নাজিম হিকমতের কবিতা: রোমিও ও জুলিয়েট বিষয়ে

32316

রোমিও ও জুলিয়েট বিষয়ে

রোমিও বা জুলিয়েট হওয়া কোন অপরাধ নয়;
ভালবাসার জন্যে মৃত্যুবরণ করাও কোন অপরাধ নয়।
যেটা দেখার, সেটা হচ্ছে—তুমি নিজে রোমিও বা জুলিয়েট
হতে পারবে কিনা,
আমি বলতে চাইছি, এসবই তোমার হৃদয়ের বিষয়-আশয়।।

যেমন, ব্যারিকেডের ভেতরে যুদ্ধ করা,
বা উত্তর মেরু অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়া,
বা ধমনীতে কোন ঔষধের
পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সম্মতি দেয়া—
এসব করতে গিয়ে মৃত্যু হয় যদি
তা কি কোন অপরাধ হবে?

রোমিও বা জুলিয়েট হওয়া কোন অপরাধ নয়;
ভালবাসার জন্যে মৃত্যুবরণ করাও কোন অপরাধ নয়।

ধরো, তুমি পৃথিবীর প্রেমে পুরোপুরি বিবশ,
কিন্তু সে তো জানেও না—তুমি বেঁচে আছো কিনা।
তুমি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতে চাইছ না,
কিন্তু সে নিশ্চিত তোমাকে ছেড়ে চলে যাবে—
আমি বলতে চাইছি, তুমি আপেল ভালবাসো,
তার মানে কি এই যে আপেলও তোমাকে ভালবাসবে?
আমি বলতে চাইছি, জুলিয়েট যদি রোমিওকে আর ভালবাসতে না চায়
—অথবা জুলিয়েট কখনোই যদি রোমিওকে ভাল না বাসত—
তাতেও কি সে কোন অংশে কম রোমিও হত?

রোমিও বা জুলিয়েট হওয়া কোন অপরাধ নয়;
ভালবাসার জন্যে মৃত্যুবরণ করাও কোন অপরাধ নয়।

Advertisements

ভারতঃ মাওবাদী সন্দেহে গ্রেফতার দুই, উদ্ধার প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র

343670-339001-maoists-2

পটনা: মাওবাদী হামলা হতে পারে এই মর্মে চিঠি দিয়ে দেশের বেশ কিছু রাজ্যকে সতর্ক করেছিল সরকার। সেই সতর্ক বার্তায় সন্দেহজনক ভাবে দু’জন মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হল বিহারের জামুই জেলার বিরিয়াপুর থেকে।

পুলিশ আধিকারিক সুরিন্দর শর্মার কথায়, “আগাম খবরের ভিত্তিতে আমরা বিরিয়াপুরে অভিযান চালিয়েছিলাম। সেখান থেকেই এই মাওবাদীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।” পুলিশ সূত্রে খবর, এদের কাছ থেকে মিলেছে বেশ কয়েকটি একে ৪৭ বন্দুক, বেশ কিছু ডিটোনেটর, আইইডি এবং ম্যাগাজিন। গ্রেফতার হওয়া মাওবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/security-forces-arrest-2-suspected-maoists.html


কমিউনিস্টদের বোমা হামলায় তুরস্কের আরো ৩ সেনা নিহত

কমিউনিস্ট পিকেকে গেরিলা

কমিউনিস্ট পিকেকে গেরিলা

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় বিঙ্গোল প্রদেশে কমিউনিস্টদের শক্তিশালী বোমা হামলায় দেশটির আরো তিন সেনা নিহত হয়েছে।

তুর্কি সেনাবাহিনী শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিঙ্গোল প্রদেশের কারলিওভা জেলায় বিস্ফোরণে ওই তিন সেনা নিহত হয়। একটি সামরিক বহরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্য ছয় সেনা আহত হয়েছে বলে সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। বোমা হামলার পর সেখানে কমিউনিস্ট গেরিলাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। বোমা হামলার জন্য যথারীতি কমিউনিস্ট পিকেকে গেরিলাদেরকে দায়ী করা হয়েছে।

