ছবির সংবাদঃ

তুরস্কের সেনাবাহিনী কর্তৃক কমিউনিস্ট পিকেকে’র নারী যোদ্ধা শহীদ একিন ভানের নৃশংস হত্যা ও তার মৃতদেহের উপর অমানবিক নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদে সুইডেনের স্টকহোমে সংসদ ভবনের সামনে এক নারী ১ ঘণ্টা ধরে নগ্ন হয়ে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ জানান – 

a

b

Advertisements

মার্কিন পুলিশি বর্বরতায় আবারও কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর নিহত

1

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস শহরে আরও এক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ায় সেখানে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

‘মানসুর বল বি’ নামের ১৮ বছরের এই কিশোর গত বুধবার ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার ওপর গুলি চালানো হয় বলে স্থানীয় পুলিশ প্রধান স্যাম ডটসন দাবি করেছেন। পুলিশ বলেছে, ওই ঘরে তল্লাশি চালানোর জন্য তারা আদালতের অনুমতি নিয়েছিল। তল্লাশির সময় দুই সন্দেহভাজন কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং তাদের একজন পুলিশের দিকে অস্ত্র তাক করলে পুলিশ চারটি গুলি ছুড়ে তাঁকে হত্যা করে। অন্য কিশোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কিন্তু শ্বেতাঙ্গ মার্কিন পুলিশের এই বর্ণনাকে স্থানীয় জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের অতীত আচরণের অভিজ্ঞতার কারণে।

এই কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর এমন সময় নিহত হল যখন সেন্ট লুইস শহরের নাগরিকরা কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক কাজিমি পাওয়েলের হত্যাকাণ্ডের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করছিল। এক শ্বেতাঙ্গ মার্কিন পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়। কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর নিহত হওয়ার এই ঘটনার পরপরই শহরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঝড় ওঠে।

বর্ণবাদ বিরোধী প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকটি সরকারি ভবনে আগুন দেয়। প্রতিবাদীদের কেউ কেউ পুলিশের দিকে কাঁচের বোতল ছুঁড়ে মারে। পুলিশ অনেক প্রতিবাদীকে গ্রেফতার করেছে।

2

চলতি বছর মার্কিন পুলিশের হাতে দেশটির প্রায় সাড়ে ৫০০ নাগরিক নিহত হয়েছে।  ২০১৪ সালের নয় আগস্ট সেন্ট লুইস শহরে  মাইক ব্রাউন নামের এক কিশোর পুলিশের গুলিতে নৃশংসভাবে নিহত হলে দেশজুড়ে বর্ণবাদ বিরোধী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রঃ http://bangla.irib.ir/


বাংলাদেশঃ “কৃষক মুক্তি সংগ্রামের হাওর আঞ্চলিক কমিটি গঠিত”

প্রেস রিলিজ

কৃষক মুক্তি সংগ্রাম

হাওর আঞ্চলিক কমিটি

মোবাইলঃ০১৮৭৫৬৯১৩৩৮

 

11903436_407263666123452_463936707_n

“কৃষক মুক্তি সংগ্রামের হাওর আঞ্চলিক কমিটি গঠিত”

