ভারতঃ কলকাতায় মাওবাদী পোস্টার

naxalites-gathered-at-the-venue-of-the-cpi-maoists-ninth-congress-at-an-undisclosed-place-in-chhattisgarh

কলকাতা, ১৪ অগাস্ট : কলকাতা থেকে উদ্ধার হল মাওবাদী পোস্টার। আজ সকালে মানিকতলা মেন রোডের উপর বেশ কয়েকটি মাওবাদী পোস্টার উদ্ধার হয়। উদ্ধার করে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। তবে ওই পোস্টারগুলিতে কী লেখা ছিল সে বিষয়ে সঠিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ প্রথমে মেন রোডের নর্থ রোড ক্রসিংয়ের কাছে CESC-র একটি বক্সে পোস্টার দেখতে পান ১ ট্রাফিক সার্জেন্ট। এরপর আশপাশে আরও কয়েকটি পোস্টার দেখতে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় থানায়।

স্থানীয় এক দোকানদারের দাবি, কয়েকমাস আগেও মানিকতলা রেল ব্রিজের কাছে মাওবাদী পোস্টার পড়েছিল। পোস্টারগুলিতে দ্ব্যর্থক ভাষায় কিছু লেখা ছিল। নীচে মাওবাদী লেখা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সূত্রঃ http://www.dnaindia.com/india/report-maoist-posters-surface-in-mamata-s-kolkata-on-independence-day-eve-2114368

Advertisements

YDG-K এর শহুরে সশস্ত্র নারী বিপ্লবীরাঃ আমরা আমাদের জনগণকে রক্ষার জন্য প্রস্তুত

k2

আমেদঃ সকল নারীকে আত্মরক্ষা শেখার জন্য এবং তুরস্কের ক্ষমতাসীন একেপি পার্টির বিরুদ্ধে রাস্তা দখল নেয়ার আহবান জানিয়েছে শহুরে বিপ্লবী নারীদের সশস্ত্র গ্রুপ ‘দেশপ্রেমী বিপ্লবী যুব নারী (YDG-K)’। তুরস্কের ক্ষমতাসীন AKP সরকার কুর্দিস্তানে সাম্প্রতিক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের একটি নতুন ফর্ম চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- নতুন পদ্ধতিতে বিমান হামলা, পুলিশের অভিযান, গ্রামে “নিরাপত্তা অঞ্চল” ঘোষণা, শহুরে এলাকাগুলোতে পুলিশি অবরোধ এবং সৈন্য দ্বারা বন ও গ্রাম পোড়ানো।

শহুরে বিপ্লবী নারীদের সশস্ত্র গ্রুপ ‘দেশপ্রেমী বিপ্লবী যুব নারী (YDG-K)’ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, শহরের আশেপাশে তাদের ইউনিট গুলো যুদ্ধের এই নতুন ফর্মের বিরুদ্ধে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। YDG-K এর পক্ষে ইয়েক্টা আরদিল, মুক্তির জন্যে সকল নারীকে এই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানিয়েছে।

YDG-K এর নারীরা এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে, PKK এর কারারুদ্ধ নেতা আবদুল্লাহ ওসালানকে সাম্প্রতিক বিগত কয়েক মাস অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই চেষ্টাকে কুর্দিশ তরুণ বিশেষ করে নারীদের মনোবল ভেঙ্গে দেবার অপপ্রয়াস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তারা। ইয়েকতা বলেন, “গোলাপ যেমন তার কাঁটা দিয়ে আত্মরক্ষা করে ঠিক তেমনি ভাবে সব জায়গায় তরুণ নারীদেরকে আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তরুণ ও নারী হওয়ার অর্থ আমাদের উপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিটি পাড়ায় ও প্রতিটি রাস্তায় আমরা এই দায়িত্ব পালন করব। আত্মরক্ষার উন্নয়ন ঘটানো আমাদের নৈতিক অধিকার; যারা এ অধিকারের বাধা হয়ে দাঁড়াবে আমরা তাদেরকে পাল্টা আঘাত করতে প্রস্তুত”। আত্মরক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তারা নিজেদের প্রশিক্ষণ দেবেন বলে বিবৃতিতে অঙ্গিকার করেছেন নারীরা; এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবেশী শহরগুলোতে পরিখা খনন করে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর থেকে নিজেদের রক্ষা করবেন। ইয়েকতা বলেন, “আমাদের নেতা বলেছে, নারীদের মুক্তিই কুর্দিস্তানের মুক্তি। প্রতিটি স্থানে ফ্যসিবাদী রাষ্ট্রের প্রতিটি কাজের বদলা আমরা নেব”।