শুক্রবার দিনের শেষ ভাগে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় হাক্কারি প্রদেশে কমিউনিস্ট কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে গেরিলাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিন সেনা নিহত হয়েছিল।

গত কয়েক সপ্তাহ থেকে সিরিয়ার ভেতরে উগ্রবাদী আইএসআইএল সন্ত্রাসী এবং ইরাকে অবস্থানরত পিকেকে গেরিলাদের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে তুরস্ক। তবে আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে দুই/একবার বিমান হামলা হলেও পিকেকে গেরিলাদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। জবাবে পিকেকে গেরিলারাও তুরস্কের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালাচ্ছে। তুরস্ক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কমিউনিস্টদের হাতে অন্তত ৩৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.skynews.com.au/news/world/mideast/2015/08/16/three-turkish-soldiers-die-in-pkk-attack.html


সিরাজ সিকদার রচনাঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদের প্রতিক্রিয়াশীল কার্যকলাপ

সিরাজ সিকদার রচনা

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদের

প্রতিক্রিয়াশীল কার্যকলাপ

(সেপ্টেম্বর ১৯৭৪)

[স্ফুলিঙ্গ ১নং সংখ্যায় প্রকাশিত]

 sikder

[যেমনটা সভাপতি সিরাজ সিকদার ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন, পার্বত্য চট্রগ্রামের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদের আন্দোলন ৯০ দশকের শেষের দিকে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করে। বিনিময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলির বাংলাদেশে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের ভারতের কাছে ধরিয়ে দিয়ে ঐ আন্দোলনগুলিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে সিরাজ সিকদারের সময়ে পার্বত্য চট্রগ্রামে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির মুক্ত এলাকা গড়ে উঠলেও, তাঁর মৃত্যু পরবর্তীকালে ভ্রান্ত লাইনসমূহ কারণে কাজ বিপর্যস্ত হয়ে যায় — সর্বহারা পথ]

সামন্ত ক্ষুদে বুর্জোয়াদের নেতৃত্বে চট্রগ্রামের চাকমা জাতিসত্তার মধ্যে একটি সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চলে আসছে। তারা শোষক ও শোষিত বাঙালীদের কোন পার্থক্য রেখা টানে না, সকলবাঙালীকেই শত্রুমনে করে।

তাদের মুক্তির জন্য বাঙালীদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে তারা বিরোধিতা করে।

তারা পাহাড়ী জাতিসত্তার শোষক-শোষিতের মধ্যকার কোন পার্থক্য করে না।

তারা পার্বত্য চট্রগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্তার জন্য স্বায়ত্বশাসনের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে পার্বত্য চট্রগ্রামের স্বায়ত্তশাসন, কখনো কখনো বিচ্ছিন্নতা দাবী করে।

এ দাবীর অর্থ হচ্ছে কিছুটা ক্ষুদে বুর্জোয়া আলোকপ্রাপ্ত সংখ্যাধিক চাকমা জাতিসত্তার ক্ষমতা দখল এবং অন্যান্য জাতিসত্তার উপর তাদের কর্তৃত্ব ও নিপীড়ন।

চাকমা জাতিসত্তার এই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীরা মার্কসবাদের কথাও কখনো কখনো বলে, কেউ কেউ নিজেদেরকে মার্কসবাদী দাবী করে।

কিন্তু মার্কসবাদের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিকতাবাদ ‘বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণী এক হও’,একটি দেশের ভৌগলিক সীমার মধ্যে শ্রমিক শ্রেণীর একটিই রাজনৈতিক পার্টি-কমিউনিস্ট পার্টিহতে পারে, জাতিয়তাভিত্তিক কমিউনিস্টরা বিভক্ত হতে পারে না, জাতীয় সমস্যা হচ্ছে মূলতঃ শ্রেণী সমস্যা, ইত্যাদি তারা স্বীকার করে না।

এই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদের কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী,সামরিক, সাংগঠনিক ও বাস্তব কাজের লাইন নেই।

পাক বাহিনীর পরিত্যাক্ত অস্ত্র, প্রাক্তন রাজাকার, সামন্ত বুদ্ধিজীবী, EPCAF [East Pakistan Civil Armed Force— সর্বহারা পথ] দ্বারা তারা একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়েছে।