১৪ আগস্ট’১৫, শুক্রবার কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে দিনব্যাপী কৃষক মুক্তি সংগ্রামের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রতিনিধিদের ভোটাভুটির মাধ্যমে মোস্তাক আহমেদ মনিকে সভাপতি করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট হাওর আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পূর্ববর্তী কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক খোকন, পরিচালনা করেন কৃষক মুক্তি সংগ্রামের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তৌহিদুল ইসলাম। সম্মেলনে হবিগঞ্জ,সুনামগঞ্জ,ব্রাহ্মণবাড়ীয়া,নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার প্রতিনিধি,পর্যবেক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় কৃষক মুক্তি সংগ্রামের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কৃষক মুক্তি সংগ্রামের বন্ধুপ্রতিম সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সুজন মিয়া ও নয়া গনতান্ত্রিক গণমোর্চার নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রতি বছর কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষি পণ্যের ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি না রেখে মূল্য নির্ধারণের ফলে হাওরাঞ্চলসহ দেশব্যাপী কৃষকের দূরাবস্থার জন্য এই দালাল শাসক শ্রেণির লুটেরা বৈশিষ্টকেই দায়ী করেন। একই সাথে হাওরের জমির ও জলের উপর কৃষকের ও মৎস্যজীবীদের অধিকার না থাকা, অতি উৎপাদনের কথা বলে কৃষির বিদেশমুখিতার জন্য মুনাফাখোরী শাসন ব্যবস্থাকেই প্রধানভাবে দায়ী করেন।পাশাপাশি আরও বলেন,স্থানীয়ভাবে হাওরাঞ্চলে মহাজনী বা দেড়ী সুদ ও এনজিওদের সুদি কার্যক্রমে হাওরাঞ্চলে কৃষক আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নেতৃবৃন্দ হাওরাঞ্চলে কৃষকের এ দূরাবস্থার থেকে মুক্তির জন্য “মাছ ধরবেন যিনি,জলার মালিক তিনি”-এই নীতির ভিত্তিতে জলার ইজারাদারী ব্যবস্থা উচ্ছেদের দাবি তোলেন। কৃষকের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে কৃষক-শ্রমিকের গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী রাজনীতির উপরও জোর দেন তারা।


সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (৪র্থ পর্ব)

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি বাংলায় প্রকাশ করছে লাল সংবাদ

সাক্ষাৎকারটি প্রতি শনিবার ও বুধবার ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে –

c

 

comrades-ka7g-621x414livemint

(চতুর্থ পর্ব)

গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে

ঐক্যবদ্ধ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতি মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন-

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনঃ পার্টির অধিকাংশ কার্যক্রম আদিবাসী এলাকায় সীমাবদ্ধ; এটি নিয়ে পার্টির শুভাকাঙ্ক্ষীরাও চিন্তিত। কেউ কেউ বলছেন যে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ কেবল এই ধরনের এলাকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, গোটা ভারতের জন্য প্রযোজ্য নয়। এ বিষয়ে আপনার উত্তর কী? সারা দেশে আপনারা কীভাবে গণযুদ্ধকে ছড়িয়ে দেবেন?

গণপতিঃ ভারত একটি বৃহৎ আধা ঔপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী রাষ্ট্র যার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন বন্ধুর পথে এগুচ্ছে। এই বন্ধুর অবস্থার ফলে দেশ জুড়ে যুগপৎ সশস্ত্র বিপ্লবের লাইন বাতিল হয়ে যায়। আমাদেরকে অবশ্যই গ্রামাঞ্চলের পশ্চাৎপদ এলাকাগুলোতে নিজেদের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ যেখানে সামাজিক অসংগতিগুলো অনেক বেশী তীব্র, তুলনামূলকভাবে সেই সব অধিকতর পশ্চাৎপদ এলাকায় বিপ্লবী যুদ্ধকে দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সুতরাং, বিপ্লবী আন্দোলন কেবল দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের পথ ধরেই অগ্রসর হতে পারে। উপরন্তু শাসক শ্রেণীর কাছে রয়েছে একটি শক্তিশালী দমনমূলক যন্ত্র আর তা হল একটি ক্ষমতাশালী কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র ও এর সাথে একটি সুপ্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত আধুনিক আর্মি।

কাজেই শত্রুর শাসনের দুর্বলতম সংযোগ রয়েছে যে সকল স্থানে সেখানে আমাদেরকে বিপ্লবী যুদ্ধ চালনা করতে হবে; উদাহরণস্বরূপ গ্রামাঞ্চলে। আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং চীন, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ইত্যাদি দেশের ইতিহাস আধা ঔপনিবেশিক আধা সামন্তবাদী দেশগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের লাইনের যথার্থতাকে প্রমাণ করে সন্দেহাতীতভাবে। এদেশে মুক্ত এলাকা ও লাল বাহিনী গঠন করা সম্ভব নয় এবং দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় এসব বিষয় নিয়ে যে তর্কবিতর্ক চালু আছে তা নতুন নয়। শাসক শ্রেণী ও বুদ্ধিজীবীরা, সংশোধনবাদী সংসদীয় ‘বাম’রা এবং ছদ্ম ML পার্টি; এরা সকলেই দীর্ঘদিন ধরে এ জাতীয় তর্ক বিতর্ক চালিয়ে আসছে। বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তি যারা গণযুদ্ধে জড়িত, তাদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করার উদ্দেশ্যে তারা এ ধরনের কথা বলে। উপরন্তু, যে সকল বাম দল দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের পথকে প্রত্যাখান করেছে তারা তাদের দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে সমাজকে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কিছুই করতে সমর্থ হয়নি।

