আইএস(দায়েশ) এর উপর প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালিয়েছে মাওবাদীরা

mlkpkurdc4b1stan

শিনগালঃ সুরুক গণহত্যার প্রতিশোধ হিসেবে শিনগালে আইএস(দায়েশ) জঙ্গি গোষ্ঠীর উপর হামলা চালিয়েছে মাওবাদী MLKP গেরিলারা। জানা গেছে গেরিলাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি তবে জঙ্গি গোষ্ঠীর তিনজন নিহত হয়েছে। এই হামলার পর ঘটনাস্থলে তুর্কি রাষ্ট্রের জোট বাহিনীর বিমান বোমা বর্ষণ করে।

হামলা সম্পর্কে মাহির সেনগাল নামে একজন গেরিলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “২০শে ফেব্রুয়ারি পিরসুসে ৩১ জন সমাজতন্ত্রীকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আমরা এই হামলা চালাই। হামলায় তিন জঙ্গি নিহত হয়। গণহত্যার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এইরকমই হবে। দায়েশ ও তুর্কি রাষ্ট্র এই গণহত্যার দায় থেকে পালাতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও সংগ্রামের বিরুদ্ধে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলবো ও প্রতিরোধ বিস্তৃত করব। এখন থেকে তুর্কি রাষ্ট্র ও দায়েশের বিরুদ্ধে গণহত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তুরস্ক, বাকুর, কুর্দিস্তান, রোজাভা ও শিনগালে আমরা হামলা চালাব। রক্তের বদলা রক্ত দিয়ে গ্রহণ করা হবে।”

সূত্রঃ http://www.etha.com.tr/Haber/2015/08/06/guncel/mlkp-gerilalarindan-daise-misilleme-eylem/

https://nouvelleturquie.wordpress.com/2015/08/07/attaque-punitive-des-guerilleros-du-mlkp-contre-daesh/

https://comitesolidaridadrojava.wordpress.com/2015/08/09/represalia-del-mlkp-al-daesh-tras-los-atentados-de-suruc/


সুরুক গণহত্যা সম্পর্কে MLSPB (Marxist-Leninist Armed Propaganda Forces)/বিপ্লবী ফ্রন্ট এর বিবৃতি

11049608_1461003254223222_1769947793145547153_n

তুরস্ক, কুর্দিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের প্রতি

সিজিরে ও কোবানি ক্যান্টনের বিজয় ও পুনর্মিলনীর মধ্য দিয়ে রুবার কামিসলো অপারেশন শেষ হবার পর রোজাভা বিপ্লবের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে কোবানির পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ও এ উদ্যোগের কথা কয়েকদিন পূর্বে জনগণের কাছে ঘোষণা করা হয়েছিল। আমাদের কমরেডরা রাস্তায় জমায়েত হয়ে “আমরা একত্রে কোবানিকে রক্ষা করেছি! আমরা একত্রে একে গড়ে তুলবো”! স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল। এসময় তুর্কি রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্যবাদের প্রতিক্রিয়াশীল জঙ্গি গোষ্ঠী; আইএসআইএস ISIS (DAİŞ) তাদের উপর হিংস্র হামলা চালায়। হামলায় অসংখ্য বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী শহীদ হয় ও আহত হয়।

সাম্রাজ্যবাদ ও যায়নবাদের দোসর আইএসআইএস তার পুনঃপুনঃ পরাজয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তুরস্ক ও কুর্দিস্তানের জনগণের উপর হত্যা ও হুমকি চালিয়ে রোজাভা বিপ্লবের অর্জনকে ধ্বংস করার নোংরা ও বর্বরোচিত পন্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিজয় ও আধিপত্য অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম কমিউনিটির বিজয়ী যোদ্ধাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে ভেঙ্গে ফেলতে পারবে না আইএসআইএস। YPG/YPJ ও তুরস্কের বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী গণযোদ্ধারা (Revolutionary Internationalist Warriors of people of Turkey) নিশ্চিতভাবেই এই হিংস্র হামলার প্রতিশোধ নেবে। MLSPB (Marxist Leninist Armed Propaganda Force) / Revolution Front এর পক্ষ থেকে  আরো একবার লড়াই ও বিজয়ের লক্ষ্যে জনগণের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই!

মধ্য প্রাচ্যের বিপ্লবী ফ্রন্ট দীর্ঘজীবী হোক!

২১/০৭/২০১৫

MLSPB/ Revolution Front

সূত্রঃ Via Isyandan


বিপ্লবী উধম সিং

বিপ্লবী উধম সিং

গ্রেফতারের পর বিপ্লবী উধম সিং

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগ(ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসরে অবস্থিত এই জালিয়ানওয়ালাবাগ। সেই জন্যই এটিকে অমৃতসর ম্যাসাকার নামেও অভিহিত করা হয়) নামে একটি উদ্যানে মহিলা ও শিশুসহ সহস্রাধিক মানুষ সমবেত হয়। সভা শুরু হওয়ার আগেই জেনারেল ও’ডায়ারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বিনা প্ররোচনায় সভাস্থলে গুলিবর্ষণ করে। উদ্যানটি আবদ্ধ হওয়ায় সমবেত জনতার বের হওয়ার পথ ছিল না। এতে শতাধিক পুরুষ, মহিলা ও শিশু নিহত হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট অবিরাম গুলীবর্ষিত হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিরতিহীনভাবে গুলীবর্ষণ করতে করতে যখন গুলী ফুরিয়ে যায় তখন তারা গুলীবর্ষণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এই ভয়াবহ গণহত্যায় ৩৭৯ ব্যক্তি মারা যান এবং ১৫২৬ ব্যক্তি আহত হন। এই হত্যাকান্ডটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। এ সময় ঘটনাটি দূর থেকে প্রত্যক্ষ করেন ভারতীয় বিপ্লবী উধম সিং।

জালিয়ানওয়ালাবাগে যে গুলীবর্ষণ হয়েছিল সেই গুলীবর্ষণের আগে জেনারেল ডায়ারের উদ্যোগে তাদেরকে সমাবেশ ভঙ্গ করতে বলেননি, সেটিকে ছত্রভঙ্গ করারও চেষ্টা করেননি, কোনরূপ সতর্ক সংকেত দেননি, এমনকি কোনো ফাঁকা গুলীও ছোঁড়েননি। পরবর্তীকালে এই হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য ব্রিগেডিয়ার ডায়ারকে যখন আদালতে তলব করা হয়, তখন মিঃ ডায়ার স্বীকার করেন যে, হত্যা করার উদ্দেশ্যেই তিনি গুলীবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, গুলী না চালিয়েও তিনি ঐ সভাকে ছত্রভঙ্গ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি জানতেন যে, ছত্রভঙ্গ করলে ওরা পরে কোনো এক সময় আবার ফিরে এসে সভা করবে। তাই তিনি গুলী চালানোর হুকুম দিয়েছিলেন।

জালিয়ানওয়ালাবাগে মাইকেল ও’ ডায়ার হত্যাকান্ড ঘটানোর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে বিপ্লবী উধম সিং ১৯৩৪ সালে লন্ডন যান এবং পরিকল্পনা করতে থাকেন ।  একুশ বছর পর ১৯৪১ সালের ১৩ই মার্চ ক্যাক্সটন হলে একটি জনসভায় পাঞ্জাবের বীর যুবক সর্দার বিপ্লবী উধম সিং সে সময় থেকে পঁচিশ বছরের পুরাতন রিভলবার এবং সেরকম পুরানো কর্তুজ দিয়ে ও’ ডায়ারকে হত্যা করেন। এ সময় তিনি পালিয়ে যাওয়ার কোন চেষ্টাই করেনি। উধম সিং আদালতে বলেন তাঁর নাম-রাম মুহম্মদ সিং আজাদ। সেই বছরই ৩১ জুলাই ইংল্যান্ডে উধম সিংকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

উধম সিং, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ভারতীয় জনগণের সংগ্রামের এক প্রতিবাদী নাম। তিনি ছিলেন ভগত সিঙের উত্তরসূরি। তার আত্মত্যাগ সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ বিরোধী শ্রেণী সংগ্রামে বিপ্লবী হয়ে উঠার শিক্ষা দেয়।


আন্তর্জাতিক যৌথ প্রকল্প: বিপ্লবের পথ নির্দেশক চিন্তাধারা: মাওবাদের মর্ম

communism1

বিপ্লবের পথ নির্দেশক চিন্তাধারা:

মাওবাদের মর্ম

এই দলিল-প্রকল্প

আফগানিস্তানের ওয়ারকার্স অরগানাইজেশন (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী, প্রধানত: মাওবাদী),

কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী বাংলাদেশ,

কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী ফ্রান্স

কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে যা

বেলজিয়ামের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী কেন্দ্র

কর্তৃক সমর্থিত হয়েছে।

communists_thumb1

“বিপ্লব এক চিন্তাধারা জন্মদেয় যা তাদের পরিচালনা করে,যা হচেছ প্রতিটি বিপ্লবের মূর্ত বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণীর মতার্দশের সার্বজনীন সত্যের প্রয়োগের ফলাফল, একটা পথনির্দেশক চিন্তাধারা, বিজয়ে পৌছাতে আর রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে অপরিহার্য; বিপ্লবকে অব্যাহত রাখতে আর একমাত্র মহান লক্ষ্য কমিউনিজমের পথে প্রক্রিয়াকে বজায় রাখতে অপরিহার্য”

 [গনসালো চিন্তাধারা সম্পর্কে, পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি]

বর্তমান দলিলটি হচ্ছে একটা প্রকল্প যা “পথনির্দশক চিন্তাধারা” র ধারণাকে পরিচয় করিয়ে দেবে, নিজ নিজ দেশে এক মহান ভূমিকা পালন করছে যারা বিশেষত এক “চিন্তাধারা” সূত্রায়ণে; তাদের সম্পর্কে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে।

এ প্রকল্পটিকে এগিয়ে নেয়ার ও পুর্নাঙ্গতা জয় করার আহ্বান জানানো হচেছ, বর্ননার গুণাবলীতে, এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের গুণাবলীতেও, যাদের জীবন এখানে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সত্যীই, প্রতিটি দেশে শ্রেণীসংগ্রাম সে্ই স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের জন্ম দেয় যারা নিজ সামাজিক ও জাতীয় বাস্তবতার বিশ্লেষণে এগিয়ে যান, তারা যেখানে বাস করেন তার দ্বন্দ্বকে উপলব্ধি করে, বিপ্লবের মাধ্যমে-নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে অগ্রগতির পথে এগিয়ে গিয়ে।

এখানে যেসকল স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের “চিন্তাধারা” আলোচিত হয়েছে তা হচ্ছে অনন্ত বস্তুর গতির প্রতিফলন; সেই স্বতন্ত্র ব্যক্তিগণ বিরাট “চিন্তা”যুক্ত “প্রতিভাবান” নন, বরং জনগণ যে কিনা বাস্তবতা দ্বান্দ্বিকভাবে উপলব্ধি করে এটা যেমন আছে ঠিক সে্ ভাবেই গ্রহণ করে।

এখানে লেনিনকে বিবৃত করা ফলপ্রদ। হেগেলকে অধ্যয়নের সময় লেনিন বলেন:

“দ্বন্দ্ববাদ সেই শিক্ষা যা দেখায় কীভাবে বিপরীতেরা এক হয় বা হতে পারে, কোন পরিস্থিতিতে তারা এক হয়, নিজেদের রূপান্তর ঘটায়, কেন মানব চিন্তনকে এই বিপরীতসমূহকে আঁকড়ে ধরতে হবে মৃত ও জড় হিসেবে নয় বরং জীবন্ত, শর্তযুক্ত, গতিশীল ও পরস্পর রূপান্তরযোগ্য হিসেবে।”

এবং “ধারণাসমূহেরসার্বিক সার্বজনীন স্থিতিস্থাপকতা একটা স্থিতিস্থাপকতা যা বিপরীতের একত্বে পৌঁছে-এটাই হল সারবস্তু।

এই নমনীয়তারআত্মমুখী প্রয়োগ = সমন্বয়বাদ ও কুতর্ক

আর যখন এই স্থিতিস্থাপকতা বস্তুগতভাবে প্রয়োগ করা হয় অর্থাত বস্তুগত প্রক্রিয়া ও তার ঐক্যের সার্বিক প্রতিফলন ঘটানো হয় তখন তা হয় দ্বন্দ্ববাদ, দুনিয়ার অনন্ত বিকাশের সঠিক প্রতিফলন।”

এই অর্থে, আমরা আশা করি, এই দলিল প্রতিটি দেশে পথনির্দেশক চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, পথনির্দেশক চিন্তাধারা যা হচেছ সাম্যবাদের দিকে অগ্রসরমান বস্তুর অনন্ত গতির প্রতিফলন।

১. প্রেক্ষাপট

2

কীভাবে ও কোন প্রেক্ষাপটে কমরেড আকরাম ইয়ারি পথ নির্দেশক চিন্তাধারা উদ্ভূত হয়েছে?

সংশোধনবাদী পিডিপিএ (আফগানিস্তানের জনগণতান্ত্রিক পার্টি) যা ছিল এক ক্রুশ্চেভপন্থী পার্টি, মধ্য ১৯৬০ দশকে আফগানিস্তানের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে।

বস্তুত, এই পার্টির সকল স্তর ক্ষুদে বুরজোয়া মানসিককতার বুদ্ধিজীবি দ্বারা পূর্ন ছিল যারা সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শিক মডেলের লেজুরবৃত্তি করছিল।

এই পেক্ষাপটে একজন তরুন বিপ্লবী ‘না!’কে তুলে ধরলেন, যিনি না সংশোধনবাদের সাথে আপোষ করেছেন না এর সাথে লড়াই করা অবহেলা করেছেন।

ইনি হচ্ছেন কমরেড আকরাম ইয়ারি, যিনি পিওয়াইও (প্রগতিশীল যুব সংগঠন) গঠন করলেন, যা ছিলআফগানিস্তানের প্রথম সংশোধনবাদবিরোধি সংগঠন।পিওয়াইও ছিল একটি মাওবাদী সংগঠন।বস্তুত আকরাম ইয়ারির চিন্তাধারা ছিল সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে এই সংগঠনের তাত্ত্বিক প্রকাশ, একটা সংগ্রাম যা আফগানিস্তানে প্রথম মাওবাদী সংগঠন জন্ম দেয়।

1

কীভাবে ও কোন প্রেক্ষাপটে কমরেড ইব্রাহিম কাপাক্কায়া পথনির্দেশক চিন্তাধারা উদ্ভূত হল?

তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন মুস্তাফা সুফী (১৮৮৩-১৯২১), কিন্তু তা শীঘ্রই ধ্বংস হলো কামালবাদের কারণে, যা ছিল অটোমান সাম্রাজ্যবাদের পতনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণকারী আমলাতান্ত্রিক বুরজোয়াদের জাতীয়তাবাদের মতবাদ।

১৯৪৯ সালে জন্ম নিয়েছেন যিনি, সেই ইব্রাহীম কাপাক্কায়া চিন্তাধারা উদ্ভূত হয়েছে জনগণের সৃষ্ট সমগ্র বিপ্লবী তরঙ্গের সর্বাধিক বিকশিত অংশ হিসেবে (অপরাপর বিখ্যাত ব্যক্তি যারা সশস্ত্র সংগ্রামের কথা বলেছেন তারা হচেছন চেবাদী মহির কায়ান এবং হোজাবাদী ডেনিস গেজমিস)। প্রধান প্রশ্ন ছিল তুর্কী শাসকগোষ্ঠীর চরিত্র ও তার উত্স কামালবাদী “বিপ্লব”কে বোঝা, একটা প্রতিবিপ্লব যাকে সুবিধাবাদ “বুরজোয়া” অথবা এমনকি “গণতান্ত্রিক ও যার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে” বিবেচেনা করেছিল ।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া অধ্যয়ন করেন তুরস্কের চরিত্র, মুস্তাফা কামাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এর ইতিহাস, এর আধা উপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী চরিত্র নিশ্চিত করে এবং নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের পথ অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা।

4

কীভাবে ও কোন প্রেক্ষাপটে কমরেড সিরাজ সিকদার পথনির্দেশক চিন্তাধারা উদ্ভূত হয়েছে?