সূত্রঃ Via JINHA News


ভারতঃ হাইকোর্টে গৃহীত ছত্রধর মাহাতোর মামলা

kolkata.high_.court_

আদালতে গৃহীত হল ছত্রধর মাহাত’র মামলা। এবার এই মামলার শুনানি হবে হাইকোর্টে। জামিনের আবেদন জানাতে পারবেন ছত্রধর মাহাত সহ ছয় অভিযুক্ত।

রাজ্যে প্রথম দেশদ্রোহিতা এবং সন্ত্রাসদমন আইনে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ছত্রধর মাহাতকে। যাবজ্জীবনের সাজা হয় তাঁর।  মেদিনীপুরের চতুর্থ জেলা দায়রা আদালত। একই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সাগেন মুর্মু, সুখশান্তি বাসকে, শম্ভু সোরেনসহ আরও ৬ জনকেও একই সাজা দেওয়া হয়।

তবে রাষ্ট্রদোহিতায় দোষী সাব্যস্ত হলেও, ইউএপিএতে অন্তর্ভূক্ত হননি রাজা সরখেল ও প্রসূন চট্টোপাধ্যায়।

পশ্চিম মেদিনীপুরের দলিতপুরে একটি নাশকতামূলক বিস্ফোরণের ঘটনায় ও মাওবাদী সংস্রবের অভিযোগে ২০০৯-এর ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতকে। ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনে জেল থেকেই ভোটে লড়েন ছত্রধর। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বন্দিমুক্তি কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু, রেহাই পাননি তিনি। যদিও ২০০৯-এর লোকসভা ভোটের আগে ছবিটা ছিল অন্যরকম। রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই সভামঞ্চে দেখা গিয়েছে ছত্রধর মাহাতকে। মমতা ছত্রধরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে জঙ্গলমহলের জনগণ বলে আসছেন।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/chhatradhar-case-at-highcourt.html


ভারতঃ স্বাধীনতা দিবসের আগে মাওবাদী পোষ্টার ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার এক

maoist_journalism_illus_20100412

কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের আগেই উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র সহ মাওবাদী পোষ্টার৷ শুক্রবার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷ ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীর পীড়াকাটা অঞ্চলে৷ পুলিশ সূত্রের খবর অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বীরবল চালক৷ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তার খড়ের গাদা এবং বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি তাজা ল্যান্ড মাইন সহ তিনটি পুরনো বন্দুক ও ২১ টি গুলি।
এদিন সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, সকাল ন’টা নাগাদ কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে একটি খড়ের গাদা থেকে তিনটি তাজা ল্যান্ড মাইন পাওয়া যায়৷ এরপরেই ওই খড়ের গাদার মালিক বীরবল চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ তার বাড়ি থেকে তিনটি বন্দুক ও ২১টি গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই বন্দুকগুলি পুলিশের বলে দাবি করেছেন তাঁরা৷ এর সঙ্গে বেশ কিছু মাওবাদী নামে লেখা পোষ্টারও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপরেই বীরবল ওরফে বরেনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।


