দুর্নীতির অভিযোগে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে লাখ লাখ জনগণের বিক্ষোভ

_84922966_hi028584405

দুর্নীতির অভিযোগে প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফের অভিশংসন দাবি করে ব্রাজিল জুড়ে বিক্ষোভ করেছে লাখ লাখ জনগণ। অর্থনৈতিক মন্দা আর ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। দুর্নীতির দায়ে প্রেসিডেন্ট রৌসেফের পদত্যাগ দাবিতে এ বছর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মত বড় ধরনের বিক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে।

সাওপাওলো থেকে শুরু করে রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকত, রাজধানী ব্রাসিলিয়াসহ ২৪০টি শহরের রাজপথ উত্তাল প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফের বিরুদ্ধে স্লোগানে। কেউবা দিলমা আউট লেখা ব্যানার নিয়ে কেউ বা আবার ব্রাজিলের ফুটবল দলের হলুদ রঙের জার্সি পরে দিলমা রৌসেফের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ বলছে বিক্ষোভে কমপক্ষে এক লাখ সাঁইত্রিশ হাজার জনগণ অংশ নিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদেরকে “দিলমা তুমি বিদায় হও” স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা দুর্নীতি ও ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। উচ্চ বেকারত্ব হার এবং মুদ্রাস্ফীতির জন্যও বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বেকারত্বের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমার অনেক বন্ধু এবং পরিবারের সদস্য কোন কাজ পাচ্ছে না। এই সরকার আমাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পুরোপুরি ব্যর্থ।’

অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘এই সরকারের কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এরা আমাদের দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই দুর্নীতি দেশের জন্য খুবই দু:খজনক এবং আমি মনে করি এসব কিছুর মূলে আছে প্রেসিডেন্ট রৌসেফ।’

আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আজ আমি এখানে এসেছি কারণ আমি বিশ্বাস করি আমরা পরিস্থিতি বদলে দিতে পারব। ক্ষমতা থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির বিদায় আমরা দেখতে চাই আমরা। রৌসেফ আর ওয়ার্কার্স পার্টি না থাকলেই আমরা সুন্দর একটি ব্রাজিল পাব বলে আমার বিশ্বাস।’

এ নিয়ে এবছর তৃতীয়বারের মত দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হল। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪ আর আসন্ন রিও অলিম্পিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাসে দিলমা রৌসেফের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে কমে গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ব তেল ও জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোব্রাসে ঘুষ এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

যে সময় দুর্নীতির ঘটনা ঘটে সেসময় প্রেসিডেন্ট পদাধিকার বলে ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান থাকায় অভিযোগের আঙুল তার দিকেই। এ মামলায় অভিযুক্ত সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.bbc.co.uk/news/world-us-canada-33953606


কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট — ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন (ধারাবাহিক-১ম পর্ব)

কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট

–ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

(১৪ জানুয়ারি ১৯৭৪)

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

[ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন চীনের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে সভাপতি মাও সেতুঙের চার প্রধান সহযোগীর একজন যিনি এদের মধ্য সর্বাপেক্ষা তরুন আর পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। তাঁর এই রিপোর্টটির ইংরেজী কপি আমরা www.wengewang.org থেকে সংগ্রহ করে বাংলায় অনুবাদ করছি।–সর্বহারা পথ]

বাংলায় অনুবাদ ১ম পর্ব

uphold-the-correct-policy-of-3in1-returnallpowertorevolutionarycommittee

আমি মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রশ্নটা আলোচনা করতে চাই। আমি দেখেছি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ইঙ্গিত করে যে কিছু প্রদেশ অনেক দীর্ঘকালীন ও কন্টকাকীর্ণ সমস্যা সমাধান করতে পারছেনা। এর মুখ্য কারণ হচ্ছে সঠিক লাইন নিতে না পারার ব্যর্থতা। কিছু এলাকায় অধিকাংশ নেতৃস্থানীয় পদাধিকারীরা সঠিক লাইন নেননি কারণ তারা মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব, জনগণ ও অভিযানসমূহকে সঠিকভাবে বোঝাপড়া করেননি। প্রথমদিকের আকস্মিকতা, যেমন সেচুয়ানে বারটি কারখানা যা উৎপাদন করেছিল তা হচ্ছে এক গুরুত্বপুর্ণ প্রশ্ন, সারাদেশের জন্য সার্বজনীন। আশা করা যায়, আজকের আলোচনা আমাদের সবাইকে নির্দেশ করবে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে শুরু থেকে সভাপতি মাও কর্তৃক ইস্যুকৃত নির্দেশনাকে পর্যালোচনা করতে। সভাপতি মাওয়ের সাম্প্রতিক পাঁচ নির্দেশনা ও কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সংবাদপত্র ও এক ম্যাগাজিনের যৌথ নববর্ষীয় সম্পাদকীয় অধ্যয়নে আমাদের কমরেডরা এই প্রশ্নকে স্পর্শ করেছেন। মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রশ্নটি অধ্যয়ন ও আলোচনার জন্য কিছু সময় বের করা খুবই প্রয়োজন।

