঘুম কেড়েছিল জাগরী-রাজারাম বাহিনী। ওঁদের পাকড়াও বা খতম করতে যৌথবাহিনী কম অভিযান চালায়নি। সব নিষ্ফল হয়েছে।

নিজে থেকে ধরা দেওয়ার পরে সেই প্রাক্তন মাওবাদী গেরিলা দম্পতিই এখন ভয়ে কাঁটা হয়ে কার্যত ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। কারণ তাঁরা ‘খবর’ পেয়েছেন, জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা আবার ভিত গাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাক্তন সহযোদ্ধাদের বদলা-হানার আশঙ্কায় রাতের ঘুম উবেছে আত্মসমর্পণকারী দম্পতির। ‘শত্রু’র উপরে নজর রাখতে তাঁরা বাড়ির ছাদে বসিয়েছেন সিসি ক্যামেরা। নিজেদের খরচে।

image
রাজ্য পুলিশের রেকর্ড বলছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১১-য় আত্মসমর্পণের আগে পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সারির মাওবাদী নেতা ছিলেন রাজারাম। জাগরীর উত্থান তার অনেক পরে। এই যুগলই ২০০৫-০৬ সালে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে মাওবাদী প্ল্যাটুন গড়ে তোলেন। বিয়েও সেই সময়ে। পুরুলিয়ার বরাভূম স্টেশনে আরপিএফ জওয়ানদের হত্যা করে অস্ত্র লুঠ ও পার্থ-সৌম্যজিতকে খুন-সহ বিস্তর পুলিসি অভিযোগ রয়েছে রাজারামের নামে। আর জাগরীর বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি বড় মামলা। যার মধ্যে রয়েছে বান্দোয়ানে সিপিএম নেতা রবীন্দ্রনাথ করকে সস্ত্রীক খুন, শিলদায় ইএফআর ক্যাম্পে হানাদারি, সাঁকরাইল থানায় ঢুকে পুলিশকে খুন-অপহরণ ইত্যাদি।

সেই থেকে রাজারাম-জাগরীর ঠিকানা পুলিশের ‘সেফ হাউস।’ কলকাতার অদূরে এক শহরের উপকণ্ঠে কাঠা তিনেক জমির উপরে পুরনো একতলা সরকারি আবাসন। হোমগার্ডের ‘চাকুরে’ দু’জন। তবে ওঁদের কাজে যেতে হয় না। একমাত্র ছেলে পড়ে শহরের এক ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে। ক্লাস ওয়ান।

পুলিশের ঘেরাটোপে জীবন।

সাবেক দম্পতির জীবন এখন অনিশ্চিত। উত্তর খুঁজতে জুলাইয়ের এক বৃষ্টিভেজা দুপুরে পৌঁছানো গিয়েছিল ওঁদের গোপন আস্তানায়। বাড়ির এক দিকে পাঁচিল, অন্য তিন দিকে তার-জালির বেড়া। কড়া নাড়তে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এলেন বছর চল্লিশের রাজারাম সোরেন ওরফে সাগেন সাওঁতাল। সাংবাদিক শুনে স্পষ্ট বিরক্তি— ‘‘কিছু বলার নেই।’’ তত ক্ষণে সিসিটিভি’র পর্দায় অতিথিদের চেহারা যাচাই করে নিয়ে বেরোলেন জাগরী। সালোয়ার-কামিজের উপরে গামছা জড়ানো। হুঁশিয়ার করলেন, ‘‘ছবি তুলবেন না। সিসিটিভির ছবি তো নয়ই।’’

বেশ কিছু ক্ষণ বোঝানোর পরে প্রবেশের অনুমতি মিলল। আড়াইখানা ঘর। সঙ্গে রান্নাঘর, বাথরুম, বারান্দা। আসবাব বলতে একটা খাট, আলমারি, সোফা, গুটিকয় প্লাস্টিকের চেয়ার। আর টেলিভিশন। বসতে বলে জাগরীর মন্তব্য, ‘‘অনেক কিছু বলার আছে। বলতে পারি না।’’ একটু থেমে বলেন, ‘‘রাত-বিরেতে গাড়ি এসে দাঁড়ায়। অচেনা কারা ঘোরা-ফেরা করে। সিসিটিভি থাকায় বুঝতে পারি।’’ পুলিশকে জানাননি?

