বীর কুর্দি নারী গেরিলা রেহানা

rehana

সশস্ত্র সংগঠন ইয়েকিনিয়ান পারাসতিনা জিন বা নারীদের সুরক্ষা ইউনিট (ওয়াইপিজে)। সংগঠনটির সবাই নারী। আইসিস যখন ইরাক থেকে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে তখন সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে ছোট ছোট যোদ্ধা দল সংগঠিত হতে থাকে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সংগঠিত নারীদের সুরক্ষা ইউনিট নামে দলটি আইসিসের হাত থেকে স্থানীয়দের সুরক্ষা দিতে লড়ে যাচ্ছে। এই দলটিরই সবচেয়ে সাহসী এক যোদ্ধার নাম রেহানা। এই তরুণী একাই কমপক্ষে একশ আইসিস যোদ্ধাকে হত্যা করেছেন।

সিরিয়ায় আইসিস অনুপ্রবেশের পর থেকেই রেহানাদের দলটি সক্রিয়। কিন্তু রেহানা পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর শিরোনামে আসেন আইসিস যখন সিরিয়ার সীমান্ত শহর কোবান আক্রমণ করে। এই সময় ওয়াইপিজে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং রেহানার অস্ত্র হাতে শান্তির প্রতীক দেখানো ছবি ভার্চুয়াল জগতে ঝড় তোলে। তার ওই ছবি গত বছর কমপক্ষে পাঁচ হাজারবার রিটুইট হয়েছে।

এই ঘটনার পরপরই কিছু পত্রিকা দাবি করে, রেহানাকে আইসিস শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেছে। তবে তার এক ঘনিষ্ট বন্ধু জানান, রেহানা আইসিসের হাত থেকে অক্ষত অবস্থায় পালিয়ে এসেছেন। তিনি এখন কোবানের বাইরে এবং নিরাপদেই আছেন। রেহানা অত্যন্ত দক্ষ একজন গুপ্তঘাতক এবং নিজ শহরকে আইসিসের হাত থেকে রক্ষায় লড়ে যাচ্ছেন।

অবশ্য রেহানার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এরকম কিছু সাংবাদিক তার একাই একশ আইসিস হত্যার গল্প উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে অনেকে বিশ্বাস করেন, তাকে আইসিসের রোষ থেকে বাঁচানোর জন্যই সাংবাদিকরা আইসিস হত্যার গল্পটিকে মিথ্যা বলে প্রচার করছে।

ইংরেজি গণমাধ্যমগুলোতে রেহানার দল এখন ‘গার্ল উইথ গানস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এরা এখন মধ্যপ্রাচ্যে নারীদের ভাবমূর্তি সম্পর্কে বিশ্বকে নতুন ধারণা দিচ্ছে। এছাড়া যেখানে ইউরোপ আমেরিকা ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল থেকে নারীরা যৌনযুদ্ধের জন্য আইসিসে যোগ দিচ্ছে অথবা আইসিসের আস্তানায় ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার বীভৎস গল্পে পত্রপত্রিকা ভারাক্রান্ত তখন রেহানাদের এই প্রতিরোধ যুদ্ধ অনন্য এক প্রেরণা হয়ে সামনে এসে হাজির হয়েছে।

কুর্দি প্রতিরোধ বাহিনীর প্রতীকে পরিণত হয়েছেন রেহানা। আর এতে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় ১০ হাজার কুর্দি নারী ওয়াইজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তারা আইসিসকে সীমান্ত থেকে খেদিয়ে বিদায় করতে লড়ে যাচ্ছে।

তবে আইসিসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড় সাহসী নারীর গল্প এটি একমাত্র নয়। এর আগে গত বছর আরি মিরকান নামে এক তরুণী কোবানের কাছে আত্মঘাতি এক হামলায় ১০ আইসিস যোদ্ধাকে উড়িয়ে দেয়। এতে করে বেঁচে যায় তার গ্রাম।

