সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (৫ম পর্ব)

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি বাংলায় প্রকাশ করছে লাল সংবাদ

সাক্ষাৎকারটি প্রতি শনিবার ও বুধবার ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে –

c

comrades-ka7g-621x414livemint

(পঞ্চম পর্ব)

গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে “

ঐক্যবদ্ধ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতি মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন-

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনঃ সরকার দাবী করছে তাদের উন্নত আত্মসমর্পণ নীতিমালা মাওবাদীদের মাঝে সাড়া ফেলেছে এবং তারা আত্মসমর্পণ করছে। সত্যটা কী?

গণপতিঃ আত্মসমর্পণ নীতিমালা বলতে তারা কী বোঝায়? আপাতদৃষ্টিতে তারা বোঝায় আরো অর্থ, আরো পুনর্বাসন প্যাকেজ। এগুলো জনসাধারণকে বোঝানোর জন্য। বেশি অর্থ বা ভালো পুনর্বাসনের কারণে আত্মসমর্পণ বৃদ্ধি পায়নি। এর দুটো কারণ আছে। অধিকারের জন্য লড়াইরত আদিবাসীদের ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের নৃশংসতম সরকারগুলোর মধ্যে একটি আর তারা যদি সিপিআই (মাওবাদী) এর অধীনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তাদের উপর যে পরিমাণ নিষ্ঠুরতার বোঝা চাপানো হয় তা ভাষায় বলে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সাম্রাজ্যবাদপন্থী নীতিমালা বিরোধী প্রতিরোধকে গুঁড়িয়ে দিতে রাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের দমনমূলক পদ্ধতির আশ্রয় নিচ্ছে আর আত্মসমর্পণ নীতিমালাও তার মধ্যে একটি।

কেউ বিপ্লবী কার্যক্রমে জড়িত হোক আর না হোক, যেসব এলাকায় আন্দোলন চলছে সেসব এলাকায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী রক্তপায়ী নেকড়ের মতো জনগণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তবে এর প্রধান লক্ষ্যবস্তু তারা, যারা প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত; তাদের উপর ভয়ংকর নির্যাতন, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি ধ্বংস, মনস্তাত্বিক যুদ্ধ, হুমকি (পঙ্গু বা হত্যা করার হুমকি এবং বাস্তবে তা করা) ইত্যাদি সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করে তাদের অনেককে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হচ্ছে। গণ আত্মসমর্পণের পিছনে এটাই দায়ী আর পুলিশ একে গণমাধ্যমের সামনে উন্মত্ততার সাথে ও উদ্ধতভাবে তুলে ধরছে। তিন চতুর্থাংশের বেশী আত্মসমর্পণ এই শ্রেণীর। আর অন্য ধরনের আত্মসমর্পণ যারা করে তারা হল পার্টি, PLGA ও গণ সংগঠনের কিছু ব্যক্তি যারা শত্রুর কাছে নতজানু হচ্ছে। হ্যাঁ, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের আত্মসমর্পণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে যাদের ভেতর নেতৃত্ব পর্যায়েরও (রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি ও এলাকা কমিটি পর্যায়ের) কয়েকজন রয়েছে।

