সিরাজ সিকদার: এক অপূর্ণ বিপ্লবীর জীবনগাঁথা

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কমরেড সিরাজ সিকদার

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কমরেড সিরাজ সিকদার

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতি: সিরাজ সিকদারের রাজনৈতিক জীবনের শুরু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং ১৯৬৬ সালে বুয়েটে শেরে বাংলা হলের নির্বাচিত সহ-সভাপতি হিসেবে। প্রথম জীবনে তিনি তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির (হক-তোয়াহা) সাথে যুক্ত ছিলেন। কিন্ত হক-তোয়াহার রাজনৈতিক লাইনকে ভুল আখ্যায়িত করে তিনি সে পার্টি ত্যাগ করে, ১৯৬৭ সালে ঢাকার মালিবাগে “মাওসেতুং চিন্তাধারার গবেষনা কেন্দ্র” স্থাপন করে মাওসেতুং তথা মার্কসীয় দর্শন অধ্যয়নের একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। সে সময়ে দেশের অন্য কমিউনিস্ট ও বামপন্থীরা এ ধরনের গবেষনা কে টেস্টটিউব গবেষনা বলে বিদ্রুপ করতেন এবং সিরাজ সিকদারের দানা বেধে উঠা পার্টি প্রক্রিয়াকে টিটি (টেস্ট টিউব) বলে অভিহিত করতেন। মজার তথ্য হলো, সে কেন্দ্রটি তৎকালীন তথাকথিত জামাতদের চাপে পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ করে দেয়। তথাকথিত জামাতিরা তাদের শত্রু চিনতে ভুল করেনি। (সুত্র: বাংলাপেডিয়া: সিরাজ সিকদার)। সৈয়দ আবুল মকসুদকেও সিরাজ সিকদার একথা বলেছিলেন বলে মকসুদ একটি নিয়মিত কলামে উল্লেখ করেছিলেন।

রাজনৈতিক কার্যকলাপ: কিন্তু সিরাজ সিকদার সে সময়ে সঠিকভাবে মার্কসীয় আলোকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রথম দলিল প্রকাশ করে বামপন্থী মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। আগ্রহী ও অগ্রসর পাঠকেরা ইংরেজীতে অনুদিত তার দলিলটি পড়তে পারেন।

১৯৬৮’র ৮ই জানুয়ারী সিরাজ সিকদার পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির মূল প্রস্তুতি সংগঠন পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৮ সালেই সিরাজ সিকদার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তানের উপনিবেশ এবং সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে জাতীয় গনতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে একটি স্বাধীন, প্রগতিশীল এবং সমাজতান্ত্রিক পুর্ব বাংলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। (সিরাজ সিকদারের দলিল)। এই সালেই তাঁর পার্টির গেরিলারা ঢাকাতে জাতীয় পূনর্গঠন কেন্দ্রে (NBR), পাকিস্তান কাউন্সিলে এবং আমেরিকান তথ্যকেন্রে বোমা আক্রমন চালিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। ১৯৬৯ সালে পুর্ব বাংলার ছাত্র-গন আন্দোলনে শ্রমিক আন্দোলনের কর্মীদের সাহসী ভুমিকা বামপন্থী মহলে প্রশংসা অর্জন করে।

১৯৭০ সালের ৩রা ডিসেম্বর পল্টনে মওলানা ভাসানীর জনসভায় পুর্ব বাংলার জাতীয় গনতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার আহ্বান সংবলিত লিফলেট এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন পুর্ব বাংলার পতাকা বিতরন করে। সে পতাকাটি, সিরাজ সিকদারের অনুসারীদের ভাষায়, এখনকার বাংলাদেশের পতাকা যার ডিজাইন করেছিলেন শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় কর্মী অবাঙ্গালী আজমী (সুত্র: ব্লগে)। [আমিও সে লিফলেট ও পতাকা দেখেছি, তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছিনা।]