কলকাতাঃ সংবাদপত্রে প্রকাশিত USDF সংক্রান্ত একটি ভুল খবরের জবাবে সংগঠনের তরফে বিবৃতি

usdf

“একটা ভূত ইউরোপকে তাড়া করছে, কম্যুনিজমের ভূত। … এমন কোন বিরোধী পক্ষ আছে যে ক্ষমতায় আসীন প্রতিপক্ষকে কম্যুনিস্ট মনোভাবাপন্ন বলে নিন্দা করেনি? এমন বিরোধী পার্টিই বা কোথায় যে নিজে আরও অগ্রসর বিরোধী দলগুলোর, তথা প্রতিক্রিয়াশীল বিপক্ষদের ছুঁড়ে দেয়নি কম্যুনিজমের অপবাদ সূচক গালি?” এই কথা গুলো বলেই  ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টো লেখা শুরু করেছিলেন। আজকের সময়ে এই কথাগুলো হুবহু মিলে যায় যদি “কম্যুনিস্ট” শব্দটার বদলে আরও নির্দিষ্ট ভাবে “মাওবাদী” শব্দটি বসিয়ে দেওয়া যায়।

  যেমনভাবে এরাজ্যে সিপিএম সরকারের আমলে গোয়েন্দা বিভাগ মাওবাদীদের সাথে তৃণমূলের যোগসাজশের প্রমাণ পেশ করেছিল, সরকার পরিবর্তনের পরেই তৃণমূল সরকারের গোয়েন্দা বিভাগও ঠিক তেমনভাবেই “মাও-মাকু(CPIM)” আঁতাতের কথা বলতে শুরু করল! বিজেপি বহুবার ‘আম আদমি পার্টি’ কে আক্রমণ করেছে শহুরে মাওবাদী বলে। সব রাজ্যেই  এরকম উদাহরণ  পাওয়া যাবে ভূরি ভূরি। এদেশে যেকোনো সরকার বা মাফিয়া-পুঁজিপতি বিরোধী আন্দোলনকেই মাওবাদী বলে দেগে দেওয়া হয়। তা সে কামদুনি বা অন্য কোথাও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন হোক, মারুতির শ্রমিক আন্দোলন হোক, জমি অধিগ্রহণ বিরোধী কৃষক আন্দোলন হোক বা খোদ সংবিধান স্বীকৃত কোন আইন লাগু করার আন্দোলন হোক। এমনকি মানবাধিকার সংগঠনগুলো পর্যন্ত মাওবাদী তকমা পায়।

      সংসদীয় পার্টিগুলোর লেজুড় নয় এরকম যেকোনো ছাত্রছাত্রী সংগঠনগুলোকেই মিডিয়া এবং সরকার মাওবাদী বলে চিহ্নিত করে। বাম সরকারের আমলে বিভিন্ন বাম গণতান্ত্রিক ছাত্রছাত্রী সংগঠনগুলোর যৌথ মঞ্চ ‘ছাত্র-ছাত্রী সংহতি’ কে মাওবাদী  পার্টির শাখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মিডিয়ার একাংশ ‘হোক কলরব’ আন্দলনের পেছনে মাওবাদীদের হাত দেখেছিল। একটি ইংরেজি দৈনিক আমাকে এবং একটি বাংলা চিটফাণ্ড দৈনিক প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীন মঞ্চ IC’র এক কর্মীকে মাওবাদী বলে চিহ্নিত করে। বলা বাহুল্য, ছাত্রছাত্রী সংগঠনগুলোর মধ্যে সম্ভবত আমরাই সবচেয়ে বেশিবার ‘মাওবাদী’ তকমা পেয়েছি, কারণ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময় USDF  কর্মীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বক্তৃতা, গান, নাটকের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের পেছনে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির চক্রান্তের কথা প্রচারে নিয়ে এসেছে। শুধুমাত্র শাসকদলকে নিশানা বানিয়ে আন্দোলনকে সংসদীয় বিরোধী দলের ভোট বাক্সে পরিণত করার নীতিকে বিরোধিতা করে আমরা  শ্রমিক কৃষকের আক্রমণের নিশানায় দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছি শাসকশ্রেণী বা গোটা সমাজ ব্যবস্থাটাকেই। ইউনিভার্সিটিতে আপোষহীনভাবে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থার শ্রেণী চরিত্র কে উন্মোচিত  করেছে USDF কর্মীরা।