১। কেন আমাদেরকে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের তাৎপর্যকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে

এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে যে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব হচ্ছে একটি মহান ঘটনা যা সর্বহারা একনায়কত্ব সংহতকরণ আর পুঁজিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠা রোধ নিয়ে ব্যাপৃত। সকল কমরেডই জানেন যে নবম ও দশম জাতীয় কংগ্রেসের রিপোর্টে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা বলা হয়েছে এবং এমনকি পার্টির সংবিধানে। পার্টির জাতীয় কংগ্রেসের সিদ্ধান্তসমূহ পার্টির সকল সদস্যকে দেখতে হবে ও সম্পাদন করতে হবে। নববর্ষ শুরু হয়েছে দেশে বিদেশে চমৎকার পরিস্থিতি নিয়ে। বিপ্লবের জন্য পরিস্থিতি অনুকুল ও সাধারণভাবে চমৎকার। দেশে আমাদের ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আর ঘাঁটি এলাকাসমূহ ভালভাবে তৈরি করে এই পরিস্থিতিকে বিকশিত করতে হবে। কিছু প্রদেশ ও পৌর এলাকার সমস্যা সমাধানে সর্বাগ্রে আমাদের লাইন প্রশ্ন সমাধানে সক্ষম হতে হবে। আর তারপর, লাইনের সমস্যার সমাধানের জন্য আমাদের কীভাবে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে বোঝাপড়া করতে হবে তার সমাধান করতে হবে। ঐতিহাসিক ও ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রয়োজনীয় ছিল ও আছে। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে রক্ষা করা মানে সভাপতি মাওয়ের বিপ্লবী লাইনকে রক্ষা করা। আমাদের সবাইকে, কমিউনিস্ট পার্টির সকল সদস্যকে, বিশেষত মাঝারি স্তরের কেডারদের এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিরাট তাৎপর্যকে পুরোপুরি বুঝতে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সংক্রান্ত সভাপতি মাওয়ের এক ঝাঁক গুরুত্বপুর্ণ নির্দেশনাকে পুন অধ্যয়ন করা দরকার। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে বুঝতে এগুলো চাবিকাঠি। কিছু লোক সভাপতি মাওয়ের এই নির্দেশনাগুলি ভুলে গেছে, আর অল্প কিছু এলাকা এখনো বুর্জোয়া একনায়কত্ব অনুশীলন করছে।

১৯৬৫ শেষ হতে না হতেই যখন মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব সূচিত হল অথবা যখন হেই জুইর দপ্তর থেকে অপসারণ সমালোচনা করা হল, সভাপতি মাও তুলে ধরলেনঃ “হেই জুইর দপ্তর থেকে অপসারণ এর মূল বিষয় হল অপসারণ। সম্রাট ওয়ান লি হেই জুইকে দপ্তর থেকে অপসারণ করেন; ১৯৫৯ সালে আমরা পেং তেং হুইকে অপসারণ করি, সুতরাং পেং তে হুই হচ্ছে হেই জুই।”