রুশ বিপ্লবের পর ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে ওঠে, কিন্তু এই পার্টি কৃষকদেরকে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ ও তাদের ভিত্তি সামন্তবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে চালিত করেনা, তাদের সশস্ত্র সংগ্রামকে নেতৃত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানায়। উপরন্তু দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ফ্যাসিবাদ সংক্রান্ত কমিন্টার্নের যুক্তফ্রন্টের লাইনের নামে ব্রিটিশের সাথে ঐক্যের পথে ভারতবাসীকে চালিত করার চেষ্টা করে, ফলে সাম্প্রদায়িক শ্রেণীদ্বন্দ্বকে বৈরি দ্বন্দ্বে পরিণত করে ভারতের হিন্দু ও মুসলিম বুর্জোয়া ও সামন্তদের প্রতিনিধি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আধা-উপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। পূর্ববাংলার সংখ্যাগরিষ্ট কৃষক জনগণ মুসলিম ধর্মাবলম্বী হিসেবে হিন্দু জমিদারদের কর্তৃক সাম্প্রদায়িক শোষণ ও নিপীড়ণের শিকার ছিল, তাই বিপ্লবের মাধ্যমে সমাধান না হওয়ায় পূর্ববাংলার মুসলিম কৃষকরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়। পাকিস্তানের উদ্ভবের পর থেকেই অনগ্রসর পূর্ববাংলা অপেক্ষাকৃত অগ্রসর পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশে পরিণত হয়। পূর্ববাংলা থেকে হিন্দু জমিদাররা চলে গেলে সেসব জমি এখানকার মুসলিম ধনীদের হস্তগত হয়। ভূমি সমস্যা থেকে যায় অসমাধিত। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার জনগণ জেগে ওঠেন ১৯৫২র ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ আন্দোলন থেকে ৭১-এর জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত। পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি জনগণের সংগ্রামসমূহকে সঠিক লাইনে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ক্রুশ্চভীয় সংশোধনবাদ আবির্ভূত হলে উক্ত পার্টি সংশোধনবাদী পার্টিতে পরিণত হয়। এর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান মাওয়ের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সংগ্রাম সূচিত হলে ঐ পার্টি মস্কোপন্থী ও পিকিংপন্থী এই দুই ধারায় বিভক্ত হয়। পিকিংপন্থী ধারাটি সংশোধনবাদ থেকে মুক্ত হতে পারেনা। সংশোধনবাদের এই শেকলকে ভেঙে ফেলেন কমরেড সিরাজ সিকদার।

gonzalo

কীভাবে ও কোন প্রেক্ষাপটে কমরেড গনসালো পথনির্দেশক চিন্তাধারা উদ্ভূত হয়েছে?

হোসে কার্লোস মেরিয়েতেগুই (১৮৯৪-১৯৩০) এক মহান নেতা যাকে পেরু সৃষ্টি করেছে। যিনি সক্ষম ছিলেন এক প্রকৃত কমিউনিস্ট পার্টী গঠনে, কিন্তু তার মৃত্যুর পর সংশোধনবাদ প্রাধান্য বিস্তার করে “জাতীয় ঐক্য”-এর লাইনে ও তারপর আধুনিক সংশোধনবাদ।

প্রেক্ষাপট ছিল গণসংগ্রাম গড়ে তোলার, কিন্তু মতাদরশিক প্রেক্ষাপট সংশোধনবাদের প্রভাব দ্বারা চিহ্নিত ছিল। প্রয়োজন ছিল পেরুতে হোসে কার্লোস মেরিয়েতেগুইর রচনার সঠিক উপলব্ধির, পেরুকে এক আধা উপনিবেশিক আধা সামন্তবাদ দেশ হিসেবে সঠিকভাবে বুঝতে।

১৯৮৮তে দেয়া তার বিখ্যাত সাক্ষাতকারেগনসালো পেরুর সাধারণ প্রেক্ষাপটকে এভাবে ব্যাখ্যা করেন:

“সমকালীন পেরুভিয়ান সমাজের গতি প্রকৃতির একটা ‍উপলব্ধি আমাদের আছে যাতে আমরা অর্থ করি যে সমাজটা ১৮৯৫তে জন্ম নিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা যে প্রক্রিয়ার মধ্যে বাস করছি তা তখন থেকে শুরু হয়েছে, যার রয়েছে তিনটি স্তর।

প্রথম স্তর আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করে, প্রথম স্তরের সমাপ্তির মাধ্যমে দ্বিতীয় স্তর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের বিকাশকে গভীরতর করে। আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের গভীরতর বিকাশ বিপ্লবের জন্য পরিস্থিতিকে পরিপক্ক করেছে।

১৯৮০ সালে গণযুদ্ধের সূচনা দ্বারা আমরা তৃতীয় স্তরে প্রবেশ করি, যা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের সাধারণ সংকটের স্তর।সমকালীন পেরুভিয়ান সমাজের ধবংস শুরু হয়েছে কারণ ঐতিহাসিকভাবে এটা বাতিল হয়ে গেছে।

তাই, আমরা যা দেখছি তা হচ্ছে এর সমাপ্তি। এবং একমাত্র সঠিক পথ হচ্ছে যুদ্ধ, লড়াই করা এবং একে কবরস্থ করতে সংগ্রাম করা।”

download

কীভাবে ও কোন প্রেক্ষাপটে কমরেড আলফ্রেড ক্লাহর চিন্তাধারা উদ্ভূত হয়েছে?

অস্ট্রিয়ার কমিউনিস্ট আন্দোলনে আলফ্রেড ক্লাহর ছিলেনএকজন বিখ্যাত পারটি করমী। ১৯৩০ দশকের মাঝামাঝি তিনি পুলিশী আক্রমণে পড়ায় ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৭ পরযন্ত তিনি মস্কোতে লেনিন স্কুলের অস্ট্রিয়ান অংশকে নেতৃত্ব করেন।

এই সময়কালে তিনি অস্ট্রিয়ান সমাজের এক গভীর বিশ্লেষণ বিকশিত করেন, কীভাবে ইউরোপের জার্মান অংশ থেকে এর জাতি জন্ম নিল প্রাচ্যের সাথে সম্পর্কিত অন্য ধারা গ্রহণ করতে।

এটা একটা দেশের এই পরিস্থিতি বোঝার অনুমোদন দেয় যেখানে করণিক অস্ট্রো ফ্যাসিবাদীরা প্যান জার্মান জাতীয় সমাজতন্ত্রীদের সাথে দ্বন্দ্বরত ছিল। প্রত্যেক ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক শ্রেণীর প্রকাশ হিসেবে।

২. গঠন পুনর্গঠন

কমরেড আকরাম ইয়ারি কি নতুন পার্টি গঠন করেন না কি পূর্ব থেকে অস্তিত্বমান পার্টি তে যোগ দেন?

অনেক দেশে সংশোধনবাদেপাতিতকমিউনিস্ট পার্টি থেকে বিভক্তি ঘটিয়ে সংশোধনবাদ-বিরোধিতা জন্ম দেয়া হয়েছে। কিন্তু, আফগানিস্তানে, একটা সাবেক পার্টি থেকে বিভক্ত হয়ে সংশোধনবাদ বিরোধিতা করা হয়নি।

পিওয়াইও গঠনের আগে আকরাম ইয়ারি কোন সংগঠনের সদস্য ছিলেননা। পিওয়াইও সভাপতি ইয়ারির প্রাথমিক ও তার শ্রেষ্ঠতম উদ্যোগ।

কমরেড ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি একটি নতুন পার্টি গঠন করেন নাকি একটা পূর্ব থেকে অস্তিত্বমান পার্টিতে যোগ দেন?

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া মাত্র ২১ বছর বয়সে টিআইআইকেপিতে যোগ দেন, যা মাওসেতুঙ কর্তৃক মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ব্যাখ্যাকে আনিুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরছিল, সেখানে তিনি লেখেন ১৯৭২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত, তখন তিনি টিআইআইকেপির সাথে বিভাজন ঘটাতে এক বিপ্লবী দলকে নেতৃত্ব করেন, তিনি তার চিন্তাধারার জন্ম দেন।

কায়পাক্কায়া মধ্য জুন ১৯৭০-এর মহান ধরমঘট থেকে শিক্ষা নেন এবং টিআইআইকেপি (তুরস্কের বিপ্লবী শ্রমিক ও কৃষক পার্টি)-এর পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু করেন।

চীনের মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে সমরথন করে তিনি টিআইআইকেকেপিতে একটা বিপ্লবী দল সংগঠিত করেন যা শেষ পর্যন্ত টিআইআইকেপির সাথে বিভাজন ঘটিয়ে তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি/মার্কসবাদী-লেনিনবাদী টিকেপি/এমএল গঠন করে।

কমরেড সিরাজ সিকদার কি এক নতুন পার্টি গঠন করেন না কি পূর্ব থেকে অস্তিত্বমান এক পার্টিতে যোগ দেন?

বিদ্যমান কমিউনিস্ট পার্টি সংশোধনবাদে পতিত হওয়ায়, সিরাজ সিকদার একটি নতুন পার্টি গঠন করেন।

সিরাজ সিকদার হচ্ছেন বাংলাদেশের মহানতম সন্তান যিনি এখানে সর্বহারা শ্রেণীকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিকাশ হিসেবে মাও চিন্তাধারাকে হাতে তুলে নিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই ভিত্তিতে তিনি সঠিকভাবে পূর্ববাংলার সমাজকে ঔপনিবেশিক-আধা সামন্তবাদী হিসেবে বিশ্লে¬ষণ করেন এবং সর্বহারা শ্রেণীকে নেতৃত্ব দেন তাঁর নিজ পার্টি গড়ে তুলতে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাঁর বাহিনী গড়ে তোলায়, কৃষক, মধ্যবিত্ত শ্রেণী ও জাতীয় বুর্জোয়াশ্রেণীকে সমাবেশিত করার মাধ্যমে য্ক্তুফ্রন্ট গঠনে, ঘাঁটি অঞ্চলসমূহ গড়ে তোলায়।

তিনি ১৯৬৭ সালে মাও সেুতঙ গবেষণা কেন্দ্র গঠন করেন একটি সর্বহারা শ্রেণীর পার্টি গড়ে তোলার মতাদর্শিক প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য, ১৯৬৮ সালে পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন গঠন করেন সর্বহারা শ্রেণীর পার্টি গড়ে তোলার প্রস্তুতি সংগঠন হিসেবে, ১৯৭০-এ সশস্ত্র সংগ্রাম সূচনা করেন আর ১৯৭১-এ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বরিশাল জেলার মুক্ত ঘাঁটিতে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।

কমরেড গনসালো কি এক নতুন পার্টি গঠন করেন না কি পূর্ব থেকে অস্তিত্বমান এক পার্টিতে যোগ দেন?

গনসালো পার্টিতে এক দল গঠন করার কাজ করেন মেরিয়েতেগুইর মূল্য নিশ্চিত করতে যাতে পার্টিতে সঠিক দিশা দেয়া যায়। ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে তিনি এভাবে সংগ্রামকে উপস্থাপন করেছেন:

“প্রথম পর্বের প্রথম অংশ হচ্ছে পার্টি প্রতিষ্ঠা যাতে আমরা ভাগ্যবান যে হোসে কার্লোস মেরিয়েতেগুকে পেয়েছি যিনি এক গভীর মার্কসবাদী-লেনিনবাদী।কিন্তু অনিবার্যভাবে মেরিয়েতেগুইকে বিরোধিতা করা হয়েছে, নেতিকরণ করা হয়েছে। তার লাইনকে বর্জন করা হয়েছে, আর সাংবিধানিক কংগ্রেস-যাকে তিনি একটি ঝুলে থাকা করণীয় হিসেবে রেখেছিলেন তা কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।

যে তথাকথিত সাংবিধানিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত করেছে তথাকথিত “জাতীয় ঐক্য” এর লাইন তা মেরিয়েতেগুইর তত্ত্বের সম্পূর্ণ বিরোধি।

ব্রাউডারিয় ভাবধারার প্রভাবে পড়ে এভাবে পার্টি সুবিধাবাদে আপাদমস্তক নিমজ্জিত হয়, যার সাথে প্রাদো জড়িত ছিল, এবং পরে আধুনিক সংশোধনবাদ।পুরোপ্রক্রিয়াআমাদেরদ্বিতীয়পর্বে নিয়ে যায়, পাটি পুনর্গঠনে। মোটকথা, এটি সংশোধনবাদেরবিরুদ্ধেএকটিসংগ্রাম।

এটা হচেছ একটা পর্ব যা আমরা পরিষ্কারভাবে দেখি ’৬০ দশকের শুরুর সাথে প্রবলভাবে সূচিত হয়।

এই প্রক্রিয়া পাটি সদস্যদেরকে সংশোধনবাদী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে নেতৃত্ব দেয়, এবং যেমনটা আমি আগেই বলেছি, তাদেরকে জানুয়ারি ১৯৬৪র চতুর্থ সম্মেলনে বহিষ্কার করতে। পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়া পার্টিতে বিকশিত হয় ১৯৭৮-৭৯-এর পূর্ব পর্যন্ত; তখন এটা শেষ হয় ও তৃতীয় পর্ব শুরু হয় যা হচ্ছে যার মধ্যে আমরা বাস করছি সেই গণযুদ্ধ [১৯৮০ তে শুরু হয়ে]কে নেতৃত্ব দেওয়ার পর্ব।”

কমরেড আলফ্রেড ক্লাহর কি এক নতুন পার্টি গঠন করেন না কি পূর্ব থেকে অস্তিত্বমান এক পার্টিতে যোগ দেন?

আলফ্রেড ক্লাহর অস্ট্রিয়ার কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন।

৩. মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব

কমরেড আকরাম ইয়ারি কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

পিওয়াইও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ঝড়ো বছরগুলিতে সক্রিয় ছিল। কমরেড আকরাম ইয়ারি সর্বহারা বিপ্লব এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদে চেয়ারম্যান মাওসেতুঙের অবদানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং একে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা হিসেবে গ্রহণ করেন আফগানিস্তানের মূর্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হিসেবে।

তিনি মাওসেতুঙ চিন্তাধারাকে আধুনিক সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব সর্বহারার আন্তর্জাতিক ব্যানার হিসেবে বিবেচনা করেন।তিনি ক্রুশ্চেভের “তিন শান্তিপূর্ণ” ও “দু্ই সমগ্র” সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেন।

তিনি পূর্ণত উপলব্ধি করেন যে পিওয়াইও নিশ্চিতভাবে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পথনির্দেশের লড়াকু ফ্রন্ট লাইন হতে পারে যাতে সে ক্রুশ্চেভপন্থী সংশোধনবাদী পার্টি “আফগানিস্তানের জনগণতান্ত্রিক পার্টি”র বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারে।

কমরেড ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

টিআইআইকেপির কর্মসূচির সমালোচনাতে ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া ব্যাখ্যা করেন: “আমাদের আন্দোলন হচ্ছে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফল।”

কমরেড সিরাজ সিকদার কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

সিরাজ সিকদার চিন্তাধারা ছিল মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ভিত্তিক। একটি সর্বহারা শ্রেণীর পার্টি গড়ে তোলার মতাদর্শিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সিরাজ সিকদার ১৯৬৭ সালে মাও সেতুঙ গবেষণাগার গঠন করেন এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সেতুঙ চিন্তাধারাকে মার্কসবাদের তৃতীয় স্তর ঘোষণা করেন। তিনি মস্কোপন্থী ও পিকিংপন্থী নির্বিশেষে সকল ধরণের ভ্রান্ত ধারার বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেন। চীনা রাষ্ট্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাথে ১৯৭১-এ আপোষ করে যখন সিরাজ সিকদার পাকিস্তান ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গণযুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। তিনি চীনপন্থী বা চীনের রাষ্ট্রের যে কোন ততপরতাকেই মাওবাদী বিবেচনা করেননি। এটা ছিল মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের তার গভীর উপলব্ধি যা তাকে চালিত করেছে যে কোন ধরণের সংশোধনবাদকে বর্জন করতে তার নাম ও রূপ যাই হোক না কেন।

কমরেড গনসালো কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফসল হিসেবে বিবেচনা করেছেন?