‘‘জানিয়েছি। পাত্তাই দেয়নি।’’— জবাব প্রাক্তন মাওবাদী নেত্রীর। তাঁর আক্ষেপ, ‘বারবার বলা সত্ত্বেও পুলিশ তো সিসি ক্যামেরা লাগাল না! বাধ্য হয়ে আমরাই লাগিয়েছি।’’ জাগরীর অভিযোগ, আত্মসমর্পণের সময়ে রাজ্য সরকার যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। ছেলের পড়াশোনার খরচও বইতে হচ্ছে তাঁদেরই।

একরত্তি ছেলেকে ঘিরেই এখন জাগরী-রাজারামের যাবতীয় স্বপ্ন। রাজারাম ওকে পড়ান, স্কুলে দিয়ে আসেন, নিয়ে আসেন। বাজারহাট করেন। জাগরী সামলান হেঁশেল। জানালেন, শরীরটা ভাল যাচ্ছে না। তাই অনেকটা সময় শুয়ে-বসে কাটে।

কিন্তু ভয়টা কীসের?

পুলিশকে জাগরীরা জানিয়েছেন, পুরনো সঙ্গীরা তাঁদের আত্মসমর্পণ ভাল ভাবে নেয়নি। কিছু ‘কমরেড’-এর সঙ্গে যোগাযোগের সুবাদে তাঁরা এ-ও আঁচ পেয়েছেন যে, মাওবাদীরা জঙ্গলমহলে ফের জোট বাঁধছে। এবং এ বার তাঁরাও ‘টার্গেট’ হতে পারেন।

তাই সাবধানের মার রাখতে চাইছেন না। নিজেরাই সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন। দরজার সামনের বারান্দার উপরে, দু’দিকে। সিসিটিভি বসার ঘরেও। এমন জায়গায়, যাতে রান্নাঘর থেকে দেখা যায়। জাগরীর কথায়, ‘‘রান্না করতে করতেও উঁকি দিই।’’

পুলিশের যুক্তি: বাড়িতে আলাদা করে রক্ষী বা সিসি ক্যামেরা বসালে লোকের নজরে পড়বে। সেটা আরও বিপজ্জনক। কর্তাদের দাবি: ওঁদের সুরক্ষা নিশ্ছিদ্র। বাড়ির পাঁচশো মিটার দূরেই থানা। উপরন্তু সাদা পোশাকের পুলিশ নজর রাখছে। টহলদারি ভ্যান দিনে বহু বার টহল দেয়।

জাগরী-রাজারাম অবশ্য আশ্বস্ত হচ্ছেন না। তাঁদের উদ্বেগ-বার্তা নবান্নের কানেও পৌঁছেছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের খবর: সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের কিছু আধিকারিক ‘সেফ হাউসে’ গিয়ে ওঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এসেছেন। তাঁদের নিরাপত্তা সম্পর্কে নতুন কোনও চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে কি?

নবান্ন-সূত্রে তেমন ইঙ্গিত না মিললেও জাগরীর ‘খবর’কে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় বিবিধ গোয়েন্দা এজেন্সির সমন্বয় কমিটি সম্প্রতি সরকারকে রিপোর্ট দিয়ে বলেছে, জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা ফের সংগঠিত হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়ার কিছু জায়গায় তাদের নিয়মিত আনাগোনা। বান্দোয়ানে তো সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নামে পোস্টার পড়েছে! গোয়েন্দাদের হুঁশিয়ারি: জঙ্গলমহলের কিছু মানুষ সরকারের কাজকর্মে ক্ষুব্ধ। তাদের একাংশ মাওবাদীদের দিকে ঝুঁকছে। যার ফায়দা তুলে বর্ষার জঙ্গল ঘন হলেই মাওবাদী তৎপরতা বেড়ে যেতে পারে। ফের তপ্ত হয়ে উঠতে পারে জঙ্গলমহল।

মাওবাদীদের এই ‘পুনরুত্থানের’ খবরই প্রাক্তনীর ঘুম কেড়েছে।

বিপ্লব ত্যাগ করে রাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেও তাদের জীবন আজো অনিশ্চিত। কথিত প্রতিশ্রুতির খুব অল্পই দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রে ফাঁদে পা দিয়ে কি ভুল করল এই দম্পতি ?

