পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কমরেড সিরাজ সিকদার

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কমরেড সিরাজ সিকদার

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

(সংশোধিত)

ষাটের দশকে রুশ-চীন মহাবিতর্ক, মাওসেতুঙের নেতৃত্বে চীনের মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব (GPCR) এবং ভারতে নকশালবাড়ী সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থানের প্রভাবে বাংলাদেশে (তখন নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান) মাওবাদী আন্দোলনের বিকাশ ঘটে।
প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, আমাদের দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলন শুরু হয়েছিল অবিভক্ত ভারতবর্ষে গত শতাব্দীর ২০ দশকে। কিন্তু সেই আন্দোলনের অনেক ইতিবাচক অবদান সত্বেও একটি বিপ্লবী কমিউনিস্ট আন্দোলন হিসেবে তা গড়ে ওঠেনি। ভারতবর্ষের পর পাকিস্তান আমলেও একই অবস্থা চলতে থাকে। ’৬০-এর দশকে এ দেশে সত্যিকার বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়- যা মাওবাদী আন্দোলন নামে পরিচিত। আমাদের পার্টি পুর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি সেই আন্দালনেরই অংশ।
১৯৬৭ সলের মাঝামাঝি একটি সত্যিকার কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে অন্যান্য কিছু আন্তরিক বিপ্লবী প্রতিষ্ঠা করেন “মাওসেতুঙ চিন্তাধারা গবেষণাগার’’। এই সংগঠনটি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিকাশে তৃতীয় স্তর হিসেবে মাওবাদ (তখন মাও চিন্তাধারা বলা হতো) উপলব্ধি করার প্রচেষ্টা চালায় এবং নিজেদের মধ্যে তত্ত্বগত আলোচনা-বিতর্কের পর মাওবাদকে সর্বহারা শ্রেণীর মতবাদের বিকাশে তৃতীয় স্তর হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
তারপর এই নবীন বিপ্লবীরা ১৯৬৮ সালের ৮ জানুয়ারী পূর্ব বাংলায় একটি সঠিক কমিউনিস্ট পার্টি গড়ার লক্ষে প্রস্তুতি সংগঠন ”পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন” প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠন পূর্ব বাংলায় নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের লক্ষ্যে “পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের থিসিস” নামে একটি ঐতিহাসিক দলিল প্রণয়ন করে। এই সময় থেকেই পেশাদার বিপ্লবী কর্মী গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
’৭১-এর প্রথম দিকে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অতি দ্রুত বিকশিত হতে থাকে। পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর কবল থেকে পরিপূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় এক গণঅভ্যুত্থান গড়ে তোলেন।
কিন্তু ২৫ মার্চ ’৭১ পাকিস্তানি সামরিক ফ্যাসিস্টরা গণহত্যা শুরু করে। বাঙালী উঠতি ধনিক শ্রেণীর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিব স্বেচ্ছায় পাকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং অন্যান্য নেতারা ভারতে পলায়ন করে। এরাই পরবর্তীতে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের সহায়তায় পাকিস্তান বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। অন্যদিকে সিরাজ সিকদার ব্যক্তিগত নেতৃত্বে আত্মনির্ভরশীলভাবে বরিশাল জেলার পেয়ারা বাগানে কৃষকদের উপর নির্ভর করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে গণযুদ্ধ গড়ে তোলেন। অন্যান্য মাওপন্থী সংগঠনও দেশের মধ্যে থেকেই বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ শুরু করেন।
এই যুদ্ধের মধ্যেই ১৯৭১ সালের ৩ জুন এক সম্মেলনের মাধ্যমে “পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলন” বিলুপ্ত করে সর্বহারা শ্রেণীর অগ্রসরদের নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি “পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি” প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন সিরাজ সিকদার। এই পার্টি তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওসেতুঙ চিন্তাধারা।
’৭১-মুক্তিযুদ্ধের প্রথম থেকেই ভারত ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন বাহিনী বিশেষত: “মুজিব বাহিনী” মাওপন্থীদের হত্যা শুরু করে। ফলে মাওবাদীদের পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় মদদপুষ্ট বাহিনী উভয়ের বিরুদ্ধে দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করতে হয়। সেপ্টেম্বর ’৭১ পাকিস্তানি ফ্যাসিস্টদের সর্বাত্মক আক্রমণের মুখে সিরাজ সিকদার পেয়ারাবাগান ঘাঁটি থেকে পশ্চাদপসরণ করেন এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা দখল করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়।
সিরাজ সিকদার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পার্টির প্রথম কংগ্রেস সম্পন্ন করেন। কংগ্রেসে গৃহীত লাইন অনুসারে ’৭২ থেকেই পার্টি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুজিবের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। অন্যান্য মাওপন্থী সংগঠনও সংগ্রাম করে। সারা দেশজুড়ে সর্বহারা পার্টিসহ মাওবাদী বিপ্লবীদের নেতৃত্বে বিপ্লবী রাজনীতির ব্যাপক প্রচার হয়। সশস্ত্র প্রচার, গণশত্রু খতম, রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনীর অস্ত্র দখলসহ ব্যাপক সশস্ত্র তৎপরতা পরিচালিত হয়। পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবী বাহিনীর বিকাশ হতে থাকে। ’৭৪ সালের ১৫-১৬ ডিসেম্বর তথাকথিত বিজয় দিবসকে “কালো দিবস” ঘোষণা করে পার্টির আহ্বানে হরতাল পালিত হয়।
এসবের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সরকার বর্বর ফ্যাসিবাদী দমন-নির্যাতন চালায়। ’৭৫ সালের ১ জানুয়ারী সিরাজ সিকদার গ্রেফতার হন এবং ২ জানুয়ারী মুজিব সরকার তাকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করে। অন্য মাওপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি (এমএল) নেতা মুনিরুজ্জামান তারা, বাদল দত্ত এবং সাম্যবাদী দলের মন্টু মাষ্টার, এরাদ আলীসহ হাজার হাজার মাওবাদী নিহত ও গ্রেফতার হন। সংগ্রাম পরাজিত ও বিপর্যস্ত হয়।
সিরাজ শিকদারের মৃত্যু, সরকারী ব্যাপক দমন-নির্যাতন, বিভিন্ন প্রশ্নে ভুল লাইনের ফলশ্র“তিতে পার্টি বিভক্ত হয়ে পড়ে। পার্টি শোচনীয় প্রতিকূলতায় পড়ে। এ পরিস্থিতিতে এপ্রিল,’৭৭ পার্টি আনোয়ার কবীরের নেতৃত্বে সারসংকলন প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ’৭৯-এর এক বর্ধিত সম্মেলনে কিছু মৌলিক সারসংকলন গৃহীত হয়। আনোয়ার কবীর সম্পাদক হিসেবে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হন। সেই সারসংকলনের ভিত্তিতে নতুনভাবে সংগঠন-সংগ্রাম বিকশিত হতে থাকে। পার্টির বিভিন্ন আন্তরিক বিপ্লবীগণ ঐক্যবদ্ধ হতে থাকেন।
এই সময় ১৯৮৪ সালে “বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলন”-এর সূচনা থেকেই তার সদস্য হয় পার্টি। অন্যদিকে ’৮৭-’৮৮ সালে দেশব্যাপী গণযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এই নতুন উত্থানের মধ্যেই ’৮৭ সালে প্রায় পনের বছর পর পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
দেশব্যাপী বিপ্লবী সংগ্রামের বিকাশকে ধ্বংস করার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্র পুনরায় ব্যাপক দমন-নির্যাতন শুরু করে। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুমী, সুভাসসহ অনেক কমরেড শহীদ হন। ’৮৮-’৮৯ সালে পুনরায় সংগ্রাম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে পার্টিতে পুনরায় নতুন সারসংকলন প্রক্রিয়া শুরু হয়। নতুন এই সারসংকলন গ্রহণ এবং বিপর্যস্ত সংগঠনকে পুনর্গঠনের জন্য ১৯৯২ সালে পার্টির তৃতীয় জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসে গৃহীত লাইন অনুশীলনের প্রক্রিয়ায় ’৯৪ সালে পার্টিতে বৃহৎ আকারে ২খঝ শুরু হয়। একদিকে বাস্তব বিপ্লবী অনুশীলন, অন্যদিকে ২খঝ ও সারসংকলন- এ প্রক্রিয়া চলে ২০০৯ সাল পর্যন্ত। এই প্রক্রিয়ায় পার্টি বিগত চার দশকের মাওবাদী আন্দোলনের একটি সামগ্রিক লাইনগত সারসংকলন করে যা “নতুন থিসিস” নামে পরিচিত।
এই নতুন থিসিস অতীত মাওবাদী আন্দোলন সম্পর্কে যে মূল্যায়ন করে তা হলো- ’৬০-’৭০দশকে মাওবাদী আন্দোলনের সূচনা পর্ব, যা মাওবাদী আন্দোলনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে। তারপরে বিপর্যয় এবং ’৮০-এর দশকে নতুন সারসংকলন-নতুন বিকাশ কিন্তু সীমা ছাড়াতে না পারা। ’৯০ দশকে রাপচার শুরু, কিন্তু অসম্পূর্ণ। ২০০২ সালে নতুন শতাব্দীতে পরিপূর্ণ রাপচার শুরু এবং ধাপে ধাপে আমাদের দেশের বিগত মাওবাদী আন্দোলনের চার দশকের একটি লাইনগত সারসংকলন। একে বিপ্লবী কমিউনিস্ট আন্দোলনের নতুন যুগ বলা হয়।
এই সারসংকলন প্রক্রিয়াটি ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন পার্টির সম্পাদক আনোয়ার কবীর। এখন সেই নতুন থিসিসের ভিত্তিতে একটি নতুন ধরনের পার্টি এবং নতুন ধরনের গণযুদ্ধ গড়ে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট রণনৈতিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে পার্টি ও বিপ্লবী সংগ্রাম এগিয়ে যাচ্ছে। পার্টির একটি তাত্ত্বিক মুখপত্র রয়েছে যার নাম “স্ফুলিঙ্গ”। বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ২খঝ পার্টির ভেতরে ও বাহিরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য “নয়া বিতর্ক” নামে একটি তাত্ত্বিক পত্রিকা, “সহযোদ্ধা” নামে অনিয়মিত সাংস্কৃতিক পত্রিকা এবং গণ-রাজনৈতিক বুলেটিন “গণযুদ্ধ” নামে আরো একটি মুখপত্র প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া পার্টির নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন ধরনের গণসংগঠন এবং তাদের দলিলপত্রও রয়েছে।
মার্কসবাদ শিক্ষা দেয় দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে সমাজ বিকাশ লাভ করে। আমাদের পার্টিও দুই লাইনের সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় বিকশিত হয়েছে ও হচ্ছে। নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে গণযুদ্ধ গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে পার্টি অগ্রসর হচ্ছে। সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

