বাংলাদেশঃ ‘আন্দোলন’ পত্রিকার (আগস্ট ২০১৫) সংখ্যা প্রকাশিত –

বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের যৌথ মুখপত্র আন্দোলন বুলেটিন বা পত্রিকার (আগস্ট ২০১৫) সংখ্যা প্রকাশিত

 

v

2

3

4

 

সূত্রঃ https://andolonpotrika.wordpress.com/2015/08/22/%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%A8-20/

 

 


চলচ্চিত্র সংবাদঃ “প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা” (চীন,২০০৯)

সিনেমার প্রাথমিক পটভূমিঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী চীনে ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমরেড মাও সে তুং কীভাবে পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না প্রতিষ্ঠা করল, তার উপর ভিত্তি করেই এই চলচ্চিত্র। 

সূত্রঃ http://maoistroad.blogspot.com/2015/08/filme-fundacao-de-uma-republica-china.html


তুরস্কঃ AKP সরকারের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিন দিনের অনশন পালন করছে মাওবাদী TKP/ML এর কারাবন্দীরা

B-M0H6xCQAAlnY5

মাওবাদী TKP/ML এর কারাবন্দীরা জানিয়েছে, “সুরুক গণহত্যার পর কান্দিলে বোমা বর্ষণের মধ্য দিয়ে যে তাণ্ডব শুরু হয়েছে তার সঙ্গে শুরু হয়েছে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা, জেরগেলে, সিলোপি ও আগরিতে ধর পাকড় ও গণ গ্রেফতার।

রোজাভায় দায়েশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত YPG/YPJ গেরিলাদের মৃতদেহ সীমান্তে আটকে রাখা হয়েছে, তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছেনা। গেরিলাদের মৃতদেহের উপর অমানবিক নিষ্ঠুরতা দেখানো হচ্ছে যেমনটা করা হয়েছে গেরিলা শহীদ একিন ওয়ানের উপর। কুর্দিশ জনগণের স্বায়ত্তশাসন ও আত্মরক্ষার ঘোষণার জবাবে সাধারণ নাগরিকদেরকে হত্যা করা হচ্ছে।

সরকারের সর্বাত্মক আক্রমণের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধের উপর গুরুত্বারোপ করে কারাবন্দীরা বলেছে, “এ অবস্থায় কুর্দিশ জনগণের সাথে যুগপৎ সংগ্রামকে তীব্রতর করার লক্ষ্যে লড়াইয়ের সব ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে এই হামলার বিরুদ্ধে অগ্রসর হবার জন্য সকল জনগণ, বিপ্লবী ও গণতান্ত্রিক মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। এই চেতনা ধারণ করে মাওবাদী TKP/ML TİKKO এর সকল কারাবন্দীরা  তিন দিনের জন্য অনশন পালন করতে যাচ্ছে।”।

সূত্রঃ Via New Turkey (editing for clarity by Signalfire)

TKP/ML prisoners launch three day hunger strike against AKP massacres

https://nouvelleturquie.wordpress.com/2015/08/21/greve-de-la-faim-des-militant-e-s-du-tkpml-emprisonne-e-s/


ভারতঃ জঙ্গলমহলে জল, জঙ্গল আর জমির অধিকার চেয়ে আন্দোলনে মাওবাদীরা

41690-5maoist

পুলিসি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটিকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলে সংগঠিত হচ্ছে সিপিআই মাওবাদী। জেলবন্দি ছত্রধর মাহাতকে সামনে রেখেই চলছে মানুষের সমর্থনে সাংগঠনিক বিস্তৃতি। একইসঙ্গে এবার জল, জঙ্গল আর জমির অধিকার চেয়ে সরব জনসাধারণের কমিটি।

রাজ্যের জঙ্গলমহলে  মাওবাদীরা যে তত্‍পরতা বাড়াচ্ছে, নবান্নকে দেওয়া কেন্দ্রের গোয়েন্দা রিপোর্টে তা স্পষ্ট। সম্প্রতি জঙ্গলমহলের তিন জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে মাওবাদী পোস্টার। আর এবার প্রেস বিবৃতি। পরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনও প্রেস বিবৃতি মিলল পুলিসি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নামে। বাম জমানায় এই জনসাধারণের কমিটির হাত ধরেই গড়ে উঠেছিল লালগড় আন্দোলন। যার নেতৃত্বে ছিলেন ছত্রধর মাহাত।

মূলত পুলিসি সন্ত্রাসকে সামনে রেখেই  শুরু হয়েছিল লালগড় আন্দোলন। এবার  কমিটির নামে যে প্রেস বিবৃতি মিলেছে, তাতে আদিবাসীদের জল, জঙ্গল আর জমির অধিকার সুরক্ষিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। যা দেখে গোয়েন্দারা নিশ্চিত, পুলিসি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটিকে সামনে রেখেই জঙ্গলমহলে সংগঠন বাড়াতে চাইছে মাওবাদীরা। প্রেস বিবৃতিতে, কিষেণজিকে হত্যার অভিযোগে মমতার সরকারকে তুলোধোনা করেছে জনসাধারণের কমিটি।

সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ টেনে শালবনিতে জিন্দালদের অধিগৃহীত জমি কৃষকদের ফেরানোর দাবি জানানো হয়েছে। পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে প্রস্তাবিত জলবিদ্যুত্‍ প্রকল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিও কৃষকদের ফেরানোর দাবি তোলা হয়েছে প্রেস বিবৃতিতে। রাজবন্দিদের মুক্তি, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, যৌথ বাহিনী প্রত্যাহার। এমন সব দাবিকে সামনে রেখে জঙ্গলমহলবাসীর আস্থাভাজন হতে চাইছে মাওবাদীরা। জনসাধারণের কমিটির প্রেস বিবৃতিতে উঠে এসেছে ছত্রধর মাহাতোর মুক্তির দাবিও।

সূত্রঃ http://zeenews.india.com/bengali/zila/maoism-in-bengal_130811.html


বাংলাদেশের গণযুদ্ধের সংবাদ-

b9831

পাবনায় অস্ত্রসহ মাওবাদী আটক

গত ১০ই আগস্ট পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে অস্ত্রসহ ১২ মামলার ফেরারি মাওবাদী নেতা স্বপন হোসেন (৩২) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত স্বপন উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এম এল লাল পতাকা) আঞ্চলিক নেতা বলে পুলিশ জানায়। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর রাতে সড়াডাঙ্গী বাজারে অভিযান চালিয়ে স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দেশীয় তৈরি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

টাঙ্গাইলে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুক যুদ্ধে ‘মাওবাদী’ নিহত

টাঙ্গাইলে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্ধুকযুদ্ধে এক ‘মাওবাদী’ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত মজিবর রহমান ওরফে শেখে (৪০) টাঙ্গাইল সদরের কাশিনগর গ্রামের মৃত সোনা মন্ডলের ছেলে। তিনি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) আঞ্চলিক নেতা বলে র‌্যাব জানিয়েছে। র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার শ্যামার ঘাট এলাকায় দুই মাওবাদী গ্রুপের গোলাগুলির সংবাদ পেয়ে র‌্যার সদস্যরা সেখানে গেলে তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে শেখে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলেও তিনি জানান। শেখের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানায় তিনটি হত্যাসহ ৯টি মামলা রয়েছে, বলেন এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

সূত্রঃ

http://www.sheershanewsbd.com/2015/08/11/92017

http://www.priyo.com/2015/Aug/21/163390-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E2%80%8C%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E2%80%98%E0%A6%9A%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80%E2%80%99-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%A4


কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট — ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন (ধারাবাহিক-২য় পর্ব)

কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

(১৪ জানুয়ারি ১৯৭৪)

 

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

বাংলায় অনুবাদ ২য় পর্ব

২। সর্বহারা শ্রেণীর মহান বিজয়

 