 গত ২৯ জুলাই প্রাক্তন কয়েকজন USDF কর্মীর ভুল চিন্তা সম্বলিত একটি বিভ্রান্তি লিফলেটের মতাদর্শগত সমালোচনা করে আমরা সংগঠনের ব্লগে একটি বিতর্কমূলক প্রবন্ধ প্রকাশ করি। ওই প্রাক্তন USDF কর্মীদের নামে প্রকাশিত লিফলেটটি USDF এর লিফলেট কিনা, এই নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হওয়াতে আমাদের মতাদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট করতেই প্রবন্ধটি লেখা হয়। এর পরে গত ৮ আগস্ট আমার লেখা এই প্রবন্ধটিকে

(https://usdfeimuhurte.wordpress.com/2015/07/29/%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B0/)

কেন্দ্র করে একটি  ইংরেজি দৈনিকে কলকাতা শহরে মাওবাদীদের মধ্যে বিভেদের খবর প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল কে কেন্দ্র করে মাওবাদী কম্যুনিস্ট পার্টির সাথে সরকারের যুদ্ধের কারণেই সরকার ও  বুর্জোয়া মিডিয়া মাওবাদীদের মধ্যে ভাঙন প্রচার করতে তৎপর। মাওবাদী দমন অভিযানের নামে  বারবার করে গণআন্দোলন কর্মীদের রাষ্ট্রের দমনপীড়ন নীতির শিকার বানিয়ে ন্যুনতম গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করার ধারাবাহিক যে প্রয়াস দেখা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের অন্যান্য বিবিধ রাজ্যে, আমরা তার বিরুদ্ধে তীব্র করছি।  না আমি ভারতের কম্যুনিস্ট পার্টি (মাওবাদীর) মুখপাত্র, না USDF  ওই পার্টির শাখা সংগঠন। ফলে নিতান্তই ছাত্র সংগঠনের একটি খোলা বিতর্কের  মধ্যে মাওবাদীদের বিভেদ খোঁজার কোনো অর্থ আছে বলে আমরা মনে করিনা।  আমরা মনে করি সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই খবরটি যে ভুল, সেটাকে সামনে আনা দরকার। আর এ জন্যই এই বিবৃতির অবতারণা। USDF এর অবস্থান হল এই ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন কোনো রাজনৈতিক পার্টির শাখা হিসেবে কাজ করবে না। তবে আমাদের সংগঠনের কোনো সদস্য ভারতের আধা সামন্ততান্ত্রিক – আধা উপনিবেশিক সমাজকে উচ্ছেদ করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিপ্লবী লড়াইয়ে সামিল এরকম যেকোনো বিপ্লবী পার্টির সাথে যুক্ত থাকবে কি থাকবেনা, সেটা সদস্যদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার।

বিপ্লবী অভিনন্দন সহ

                                 সৌম্য মণ্ডল

আহ্বায়ক, ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট

তারিখঃ ১৩ই আগস্ট, ২০১৫


কলকাতা: মৃত্যুদন্ড বিরোধী সভা, আগষ্ট ১৯

against-death-penalty-791x1024


মাওবাদীরা কখনো ভুলে না, কখনো ক্ষমা করে নাঃ একটি বিশ্লেষণ(রিপোর্ট-২ ও শেষ পর্ব)

ভারতের মাওবাদী প্রভাবিত জেলা সমূহ

ভারতের মাওবাদী প্রভাবিত জেলা সমূহ

ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের (Institute for Conflict Management) সহকারী গবেষক, মৃণাল কান্ত দাস ভারতের মাওবাদীদের উপর একটি গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করেছেন।