আগস্ট, ২০১৩

সূত্রঃ http://pbsp-cc.blogspot.com/p/ce-evsjvi-menviv-cvwui-msw-bwznvm.html

Advertisements

‘সোভিয়েত রিপাবলিকে শ্রমজীবী নারী আন্দোলনের কাজ’ – কমরেড লেনিন

8mars-1

সোভিয়েত রিপাবলিকে শ্রমজীবী নারী আন্দোলনের কাজ সম্বন্ধে আমি দুই একটি কথা বলবো। একদিক থেকে সাধারণভাবে সাম্যবাদের দিকে সামাজিক পরিবর্তন ও অন্যদিক থেকে কতকগুলি বিশেষ অবস্থা তাদের সামনে এগিয়ে আসতে বাধ্য করছে। কমরেডগণ, গোড়া থেকেই সোভিয়েত সরকার নারীদের অবস্থার কথা তুলেছে। আমার মতে, যে সব শ্রমিকের রাষ্ট্র সাম্যবাদের দিকে এগিয়ে চলেছে তাদের কাজ হবে দুই রকমের। এই কাজের প্রথম অংশ অপেক্ষাকৃত সরল ও সোজা, এবং যে সব পুরানো আইন পুরুষের তুলনায় নারীকে হেয় করে রেখেছে সেই সম্বন্ধে।

যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পশ্চিম ইউরোপের সব মুক্তিযুদ্ধের প্রতিনিধিরা জানিয়ে এসেছেন এই সব সেকেলে আইন তুলে দিয়ে আইনত নারীকে পুরুষের সমান অধিকার দেবার দাবি। কিন্তু ইউরোপের একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এমন কি, সবচেয়ে উন্নত রিপাবলিকান দেশও, এ বিষয়ে সফল হতে পারেনি। কারণ সেখানে রয়েছে ধনতন্ত্র, জমি, কারখানা ও কাজের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা, আর রক্ষা করা হচ্ছে মূলধনের ক্ষমতা, সেখানে পুরুষ তাদের বিশেষ সুবিধা আঁকড়ে ধরে থাকবেই। এ বিষয়ে আমাদের সফল হবার একমাত্র কারণ এখানে ১৯১৭ সালে ৭ই নভেম্বরে শ্রমিকের শাসন কায়েম হয়েছে। সোভিয়েত সরকারের গোড়া থেকেই লক্ষ্য- যাতে সর্বপ্রকার শোষণ দূর হয় ও শ্রমজীবী মানুষের সরকার কায়েম হয়। এই সরকারের লক্ষ্য মূলধনের রাজত্ব ধ্বংস করা, জমিদার ও মালিকদের পক্ষে শ্রমিকদের শোষণ করবার পথ বন্ধ করা। সোভিয়েত সরকারের লক্ষ্য ছিল এমন এক অবস্থার সৃষ্টি করা যেখানে ব্যক্তিগত মালিকানার বিলোপ করে শ্রমজীবী মানুষ তাদের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে- সেখানে থাকবে না জমি, কারখানা ও কাজের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা, যেখানে না সেই ব্যক্তিগত মালিকানা যা আজ দুনিয়ার সর্বত্র এমন কি, যেখানে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার আছে, সেখানে সবচেয়ে গণতান্ত্রিক রিপাবলিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- সেই সব দেশেও পর্যন্ত শ্রমিকদের করেছে দারিদ্র্য ও মজুরি দাসত্ব, আর নারীদের দিয়েছে দ্বিগুণ দাসত্ব।

শ্রমিকদের সরকার হিসাবে সোভিয়েত সরকার তার সূচনার প্রথম মাসেই মেয়েদের সম্বন্ধে সমস্ত আইনের আমূল পরিবর্তন করেছে। যে সব আইন দ্বারা মেয়েদের অধীন অবস্থায় রাখা হয়েছিল সোভিয়েত রিপাবলিক তা নিশ্চিহ্ন করে মুছে ফেলেছে। আমি বিশেষ করে এই সব আইনের কথা বলছি যেগুলি মেয়েদের দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাদের ছোট স্তরে রাখে এবং তখনও খুবই হীন করে রেখেছে। আমি উল্লেখ করছি বিবাহ বিচ্ছেদের আইন, অবিবাহিত মায়ের সন্তানদের সম্বন্ধে আইন ও তাদের ভরণপোষণের জন্য শিশুর পিতার কাছে তার মায়ের অভিযোগ করা সম্বন্ধে আইনের বিষয়।

এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে ঠিক এই ক্ষেত্রেই বুর্জোয়া আইনে, এমন কি সবচেয়ে উন্নত দেশেও, নারীদের দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাদের ছোট এবং হেয় করে রাখা হয়। আর ঠিক এই ক্ষেত্রেই সোভিয়েত সরকার পুরানো অন্যায় আইনের চিহ্ন পর্যন্ত মুছে ফেলেছে- শ্রমজীবী জনসাধারণের কাছে এই সব আইন ছিল অসহ্য। আজ আমরা বিন্দুমাত্র অতিরঞ্জিত না করেই গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে একমাত্র সোভিয়েত রাশিয়া ছাড়া পৃথিবীতে এমন আর একটি দেশও নেই যেখানে নারীরা সম্পূর্ণভাবে পুরুষের সমান অধিকার পেয়েছে, সেখানে বিশেষ করে প্রতিদিনের পারিবারিক জীবনে নারীকে হেয় করে রাখা হয়নি। এই ছিল আমাদের একটি প্রথম অন্যতম প্রধান কাজ।

যদি বলশেভিকদের বিপক্ষে কোন পার্টির কথা শোন, অথবা রাশিয়ার কোলচাক বা ডেনিকিন অধিকৃত অঞ্চলের কোন খবরের কাগজ হাতে আসে, অথবা সেই সব কাগজের মতাবলম্বী কোন লোকের সঙ্গে কথা বল, তাহলেই তাদের অভিযোগ করতে দেখবে যে সোভিয়েত সরকার গণতন্ত্রের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।