স্বাধীনতা যুদ্ধ ও সিরাজ সিকদার: ১৯৭০ সালের শেষের দিকে সিরাজ সিকদার তাঁর কেন্দ্রীয় কার্যালয় বরিশালের পেয়ারা বাগানে স্থানান্তর করেন এবং একটি বাহিনী গড়ে তুলতে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭১ সালের ৩রা জুন সিরাজ সিকদার আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ, একটি পূর্নাঙ্গ কমিউনিস্ট পার্টি, পুর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। অতিদ্রুত সেই বাহিনী বরিশাল, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ সহ পূর্ব বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিকাশিত হয়ে পাকিস্তানীদের দুঃশ্চিন্তার কারন হয়ে দা্ঁড়ায়। পাকিস্তানি সেনা বাহিনী গান বোট এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করেও সিরাজ সিকদারের মূল ঘাটি ভাঙ্গতে ব্যর্থ হয়ে, হাজার হাজার বাঙ্গালীকে বন্দুকের মুখে পেয়ারা বাগান কাটাতে বাধ্য করে। এই সময়েই সিরাজ সিকদার তাঁর অত্যন্ত বিখ্যাত দলিল, “ছয় পাহাড়ের দালালদের নির্মূল করুন” শীর্ষক দলিল ও প্রচারনাপত্র রচনা করেন। সে দলিলে তিনি সঠিকভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিনতি নিয়ে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবানী করেন। যা সত্য বলে প্রমানিত হয়েছিলো। ১৯৭১ এর আগস্ট মাসে সিরাজ সিকদারের নেতৃস্থানীয় সহযোগী আজমীকে আলোচনার কথা বলে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। আজমীর স্মরণে সিরাজ সিকদার একটি কবিতায় বলেছেন, “উত্তর প্রদেশ থেকে এসে তুমি হলে বাংলার বেথুন”!! এরপরেই মুজিব বাহিনীর প্রতিআক্রমনে সর্বহারা পার্টি যুগপৎ পাকিস্তানি বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়।

সিরাজ সিকদারের স্বাধীনতা পরবর্তী ভুমিকা: স্বাধীনতার পরে পরে সিরাজ সিকদার ১৮টি দাবী সংবলিত একটি লিফলেট শেখ মুজিবকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশ ও প্রচার করেন। সেখানে দেশপ্রেমের প্রমান দিতে সেই ১৮টি দাবী (যার মূল সুর ছিলো ভারতীয় সম্প্রসারনবাদের কবল থেকে মুক্তি) পূরনের আহ্বান জানান। অতি স্বাভাবিকভাবেই শেখ মুজিব বা সরকার এ লিফলেটের কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। এরপরেই সিরাজ সিকদার শেখ মুজিবকে ভারতের দালাল ও বাংলাদেশকে ভারতের উপনিবেশ বলে রাজনৈতিক প্রচারনা শুরু করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর প্রধান দাবীগুলোর মধ্যে যা জনপ্রিয়তা অর্জন করে তা হলো, ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক নিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অস্ত্র ফেরত আনার দাবী, আওয়ামী লীগের একাংশের নির্বিচার লুন্ঠন এবং সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসননীতির বিরুদ্ধে। একই সাথে সর্বহারা পার্টির গেরিলারা ৭৩-৭৪ সালে ১৪টি থানা এবং ৭৯টি পুলিশ ফাঁড়ি লুট করে অত্যন্ত শক্তিশালী সশস্ত্র কমিউনিস্ট পার্টিতে পরিনত হয়। ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে সর্বহারা পার্টি ১৬ই ডিসেম্বরকে কালো দিবস আখ্যা দিয়ে দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করে এবং গ্রামাঞ্চলে ও অনেক ছোট শহরে সে হরতাল পালিত হয়। (সিরাজ সিকদার তাঁর “ছয় পাহাড়ের দালালদের নির্মূল করুন” শীর্ষক প্রচারপত্রে পাকিস্তানীদের পরাজয় এবং ভারতের সহযোগিতায় অর্জিত জয়কে বাংলাদেশের জনগনের উত্তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পতনের তুল্য হবে বলে ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন। তিনি ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছিলেন সে সীমান্ত লোপ পাবে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ভারত কর্তৃক বাধাগ্রস্থ হবে এবং বাংলাদেশের সরকার ভারতের অনুগত হবে )। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে কমরেড মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে পদচ্যুত লে. কর্ণেল জিয়াউদ্দিনের পরিচালনায় একটি কোম্পানী সৃস্টি করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থান কালে সিরাজ সিকদার তাঁর আশাবাদী মনের পরিচয় রেখে একটি কবিতায় লিখেছেন, “…পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে যায় মুরং তরুনী। অঙ্গে তার ছোট্ট আবরনী, কী নিটোল স্বাস্থ্যবতী। কবে তার কাঁধে শোভা পাবে রাইফেল একখানি?”