লাল সংবাদ‘ রিপোর্টটি বাংলায় (রিপোর্ট-২ ও শেষ পর্ব) প্রকাশ করছে-

Maoists_1

মাওবাদীরা কখনো ভুলে না, কখনো ক্ষমা করে নাঃ একটি বিশ্লেষণ

২০০৫ এ ১৪ জন, ২০০৬ এ ৬ জন, ২০০৭ এ ২ জন, ২০০৮ এ ৫ জন, ২০০৯ এ ৮ জন, ২০১০ এ ১২ জন, ২০১১ এ ৪ জন, ২০১২ এ ৭ জন, ২০১৩ এ ৪ জন, ২০১৪ এ ৬ জন ও ২০১৫ এ ২ জন নিহত হয়েছে। বস্তার অঞ্চলে নিহত ৪ মাওবাদী ক্যাডার এই তালিকায় নেই কারণ তারা আত্মসমর্পণ করেনি। মাওবাদীদের সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ঘাঁটি বস্তার এলাকায় সাম্প্রতিক আত্মসমর্পণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই চলমান হত্যাগুলোকে দেখতে হবে।

SATP সংগৃহীত আংশিক তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে এখন পর্যন্ত ২৫১ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে।

২০০৫ সাল থেকে অন্তত ৪,২৪৫ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে (২রা অগাস্ট ২০১৫ পর্যন্ত)। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ২০১৫ সালে অন্ধ্র প্রদেশে ৮ জন ‘ডেপুটি কমান্ডার’, মহারাষ্ট্রে ১ জন ‘সেকশন কমান্ডার’ ও ১ জন কমান্ডার,  তেলেঙ্গানায় ১ জন স্থানীয় গেরিলা স্কোয়াড কমান্ডার ও ১ জন স্থানীয় অপারেশন স্কোয়াড কমান্ডার আত্মসমর্পণ করেছে। তবে ‘কমান্ডার’ পদে আত্মসমর্পণের সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ছত্তিসগড়ে; এখানে ১ জন ‘বিভাগীয় কমান্ডার’, ৩ জন ‘ডেপুটি কমান্ডার’, ৫ জন কমান্ডার, ১ জন মিলিশিয়া কমান্ডার, ১ জন স্থানীয় গেরিলা স্কোয়াড কমান্ডার, ১ জন স্থানীয় অপারেশন স্কোয়াড কমান্ডার, ১ জন সেকশন কমান্ডার ও ২ জন প্লাটুন কমান্ডার আত্মসমর্পণ করেছে।

২০১৫ সালে ঝাড়খন্ডে কমান্ডার পদের কোন আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটেনি।

ছত্তিসগড়ে আকস্মিক আত্মসমর্পণের ঘটনার বৃদ্ধি দেখে ২০১৪ সালের ১লা নভেম্বর মাওবাদী নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ছত্তিসগড়ে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের সতর্ক করে দেয়া হয় যাতে করে পুলিশের কাছে মাওবাদী ক্যাডারদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে তারা কোন সহায়তা প্রদান না করে।

এক প্রেস বিবৃতিতে সিপিআই (মাওবাদী) এর দক্ষিণ আঞ্চলিক কমিটির সেক্রেটারি গণেশ উইক ঘোষণা দেন, “ভুয়া আত্মসমর্পণের প্রতি নিন্দা জানাতে ও গণ আন্দোলনকে যারা ঠকিয়েছে তাদেরকে এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান না করতে আমরা সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি”।

কোনরকম আলোচনা ছাড়াই যারা আত্মসমর্পণ করে কিংবা যারা পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা করে মাওবাদী নেতৃত্ব তাদেরকে সবসময়ই ঘৃণা করে। যদিও নেতৃত্বের অনুমতি নিয়ে পার্টির কিছু শ্রেণীর ক্যাডাররা আত্মসমর্পণের অনুমতি পাবে এধরনের একটি স্থায়ী নীতিমালা রয়েছে।

তবে এই আত্মসমর্পণ নীতিমালার সুযোগে বয়স্ক ও অসুস্থ ক্যাডারদেরকে ‘অবসর’ প্রদান করার ঘটনাও  রয়েছে যাদের অনেকে পরবর্তীতে মাওবাদী সমর্থিত প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন।