আমরা যারা সোভিয়েত সরকারের প্রতিনিধি, বলশেভিক কমিউনিস্ট ও সোভিয়েত সরকারের অনুগত, তাদের বিরুদ্ধে অনবরতই গণতন্ত্রের নিয়ম লঙ্ঘন করবার অভিযোগ করা হয়। এবং তার প্রমাণ স্বরূপ বলা হয় যে সোভিয়েত সরকার গণপরিষদ (কনসটিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) ভেঙ্গে দিয়েছে। এই সব অভিযোগের উত্তরে আমাদের স্বাভাবিক জবাব : যে ধরনের গণতন্ত্র ও গণপরিষদ তৈরি হয়েছে তখন- যখন জমির ওপর কায়েম ছিল ব্যক্তিগত মালিকানা, মানুষের সঙ্গে সমান অধিকার ছিল না, যখন মূলধনের মালিকরা ছিল প্রভু আর অন্য সবাই কাজ করতো তাদেরই জন্য ও তাদের কাছে মজুরির দাস হয়ে থাকতো- সে গণতন্ত্র ও গণপরিষদের আমাদের কোনই প্রয়োজন নেই। এই ধরনের গণতন্ত্র এমন কি সবচেয়ে উন্নত দেশেও দাসত্বকে গোপন করবার জন্যই আবরণের কাজ করেছে। গণতন্ত্র ঠিক যতখানি পরিমাণে শ্রমিক ও শোষিতের কষ্ট লাঘব করে, আমরা সাম্যবাদীরা মাত্র সেই পর্যন্ত গণতন্ত্রের ভক্ত। সারা দুনিয়ার সাম্যবাদের লক্ষ্যই হলো মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করা। যারা শোষিত, সমাজ যাদের হীন অবস্থায় রেখেছে, যে গণতন্ত্র তাদের স্বার্থ রক্ষা করে, আমরা সেই গণতন্ত্রকেই আসল গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যারা খেটে খাবে না তাদের ভোটাধিকার যদি কেড়ে নেওয়া হয়, আমরা তাকেই বলবো প্রকৃত সাম্য। যে খাটে না সে খেতেও পারে না। এইভাবে অভিযোগের উত্তরে আমরা বলি আসল প্রশ্ন হলো : কোন দেশে গণতন্ত্র কিভাবে কাজে লাগানো হয়? সমস্ত গণতান্ত্রিক রিপাবলিকেই সমান অধিকার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আইন ব্যবস্থায়, নারীদের সম্বন্ধীয় আইনে, তাদের পারিবারিক জীবনেও বিবাহ বিচ্ছেদের আইনে দেখা যায়, প্রতি পদেই তাদের ছোট করে রাখা হয়েছে ও সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা বলি: এরই নাম গণতন্ত্রের লঙ্ঘন, আর বিশেষ করে শোষিত মানুষের জন্য এ কথা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। অন্য যে কোন দেশের চেয়ে এমনকি সবচেয়ে উন্নত দেশের চেয়ে সোভিয়েত সরকার যে অনেক বেশি গণতন্ত্র কায়েম করেছে। তার প্রমাণ এই যে আরও যে সব বিষয়ে মেয়েদের হেয় করে রাখা হয়েছিল, সোভিয়েত আইনে তার লেশমাত্র চিহ্ন রাখা হয়নি। আবার বলি, সোভিয়েত সরকার তার সূচনার প্রথম কয়েক মাসেই নারীদের জন্য যতখানি করেছে, আর কোন একটিও রাষ্ট্রে এবং কোনও গণতান্ত্রিক আইনে তার অর্ধেকও করা হয়নি।

অবশ্য এ কথাও ঠিক যে, কেবল মাত্র আইনই যথেষ্ঠ নয় এবং আইন পাস করেছি বলেই আমরা সন্তুষ্ট থাকতে পারি না। কিন্তু নারীদের পুরুষের সমান অধিকার দেবার জন্য আমাদের কাছ থেকে যতখানি আশা করা হয়েছিল আমরা তা সবই করেছি। এবং তার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়ার অধিকার আছে। সমস্ত উন্নত দেশের তুলনায় আজ সোভিয়েত নারীদের অবস্থাকে আদর্শ বলা যায়। কিন্তু নিজেদের মধ্যে আমরা এই কথাই বলি যে ও শুধু সূচনামাত্র।

সোভিয়েত শ্রমজীবী নারী
সোভিয়েত শ্রমজীবী নারী

নারীরা যতক্ষণ ঘরকন্নার কাজ করে আটকে থাকে ততক্ষণ তারা বাঁধাবাঁধির মধ্যেই থেকে যায়। নারীদের সম্পূর্ণ মুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য চাই সামাজিক অর্থনীতি ও সাধারণ উৎপাদনে তাদের অংশগ্রহণ করা। তখনই নারীরা সমাজে পুরুষের সমান স্থান পাবে।

তার মানে অবশ্য এই নয় যে উৎপাদনী শক্তি, পরিশ্রমের মাত্রা, পরিমাণ, সময় খাটুনির অবস্থা প্রভৃতি হুবহু পুরুষের মতোই হতে হবে। কিন্তু এ কথা ঠিক যে পুরুষের তুলনায় নারীরা কখনই অর্থনৈতিক দিক থেকে অধীন অবস্থায় থাকবে না। আপনারা সকলেই জানেন যে ঘরকন্নার কাজের বোঝা মেয়েদের ওপর চাপানো হয় বলে সম্পূর্ণ সমান অধিকার পেয়েও তাদের অধীন হয়েই থাকতে হয়। এইসব ঘরকন্নার কাজের মধ্যে বেশিরভাগই কোনো কাজেই লাগে না, অত্যন্ত অসভ্য রকমের ও কষ্টকর। আর নারীদেরই এগুলি করতে হয়। এই খাটুনি অত্যন্ত নিকৃষ্ট আর এর মধ্যে এমন কিছুই নেই যা নারীদের উন্নতির পথে একটুও সাহায্য করে।

পুরোপুরি সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের সাম্যবাদী আদর্শ এবং সেখানে নারীদের জন্য খোলা রয়েছে বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র। আমরা এখন খুবই গুরুত্বের সাথে সাম্যবাদী সমাজের ভিত্তি রচনা করছি। প্রকৃতপক্ষে সাম্যবাদী সমাজের গঠন থেকেই শুরু হবে যখন নারীরা সম্পূর্ণ সমান অধিকার পেয়ে এবং নিকৃষ্ট বুদ্ধিনাশা, নিষ্ফল কাজ থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন কাজে যোগ দেবে। এ কাজ করতে আমাদের অনেক অনেক বছর লাগবে, আর এর থেকে খুব চট করে বা অত্যন্ত চমকপ্রদ কোন ফলই দেখা যাবে না।

আমরা আদর্শ প্রতিষ্ঠান, ভোজনালয়, শিশুদের রক্ষণাগার (ক্রেশে) গড়ে তুলেছি। এইগুলিই মেয়েদের ঘরকন্নার কাজ থেকে মুক্তি দেবে, আর এইসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রধানত নারীদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। একথা স্বীকার করতেই হবে যে বর্তমানে রাশিয়ায় এই ধরনের প্রতিষ্ঠান খুবই কম, যা কিনা নারীদের পারিবারিক দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে। এগুলির সংখ্যাও খুব নগণ্য আর সোভিয়েত রিপাবলিক যে অবস্থার মধ্যে পড়েছে- সামরিক ও খাদ্যের অবস্থায় যে বিষয়ে অন্য কমরেডরা আপনাদের কাছে বলেছেন- তাতে আমাদের এইসব কাজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তবুও একথা ঠিক যে যেখানেই সম্ভব এই ধরনের প্রতিষ্ঠান, যেগুলি মেয়েদের পরিবারিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সেগুলি গড়ে উঠেছে। শ্রমিকদের মুক্তি যেমন শ্রমিকদের নিজের দ্বারাই আসে ঠিক তেমনি নারী শ্রমিকদের মুক্তিও তাদের নিজেদেরই আনতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে গড়ে ওঠে সেদিকে নারী শ্রমিকদের নিজেদেরই নজর রাখতে হবে আর এই ক্ষেত্রেই কাজের ভিতর দিয়ে আগেকার ধনতান্ত্রিক সমাজে তাদের যে অবস্থা ছিল, তার আমূল পরিবর্তন আসবে।