এটা পরিষ্কারভাবে এই ইঙ্গিত দেয় যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব বুর্জোয়ার বিরুদ্ধে সর্বহারা শ্রেণীর এক বিরাট রাজনৈতিক সংগ্রাম, কিন্তু কোনভাবেই খাঁটি একাডেমিক আলোচনা নয়। অভিযানের শুরুর দিকে কিছু লোক ভ্রান্ত পথে চলেছে একে একটি একাডেমিক আলোচনা মনে করে, আর পুরো ব্যাপারটাই প্রকৃতপক্ষে লিউ শাউ চি কর্তৃক অসদব্যবহৃত হয়েছে। পরে পেঙ চেন ও তার দল লাফ দিল আর এক সংশোধনবাদী “ফেব্রুয়ারী রূপরেখা” ঘোষণা করল যা ছিল কার্যত দক্ষিণপন্থীদের রক্ষা ও বামপন্থীদের আঘাত করার নকশাযুক্ত একটা প্রচেষ্টা যাতে আন্দোলনকে খাঁটি একাডেমিক আলোচনার বুর্জোয়া কক্ষপথে ঠেলে দেয়া যায়। সভাপতি মাও দৃঢ়ভাবে পেংচেন ও তার দলকে বললেন সরে দাঁড়াতে, আর দেখান যে পুরোনো প্রচার বিভাগ ছিল নরকের বিচারালায়, আমাদের অবশ্যই “নরকের রাজাকে উচ্ছেদ করে ছোট ভূতেদের মুক্ত করতে হবে”। সভাপতি মাও বলেন, “আমরা সর্বদাই মনে করি যখনই কেন্দ্রীয় এজেন্সীগুলো খারাপ কাজ করবে আমি স্থানীয় সংগঠনগুলোকে আহবান জানাবো বিদ্রোহ করতে ও কেন্দ্রের ওপর আক্রমণ করতে।” এখানে “খারাপ কাজ করা” বলতে সংশোধনবাদের অনুশীলন বোঝায়। একবার সভাপতি মাও হাংচৌ-এ কমরেড সু শি-ইউকে প্রশ্ন করেছিলেনঃ “কেন্দ্রীয় কমিটিতে সংশোধনবাদ আবির্ভূত হলে আপনি কী করতেন?” সভাপতি বারংবার এই প্রশ্নের উপর মন্তব্য করেছেন। মে ১৯৬৬তে তিনি ব্যক্তিগতভাবে “১৬মে” নোটিশ সূত্রায়িত করেন—যা ছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কর্মসূচি যাতে ছিল বহু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। সভাপতি মাও বলেনঃ “বুর্জোয়াদের প্রতিনিধি যারা পার্টি, সরকার, সৈন্যবাহিনী ও সাংস্কৃতিক চক্রসমূহে ঢুকে পড়েছে তারা হচ্ছে প্রতিবিপ্লবী সংশোধনবাদীদের একটা দল যারা সুযোগ পরিপক্ক হলেই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করবে আর সর্বহারা একনায়কত্বকে বুর্জোয়া একনায়কত্বে রূপান্তর ঘটাবে। এদের কাউকে কাউকে আমরা চিহ্নিত করেছি, কাউকে কাউকে এখনো চিহ্নিত করতে পারিনি, কেউ কেউ ক্রুশ্চেভের মত আমাদের বিশ্বস্ততা অর্জন করছে, আমাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে গড়ে উঠছে আর আমাদের পাশে ঘুমাচ্ছে। বিভিন্ন স্তরের পার্টি কমিটিকে ভালভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।” এই নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে; এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নবম ও দশম কংগ্রেসে উপস্থিত কিছু লোক এটা ভুলে যায়, আর কিছু লোক পুঁজিবাদের পথিকদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

যখন সভাপতি মাওয়ের আহবানে সাড়া দিয়ে ব্যাপক বিপ্লবী জনগণ সক্রিয়ভাবে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, লিউ শাউ-চি ও তার সঙ্গীরা ভয় পেয়ে গেল, দ্রুত তারা বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীল লাইন সৃষ্টি করল আর উঠে আসল ব্যক্তিগতভাবে বিপ্লবকে নিপীড়ণ করতে। এই লগ্নে, সভাপতি মাও অস্টম কেন্দ্রীয় কমিটির একাদশ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ব্যক্তিগতভাবে আহবান করলেন, ষোলটি ধারা সূত্রায়িত করলেন, আর লিখলেন “আমার বড় আকৃতির পোস্টারঃ ‘সদর দপ্তরে কামান দাগো।’” অনুভূতিময় মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব এভাবে সূচিত হল। সভাপতি মাও মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে উচ্চ মূল্যায়ন করেছেন এই বিবেচনা করে যে এই বিপ্লব হচ্ছে ব্যাপক মাত্রার আর এটা জনগণকে সমাবেশিত করে—যা ছিল সকল জনগণের চেতনার বিপ্লবীকরণের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। সভাপতি মাও আহবান করেন “রাষ্ট্রের বড় বড় ঘটনাগুলির ব্যাপারে আপনাদের মাথা ঘামাতে হবে আর মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে।” তিনি বিপ্লবী তরুণদের উৎসাহ দেন ঝড়ের অভিজ্ঞতা নিতে, মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে দুনিয়াকে মোকাবেলা করতে আর সংগ্রামে সর্বহারা বিপ্লবী উদ্যোগের উত্তরাধিকার হতে নিজেদের ইস্পাত কঠিন করতে। এদিকে সভাপতি মাও ব্যাপকভাবে কেডারদের নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি সস্নেহে তাদের উপদেশ দেনঃ “আপনাদেরকে রাজনীতিকে কমান্ডে রাখতে হবে, জনগণের মধ্যে যেতে হবে, জনগণের সাথে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে আর ভালভাবে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব পরিচালনা করতে হবে।” সভাপতি মাও উষ্ণভাবে আশা করেন যে আমাদেরকে ভেটারান সর্বহারা বিপ্লবীদেরকে আমাদের বিপ্লবী পেশাদার জীবনকে বৃদ্ধ বয়সে পরিষ্কার রাখতে হবে আর মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে নয়া গুণাবলি আনয়নে সচেষ্ট হতে হবে।