মূলতঃ, তারা সবসময় এ ধরনের রূপান্তরের বিপক্ষে থেকে সংসদীয় ডোবায় নিমজ্জিত হয়ে আছে। দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধের বিপক্ষে এই ভ্রান্ত বক্তব্যের একটি ভিন্ন ধরনের দাবী হল দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ কেবল আদিবাসী এলাকাতেই প্রযোজ্য, দেশের বাকি এলাকাগুলোতে প্রযোজ্য নয়। এই বক্তব্যটিও অন্তঃসার শূন্য। শত্রুদের এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভারতীয় বিপ্লবের শুভাকাঙ্ক্ষীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পৃথক করে দেখতে হবে। বিপ্লবের শুভাকাঙ্ক্ষীরা আন্দোলনের অধিকাংশ কার্যক্রমের আদিবাসী এলাকায় সীমাবদ্ধতা নিয়ে চিন্তিত। এটা সত্যি যে মধ্য ও পূর্ব ভারতের বিশাল অরণ্য এলাকায় যে এলাকাগুলো আদিবাসী জনগণের বাসভূমি, সেখানে আজ আমাদের আন্দোলন তুলনামূলকভাবে বেশী শক্তিশালী। দণ্ডকারণ্য ও বিহার-ঝাড়খণ্ড জোনকে কেন্দ্রে রেখে গত এক দশকে আন্দোলন অগ্রসর হয়েছে। সমতলের বিভিন্ন এলাকায় কীভাবে আন্দোলনের উন্নয়ন ঘটানো যায় সে বিষয়ে পরিস্কার দৃষ্টিকোণ রয়েছে এবং ‘Strategy and Tactics of Indian Revolution’ নামে আমাদের যে দলিলটি রয়েছে তাতে কৌশলগত নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে।

শহরে কাজের জন্য আমাদের একটি নীতিমালাও রয়েছে। তারপরেও গ্রামীণ সমতলে ও শহরাঞ্চলে আমাদের আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হল নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাডারদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমাদের ত্রুটি। এই দুটি এলাকার (গ্রাম ও শহর) বৃহৎ কৌশলগত গুরুত্ব অনুধাবনের ক্ষেত্রে এবং সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনগুলোকে বিশ্লেষণ করার জন্য সামাজিক তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ফলশ্রুতিতে, আমরা অনেক নেতৃত্বকে হারিয়েছি যারা শত্রুর সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল এবং এই এলাকাগুলোতে আন্দোলনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। দেশের বিশাল সমতল কৃষি এলাকায় আমাদের ক্ষীণ উপস্থিতির পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল আমরা কৃষকদেরকে বিশেষত কৃষি শ্রমিক ও দরিদ্র কৃষকদেরকে গেরিলা যুদ্ধে বিশদভাবে সংগঠিত করতে পারিনি। একইসাথে, অরণ্য ঘেরা আদিবাসী এলাকার নব্য উদ্ভাবিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী সহ কৃষক শ্রেণীর বাইরে অন্যান্য শ্রেণীকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে আমাদের ত্রুটি ছিল; আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ার এটিও একটি কারণ।

আমাদেরকে অবশ্যই ভুলে গেলে চলবে না যে এধরনের এলাকায় কাজ করার ফলে বিপ্লবী আন্দোলন প্রভূত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। দুই পার্টির একত্রীকরণের পর গত দশক থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা আমাদেরকে যথাযথ শিক্ষার একটি চিত্র তৈরি করতে ও আমরা যেখানে বাধার সম্মুখে আছি সেখানে আন্দোলনকে পুনরায় গঠন করতে, যেখানে আমরা দুর্বল হয়ে পড়েছি সেখানে শক্তির যোগান দিতে ও আমরা যে এলাকায় নেই সেখানে আন্দোলনকে সম্প্রসারণ করতেও সাহায্য করবে। কলিঙ্গনগর, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, লালগড়, নারায়ণপাটনায় গণমানুষের বিদ্রোহ ও তেলেঙ্গানায় পৃথক রাজ্য আন্দোলন ইত্যাদি থেকে আমাদেরকে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে; এইসব আন্দোলন গ্রাম ও শহরাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাম্রাজ্যবাদী, সামন্তবাদী ও দেশীয় দালালদের আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী শোষণ ও নিপীড়নের দাসত্বের নীচে থাকা জনগণের একটা বড় অংশ বিশাল গ্রামাঞ্চল ও আদিবাসী এলাকার বাইরে অবস্থিত শহরাঞ্চলে বসবাস করে।