পুরনো ধনতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক কাজে যোগ দিতে হলে বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন হতো। তাই এমন কি সবচেয়ে উন্নত ও স্বাধীন ধনতান্ত্রিক দেশেও খুবই অল্প সংখ্যক নারীই রাজনৈতিক কাজে যোগ দিয়ে থাকেন। আমাদের দেখতে হবে যাতে রাজনৈতিক কাজ এমনধারা হয় যে, প্রত্যেকটি শ্রমিক নারীই তাতে যোগ দিতে সক্ষম হয়। যে মুহূর্তে জমি ও কারখানার ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা বিলোপ করা হয়েছে, জমিদার মালিকদের ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকেই রাজনীতি হয়েছে এত সহজ সরল যে সমস্ত শ্রমজীবী জনসাধারণ এবং শ্রমজীবী নারীরাই তাতে অংশ গ্রহণ করতে পারে। ধনতান্ত্রিক দেশে নারীকে এমন হেয় করে রাখা হয় যে পুরুষের তুলনায় তারা রাজনৈতিক কাজে খুবই সামান্য অংশগ্রহণ করতে পারে। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্যই প্রয়োজন শ্রমিকের আধিপত্য এবং তাহলেই রাজনীতির প্রধান প্রধান কাজগুলি এমন হবে যা সোজাসুজিই শ্রমিকদের নিজেদের ভাগ্যের সাথে জড়িত।

এখানে নারী কর্মীদের- শুধু শ্রেণী সচেতন পার্টির নারীই নয়, পার্টির বাইরের সবচেয়ে কম শ্রেণী সচেতন সম্পন্ন নারীদেরও অংশ গ্রহণ করা দরকার। এদিক থেকে সোভিয়েত সরকার নারীদের জন্য খুলে দিয়েছে ব্যাপক কর্মক্ষেত্র।

সোভিয়েত রাশিয়ার যে সব শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে তাদের সাথে লড়াই করে আমাদের খুবই কঠোর অভিজ্ঞতা হয়েছে। শ্রমিক শাসনের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ চালাচ্ছে সামরিক ক্ষেত্রে তাদের সাথেও খাদ্যের ক্ষেত্রে মুনাফাখোরদের সঙ্গে লড়াই চালাতে আমাদের বেগ পেতে হয়েছে অনেক, কারণ যে সব লোক ও শ্রমিক সর্বান্তঃকরণে তাদের শক্তি দিয়ে আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে তাদের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত মোটেই যথেষ্ট নয়। তাই ব্যাপকভাবে পার্টির বাইরের নারী শ্রমিকদের সহযোগিতাকে সোভিয়েত সরকার সবচেয়ে মূল্যবান মনে করে। তারা জেনে রাখুক যে পুরাতন বুর্জোয়া সমাজে রাজনৈতিক কাজে যোগ দিতে হলে দরকার হতো জটিল শিক্ষা গ্রহণের, তাই নারীরা তাতে যোগ দিতে পারতো না। কিন্তু সোভিয়েত রিপাবলিকের এই কর্মধারাই নারী কর্মীদের রাজনৈতিক কাজের পথ খুলে দেয়। এর ফলে তারা তাদের সাংগঠনিক যোগ্যতার দ্বারা পুরুষদের সাহায্য করতে পারে।

আমাদের লক্ষ লক্ষ লোকের স্বার্থে শুধু ব্যাপক সাংগঠনিক কাজেরই প্রয়োজন তা নয়, এমন ছোট ছোট সাংগঠনিক কাজেরও আমাদের প্রয়োজন আছে যেখানে নারীরা যোগ দিতে পারে। যুদ্ধের সময় নারীরা সৈন্যদের সাহায্য করতে পারে এবং সাধারণের মধ্যে প্রচার কাজও চালাতে পারে। এক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ করতেই হবে যাতে লালফৌজরা বুঝতে পারে যে তাদের যত্ন নেওয়া ও দেখাশোনা করা হচ্ছে। খাদ্যের ক্ষেত্রেও নারীরা কাজ করতে পারে, যেমন- খাদ্য বিতরণ, জনসাধারণের জন্য খাদ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নতি করা, আজকাল পেট্টোগ্রাদে যেমন ব্যাপক ভোজনালয় খোলা হচ্ছে, সেই রকম ভোজনালয় আরও অধিক সংখ্যায় খোলা ইত্যাদি।

এইসব ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের কাজ প্রকৃতপক্ষে সাংগঠনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বড় বড় পরীক্ষামূলক কাজের সংগঠনেও নারীদের অংশগ্রহণ করা ও সেগুলির তত্ত্বাবধান করা দরকার যাতে এগুলি অসংলগ্ন ব্যক্তিগত কাজে পরিণত না হয়। বহু সংখ্যক নারী শ্রমিক যোগ দিলে এ সম্পন্ন হতে পারে। আর এ ধরনের কাজ- যেমন খাদ্য বণ্টনের তত্ত্বাবধান, আরও সহজে খাদ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা- ইত্যাদিতে নারীদের বেশ যোগ্যতা আছে। পার্টির বাইরের নারীরা এ কাজ খুবই সহজে করতে পারেন, আর এতে সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়বার সাহায্য হবে সবচেয়ে বেশি।

জমির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা বিলোপ করবার পর, কারখানা ও কাজের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই বিলোপ করবার পর সোভিয়েত সরকারের চেষ্টা হচ্ছে সমস্ত মেহনতি মানুষকে- শুধু পার্টির নয়, পার্টির বাইরের ও শুধু পুরুষ নয় নারীদেরও- অর্থনৈতিক সংগঠনের কাজে টেনে আনা। সোভিয়েত সরকার যে কাজ শুরু করেছে তা এগিয়ে যেতে পারে কেবলমাত্র তখনই, যখন রাশিয়ার সর্বত্র হাজার হাজারের স্থলে লক্ষ লক্ষ নারী এই কাজে যোগ দেবে। একমাত্র তখনই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারবো যে সমাজতান্ত্রিক সমাজের গঠন সুদৃঢ় হবেই। তখন শ্রমিকরা দেখাতে পারবে যে জমিদার ও মালিকদের ছাড়াই তারা চলতে ও চালাতে পারে। সমাজতান্ত্রিক গঠন তখন এতই সুদৃঢ় হবে যে ভিতরের বা বিদেশের শত্রুদের ভয় করবার সোভিয়েত রিপাবলিকের কোন কারণই থাকবে না।

[১৯১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পার্টির বাইরের নারী কর্মীদের ৪র্থ মস্কো শহর সম্মেলনে লেনিনের বক্তৃতা ]


কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট — ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন (ধারাবাহিক-৩য় ও শেষ পর্ব)

কেন্দ্রীয় অধ্যয়ন ক্লাশে রিপোর্ট

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

(১৪ জানুয়ারি ১৯৭৪)

 

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

ওয়াঙ হুঙ-ওয়েন

 

বাংলায় অনুবাদ ৩য় শেষ পর্ব

 

revolutionarycommittee-300x208

আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে যা লিন পিয়াওয়ের সংশোধনবাদী লাইনকে সারবস্তুতে “অতিবাম” মনে করে। বস্তুত তার লাইন “অতিবাম” নয় বরং “অতি ডান”, আর যত ডান হওয়া যায়। কোন এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেউ একজন অতি সম্প্রতি বলল যে, “অতিবামকে যখন সমালোচনা করা হয়না, ডান ও ভুল গুলিয়ে যায়।” এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে সে নিবেদেন করে যে সতের বছরের [সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগের] দোষগুণ কেউই কখনো মূল্যায়ন করেনি।

তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে বহু বৃহদাকার পোস্টার আর কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকা কর্মে প্রেরিত যুবদের শিক্ষা সম্মেলনের সারাংশে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। উপসংহার বলে যে সতের বছর যাবত শিক্ষা ফ্রন্ট মূলত সভাপতি মাওয়ের লাইন বাস্তবায়ন করেনি বরং সংশোধনবাদীদের একনায়কত্ব দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। চিয়াঙ চিঙের প্রতি পত্রে সভাপতি মাও বলেন, “পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় আর সিঙ হুয়া বিশ্ববিদ্যালন গভীর শিকরযুক্ত ভ্রান্ত ঘোঁট।“ এখন কেউ একজন বলল যে “সারাংশ” আর সঠিক নয় অথবা তা অতিবামের ফসল। আর এই মন্তব্য সর্বত্র ছড়ানো হয়েছে। কিছু লোকের কাছে অতিবাম ও লিন পিয়াওয়ের সমালোচনা হচ্ছে অবাস্তব আর তাদের সত্যিকার নিশানা হল মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব।