১৯৬৬-এর শেষের দিকে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব এক চমৎকার নয়া পরিস্থিতিতে উদ্ভূত হয়। ১৯৬৭ আসতে আসতে সভাপতি মাও বক্তৃতা দিলেন “সারা দেশে শ্রেণীসংগ্রামের সার্বিক বিকাশ” নিয়ে (নোটঃ এখানে একটি বাক্য আছে যে “সারা দেশে একইসঙ্গে বিকাশ ঘটাবে সামনের বছরে”) যাকে মনে করা যায় যে কর্তৃপক্ষের মুষ্টিমেয় পুঁজিবাদের পথিকদের কর্তৃক ক্ষমতা দখলের একটা প্রচেষ্টা হিসেবে। ১৯৬৬র অক্টোবরের শুরুর দিকে সভাপতি মাও সাংহাইয়ের শ্রমিক আন্দোলনকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন আর বুর্জোয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে তাদের সমর্থন দেন। তিনি শ্রমিক আন্দোলনে খুবই আনন্দিত হন। ১৬ ধারা বলেঃ “তরুণ ও নবীনরা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের যোদ্ধা; শ্রমিক, কৃষক ও সৈনিকেরা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রধান শক্তি।” একইসাথে [সভাপতি মাও] সাংহাইয়ে শ্রমিক আন্দোলনকে সমর্থন দিতে একজন নেতৃস্থানীয় কমরেড (চ্যাং চুন-চিয়াও)কে পাঠালেন Ant’ing ঘটনা বোঝাপড়া করতে। তিনি একমত হলেন যে শ্রমিকরা তাদের বিদ্রোহী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সভাপতি মাও নির্দেশনা দিলেন যে তিনি “রিপোর্ট করার আগে কর্ম সম্পাদন করতে পারেন।” এটা হচ্ছে একটা উদাহারণ যে ঘটনা আসে ধারণার আগে। ১৯৬৬র শেষে সভাপতি মাও মন্তব্য করেন যে “সাংহাইয়ের বিরাট ভবিষ্যত রয়েছে। শ্রমিকরা জেগেছে। ছাত্ররা জেগেছে। আর সরকারী কেডাররা জেগেছে।” সভাপতি মাওয়ের হার্দিক চিন্তাভাবনায়, তাঁকে শীর্ষে রেখে সর্বহারা সদর দপ্তরের নেতৃত্বে এবং সাংহাইয়ে অবস্থানরত গণমুক্তি বাহিনীর সমর্থন সহকারে পার্টির মধ্যকার মুষ্টিমেয় পুঁজিবাদের পথিকদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার সংগ্রাম উত্থিত হয়।

এটা শুধু সাংহাইয়ের ঘটনা ছিলনা, বরং সমগ্র দেশের সভাপতি মাওয়ের অধীন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে ক্ষমতা দখলের সংগ্রাম। অন্যথায়, ক্ষমতা দখল সম্ভব হতনা। ১৬ জানুয়ারি ১৯৬৭, সভাপতি মাও এক স্ট্যন্ডিং কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন আর নীচের স্তর থেকে উপরের স্তরের দিকে শুরু হওয়া ক্ষমতা দখলের লড়াইকে উদ্যম সহকারে সমর্থন করেন। ওয়েন হুই পাও ও লিবারেশন ডেইলি কর্তৃক পরিচালিত ক্ষমতা দখলের লড়াইকে তিনি অতি উচ্চ মূল্যায়ন করলেন আর বললেনঃ “এটা মহান বিপ্লব যাতে এক শ্রেণী আরেক শ্রেণীকে উচ্চেদ করে; সমগ্র পূর্বচীন আর সারা দেশের বিবিধ প্রদেশ ও পৌর এলাকায় মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবে এটা বিরাট প্রভাব ফেলবে।”