এর সাহায্যে তারা গ্রাম থেকে জোর পূর্বক অর্থ সংগ্রহ, কোথাও কোথাও ডাকাত দমন, ডাকাতি করা, সামন্ত প্রতিক্রিয়াশীলদের রক্ষা ইত্যাদি কাজ করে।

পার্বত্য চট্রগ্রামে কিছু দিন পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা বন্দুক দেখিয়ে জনগণকে তাদের প্রতিনিধিদেরভোটদানে বাধ্য করে। এদের সংগঠন হচ্ছে “জনসংহতি” ও P.L.A বা (শান্তি বাহিনী); কোথাও তার “জংলী” নামে পরিচিত।

সরকার বিরোধী তাদের কোন তৎপরতা নেই।

তাদের উপর জনগণের আস্থা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

পক্ষান্তরে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির কাজ দ্রুত পার্বত্য চট্রগ্রামে বিকাশ লাভ করছে।

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি নিপীড়িত বাঙালী-পাহাড়ীদের ঐক্যের পক্ষপাতী এবং পাহাড়ী–বাঙালীদেরসম অধিকার, পাহাড়ী জাতিসত্তাসমূহের প্রত্যেকের জন্য স্বায়ত্বশাসনের পক্ষপাতী।

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি পাহাড়ী জনগণকে সংগঠিত করা এবং তাদের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশ পুতুল সরকার ও তার পাহাড়ী তাবেদেরদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছে।

বিশেষ করে পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি পাহাড়ী জুমিয়া চাষী এবং শ্রমজীবীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করছে।

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির কাজ দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। ১৯৭৩ সালে চন্দ্রঘোনা থানা দখল, এ বছর পারোয়া ফাঁড়ি দখল, ঝুমিয়া কৃষকদের রিজার্ভ ফরেস্টে ঝুম কাটার আন্দোলন ইত্যাদির মাধ্যমে সর্বহারা পার্টির নেতৃত্বে পাহাড়ী জনগণের সংগ্রাম এগিয়ে চলেছে।

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির নেতৃত্বে সংগ্রাম ব্যাপক পাহাড়ী জনগণ ও পাহাড়ী বুদ্ধিজীবীদের সহানুভূতি ও আস্থা অর্জন করেছে।

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি জনসংহতি, P.L.A প্রভৃতিদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য বারংবার প্রস্তাব দেয় এবং প্রচেষ্টা চালায়।

মানবেন্দ্র লারমার সাথেও আলাপ হয়।

কিন্তু তারা তাদের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীআঁকড়ে থাকে, নিপীড়িত পাহাড়ী-বাঙালীঐক্যের পক্ষে তারা সাড়া দেয়নি।

সম্প্রতি তারা পার্বত্য চট্রগ্রামে আমাদের দ্রুত বিকাশে শংকিত হয়ে কিছুসংখ্যক কর্মীকে আটক করে,তাদের উপর নির্যাতন চালায়, সর্বহারা পার্টি করতে পারবে না বলে কারো কারো আত্মী-স্বজনেরনিকট থেকে বন্দুকের মুখে বন্ড নেয়। তারা আমাদের অন্যান্য এলাকাস্থ কর্মীদের আক্রমণ ও হত্যাকরার হুমকি দিচ্ছে। সর্বহারা পার্টির কর্মী ও বাঙালী পেলেই তারা খতম করবে এ ধরনের কথা প্রচারকরে।

এ সকল ঘটনা সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদের ফ্যাসিবাদী প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

এরা যদি গণতন্ত্রীমনা বুর্জোয়াও হতো তবে দলমত নির্বেশেষে রাজনৈতিক কাজের স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, সমাবেশ ও সংঘবদ্ধ হওয়ার স্বাধীনতা স্বীকার করে আমাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতো না।

কিন্তু এরা একদলীয় নায়কত্ব, মাতব্বরী ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। এই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদের চরিত্রের সাথে আমাদের দেশের এবং অন্যান্য দেশের সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদেরকোন পার্থক্য আছে কি?