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

সভাপতি মাওয়ের এক ঝাঁক নির্দেশনার থেকে যে কেউ দেখতে পাবে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রজ্বলিত ও পরিচালিত করতে সভাপতি মাও বিরাট উদ্যোগ নিলেন। এখন বিপ্লব এক বিরাট বিজয় অর্জন করল লিউ শাউচির নেতৃত্বাধীন বুর্জোয়া সদর দপ্তরগুলি প্রথমে ধ্বংস করে। এটা ছিল বৃহত্তম বিজয়। পাশাপাশি, ব্যাপক কেডার ও জনগণকে বিপ্লব প্রশিক্ষিত করে তুলল, উপরিকাঠামোতে বিপ্লব, আর শিল্প কারখানা ও কৃষি উৎপাদনের বিকাশকে এগিয়ে নিল আর উৎপাদনশীলতাকে বিরাটভাবে মুক্ত করল। অনেক কমরেডই দেখেছেন (এই অর্জনগুলি), কিন্তু অনেকেই দেখেননি। খুব শীঘ্রই, দেশে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাও সেতুঙ চিন্তাধারাকে জনপ্রিয়করণের এক গণ আন্দোলন আবির্ভূত হবে। এখন এই আন্দোলন ক্রমান্বয়ে বিকশিত হচ্ছে। বিগত আট বছরের অনুশীলন পর্যাপ্তভাবে সভাপতি মাওয়ের এই নির্দেশনাকে প্রমাণ করেঃ “মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত, সর্বহারা একনায়কত্বকে সংহত করতে ও সমাজতন্ত্রকে বিনির্মাণে।” বিপ্লবে এটা না থাকলে আমাদের দেশের কী হত? সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটি লিন পিয়াও আর কনফুসিয়াস ও মেনশিয়াসের মতবাদের সমালোচনা করতে সমগ্র পার্টি সামগ্রী বন্টন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। লিন পিয়াও, তার স্ত্রী ইয়েহ চুন আর চেন পো-তা সমাজতন্ত্রের বিরাট বিরোধী ছিল। যখন আমার দপ্তরে আমার সহকর্মীদের সাথে উপরোক্ত বস্তু সামগ্রীর ব্যাপারে আলাপ করি, আমরা সবাই ক্রুদ্ধ হয়েছিলাম। দেশে বিদেশে শ্রেণীশত্রু এই বিপ্লবের বদনাম করবে তা আশ্চর্য কিছু নয়। চিয়াং কাইশেক মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে পুনপ্রমাণ করেছে; সোভিয়েত সংশোধনবাদী রেডিও ও সংবাদপত্র একে সাত আট বছর যাবত অভিশাপ দিচ্ছে। লিন পিয়াওও তার “প্রজেক্ট ৫৭১-এর রূপরেখা”-এর রাজনৈতিক ক্যুর প্রতিবিপ্লবী কর্মসূচিতে সোভিয়েতের ভাষায় আমাদের অভিশাপ দিয়েছে। সভাপতি মাও আমাদের বলেছেন, “শত্রু যাকে বিরোধিতা করে তা খারাপ নয়, ভাল।” এটা প্রমাণ করে যে আমাদের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সঠিক। যখন লিন পিয়াও ও কনফুসিয়াসের ওপর আমাদের সমালোচনা গভীরভাবে বিকশিত হয়েছে, তখন চিয়াং কাইশেক, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ ভিয়েতনাম ও সোভিয়েত সংশোধনবাদসহ সকলেই কনফুসিয়াসের ওপর আমাদের আলোচনাকে আক্রমণ করে। শ্রেণীদৃষ্টিকোন থেকে এটা আশ্চর্য নয়। সমস্যা হচ্ছে পার্টি সদস্য অসদস্য নির্বিশেষে আমাদের সারির কিছু কমরেড এখনও পুরোপুরি বোঝেননা আর সাত আট বছর আগে যেমন করেছিলেন তেমনভাবে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে গুরুত্বসহকারে ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করেননা। কেউ কেউ এমনকি সঠিক ও ভুলকে গুলিয়ে ফেলেন, সবকিছু উল্টিয়ে ফেলেন অথবা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে অন্ধকার রাত হিসেবে অথবা সর্বগ্রাসী বন্যা ও বর্বর পশু হিসেবে বর্ণনা করেন। এখনও অন্য কেউ কেউ বলে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা শুনে তাদের মাথার চুল খাঁড়া হয়ে যায়। পার্টি সংবিধান ও দশম পার্টি কংগ্রেসের সিদ্ধান্তবলী উভয়ই বলে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব আরো কয়েকবার পরিচালনা করা হবে। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল ও আছে আর তাই তাকে চালানো উচিত ছিলনা বা আর চালানো উচিত নয়। নির্দিষ্টভাবে, সিনিয়র ও মাঝারি স্তরের কেডাররা একেকভাবে বিপ্লবের কথা বলেন। তাদের কেউ কেউ বলে “মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সারা দেশে বিরাট বিজয় অর্জন করেছে কিন্তু এখানে আমরা তা দেখিনা।” তারা যে অর্থ করেন তা হল এই যে বিজয়কে যেখানে সেখানে দেখা যায়না, তাই যুক্ত করা যায় যে সারা দেশে এটা দেখা যেতে পারেনা। তাহলে কেন এটা প্রয়োজনীয়? যেমনটা আমি আগেই উল্লেখ করেছি, মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব দুটি বুর্জোয়া সদর দপ্তরকে পরাজিত করেছে, যা ছিল বিরাটতম বিজয়। কেন তারা তা দেখতে পায়না? যদি তারা বলে যে তারা এটা দেখতে পায়নি তাহলে তারা অবশ্যই নিজেদের পার্টির ও সমগ্র জনগণের বাইরে স্থাপন করেছে। যদি লিউ শাউচি ও লিন পিয়াও ক্ষমতায় আসত, পুঁজিবাদ ফিরে আসতো, চীনা সমাজ আধা সামন্তবাদী ও আধা উপনিবেশিক সমাজে ফিরে যেত অথবা সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের উপনিবেশে পরিণত হতো আর হাজার হাজার জনগণের শিরচ্ছেদ করা হতো। তখনো কি আপনারা বলতেন যে আপনারা তা দেখতে পাননা? আমরা যখন বলি যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব সমগ্র দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত, আমরা অর্থ করি যে এটা একটা স্কুল, কারখানা অথবা একটা ইউনিটের জন্যও প্রয়োজনীয় ও সময়োচিত। সভাপতি মাও বলেন, “লাইন মতাদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে সঠিক কিনা তা সবকিছু নির্ধারণ করে।” লিউ শাউচি ও লিন পিয়াওয়ের লাইনের প্রভাব পড়েছে প্রতিটি ইউনিটে বিভিন্ন মাত্রায়। অধিকাংশ এলাকায় সভাপতি মাওয়ের লাইন প্রাধান্যকারী, যেখানে কিছু এলাকায় সংশোধনবাদী লাইন বরং প্রভাবশালী। উদাহারণস্বরূপ, দুই গুরুত্বপুর্ণ বিভাগ—পুরোনো কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক বিভাগ আমাদের হাতে ছিলনা। এমনকি শিল্পফ্রন্টেও সংশোধনবাদী লাইনের গভীর প্রভাব ছিল। আর সাংস্কৃতিক ফ্রন্টের কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যা বুর্জোয়া একনায়কত্বের অধীন ছিল বহু বছর ধরে। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরুর পর হতে পরিস্থিতির বিরাটাকারে উন্নতি হয়েছে। দক্ষদের প্রশাসন, নিয়ন্ত্রণ-বিধি নিষেধ-চাপ ও বিদেশী জিনিসের প্রতি দাসত্বের দর্শন দূর না করে কীভাবে শ্রমিক শ্রেণী কারখানার প্রভু হতে পারে? ঠিক সংশোধনবাদী লাইনের হস্তক্ষেপের কারণেই আমাদের ইস্পাত শিল্প স্থবির হয়ে রয়েছে দশ বছর ধরে। কিছু সংস্থা ছিল নামে আমাদের হাতে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ছিল বুর্জোয়াদের ছায়ার হাতে আর কিছুতো পুঁজিপতিদের হাতেই ছিল (সাংহাইয়ের কিছু কারখানায় প্রকৃতপক্ষে উৎপাদন ব্যবস্থাপক হিসেবে পুঁজিপতিরা ছিল)। এমন একটা বিপ্লব ছাড়া, এসব ইউনিট কী হত? আর কীভাবে আমরা সর্বহারা শ্রেণীর হাতে নেতৃত্ব নিয়ে আসতে পারতাম? সভাপতি মাও দূরদর্শীভাবে এক মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব করে সমস্যার সমাধান করেন। কিন্তু শুধু এই বিপ্লবই যথেষ্ট নয়। বর্তমানে কিছু প্রদেশ ও পৌর এলাকায় [এখনো সমস্যা আছে], যার চাবিকাঠি হচ্ছে নেতৃত্ব। আমরা জনগণকে দোষারোপ করতে পারিনা অথবা বলতে পারিনা যে তারা ভাল নয়। এটাও বলতে পারিনা যে যারা [এই সমস্যা সৃষ্টি করেছে] সবাই খারাপ মানুষ। কারণ কিছু লোক আছে যারা ভাল মানুষ, কিন্তু কেবল মতাদর্শিকভাবে তারা সংশোধনবাদী ও পুঁজিবাদী, আর একবার তাদের সমস্যা চিহ্নিত হলে তারা তাদের ভুল সংশোধন করবে। যেহেতু সাংস্কৃতিক বিপ্লব সাত আট বছর আগে শুরু হয়েছিল, কিছু এলাকার সমস্যা সমাধান করতে হবে। সমস্যা সমাধান করতে প্রথমে আমাদেরকে কারণ বের করতে হবে যাতে সঠিক পথ প্রয়োগ করতে পারি। কিছু লোক নির্বিচারভাবে কোনকিছু বোঝাপড়া করেন; কিছু লোক মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপর সকল খারাপ জিনিস আরোপ করেন অথবা এগুলোকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপজাত হিসেবে নেন। এটা ভুল। যেহেতু তারা হচ্ছে সংশোধনবাদের উপজাত, তাদেরকে আমরা কীভাবে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপজাত বলে মনে করতে পারি? এই সমস্যা ঠিক ঠিক নির্দেশ করে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছিল পরমভাবে প্রয়োজনীয়। যেখানে লাইন সঠিক নয়, সেখানে ঐক্য থাকবে না, আর ক্যাডারদের ও জনগণকে খারাপ মানুষদের চিহ্নিত করে আলাদা করতে হবে। কিছু এলাকায় লিন পিয়াও ও কনফুসিয়াসের সমালোচনা পরিচালিত হচ্ছেনা। সম্প্রতি সেচুয়ান প্রদেশে বারটি কারখানা সমস্যা মোকাবেলা করেছে। তাদের সমস্যা কী ছিল? তারা লিন পিয়াওয়ের সমালোচনা গভীর করেনি, যা ছিল চাবিকাঠি। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যদি মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ভাবমানসে বিষয়গুলি বোঝাপড়া করি তাহলে সমস্যাগুলো সমাধান হবে। তাংতুং ট্যাংক কারখানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল আট বছর ধরে। কিন্তু এবার সমস্যাকে দুই মাসের মধ্যে সমাধান করা হল। ঐসব সমস্যার মুখ্য কারণ ছিল ভ্রান্ত লাইন। নিশ্চিতভাবে আমরা অস্বীকার করবনা যে কিছু ইউনিটে খারাপ লোকেরা বিশৃংখলা বাঁধায়। পুনরায় জনগণকে সমাবেশিত করা দরকার খারাপ লোকেদের চিহ্নিত করে বের করে আনার জন্য। এসব সমস্যাকে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপজাত মনে করা মানে হচ্ছে কার্যত বিপ্লবের পূর্বে পরিস্থিতিকে পুনপ্রতিষ্ঠিত করা কেবল আরো বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে। কিয়াংসি প্রদেশের কোন এক কেডার সম্মেলনে কেউ একজন এই প্রতিবিপ্লবী গুজব ছড়াচ্ছিলঃ “মন্দিরকে পরিষ্কার কর, প্রকৃত দেবতাকে আমন্ত্রণ জানাও; পুরোনো সেনাধ্যক্ষদের অবশ্যই তাদের পদে ফেরত আসতে হবে; ক্ষুদে সৈনিকদের অবশ্যই তাদের ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে।” সে সকল ক্ষুদে সৈনিকদের নিপীড়ণ করতে চায়। এক সাম্প্রতিক টেলিগ্রাম হেকে আমি জানতে পারি যে ক্ষুদে সৈনিকদের একটি দল দুই ঘন্টা ধরে বিদ্রোহে জেগে উঠেছেন এক বিরাট আলোড়ন তৈরি করে। তারা দাবিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি, আর বিশ্বাস করেছিল যে তারা যা করেছে তা ছিল সত্য। কিয়াংসীতে আমি কিছু কমরেডকে বলি যে তারা যা করছিল তা হচ্ছে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সঠিক রায়কে উল্টিয়ে দেয়া। দশম কংগ্রেসের আগে আমি তাদেরকে বলেছি যে এটা কোন কাজে দেবেনা। আর পুনরায় আমি দশম কংগ্রেসেও বলেছি এটা কোন কাজে দেবেনা। কিন্তু এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়োনা, কারণ কেন্দ্রীয় কমিটি এ বিষয়গুলি ভালভাবে জানে (নোটঃ উচ্চ পর্যায়ে কোন শ্রদ্ধাভাজন কেডার নেই)।