হ্যাঁ, তার ১৯৮৮-র সাক্ষাতকারে, গনসালো ব্যাখ্যা করেন কীভাবে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব তাকে হোসে কার্লোস মেরিয়েতেগুইকে সত্যিকারভাবেবুঝতে সক্ষম করেছে।

“হ্যাঁ, আমি চীনে ছিলাম। চীনেআমার সৌভাগ্য হয়েছিল একটা স্কুলে শিক্ষা নিতে যেখানে আন্তর্জাতিক প্রশ্ন থেকে মার্কসবাদী দর্শন পর্যন্ত রাজনীতি শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

পরীক্ষিত ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন মহান শিক্ষক বিপ্লবীগণ পাণ্ডিত্যপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করেন। তাদের মধ্যে আমার মনে আছে আমাদের প্রকাশ্য ও গোপন কাজ সম্পর্কে শিক্ষা দেন এক শিক্ষক যিনি তার সমগ্র জীবন পার্টির জন্য, কেবলপার্টিরজন্য জীবন উতসর্গ করেছেন বহু বছর ধরে – এক জীবন্ত উদাহারণ ও অসাধারণ শিক্ষক।

তিনি আমাদের বহু জিনিস শিক্ষা দিয়েছেন, এবং তিনি আমাদের আরো অনেক কিছু শিখাতে চেয়েছেন কিন্তু কেউ কেউ তা গ্রহণ করেনি, সবচেয়ে বড় কথা এই জীবনে বহু ধরণের মানুষ আছে। পরে তারা আমাদের সামরিক বিষয়ে শিক্ষা দেন। কিন্তু এখানেও তারা রাজনীতি থেকে শুরু করে গনযুদ্ধ, তারপর সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, রণনীতি ও রণকৌশল শেখান। তারপর তার সাথে যে ব্যবহারিক দিক যেমন, এ্যামবুশ, আক্রমণ, সামরিক চলাফেরা এবং বিস্ফোরক তৈরি করা।

যখন আমরা বিপজ্জনক রাসায়নিক নাড়াচাড়া করছিলাম তারা আমাদের আহ্বান জানান সর্বদাই মতাদর্শকে প্রথম ও সর্বাগ্রে রাখতে, কারণ তা আমাদের সক্ষম করবে যে কোন কিছুই করতে, ও ভালভাবে করতে।

আমরা শিখলাম আমাদের প্রথম বিস্ফোরণ ঘটাতে।আমার জন্য এটা একটা স্মরণীয় উদাহারণ ও অভিজ্ঞতা, এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, আমার বিকাশে এক বড় পদক্ষেপ দুনিয়ার অভূতপুর্ব উচ্চতম স্কুলে ট্রেনিং নেওয়া।

আচ্ছা আপনি যদি একটা উপাখ্যান চান, এখানে তা। আমরা যখন বিস্ফোরক সংক্রান্ত পাঠ শেষ করলাম, তারা আমাদের বললেন যে সবকিছুই বিস্ফোরিত হতে পারে।

তাই, পাঠের শেষে আমরা একটা কলম নিলাম, তা বিস্ফোরিত হল, যখন আমরা আসন গ্রহণ করলাম, তা বিস্ফোরিত হল। এটা ছিলসাধারণ আগুণে কার্যকলাপ প্রদর্শন।

এগুলো ছিল নিখাদ হিসেবকৃত ‍উদাহারণ, আমাদের দেখাতে যে সবকিছুই বিস্ফোরিত হতে পারে যদি আপনি ঠিক করেন কীভাবে করবেন। আমরা অব্যাহতভাবে প্রশ্ন করি, “কীভাবে করলেন?কীভাবে করলেন?” তারা আমাদের বললেন, ব্যস্ত হয়োনা, ব্যস্ত হয়োনা, তোমরা ইতিমধ্যেই অনেক কিছু শিখেছ। মনে রেখ, জনগণ কী করতে পারে, তাদের রয়েছে অফুরন্ত সৃজনশীলতা, আমরা তোমাদের যা শেখালাম তা জনগণ করবে এবং তোমাদের সবকিছুই আবারো শেখাবে। এসবই তারা আমাদের বলেছেন। ঐ স্কুল আমার বিকাশে বিরাট অবদান রেখেছে এবং চেয়ারম্যান মাওসেতুঙের মূল্য বুঝতে শুরু করায় সাহায্য করেছে।

পরবর্তীতে আমি আরো কিছু অধ্যয়ন করি এবং আমি তা প্রয়োগ করতে চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, চেয়ারম্যান মাওসেতুঙ, মাওবাদ এবং মাওয়ের অনুশীলন থেকে আমার এখনো প্রচুর শেখার আছে।

এটা এইনা যে আমি তার সাথে আমার নিজেকে তুলনা করছি, সরলভাবে এটা হচ্ছে আমার লক্ষ্য অর্জন করতে উচ্চতম শিখরকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা। চীনে আমার অবস্থান ছিল স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।

আমি সেখানে আরেক সময় ছিলাম যখন মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হচ্ছিল। আমরা তাদের কাছে মাওসেতুঙ চিন্তাধারা বলে যা বলা হয়েছে তার ব্যাখ্যা করতে বললাম। তারা আমাদের বেশিকিছু শেখালেন যা আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছে, আমি বলব একটু বেশি, একটাযোগসূত্র যে যতবেশি আমি মাওসেতুঙকে বুঝি ততই আমি মেরিয়েতেগুইকে প্রশংসা করি ও মুল্য দেই।

যেহেতু মাও আমাদের আহ্বান জানান সৃজনশীলভাবে প্রয়োগ করতে, আমি ফিরে যাই ও মেরিয়েতেগুইকে পুনরায় অধ্যয়ন করি, আর দেখি যে তিনি ছিলেন আমাদের প্রথম সারির মার্কসবাদী-লেনিনবাদী যে আমাদের সমাজকে সমগ্রভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এটা কঠিন সত্য।

আলফ্রেড ক্লাহর কি নিজেকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফল বিবেচনা করেছেন?

আলফ্রেড ক্লাহর মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগে মারা গেছেন, এমনকি ১৯৪৯ এর চীনা নয়াগনতান্ত্রিক বিপ্লবের সফলতার আগে।

৪. প্রধান দলিলসমূহ

আকরাম ইয়ারির প্রধান দলিলগুলো কী কী?

পিওয়াইওর কর্মসূচি খসড়া করা হয়েছিল আর পিওয়াইওর দ্বিতীয় কংগ্রেসে গৃহিত হয়েছিল।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কমরেড আকরাম ইয়ারির অধিকাংশ রচনাই এখনো পাওয়া যায়নি। সেগুলোকে রক্ষা করতে তাকে তিনি গোপন করেছেন। রাজা জাহেরের সময় থেকে পিডিপিএ শাসনের কাল পর্যন্ত সকল প্রতিক্রিয়াশিল শাসকেরা গোপন মাওবাদী উপাদানের পিছু নিয়েছিল ও নিপীড়ন করছিল।ক্ষমতায় থাকাকালে সংশোধনবাদী পিডিপিএ ছিল আফগানিস্তানের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদীদের শত্রু। তাই কমরেড ইয়ারি তার লেখা গোপন করেছেন। হতাশাজনকভাবে, সেসময় আফগানিস্তানের মত এক গরীব দেশে বিপ্লবী বই প্রকাশের সম্ভাবনা কম ছিল, প্রধানত: তিনটি কারণে:

। মুদ্রন ঘরের অভাব: প্রায় সকল মুদ্রন ঘরই ছিল রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

। আধুনিক মুদ্রন মেশিন হাতে না থাকা, সেই লক্ষ্যে কোন বাজেট না থাকা। পিওয়াইওর কোন সংগ্রামী অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ছিলনা। এটা প্রধানত তার সদস্যদের সদস্য ফির অবদানের থেকে প্রধানত যা কিছু অর্জন করতো।

। রাজা জহির ও তার পরবর্তী লর্ড দাউদের “প্রেসিডেন্ট থাকা”র সময়কালের বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও উচ্চ পুলিশী পরিস্থিতির কারণে মুদ্রন ঘরের কোন নিরাপত্তা ছিলনা।অল্প কিছু যে গোপন হস্তচালিত প্রিন্টিং মেশিন ছিল তা প্রকাশ হয়ে যায় ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া বিপ্লবীদের সর্বদাই জেলে পাঠানো হয়, তার চেয়ে খারাপ যা তা হচ্ছে গুলি করে মারা হয়।

আফগানিস্তানের কমরেডদের নোট

চেয়ারম্যান আকরাম ইয়ারির যদি অল্প কয়েকটা দলিল অবশিষ্ট থাকে, তাহলে আপনারা কীভাবে প্রমাণ করবেন যে পথ নির্দেশক চিন্তাধারা গঠিত হয়েছে?

কমিউনিস্টদের একটা প্রজন্ম তার দ্বারা শিক্ষিত হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে তারা এই শিক্ষা পেয়েছেন যে আফগানিস্তানের সর্বহারা শ্রেণীই হচ্ছে আফগানিস্তানের বিপ্লবের অগ্রবাহিনী।তারা তার কাছ থেকে এই শিক্ষা পেয়েছেন যে আমাদের আসন্ন বিপ্লব হচ্ছে একটা নতুন ধরণের গণতান্ত্রিক বিপ্লব: নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব।

তারা তাঁর কাছ থেকে শেখেন যে আমাদের বিপ্লব বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের অংশ।

আর চুড়ান্তত ও প্রধানত তারা তাঁর কাছে এই শিক্ষা পেয়েছেন যে মাওবাদ সর্বহারা একনায়কত্বের অধীনে বিপ্লব অব্যাহত রাখায় অবদান রেখেছে ও এই শিক্ষা দিয়েছে যে একজন মার্কসবাদী হওয়ার মানে হচ্ছে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা (মাওবাদকে সেসময় ১৯৬০ দশকে মাওচিন্তাধারা বলা হতো, সবাই জানেন)র আলোকজ্জ্বল পরিখার সৈনিক হওয়া।

আজকে আফগানিস্তানের ওয়ার্কার্স অর্গানাইজেশন (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী, প্রধানত: মাওবাদী) মনে করে যে কমরেড আকরাম ইয়ারির পথনির্দেশক চিন্তাধারাই আমাদের শক্তি ও দায়িত্ব প্রদান করে। চার দশকের ইতিহাস যেমনটা প্রমাণ করেছে যে, এই আলোকজ্বল পরিখাকে অবহেলা মাওবাদ থেকে বিচ্যুত করে এবং বিপ্লবীদের সংশোধনবাদে পতিত করে।

বিপ্লবীদের একটি অংশ যারা চেয়ারম্যান আকরাম ইয়ারি থেকে নিজেদের পথ বিচ্ছিন্ন করেছে, তারা আনোয়ার হোজার গোঁড়ামীবাদী সংশোধনবাদে, চেবাদী ও মধ্যপন্থী সংশোধনবাদে পতিত হয়েছে ও শেষ পর্যন্ত সংশোধনবাদী পিডিপিএর কাছে আত্মসমর্পন করেছে।

কমরেড আকরাম ইয়ারির আলোকময় লাইনই সর্বদা মাওবাদকে প্রতিনিধিত্ব করেছে এবং বিপ্লবী অনুশীলনে অবদান রেখেছে।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়ার প্রধান দলিলগুলো কী কী?

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া, যিনি ২১ বছর বয়সে মারা যান, চারটি প্রধান দলিল রচনা করেছেন। এই দলিলগুলো টিকেপি/এমএল (তুরস্কের কমিউনিস্ট পার্টি/মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) র প্রতিষ্ঠার মুল দলিল।

প্রথমটি ১৯৭২-এর শুরুতে টিকেপি/এমএল-এর গঠনের পর লেখা হয়েছিল, যার শিরোনাম “টিকেপি/এমএল কর্তৃক সাফাক (আইদিনিলিক) সংশোধনবাদের সাধারণ সমালোচনা”।

সাফাক (ভোর) ছিল সংশোধনবাদী তুরস্কের বিপ্লবী শ্রমিক ও কৃষক পার্টির বেআইনি কেন্দ্রিয় পত্রিকা; আর আইদিনিলিক (স্বচ্ছতা) ছিল পার্টির লাইনকে তুলে ধরা আইনি পত্রিকা।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কৃত “সাধারণ সমালোচনা” য় রয়েছে ১১টি প্রবন্ধ এবং একটি দীর্ঘ দলিল “সাফাক সংশোধনবাদ থেকে আমাদের পৃথক করে যে মূল প্রশ্নসমূহ”; এগুলো মিলে বই ১৫০ পৃষ্ঠার।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়ার অন্য দলিলগুলো যার প্রতিটি ৬০ পৃষ্ঠা করে, আরো বিখ্যাত। ১৯৭২-এর জানুয়ারিতে কায়পাক্কায়া লেখেন “টিআইআইকেপি (আইদিনিলিক)এর কর্মসূচির সমালোচনা এবং “কামালবাদ সম্পর্কে মতাবস্থান”।

প্রথম দলিলটি “সাধারণ সমালোচনা”র চেতনায় সংশোধনবাদী টিআইআইকেপির সমালোচনা; আর দ্বিতীয়টি খুব বিখ্যাত দলিল যেখানে তিনি কামালবাদকে ফ্যাসিবাদ হিসেবে চরিত্রায়িত করেছেন।

ডিসেম্বর ১৯৭১-এ আরো লেখেন “তুরস্কে জাতীয় প্রশ্ন”, এখানে তিনি সংশোধনবাদী জাত্যাভিমানকে বর্জন করে ও জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারকে রক্ষা করে কুর্দী প্রশ্নকে আলোচনা করেন।

সিরাজ সিকদারের প্রধান দলিলগুলো কী কী?

সিরাজ সিকদার প্রচুর দলিল রচনা করেছেন। একজন মাওবাদী নেতা হিসেবে যখন থেকে তিনি তাঁর কর্ম ততপরতা শুরু করেন তাঁর কলম কখনো থামেনি। এ পর্যন্ত একশতরও বেশি দলিল পাওয়া গেছে। তিনি মতাদর্শিক, সাংগঠনিক, রাজনৈতিক, সামরিক, সাহিত্য সমালোচনা, কবিতা রচনা করেছেন। প্রধান দলিলগুলো হলঃ

। পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনের থিসিস (প্রথম প্রকাশ ৮ জানুয়ারি ১৯৬৮, পুনর্লিখিতভাবে পরিবর্ধিত পুনপ্রকাশ ১ ডিসেম্বর ১৯৬৮)

। পূর্ববাংলার সামাজিক বিকাশের বর্তমান পর্যায়ে প্রধান দ্বন্দ্ব নির্ণয়ের প্রশ্নে নয়া-সংশোধনবাদী হক-তোয়াহা, ট্রটস্কি-চেবাদী দেবেন-মতিন ও ষড়যন্ত্রকারী কাজী-জাহিদ বিশ্বাসঘাতক চক্রের সাথে পূর্ববাংলার মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওসেতুঙ চিন্তানুসারী সর্বহারা বিপ্লবীদের পার্থক্য (১৯৭০-এর প্রথম দিক)

। তথাকথিত পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (যে পার্টি আকৃতিগতভাবে ‘বাম’ কিন্তু সারবস্তুগতভাবে ডান)-এর খসড়া রণনীতি ও কর্মসূচির স্বরূপ উদঘাটন (মার্চ, ১৯৭০। সংশোধিত আকারে পুনর্লিখিত, এপ্রিল, ১৯৭২)

। পূর্ববাংলার সমাজের শ্রেণী বিশ্লেষণ (১৯৭০-এর প্রথম দিকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংশোধিত আকারে পুনপ্রকাশ ১৯৭২)

। স্বাধীন পূর্ববাংলা কায়েম করুন (৮ জানুয়ারি ১৯৭১)

। কয়েকটি শ্লোগান প্রসঙ্গে (জানুয়ারি ১৯৭১)

। শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনের খোলা চিঠি (২ মার্চ ১৯৭১)

। পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনের কর্মীরা সাহসী হোন, দৃঢ়ভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করুন, জাতীয় শত্রু খতম করুন, জাতীয় মুক্তি বাহিনী গড়ে তুলুন, কর্মসূচী বাস্তবায়ন করুন (২৩ এপ্রিল ১৯৭১)

। পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির খসড়া সংবিধান (সেপ্টেম্বর ১৯৭১)

১০। দেশপ্রেমিকের বেশে ছয় পাহাড়ের দালাল (অক্টোবর ১৯৭১)

১১। জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে কৃষকের ওপর নির্ভর করুন। পাক সামরিক দস্যুদের শীতকালীন অভিযান এবং ছয় পাহাড়ের দালাল আওয়ামী লীগ মুক্তি বাহিনীর ফ্যাসিস্ট প্রতিক্রিয়াশীলদের জনগণবিরোধী ততপরতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করুন। গেরিলা যুদ্ধকে বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিন। (অক্টোবর ১৯৭১)

১২। পুর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে প্রদত্ত রিপোর্ট (জানুয়ারি ১৯৭২)

১৩। পূর্ববাংলার বীর জনগণ, আমাদের সংগ্রাম এখনও শেষ হয়নি, পূর্ববাংলার অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার মহান সংগ্রাম চালিয়ে যান। (মার্চ ১৯৭২, সংশোধিত ও পুনমুদ্রিত মে ১৯৭২, সংশোধিত ও পুনমুদ্রিত মার্চ ১৯৭৪)

১৪। বিপ্লবে নেতৃত্ব ও কর্মীদের ভূমিকা (১৯৭২)

১৫। সমাজতন্ত্র, শ্রেণীসংগ্রাম ও সামাজিক বিপ্লব প্রসঙ্গে (অক্টোবর ১৯৭২)

১৬। পূর্ববাংলার সর্বহারা শ্রেণীর রাজনৈতিক পার্টির নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কতিপয় সমস্যা (৩০ এপ্রিল ১৯৭৪)

গনসালোর প্রধান দলিলগুলো কী কী?

প্রধান দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৮৮-এর সুপরিচিত সাক্ষাতকার ও “আএলএ-৮০”ছাড়াও, পুনর্গঠিত পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসের দলিলসমূহ-যা গঠন করে পার্টি ঐক্যের ভিত্তি (বিইউপি): “মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ”, “গনসালো চিন্তাধারা”, “আন্তর্জাতিক লাইন”, “গণতান্ত্রিক বিপ্লব”, “সামরিক লাইন”, “বিপ্লবের তিন হাতিয়ারের বিনির্মাণের লাইন”, “গণলাইন”।

বন্দী অবস্থায় ১৯৯২ অক্টোবরে তার ভাষণকে এখানে যুক্ত করা যায় (“এই পরিস্থিতিতে আমরা এখানে আছি। অনেকে মনে করে এটা একটা বিরাট পরাজয়। এরা স্বপ্ন দেখছেন। আমরা তাদের বলব আপনারা স্বপ্ন দেখতে থাকুন। এটা স্রেফ একটা বাঁক, তার বেশি কিছু নয়, পথের বাঁক! পথটা দীর্ঘ, আর আমরা পৌঁছবো। আমরা জয়ী হবো! আপনারা দেখবেন!আপনারা দেখবেন!)