শত্রু যখন নতুন ভাবে আক্রমণ চালায় এবং নিষ্ঠুর দমন পীড়ন যখন নজীরবিহীন পর্যায়ে চলে যায়, তখনই নতুন ধরনের আত্মবলিদানের প্রয়োজন দেখা দেয়। এই ধরনের সময় যখন যায় তখন সবসময় কিছু দুর্বল উপাদান থাকে যারা আন্দোলন ত্যাগ করে চলে যায় কিংবা শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এখনও তাই ঘটছে। সরকারের কথিত উন্নত আত্মসমর্পণ নীতিমালার কিছু প্রভাব হয়তো পড়েছে। কিন্তু তা খুবই নগন্য এবং এটা কখনো কারণ হতে পারে না। এই ধরনের আত্মসমর্পণের প্রথম কারণও হল শত্রুর নৃশংস হামলা। শুধু তাই না, আত্মসমর্পণের পরেও শ্রেণী ও পারিবারিক পটভূমি অনুযায়ী রাষ্ট্র ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে ভিন্নভাবে দেখছে। কিন্তু তাদের সকলকে জনগণের কাছে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে হাজির করার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোন ভিন্নতা নেই। তাদের কাছ থেকে তথ্য আদায় করতে রাষ্ট্র সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করছে, তাদেরকে ভাড়াটে কর্মী হিসেবে ব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আরো ভয়ংকর হামলায় তাদেরকে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করছে। সুতরাং, যারা সরলভাবে মনে করছে যে ‘মূলধারায়’ ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে, একটা ‘সুন্দর জীবন’ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য রাষ্ট্র আত্মসমর্পণ নীতিমালা গ্রহণ করেছে, তাদের বোঝা উচিৎ যে ‘জনগণের উপর যুদ্ধ চালানোর’ একটি  অংশ ছাড়া আত্মসমর্পণ আর কিছুই নয়। এর লক্ষ্য হল আন্দোলনকে দুর্বল করে দিয়ে তাদেরকে বিশ্বাসঘাতকে পরিণত করে যুদ্ধকে তীব্রতর করা।

আত্মসমর্পণের দ্বিতীয় কারণ হল কিছু ব্যক্তি শত্রুর দমননীতির গতি প্রকৃতি এবং আন্দোলনের কিছু ক্ষণস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতি বুঝতে সক্ষম হচ্ছেনা; ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। কারো কারো ব্যক্তিগত দুর্বলতাও আরেকটি কারণ। এই সমস্যাগুলোর সমাধান হল- সকল পর্যায়ের ক্যাডারদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রতিশ্রুতি গড়ে তুলতে হবে, শত্রুর মনস্তাত্বিক যুদ্ধের বিপরীতে আরো দুরূহ লড়াই চালাতে হবে এবং ক্যাডারদের বোঝাতে হবে আত্মসমর্পণ করার অর্থ নিজেদের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা, কাজেই এটা কোন সমাধান নয়। পার্টির বর্তমান বলশেভিকীকরণ প্রচারণায় এই বিষয়টি নিয়েও কাজ চলছে। আর যে বিষয়টি আমি জোর দিয়ে বলতে চাই তা হল অপারেশন গ্রিন হান্টের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বিপ্লবী ক্যাডার ও জনগণের অতুলনীয় আত্মবলিদানের ঘটনা ঘটেছে কারণ প্রথমত, জনগণ তাদের অপরিহার্যতা উপলব্ধি করেছে ও দ্বিতীয়ত, তারা উঁচু মাপের সচেতনতার মধ্য দিয়ে এই আত্মবলিদানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে।

মনস্তাত্বিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে শত্রুরা নিশ্চিতভাবেই কেবল আত্মসমর্পণকে সামনে তুলে ধরবে এবং আত্মত্যাগকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করবে। বিপ্লবী প্রচারণা যুদ্ধে এই বিষয়টিকে কার্যকরীভাবে আমাদের তুলে ধরতে হবে। যতদিন বিপ্লবী যুদ্ধ চলবে, ততদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলবে। সুতরাং, যতদিন পর্যন্ত এই বর্বর শাসন ব্যবস্থা উৎখাত না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত কিছু আত্মসমর্পণ ঘটবে আর কিছু সময়কালে এর সংখ্যা কম বেশী হতে পারে। সমগ্র পার্টি ও আন্দোলন চলমানরত সব এলাকায় বিপ্লবের স্বার্থে স্বেচ্ছায় আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়েই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ সহ সকল পর্যায়ের আত্মত্যাগের ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং যে কোন বিপ্লবের জন্য এগুলো অপরিহার্য।

(চলবে)

Advertisements

One Comment on “সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (৫ম পর্ব)”

  1. manus ke sange nia samjaj seba mulok kajer madhame tader chetonay than karte habe samik ra nijeder hospital school nijeder bank gare tulte habe ai liberral economyr sathe palla dite gele tabe sabo sankhok lokke andolonmukhi kara jabe nay biplab manuser kache intangible assest operer karmakando dia take tangable karte habe thon agulo abar jakhon sasak bhagar chesta karbe takhon i ai guli nijeder rakhar dabite ghure darabe ata amar math

    Like


Leave a Reply to arijit dey and moutusi dey Cancel reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.