জানুয়ারি ২৬-এ সভাপতি মাও জনগণের প্রতি আরেক বিরাট আহবান জানালেনঃ “বামেদের ব্যাপক জনগণকে গণমুক্তি বাহিনীর সমর্থন করা উচিত”। ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতা দখলের সংগ্রামের মূল অভিজ্ঞতা সারসংকলন করে তিনি বলেন, “কর্তৃপক্ষের মধ্যে যারা পুঁজিবাদের পথ গ্রহণ করেছে সেইসব মুষ্টিমেয় পার্টির লোকেদের থেকে ক্ষমতা দখলে সর্বহারা বিপ্লবীদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “যেখানেই ক্ষমতা দখলের সংগ্রামের প্রয়োজন রয়েছে, আমাদের অবশ্যই একের ভেতর তিন বিপ্লবী সংগঠন অনুশীলন করতে হবে একটি বিপ্লবী, প্রতিনিধিত্বশীল ও সর্বহারা-কর্তৃত্বমূলক অস্থায়ী বিপ্লবী সংস্থা গঠন করতে যাকে নাম দেয়া যায় ‘বিপ্লবী কমিটি’”।

যখন সাংহাইয়ে জানুয়ারী ক্ষমতা দখলের সংগ্রাম প্রতিবিপ্লবী অর্থনীতিবাদী দূষিত বাতাসকে দাবিয়ে দিল, তখন কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিপ্লব গ্রুপ ও রাষ্ট্রীয় কাউন্সিল অভিনন্দন জানিয়ে বলল যে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও সর্বহারা একনায়কত্বের নিয়তিকে সর্বহারা শ্রেণীর হাতে ন্যাস্ত করা হোক।

আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ১৯৬৭তে, সভাপতি মাও তিনটি বৃহৎ এলাকা পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন কিভাবে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে আরো বিকশিত করা যায়। উচ্চ ভাবমানসে তিনি বলেন, “সারা দেশে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পরিস্থিতি চমৎকার, স্রেফ ভাল নয়; সমগ্র পরিস্থিতি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল।”

মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উচ্চ জোয়ারের সময়, সভপতি মাও দূরদর্শীভাবে বলেন, “বর্তমান মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব হচ্ছে প্রথমটি, পরে আমাদের আরো অনেক চালাতে হবে। একটা দীর্ঘ ঐতিহাসিক পর্যায়ের পরই কেবল একটা বিপ্লবের বিজয়ের কথা বলা যায়। আমরা যদি আমাদের কাজ ভালভাবে সম্পাদন না করি পুঁজিবাদ যে কোন সময় পুনপ্রতিষ্ঠা পেতে পারে। সমগ্র পার্টির সদস্যগণ আর সারাদেশের জনগনের ভাবা উচিত না যে তিন অথবা চারটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব জাতির জন্য শান্তি আনতে যথেষ্ট। আপনাদের সবসময় পাহাড়া দিতে হবে, আর এক মুহুর্তের জন্যও আমরা সতর্কতায় ঢিল দিতে পারিনা।”

কমরেডগণ, আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই এর প্রতিফলন ঘটাতে। সভাপতি মাওয়ের এই নির্দেশনা কতই না গুরুত্বপূর্ণ! সেসময় আমরা নবম সংগ্রামে ছিলাম, যার অল্প কিছু পরেই আসে দশম সংগ্রাম। প্রথম অধ্যয়নের পর আমাদের অনেকেই এই নির্দেশনা পুরোপুরি আত্মস্থ করতে পারিনি, কিন্তু ক্রমান্বয়ে আমরা শিখেছি। তাই, সভাপতির নির্দেশনা অধ্যয়ন করা আমাদের জন্য প্রয়োজন। শ্রেনীসংগ্রামের ওপর আমাদের সচেতনতাকে ঊর্ধে তুলে ধরতে এগুলো দরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপর সভাপতি মাওয়ের নির্দেশনাগুলি বই আকারে সংগ্রহ, প্রকাশ ও বন্টন করা। কেবলমাত্র সভাপতি মাওয়ের নির্দেশনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সংশোধনবাদী সংগ্রামের থেকে মার্কসবাদী সংগ্রামের পৃথকীকরণ করতে পারি।