সূত্রঃ http://www.latestbdnews.com/rehana-alone-killed-100-fighters-from-isis/

Advertisements

কমিউনিস্ট পিকেকে’র হামলায় ১৫ তুর্কি সেনা নিহত

pkk-seizes-control-from-isis-88288ypg871

পিকেকে গেরিলারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে

পিকেকে গেরিলারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে

কমিউনিস্ট কুর্দি ওয়ার্কাস পার্টি বা পিকেকে বলেছে, তাদের গেরিলাদের হামলায় তুরস্কের অন্তত ১৫ সেনা নিহত হয়েছে। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় হাক্কারি প্রদেশের দাগালিকা শহরের কাছে একটি সামরিক বহরে এ হামলা চালানো হয়েছিল।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে পিকেকে। এ ছাড়া, তুর্কি সেনাবাহিনীর বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও হাতিয়ে নেয়ার দাবি করেছে পিকেকে। তুর্কি সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে কিছুই বলে নি।

টেলিভিশন ভাষণে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, “দু’টি সাঁজোয়া গাড়িতে এ হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় স্থল মাইন ব্যবহার করা হয়েছে।” তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনী এর জবাব দেবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

হামলার পর তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাউদওগ্লু দেশটির অন্য একটি শহর সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত রাজধানী আংকারায় ফিরে আসেন। অবশ্য এ নিয়ে কোনো বিবৃতি দেন নি তিনি।

এদিকে, তুরস্কের জঙ্গি বিমানগুলো পিকেকে’র অন্তত ১২টি অবস্থানের ওপর প্রতিশোধ হামলা করেছে। হামলায় এফ-৪, এফ-১৬ বিমান অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাতোলি।

সুত্রঃ http://www.aljazeera.com/news/2015/09/turkish-soldiers-killed-pkk-attack-150906195754937.html


বাংলাদেশঃ ‘বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের’ ঢাকা মহানগর কমিটি গঠিত

images2

গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ঢাকা মহানগর ‘বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের’ দিনব্যাপী প্রতিনিধি সভার মধ্য দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে ও গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার নির্মল সেন অডিটরিয়ামে ছাত্র-যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে দিনব্যাপি এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আহনাফ আতিফ অনিককে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ঢাকা মহানগর কমিটি গঠিত হয়।

ঘরোয়া সভা শেষে একটি মিছিল পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত পথ সভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নয়া গণতান্ত্রিক গনমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন ও বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ঢাকা নগরের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা আওয়ামী মহাজোট সরকারের গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান একই সাথে সরকারের ফ্যাসিবাদী তৎপরতার অংশ হিসেবে বিচার বহির্ভূতভাবে রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড ও অগণতান্ত্রিক কায়দায় মিছিল-মিটিং-সভা-সমাবেশে বাঁধা প্রদান ও সকল ধরণের মত প্রকাশের উপর বিধি নিষেধের তীব্র নিন্দা জানান।তারা আরও বলেন গণবিরোধী এ সরকার বা শাসন ব্যবস্থা থেকে জনগণের সার্বিক মুক্তির জন্য মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের ভিত্তিতে বিপ্লবী সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।এ লক্ষ্যে ধনিক শ্রেণির ধোঁকাবাজির নির্বাচন নয়,বল প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিপ্লবী রাজনীতির প্রচার-প্রসারে ছাত্র সমাজকে আজ দায়িত্ব নিতে হবে।


পেরু কমিউনিস্ট পার্টির(পিসিপি) মৌলিক দলিলঃ গণতান্ত্রিক বিপ্লব

images

[পিসিপির একটি মূল্যবান মৌলিক দলিলঃ গণতান্ত্রিক বিপ্লব প্রকাশিত হল। এটি পিসিপির ১ম কংগ্রেসের দলিল যা ১৯৮৮তে প্রকাশিত হয়।

এ দলিলে চেয়ারম্যান গনজালো কৃত পেরুর আর্থ-সামাজিক অবস্থার সুগভীর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হাজির করা হয়েছে, অন্যদিকে চেযারম্যান মাওয়ের নয়া গণতন্ত্র সম্পর্কিত থিসিসেরও বিকাশ সাধিত হয়েছে।

আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ সংক্রান্ত চেয়ারম্যান গনসালোর তত্ত্ব প্রণিধানযোগ্য। পিসিপি মনে করে চেয়ারম্যান মাওয়ের এ তত্ত্বকে পুনরাবিষ্কার ও বিকশিত করার মাধ্যমে চেয়ারম্যান গনসালো বিশ্ব বিপ্লবে একটি মৌলিক অবদান রেখেছেন। পিসিপি ষাটের দশকে নয়া সংশোধনবাদীদের উত্থাপিত ‘নয়াউপনিবেশ’ সূত্র প্রত্যাখান করে বলেছে এটি ‘নরম শোষণ’, ‘নির্ভরশীল দেশ’, ইত্যাদি ভ্রান্ত লাইনে চালিত করে। বরং পিসিপি উপনিবেশ কীভাবে আধা উপনিবেশে রূপান্তরিত হয় তা দেখিয়েছে। অপরদিকে সামন্তবাদের আধা-সামন্তবাদে রূপান্তর সংক্রান্ত পিসিপির তত্ত্বে একটুও প্রাচীনপন্থার গন্ধ পাওয়া যায়না, এ এক আধুনিক চিন্তা চেতনা। আমাদের দেশের বিভিন্ন আকৃতির সংশোধনবাদী মতাবস্থান যেমন ‘বিকৃত পুঁজিবাদ’, ‘প্রাচীন সামন্তবাদ’ ইত্যাদি থেকে এসব মূলগতভাবেই পৃথক। পিসিপি ভুমি বিপ্লবকে গ্রামাঞ্চলের শ্রেণীসংগ্রামের মটর বা চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জাতীয় প্রশ্ন ও ভুমি সমস্যাকে দুটি ঝুলন্ত সমস্যা হিসেবে দেখেছে। পিসিপি বলছেঃ “… সমকালীন পেরু হচ্ছে একটি আধা সামন্তবাদী ও আধা উপনিবেশিক সমাজ যেখানে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ বিকাশ লাভ করে।” আমাদের দেশের সভাপতি সিরাজ সিকদারের পথ নির্দেশক চিন্তাধারার সাথে এসব চিন্তাধারার খুবই মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সভাপতি অত্যন্ত সঠিকভাবে পূর্ববাংলাকে পাকিস্তানের উপনিবেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, “নয়া উপনিবেশের উপনিবেশ হয়না” ভ্রান্ত তত্ত্বকে কঠোরভাবে সংগ্রাম করেছিলেন, পূর্ববাংলার আর্থ-সামাজিক বিশ্লেষণ হাজির করেছিলেন, প্রধান দ্বন্দ্বকে আঁকড়ে ধরতে বলেছেন, তা ধরেছেন এবং এ নিয়ে কঠিণ সংগ্রাম চালিয়েছেন। তিনি জাতীয় সমস্যাকে যথাযথ গুরুত্বে আঁকড়ে ধরেছেন, ভুমি বিপ্লবের কথা বলেছেন। সভাপতি পূর্ববাংলার আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদকে সঠিকভাবেই চিহ্নিত করেছেন, এরদিকে, আধা সামন্ততন্ত্রের দিকে, সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের দিকে বর্শাফলক তাক করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পিবিএসপি গ্রামাঞ্চলে পরিপূরক হিসেবে শহরাঞ্চলে সশস্ত্র তrপরতা চালিয়েছে। সভাপতি গনসালো যেমন সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিসমূহ, এদের মধ্যে প্রধান, পরাশক্তি ছাড়া অপরাপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি চিহ্নিত করেছেন, এসএস চিন্তাধারাতেও আমরা বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সম্প্রসারণবাদের মধ্যে পৃথকীকরণ, এদের মধ্যে প্রধান আবিষ্কার দেখতে পাই।

সভাপতি গনসালো সঠিকভাবেই গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বকারী ভুমিকা, গরীব কৃষকের তথা গরীবতমদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছেন, শর্ত সাপেক্ষে মাঝারি ও জাতীয় বুর্জোয়াদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছেন। তিনি আমলা ও মুrসুদ্দি বুর্জোয়াদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, এর মধ্যে প্রধান খুঁজে বের করতে বলেছেন, একটির বিরোধিতা করতে গিয়ে অপরটির লেজুড়বৃত্তি যাতে না হয় সেদিকে সতর্ক করেছেন। রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজি ও বিরাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজির বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি আধা-সামন্তবাদের পেরুভিয়ান শ্রেণীগত ভিত্তি ‘গ্যামোনালিজমো’-এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবের তিনটি নিশানা রয়েছেঃ সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও আধা-সামন্তবাদ। আজকে কৃষক যুদ্ধ গড়ে তোলার পর্যায়ে প্রধান নিশানা হচ্ছে আধা-সামন্তবাদ। পিসিপি বলছে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের তিনটি মৌলিক দ্বন্দ্ব রয়েছেঃ জাতি ও সাম্রাজ্যবাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, জনগণ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, এবং জনগণ ও সামন্তবাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব।…। বর্তমানে কৃষক যুদ্ধ গড়ে তোলার পর্যায়ে সামন্তবাদ ও জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হচ্ছে প্রধান দ্বন্দ্ব।