গ্রেফতার ও হত্যা: ১৯৭৪ সালের ৩০শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামে গ্রেফতার হয়ে সিরাজ সিকদার ঢাকায় আনীত হন এবং ২রা জানুয়ারী ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তর সাভারে সাজানো বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

ভুল-ত্রুটি নিয়েও একটি কমিউনিস্ট আন্দোলনকে সাফল্যের সাথে সিরাজ সিকদার এগিয়ে নিয়ে গেছেন। কমরেড সিরাজ সিকদার জিন্দাবাদ।

সূত্রঃ http://blog.bdnews24.com/Bang_la/142111

Advertisements

হুগো শ্যাভেজ প্রসঙ্গে মার্কিন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির(RCP) মুখপত্রের বক্তব্য

417506_497782526945569_1776597560_n

২০১৩ সালের ৫ মার্চ তারিখে দীর্ঘ দুই বছর ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে অবশেষে হার মেনেছিলেন ল্যাটিন আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং ‘একুশ শতকের সমাজতন্ত্রে’র প্রবক্তা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো রাফায়েল শ্যাভেজ ফ্রিয়াস। ১৯৫৪ সালে ভেনেজুয়েলার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাবানেতায় জন্মগ্রহণ করা শ্যাভেজ সামরিক অ্যাকাডেমি থেকে পড়াশোনা শেষ করে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে পেরেজ সরকারকে উৎখাতের জন্য এক ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা চালান। দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ শেষে ১৯৯৪ সালে বেরিয়ে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে ‘ফিফথ রিপাবলিক মুভমেন্ট’ নামে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আরোহণ করেন এবং দেশটির জন্য নতুন সংবিধান প্রণয়ন করেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক মানুষের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য খনিজ সম্পদ সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি জাতীয়করণ করেন। দেশব্যাপী জনপ্রিয়তার কারণে তিনি এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই জয়লাভ করেছেন। ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে সিআইএ-এর গোপন চক্রান্তে এবং দেশীয় কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং প্রচার মাধ্যমের সহায়তায় একটি সামরিক ক্যু সংঘটিত হয়। ব্যবসায়ী নেতা পেদ্রো কারমোনা শ্যাভেজকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৯ সালের সংবিধান রহিত করেন। কিন্তু জনগণের বিপুল সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে মাত্র দুই দিনের মাথায় হুগো শ্যাভেজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর ভেনেজুয়েলার শাসন ব্যবস্থায় তার কর্তৃত্ব অনেকটা নিরঙ্কুশ হয়।

অনেকেই বলছেন তার মৃত্যুতে বিশ্বে ভেনেজুয়েলার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে একটা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। আবার অনেকের মতে, তার মৃত্যু এই লড়াইকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে না, উত্তরসূরী অন্য নেতারা তার আদর্শকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। ব্যক্তির মৃত্যুতে আদর্শের মৃত্যু হয় না। এই প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি তাদের মুখপত্র ‘রেভোলিউশনে’ গত ৬ মার্চ, ২০১৩ হুগো শ্যাভেজ প্রসঙ্গ: বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে প্রদত্ত বক্তব্য নিচে বঙ্গানুবাদ করে উপস্থাপন করা হলোঃ

হুগো শ্যাভেজ, যিনি গত ১৪ বছর ধরে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন, গত ০৫ মার্চ মঙ্গলবার ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। ‘রেভোলিউশন’ পত্রিকা হুগো শ্যাভেজ, তার কর্মকাণ্ড, দৃষ্টিভঙ্গি এবং শাসন ব্যবস্থার ওপর একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করবে। পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে শ্যাভেজের আমলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ও রাজনীতি এবং তার বিষয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অবস্থান-সংক্রান্ত চারটি বিষয় আমরা উপস্থাপন করছি।

১. মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধীন ভেনেজুয়েলা 

পুরো বিশ শতকজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। তারা দেশটির বৃহৎ ভূমি, শিল্প ও বাণিজ্য-স্বার্থের রক্ষক শাসক শ্রেণীকে সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা প্রদান করেছে। ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে তেল সম্পদ সব সময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বের মধ্যে তেল উত্তোলনকারী দেশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার উত্থান ঘটে এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থ সেখানকার তেলক্ষেত্রের সাথে গভীরভাবে জড়িত হয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ভেনেজুয়েলার ওপর এক ভয়াবহ নির্মম পরিকল্পনা চাপিয়ে দ্যায়। (পেট্রোলের ওপর থেকে ভর্তুকি তুলে দেয়া হয়। ফলে পেট্রোলের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে যায়।- অনুবাদক) জনগণ রাস্তায় নেমে এসে জঙ্গি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তৎকালীন সরকার ৩,০০০ মানুষ হত্যা করে এই প্রতিরোধের রক্তাক্ত জবাব প্রদান করে।

২. হুগো শ্যাভেজ, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পথের কাঁটা  

হুগো শ্যাভেজ ১৯৯৮ সালে ভেনেজুয়েলার দুর্নীতি, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন এবং সাম্রাজ্যবাদের তাবেদারির বিরুদ্ধে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্টতই ঘোষণা দেন ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা সে দেশের জনগণের এবং তেল রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আয় সামাজিক কল্যাণমূলক খাতেই ব্যয়িত হবে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলার উপযুক্ত পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। এসব কারণে হুগো শ্যাভেজ তার দেশে বিপুল জনসমর্থন লাভ করতে সমর্থ হন। অন্যদিকে একই কারণে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তাকে নিজেদের পথের কাঁটা হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে। ২০০২ সালের এপ্রিলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর চক্রান্তে ভেনেজুয়েলাতে এক সামরিক ক্যু ঘটে। শ্যাভেজের সমগ্র শাসনকালেই মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সাহায্যদাতা সংস্থা, সামরিক উপদল, ব্যক্তিমালিকানাধীন দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং প্রচার মাধ্যম ভেনেজুয়েলায় শ্যাভেজ-বিরোধী শক্তি গড়ে তোলার পেছনে কাজ করে যায়।

৩. হুগো শ্যাভেজ প্রকৃত বিপ্লব অথবা সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারী ছিলেন না 

তৃতীয় বিশ্বের একটি শোষণমূলক ব্যবস্থার অধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভেনেজুয়েলাতে দুইস্তর-বিশিষ্ট পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল। সাম্রাজ্যবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতির সাথে সম্পর্ক বিযুক্ত করার জন্য প্রয়োজন ছিল মৌলিক পরিবর্তনের। এছাড়া প্রয়োজন ছিল একটি মৌলিক সামাজিক বিপ্লব, প্রথাগত সম্পর্ক ও ধ্যানধারণার সাথে সম্পর্ক বিযুক্ততার ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন। কিন্তু তা শ্যাভেজের কর্মসূচি অথবা দৃষ্টিভঙ্গি কোনোটির মধ্যেই ছিল না। ভেনেজুয়েলা তেল রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের ওপরই নির্ভরশীল থেকে যায়, আর আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্য তো সাম্রাজ্যবাদেরই নিয়ন্ত্রণাধীন। এছাড়া ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি তার খাদ্যের যোগানের জন্য বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভর করে, যা কিনা আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী কৃষি-বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কিত। একথা ঠিক যে শ্যাভেজের অধীনে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু শ্রেণী ও সমাজ কাঠামোয় কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় নি। সংখ্যায় ক্ষুদ্র কিন্তু একচেটিয়া ক্ষমতার অধিকারী অত্যন্ত ধনী ভূমিমালিকদের হাতে কৃষি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ রয়ে গেছে। শহরের দরিদ্র নাগরিকেরা ঝুপড়ি অথবা কুঁড়েঘরে বসবাস করতে বাধ্য হন। নারীকে এখনো পুরুষের অধীন করে রাখা হয়, অবমূল্যায়ন করা হয়। সেখানে গর্ভপাত এখনো আইনত নিষিদ্ধ।