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/former-comrades-will-retaliate-any-time-so-panicked-jagari-baske-installed-cctv-camera-in-her-house-1.184164


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ মাওবাদীদের শহিদ সপ্তাহে পুরুলিয়াতে তিন মাওবাদী লিঙ্কম্যান গ্রেফতার

পুরুলিয়ায় মাওবাদীদের পোস্টার

পুরুলিয়ায় মাওবাদীদের পোস্টার

এ বার মাওবাদীদের লিঙ্কম্যান সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার রূপেশ কুমারের দাবি, সোমবার রাতে বলরামপুরের উরমা স্টেশন এলাকায় মাওবাদীদের পোস্টার লাগানোর সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ওই তিন জন সন্দেহভাজনকে। ধৃতদের কাছ থেকে মাওবাদীদের ব্যানার ও পোস্টার মিলেছে।

সোমবার সকালেই বাঘমুণ্ডি থানার কয়েকটি এলাকায় মাওবাদী পোস্টার মিলেছিল। সেই পোস্টারে আক্রমণ করা হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার ২৪ ঘণ্টা পরেই বলরামপুরের ঘাটবেড়া-কেরোয়া এলাকা থেকে মাওবাদী পোস্টার পাওয়া গিয়েছে। ঘাটবেড়া ও খেঁকরিডি গ্রাম থেকে পাওয়া সাদা কাগজের উপরে লাল কালিতে লেখা ওই সব পোস্টার ও ব্যানারে ‘শহিদ সপ্তাহ’ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।  ঘটনা হল, মঙ্গলবার থেকেই ‘শহিদ সপ্তাহ’ শুরু হয়েছে। আর তার আগে ও পরে পরপর পোস্টার মেলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের।

এক সময় এই ঘাটবেড়া-কেরোয়া অঞ্চলটি মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল হিসাবে পরিচিত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বুদ্ধেশ্বর হেমব্রম, অজিত হেমব্রম ও বৈদ্যনাথ সোরেনেরও বাড়ি ঘাটবেড়া-কেরোয়া অঞ্চলের মাহুলিটাঁড় গ্রামে। এই গ্রামটিকে নিয়ে বরাবরই পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা চিন্তায় থাকেন। এই গ্রামে এসেই মাওবাদীরা এখনও আশ্রয় নেয় বলে গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি। গত বছর পঞ্চায়েতের এক কাপড় বিলির কর্মসূচিও পুরোপুরি ‘বয়কট’ করেছিলেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। জেলার তৃণমূল নেতাদের একাংশই একান্ত আলোচনায় কবুল করেছেন, হাজার চেষ্টা করেও মাহুলিটাঁড়কে ‘বাগে’ আনা যায়নি। পুলিশের দাবি, এখন মাওবাদীদের যে স্কোয়াডটি অযোধ্যা পাহাড় তল্লাটে ঘোরাফেরা করছে, তার একাধিক সদস্যের বাড়ি এই গ্রামেই।

পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা আবার রীতিমতো কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। গত ৫ জুলাই রাতে ঘাটবেড়া-কেরোয়া এলাকা ঘেঁষা উরমা স্টেশনের দক্ষিণ কেবিনের বাইরে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনতে পান কেবিনে কর্তব্যরত দুই কর্মী। ঝুঁকি না নিয়ে রাতে বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই শাখার ট্রেন চলাচল। লাইনে বিস্ফোরক রাখা থাকতে পারে, এই আশঙ্কায় দু’টি এক্সপ্রেস ট্রেনকে বরাভূম (বলরামপুর) ও কাঁটাডি স্টেশনে আটকে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে রাতেই রেলপুলিশ, আরপিএফ, যৌথ বাহিনী রেললাইন ধরে তল্লাশি চালিয়েও বিস্ফোরকের সন্ধান পায়নি। পুলিশের দাবি, তখন থেকেই উরমা স্টেশন নজরে রাখা হয়েছিল। সোমবার রাতে ধৃতেরা স্টেশন এলাকায় পোস্টার লাগাতে এলে তাঁদের হাতেনাতে ধরা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘হতে পারে যারা উরমায় পোস্টার লাগাচ্ছিল, তারাই বলরামুপের গ্রামগুলিতে পোস্টার লাগিয়েছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে।’’ ধৃত তিন জনকে এ দিন পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের সাত দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠান। মাহুলিটাঁড় বাসিন্দাদের একাংশের অবশ্য দাবি, পুলিশ এই তিন জনের মধ্যে এক জনকে শুক্রবার বলরামপুরেরই বেলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে এবং বাকি দু’জনকে গ্রাম থেকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ অবশ্য এই দাবি মানতে চায়নি। ধৃতেরাও এ দিন আদালত চত্বরের ভিতর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলতে চাননি।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/%E0%A6%B8%E0%A6%A8-%E0%A6%A6-%E0%A6%B9%E0%A6%AD-%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%A4-%E0%A6%A8-%E0%A6%AE-%E0%A6%93%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%B2-%E0%A6%99-%E0%A6%95%E0%A6%AE-%E0%A6%AF-%E0%A6%A8-%E0%A6%A7-%E0%A6%A4-1.184130#