এছাড়া এ দলিলে বিভিন্ন ধরণের একনায়কত্ব, রাষ্ট্র, নয়াগণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক বিপ্লবের চার করণীয় নির্ধারন করা হয়েছে। আজকে পেরুতে গণতান্ত্রিক বিপ্লব কীভাবে প্রয্ক্তু হচ্ছে তা দেখানো হয়েছে।

আশা করা যায় এ মৌলিক দলিলটির অধ্যয়ন আমাদের দেশের মাওবাদী আন্দোলনে সঠিক চিন্তা সুত্রবদ্ধ করতে সহযোগিতা করবে। পুবাসপা-এমইউজি]

GRCP_Paris_Franl_Grande

মৌলিক দলিলসমূহ

গণতান্ত্রিক বিপ্লব

সূচনাঃ

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা ও প্রয়োগ করার মধ্য দিয়ে সভাপতি গনসালো প্রতিষ্ঠা করেন যে, পেরুর বিপ্লব তার ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় অতি অবশ্যই প্রথমত হবে একটি গণতান্ত্রিক বিপ্লব, এবং অতঃপর একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব যা কমিউনিজমে পৌঁছার লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক বিপ্লবসমূহের জন্ম দেবে, আর সবই একটি বিরামহীন ও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় গণযুদ্ধের প্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এ উপসংহারে পৌঁছতে তার যাত্রাবিন্দু ছিল মার্কসের এই শিক্ষা যে জার্মানীর প্রয়োজন হচ্ছে ষোল শতকের কৃষক যুদ্ধসমূহের পুনঃমঞ্চায়ন যা কিনা কৃষকের গণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসারিত করে দেবে। লেনিন বিষয়টি আরো বিকশিত করেন এই মতামত রেখে যে, যেহেতু PCP 7বুর্জোয়ারা হচ্ছে একটি ক্ষয়িষ্ণু শ্রেণী, আর কৃষককুল সামন্তবাদ ধ্বংসের প্রয়োজন উত্থাপন করেছে, তারা সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক বিপ্লবই কেবল সম্পাদন করতে পারেন। পরবর্তীতে নয়াগণতন্ত্র প্রসঙ্গেতে চেয়ারম্যান মাও প্রতিষ্ঠা করেন যে বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের অংশ হিসেবে বুর্জোয়া একনায়কত্বের বিপরীতে বিপ্লবী শ্রেণীসমূহের যৌথ একনায়কত্বের একটি উত্তরণমূলক পর্যায় অতি অবশ্যই গড়তে হবে যা কেবল সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বের অধীনে সম্পাদিত হতে পারে। চেয়ারম্যান গনসালো পেরুর নির্দিষ্ট অবস্থাকে ধর্তব্যে নেন, যার বৈশিষ্টগুলো নিম্নরূপঃ

■          পেরুর ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় কোন গণতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটেনি যেহেতু বুর্জোয়ারা একে নেতৃত্ব দিতে অক্ষম। ফলত, ভুমি সমস্যা ও জাতীয় প্রশ্ন হচ্ছে দুটো ঝুলন্ত সমস্যা যা সমাধা করতে হবে।

■          আমরা সাম্রাজ্যবাদ ও বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের যুগে বাস করছি, তাই সর্বহারা শ্রেণী হচ্ছে সেই শ্রেণী যার দায়িত্ব হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও আধা-সামন্তবাদকে ধ্বংস করা, বুর্জোয়াদের লাভের জন্য নয় বরং সর্বহারা শ্রেণীর লাভের জন্য, প্রধান ভিত্তি গরীব কৃষক, ক্ষুদে বুর্জোয়া ও মাঝারি বুর্জোয়াদের লাভের জন্য।