আলফ্রেড ক্লাহরের প্রধান দলিলগুলো কী কী?

আলফ্রেড ক্লাহরের প্রধান দলিলগুলো হল অনেকগুলো প্রবন্ধ সিরিজ “জুর ন্যাশনালেন ফ্রেগ ইন অস্টারেখ” (অস্ট্রিয়ার জাতিসমস্যা প্রশ্নে) যা ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় অস্ট্রিয়ান কমিউনিস্ট রিভিউ “ওয়ে এন্ড জিয়েল” (পথ ও লক্ষ্য)-এ।

অসভুইচ-বার্কেনা কনসেন্ট্রশন ক্যাম্পে লেখা “অসভু্ইচ পাঠ” হচ্ছে অস্ট্রিয়ান ও জার্মান কমিউনিস্টদের মধ্যে বিতর্কের সংশ্লেষণ[ক্লাহর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে, এসএস (জার্মান ফ্যাসিস্ট বাহিনী)কর্তৃক গুলিতে ওয়ারশতে নিহত হন]।

৬. গণযুদ্ধ

বিপ্লবী আকরাম ইয়ারি কি গণযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন?

আকরাম ইয়ারি নিজে গণযুদ্ধ পরিচালনা করতে পারেননি।

তখনো তিনি অনেক নবীন আর সিজোফ্রেনিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হলেন। দ্বিতীয়ত, তরুণ অবস্থায় তিনি সংশোধনবাদী পিডিপিএ কর্তৃক খুন হলেন। কিন্তু তার শিক্ষা ভবিষ্যত সশস্ত্র সংগ্রাম ও চূড়ান্তত দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ পরিচালনার সম্ভাবনার পথ তৈরি করে। উদাহারণস্বরূপ, আফগানিস্তানে “সোভিয়েত” সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ১৯৮০ দশকের প্রথমার্ধে “সামা”র মত ততকালীন বিপ্লবী সংগঠনগুলো যে বিপ্লবী সংগ্রাম পরিচালনা করে তা ছিল আকরাম ইয়ারির শিক্ষার ভিত্তিতে।

বিপ্লবী ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি গণযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন?

হ্যাঁ, ইব্রাহিম কাপাক্কায়া টিক্কো (টিআইকেকেও) গঠন করেন যা হচ্ছে তুরস্কের শ্রমিক ও কৃষকদের মুক্তি বাহিনী। দেরসিমের পার্বত্য এলাকায় ইব্রাহিম কাপাক্কায়া নিজে প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন, তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার এক সপ্তাহ পরে তিনি বন্দী হন। তাকে বাধ্য করা হয় নগ্ন পায়ে হেটে যেতে ৫০ কিলোমিটার তুষাঢ় আর বরফের নদী পেরিয়ে শহর থেকে শহরে, তারপর প্রায় চার মাস দিয়ারবাকিরস বন্দীশালায় তাকে রাখা হয় নির্জন কারাবাসে এবং ধারাবাহিকভাবে তার ওপর নির্যাতন চলে। কোনরকম তথ্য প্রকাশ না করায় প্রতিক্রিয়া তাকে গুলি করে হত্যা করে।

বিপ্লবী সিরাজ সিকদার কি গণযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন?

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সেতুঙ চিন্তাধারাকে মার্কসবাদের তৃতিয় স্তর হিসেবে গ্রহণ করার পর, সিরাজ সিকদার এক সর্বহারা পার্টি গড়ে তোলার জন্য সর্বহারা শ্রেণীকে নেতৃত্ব দেন তার সংগঠন গড়ে তোলায়। তাঁর নেতৃত্বে পার্টির প্রস্তুতি সংগঠন পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলন ১৯৬৮ সালে সশস্ত্র সংগ্রাম সূচনা করে এবং ১৯৭১ সালে গণযুদ্ধ পরিচালনারত অবস্থায় মুক্তাঞ্চলে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি গঠিত হয়। দেশেব্যাপী সশস্ত্র সংগ্রাম গড়ে তোলার পাশাপাশি, পার্টি দুইবার ঘাঁটি এলাকা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়ঃ একবার ১৯৭১ সালে বরিশালের পেয়ারাবাগানে, পরবর্তীতে আরেকবার ৭২-৭৫ সময়কালে পার্বত্য চট্রগ্রামে। যখন কমরেড সিরাজ সিকদার আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক মাত্র ৩০ বছরের তরুণ বয়সে নিহত হলেন, পার্টি ও সশস্ত্র সংগ্রাম দুর্বল হয়ে পড়ে, কিন্তু সশস্ত্র ততপরতা অব্যাহত থাকে।

বিপ্লবী গনসালো কি গণযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন?

গনসালো পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হিসেবে পার্টির পুনর্গঠন চালান, গণযুদ্ধের দিকে এর সংগঠনকে, ১৯৮০ সালে গণযুদ্ধ সূচিত করেন ও বিকশিত করেন ১৯৯২ সালে গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।

বিপ্লবী আলফ্রেড ক্লাহর কি গণযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন?

আলফ্রেড ক্লাহরের পার্টি ১৯২০ দশকে ছিল খুবই দুর্বল, ১৯৩৪-এ একে ফ্যাসিবাদ মোকাবেলা করতে হয়, তারপর ১৯৩৮-এ নাতসি দখলদারি। বেআইনি কাজকর্ম ছিল সাধারণ ফ্যাসি বিরোধি সংগ্রমের অংশ। সশস্ত্র সংগ্রাম সম্পর্কে আলফ্রেড ক্লাহরের কোন নির্দিষ্ট বিবেচনা ছিলনা।

৭. স্বীকৃতি

আকরাম ইয়ারি কি একজন নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন?

চেয়ারম্যান আকরাম ইয়ারি আফগানিস্তানে মাওবাদী আন্দোলনের সূচনা থেকে এক নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃত।

তাছাড়া সবাই এটা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে যে তিনি ছিলেন আফগানিস্তানের প্রথম মাওবাদী নেতা, এবং আফগানিস্তানে মাওবাদী লাইনের সূচনাকারী ও প্রতিষ্ঠাতা। আফগানিস্তানের নয়াগণতন্ত্রের আন্দোলনে তার নেতৃত্ব ও নেতা হিসেবে তার উদ্যোগ অবহেলা করে এমন মাওবাদী নেই।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি একজন নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন?

হ্যাঁ, ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া তুরস্কের মাওবাদী আন্দোলনের মহান নেতায় পরিণত হন। আর এটা লক্ষনীয় যে, তুরস্কের প্রতিক্রিয়াশিল রাষ্ট্র তার সাথে সম্পর্কিত সবকিছু নিষিদ্ধ করতে যাবতীয় প্রচেষ্টা চালায়, অন্যদিকে চেবাদী মহির কায়ানের রোমান্টিকতাবাদ আধা গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয় এবং হোজাবাদী ডেনিস গেজমিদ প্রায় স্বীকৃত হয়।

আজ পর্যন্ত মাওবাদীদের কাছে ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কেন্দ্রীয়, এমনকি যারা তাকে “সংশোধন করার ভাণ করে মাওসেতুঙের রেফারেন্স, গণযুদ্ধ ও নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবকে নেতিকরণ করে সেই “মার্কসবাদী-লেনিনবাদী”দেরও।

সিরাজ সিকদার কি একজন নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন?

কমরেড সিরাজ সিকদার স্বীকৃত হন পূর্ববাংলার সবচেয়ে বিখ্যাত মাওবাদী নেতা হিসেবে এবং একই সাথে পূর্ববাংলার ইতিহাসে একজন মহান জাতীয় নেতা হিসেবে।

গনসালো কি একজন নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন?

হ্যাঁ, গনসালো স্বীকৃতি পেয়েছেন সংশোধনবাদকে লড়া লাল দলের নেতা হিসেবে, নতুন পার্টির নেতা হিসেবে এবং পেরুতে নয়াগণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় চিন্তাধারা বহনকারী ব্যক্তি হিসেবে।

আলফ্রেড ক্লাহর কি একজন নতুন নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন?

এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়নি যাতে আলফ্রেড ক্লাহর পার্টির নেতৃত্ব দিতে পারেন, নাতসি জার্মানীর পরাজয়ের পর অস্ট্রিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির নতুন ধারা ইতিমধ্যেই সংশোধনাদী ধারায় প্রবাহিত হয়। তাই, আলফ্রেড ক্লাহরের রচনা-কর্মবিবেচেনায় নেওয়া হয়নি।

তাসত্ত্বেও, আলফ্রেড ক্লাহরই প্রথম যিনি নিশ্চিত করেছেন যে অস্ট্রিয় জাতি অস্তিত্বমান এবং জনগণের সচেতনতার মধ্যে এই বাস্তবতা বিকশিত হবে। এটা বস্তুত সত্য ছিল, অধিক থেকে অধিকতর, একেবারে যেমনটা ক্লাহর ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন। তাই ক্লাহরের জনপ্রিয়তা বেড়ে গেল, কিন্তু তা শুধু কিছু বুদ্ধিজীবিদের চক্রে এবং তার থেকে কোন মতাদর্শিক উপসংহার ব্যতিত।

৮. গণযুদ্ধের সার্বজনীনতা

আকরাম ইয়ারি কি গণযুদ্ধকে সার্বজনীন বিবেচেনা করেছেন?

কমরেড আকরাম ইয়ারি চেয়ারম্যান মাওয়ের এই শিক্ষা পুননিশ্চিত করেছেন যে বন্দুকের নল থেকেই রাজনৈতিক ক্ষমতা বেড়িয়ে আসে। তিনি ঘোষনা করেন যে মাও চিন্তাধারার মূল বিষয় হছে ক্ষমতার প্রশ্ন, সর্বহারা শ্রেণীর জন্য ক্ষমতা, এটা সার্বজনীন নিয়ম যে বিশ্বের প্রতিক্রিয়াশীলদের কেবল বিপ্লবী সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমেই উচ্ছেদ করা সম্ভব।

এমন কোন দলিলের অস্তিত্বের প্রমান নেই যে আকরাম ইয়ারি গণযুদ্ধকে সার্বজনীন হিসেবে সকল দেশের জন্য ব্যবহার করেছেন। বস্তুত, চেয়ারম্যান গনসালোই প্রথম চেয়ারম্যান মাওয়ের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে এমন প্রামাণিক অবস্থান প্রচার করেন।

কিন্তু কমরেড আকরাম বিপ্লবী সশস্ত্র সংগ্রামকে সকল দেশের জন্য সর্বহারা শ্রেণীর ক্ষমতার সার্বজনীন পথ বিবেচেনা করে আফগানিস্তানে এই ধারণার ভিত্তি স্থাপন করেছেন।

আমাদের সংগঠন (ওডাব্লুএমএলএম-পিএম) চেয়ারম্যান আকরাম ইয়ারির লাইনকে বিকশিত করে দীর্ঘস্থায়ি গনযুদ্ধকে সার্বজনীন ও সাম্যবাদের পূর্ব পর্যন্ত স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর নিজেকে স্থাপন করে।

বস্তুত আমাদের সংগঠনের নেতা কমরেড “এক্স”, যিনি কমরেড আকরাম ইয়ারিকে বিকশিত করেছেন, একে চেয়ারম্যান গনসালোর সাম্যবাদের পূর্ব পর্যন্ত গণযুদ্ধের স্বীকৃতির মতবাদের সাথে সমৃদ্ধকরণ করে।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি গণযুদ্ধকে সার্বজনীন বিবেচেনা করেছেন?

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া এ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেননি। তবে মাওয়ের ধারণাকে অনুসরণ করে লাল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্নকে আলোচনা করে ইব্রাহিম কাপাক্কায়া নিশিচত করেন যে “ঔপনিবেশিক ও আধা ঔপনিবেশিক সকল পশ্চাদপদ দেশে লাল রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্ভব। কেবল সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতেই তা সম্ভব নয়।”

সিরাজ সিকদার কি গণযুদ্ধকে সার্বজনীন বিবেচেনা করেছেন?

গণযুদ্ধের সার্বজনীনতার ধারণাটি গনসালো গড়ে তুলেছেন।তাই এ প্রশ্ন উঠেনা। সিরাজ সিকদার উপনিবেশিক ও আধা উপনিবেশিক দেশগুলির বিপ্লবের পথ হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধকে বিবেচেনা করেছেন।

গনসালো কি গণযুদ্ধকে সার্বজনীন বিবেচেনা করেছেন?

গনসালোই সেই, যিনি গণযুদ্ধের সার্বজনীনতা সূত্রায়িত করেন। ১৯৮৮র সাক্ষাতকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন-

“সহিংসতার ব্যাপারে আমরা চেয়ারম্যান মাওসেতুঙের প্রতিষ্ঠিত নীতি থেকে যাত্রা করি: সহিংসতা, অর্থাত বিপ্লবী সহিংসতার প্রয়োজনীয়তা হচেছ ব্যতিক্রমহীন সার্বজনীন নিয়ম।

বিপ্লবী সহিংসতা হচ্ছে তাই যা আমাদেরকে অনুমোদন দেয় মৌলিক দ্বন্দ্বকে বাহিনীর দ্বারা গণযুদ্ধের মাধ্যমে মীমাংসার ।

কেন আমরা চেয়ারম্যান মাওয়ের থিসিস থেকে যাত্রা করি?

কারণ আমরা বিশ্বাস করি মাও এ প্রশ্নে মার্কসবাদকে পুননিশ্চিত করেছেনএটা প্রতিষ্ঠিত করে যে এই নিয়মের কোন ব্যতয় ঘটেনা। মার্কস মনে করেছেন সহিংসতা হচ্ছে ইতিহাসের ধাত্রী আর তা সম্পূর্ণ প্রযোজ্য হয়ে রয়েছে এবং এটা একটা স্মরণীয় অবদান।

লেনিন সহিংসতাকে ব্যাখ্যা করেছেনএবং এঙ্গেলস কর্তৃক সহিংসতার প্রশংসার কথা বলেছেন, কিন্তু চেয়ারম্যান মাওই আমাদের বলেন যে এটা ব্যতিক্রমহীন সার্বজনীন নিয়ম।তাই আমরা তাঁর এই থিসিসকে আমাদের যাত্রাবিন্দু হিসেবে নেই।

এটা মার্কসবাদের এক জরুরি প্রশ্ন, কারণ বিপ্লবী সহিংসতা ছাড়া এক শ্রেণী আরেক শ্রেণীকে, এক নতুন ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পুরোনো ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করা যায়না, এই নতুন ব্যবস্থা আজকে সর্বহারা নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টিসমূহের মাধ্যমে।

বিপ্লবী সহিংসতার সমস্যা হচ্ছে একটা ইস্যু যা অধিক থেকে অধিকতর আলোচনার বিষয় হিসেবে আসে, তাই, আমাদেরকে কমিউনিস্টদেরকে আমাদের নীতিমালাকে পুননিশ্চিত করতে হবে।

বিপ্লবী সহিংসতার সমস্যা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে কীভাবে একে গণযুদ্ধের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়।

আমরা প্রশ্নটিকে এভাবে দেখি, যখন চেয়ারম্যান মাওসেতুঙ গণযুদ্ধের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাকে প্রয়োগে নেন, তিনি সর্বহারা শ্রেণীকে তার সামরিক লাইন প্রদান করেন, এক সামরিক তত্ত্ব ও অনুশীলনসমেত, যা কিনা সার্বজনীনভাবে এবং মূর্ত পরিস্থিতি অনুসারে তাই সর্বত্র প্রযোজ্য।”

আলফ্রেড ক্লাহর কি গণযুদ্ধকে সার্বজনীন বিবেচেনা করেছেন?

ক্লাহর বেঁচে ছিলেন গণযুদ্ধের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠার পূর্বে।

৯. সাহিত্য

আকরাম ইয়ারি কি সাহিত্য উদ্ধৃত করেছেন?

চেয়ারম্যান আকরাম ইয়ারি বিজ্ঞান অনুষদ অধ্যয়ন করেছেন। সাহিত্য ও সাহিত্য কর্মে তিনি ছিলেন একজন আত্ম-বিকশিত ব্যক্তি। তাছাড়া, তিনি সেসময়কার মার্কসবাদী অধ্যয়নে ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গদ্যে তাঁর লেখার অবিষ্টাংশ প্রমাণ করে তার উচ্চ শিক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তি। সামাজিক অধ্যয়নে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ সেসময় কেউ ছিলনা।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি সাহিত্য উদ্ধৃত করেছেন?

না, ইব্রাহিম কায়পাক্কায়ার এমন রেফরেন্স পাওয়া যায়না।

সিরাজ সিকদার কি সাহিত্য উদ্ধৃত করেছেন?

