আইএস বিরোধী লড়াইয়ে কমিউনিস্ট (কুর্দি ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের) নারীরা

PKK-Fighter

মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস বিরোধী লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই নারীরাও। ইরাক ও সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি কুর্দিদের কমিউনিস্ট সশস্ত্র সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি- পিকেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে এ যুদ্ধে। সাজ সরঞ্জাম নিয়ে সম্ভব না হলেও, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আইএস- বিরোধী লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী কুর্দি ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীরা।

ইরাক, ইরান ও তুরস্কের সীমান্ত ঘেঁষা এই পাহাড়ি অঞ্চলেই বেশিরভাগ কমিউনিস্ট পিকেকে যোদ্ধার বসবাস। বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধই একমাত্র উপায় হওয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এ অঞ্চলের নিত্যদিনের দৃশ্য। তারা মূলত তুর্কি সরকার বিরোধী বিদ্রোহী হলেও; এ বছর দেশটির সীমান্ত এলাকায় আইএস-এর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধেও তীব্র লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হয় কমিউনিস্ট পিকেকে সদস্যরা।

BvSdhe3IYAAmbqR
আর এ যুদ্ধে নারীদের ভূমিকাও যে কোনো অংশে কম নয়, তাই ফুটে উঠলো কমিউনিস্ট পিকেকে নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণস্থল ঘুরে বিবিসির তৈরি করা এক প্রতিবেদনে। আইএস বিরোধী লড়াইয়ে কমিউনিস্ট পিকেকে যোদ্ধাদের অবদান ইরাক ও সিরিয় বাহিনীর চেয়ে কোনো অংশেই কম নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দেখতে অতি সাধারণ ও কম বয়সী হলেও আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল শিখতেই তাদের এখানে আসা।

বেরিতান সেলা নামের এই কমান্ডার গত ১০ বছর ধরে এ অঞ্চলে কমিউনিস্ট পিকেকে’র হয়ে লড়াই করে আসছে। বর্তমানে তিনি কুর্দি ও ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

LiveLeak-dot-com-101_1409890684-pkk_1409891624.jpg.resized
কমিউনিস্ট পিকেকের নারী কমান্ডার বেরিতান সেলা বলেন, ‘এখানে যারা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে আসে, তাদের বয়স অনেক কম। প্রশিক্ষণে অংশ নেয়াদের মধ্যে ১৭ থেকে ১৮ বছরের মেয়েরাই বেশি। যে একবার আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়, পরিণত যোদ্ধা হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে সাধারণত আর কোথাও যেতে দেয়া হয় না। প্রশিক্ষণগুলো খুব কঠিন হলেও, ওদের বয়স কম হওয়ায় বিষয়গুলো খুব তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করে ফেলে। আমরা সবাইকে বুঝাই; তোমার যদি কোনো নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য থাকে, তবে একদিন সফল হবেই। কোনো বাধাই তোমাকে দমাতে পারবে না।’

শুধু প্রশিক্ষণই নয়, এর ফাঁকেই চলে খেলাধুলা। তবে খেলাধুলাতেও শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান ও মিত্রপক্ষের সঙ্গে সহাবস্থান সম্পর্কে কৌশল শেখানো হয়ে থাকে।

PPK_-fighter-holds_3286777k
কমিউনিস্ট পিকেকে’র সঙ্গে যোগ দেয়া নারীদের মধ্যে একজন ইয়াজিদি তরুণী আভিন। গত বছর তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তবর্তী সিনজার পর্বত এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে আইএস। দু’মাস বন্দিদশা কাটানোর পর মুক্তি পেলেও, ভুলতে পারেনি বিভীষিকাময় নানা স্মৃতি। আর তাই প্রতিশোধ নিতে এই পথ বেছে নেয়ার কথা জানালো আভিন।

0e7ef118-e7c0-4b7b-b247-c290db1f029b_16x9_600x338
ইয়াজিদি যোদ্ধা আভিন জানান, ‘সিনজার এবং কোবানিতে জঙ্গিরা যা করেছে এবং করছে, আমি তার প্রতিশোধ নিতে যোদ্ধা হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছি। যেসব মা এবং শিশুরা আইএস-এর হাতে বন্দি আছে আমরা তাদের মুক্ত করে আনবো।’

আভিনেরই আরেক বন্ধু আরজিন। জন্ম ও শিক্ষাগ্রহণ দু’টোই জার্মানিতে। নিজ সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর জঙ্গিদের অনাচার সহ্য করতে না পেরে যোগ দিয়েছে কমিউনিস্ট পিকেকের সঙ্গে।

ইয়াজিদি যোদ্ধা আরজিন বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে দেখেছি, ওরা ইয়াজিদিদের সঙ্গে কেমন নৃশংস আচরণ করেছে। আইএস বর্বরতার শিকার হয়েও আভিন যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, তা আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।’

কমিউনিস্ট কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি পিকেকে-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে তুরস্ক সরকার। গত মাসে ইরাক-সিরিয়া সীমান্তে কুর্দি যোদ্ধাদের ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণে তা গুঁড়িয়ে দেয় তুর্কি সামরিক বাহিনী।

এ অবস্থায় কমিউনিস্ট পিকেকের অধিকাংশ প্রশিক্ষণ ক্লাস হচ্ছে মাটির নীচে তৈরি বিশেষ কক্ষে। সংগঠনের আরেকজন নারী কমান্ডার জানালেন যতো বাধাই আসুক, সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে লক্ষ্যে পৌঁছতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

কমিউনিস্ট পিকেকে কমান্ডার নরিন জামশি জানান, ‘আইএস বিরোধী লড়াইয়ে অনেক পক্ষই অংশ নিয়েছে। কিন্তু সবারই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী। আর একজন স্বেচ্ছাসেবক সবার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে এবং নিজের জীবন উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত থাকে। আমরা এমনভাবে যোদ্ধাদের গড়ে তুলি, যাতে তাদের কোনো ভয়, কোনো পিছুটান না থাকে।’

less-photogenic-kurd-women-fighters
কমিউনিস্ট পিকেকে’র সদস্যদের মধ্যে ৪০ শতাংশই নারী যোদ্ধা। তারা উভয়েই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস বিরোধী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ লড়াইয়ে নিয়মশৃঙ্খলা ও আনুগত্য কমিউনিস্ট পিকেকে যোদ্ধাদের সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি বলে জানায় বিবিসি।

তবে সম্প্রতি কুর্দি যোদ্ধাদের অবস্থানে তুর্কি বাহিনীর হামলায় তাদের কঠিন যাত্রা আরও কঠিন হওয়ার পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে।

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.