এখনো অন্যরা মন্তব্য করে যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছিল ভাল। কিন্তু আমাদের ঐভাবে করা উচিত ছিলনা। অন্য ভাষায়, আমাদের “বিরাট প্রস্ফুটিতকরণ, বিরাট প্রতিযোগিতা, বিরাট আকৃতির পোস্টার ও বিরাট বিতর্ক” করা উচিত ছিলনা। কর্তৃপক্ষীয় যারা পুঁজিবাদের পথ গ্রহণ করেছে তাদের কাছ থেকে লক্ষ কোটি বিপ্লবী জনগণ ও ঐক্যবদ্ধ সর্বহারারা ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে এটা তারা মানতে পারেনি। ঠিক এই জিনিসটাকেই তারা বিরোধিতা করে কারণ একে নেতিকরণ করতে পারলে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লবকেই নেতিকরণ করা যাবে। ১৯৬৭ সালে এক কথোপকথনে সভাপতি মাও বলেনঃ “অতীতে আমরা গ্রামে, কারখানায় ও সাংস্কৃতিক চক্রে সংগ্রামে নিয়োযিত হয়েছি, সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু সমস্যা সমাধানে সক্ষম হইনি। এই ব্যর্থতার কারণ ছিল এই যে আমাদের অন্ধকার দিককে উন্মোচন করতে জনগণকে উপর থেকে নীচ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ও সার্বিকভাবে সমাবেশিত করতে এক সূত্র অথবা পদ্ধতি বের করতে না পারা। আমরা এখন সমাধান খুঁজে পেয়েছিঃ মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব।” সততার সাথে বলতে গেলে, মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া কীভাবে আমরা লিউ শাউচিকে খুঁড়ে বের করতাম, এক বিশ্বাসঘাতক যে এত গভীরভাবে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে ছিল? অতীতে লিউ শাউচির বিশ্বাসঘাতক চরিত্রকে আমরা পুরোপুরি আত্মস্থ করতে পারিনি, বিশেষত ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিতভাবে। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে রেড গার্ড (লাল প্রহরী)রা ব্যাপক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খুঁজে পায়। (অবশ্য সে যা প্রকাশ করেছিল সেসব সংশোধনবাদী জিনিস আমরা আত্মস্থ করেছিলাম)। তাছাড়া মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূত্র ছাড়া কীভাবে আমরা পেতাম এক ঝাঁক নবজাত জিনিস যেমন বিপ্লবী কমিটি, ৭ম কেডার স্কুল আর শিক্ষিত যুব তরুণদের গ্রামে যাওয়া? তা অসম্ভব হত। শিল্প ও কৃষি উৎপাদনও এত দ্রুত বিকশিত করা সম্ভব হতোনা। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব ছাড়া এত বড় মাত্রার গণ আন্দোলন আর মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাও সেতুঙ চিন্তাধারাকে জনপ্রিয়করণ করা সম্ভব হতো না। অবশ্য মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিজেই এক নবজাত জিনিস যার রয়েছে বিকাশের এক আদর্শ প্রক্রিয়া। সভাপতি মাও বলেছেন, “ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া মনোযোগ দাবী করে; জনগণের কাছে লাইন ও দৃষ্টিকোণকে নিয়মিতভাবে ও বারংবার ব্যাখ্যা করতে হবে। কেবল অল্পসংখ্যক লোকের কাছে নয়।” এখন সভাপতি মাও ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা কিছু এলাকা ও কিছু ব্যক্তির কাছে চাপ মনে হয় যারা জনগণের কাছে এসব ব্যক্ত করেনা, আর করলেও স্পষ্ট করেনা কোনটা সভাপতি মাওয়ের, কোনটা কেন্দ্রীয় কমিটির আর কোনটা তাদের নিজেদের।