আমাদের উপসংহার হচ্ছে, “যখন অতিডানকে সমালোচনা করা হয়না, ডান ও ভুল গুলিয়ে যায়।” বর্তমান স্তরে, মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ফলগুলিকে সংহত করতে লিন পিয়াওয়ের সংশোধনবাদী লাইনের অতি ডান সারকে সমালোচনা করা প্রয়োজন। এটা করা ছাড়া মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিরাট ফল সংহত ও বিকশিত করা সম্ভব নয়। গত বছর একটা ইউনিট একটা নিবন্ধ লেখে, বলে যে ঐ ইউনিটের সবাই অতি ডান ছিল, আর তাদের সকলকে খারাপ বর্ণনা করে ইত্যাদি ইত্যাদি। যদি এটাই হয় ঘটনা, চীন বিপ্লবের আশা কোথায়? আমাদের সফল করতে আমরা কাদের উপর নির্ভর করতে পারি? প্রাদেশিক যুবলীগ কংগ্রেসের আহবানের অনুরোধ সংক্রান্ত প্রশ্নে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্দেশনা দেয়ঃ অধিকাংশ তরুণই ভাল, অন্যথায় আমাদের বিপ্লবের কোন ভবিষ্যতই থাকবেনা অথবা তা হবে অন্ধকার। গুরুত্বের সাথে লক্ষনীয় যে কিছু এলাকায় প্রতিবিপ্লবী গুজব ছড়ানো হয়েছে যেমন “মন্দির পরিষ্কার কর, প্রকৃত ঈশ্বরকে আমন্ত্রণ জানাও, পুরোনো সেনাধ্যক্ষদের তাদের পদে ফেরত যেত হবে; ক্ষুদে সৈন্যদের তাদের ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে।” সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শেষের দুই লাইন “পুরোনো সেনাধ্যক্ষদের তাদের পদে ফিরে যেতে; ক্ষুদে সৈনিকদের ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে।” তারা অর্থ করে যে লিউ শাউচিসহ সকল বেঈমান, শত্রু এজেন্ট ও পুঁজিবাদী পথিকরা তাদের পদে ফেরত যাবে আর মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নবজাত জিনিসগুলি বিলুপ্ত হবে। এটা হচ্ছে পুরাতনের টিপিক্যাল পুনপ্রতিষ্ঠা, একটা পাল্টা আক্রমণ অথবা বিলোপ। এই গুজব সামরিক ইউনিটের দুই উচ্চ পদস্থ ক্যাডার প্রথম ছড়ায়। এই ধরণের জিনিস ছড়ানো খুবই ক্ষতিকর। আরেকটি উদাহারণ হচ্ছে কিয়াংসী প্রদেশের [কেডাররা] সভাপতি মাওয়ের নির্দেশনা প্রশ্নে লিউ শাউচির প্রতিবিপ্লবী গুজব গ্রহণ করে আর ক্যাডার সম্মেলনে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে প্রচার করে। যাহোক, এটা আশ্চর্য নয়। আমাদের কোন কোন কেডারের মস্তিষ্ক হচ্ছে গুজবের বাজার। দ্রব্য পাওয়া মাত্রই তারা গুজব বিক্রী করে বাজারে। শ্রেণী দৃষ্টিকোণ থেকে এটা আশ্চর্য নয়।

কিছু লোক আছে যারা খারাপ নয়, কিন্তু ইতিমধ্যে মতাদর্শিকভাবে নিরস্ত্র হয়েছে আর বিষাক্ত আগাছা থেকে সুগন্ধী ফুল আলাদা করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করেছে নিজেকে। সভাপতি মাও এই প্রতিবিপ্লবী গুজবকে মারাত্মকভাবে সমালোচনা করেছেন, আর একে পরিবর্তন করে এভাবে পড়তে বলেছেনঃ “মন্দিরকে পরিষ্কার কর, প্রকৃত দেবতাকে আমন্ত্রণ কর; পুরোনো সেনাধ্যক্ষ্যরা লাইনে ফিরে এসো; ক্ষুদে সৈনিকেরা এগিয়ে যাও।” সভাপতি মাওয়ের নির্দশনাসমূহ ক্যাডার প্রশ্নে পর্যাপ্তভাবে বিপ্লবী লাইনকে প্রতিফলিত করে। পুরোনো প্রজন্মের সর্বহারা বিপ্লবীদের দক্ষতাকে ব্যবহার করা গুরুত্বপুর্ণ, আর একইসাথে এক দুই জন নয়, হাজার হাজার সর্বহারা উদ্যোগের উত্তরাধিকার প্রশিক্ষিত করে তোলার বিরাট প্রচেষ্টা দরকার। ভেটারান কেডারদের প্রতিভাকে কাজে না লাগানো ভুল হবে, আর এটাও ভুল হবে বাস্তব শ্রেণীসংগ্রামে কর্মতৎপরতা নির্বিশেষে অভিজ্ঞতা ও বয়সের ভিত্তিতে তাদের পদ নির্ধারণ করা। অতীতে উত্তর ও দক্ষিণে তাদের যুদ্ধ ক্ষমতা গুরুত্বপুর্ণ, কিন্তু তাদের সচেতনতা ও বাস্তব শেণীসংগ্রামে তাদের কর্মতৎপরতাও আমাদের দেখা উচিত। তাদের চিন্তা যদি সংশোধনবাদী হয়, তারা কি সর্বহারা শ্রেণীর জন্য লড়তে পারেন? আমরা বিশ্বাস করি, বিশেষত বর্তমান বিরাট মোড় ফেরায়, কেডারদের মূল্যায়ন কেবল ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ও বর্তমান ঘটনা ব্যতীত করা উচিৎ নয়, বরং প্রাথমিক গুরুত্ব দিতে হবে লাইন সংগ্রামে তাদের সচেতনতার উপর। এটা স্থানীয়, সামরিক, পুরোনো অথবা নতুন নির্বিশেষে সকল কেডারদের প্রতি প্রযোজ্য হবে।

পুরোনো প্রবীণ (ভেটারান) আর তরুণ কেডারদের কৃত ভুল প্রশ্নে, “দেখা ও সাহায্য করা” গ্রহন করতে হবে আর কেডারদের তাদের ভুল সংশোধনে অনুমোদন দিতে হবে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, পুরোনো প্রবীণ (ভেটারান) কেডারদের তাদের কৃত ভুল সংশোধনে সুযোগ দেয়া হয়েছে “লক্ষ্য রাখা ও সাহায্য করা”র মাধ্যমে, যেখানে তরুণ কেডাররা একবার ভুল করলেই শোচনীয় নিন্দা জানানো হচ্ছে। কেন ভুল করছে যে ভেটারান কেডাররা তারা শিক্ষিত হতে পারবে আর তরুণ কেডাররা পারবেনা? এটা ভাল নয়। এটা পার্টি ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর। সভাপতি মাও অনেক লোককে সমালোচনা করেছেন শিশুদের বাহিনীতে খাটো করে দেখানোর কারণে আর এই মন্তব্য করার কারণে যে “কীভাবে তোমরা কিশোর কিশোরীরা আর কুড়ি বছর বয়সীরা এত স্মার্ট হতে পারবে?” তরুন কেডারদের অবশ্যই বিনয়ী ও বিচক্ষণ হতে হবে, আত্ম অহংকার ও উদ্ধত স্বভাবের বিরুদ্ধে পাহাড়া দিতে হবে, ভেটারান কেডারদেরকে সম্মান করতে হবে ও তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। অপরদিকে ভেটারান কেডারদেরকে তরুন কেডারদের শিক্ষা, সাহায্য ও নেতৃত্ব দিতে হবে। তাদেরকে শিক্ষাদান, সাহায্য করা আর নেতৃত্বও প্রদান করার কথা মনে রাখতে হবে তরুন কেডারদের বোঝাপড়া করার সময়।

সর্বহারা বিপ্লবের উদ্যোগের কোটি কোটি উত্তরাধিকার জন্ম দেয়া হচ্ছে এক মহান রণনৈতিক মানদন্ড আর এক শতকের দীর্ঘ সময়সীমার পরিকল্পনা। আমাদেরকে এই মহান কাজকে আঁকড়ে ধরতে হবে আর বিবিধ স্তরে উত্তরাধিকার প্রশিক্ষিত করতে হবে। উত্তরাধিকার প্রশিক্ষণ স্থানীয় এলাকাসমূহে কিছু বাঁধাবিপত্তি মোকাবেলা করেছে কিন্তু সামরিক ক্ষেত্রে বেশি। আমি সবসময় এই পরামর্শ দেই যে বৃহৎ সামরিক এলাকাসমূহের জন্য ত্রিশের কোঠার বয়সী কিছু লোককে কমান্ডার বানানোর জন্য খুঁজে বের করা দরকার।

মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব—এটা কি ভাল না মন্দ? বিপ্লবের সমগ্র প্রক্রিয়া জুড়ে প্রশ্নটি বিতর্কিত হয়ে আসছে। পেঙ চেঙের ফেব্রুয়ারি রূপরেখা আর লিউ শাউচির বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীল লাইন সবই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ধ্বংসের নকশা। সারবস্তুতে লিন পিয়াও লিউ শাউচির মত একই রকমের এক ঝাঁক সংশোধনবাদী লাইন তুলে ধরে। একটা বৈধ দৃষ্টিকোণের দ্বারা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ওপর পালটা আক্রমণ ও তাকে বিলোপ করার এক প্রচেষ্টায় নবম কংগ্রেসের পূর্বে চেন পোতার সাথে মিলে এক রাজনৈতিক রিপোর্ট তৈরি করে, উৎপাদন প্রথম একথা তুলে ধরে লিন পিয়াও একথা বলে যে নবম কংগ্রেসের পর প্রথম কাজ হবে উৎপাদন বাড়ানো। সভাপতি মাও এই রাজনৈতিক রিপোর্টকে নেতিকরণ করেন আর ব্যক্তিগতভাবে সূত্রায়িত করেন নবম কংগ্রেসের লাইন যা সর্বহারা একনায়কত্বধীনে অব্যাহত বিপ্লবের আকারে টিকে থাকে। নবম কংগ্রেসের পর সভপতি মাওয়ের বিপ্লবী লাইনের পরিচালনাধীনে লিন পিয়াও পার্টিবিরোধী চক্রকে ধ্বংসের এক বিরাট বিজয় অর্জিত হয় আর সংগ্রাম-সমালোচনা-রূপান্তর অভিযানকে ক্রমান্বয়ে অধিকতর গভীরভাবে বিকশিত করা হয়। যাহোক, মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব খুব ভাল না মন্দ তা এখনো বিতর্কিত। কেন্দ্রীয় দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের পর এখানে সেখানে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে উদ্ভুত হয় এক ডানপন্থী জোয়ার। এই জোয়ারের সাথে জড়িত ছিল উদাহারণস্বরূপ সিং কিয়াঙের লুঙ শুন-চিন, সেচুয়ানের লিয়াঙ [লিয়াঙ সিংচু] ও চেন [চেন জেন-চি] আর হুনানের কেডাররা। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উপর পাল্টা আক্রমণ ও একে বিলোপের জন্য তারা লিন পিয়াওকে সমালোচনার সংগ্রামের সাধারণ ধারাকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা যা করছিল তা হচ্ছে দুই শ্রেণীর মধ্যে ও দুই লাইনের মধ্যে সংগ্রাম, সংগ্রামের এক ধারাবাহিকতা। ভবিষ্যতে এই সংগ্রাম পুনরায় আবির্ভূত হবে। সভাপতি মাও সম্প্রতি বলেন, “মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রশ্নে, আমাদের আরেক দশ বছরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ও দেখতে হবে।” এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কমরেডগণ, আপনারা নিশ্চয় লিন পিয়াও ও কনফুসিয়াসের ওপর সাম্প্রতিক সমালোচনামূলক প্রবন্ধসমূহ পড়েছেন। আর অবশ্যই জেনেছেন যে চিন শিহ উয়াঙ ২০০০ বছরের জন্য অভিশাপপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এক শোষণমূলক ব্যবস্থাকে আরেক শোষণমূলক ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিস্থাপন করার কারণে। আমাদের মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব কি অভিশাপ প্রাপ্ত হবে? নিশ্চিতভাবে কিছু লোক একে শাপ দেবে। আর এমনকি দশ বছর অথবা কয়েক দশক পরেও, কিছু লোক থাকবে যারা একে অভিশাপ দেবে আর লিউ শাউচি ও লিন পিয়াওয়ের ওপর সঠিক রায়কে উল্টিয়ে দিতে চেষ্টা করবে। কনফুসিয়াস মারা গেছে কয়েক হাজার বছর আগে, তথাপি কিছু লোক এখনো তাকে পুঁজা করে। কিন্তু চিন শিহ হুয়াঙ, যিনি একজন বিপ্লবী ছিলেন সেসময়, তিনি ২০০০ বছরের শাপ পেয়েছিলেন।

মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে বিরোধিতা করা মানে নবম ও দশম কংগ্রেসকে বিরোধিতা করা, কিন্তু এটা কোন সহজ সরল প্রশ্ন নয়। তা হচ্ছে পুঁজিবাদ পুনপ্রতিষ্ঠা করা ও সংশোধনবাদ অনুশীলন। আমার উপলব্ধি হচ্ছেঃ যারা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব বিরোধিতা করে তাদেরকে অবশ্যই একটা পুঁজিবাদী একনায়কত্বের কথা বলতে হবে। কমরেডগণ, আমাদের মনে করা উচিত নয় যে, পুঁজিবাদের পথিক আর নেই, অথবা এমনকি পুঁজিবাদের পথিকদের ব্যাপারটা উল্লেখের প্রয়োজন নেই। কিছু এলাকা রাষ্ট্র ও পার্টির সংবিধান সংশোধন আলোচনায় “পুঁজিবাদের পথিক” শব্দ অন্তর্ভুক্ত করতে চায়নি। কী অদ্ভূত কথা! যতদিন শ্রেণীসংগ্রাম থাকবে বুর্জোয়ারা আমাদের পার্টিতে ছায়া বপন করবে আর পুঁজিবাদের পথিক আবির্ভূত হবে। যদি কোন পুঁজিবাদের পথিক না থাকতো অতীতের সকল অভিযানকেই নেতিকরণ করতে হতো। তিন বিরোধী ও পাঁচ বিরোধী অভিযান, ১৯৫৭র ডান বিরোধী অভিযান আর চার পরিষ্কারকরণ অভিযান সকলই নেতিকরণ করতে হতো। পার্টি সংবিধানে তাদের নিয়ে লেখার এটাই কারণ। এগুলো ছিল বিরাট ঘটনা, ছোট নয়। কিছু ব্যক্তি পুঁজিবাদের পথ গ্রহণ করার ভুল করেন, কিন্তু তাদেরকে আমাদের সহায়তা দ্বারা সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধন ভাল। যাহোক, আমরা বলতে পারিনা যে সংশোধনের পর পুঁজিবাদের পথিকরা আর অস্তিত্বশীল নয়। পুঁজিবাদের পথিকরা শুধু যে অতীতে অস্তিত্বশীল ছিল তাই নয়, ভবিষ্যতেও থাকবে। অল্প কিছু লোক এখনো জনগণের উপর বুর্জোয়া একনায়কত্ব অনুশীলন করছে অথবা এমনকি বলছে যে বিদ্রোহীদের মধ্যে কোন ভাল মানুষ নেই। তাদের মন্তব্য কোন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যের পরিচায়ক নয়। “মার্কসবাদে হাজারো সত্য রয়েছে, সেগুলোকে একটি বাক্যে সংক্ষেপিত করা যায়ঃ বিদ্রোহ করা ন্যায়সঙ্গত।” আমাদের পুরোনো পিতা মার্কস আমাদের বিদ্রোহে চালিত করেছেন। বিদ্রোহে জেগে ওঠার কারণে কিছু লোক আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত। বিদ্রোহ খারাপ কী? সভাপতি মাওয়ের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মাধ্যমেই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যগণ বিপ্লবে বিজয় অর্জন করেন আর রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে সফল হন। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে আমরা বুর্জোয়া ও সকল শোষক শ্রেণীসমূহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি আর সর্বহারা একনায়কত্বকে সংহত করি। এতে ভুল কোথায়? কিছু লোক অতীতে বিদ্রোহী ছিল, কিন্তু এখন বিদ্রোহীদের অভিশাপ দেয়। তারা প্রমাণ করে যে তাদের চিন্তা পরিবর্তিত হয়েছে আর তারা অতীত ভুলে গেছে। অতীতে যখন আমরা স্থানীয় ভদ্রলোকেদের অপসারণ করে ভুস্বামীদের জমি ভাগ করেছিলাম তা কি একটা বিদ্রোহ ছিলনা? আর চিয়াঙ কাইশেকের বিরুদ্ধে আমরা যখন লড়েছিলাম তা কি একটা বিদ্রোহ ছিলনা? কিছু লোক এগুলো ভুলে গেছে। অবশ্যই মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে মাছও ঢুকে থাকবে ড্রাগনও ঢুকে থাকবে; কাঁদা ও বালি দুইই ঢুকে থাকবে। এটা আশ্চর্য নয় যে বিদ্রোহীদের মধ্যে কিছু খারাপ লোক অনুপ্রবেশ করে থাকবে। যখন আমরা প্রথম লাল ফৌজ গঠন করি, তখন আমাদের বাহিনী কি খুব খাঁটি ছিল? অসম্ভব। এটা একটা এড়ানোর অযোগ্য ব্যাপার। আমরা কিভাবে বলতে পারি যে বিদ্রোহীদের মধ্যে কোন ভাল মানুষ নেই? যে এই কথা বলে যে বিদ্রোহীদের মধ্যে কোন ভাল মানুষ নেই সে বস্তুত নিজেকে নেতিকরণ করছে। তিনি ভুলে গেছেন কে আমাদের বিদ্রোহে চালিতে করেছে আর ভুলে গেছেন বিদ্রোহীদের পুরোনো পিতাকে।