          পেরুর সর্বহারা শ্রেণী বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম একটি নতুন ধরণের কমিউনিস্ট পার্টি (এ কমিউনিস্ট পার্টি অব নিউ টাইপ) জন্ম দিয়ে পরিপক্কতা অর্জন করেছে।

■          পুরনো ধরণের গণতান্ত্রিক বিপ্লব আর কোনভাবেই উপযুক্ত নয় বরং পরিবর্তে একটি নতুন ধরণের বুর্জোয়া বিপ্লব দরকার, আর এরকম ও সকল বিপ্লবই আজ কেবল গণযুদ্ধের মাধ্যমেই সম্পাদিত হতে পারে যা কিনা প্রধান ধরণের সংগ্রাম এবং কেবলমাত্র বিপ্লবী সশস্ত্র শক্তির দ্বারাই সম্পাদিত হতে পারে যা হচ্ছে প্রধান ধরণের সংগঠন।

এভাবে তিনি পেরুভিয়ান সমাজের চরিত্র আধা-সামন্তবাদী, আধা-উপনিবেশিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন যাতে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ গড়ে উঠে। তিনি বিপ্লবের নিশানা ও সম্পাদনীয় কর্মসূচি নির্ধারণ করেন এবং শেষত তিনি গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সারবস্তু ও আজকের বাস্তবতায় তার লক্ষ্য ও উপযোগিতা নির্ধারণ করার মাধ্যমে সামাজিক শ্রেণীসমূহের চরিত্র নিরূপণ করেন।

)        সমকালীন পেরুর সমাজের চরিত্রঃ

ঐতিহাসিক বস্তুবাদের ওপর ভিত্তি করে তিনি পেরুর ইতিহাসের গতিকে বিশ্লেষণ করেন আর দেখান যে আইল্লুকে ভিত্তি করে প্রাচীন সমাজে একটি কৃষি-আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল যা ছিল একটা সাম্প্রদায়িক কৃষি-আইন, আর যা দাস প্রথার একটি ধরণ বিকাশের সূচনা করেছিল। ইনকা সাম্রাজ্য উত্থিত হলো দখলদারিত্বের যুদ্ধের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৬ শতকে স্পেনীয়রা একটি ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত ব্যবস্থা নিয়ে এল, অধিবাসীদের প্রতিরোধের বিরুদ্ধে তাকে সশস্ত্র শক্তির সাহায্যে আরোপ করলো, ফলে পেরু সামন্তবাদী ও উপনিবেশিক রূপ নিল। পরে স্বাধীনতার মাধ্যমে স্পেনীয় আধিপত্য ভেঙেছে কিন্তু সামন্তবাদী ব্যবস্থা ভাঙেনি। মুক্তিদাতারা ছিল ভুস্বামী আর কৃষকরা জমির দখল পেলনা।

১৯ শতক আমাদের শাসন করতে ইংলন্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার তীব্র সংঘাত দ্বারা চিহ্নিত এবং অর্ধশতকের মধ্যে বিদ্যমান সামন্তীয় ভিত্তির ওপর প্রথম পুঁজিবাদের অংকুরোদগম বিকশিত হতে শুরু করে। পেরুতে এই সকল প্রক্রিয়াই একটি পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করে। তা হচ্ছে সামন্তবাদ থেকে আধা সামন্তবাদ ও উপনিবেশ থেকে আধা উপনিবেশে গমন।