কিছু লোক মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে “প্রশংসা” করে, বলে যে বিপ্লবে জনগণ অনুগত ছিলনা, চাপে খেয়ালখুশিমত বৃহদাকৃতি পোস্টার লিখেছে আর সভায় তারা বাঁচাল ছিল। এখানে সমস্যা কোথায়? আসলে এটা ছিল মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব কর্তৃক নিয়ে আসা অন্যতম অর্জন।

সভাপতি মাও অনেকবার বলেছেন, “পার্টির মধ্যে আমাদের কাজ হতে হবে জীবন্ত, সক্রিয় ও সজীব; চেতনাহীন ও অলস নয়।” সভাপতি মাও একবার ওয়াঙ হেই-ইউঙকে বলেন যে “ছাত্রদের শ্রেণীকক্ষে ঘুমাতে আর উপন্যাস পড়তে অনুমতি দিতে হবে।” অনেক লোক এই কথার মানে একদমই বুঝতে পারেননা। আমার ব্যাখ্যা হচ্ছে ছাত্রদের এত অসেচেতন বানানো আমাদের উচিত নয় আর তাদের আহবান করা উচিত সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে।

একই সমস্যা বাহিনী ইউনিটেও বিদ্যমান। সৈনিকদের বলা হয় নিঃশর্তভাবে ও পরমভাবে আদেশ পালন করতে। আমাদের জানা উচিত যে তাদের আদেশ পালন করা দরকার শর্তযুক্তভাবে, নিঃশর্তভাবে নয়। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও মাওসেতুঙ চিন্তাধারার সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ তাকে তাদের মানতে হবে আর যা তা নয় তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে হবে। আমরা কমিউনিস্ট পার্টির সকল সদস্য উচ্চস্তরের নির্দেশনা পালন করি আত্মসচেতনতার ভিত্তিতে। নির্দেশ প্রতিফলিত করে যে লাইন তার সঠিকতাকে আমাদের বিচার করতে হবে। আমরা কেবল সঠিক লাইনকে ও সঠিক নির্দেশকে কার্যকর করি। সেগুলো যদি সঠিক না হয় তাহলে তা প্রয়োগ করা হবেনা। অনেক লোকই এই রীতির সাথে অভ্যস্ত নন। তারা অভিযোগ দেয় যে তালিভুক্ত লোকদের শাসন করা কঠিন আর তারা মত পেশ করতে ভালবাসে। এটা খুব স্বাভাবিক। সামরিক ইউনিটে সাম্প্রতিক অনেক রাজনৈতিক দুর্ঘটনাই ঘটেছে খারাপ ও নিষ্ঠুর প্রশাসন আর সুন্দর রাজনৈতিক-মতাদর্শিক কাজের ব্যর্থতার কারণে, এর ফল হল সমস্যার স্তুপ, আর দ্বন্দ্বের অবনতি। পুনরায় চাবিকাঠি হচ্ছে লাইনের প্রশ্ন, যেমন কীভাবে জনগণকে বোঝাপড়া করা হবে। পরিস্থিতি এখন ভিন্ন এক স্তরে বিকশিত হয়েছে। কীভাবে মতাদর্শিক কাজ করতে হবে তা আমাদের অধ্যয়ন করতে হবে। পুরোনো রীতি যদি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকে তা কাজ করবে না।