ভারতঃ বিপ্লবী লেখক সংঘ বা ভিরাসমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ‘চালসানি প্রসাদ’ এর লাল সালামের যাত্রা

চালসানি প্রসাদ

চালসানি প্রসাদ

4

1

2

5

6

7

8

3

9

৮৩ বছর বয়সে মারা যান বিপ্লবী লেখক সংঘ বা ভিরাসমের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা চালসানি প্রসাদ। বিশাখাপত্তনমের সিতাম্মাধারায় এইচ বি কলোনির নিজ বাসায় গত শনিবার ২৫শে জুলাই সকাল সাড়ে ১১ নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। দুই মেয়েকে সাথে নিয়েই থাকতেন তিনি। তার স্ত্রী কয়েক বছর আগেই মারা যান।

বাসায় এ্যাম্বুলেন্স পৌছার আগেই হৃদরোগে তিনি মারা যান।

চালসানি প্রসাদ, কৃষ্ণ জেলার ভাটলাপেনুমাররুতে এক কমিউনিস্ট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পুরো জীবনটাই মার্কসবাদী আদর্শে পরিচালিত হন। জরুরী অবস্থা চলাকালীন তিনি আটক হন এবং তার মার্কসবাদী মতাদর্শ ও ঘোষণাগুলোর কারণে বেশ কয়েকবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কারণ রাষ্ট্র ভিরাসমকে সিপিআই(মাওবাদী) এর অঙ্গ সংগঠন হিসেবে মনে করে। অবসরপ্রাপ্ত এই কলেজ শিক্ষক আগাগোড়াই মাওবাদী আদর্শে বিশ্বাস করতেন। সিপিআই মাওবাদীরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।

প্রসাদ বিশাখাপত্তনমে মিসেস এ.ভি.এন এ কলেজ থেকে রাজনীতি প্রভাষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি নিজেকে ছাত্রদের কাছে প্রিয় বন্ধু হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি তাদের ব্যক্তিত্বের উন্নয়নে আগ্রহী ছিলেন। তিনি শ্রী শ্রী, রবি শাস্ত্রী, রাঙ্গানায়াকাম্মা এবং বিভিন্ন জনদের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

একজন উৎসুক পাঠক, চালসানি প্রসাদের এইচ বি কলোনির বাসায় হাজার হাজার বই বস্তাবন্দী অবস্থায় আছে, এগুলোর বেশীর ভাগই দুষ্প্রাপ্য। তিনি অনেক বিষয় নিয়ে গভীর ভাবে আলোচনা করতে পারতেন এবং একজন লেখকের মর্যাদা যাই হোক না কেনো, তিনি যে কোন ভালো লেখার সঠিক মূল্যায়ন করতেন এবং একই সময়ে অন্যান্য সুপ্রতিষ্ঠিত লেখকদের মত যদি তিনি ভুল করতেন বা কিছু লিখতেন তবে সেটা সমাজের স্বার্থ বিরোধী হত।

তিনি একজন বামপন্থী হতে পারেন, কিন্তু বিশ্বনদ সত্যনারায়ণের একটি সাহিত্য সভায়ও অনুপস্থিত থাকতেন না, কারণ তিনি তার লেখার জন্যে সবসময় প্রশংসিত হতেন।