লড়াই ছাড়া সমস্যা সমাধানের আর কোন বিকল্প তাদের নেই। চলমান গণযুদ্ধ তাদের উপর প্রভাব রাখছে। সুতরাং, এই এলাকাগুলোর অবস্থা বিপ্লবী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল। বাস্তব অবস্থা ও বিভিন্ন শ্রেণী ও সম্প্রদায়ের জনগণের চাহিদার কথা মনে রেখে আমাদেরকে সৃষ্টিশীলভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক-মিলিটারি লাইনের প্রতি দৃঢ়ভাবে অবিচল থেকে, সুবিশাল অভিজ্ঞতার আলোকে পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টিশীলতার সাথে কাজ করে, অতীতের ভুলগুলোকে সংশোধন করে, পরিবর্তিত অবস্থা ও শত্রুর কৌশলের সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক কৌশল কাজে লাগিয়ে এই এলাকাগুলোতে জনগণকে সংগঠিত করে শ্রেণী সংগ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা চমৎকার সব অবজেকটিভ কন্ডিশনগুলোর সদ্ব্যবহার করতে সমর্থ হব এবং গেরিলা যুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। এভাবে, গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে।

(চলবে)


ভারতঃ ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের গুলিতে নিহত STF অফিসার

Women Maoists cadres doing weapons training

ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের গুলিতে নিহত হল STF এর সহকারী প্ল্যাটুন কম্যান্ড্যান্ট। জখন হয়েছে দুই জওয়ানও। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী শক্রবার- শনিবার রাত ২ টা নাগাদ যখন তল্লাশির জন্য STF এর বিশেষ দল বস্তারের ঝিরম ঘাঁটি এলাকায় গিয়েছিল তখনও মাওবাদীরা আক্রমণ করে। জখম দুই জওয়ানকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=4302


ভারতঃ পুলিশের নির্যাতন সত্ত্বেও মুখ খুলছেন না মাওবাদীরা

21regarrest

কাছাড়ে আটক মাওবাদীদের পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে নিল পুলিশ। পুলিসি হেফাজতে নির্যাতন সত্ত্বেও মাওবাদীরা দলের বা কমরেডদের কোন তথ্য দিচ্ছেন না। কাছাড় জেলার জালালপুর বাগান থেকে গতপরশু ভোরে এই ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে বিপন ওরাংকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। বাকি পাঁচ জনকে কড়া নিরাপত্তায় গতকাল বিকেলে আদালতে তোলা হয়।

পুলিশের বক্তব্য, কট্টর মাওবাদী নেতাদের কথায় এমন মারপ্যাঁচ যে, সত্যটা বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। সংগঠনের অন্য কমরেডদের বাঁচাতে উল্টোপাল্টা নাম-ধাম বলতে থাকেন। পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য তদন্তে সহযোগিতার নাটক দেখান। আটক আমিরউদ্দিন আহমদ, নির্মলা বিশ্বাসরাও সহযোগিতা করছেন। চুপ করে না থেকে চটপট জবাব দিচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ সবগুলিকে সত্যি বলে মানতে পারছে না। বিশেষ করে, যাঁদের হাত ধরে আমির-নির্মলার এই পথে পা বাড়ানো, সেই নামগুলি তাঁরা ঠিকঠাক বলেননি বলেই সন্দেহ পুলিশের। আমির জানিয়েছেন, বিপিন চক্রবর্তী তাঁকে হতাশা থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা দেখান। নির্মলার কথায়, ২০১০ সালে তিনি অমল রায়ের তত্ত্বাবধানে সংগঠনে যোগ দেন। এখনও চলেন তাঁর নির্দেশে। স্থানীয় কর্মকর্তা ছোট্টু তাদের কাছাড়ের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেন।