পরিস্থিতি আমাদের কাছে ভাল হলেও অন্য কিছু লোকের কাছে তা নয়। আমাদের দেশ যা কিনা সমাজতন্ত্র অনুশীলন করছে, আমদের ভোলা যাবেনা যে এখানে শ্রমিক, কৃষক আর সৈনিকেরা হচ্ছে প্রভু। দশম কংগ্রেসের রিপোর্টসমূহ ব্যাখ্যা করে যে আমাদেরকে স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার বিপ্লবী ভাবমানস থাকতে হবে। সম্প্রতি সংবাদপত্র দুই ক্ষুদে ছাত্রের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, একজনের নাম হুয়াঙ শুয়েই আর অপরজন কুয়াঙ তোং প্রদেশ থেকে। তারা পিপলস ডেইলির কাছে এক পত্র লেখে সমর্থন চেয়ে। তাদের চিঠি উচ্চ পর্যায়ের সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে, আর তা ভাবাবেগে পুর্ণ ছিল। এটা পড়ার পর আমরা অনুভব করি যে তাদের সমর্থন করা উচিত।

সভাপতি মাও সম্প্রতি অনুসন্ধান করেছেন, “কেন মহিষের দুই শিং রয়েছে? সংগ্রামের জন্য এটা তাদের প্রয়োজন হয়।” এই মন্তব্য প্রথম করা হয় ১৯৫৫ সালে। তিনি আমাদের উপদেশ দেন “আমরা সবাই যেহেতু কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, কেন আমরা বক্তব্য দিতে দ্বিধা করব?” আমাদের আত্মগর্ব কম করতে হবে, আর সমালোচনা বেশি করতে হবে; আমাদেরকে ব্যাপক শ্রমিক, কৃষক ও সৈনিকের উপর নির্ভর করতে হবে যাদের মাথায় শিং আছে আর সংশোধনবাদী লাইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সাহস আছে। কিছু ইউনিট চার বিরাট [বিরাট প্রস্ফুটন, বিরাট প্রতিযোগিতা, বিরাট বৃহদাকার পোস্টার ও বিরাট বিতর্ক]-কে ভয় পায় দশম কংগ্রেসে যার পক্ষে বলা হয়েছিল। তারা “চার বিরাট”-এর ব্যাপারে এতটাই ভীত যে এখন পর্যন্ত তারা জনগণকে অধ্যয়নের জন্য সমাবেশিত করতে সাহস করেনি। জনগণের “চার বিরাট” অনুশীলনকে আর স্রোতের বিপরীতে যাওয়াকে আমাদের অনুমোদন দিতে হবে। কেন আমরা তাদের ভয় পাব? যারা সংশোধনবাদ বাস্তবায়ন করছে তারা “চার বিরাট”কে ভয় পাবে, আর যারা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ বাস্তবায়ন করছে তাদের বিপ্লবী জনগণের বিদ্রোহী ভাবমানসকে সমর্থন করা উচিত। সভাপতি মাও আমাদের শিক্ষা দেনঃ “আমরা এমনকি সাম্রাজ্যবাদকে ভয় পাইনা, কেন আমরা জনগণকে ভয় পাব? যারা জনগণকে ভয় পায় অথবা বিবেচনা করে যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ নয় বরং যুক্তির বাইরে, তাদেরকে কেবল নিপীড়ণ করা যাবে তারা কমিউনিস্ট পার্টির সত্যিকার সদস্য নয় অথবা প্রকৃত কমিউনিস্ট নয়।“ কিছু লোক সভাপতি মাওয়ের এই শিক্ষাকে গ্রহণ করেনা। তারা নিপীড়ণ করতে পছন্দ করে অথবা গ্রেফতার করতে যায় যখন নিপীড়ণ কোন কাজে দেয় না।