তিনি সাহিত্যের ওপর কিছু প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি তাঁর গণযুদ্ধের পটভূমি কাব্যগ্রন্থের একটি ভূমিকা লিখেছেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বাংলার বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্রাচার্যের ওপর একটি সমালোচনামুলক রচনা লিখেছেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাসিক শরত চন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের ওপর একটি নিবন্ধ লিখেছেন আর তাকে বাংলা সাহিত্যের জাতীয় গণতান্ত্রিক লেখক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। এটা বিশ্বাস করা হয় যে তিনি ভিয়েতনামের প্রেক্ষাপটে লেখা নারী মুক্তির বই “মেকং দুহিতা মুক্তির গান শোনায়”-এর রচনায় অংশ নিয়েছেন।

গনসালো কি সাহিত্য উদ্ধৃত করেছেন?

না, কিন্তু তাঁর ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে গনসালো সাহিত্যে তাঁর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

“আমি কি পড়তে পছন্দ করি? আমি প্রচুর আত্মজীবনি পড়ি। আমি মনে করি সাহিত্য হচ্ছে নান্দনিক প্রকাশের এক বিরাট মাধ্যম। উদাহারণস্বরূপ, আমি শেক্সপিয়র পড়তে পছন্দ করি, হ্যাঁ, এবং তাকে অধ্যয়ন করতে। আপনি যখনর শেক্সপিয়র অধ্যয়ন করবেন, আপনি রাজনৈতিক ইস্যু পাবেন। উদাহারণস্বরূপ, জুলিয়াস সিজার ও ম্যাকবেথ-এ খুবই পরিষ্কার শিক্ষা রয়েছে। আমি সাহিত্য পছন্দ করি, কিন্তু রাজনীতি সবসময় আমাকে জয় করে, সাহিত্যের পেছনে যে রাজনৈতিক তাতপর্য তাকে খুঁজে বের করতে।সবচেয়ে বড় কথা, প্রত্যেক শিল্পীর পেছনেই আছেন একজন রাজনৈতিক নেতা, তার সময়ের একজন মানুষ যে শ্রেণীসংগ্রাম পরিচালনা করছেন। আমি পেরুভিয়ান উপন্যাসও পড়ি, অনেক সময় আমি তা পুন পড়ি।

আলফ্রেড ক্লাহর কি সাহিত্য উদ্ধৃত করেছেন?

আলফ্রেড ক্লাহর তার প্রবন্ধে সাহিত্য উদ্ধৃত করেননি, তাসত্ত্বেও অস্ট্রিয়ান জাতি সম্পর্কে তার এক প্রবন্ধে, তিনি সেইসব লেখকদের কথা বলেছেন যারা অস্ট্রিয় সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যেহেতু এটা জার্মানীর বাদবাকি অংশ থেকে আলাদা করে।

তিনি উল্লেখ করেন “লেখক ও কবি যেমন গ্রিলপার্জার, আনাস্টাসিয়াস গ্রন, রেমন্ড, নেস্ট্রয়, কামবার্গার, আনসেনগ্রুবার, রসেগার, শিটজার, ফার্দিনান্দ সার, স্কনার, উইগ্যানস, কার্ল ক্রস, পেটজলড, স্টিফেন জোয়েইগ, সঙ্গীতকার যেমন মোজার্ট, হাইডিন, স্কবার্ট, স্ট্রস, ব্রকনার, চারুকলা বিশারদ যেমন মাকার্ট, দেফ্রেগার, এগার লিয়েন্জ, ওয়াল্ডমুলার, এন্টন হান্নক ও অন্যান্যরা।

১০. কবিতা

আকরাম ইয়ারি কি কবিতা লিখেছেন?

এখন পর্যন্ত তাঁর কোন কবিতা পাওয়া যায়নি।এটা এখনও অনিশ্চিত।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া কি কবিতা লিখেছেন?

না, এমন কিছু পাওয়া যায়নি।

সিরাজ সিকদার কি কবিতা লিখেছেন?

সিরাজ সিকদার ‘গণযুদ্ধের পটভূমি’ শীর্ষক একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। আমরা তার কবিতাসমূহের কিছু লাইনের উদাহারণ দেব।

ভ্রমণরত অবস্থায় সিরাজ সিকদার গ্রাম ও প্রকৃতি অবলোকন করে স্বপ্ন দেখেনঃ

“পাটে-ধানে সবুজ মাঠ,

মাঝে মাঝে ঘর-বাড়ী-গ্রাম

গাছ-গাছালিতে ঢাকা।

… …

কয়েকটা শত্রু

খতম হলেই তো

গ্রামগুলো আমাদের।”

তিনি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে এক মুরং মেয়েকে নেমে যেতে দেখেনঃ

পাহাড়ের

ঢাল বেয়ে

নেমে যায়

মুরাং মেয়ে।

… …

কবে তার কাঁধে

শোভা পাবে

রাইফেল একখানি!”

পার্বত্য চট্রগ্রামে মায়ানমারের দিকে তাকিয়েঃ

“ওপারে বার্মা-

আরাকানের সবুজ পাহাড়ের সারি-

উচুঁ হতে হতে মিশে গেছে আকাশে।

ঐ পাহাড় আর জনপদে-

লড়ছে বার্মার ভ্রাতৃপ্রতিম কমরেডরা।

কবে হবে যোগাযোগ

তাদেরই সাথে…….”

তাঁর বিখ্যাত কবিতা সাভারের লাল মাটি থেকেঃ

“সাভারের লাল মাটি

ছোট ছোট টিলা

শাল-কাঁঠালের বন

এখানে ছড়িয়েছিলে

প্রতিরোধের বহ্নিশিখা”

গনসালো কি কবিতা লিখেছেন?

না, তবে তিনি পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির বিখ্যাত কিছু পাঠ লিখেছেন খুবই উচ্চ স্তরের কাব্যিক গদ্যসম্পন্ন। সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে “১৯৮০তে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু কর”, সংক্ষেপে “আইএলএ-৮০”।

“পতাকা”, ১৯৮০ থেকে কিছু অংশ:

“আমরা সবাই সেই ঝড়ের প্রতি নিবেদিত; বাতাস পাতা উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বীজ থেকে যায়। ১৯২৭-এ এক বিরাট ঝড় পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি (পিসিপি) সৃষ্টিতে চালিত করেছে। সেই পার্টি এক ঝড়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে, সব কিছুই বিস্ফোরিত হবে। অনেক দিন আমরা একটা মেরুকেন্দ্র হতে আকাঙ্খিত, এখন সময় এসেছে। আমরা যে পথ গ্রহণ করছি তা সঠিক, এবং যে সকল সমস্যা আমরা মোকাবেলা করি তা সমাধান হবে।

আজকে পতাকাকে স্বীকার করার দিন, কিন্তু আমাদেরটা একটা লাল পতাকা, একটা মূর্ত, হাতুড়ি ও কাস্তে খচিত। আমাদের পতাকা হচ্ছে পরম লাল; যারা বিদ্রোহ করে তাদের সবারই লাল পতাকা আছে।”

আইএলএ-৮০ থেকে:

“আমরা কমিউনিস্টরা এক নির্দিষ্ট ধাতের, এক বিশেষ জিনিস, আমরা কমিউনিস্টরা সবকিছুর জন্য তৈরি এবং আমরা জানি কোন জিনিসকে লড়তে হবে। আমরা ইতিমধ্যেই একে লড়েছি, কালকেও তাকে লড়বো।আগামীকাল যেমোকাবেলা হবে আজ তা শিশু, এটা কঠিনতর হবে, কিন্তু তারপর আমরা অতীতের দ্বারা পোড় খাব যেমনটা আজকে আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা বিপ্লবের আগুণে আমাদের আত্মাকে পুড়িয়ে নেব, এটাই একমাত্র অগ্নিশিখা যা আমাদের সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

আমাদের প্রচুর আশাবাদ দরকার এবং তার একটা কারণ রয়েছে। আমরা আগামীর প্রস্তুতকারক। আমরা শ্রেণীর অপরাজেয় বিজয়ের পথপ্রদর্শক গ্যারিসন। তাই, আমরা আশাবাদী।

আমরা প্রাকৃতিকভাবেই উদ্দীপনাময়। আমরা আমাদের শ্রেণীর মতাদর্শের দ্বারা পূর্ণ: মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা। আমরা শ্রেণীর জীবন যাপন করি। আমরা এর বীরত্বব্যাঞ্জক কর্মে অংশ নেই। আমাদের জনগণের রক্ত আমাদের মধ্যে বাহিত ও ফুটন্ত।

আমরা শক্তিমত্ত স্পন্দিত রক্তের মত। আসুন অভঙ্গুর লোহা ‍ও ইস্পাতকে গ্রহণ করি, শ্রেণীকে গ্রহণ করি, একে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও চিন্তাধারার চির জ্বাজল্যমান আলোর সাথে মিশিয়ে ফেলি।

উদ্দীপনা মানে দেবতাদের শক্তিতে অংশ নেয়া বোঝায়; তাই আমরা উদ্দীপনায় ভরপুর। আমরা অংশ নে্ই বাস্তব দুনিয়ার স্বর্গীয়তায়: জনগণ, শ্রেণী, মার্কসবাদ ও বিপ্লব। তাই আমাদের আছে অক্লান্ত উদ্যম। তাই আমাদের রয়েছে শক্তি, আশাবাদ আর উদ্দীপনায় ভরা সজীবতা।

১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে এই বিপ্লবী স্টাইলের লেখা সম্পর্কে গনসালো ব্যাখ্যা করেন:

“আমি বলব, অনেক সময় রাজনীতিতে আপনাকে এখানে যেতে হবে, যাতে ভাবাবেগ, গভীর অনুভূতি আমাদের প্রতিজ্ঞাকে শক্তিশালী করতে পারে।এমন সময়, তারা যেমন বলে, হৃদয় কথা বলে এবং আমি বিশ্বাস করি যুদ্ধের জন্য যে বিপ্লবী আবেগ দরকার তা নিজেকে প্রকাশ করে। এর সাহিত্যমুল্য কী আছে তা আমি জানিনা।”

কবিতা সম্পর্কে ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে তিনি আরো উল্লেখ করেন:

“একসময় সঙ্কলিত বিশ্ব কবিতা সার্ভে করছিলাম। আমি এটা আগেও অধ্যযন করেছি-বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারে কিছু রচনা ছিল যাতে আমার প্রবেশ ছিল। আমি কবিতা পছন্দ করি। চেয়ারম্যান মাওয়ের অন্যতম একটি দিক হচ্ছে এটা-যাকে আমি প্রশংসা করি। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ কবি। পেরুভিয়ান কবিতার ক্ষেত্রে ভ্যাল্লেখো আমার কাছে প্রিয়। হ্যাঁ, তিনি আমাদের, এবং পাশাপাশি, তিনি ছিলেন একজন কমিউনিস্ট।

আলফ্রেড ক্লাহর কবিতা লিখেছেন কি?

আলফ্রেড ক্লাহর কবিতা লিখেননি বলেই মনে হয়।

১১. বিপ্লবী যৌবন

স্কুলজীবন থেকেই কি আকরাম ইয়ারির বিপ্লবী জীবন শুরু?

হ্যাঁ, তিনি তখনও স্কুলের ছাত্র যখন থেকে তার কাজ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকত্ব করার পর, তিনি উচ্চ স্কুলের শিক্ষক হন এবং সেখানে শত শত স্কুল ছাত্রকে ভবিষ্যত বিপ্লবী হতে ট্রেইন করেন।

পিওয়াইও (প্রগতিশীল যুব সংগঠন) সেই বছরগুলি থেকে উত্থিত হয়েছে।

স্কুলজীবন থেকেই কি ইব্রাহিম কায়পাক্কায়ার বিপ্লবী জীবন শুরু?

প্রায় চার মাস নির্যাতিত হওয়ার পর, ২১ বছর বয়সে ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া মৃত্যুবরণ করেন; তিনি ইতিমধ্যেই পার্টি ও মুক্তিবাহিনী গড়ে তুলেছেন। এটা দেখায় আগে তার জীবন কী ছিল।

ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিদ্যার ছাত্র থাকা অবস্থায় কায়পাক্কায়া বিপ্লবী ভাবধারা আবিষ্কার করেন। মার্চ, ১৯৬৮তে তিনি কাপা ভাবধারা ক্লাবের ফাউন্ডেশনে যোগ দেন এর সভাপতি হয়ে। আমেরিকার ষষ্ঠ নৌবহরের বিরুদ্ধে লিফলেট প্রস্তুত করায় নভেম্বর ১৯৬৮তে তিনি স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হন।

বিপ্লবী বাম প্রেসে তখন তিনি প্রবন্ধ লেখেন, আর শীঘ্রই একজন নেতায় পরিণত হন।

স্কুলজীবন থেকেই কি সিরাজ সিকদারের বিপ্লবী জীবন শুরু?

হ্যাঁ, সিরাজ সিকদার কলেজে পড়ার সময় তাঁর বিপ্লবী জীবন শুরু করেন। তিনি পিকিংপন্থী বাম ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হন। আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সময় তিনি ঐ সংগঠনের কেন্দ্রিয় সহ সভাপতি নির্বাচিত হন।

স্কুলজীবন থেকেই কি গনসালোর বিপ্লবী জীবন শুরু?

১৯৩৪-এ জন্ম নেয়া গনসালো ১৯৮৮-এর সাক্ষাতকারে ঘটনাসমূহ বর্ণনা করেন যা তার জীবনকে চিত্রিত করে:

“আমি বলব রাজনীতিতে যাওয়ার পেছনে যা আমাকে সবচেয়ে প্রভাবিত করেছে তা হচ্ছে জনগণের সংগ্রাম। ১৯৫০-এ আরেকুইপাতে উত্থানের সময় আমি জনগণের যুদ্ধ উদ্যম দেখেছি-তরুণদেরকে বর্বর গণহত্যার জবাবে কীভাবে জনগণ অপরিমেয় ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে লড়েছেন।

আর আমি দেখেছি কীভাবে তারা সৈন্যবাহিনীকে লড়েছেন তাদের ব্যারাকে পশ্চাদপসারণ করতে বাধ্য করে। আর অন্য এলাকা থেকে বাহিনী আনা হয়েছে জনগণকে ধ্বংস করতে। এটা একটা ঘটনা যা আমাদের স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে রয়েছে।

কারণ সেখানে, লেনিনকে বোঝার পর, আমি বুঝলাম কীভাবে জনগণ, আমাদের শ্রেণী, যখন তারা, রাস্তায় অবস্থান নেয় ও এগিয়ে যায় প্রতিক্রিয়াশীলদের সমস্ত ক্ষমতা সত্ত্বেও তাদের কাঁপিয়ে তোলে।

আরেকটি জিনিস ছিল ১৯৫৬-এর সংগ্রাম, যখন জনগণ লড়েন, অন্যরা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও-যা সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীলরা করে থাকে, কিন্তু জনগণ লড়াই করল এবং সেই দিনটিকে বহন করল, আর গণআন্দোলন সংঘটিত হল, খুবই শক্তিশালি। এই ঘটনাসমূহ, উদাহারণস্বরূপ, আমাকে সাহায্য করল জনগণের ক্ষমতা বুঝতে: এই যে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করে।

আরেকটু পেছনে যাই। আমার কাল্লাওয়ে ১৯৪৮-এ জনগণ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, জনগণের সাহসিকতা নিজের চোখে দেখেছি, কীভাবে জনগন বীরত্বে উদ্বেল, কীভাবে নেতৃত্ব বিশ্বাসঘাতকতা করল।”

সাক্ষাতকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে এসব গণসংগ্রাম তাকে সাম্যবাদে নিয়ে এসেছে:

“উচ্চস্কুল জীবনের শেষে আমার রাজনীতিতে আগ্রহ বিকশিত হয়১৯৫০-এর ঘটনাসমূহের ওপর ভিত্তি করে।

পরবর্তী বছরগুলিতে; আমার স্কুলের সহপাঠীদের নিয়ে একটা গ্রুপ গঠন করার কথা আমার মনে আছে রাজনৈতিক ভাবধারা অধ্যয়ন করতে। সকল ধরণের রাজনৈতিক অধ্যয়নে আমরা খুবই আগ্রহী ছিলাম। সম্ভবত আপনি বুঝবেন সেটা কী ধরণের সময় ছিল।এটা ছিল আমার জন্য সূচনা।

তারপর কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামে আমি দেখলাম প্রত্যক্ষ ধর্মঘট, আপ্রিস্টা ও কমিউনিস্টদের মধ্যে সংঘাত ও বিতর্কসমূহ। তাই বইয়ের প্রতি আমার আগ্রহ জ্বলে উঠলো।কেউ একজন আমাকে একটা বই ধার দেওয়া যায় মনে করলো। আমি বিশ্বাস করি এটা ছিল “এক কদম আগে, দুই কদম পেছনে”, আমি এটা পছন্দ করলাম, আমি মার্কসবাদী বই অধ্যয়ন শুরু করলাম। তখন কমরেড স্তালিনের ব্যক্তিত্ব আমার ওপর বড় প্রভাব সৃষ্টি করলো। সেসময় জনগণ যারা সাম্যবাদে এসেছে, পার্টি সদস্য হয়েছে তাদের লেনিনবাদের সমস্যা ব্যবহার করে ট্রেইন করা হয়েছে।