আওয়ামীলীগ সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়াশীলদের দ্বারা পরিচালিত হয়, তারা বাঙালী বিহারীদেরমধ্যকার শোষক-শোষিতের কোন পার্থক্য করেনি, সকল বিহারীকে শত্রুমনে করেছে। অন্যান্যদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ফ্যাসিস্ট একনায়কত্ব কায়েম করেছে।

এরা শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে নিজেদের দাসখত লিখে দিয়েছে। পাহাড়ী জাতিসত্তার মুক্তি(…)।

একইভাবে ভারতের নাগা-মিজো প্রভৃতি জাতিসত্তার মধ্যকার সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী অংশ প্রতিক্রিয়াশীলদের নিকট আত্মসমর্পণ করে তাদের পুতুল হিসেবে কাজ করছে।

কাজেই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীরা আজ হোক কাল হোক জাতীয় নিপীড়ণকারীদের নিকট আত্মসমর্পণ করে, জনগণের মুক্তি আনতে পারে না।

পার্বত্য চট্রগ্রামে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদীদের প্রতিক্রিয়াশীল কার্যকলাপের গতিধারা প্রমাণ করছে তারা পার্বত্য চট্রগ্রামের জাতিসত্তাসমূহের মুক্তি আনতে পারে না, উপরন্তু তারা আমাদের আক্রমণ করে আওয়ামী লীগ বিশ্বাসঘাতক ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। হয়তারা ইতিমধ্যেই ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ও আওয়ামীলীগের সাথে হাত মিলিয়েছে বা অদূর ভবিষ্যতেতারা হাত মিলাবে।

আমাদের আক্রমণ তাদের পতনকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

অস্ত্রের জোরে তারা পাহাড়ী জনগণকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না, বাঙালী-পাহাড়ী ঐক্যে তারা ফাটল ধরাতে পারবে না। বরঞ্চ অচিরেই তারা নিজেরাই উৎখাত হবে, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=1423


নীলাদ্রি নিলয় খুন হল।। হাসন লাল

নীলাদ্রি চট্রোপাধ্যায়কে ইসলামবাদীরা একই বর্বরতায় খুন করেছে তাদের ধারাবাহিক ব্লগার হত্যাকান্ডের অংশ হিসেবে। আল কায়দা ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা তথা আনসার আল ইসলাম এর দায় স্বীকার করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারীভাবে তাদের ফ্যাসিবাদী জাতীয়তাবাদী নেতা শেখ মুজিব ও তার পরিবারের মৃত্যু নিয়ে অতি মাতামাতিরত হয়ে এতটাই শোকে পাথর হওয়ার ভাণ করছে যে অন্য কোন মৃত্যুকে তারা উৎপাত মনে করছে। প্রসঙ্গত, যে শেখ মুজিবকে তারা বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে সে কিন্তু ফ্যাসিবাদী ছিল, আর কমিউনিস্ট, বিপ্লবী ও জনসাধারণের উপর গণহত্যার কারণে তার মৃত্যু অবধারিত হয়ে গিয়েছিল। শেখ মুজিবের মৃত্যুতে সাধারণ মানুষ দুঃখিত হওয়া দুরের কথা, আওয়ামী লীগের কোন নেতাও দুঃখ পায়নি। পরবর্তী ফ্যাসিবাদী জিয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরণের কথা প্রযোজ্য। অজস্র মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে মুজিব-জিয়া যেমন নিজ নিজ মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছিল, একইভাবে নিরীশ্বরবাদী ব্লগারদের হত্যাকারীরাও নিজেদের মৃত্যুই নিশ্চিত করেছে।