কেউ একজন বলে, “অতীতে ভেটারান কেডাররা যুদ্ধ করেছে উত্তরে ও দক্ষিণে কিন্তু মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে লক্ষ্যহীনভাবে লড়েছে।” এই বিবৃতি সঠিক নয়; আর তা ভেটারান কেডারদের আকাঙ্খার সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটা বলা দরকার যে ভেটারান কেডাররা আমাদের পার্টির মূল্যবাণ সম্পদ। উত্তর ও দক্ষিণে যুদ্ধ করার সময় তাদের কেউ কেউ আহত হয়েছিলেন, কিন্তু তারা মনে করেননি যে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারেন অথবা আমলাতন্ত্রের অহংকারী হতে পারেন। বরং তারা সক্রিয়ভাবে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেন আর নিজেদের সীমাবদ্ধতা অথবা ভুল খুঁজে পেলে আত্মসমালোচনা করেন। এভাবে তারা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে গুণাবলী অর্জন করেন। এ ধরণের ভেটারান কেডারদের সংখ্যা এক বা দুই জন নয় বরং অজস্র। পুরোনো প্রজন্মের সর্বহারা বিপ্লবীদের তারা সত্যিই প্রতিনিধিত্ব করেন। কিছু [ভেটারান] কেডার বেশী আক্রমণের স্বীকার হয়েছেন মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ আবশ্যক। তিন বৃহৎ এলাকায় তাঁর পরিদর্শনকালে সভাপতি মাও বলেনঃ “কেন কিছু কেডার জনগণ দ্বারা সমালোচিত ও সংগ্রামের মুখে পড়েছেন? একটা কারণ হচ্ছে—তাদের দ্বারা প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া লাইনের প্রয়োগ যা জনগণকে প্ররোচিত করেছে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে—তাদের নিজেদের গুরুত্বের ব্যাপারে অহংকার আছে যেহেতু তারা উচ্চ বেতনভুক্ত উচ্চ পদস্থ অফিসার হয়েছেন। ফলে, তারা কর্তৃপক্ষীয় অহংকারের চাঁদর গায়ে, জনগণের সাথে পরামর্শ করেননি, অন্যদের অসমান চোখে দেখেন, গণতন্ত্রকে হেলা করেন, অন্যদের দোষ অথবা অভিশাপ দিয়েছেন আর মারাত্মকভাবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এই কাজগুলি জনগণকে সমালোচনায় আমন্ত্রণ করেছে যাদের সুযোগ নেই শান্তির সময় [কেডারদের উপর প্রতিশোধ নেয়ার]। মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব উদ্ভুত হলে কেডাররা ঝামেলায় পড়েন।” সভাপতি মাও যাদের নির্দেশ করেছেন তাদের সমালোচনা করা উচিত কি? আপনি অন্যদের দোষ দিতে পারেন। কেন জনগণ আপনাদের সমালোচনা করতে পারবে না? সভাপতি মাওয়ের এই নির্দেশিকা সবার কাছে পরিচিত, তবু কিছু লোক এটা ভুলে গেছে। উপরোক্ত কেডাররা যারা ঝামেলায় পড়েছেন তাদেরও দুই বর্গে ভাগ করা যায়ঃ ১ম হচ্ছে তারা যারা সক্রিয় পক্ষের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন আর ভেটারান কেডারে পরিণত হয়েছেন, তারা জনগণের সত্যিই বিশ্বাসভাজন। এরকম বহু ভাল কেডার রয়েছে। উদাহারণস্বরূপ, সাংহাইয়ে কমরেড মা তিয়েন-শুই যে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পর নয়া ভাবমানসযুক্ত চেহারা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন, জনগণের গভীরে কাজ করেন আর তার লাইনকে সংশোধন করে নিয়েছেন। অন্য বর্গে রয়েছেন তারা যারা নিষ্ক্রিয় পক্ষের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার সারসংকলন করেছেন, ভাসাভাসা ও দ্বিধাযুক্ত হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা ভিন্ন আকারে জনগনের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।

এখনো অন্যরা দুই বুর্জোয়া সদর দপ্তরের উচ্ছেদে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সাফল্যের কথা সম্পূর্নভাবে ভাবেন না, যে ঘটনা হচ্ছে দেশের রঙ পরিবর্তেনের সাথে সম্পর্কিত। যাহোক, তারা জনগণের আক্রমণ দ্বারা গভীরভাবে আক্রান্ত। একবার মুক্ত হলে আর ক্ষমতায় গেলে তারা জনগণকে উচ্ছেদের প্রতিটি সুযোগ খোঁজে। এই জিনিসটাই কিয়াংসীর কেডাররা করছে। ফল হচ্ছে এই যে উলটো তারাই উচ্ছেদ হবে। তিন ছি [তিন অনাকাংখিত দৃষ্টিকোনের কথা বলা হচ্ছেঃ দ্বিধা, হতাশা ও ঘৃণা]র সংশোধন না করলে যে কেউ ব্যর্থ হবে। আর এই সমস্যার সমাধান না করলে, কেউ এখন মুক্ত হলেও, সে পুনরায় উচ্ছেদ হবে।

কেউ একজন বললঃ মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় যারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়েছে তাদের সাথে হিসেব চুকানো প্রয়োজন। তাদেরকে মৃদু গণ্য করতে হবে যারা আমাদের বিরুদ্ধে কোন স্বার্থ ছাড়া লড়েছে। কলজেতে লাগানোয় ভুল কোথায়?” এমন কমরেডকে আমরা সতর্কবাণী শোনাবঃ এটা খুবই বিপজ্জনক; জনগণ আপনাদের কাছে কী পাওনা আছে? সভাপতি মাও বলেনঃ “কে আমাদের কর্তৃত্ব দিয়েছে? শ্রমিক শ্রেণী, গরীব ও নিম্নমাঝারি কৃষক অথবা মেহনতী ব্যাপক জনগণ যারা জনগণের শতকরা নব্বই ভাগ। জনগণ আমাদের সমর্থন করবে যদি আমরা সর্বহারা শ্রেণী ও ব্যাপক জনগণের পক্ষে দাঁড়াই আর জনগণের শত্রুকে উচ্ছেদ করি। কমিউনিস্ট পার্টির সর্বাধিক মৌলিক নীতি হচ্ছে ব্যাপক বিপ্লবী জনগণের উপর নির্ভর করা।” আপনি যদি জনগণের সাথে হিসেব চুকাতে যান, জনগণের অধিকার আছে আপনার কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার।

(চলবে)