কাছাড়ের পুলিশ সুপার রজবীর সিংহ জানান, প্রতিটি বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা তদন্তের জন্য জরুরি। তাঁরা তাই সবদিক থেকে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন। তাঁরও অনুমান, একসঙ্গে সংগঠনের কাজ করতে করতে আমির-নির্মলার মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। পাঁচ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পুলিশ সুপারের কথায়, ‘‘এঁরা অনেক নাম ব্যবহার করেন। আমির অনেক জায়গায় চৌধুরী উপাধিও ব্যবহার করেছেন।’’প্রাথমিক ভাবে খোঁজখবর করে পুলিশ বিপিন চক্রবর্তী বা অমল রায় নামে কোনও মাওবাদী নেতার কথা জানতে পারেনি। ছোট্টু নামে কেউ রয়েছে বলেও নিশ্চিত হতে পারছেন না। এমনকী, আমিরউদ্দিন ও নির্মলা বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সূত্রে বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছেন পুলিশকর্তারা। এক সূত্রের দাবি, নির্মলা বিবাহিত। স্বামীর নাম সুনীল দাস। নির্মলা আজ জানান, তা ভুয়ো কথা। তিনি অবিবাহিত। আমিরউদ্দিন শোনান, তাঁরই ছদ্মনাম সুনীল দাস। কিন্তু তিনি নির্মলাকে বিয়ে করেননি।

সারা ভারত কৃষক-শ্রমিক মহাসমিতিকে পুলিশ মাওবাদীদের সহযোগী সংগঠন বলে মনে করলেও সংগঠনের সম্পাদক শ্রীপদ ধর তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘আটক মহিলার নাম যে নির্মলা বিশ্বাস সেটাই জেনেছি পত্রিকা পড়ে। আমি তাঁকে টিনা মুন্ডা বলে জানতাম।’’

তাঁর কথায়, ‘‘কেউ মাওবাদী কি না সেটি পুলিশের তদন্তের ব্যাপার হতে পারে না। তিনি জঙ্গি কিনা, গুলি-বন্দুক ব্যবহার করেন কি না, তা পুলিশ খুঁজে দেখতে পারেন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করলেই কেউ মাওবাদী হলে সারা দেশের অনেককেই জেলে পুরতে হবে।’’ কারও সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ যে জুলুম, সে কথা তিনি পুলিশকে স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর অভিযোগ, মাওবাদীর নামে একে-ওকে ধরা আসলে একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। নেতারা চাইছেন, কাছাড়কে মাওবাদী উপদ্রুত বলে ঘোষণা করতে। তাতে প্রচুর টাকা মিলবে। এর পরই তাঁর সংযোজন, ‘‘এ কথা সত্যি, আমরা এই সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। তাই বলে মাওবাদী হতে হবে, এ যুক্তিহীন।’’

স্থানীয় যে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তারা মাওবাদী নন বলেই দাবি শ্রীপদবাবুর।

আটক বাগান শ্রমিকরা আদৌ মাওবাদী কি না, সে ব্যাপারে সন্দিহান বরাক চা শ্রমিক ইউনিয়নও। সহকারী সাধারণ সম্পাদক দীননাথ বারই বলেন, ‘‘পুলিশ ওঁদের গ্রেফতার করেছে বটে, কিন্তু মাওবাদী বলে প্রমাণ করতে পারেনি।’’

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/national/%E0%A6%AC-%E0%A6%AD-%E0%A6%B0-%E0%A6%A8-%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%9B-%E0%A6%A7-%E0%A6%A4%E0%A6%B0-%E0%A6%A6-%E0%A6%AC-%E0%A6%AA-%E0%A6%B2-%E0%A6%B6-%E0%A6%B0-1.196643


ভারতঃ মাওবাদী নেত্রী বেলা গ্রেফতার

Young naxal soldiers practicing war at a training camp in an unidentified village of Dantewada forests of Chhattisgarh. Photo: Akhilesh_Kumar