৪. ভেনেজুয়েলার ব্যাপারে নাক গলানোর কোনো অধিকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেই 

ভেনেজুয়েলার সরকারকে অস্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রচেষ্টা অথবা চক্রান্তের আমরা বিরোধিতা করি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে এই বোঝাপড়ার ওপরেই আমাদের কর্তব্য পালন করতে হবে।

সূত্রঃ https://www.facebook.com/notes/497404363650052/


তুরস্কে কমিউনিস্ট ‘পিকেকে’ গেরিলাদের হামলায় ৪ পুলিশ নিহত

n_87907_1

তুরস্কে কমিউনিস্ট কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) গেরিলা যোদ্ধাদের হামলায় দেশটির অন্তত চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় দোগান নিউজের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার সিনহুয়া এ খবর দিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, মার্দিন প্রদেশের দার্গেচিট জেলার একটি স্কুল ভবনের পাশে বিস্ফোরক পুঁতে রাখে পিকেকে যোদ্ধারা। ওই ভবনের পাশ দিয়ে একটি পুলিশের গাড়ি যাওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। এতে ওই চার পুলিশ সদস্য নিহত হন।

হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের ওপর পিকেকে’র হামলার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি তুরস্কের নিরাপত্তাবাহিনী সংগঠনটির বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু করেছে তাতে দেশটির পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পৃথক রাষ্ট্রের দাবিতে ১৯৮৪ সালে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় কমিউনিস্ট পিকেকে। এরপর থেকে দুই পক্ষের (পিকেকে-নিরাপত্তাবাহিনী) হামলায় ৪০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে। ২০১২ সালে দুইপক্ষের মধ্যে অস্ত্রবিরতি হলেও সম্প্রতি তা ভেঙ্গে যায়। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কমিউনিস্ট সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সূত্রঃ http://www.hurriyetdailynews.com/pkk-attack-kills-four-police-officers-in-southeast-turkey.aspx?pageID=238&nID=87907&NewsCatID=341


ভারতঃ পুলিশের গুলিতে মৃত মাওবাদী গেরিলা নারী

Maoist_AFP
মুম্বাই:
শুক্রবার মহারাষ্ট্রের ধানোরা, গাদচিরোলি অঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে এক মাওবাদী গেরিলা নারীর। প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আগাম খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার ধানোরা অঞ্চলে হানা দেয় পুলিশ ও মহারাষ্ট্রের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার গুলির লড়াই চলে বলে জানায় পুলিশ। এতে মৃত্যু হয় এক মাওবাদী নারীর। মৃত মাওবাদী গেরিলার নাম এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/1-woman-naxal-killed-in-an-encounter.html


ভারতঃ কর্ণাটকে তিনটি মাওবাদী নিধন স্কোয়াড গঠনের সিদ্ধান্ত

maoists-naxals-expanding-in-south

মাওবাদীদের কার্যক্রম রোধ করতে কর্ণাটক রাজ্যের কেরালা ও তামিলনাড়ু সীমান্তে তিনটি মাওবাদী নিধন স্কোয়াড (Anti Maoist Squad) গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কর্ণাটকের কেবিনেট।

সূত্রঃ http://www.thehindu.com/todays-paper/tp-national/tp-karnataka/three-antinaxal-squads-for-state/article7601965.ece


কলকাতাঃ রাজবন্দীদের দৃঢ়তায় নত হল কারা কর্তৃপক্ষ

11911049_10207634939657451_992281949_n

ar

অনশনরত রাজবন্দীদের সাথে আলোচনার পর তাঁদের দৃঢ়তার কাছে হার স্বীকার করে বেশ কিছু দাবী জেল কর্তৃপক্ষ মেনে নেওয়ার পর আজ দুপুরে অনশন তুলে নিয়েছেন প্রেসিডেন্সী জেলে আন্দোলনরত রাজবন্দীরা । বারবার ‘জেল ট্রান্সফার’এর বিষয়ে ‘আই.জি কারা’ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশের কথা বলছেন । জেল ট্রান্সফার বন্ধ করা, রাজনৈতিক বন্দীদের অধিকার রক্ষা ও রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে জারি থাকবে আন্দোলন ।

বন্দীমুক্তি কমিটি