এটা ছিল আমাদের প্রধান অবলম্বন, এর গুরুত্ব লক্ষ্য করে, আমি এটা অধ্যয়ন করি যেহেতু এটা পড়ার মতই সিরিয়াস। স্তালিনের জীবন আমাকে আকৃষ্ট করল। তিনি ছিলেন আমাদের জন্য বিপ্লবের উদাহারণ।

কমিউনিস্ট পার্টিতে ঢুকতে আমার সমস্যা হল। তাদের ছিল একটা উদ্ভট মানদন্ড, সদস্য হতে হলে আপনাকে একজন শ্রমিকের ছেলে বা মেয়ে হতে হবে, যা আমি ছিলামনা। কিন্তু অন্যদের ছিল ভিন্ন মানদন্ড,তাই পার্টিতে যোগ দিতে সক্ষম হই। আমি স্তালিনকে রক্ষায় অংশ নেই। সেসময় স্তালিনকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া মানে আমাদের আত্মাকে কেড়ে নেয়া। সেই দিনগুলিতে, স্তালিনের রচনা লেনিনের চাইতেও বেশি প্রচারিত ছিল।সেসময়টা এমনই ছিল।

পরে আমি কাজের উদ্দেশ্যে আয়াকুচোতে ভ্রমনে যাই। আমি ভেবেছিলম এটা সংক্ষিপ্ত অবস্থান হবে। কিন্তু তা বছর বছর হয়ে যায়। আমি ভেবেছিলাম এটা স্রেফ এক বছরের হবে, কারণ পরিকল্পনাটা তেমনই ছিল। আমার ছিল আমার পরিকল্পনা, সর্বহারা শ্রেণীর ছিল তার পরিকল্পনা।

জনসাধারণ আমাদের বহুভাবে পরিবর্তন করেন। আয়াকুচো কুষক জনগণকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। সেসময়, আয়াকুচো ছিল খুবই ছোট শহর, প্রধানত: গ্রাম। আপনি যদি গরীব অংশে যান, এমনকি আজও সেখানে কৃষক দেখতে পাবেন।আপনি যদি শহরতলীর দিকে যান, পনের মিনিটেই আপনি গ্রাম পেয়ে যাবেন।সেখানেও আমি মাওসেতুঙকে বুঝতে শুরু করলাম। আমি মার্কসবাদ বুঝতে অগ্রসর হলাম। মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যে সংঘাত ছিল আমার বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

দুরভাগ্যবাণ কেউ আমাকে এক চীনা পত্র “আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাধারণ লাইনের ওপর একটি প্রস্তাবনা” ধার দিয়েছিল। সে আমাকে ফেরত দেবার শর্তে ধার দিয়েছিল।নিশ্চিতভাবে এটা ছিল একটা বুঝে শুনে চুরি করা। পত্রটি মার্কসবাদ ও সংশোধনবাদের মধ্যকার মহান সংগ্রামে গভীরভাবে ঢুকতে আমাকে চালিত করে।আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম পার্টির মধ্যে কাজ করতে এবং সংশোধনবাদকে উতপাটন করতে। আমি বিশ্বাস করি, অপরাপর কমরেডদের সাথে মিলে আমরা এটা অর্জন করেছি।আমরা দুএকজনকে ত্যাগ করেছি যারা সংশোধনবাদের রঙে রঙীন হয়ে অনেক দূর গেছিল।

আয়াকুচো আমার জন্য প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এর সাথে বিপ্লবী পথ ও চেয়ারম্যান মাওয়ের শিক্ষা জড়িত ছিল।এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় আমি একজন মার্কসবাদীতে পরিণত হলাম। আমি বিশ্বাস করি, পার্টি আমাকে গড়ে তুলেছে দৃঢ়তা ও ধৈর্য সহকারে।

স্কুলজীবন থেকেই কি আলফ্রেড ক্লাহরের বিপ্লবী জীবন শুরু?

১৯০৪ সালে অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেয়া আলফ্রেড ক্লাহরঅস্ট্রিয়ায় ১৯১৭ বিপ্লবের পর তাঁর কৈশোরে কমিউনিস্ট যুব ইউনিয়নে যোগ দেন।একজন ছাত্র হয়ে তিনি ছাত্রদের কমিউনিস্ট গ্রুপ কস্তুফরা (কেওএসটিইউএফআরও)তেও যোগ দেন। তারপর তিনি কিছু মাস বার্লিনে কাটান, সেখানে জার্মানীর কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় পত্রিকা লাল পতাকা (রোতে ফাহনে)তে কাজ করেন পরে অস্ট্রিয়ার রোতে ফাহনেতে কাজ করার জন্য।অস্ট্রিয়ার কমিউনিস্ট যুব ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৩০ থেকে ৩২তে তিনি মস্কোতে কাজ করেন। এই পর্যায়ের শেষে তিনি অস্ট্রিয়ারর রোতে ফাহনের প্রতিনিধি হয়েছিলেন।

১২. চিন্তাধারার বিকাশ

আকরাম ইয়ারি বেঁচে থাকলে কি তিনি গনসালো চিন্তাধারার মত অধিক বিকশিত চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সফল হতেন?

মালেমা তুলে ধরে যে লাইনই নির্ধারক। তাই আকরাম ইয়ারির সঠিক লাইনই আকরাম ইয়ারি চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছে যা কমরেড “এক্স”-এর নেতৃত্বে আফগানিস্তানের ওয়ার্কার্স অর্গানাইশেন (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী, প্রধানত: মাওবাদী)কর্তৃক বিকশিত হয়েছে।চেয়ারম্যান গনসালোই কি মাওসেতুঙ চিন্তাধারাকে মাওবাদে সূত্রায়ণ করেননি? চেয়ারম্যান গনসালোই কি একে উচ্চ মাত্রার সার্বজনীন স্বীকৃতির অবদানসমেত বিকশিত করেননি?

পেরুতে ম্যারিয়েতেগুই ও চেয়ারম্যান গনসালোর ক্ষেত্রে যা সত্য, আকরাম ইয়ারি ও কমরেড “এক্স”-এর ক্ষেত্রেও তা সত্য।

চেয়ারম্যান আকরাম ইয়ারি চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন, আমরা একে বিকশিত ও সম্প্রসারিত করছি আমাদের দেশের বাস্তব পরিস্থিতিতে মাওবাদকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে, রক্ষা করে ও প্রয়োগ করে এবং তা সম্পন্ন হবে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ প্রয়োগ করার মাধ্যমে এবং সাম্যবাদের পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত রেখে। আকরাম ইয়ারির লাইনই আকরাম ইয়ারি চিন্তাধারা গঠনে কোর হিসেবে অবদান রাখে, আর তা হচ্ছে বিজয়ের গ্যারান্টি।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া বেঁচে থাকলে কি তিনি গনসালো চিন্তাধারার মত অধিক বিকশিত চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সফল হতেন?

অবশ্যই, যেহেতু ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া তুরস্কের সমাজের বাস্তবতাকে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও কুর্দী জাতীয় সমস্যার প্রধান প্রশ্ন সমেত।

সিরাজ সিকদার বেঁচে থাকলে কি তিনি গনসালো চিন্তাধারার মত অধিক বিকশিত চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সফল হতেন?

সিরাজ সিকদার ইতিমধ্যেই পূর্ববাংলার বিপ্লবের তত্ত্বে ও অনুশীলনে অনেক অবদান রেখেছেন। তিনি সমকালীন বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে অন্যতম সর্বাধিক বিকশিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে, আমরা বস্তুর নিয়মের সাধারণ প্রবণতা থেকে জানি, বাংলাদেশ বিপ্লব সফল হতো এবং স্বাভাবিকভাবে নেতৃত্ব ও চিন্তাধারা বিকশিত হতো, আর চিন্তাধারা ছাড়া কোন বিপ্লব হতে পারেনা।

আলফ্রেড ক্লাহর বেঁচে থাকলে কি তিনি গনসালো চিন্তাধারার মত অধিক বিকশিত চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সফল হতেন?

অস্ট্রিয়ার মূর্ত পরিস্থিতির কারণে আলফ্রেড ক্লাহর চিন্তাধারা বিকশিত হতে পারেনি। এটা বেশি হচ্ছে অস্ট্রিয়ান শ্রমিক শ্রেণীর মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক জন্ম, যা আধিপত্যকারী খুবই শক্তিশালী ও রেডিক্যাল সমাজ গণতান্ত্রিক স্তরকে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল।

অস্ট্রিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির সংশোধনবাদের এবং ১৯৪৫ পরবর্তী সমাজ গণতন্ত্রের স্তরের কারণে সেই কঠিণ প্রেক্ষাপটে ক্লাহরের পক্ষে একটা বিপ্লবী লাইন এগিয়ে নেয়া খুবই কঠিন হতো।

 

কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী ফ্রান্স দলিল

গনসালোর শিক্ষাঃ চিন্তাধারা থেকে গণযুদ্ধ

১। গনসালো ও বিপ্লবী আশাবাদ                                   

যখন একটি শ্রেণী ক্ষমতা দখলের পথে ধাবিত হয়, তাকে সকল ক্ষেত্রে শক্তিশালি সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, অবশ্যই শ্রমিক শ্রেণীর ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি সত্য, যার অবশ্যই সমাজের সকল দিক বুঝতে ও বিপ্লবীকরণ অনুমোদন করে এমন সর্বশক্তিমান সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

একে বোঝার অনুমোদন করায় গনসালো এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি জোর দেন যে বিপ্লবীদের অবশ্যই পরম আশাবাদ তুলে ধরতে হবে; “আইএলএ-৮০” দলিল যা ১৯৮০তে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনাকে ব্যাখ্যা করে, তাতে তিনি ব্যাখ্যা করেনঃ

“আমাদের প্রচুর আশাবাদ দরকার এবং তার একটা কারণ রয়েছে। আমরা আগামীর প্রস্তুতকারক। আমরা শ্রেণীর অপরাজেয় বিজয়ের পথপ্রদর্শক গ্যারিসন। তাই, আমরা আশাবাদী।

আমরা প্রাকৃতিকভাবেই উদ্দীপনাময়। আমরা আমাদের শ্রেণীর মতাদর্শের দ্বারা পূর্ণ: মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা। আমরা শ্রেণীর জীবন যাপন করি। আমরা এর বীরত্বব্যাঞ্জক কর্মে অংশ নেই। আমাদের জনগণের রক্ত আমাদের মধ্যে বাহিত ও ফুটন্ত।

আমরা শক্তিমত্ত স্পন্দিত রক্তের মত। আসুন অভঙ্গুর লোহা ‍ও ইস্পাতকে গ্রহণ করি, শ্রেণীকে গ্রহণ করি, একে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও চিন্তাধারার চির জ্বাজল্যমান আলোর সাথে মিশিয়ে ফেলি।”

২। প্রত্যেক বিপ্লবী শ্রেণী মহাকাব্যিক সংগ্রামের ডাক দেয়

উনিশ শতকের শেষে যখন ফরাসী বিপ্লব উত্থিত হয়, জনগণের মহাকাব্যিক সমাবেশিতকরণের ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা ছিল। বুর্জোয়ারা অতীতে ঝাঁপ দিল তাদের প্রয়োজনের কাছাকাছি কিছু একটা পেতে, তাদের সংগ্রামকে স্ফটিকীকরণ করতে যা হবে তাদের নকশা, সেটা ছিল রোমান প্রজাতন্ত্র।

একজন রোমান জেনারেল থেকে সাম্রাজ্যবাদী সিজারের রূপ নেওয়া নেপলিয়ন ছিল ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার একটা খেলনা, সে ফরাসী বুর্জোয়াদের প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিল, যে ফরাসী বুর্জোয়ারা ক্ষমতা জয় করতে নিজেকে পূর্ণ বিকশিত করতে চাইছিল।

মতাদর্শিক কুয়াশা আর বুর্জোয়াদের শেষ ও সামগ্রিক বিপ্লবের ভাণকে অপসারণ করে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস ব্যাখ্যা করেন এই মতাদর্শিক প্রশ্ন। কিন্তু তারা এই মতাদর্শিক-সাংস্কৃতিক প্রশ্নকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে একীভূত করেননি, কারণ তাদের সময় পৃথিবীতে কোন নয়াগণতান্ত্রিক/সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ছিলনা।

৩। চিন্তাধারা বস্তুর গতির প্রকাশ

রশিয়ায় ১৯১৭ অক্টোবরে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং ১৯৪৯-এ চীনে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বিজয়ের সাথে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বৈজ্ঞানিকভাবে সূত্রায়িত করে অগ্রবাহিনী তথা বিপ্লবী পার্টির প্রশ্ন।

বিপ্লবী মতাদর্শ বিপ্লবী প্রক্রিয়াকে নেতৃত্ব দেয়; খোদ বিপ্লবী পার্টির মধ্যে দুই লাইনের সংগ্রাম প্রক্রিয়ায় জন্ম নেয়; কমিউনিস্ট পার্টির জীবনও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের নিয়ম পালন করে।

আর, চিন্তাধারাও তাই, যেহেতু তা বিশ্বকে প্রতিফলন ঘটায়, দ্বান্দ্বিক গতিতে বস্তুকে, খোদ মহাবিশ্বের মাত্রায়।

সিপিএমএলএম ফ্রান্স “জীবন,বস্তু, মহাবিশ্ব, ৭ম অংশঃ চিন্তাধারা কী?”-এর দলিলে এটা ব্যাখ্যা করেছেঃ

“চিন্তাধারা মস্তিষ্কে আণবিক ও রাসায়নিক গতির দ্বারা গঠিত হয়, গতি হচ্ছে বস্তু, অবয়বের বাইরের বস্তুর গতির ফল অর্থাৎ উপরিভাগের গতিকে অনুভব করা হয়।

অনুভবের এই গতিতে, ধুসর বস্তু নিজেকে বিকশিত করে। এটা বস্তুর দ্বান্দ্বিক গতির সংশ্লেষণ উপলব্ধিতে আনে। তারপর, প্রকাশ্যে এটা গতিতে বস্তুর প্রকাশে পরিণত হয়।”

৪। স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তা করেনা

১৩ শতকে ফরসী প্রতিক্রিয়াকে প্যারিসের বিশ্ববিদ্যালয়ে বস্তুবাদী থিসিসের সাথে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ঐ সকল থিসিস ছিল এভেররস (১১২৬-১১৯৮)-এর চিন্তাধারার যৌক্তিক উপসংহার, যিনি ছিলেন আরবীয়-পারস্য দর্শন ফালসাফার মহান চিন্তাবিদ।

চার্চ ১২৭০ সালে ১৩টি থিসিস নিষিদ্ধ করেছিল, তার মধ্যে রয়েছেঃ “প্রস্তাবনাঃ ‘মানুষ চিন্তা করে’ ভুল অথবা বেঠিক”, “মুক্ত চিন্তা হচ্ছে পরোক্ষ শক্তি, সক্রিয় নয়। এটা আকাঙ্খার প্রয়োজন দ্বারা পরিচালিত”, “মানুষ প্রয়োজন দ্বারা আকাঙ্কিত হয় ও পছন্দ করে;, “কখনো কোন প্রথম মানব ছিলনা”, “বিশ্ব হচ্ছে শ্বাশ্বত”, “কেবলমাত্র একটি বুদ্ধিমত্তা সকল মানুষের জন্য সংখ্যাসূচকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ’।

এই থিসিসগুলো সঠিক এবং বস্তুবাদের প্রকাশ।

যখন একটা চিন্তাধারার কথা বলা হয়, তখন এক স্বতন্ত্র ব্যক্তির চিন্তাধারার কথা বলা হয়না, যদি একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি প্রকাশ করেও। স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তা করেনা। মানব জাতি গতির মধ্যে বস্তু, চিন্তাধারা হচ্ছে স্রেফ গতির প্রতিফলন। কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তি চিন্তাধারা হতে পারেনা, স্বতন্ত্র ব্যক্তি যা চিন্তা করে তা হচ্ছে আকাঙ্কা ও প্রয়োজনের প্রকাশ।

৫। প্রতিটি দেশে বিপ্লবের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক হাতিয়ার হিসেবে চিন্তাধারা

গনসালো কেবল বিপ্লবী আশাবাদের প্রতি আহ্বানই জানাননি কারণ মহাকাব্যিক সংগ্রামের প্রয়োজন ছিল। শুধু ভবিষ্যতের দিকে তাকানো, অতীতের দিকে নয়হবে আত্মমুখী এবং কমিউনিস্ট মতাদর্শের সাথে অসমাঞ্জস্যপূর্ণ।

তাই উদ্দীপনার জন্য ডাকের পথ ধরে তিনি সূত্রায়িত করেন যে প্রতিটি দেশে এক বিপ্লবী চিন্তাধারা জন্ম নেয় সমাজকে সংশ্লেষিত করে এবং সামাজিক দ্বন্দ্বকে সমাধা করার সঠিক পথকে ইতিকরন করে।