২০১৫ সালের ২৩শে জুলাই কাংকার জেলার পাখানজোর এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত মানসিং ওরফে অর্জুনকে গ্রেফতারের পর এ ধরনের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

কাংকারের এসপি জীতেন্দ্র সিং মীনা বলেন অর্জুন ২০০০ সাল থেকে মাওবাদীদের সাথে জড়িত, প্রথমদিকে সে ‘অস্থায়ী সদস্য’ হিসেবে কাজ করত তবে পরে তাকে অপরিশোধিত আগ্নেয়াস্ত্র জড়ো করা ও বন্দুক, রাইফেল মেরামতের দায়িত্ব দেয়া হয়।

মাওবাদী নেতাদের কথায় মানসিং আত্মসমর্পণ করে; তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরে সে জামিনে মুক্তি পায় এবং আবার আন্ডারগ্রাউন্ড আন্দোলনে যোগ দেয়।

পুনরায় যোগদানের পর তাকে কুলি জনমিলিশিয়ার (গণ মিলিশিয়া) কমান্ডার পদমর্যাদা প্রদান করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে তাকে পদাবনতি দিয়ে পুনরায় অস্ত্র মেরামতের কাজে নিয়োগ দেয়া হয়, গ্রেফতারের পূর্ব পর্যন্ত সে এই কাজই করত।

তার পূর্বের আত্মসমর্পণের মূল কারণ পরিস্কার নয় তবে এটা তার ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে হতে পারে আবার আত্মসমর্পণ চক্র সম্পর্কে মাওবাদী নেতৃত্বের আরো বেশি জানার আগ্রহের কারণেও হতে পারে।

আত্মসমর্পণ যেখানে অবৈধ সেখানে প্রথমে ব্যক্তিটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, পরে সতর্ক করে দেয়া হয় এবং গণমাধ্যমের মধ্য দিয়েও জোরালোভাবে সমালোচনা করা হয়।

যে সকল প্রাক্তন কমরেড ‘পার্টি বিরোধী কর্মকাণ্ডে’ লিপ্ত আছে বলে মনে করা হয় মাওবাদীরা তাদেরকে বর্জন করে।

‘বর্জন করা’ যেখানে শেষ সমাধান সেখানে আত্মসমর্পণ করা বেশ কয়েকজন নেতা বর্তমানে বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

২০০৭ সালের ২০শে জুন তৎকালীন অবিভক্ত অন্ধ্র প্রদেশের গুনতুর জেলার ৫ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীকে সতর্ক করে বলা হয় যে পুলিশের সাথে মেলামেশা বন্ধ না করলে তাদেরকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ সম্মুখীন হতে হবে।

একইভাবে ২০১৩ সালের ৩০শে জানুয়ারি সিপিআই (মাওবাদী) এর দক্ষিণ গাদচিরোলি ‘বিভাগীয় কমিটি’ এর প্রাক্তন ‘সেক্রেটারি’ শেখর ওরফে মাল্লায়া ও তার স্ত্রী বিজয়ার সমালোচনা করে কারণ তারা ২০১২ সালে অন্ধ্র প্রদেশ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।

২০১৩ সালের ৯ই জুন সিপিআই (মাওবাদী) এর একটি ‘অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিশন’ পলিটব্যুরো সদস্য কিষেণজির মৃত্যুর জন্য আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নেত্রী সুচিত্রা মাহাতোকে দোষারোপ করে; ২০১১ সালের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কিষেণজির মৃত্যু হয়।

সুজাতাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটি ‘ষড়যন্ত্রের’ সাথে লিপ্তদের প্রতি ‘প্রতিশোধ গ্রহণ’ করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়।

২০১৪ সালের ১৩ই জানুয়ারি দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটির রাজ্য কমিটির সদস্য প্রসাদ ওরফে গুদসা উসেন্দি ওরফে সুখদেবের আত্মসমর্পণকে নিন্দা জানায় সিপিআই (মাওবাদী)।