শিলদায় ইএফআর শিবিরে হামলা চালিয়ে ২৪ জন জওয়ানকে খতমের মামলায় পুলিশের কাছে এখনও তিনি ফেরার। ২০১০-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির সেই হামলায় মাওবাদীদের একটি নারী বাহিনীকে তিনিই নেতৃত্ব দিচ্ছিল বলে পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়। মামলার নথিতে তার নাম ‘বেলা’। সাড়ে পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ সেই বেলা ওরফে নির্মলা বিশ্বাস অসমের কাছাড় জেলার কাটিগড়া থেকে বৃহস্পতিবার আটক হয়েছেন। সঙ্গে আটক হয়েছেন আরও পাঁচ জন সন্দেহভাজন মাওবাদীকে।

বছর পঁয়তাল্লিশের নির্মলা বিশ্বাসের গ্রেফতার হওয়ার খবর অসম পুলিশও জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে। শিলদা মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। বেলাকে কী ভাবে হেফাজতে নেওয়া যায়, সিআইডি সেটা খতিয়ে দেখছে। নদিয়া জেলার চাকদহ এলাকার কালীপুরের বাসিন্দা বেলা ওরফে নির্মলা পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের প্রথম মুখপাত্র গৌর চক্রবর্তীর শ্যালিকা। গৌরবাবুও বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) রুজু হওয়া মামলায় অভিযুক্ত।

শিলদা, সাঁকরাইল, গিধনি— তিনটি ঘটনাতেই মাওবাদীদের নারী গেরিলা স্কোয়াডের দাপট দেখা গিয়েছিল। লালগড় আন্দোলন তখন তুঙ্গে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সেই সময়ে লালগড়-সহ জঙ্গলমহলের বহু তল্লাটে বেলা গিয়ে সংগঠনের কাজ করেছেন, বহু স্কোয়াড-সদস্যকে অস্ত্র শিক্ষা দিয়েছেন। জঙ্গলমহলের মাওবাদী নেত্রীদের মধ্যে এর আগে সোমা মান্ডি, জাগরী বাস্কে ও সুচিত্রা মাহাতো আত্মসমর্পণ করে। আর নির্মলা আসাম রাজ্যের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন। কাছাড়ের এসপি রজবীর সিংহ জানান, কয়েক বছর ধরেই কাছাড়ে মাওবাদী কার্যকলাপ চলছে। ২০১৩-র মে মাসে শিলচরে ধরা পড়ে মাওবাদী নেতা অনুকূলচন্দ্র নস্কর ওরফে পরেশদা। ফেব্রুয়ারিতেও বরাকে গ্রেফতার হয় চার মাওবাদী।পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার বক্তব্য, আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও আইইডি তৈরিতে প্রশিক্ষিত বেলা ওরফে নির্মলা বিশ্বাস শুধু শিলদা নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁকরাইল থানায় হামলা চালিয়ে দুই পুলিশকর্মীকে খতম ও ওসি অপহরণেও জড়িত। সাঁকরাইলের ঘটনা ২০০৯-এর ২০ অক্টোবরের। ওই বছরই নভেম্বরে গিধনিতে পাঁচ ইএফআর জওয়ান খতমেও বেলা জড়িত বলে গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি।

কিষেণজির মৃত্যুর পর জঙ্গলমহলে বেলার গতিবিধির কথা তেমন জানতে পারেনি পুলিশ। এখন তাঁরা বুঝতে পারছেন, বেলা কাছাড়ে কাজ করছিল। নির্মলার সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছে আর এক মাওবাদী নেতা আমিরুদ্দিন আহমেদকে। অসম পুলিশের দাবি, দু’জনই অসমে মাওবাদীদের প্রথম সারির নেতা। সাংবাদিকদের সামনে দু’জনের দাবি, তারা মাওবাদীদের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে কাজ করত।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, কাছাড় থেকে কিছু তরুণ-তরুণীকে অস্ত্র প্রশিক্ষণে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বছর দেড়েকের জন্য গোপন শিবিরে পাঠিয়ে অস্ত্র চালানো শেখানো হতো তাদের। বরাক থেকে ক’জনকে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দাদের সন্দেহ, উত্তরবঙ্গের কিছু চা বাগান এলাকাতেও সংগঠন গড়ার চেষ্টা করেছিল নির্মলা।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/state/maoist-leader-bela-arrested-1.196670#