ইতিহাস গতিতে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং জনগণের,অগ্রবাহিনী, বিপ্লবী নেতৃত্বেরচিন্তাধারায় বাস্তবতার সঠিক উপলব্ধির ।

পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির “গনসালো চিন্তাধারা সম্পর্কে” দলিলে ব্যাখ্যাত হয়েছেঃ

“বিপ্লব এক চিন্তাধারা জন্মদেয় যা তাদের পরিচালনা করে,যা হচেছ প্রতিটি বিপ্লবের মূর্ত বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণীর মতার্দশের সার্বজনীন সত্যের প্রয়োগের ফলাফল, একটা পথনির্দেশক চিন্তাধারা, বিজয়ে পৌছাতে আর রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে অপরিহার্য; বিপ্লবকে অব্যাহত রাখতে আর একমাত্র মহান লক্ষ্য কমিউনিজমের পথে প্রক্রিয়াকে বজায় রাখতে অপরিহার্য”

৬। সমাজের সংশ্লেষণ হিসেবে চিন্তাধারা

প্রতিটি জাতীয় সমাজ দ্বন্দ্বকে চেনে যাকে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা বিশ্লেষণ করে বিপ্লবী সংশ্লেষণ সৃষ্টি করে যা গঠন করে বিপ্লবী কর্মসূচি এবং তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি।

রাশিয়া ও চীনে লেনিন ও মাও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই শুধু জানতেন না অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক দিককেও। প্রায়ই তারা সাহিত্য কর্ম উদ্ধৃত করেছেন তাদের নিজ সংস্কৃতি এবং জনগণের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক পরিস্থিতি (উদাহারণস্বরূপ গ্রামাঞ্চলে কর্তৃত্বের সম্পর্ক, গ্রামে পুঁজিবাদের উদ্ভব হওয়া বা না হওয়া প্রভৃতি)।

বহু অন্য পরিস্থিতিতে বিপ্লবী নেতারা চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন, নিজ বাস্তবতার সংশ্লেষণ।

পেরুতে হোসে কার্লোস মেরিয়েতেগুই ১৯২৮ সালে লেখেন তাঁর দেশের ইতিহাসের পূর্ণ বিশ্লেষণঃ “পেরুর বাস্তবতার সাতটি ব্যাখ্যামূলক রচনা” যা ঔপনিবেশিকীকরণের ইতিহাস, গ্রামাঞ্চলের অবস্থা এবং কায়েচুয়া ইণ্ডিয়ানদের অবস্থা ইত্যাদি ব্যাখ্যা করে।

ইতালিতে এন্তানিও গ্রামসি ১৯২৬-এ কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, একইভাবে সেদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অধ্যয়ন করেন, ইতালিয় রাষ্ট্রের প্রকৃতি উপলব্ধি করে এবং দেশের উত্তর ও দক্ষিণ (মেজেসিরোনো)-এর ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বকে।

আলফ্রেড ক্লাহর ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রথম তাত্ত্বিক যিনি ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর দেশ অস্ট্রিয়া ছিল একটা জাতি (“অস্ট্রিয়ার জাতি প্রশ্নে”,১৯৩৭) এবং কীভাবে জার্মানী নাতসিবাদ সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিই শুধু নয় বরং জাঙ্কারদের (f~¯^vgx‡`i)ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।

ইব্রাহিম কায়পাক্কায়া ১৯৪৯ সালে জন্ম নেন এবং ১৯৭৩ সালে তুর্কী রাষ্ট্র কর্তৃক নিহত হন। মুস্তাফা কামালের “বিপ্লব” সংক্রান্ত এবং কামালবাদী মতাদর্শের এক সার্বিক অধ্যয়ন সৃষ্টি করেন তুরস্কের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক প্রকৃতির সঠিক উপলব্ধির পথ ধরে।

উলরাইখ মেইনহফ পশ্চিম জার্মানীর অধীনতা প্রকৃতি অধ্যয়ন করেন। যা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন; ১৯৪৫ পরবর্তীতে অর্থনৈতিক গতি দেখে তিনি তরুণদের মধ্যকার দরিদ্রতমদের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদী গণযুদ্ধের রণনীতি এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী উপস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম প্রস্তাব করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বন্দী অবস্থায় খুন হন।

আরেকজন মহান বিপ্লবী যিনি একটা চিন্তাধারা সৃষ্টি করেন তিনি হলেন পূর্ববাংলায় সিরাজ সিকদার। ১৯৪৪-এ জন্ম গ্রহণকারী সিরাজ সিকদার উভয়ত পাকিস্তানী ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদকে উপলব্ধি করেন, জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনে কৃষি বিপ্লবের পথ প্রস্তাব করেন। ১৯৭৫-এ বন্দী অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়।

৭. চিন্তাধারার ফসল হিসেবে গণযুদ্ধ

গনসালোর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী শিক্ষা অনুসারে, প্রতিটি দেশে কমিউনিস্টদের করণীয় রয়েছে নিজ জাতীয় পরিস্থিতির সংশ্লেষণ সৃষ্টি করা কারণ এই কাঠামোয় বিপ্লবী দ্বন্দ্ব সমাধা করতে হবে।

গণযুদ্ধ কোন “পদ্ধতি” অথবা কাজের স্টাইল নয়, এটা হচেছ চিন্তাধারার বস্তুগত ফসল অর্থাত পুরোনো রাষ্ট্র ও প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণীসমূহের সাথে বিপ্লবী সম্মুখ যুদ্ধ, একটা রণনীতি চিন্তাধারার ভিত্তিতে একটি দেশের ব্যবহারিক অধ্যয়ণে বিপ্লবী সংশ্লেষণের ভিত্তিতে।

যখন একটা প্রকৃত বিপ্লবী চিন্তাধারা সৃষ্টি হয় তা পুরনো সমাজের সাথে মোকাবেলা আকাঙ্খা করে সকল স্তরে। গণযুদ্ধ অর্থ কেবল সশস্ত্র সংগ্রাম নয়, বরং পুরনো সমাজের মুল্যবোধসমূহের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক নেতিকরণও। যদি বিপ্লবীরা সকল ক্ষেত্রে সংগ্রামকে নেতৃত্ব করার স্তরে না থাকে, বিপ্লবে তারা জয়ী হতে পারবেনা এবং পুরনো সমাজের পুনপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে মোকাবেলা করতে পারবেনা।

এই উপলব্ধি হচ্ছে সংস্কৃতি ও মতাদর্শ সম্পর্কে মাওসেতুঙের শিক্ষার এবং মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।

৮. “প্রধানত প্রয়োগ করুন

গনসালো বিবেচনা করেন যে আমাদের মতাদর্শ শুধু মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ নয় বরং, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদ। তিনি দেখাতে চান যে আমাদের মতাদর্শ হচেছ একটা সংশ্লেষণ এবং স্রেফ শিক্ষামালার সংযোজন নয়।

একইভাবে তিনি বিবেচনা করেন যে প্রতিটি দেশে মতাদর্শ ছিল মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ এবং চিন্তাধারা, প্রধানত চিন্তাধারা (উদাহারণস্বরূপ পেরুতে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারা, প্রধানতঃ গনসালো চিন্তাধারা)।

এর কারণ হচ্ছে চিন্তাধারা মানে হচ্ছে এক মূর্ত পরিস্থিতিতে সংশ্লেষণ তার প্রয়োগসহ। একইভাবে, আমাদের নীতি হচ্ছে “ঊর্ধ্বে তুলে ধর, রক্ষা কর ও প্রয়োগ কর, প্রধানত প্রয়োগ কর।”

“চিন্তাধারা” হচ্ছে সত্যিকার এবং সঠিক পথ যদি কেবল তা পুরনো সমাজের সকল দিকের সাথে সত্যিকার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, প্রধান দিক থাকবে সামনের সারিতে।

৯. চিন্তাধারা ও গণযুদ্ধ পৃথক ধারণা নয়

১৯৯০ দশক থেকে ২০০০ দশক জুড়ে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির বৈদেশিক পার্টি কাজের জন্য সৃষ্ট পেরুর গণ আন্দোলন (এমপিপি) মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ প্রতিষ্ঠায় এক গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেতৃত্ব দেয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ব্যবহারিক জাতীয় দিকে গেলে এমপিপি কেবলে পরুর উদাহারণ অনুসরণ করতে বলে এবং কমিউনিস্টদেরকে নিজ পরিস্থিতির একটা সংশ্লেষণ সৃষ্টিতে সাহায্য করতে কখনো সক্ষম হয়নি।

এমপিপি কখনোই জাতীয় বাস্তবতার অধ্যয়নের ডাক দেয়নি, বরং একঘেঁয়ে কাজের স্টাইল সৃষ্টি করে বিমূর্ত আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন তুলে ধরার মাধ্যমে। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদে প্রকৃত বিপ্লবী শক্তিসমূহকে সাথে নেয়ার পরিবর্তে এমপিপি মধ্যপন্থীদের সমর্থন করার জায়গায় আসে যেহেতু তারা কথায় মাওবাদকে স্বীকৃতি দিচ্ছিল। এটা প্রধান দিককে ভুল বোঝার ক্ষেত্রে একটা উদাহারণ। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, গণযুদ্ধকে বিমূর্ত পথে ধারণ না করা বরং চিন্তাধারার ভিত্তিতে গণযুদ্ধ। নেপালে সংশোধনবাদ একটা ভাল উদাহারণঃ “গণযুদ্ধ” কে ধারণ করা সত্ত্বেও যাকে “প্রচণ্ড পথ” বলা হয়েছে তার কখনোই উচ্চ সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক স্তর ছিলনা, যেখানে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মূলনীতিমালার দিক থেকে এর ইতিমধ্যেই ছিল বহুবিধ ভুলভ্রান্তি।

১০. আমাদের দিগন্ত চিন্তাধারা জন্ম দেয় ও ফ্যাসিবাদকে প্রত্যাখান করে

আমাদের দিগন্ত হচ্ছে নিম্নরূপঃ প্রত্যেক দেশে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা জন্ম হতে হবে, সমাজের সংশ্লেষণ হিসেবে, দ্বন্দ্বসমূহের সমাধানের পথ প্রদর্শন করে। উচ্চস্তরের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক না থাকলে কমিউনিস্টরা নিজ দেশে বিপ্লব করতে পারেনা।

জনগণ সংগীত, সিনেমা ও সাহিত্যে পুর্ণ একটা সংস্কৃতিতে বাস করেন; মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শিক্ষা এই ক্ষেত্রে সংগ্রামের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার কমিউনিস্টদেরকে তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় করতে হবে; বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচালনার জন্য তাদের রয়েছে একই সংগ্রাম।

যদি কমিউনিস্টরা তা করতে সক্ষম না হন, প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণীসমূহ অতীতে ঝাঁপ দিয়ে একটা মতাদর্শ সৃষ্টি করবে সমাজকে “পুনর্সৃষ্টি” করতে, একটা ভ্রান্ত “সমাজতন্ত্র”, যা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ।

প্রতিটা চিন্তাধারা তাই ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন। এটা হচ্ছে গণযুদ্ধের ভিত্তি। প্রতিটি চিন্তাধারা গণযুদ্ধকে পরিচালনায় অনুমোদন দেয় যা পুরনো রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে, এবং যেহেতু এই প্রক্রিয়া নিজেকে সাধারণীকরণ করে, তা বিশ্বগণযুদ্ধে পরিণত হয়। তখন চিন্তাধারা বিশ্ব সমাজের সংশ্লেষণে পরিণত হয় যা সাম্রাজ্যবাদে ছাইয়ের ওপর জন্ম নেয়, বিশ্ব কমিউনিস্ট সমাজের গঠনের জন্য পথে এগিয়ে যায়।

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=675


৭১ বছর আগে কেন আর্নেস্ট থালমানকে হত্যা করা হয়েছে

হিটলার ও হিমলারের সরাসরি নির্দেশে আর্নেস্ট থালমানকে ১৮ আগস্ট ১৯৪৪-এ এগার বছরেরে নির্জন কারাবাসের পর হত্যা করা হয়। এর আগে তাকে বুটজেন কাগাগার থেকে ওয়েইমারের কাছে বুচেনওয়াল্ড কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে সরিয়ে আনা হয়, যেখানে তাকে হত্যা করে তার দেহকে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

তাই তার কোন কবর হয়নি।thaelmann1 এই ঘটনাটি এতটাই গোপনে ঘটানো হয়েছে যে নাৎসি সংবাদপত্র “ভয়শের অবজারভার” রিপোর্ট করে যে থালমান ২৪ আগস্ট মিত্র বাহিনীর “সন্ত্রাসী বোমা”য় নিহত হয়েছেন।

নাৎসিরা সত্য প্রকাশে এতটা ভীত ছিল কেন? কেননা আর্নেস্ট থালমান ধারণ করতেন একটা দৃষ্টিভঙ্গী, একটা তৎপরতা, এক সংস্কৃতি আর এক মতাদর্শ। আর্নেস্ট থালমান মানে হচ্ছে জাতীয় সমাজতন্ত্র থেকে মুক্তি, যুদ্ধ থেকে মুক্তি, গণফ্রন্টের মাধ্যমে, আর জনগণতন্ত্রের লক্ষ্যে!

জাতীয় সমাজতন্ত্র সত্যিকার সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি করেছিল, জার্মানীর জন্য সঠিক লাইন খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছিল। ফল হল যুদ্ধ, দারিদ্র, ধ্বংস, আর নৈতিক অবক্ষয়, আর এ সবই পুঁজিবাদবিরোধী রোমান্টিকতাবাদের ফসল, যার লক্ষ্য ছিল সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা, “পরজীবী”দের অপসারণ করতেঃ যার আসল অর্থ ছিল “লগ্নি পুঁজির সর্বাধিক সাম্রাজ্যবাদী উপাদানসমূহের সর্বাধিক প্রতিক্রিয়াশীল, সবচেয়ে জাতিদম্ভী প্রকাশ্য সন্ত্রাসবাদী একনায়কত্ব”।

আর্নেস্ট থালমান আসন্ন ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। ১৯২৪ থেকে তিনি জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান ছিলেন, যে পার্টি রোজা লুক্সেমবার্গ ও কার্ল লিবনেখট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি ব্যাপক জনগণকে সমাবেশিত করার সর্ব প্রকার প্রচেষ্টা চালান, যে জনগণ সমাজ গণতন্ত্র কর্তৃক পঙ্গুত্ব বরণ করেছিল, কারণ জার্মান সমাজ গণতন্ত্রী পার্টি (এসপিডি) না ছিল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পক্ষে, না সত্যকার ফ্যাসিবিরোধী সংগ্রামের পক্ষে।

কমিউনিস্ট পার্টি তার পক্ষে যা করা সম্ভব সবই করে যাতে পুঁজিবাদবিরোধী ও ফ্যাসিবিরোধী সংগ্রাম এক গণ আন্দোলনে পরিণত thaelmann2হয়; তাই লাল ফ্রণ্ট যোদ্ধাদের মোর্চাঃ ফ্যাসিবিরোধী একশনও প্রতিষ্ঠিত হয়। এই লড়াই সমাজ গণতন্ত্রের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নয় বরং এসপিডির আত্মসমর্পণ লাইনের বিরুদ্ধে চালানো হয়। জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তফ্রন্টের লাইনকে রক্ষা করে, আর স্পেন ও ফ্রান্সে যেমনটা হয়েছে, গণফ্রন্টের লাইনের জন্য এগিয়ে যায়।

নাৎসি ধারার মধ্যেকার যেসকল জনগণ বন্দী হয়েছিলেন তাদেরকেও কখনো ভোলা হয়নি। যেমনট আর্নেস্ট থালমান জানুয়ারি ১৯৩৩-এ ব্যাখ্যা করেনঃ

“কমিউনিস্ট পার্টি জাতীয় সমাজতন্ত্রীদের ব্যাপক জনগণের প্রতিও লক্ষ্য রাখে।

এসএ ও এসএস বাহিনীর মধ্যে এক ভয়ানক পার্থক্য ছিল, শ্রমিক এলাকায় দাঙ্গা বাঁধানোর মধ্যে, অথবা শ্রমিকদের ঘরবাড়ী ও ক্ষেত্রগুলিতে ঘেরাও আক্রমণ, ব্যাপক জনগণের মধ্যেওঃ সংকটাক্রান্ত শ্রমিক, কর্মচারী, নিম্ন মধ্যবিত্ত, হস্তশিল্পী ও ছোট ব্যবসাদারদের দুর্দশার মধ্যে পার্থক্য ছিল, যারা জাতীয় সমাজতন্ত্রকে সমর্থন দিয়েছে যেহেতু তারা হিটলার, গোয়েবলস ও স্ট্র্যাসার প্রভৃতির গলাবাজির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে।…

আমাদেরকে ধৈর্যশীল শিক্ষিতকরণের মাধ্যমে জনগণকে দেখাতে হবে যে হিটলার পার্টির সত্যিকার ভুমিকা হচ্ছে লগ্নি পুঁজির সেবা করা, ট্রাস্ট রাজ রাজরাদের, বৃহৎ ভুস্বামীদের, কর্মকর্তাদের ও প্রিন্সদের সেবায় কাজ করা।” [কার্ল লিবনেখটের বাড়ির সামনে নাৎসি উস্কানী এবং কিছু শিক্ষা, ২৬ জানুয়ারি ১৯৩৩]