দণ্ডকারণ্য বিশেষ জোনাল কমিটির (DKSZC) পরবর্তী মুখপাত্রও গুদসা উসেন্দি ছদ্মনামে কাজ করতেন; তিনিও DKSZC এর সদস্য অর্জুন ও তার স্ত্রী রণিতার আত্মসমর্পণকে নিন্দা জানান। অর্জুন ও রণিতা ২০১৪ সালের ১লা অগাস্ট তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

পার্টি জানায় এই দম্পতির পক্ষে আন্দোলনের ‘কঠিন সময়’ সহ্য করে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি।

‘কঠিন সময়ের’ সাথে আরো বিশদভাবে যুক্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের আকর্ষণীয় আত্মসমর্পণ নীতিমালা যাতে রয়েছে বড় ধরনের আর্থিক পুরস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্প; এসব আর্থিক পুরস্কার ও প্রকল্প অনেক মাওবাদীকে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনরায় চিন্তা করতে বাধ্য করেছে।

মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যগুলোর সরকার আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের জন্য অর্থের পরিমাণও বাড়িয়েছে।

আত্মসমর্পণ নীতিমালার সাফল্যের জন্য যে বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে সেগুলো হল- মহারাষ্ট্রে প্রোপাগান্ডা প্রচারণা, শান্তি র‍্যালি, স্থানীয়দের সাথে আলোচনা সহ ‘কে হবে লাখপতি’ প্রকল্প; অন্ধ্র প্রদেশ সরকারের ‘সাদা কার্ড’ (রেশন কার্ড) প্রদান, বাসস্থান কর্মসূচি, LPG গ্যাসে ভর্তুকি প্রদান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে ভর্তি করা; সিপিআই (মাওবাদী) এর পলিটব্যুরো, বিশেষ এরিয়া কমিটি ও আঞ্চলিক ব্যুরোর সদস্যদেরকে বড় অংকের অর্থ (২৫ লাখ রুপি) প্রদানের ব্যাপারে ঝাড়খণ্ড কেবিনেটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ;  ইন্দ্র আওয়াস যোজনার হারে আর্থিক সহায়তা ও বাসস্থান প্রদানের ব্যাপারে উড়িষ্যা সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত।

২০১৪ সালের ২৯শে নভেম্বর সিপিআই (মাওবাদী) স্বীকার করে যে তাদের ক্যাডাররা পার্টি ছেড়ে যাচ্ছে এবং “এটা সত্যি যে আমাদের কিছু দুর্বল ক্যাডার সরকারের দেউলিয়া ও দুর্নীতিপরায়ণ নীতিমালার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদের অস্ত্র ছেড়ে দিচ্ছে”; এক প্রেস বিবৃতিতে গুদসা উসেন্দি এ বক্তব্য রাখেন।

মাওবাদী নেতাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে আত্মসমর্পণ ও দলত্যাগের যে ঢেউ তাকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যেই আত্মসমর্পণকারী ক্যাডার ও বিশেষত পুলিশদের সাথে গোপন চক্রান্ত রয়েছে এমন ক্যাডারদের হত্যা করা হয়েছে। তবে এর মধ্য দিয়ে আরো যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা হল মাওবাদীদের যারা ছেড়ে আসছে তাদেরকে একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রদানে সরকারের ব্যর্থতা। আর্থিক পুরস্কার ও ‘পুনর্বাসনের’ অন্যান্য উপাদান আত্মসমর্পণে উৎসাহ বৃদ্ধির পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কিন্তু মাওবাদীরা যদি আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের ক্রমাগত শাস্তি প্রদান করতে সমর্থ হয় সেক্ষেত্রে এই নীতি ক্রমান্বয়ে ব্যর্থ হবে।

(সমাপ্ত)      

সূত্রঃ

India: Maoists Never Forgive, Never Forget – Analysis