নিরীশ্বরবাদী ব্লগার নিলয় খুন হন ধর্মবাদীদের হাতে ৭ আগষ্ট ২০১৫

নিরীশ্বরবাদী ব্লগার নিলয় খুন হন ধর্মবাদীদের হাতে ৭ আগষ্ট ২০১৫

যতটুকু জানা যায়, নীলাদ্রি একজন সাধারণ নিরীশ্বরবাদী ব্লগার। সে গণজাগরণ মঞ্চের একজন কর্মী। যুক্তিবাদী হিসেবে সে সকল ধর্মের বিরুদ্ধেই লিখত। ছোট ছোট লেখার মাধ্যমে সে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। দুই মাস আগে খুনীরা তার পিছু নিলে সে থানায় গিয়েছিল ডায়রী করতে। পুলিশ ডায়রী নেয়নি, বরং তাকে বিদেশ চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এই খুনের পর সরকারী দলের নেতারা ও পুলিশেরা উলটো ধর্মবিরোধী ব্লগ লেখার বিরুদ্ধে হুশিয়ারী দেয়। ইতিমধ্যে আওয়ামী ওলামা লীগ ধর্মের বিরোধিতাকারীদের শাস্তির দাবি করেছে। সম্প্রতি নিলয় হত্যাকারী সন্দেহে যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার একজন হচ্ছে শ্রমমন্ত্রীর ভাতিজা।

আগেই দেখা গেছে ব্লগার হত্যাকান্ড পুলিশ ঠেকায়নি বা এর কোন প্রকৃত বিচার হয়নি। সুতরাং এটা পরিষ্কারভাবে আওয়ামি লিগের ভুমিকা প্রদর্শন করে।গিয়েছিল ডায়রী করতে। পুলিশ ডায়রী নেয়নি, বরং তাকে বিদেশ চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এই খুনের পর সরকারী দলের নেতারা ও পুলিশেরা উলটো ধর্মবিরোধী ব্লগ লেখার বিরুদ্ধে হুশিয়ারী দেয়। ইতিমধ্যে আওয়ামী ওলামা লীগ ধর্মের বিরোধিতাকারীদের শাস্তির দাবি করেছে। সম্প্রতি নিলয় হত্যাকারী সন্দেহে যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার একজন হচ্ছে শ্রমমন্ত্রীর ভাতিজা।

কিন্তু নিলয়ের মত অন্য যারা আছে তারা কি এটা যথার্থভাবে বুঝবে?

নীল সাম্যবাদী নয়। তাই সমাজ বিকাশের ধারা জানেনা ও এর সাথে একাত্ম হতে পারেনি। কিন্তু সে নতুন প্রজন্মের এক বুদ্ধিজীবী যার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছিল। সে জ্ঞান বিজ্ঞান সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে চেয়েছে। বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটাতে চেয়েছে। যারা সততার সাথে তা করতে চায় তারা একসময় বুঝবে সাম্যবাদের প্রয়োজনীয়তা ও অনিবার্যতা।

অভিজিত ও অনন্তের মত নীলও হিন্দু সম্প্রদায় থেকে আসা। তাই ইসলাম ধর্মবাদীদের বাড়তি আক্রোশ তাদের উপর পড়েছে। কিন্তু এর ফলাফল ভয়ানক হতে পারে। হিন্দু সম্প্রদায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হলেও ভারতে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই, ভারতে মুসলমানদের উপর নেমে আসতে পারে নিপীড়ণ, শুধু তাই নয়, ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের কর্তৃক বাংলাদেশে উপনিবেশীকরণ ত্বরান্বিত হতে পারে। সাম্রাজ্যবাদীদের বিবৃতি থেকে বোঝা যায় তারা ব্যাপারটা গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। এখান থেকে তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ সকল সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদকে খুশী করতে চাইছে কিন্তু কাউকেই খুশী করতে পারছেনা। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। সাম্রাজ্যবাদীরা এই ভিখারীর গলায় ঝুলিয়ে দিতে চায় নিম্ন মধ্য আয়ের মেডেল। মধ্যপ্রাচ্যীয় সম্প্রসারণবাদ, ইসলামী ব্যাংক ও জামাত ও সকল ধর্মবাদীদের সাথে তার বর্তমান সখ্য লক্ষ্যনীয়।

নীলের মত তরুণদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে। তার এ অধিকারকে স্বীকার করেনি আওয়ামী ও ধর্মবাদী ফ্যাসিস্টরা। ধর্মবাদী ফ্যাসিস্টরা তাকে নৃশংশভাবে খুন করে এক ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে। এর শাস্তি জনসাধারণ অবশ্যই প্রদান করবেন।

১৫ আগষ্ট ২০১৫

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=1657