আর এটাও জানা দরকার যে, নভেম্বর ১৯৩২-এর সাধারণ নির্বাচনে নাৎসি পার্টির ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। যদিও নাৎসিদেরকে এককোটি দশ লাখ জনগণ ভোট দিয়েছিল, জুলাইয়ের থেকে ২০ লাখ ভোট কম পেয়েছে তারা। নাৎসি আন্দোলন ক্ষয়প্রাপ্ত হতে শুরু করেছিল, তাই, হিটলারকে দ্রুত ক্ষমতায় বসানো হয়েছিলঃ যা কোন ক্ষমতা দখল ছিলনা, বরং ক্ষমতার বদল।

যেমনট আর্নেস্ট থালমান অক্টোবর ১৯৩২-এ নির্বাচনের আগেই উপলব্ধি করেনঃ

“জাতিদম্ভী ঢেউয়ের কারণে ফ্যাসিবাদী গণ আন্দোলনের বিপুল বৃদ্ধি ফ্যাসিবাদী শাসকদের ক্ষমতা দখলে অনুমোদন দেয়।

লগ্নি পুঁজির পলিসি, যা হিটলারের ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন কর্তৃক সরকারী ক্ষমতার অনুশীলনকে বর্জন করে, একদিকে আভ্যন্তরীণ ও বাইরের সংঘাতসমূহের অতিদ্রুত পোক্ত হওয়ার ভীতি থকে উদ্ভূত হয়, অন্যদিকে ফ্যসিবাদী গণ আন্দোলনের মজুদকে thaelmann3যতদূর সম্ভব সুদৃঢ়ভাবে বজায় রাখার বুর্জোয়াদের আকাঙ্খা থেকে, যাতে একই সাথে তাকে “সজ্জিত’ করা যায়, অর্থাৎ তাকে ফ্যাসিবাদী একনায়কত্বের নিরাপদ যন্ত্র বানানো যায় বাঁধাদানকারী উপাদানসমূহকে অতিক্রম করে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের এ পর্যন্ত অগ্রগমন এখন থমকে দাঁড়িয়েছে আর অবনতির জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছে যে কারণে তা হল সর্বহারা শ্রেণীর বাড়ন্ত অগ্রগমন, পাপেন সরকারের রাজনীতির মাধ্যমে দারিদ্রকরণ ও হিটলারের সীমাহীন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় নিপীড়িত মধ্যবিত্তের জাগড়নরত রেডিকেলকরণ এবং জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির ফ্যাসিবিরোধী গণসংগ্রামের প্রচণ্ড অগ্রগতি।

বাঁধাহীন শোষণের সমর্থন হিসেবে হিটলার পার্টির ভুমিকা, পুঁজিবাদী, জাঙ্কার ও জেনারেলদের সরকারের জন্য সাহায্য প্রদানে এর অবস্থান, লাউসান্নে স্বীকৃতি চুক্তি, বিপ্লবী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ফাসিবাদী খুনী সন্ত্রাসের ভুমিকা—এ সবই জাতীয় সমাজতন্ত্রীদের অনুসারী নিপীড়িত জনগণের হতাশার সূচনা করে…

এনএসডিএপির সারি ভেঙ্গে পড়ার আর জাতীয় সমাজতন্ত্রী ঢেউয়ের অবনতির শুরুর কারণে হিটলারের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে thaelmann4মতাদর্শিক আক্রমণাভিযানের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় সমাজতন্ত্রীদের অনুসারীদের সারিতে প্রচণ্ড আঘাত হেনে ভাঙন ঘটানো গুরুত্বপূর্ণ করণীয়।

কমিউনিস্ট ও বিপ্লবী শ্রমিকদেরকে সর্বহারা ও জাতীয় সমাজতন্ত্রীদের নিপীড়িত অনুসারীদের জয় করতে হবে মজুরী ও সহায়তা সংকোচন এবং পাপেন একনায়কত্বের বিরুদ্ধে, আর তাদের বোধগম্য করতে হবে যে হিটলারের পার্টি হচ্ছে লগ্নি পুঁজির সন্ত্রাসী ও প্রতিবন্ধকতা ভাঙার সংগঠন।

জনগণকে জাতিদম্ভী উস্কানী প্রদান, জার্মান বুর্জোয়ার সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ পলিসি ও সমরবাদী সশস্ত্রকরণের মোকাবেলায় তাকে ভার্সাই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামে সর্বহারা আন্তর্জাতিকতাবাদ বিকশিত করতে হবে ফরাসি বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে ফরাসী কমিউনিস্ট ও বিপ্লবী শ্রমিকদের সংগ্রামের সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বজায় রেখে।

জার্মান কমিউনিস্ট পার্টি পাপেন সরকারের সমরবাদী সশস্ত্রকরণ ও সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ পলিসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, দাবি করে যুদ্ধের শিকার ও বেকার জনগণের জন্য শত শত কোটি টাকা, বুর্জোয়াদের ও সমগ্র প্রতিবিপ্লবের নিরস্ত্রকরণ, সর্বহারা শ্রেণীর নিকট ক্ষমতা ও ক্ষমতার যন্ত্রের পুর্ণ অর্পন এবং জার্মান শ্রমিক জনগণের সামাজিক ও জাতীয় মুক্তির।” [আর্নেস্ট থালমান, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির thaelmann5সম্মেলন, কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের নির্বাহী কমিটির দ্বাদশ প্লেনাম এবং জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির কর্তব্য, ১৭ অক্টোবর ১৯৩২]

জাতীয় সমাজতন্ত্র যে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের মাধ্যমে ও ফ্যাসিবাদের মাধ্যমে পুঁজিবাদের রক্ষাকবচ, আর্নেস্ট থালমান তার জীবন্ত প্রমান। তার অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে প্রকৃত সমাজতন্ত্রকে নির্দিষ্টভাবে সংগ্রাম করতেই জাতীয় সমাজতন্ত্র সেখানে ছিল।

তার জীবন ছিল জাতীয় সমাজতন্ত্রের এক পালটা প্রতিপাদ্য, আর নাৎসিরা জেনেছিল যে তাদের পরাজয় থালমানের বিজয় ডেকে thaelmann6আনবে। আর্নেস্ট থালমান এক বৈজ্ঞানিক অনুপ্রেরণা হতে পারতেন, তিনি একটা “পথনির্দেশক চিন্তাধারা” জন্ম দিতে পারতেন বাস্তবতার বৈজ্ঞানিক প্রতিফলন হিসেবে; থালমান মানে ছিল এক লাইন যা জার্মান সমাজকে বহু বছরের গণতন্ত্র বিরোধী দুর্দশার পর গণতন্ত্রের দিকে নির্দেশ করে।

উল্লেখ্য যে জুলিয়েন লাহাউটকে বেলজিয়ামে তার বাড়ীর সামনে হত্যা করা হয় ১৮ আগস্ট ১৯৫০ এ। রাজতন্তের বিরুদ্ধে প্রজাতন্তের সংগ্রামে তিনি ছিলেন এক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব। তিনি ছিলেন বেলজিয়ামের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৪১ সালে ১০০,০০০ শ্রমিকের এক বিরাট ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেন, তারপর নাৎসিরা তাকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে 640px-Ernst_Thaelmann_Berlinপাঠায়, সেখানে তার উপর নির্যাতন চালায়, যা তিনি সর্বদাই প্রতিরোধ করেছেন।

জুলিয়েন লাহাউটও বিপ্লবী লাইন, বিপ্লবী প্রেক্ষিত ও নিজ দেশের এক উপলব্ধিকে ধারণ করেছেন। তাই, লাহাউট ও থালমান অমর।

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=1082


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ মাওবাদীদের সক্রিয়তা বাড়ছে, বৈঠকে পুলিশ

maoist1-655x360

জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার একটা সময় দৈনন্দিন ঘটনা ছিল। এখন পরিস্থিতি আলাদা। সেই ‘শান্তি’র জঙ্গলমহলেই সম্প্রতি একাধিকবার সিপিআই (মাওবাদী)-র নামে লেখা পোস্টার মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করলেন রাজ্য পুলিশের আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত।
বৃহস্পতিবার বেলপাহাড়ি থানায় ওই বৈঠকে ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার তথা ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার ভারপ্রাপ্ত এসপি ভারতী ঘোষ, বাঁকুড়ার এসপি নীলকান্ত সুধীরকুমার ও পুরুলিয়ার এসপি রূপেশ কুমার, ডিআইজি (মেদিনীপুর রেঞ্জ) বিশাল গর্গ, সিআরপি’র ডিআইজি বি ডি দাস-সহ সিআরপিএফ ও কোবরা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা। তবে এ দিনের বৈঠক নিয়ে মুখ খোলেননি পুলিশ কর্তারা।
পোস্টার উদ্ধারের পরে সে কাজে মাওবাদী যোগ অবশ্য মানতে চায়নি পুলিশ। উল্টে পুলিশ কর্তারা বলেছেন, ‘এ সব দুষ্টুলোকের কাজ’। কিন্তু এ দিনের বৈঠকে পুলিশ কর্তারা সকলেই একমত যে, সম্প্রতি তিন জেলার জঙ্গলমহলে যে সব হাতে লেখা পোস্টার মিলেছে, সেগুলি আর যাই হোক দুষ্টু লোকের কাজ নয়। পরিকল্পিত ভাবে মাওবাদীরাই পর্যায়ক্রমে ওই সব পোস্টার দিচ্ছে বলে মনে করেন আধিকারিকদের একাংশ। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই সব পোস্টারের লেখার ধরন দেখে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। এ বার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নির্দিষ্ট সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশের চিন্তা বেড়েছে।

জঙ্গলমহলে এলাকা ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করার পরে ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলে জারি করা হয়েছে ‘হাই অ্যালার্ট’। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনটি জেলার পুলিশকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন আইজি। সেই সঙ্গে আরও জোরদার তল্লাশি-অভিযানের পাশাপাশি, জনসংযোগ কর্মসূচির উপর জোর দিতে বলেছেন পুলিশ কর্তারা। প্রচারের আলো পেতে, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মাওবাদীরা ফের কোনও অ্যাকশন চালাতে পারে বলেও চার জেলার পুলিশকে বৈঠকে সতর্ক করা হয়েছে। এ দিন বৈঠকের আগে বাঁশপাহাড়ি ও ছুরিমারা এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন আইজি।

সম্প্রতি যে ক’বারই মাওবাদীদের নামে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে, তড়িঘড়ি তা উদ্ধার করে চেপে দেওয়া হয়েছে ঘটনা। যেমন, গত ১৭ জুলাই বেলপাহাড়িতে দলীয় এক সভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী বেলপাহাড়ির কয়েকটি গ্রামে মাওবাদীদের নামাঙ্কিত কিছু পোস্টার পাওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ তার সত্যতা স্বীকার করেনি। এরপর পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি চেয়ে পোস্টার মেলে। ২৮ জুলাই থেকে ৩ অগস্ট পর্যন্ত শহিদ সপ্তাহ পালনের ডাক দিয়ে বাঁকুড়া ও বেলপাহাড়ির বিভিন্ন গ্রামে পোস্টার মেলে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের সীমানাবর্তী এলাকায় শহিদ বেদি তৈরি করে শহিদ সপ্তাহও পালন করেছে মাওবাদীরা।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে। শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে এলাকায় জনমত গঠনেরও কাজ শুরু করে দিয়েছে মাওবাদীরা। আকাশ, বিকাশ, রঞ্জিত পালের মতো অধরা মাওবাদী নেতারা এলাকায় যাতায়াত শুরু করেছেন। ছত্তীসগঢ় থেকে আসা মাওবাদীদের ১৫ জনের একটি দল এলাকায় ঘুরে গিয়েছে বলে এলাকা সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে সদা সতর্ক থাকার সিদ্ধান্তই হয়েছে এ দিনের বৈঠকে।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/maoist-activities-increased-at-lalgarh-1.188685#


ভারতঃ মাওবাদীদের ‘লালগড়’ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে ৫টি ভুল স্বীকার

মাওবাদীদের লালগড় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে ৫টি ভুল স্বীকার

ভুলগুলো ক্ষমা করে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদানের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানাল মাওবাদীরা

 

ফিরে দেখা-

গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থানকে অমান্য করে ‘শান্তি আলোচনার ফাঁদে পা দেয়ার’ জন্য সিপিআই (মাওবাদী) এর পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের প্রতিও দোষারোপ করা হয়েছে এ পর্যালোচনায়,

পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, “সিপিআই(এম) এর পাশবিকতার প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জনগণের কাছে কোন ঘোষণা ছাড়াই মানুষ হত্যা করে ও গোপনে লাশ চাপা দিয়ে আমরা সিপিআই(এম) এর ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করেছিলাম।”

সিপিআই (মাওবাদী) এর দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এর কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে এই পর্যালোচনা

images

ঝাড়গ্রামঃ কিষেনজির মৃত্যু ও লালগড় আন্দোলনের পর প্রথমবারের মতো সিপিআই (মাওবাদী) এ আন্দোলনটির একটি প্রাথমিক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে যেখানে মাওবাদীদের কয়েকটি ভুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; এর মধ্যে একটি হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেণী চরিত্র বুঝতে ভুল করা। জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম সাবডিভিশনে গোপনে প্রচারিত তিন পৃষ্ঠার এই পর্যালোচনায় লালগড় আন্দোলনকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে পাঁচটি ভুল উল্লেখ করা হয় এবং জনগণকে ‘গঠনমূলক সমালোচনা’ করতে ও পরামর্শ প্রদান করতে আহ্বান জানানো হয়।

স্বীকারোক্তিগুলোর মধ্যে চমক লাগানো যেটি ছিল সেটি হল মমতার শ্রেণী চরিত্র সম্পর্কে নেতৃত্বের ভেতরে স্পষ্ট ধারণার অভাব ছিল; এ কারণে তাদের ভেতরে ‘ভুল ধারণা’ তৈরী হয়েছিল যে তৃণমূল প্রধান পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক বন্দীরা মুক্তি পাবে যা এই আন্দোলনকে লাভবান করবে।

গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থানকে অমান্য করে ‘শান্তি আলোচনার ফাঁদে পা দেয়ার’ জন্য সিপিআই (মাওবাদী) এর পশ্চিমবঙ্গের নেতাদেরকেও দোষারোপ করা হয়েছে এ পর্যালোচনায়। সিপিআই (মাওবাদী) এর দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এর কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্বাঞ্চলীয় ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে এই পর্যালোচনা।

কেন্দ্রের অবস্থান ছিল, পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির পরই কেবল পার্টি শান্তি আলোচনায় বসবে। পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীরা যুদ্ধবিরতি দিয়েছিল অথচ কোন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয়নি।

পার্টি এটাও স্বীকার করেছে যে তাদের কয়েকটি খতম সঠিক ছিল না। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, “সিপিআই(এম) এর পাশবিকতার প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জনগণের কাছে কোন ঘোষণা ছাড়াই মানুষ হত্যা করে ও গোপনে লাশ চাপা দিয়ে আমরা সিপিআই(এম) এর ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করেছিলাম।”

এতে বলা হয়েছে, “আমরা আমাদের ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং পশ্চিমবঙ্গের জনগণের কাছে আমাদের পার্টি প্রকাশ্যে খোলা মনে আত্মসমালোচনা করছে। আমরা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গিকার করছি। গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ প্রদান করার জন্যেও আমরা আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

ইউপিএ-২ সরকারের সাথে কিষেণজিকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও এই উদ্দেশ্যে শান্তি আলোচনাকে ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে এই পর্যালোচনায়। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের নিয়োগকৃত প্রধান দুই আলোচনাকারী সুজাত ভদ্র ও ছোটন দাশকে ক্লিন চিট (নির্দোষিতার প্রমাণপত্র) দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে কিষেণজির হত্যাকাণ্ডের সাথে সুজাত ভদ্র ও ছোটন দাশকে যুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রচারণা চালানো হলে তা গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর হবে।

প্রতিবেদনটি ২০১৪ সালের ২০শে অক্টোবর প্রকাশিত হলেও কখনো সর্বসাধারণের সামনে আসেনি। এতে আরো বলা হয়েছে রাজ্য কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য সব কমিটিগুলোকে পুনরূজ্জীবিত করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

পর্যালোচনায় জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি সম্পর্কে স্বচ্ছতার অভাবের কারণে মাওবাদীরা তাদের লোকজনদের মমতার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাঠিয়েছিল; এতে করে মূলতঃ তারা তৃণমূল প্রধানের দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিল আর মমতাকে ব্যবহার করার মূল যে পরিকল্পনা ছিল মাওবাদীদের, তা তারা হারিয়ে ফেলেছিল।

সূত্রঃ hindustantimes.com

11214718_10201019991979008_6809894257605910269_n