একজন কমিউনিস্ট যদি পুঁজিবাদী পথিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে তাহলে সে কী করবে? একজন কমিউনিস্টের ঐ ধরণের বিবৃতি দেয়া মানে কমিউনিজমের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা। আমদের কমিউনিস্টদের অবশ্যই বুর্জোয়াদের ও শোষক শ্রেণীসমূহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে হবে। যেসব লোকেরা প্রশ্নের সম্মুখীন তারা আমাদের আভ্যন্তরীণ সমস্যা বোঝাপড়া ও সেসব সমস্যা বিশ্লেষণ থেকে আবিষ্কৃত। সভাপতি মাওয়ের নির্দেশনাসমূহ ও দশ মহান ভাবমানস অধ্যয়ন করে তারা নিজেদের সংস্কার করতে পারেন। ইতিমধ্যে তাদের নিজেদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তনের কথাও ভাবতে হবে, আর তাদের বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গীকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও সভাপতি মাওয়ের চিন্তাধারার সাহায্যে রূপান্তর ঘটাতে হবে। অল্প কিছু লোক রূপান্তরিত না হতে পারে। দ্বন্দ্ব দুইভাবে পরিবর্তিত হতে পারেঃ কেউ ভালর জন্য পরিবর্তিত হবে আর কেউ খারাপের জন্য। কিছু পার্টি সদস্য সমস্যা থেকে শিক্ষা নিতে পারেন আর ভালর জন্য পরিবর্তিত হবেন অথবা পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবর্তিত হবেন। এভাবে, শত্রু ও আমাদের মধ্যকার কিছু দ্বন্দ্ব জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বে পরিবর্তিত হতে পারে; আর জনগণের মধ্যকার কিছু দ্বন্দ্ব শত্রু ও আমাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে পরিবর্তিত হতে পারে।

কিছু কমরেডের মনে মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব মুক্তির পর থেকে চলমান শ্রেণীসংগ্রামের ফল হিসেবে প্রতিভাত হয়না। বরং একে সকালের পরিষ্কার আকাশে এক বজ্র নির্ঘোষ হিসেবে দেখা হয়। কিছু লোক এমনকি একে এক বিরাট ভুল বোঝাবুঝি, খুবই প্রতিক্রিয়াশীল প্রকৃতির হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের একটা কথা আছেঃ “ভেটারান কেডাররা তাদের পদে ফেরত যাক, তরুন কেডাররা তাদের দপ্তরে ফেরত যাক, আর যারা বামেদের সমর্থন করে তারা ইউনিটে ফেরত যাক। মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব হচ্ছে একটা বিরাট ভুল বোঝাবুঝি।” এই বিচ্যুতি হচ্ছে এক মতাদর্শিক সমস্যা, চরিত্রগতভাবে ভাববাদকে প্রতিফলিত করে। যেহেতু মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবে তারা অস্তিত্বশীল প্রতিটি জিনিসের প্রতি অসন্তুষ্ট, উদ্বেগের সাথে অপেক্ষা করছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার জন্য। বিকাশকে একটা সর্পিল প্রকৃতির হিসেবে দেখার বদলে একে একটা বৃত্তের মধ্যে ঘুরপাক হিসেবে দেখে। কারখানায় তারা অনুশীলন করে নিয়ন্ত্রণ-বিধিনিষেধ-চাপ; বিদ্যালয়ে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষাকে সামনে রাখে আর সবকিছুকে এক পুরোনো কাঠামোতে ঢুকিয়ে রাখে। কী এই মতাদর্শ? এটা হচ্ছে টিপিক্যাল বিবর্তনের স্থূল তত্ত্ব। মার্কসবাদী বস্তুবাদী দ্বন্দ্বতত্ত্ব অনুসারে, সব জিনিসই সামনের দিকে এগুচ্ছে আর অব্যাহতভাবে বিকশিত হচ্ছে। এসব লোকেরা পুরোনোর সাথে বাঁধা, মুখে দ্বন্দ্ববাদের সত্যতাকে স্বীকার করে কিন্তু কাজে বিরোধিতা করে। ব্যবসা প্রশাসনের ক্ষেত্রেও তারা পুরোনো নিয়ম কানুনের পুনপ্রতিষ্ঠা চায় যা জনগণ কর্তৃক বাতিল হয়েছে। তারা ঘন্টা হিসেবে মজুরি দিতে আর সময় হিসেবে পুরষ্কার দিতে আগ্রহী, একথা বলে যে এটা করার মাধ্যমে কাজকর্ম এগিয়ে যাবে। যাহোক, অতীত দশকগুলোতে বিপ্লবের জন্য যার ওপর আমরা নির্ভর করেছি তাকে তারা প্রতিফলন করেনা। আমরা কি আর্থিক পুরষ্কারের ওপর নির্ভর করেছি, ঘন্টা অথবা সময় ভিত্তিক মজুরির ওপর? না, আমরা সভাপতি মাওয়ের বিপ্লবী লাইনের ওপর নির্ভর করেছি, কোটি কোটি বিপ্লবী জনগণ, যব আর রাইফেলের উপর। বৈষয়িক প্রণোদনার কথা বলতে গেলে, সোভিয়েত সংশোধনবাদীরা সেগুলোকে জোরালোভাবে প্রয়োগ করেছে, কিন্তু তারা তাদের শিল্পকে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে আর দেশে বিদেশে প্রতিকুলতা নিয়ে এসেছে। যদি সেগুলো কার্যকর হয়ে থাকে, লেনিনগ্রাদের শ্রমিকরা কেন বিদ্রোহ করতে চায়? মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লব কি বৈষয়িক প্রনোদনার ওপর নির্ভর করেছে নাকি জনগণের সচেতনতার উপর? এটা কি সভাপতি মাওয়ের বিপ্লবী লাইনের উপর নির্ভর করেনি জনগণকে সমাবেশিতকরণে? নিশ্চিতভাবে, আমরা জনগণের জীবনকে নেতিকরণ করার অর্থ করিনা। কিন্তু জনগণের জীবনের যত্ন নেয়া এক জিনিস আর বৈষয়িক প্রণোদনার উপর জোর দেয়া অন্য জিনিস। শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, আমাদেরকে প্রযুক্তিবিদ্যার নবরূপায়ন ও যান্ত্রিকীকরণের জন্য কিছু করতে হবে। জনগণের জীবনযাত্রাকে যথাযথভাবে উচ্চে উঠানো দরকার, কিন্তু আমরা যদি যাকে বলে ঘন্টা অনুযায়ী মজুরী আর আর্থিক পুরষ্কারকে অনুশীলন করি তা হবে শ্রমিকশ্রেণীর প্রতি এক বিরাট অপমান, জনগণের জীবনের জন্য কোন লাভ নয়। আমাদের রেলপথ বাহিনী অনেক রেলপথ নির্মাণ করেছে। আমরা কি ঘন্টা হিসেবে মজুরীর ওপর নির্ভর করেছি? সৈন্যবাহিনীর তালিকাভুক্ত লোকেরা প্রতিমাসে আট ইউয়ান পেত কোন বাড়তি আর্থিক পুরষ্কার ছাড়া। আমরা সমগ্রভাবে সভাপতি মাওয়ের চিন্তাধারার উপর নির্ভর করেছি। এই সমস্যাগুলি সবাইকে জড়িত করেনা। কেন্দ্রীয় কমিটির দুটি বিভাগ আছে যারা এই লাইনকে এগিয়ে নিয়েছে। তারা সাংহাইয়ে একটা পরীক্ষা চালিয়েছে কিন্তু শ্রমিকদের দ্বারা দূরীভূত হয়েছে। সমস্যাটি সরাসরি মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত। আজকে আমরা এখানে আলোচনা করছি এই আশায় যে অধ্যয়ন ক্লাশে আমাদের কমরেডরা তাদের ইউনিটে ফিরে গেলে এই সমস্যাকে দেখতে পাবেন আর সাহসের সাথে সংগ্রামে নিয়োযিত হবেন, অথবা অন্তত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি পরিস্থিতি রিপোর্ট করবেন। কিছু এলাকা প্রশ্ন করে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আগে গৃহীত নিয়মকানুন তারা অব্যাহত রাখবে কিনা। এক পরিকল্পনা কর্ম সম্মেলনে একজন শ্রমিক পরিষ্কার জবাব দিলেনঃ “না”। তিনি তিন শর্ত উল্লেখ করেনঃ প্রথম, আমরা নিয়ন্ত্রণ-বিধিনিষেধ-চাপ চাইনা; দ্বিতীয়ত আমরা মাসিক মজুরীর পূর্ণ প্রদান বিরোধিতা করি; তৃতীয়ত অতীতে যেগুলো সঠিক ছিল তা এখন হুবুহু প্রয়োগ করা যায়না কারণ আমাদের উৎপাদন এখন বৃদ্ধি পেয়েছে যেমন একজন বালক বড় হয়ে আর পুরোনো কাপড় পরতে পারেনা। শ্রমিকটির কথাবার্তা ছিল দ্বন্দ্ববাদী। তিনি সঠিকঃ সবকিছু বিকশিত হয়েছে, আর নেতাদের চিন্তাচেতনা নতুন পরিস্থিতির সাথে সাথে এগুনো দরকার। আমরা দৃঢ়ভাবে অতীতমুখী আন্দোলনকে বিরোধিতা করি। সভাপতি মাও আমাদের শিক্ষা দেনঃ “আমাদেরকে আবিষ্কার, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতায় ও এগিয়ে যেতে সচেষ্ট হতে হবে। স্থবিরতা, হতাশাবাদ, ঔদ্ধত্য, আত্মপ্রসাদের চিন্তা–এসবকিছুই ভুল।“ লিনপিয়াওকে সমালোচনা আর কাজের রীতির শুদ্ধিকরণ অভিযানকে গভীরতর করতে হবে, লিন পিয়াও ও কনফুসিয়াসের সমালোচনার আন্দোলনকে গুরুত্বপুর্ণ করতে হবে এবং কনফুসিয়াসের ওপর সমালোচনাকে একীভূত করতে হবে।