এটা সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামকে সহযোগিতা করবে। কেন আমি এভাবে বলছি? তার কারণ পার্টিতে কিছু কমরেড একে বোঝেন না, বিশেষত আমি এইমাত্র যে অংশটির কথা উল্লেখ করেছি।

(চলবে)


ভারতঃ রাজ্যে অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের ছক মাওবাদীদের

Maobadi

কলকাতা:  রাজ্যে বড়সড় হামলার ছক মাওবাদীদের। হামলা হতে পারে রাজ্যের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর উপর। একই সঙ্গে মাওবাদী টার্গেটে রয়েছে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীও। এই মর্মে রাজ্যকে নতুন করে ফের সতর্কবার্তা পাঠালো কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, শুধু হামলা নয়, বড়সড় অস্ত্র ভাণ্ডার গড়ে তুলতে হামলা হতে পারে থানা কিংবা অস্ত্রগারগুলিতে। জঙ্গলমহলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যে জঙ্গলমহল সহ জেলার প্রত্যেকটি থানায় নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কলকাতাতেও বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজ্যে জঙ্গি কিংবা মাওবাদী হামলা হতে পারে বলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। সতর্কবার্তায় বলা হয়, মাওবাদীরা হামলা চালাতে পারে ট্রেন কিংবা স্টেশনে। এরপরেই বিভিন্ন ট্রেন-স্টেশনে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা। রেল পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে সংযোগও।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/mao-alert.html


নেপালে নতুন সংবিধান প্রশ্নে ধর্মঘট, গ্রেফতার ১১২

ধর্মঘটে সিপিএন(মাওবাদী) কর্মীদের বিক্ষোভ

ধর্মঘটে সিপিএন(মাওবাদী) কর্মীদের বিক্ষোভ

নেপালের পুলিশ বাহিনী ১১২ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। নতুন সংবিধান প্রশ্নে দেশব্যাপী ডাকা এক ধর্মঘটে অংশ নিয়ে পিকেটিংয়ের দায়ে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়। খবর এএফপি।

এ ব্যাপারে দেশটির পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র বিশ্ব রাজ পোখারেল বলেন, ‘আমরা মোট ১১২ জনকে গ্রেফতার করেছি। এরা ধর্মঘট চলাকালে রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর ও বিভিন্ন দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করছিল।’

বাস্তবে, ধর্মঘট দৈনন্দিন জীবনের উপর বেশ প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বড় মার্কেট, এবং যান চলাচল প্রায়ই বন্ধ ছিল। এ সময় ফেডারেল সোশালিস্ট পার্টির সহ সভাপতি রাজেন্দ্র শ্রেষ্ঠকে কাঠমান্ডু থেকে গ্রেফতার করা হয়। সিপিএন(মাওবাদী), মাধেসী পার্টি এই ধর্মঘটে তাদের অংশগ্রহণ জোরদার করেছে।

নেপালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের চেষ্টা চলছে। নতুন সংবিধানের খসড়ায় দেশটির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলকে দুইটি প্রদেশে বিভক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এভাবে নেপালকে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়। এতে থাকবে মোট ছয়টি প্রদেশ। তবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীরা এর বিরোধিতা করছেন। গত সপ্তাহেই পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশের সুরখেত শহরে এ নিয়ে সৃষ্ট গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক পুলিশ সদস্য পাঠাতে হয়েছিল সরকারকে। নতুন সংবিধান প্রশ্নে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে পুলিশের গুলিতে দুইজন অংশগ্রহণকারীর মৃত্যুর ঘটনায় এই গণবিক্ষোভের সূচনা হয়।

এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন রাজনেতিক দলও নতুন সংবিধানের বিরোধিতা করছেন। সিপিএনের (মাওবাদী) মুখপাত্র পামফা ভূষল বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের খসড়াটি জনগণের চাহিদার সঙ্গে মিলছে না। নেপালের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে বাধা সৃষ্টি করবে এটি।’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মাওবাদী বিদ্রোহের অবসানের পর নেপালের আইনপ্রণেতারা নতুন সংবিধান প্রণয়নের ব্যাপারে কাজ শুরু করেন। তবে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি।

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/news/international/104-arrested-in-nepal-as-general-strike-affects-normal-life/article7546775.ece

http://www.channelnewsasia.com/news/asiapacific/nepal-police-arrest-112/2054012.html