লিন পিয়াওয়ের বিষাক্ত প্রভাবকে সমালোচনা করতে আমাদেরকে অবশ্যই কনফুসীয় দোকানকে উচ্ছেদ করতে হবে। কনফুসিয়াস ছিল চীনা ইতিহাসের প্রথম চিন্তাবিদ যে সুব্যবস্থিতভাবে ও সমগ্রভাবে ভাববাদের কথা বলেন। পুরোনো সাথে জড়িত সবকিছুই তার মহিমা কীর্তন করে। লিন পিয়াও হচ্ছে আধুনিক যুগের কনফুসিয়াস। তাই লিন পিয়াওয়ের উপর সমালোচনা আর কনফুসিয়াসের ওপর সমালোচনাকে একীভূত করতে হবে আমাদের মন থেকে কনফুসিয়াসের দোকানকে উচ্ছেদ করতে। দাস ব্যবস্থা থেকে সামন্ত ব্যবস্থার উত্তরণের সময় কনফুসিয়াস বাস করত। সে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনকে ঘৃণা করেছে, একগুঁয়েভাবে দাস ব্যবস্থাকে রক্ষা করেছে আর ইতিহাসের চাঁকাকে থামানোর প্রচেষ্টায় সামন্ত ব্যবস্থাকে বিরোধিতা করেছে। সে লু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সাত দিন পরেই একজন বিপ্লবী শাও চেঙ-মাওকে হত্যা করে। যখন সে দেখতে পেল জান ইউ নামের তার এক ছাত্র বিকাশের চিন্তাধারা গ্রহণ করছে, সে তার কিছু ছাত্রকে প্ররোচিত করে তার উপর আক্রমণ করতে। তাই, সভাপতি মাও বলেছেন, “কনফুসিয়াসের কাজের রীতির সাথে উৎপীড়ক আর ফ্যাসিবাদের কাজের রীতির খুব মিল।” তার বিকৃত কর্মকান্ডের কারণে, তার পদ থেকে তিন মাস পর সে নেমে যায়। যদিও সে দপ্তরে ছিলনা, কিন্তু পুনপ্রতিষ্ঠার জন্য তার হৃদয় কখনো মরেনি। সে তার ভাবধারা সর্বত্র প্রচার করতে লাগলো আর যখনই সে দেখেছে পরিস্থিতি ভালর দিকে যাচ্ছে তখনই সে পরিস্থিতির ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে চিৎকার করে উঠেঃ মালিকানা ধ্বংস হয়ে গেল! সংগীত ধ্বংস হয়ে গেল!” গতকাল পিপলস ডেইলি চে চুনের একটা নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধটি খুব সুন্দরভাবে রচিত। আশা করি আপনারা সবাই এটা যত্নসহ পড়বেন।

কিছু লোকের মার্কসবাদ-লেনিনবাদের প্রতি কোন দরদ নেই কিন্তু চরম দরদে তারা সংশোধনবাদের পেছনে ছোঁটে। তারা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নবজাত জিনিস দেখতে অভ্যস্ত নয়, বরং পুরোনো জিনিসের প্রতি লালায়িত।

সভাপতি মাও বলেছেন, “পুঁজিবাদ আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থা অস্তগামী সূর্য, সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে, আর যে কোন মুহুর্তে প্রাণ ত্যাগ করতে পারে।” অন্যদিকে কমিউনিজম ও কমিউনিস্ট সমাজ ব্যবস্থা সারা দুনিয়ায় বিস্তৃত হচ্ছে প্রবল ঢেউ ও বজ্রের মতো আর সজীবতার চমৎকার তারুণ্যে রয়েছে।“ কেন সাম্যবাদের লক্ষ্যযুক্ত একজন সাম্যবাদী পুরোনো জিনিসের প্রতি লালায়িত হয়? এটা একটা প্রশ্ন যা আজকে উপস্থিত সকল কমরেডকে যত্ন সহকারে অধ্যয়ন করতে হবে।

আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের কমরেডদের আহবান করা মহান সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শুরু থেকে সভাপতি মাও যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলি দিয়েছেন তা অধ্যয়ন করা, আর মার্কসবাদ অনুশীলন কর, সংশোধনবাদ নয়—এর তিন নীতিকে মনে রাখবেন। কেবল সম্প্রতি সভাপতি মাও আমাদের সতর্ক করেন, “কমরেডগণ, সতর্ক হোন! শীঘ্রই চীনে সংশোধনবাদ আবির্ভুত হবে।” তিনি আরো তুলে ধরেন যে কিছু লোক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর জ্ঞান ছাড়াই রাজনীতিকে সমালোচনা করে, আর সামরিক কমিশন না সামরিক না রাজনীতি বুঝে। এই নির্দেশনা প্রযোজ্য সকল এলাকার সরকারী শ্রমিক, সৈনিক ও ছাত্রদের ওপর। তারা আমদের বলে প্রধান প্রধান ঘটনাগুলি অধ্যয়নের জন্য আঁকড়ে ধরতে। সংশোধনবাদ যদি ভবিষ্যতে দেখা যায় তা উপরিকাঠামোতে দৃশ্যমান হবে।

সভাপিত মাও সম্প্রতি এই নির্দেশনাও দিয়েছেন যে আমাদেরকে তিনটি বৃহৎ শৃংখলা ও মনোযোগ দেবার আটটি ধারার গান গাইতে হবে। প্রধানভাবে তিনি চান যে আমরা মনে রাখি যে কেবল ঐক্যই আমাদের বিজয়ে চালিত করতে পারে। সভাপতি মাওয়ের নির্দেশনার ওপর আমাদের একটা সঠিক উপলব্ধি ও ব্যাখ্যা থাকতে হবে যাতে “দশম কংগ্রেস”-এর ভাবমানস এগিয়ে নেয়া যায় আমরা আরো বৃহত্তর সংগ্রামের জন্য আরো ভালভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি।

(শেষ)

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=1541