সমকালীন পেরুভিয়ান সমাজের চরিত্র বিশ্লেষণে চেয়ারম্যান গনজালো বলেনঃ “… সমকালীন পেরু হচ্ছে একটি আধা-সামন্তবাদী ও আধা-উপনিবেশিক সমাজ যেখানে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ বিকাশ লাভ করে।” যদিও মেরিয়েতেগুই একে চমৎকারভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন পার্টির সংবিধানের কর্মসূচীর ৩য় পয়েন্টে, তথাপি এই বৈশিষ্ট্য নিরূপণ হচ্ছে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, প্রধানত মাওবাদের আলোকে। সভাপতি গনসালো বর্ণনা করেন কীভাবে এই আধা-সামন্তবাদী ও আধা-উপনিবেশিক চরিত্র বজায় থাকে ও বিকশিত হয় নতুন ধরণসমূহের মধ্য দিয়ে, আর সুনির্দিষ্টভাবে কীভাবে এই ভিত্তিতে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ বিকাশ লাভ করেছে সমকালীন সমাজের সমগ্র প্রক্রিয়া ধরে। সমাজের চরিত্র ও পেরুর বিপ্লবকে বুঝতে এটা সীমাহীন গুরুত্ববহ সমস্যা। আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ হচেছ চেয়ারম্যান মাওয়ের একটি মৌলিক তত্ত্ব যা বিশ্বের সকল মার্কসবাদীদের দ্বারা না এখনো উপলব্ধ হয়েছে না গৃহীত হয়েছে যা অনিবার্য ঐতিহাসিক কারণে মেরিয়েতেগুইর কাছে অজানা ছিল, আর তা চেয়ারম্যান গনসালো আমাদের দেশের মূর্ত নির্দিষ্ট বাস্তবতায় প্রয়োগ করেন। তিনি বলেন সমকালীন সামাজিক প্রক্রিয়াকে বুঝতে তিনটি ঘনিষ্ঠ সংযুক্ত সমস্যা থেকে শুরু করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ যে পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যে প্রক্রিয়া সর্বহারা শ্রেণী কর্তৃক সম্পাদিত হয় তার উচ্চতম রূপ কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে, এবং যে পথ বিপ্লবকে অতি অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে তা। তিনি আমাদের শিক্ষা দেন য ১৮৯৫ সাল থেকে সমকালীন পেরুর সমাজে তিনটি ঐতিহাসিক কালকে চিহ্নিত করা যায়ঃ

১ম কালঃ আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের বিকাশ। পিসিপির গঠন। গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও-এর পথের সংজ্ঞা প্রদান ও পথ নির্ধারণ।

২য় কালঃ আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের বিকাশ। পিসিপির পুনর্গঠন। গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও পথের প্রতিষ্ঠা।

৩য় কালঃ আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের সাধারণ সংকট। গণযুদ্ধে পিসিপির নেতৃত্ব। গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও পথের প্রয়োগ ও বিকাশ।

একই সাথে তিনি বলেন যে সমকালীন পেরুর সমাজ একটি সাধারণীকৃত সংকটে রয়েছে, একটি মারাত্মক ও সারার অযোগ্য অসুস্থতায় আক্রান্ত যাকে কেবল সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে রূপান্তরিত করা যায়। পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি জনগণকে ঠিক এতেই নেতৃত্ব দিচ্ছে, কারণ অন্য কোন সমাধান নেই। কেন পেরু আধা-সামন্তবাদী? চেয়ারম্যান গনসালো বলেনঃ “ক্ষয়িষ্ণু আধা সামন্তীয় ব্যবস্থা বেঁচে থাকে এবং দেশকে বৈশিষ্টমণ্ডিত করে এর গভীরতম ভিত্তিমূল থেকে এর সর্বাধিক বিশদ ধ্যান ধারণা পর্যন্ত। সারবস্তুতে, এটা অটলভাবে ভুমিসমস্যাকে অসমাধিত রাখে যা হচ্ছে কৃষককুলের শ্রেণীসংগ্রামের মটর (চালিকাশক্তি), বিশেষত গরীব কৃষকদের যারা নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ।” তিনি জোর দেন যে ভুমি সমস্যা টিকে থাকে আধা সামন্তবাদী শোষণসম্পর্ক আধা সামন্ততন্ত্রকে টিকে থাকতে অনুমতি দেয় বলে, এটা হচ্ছে সমাজের মূল সমস্যা যা জমি, ভুমিদাসত্ব ও গ্যামোনালিজমোর মাধ্যমে প্রকাশিত হয় [গ্যামোনালিজমো শব্দটি স্রেফ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বর্গের চেয়ে বেশী কিছুঃ ল্যাটিফুন্ডিস্টাস অথবা বৃহr ভূস্বামীর চাইতে। এটা একটা পুরো বিষয়কে প্রতিফলিত করে। গ্যামোনালিজমো শুধূ গ্যামোন্যালদের দ্বারা প্রতিনিধিত্ব হয়না, বরং অফিসার মধ্যস্বত্বভোগী, এজেন্ট, পরজীবি ও অফিসারদের একটা দীর্ঘ উচ্চস্তর। শিক্ষিত ইন্ডিয়ান (ছি!-ইংরেজী অনুবাদক) গ্যামোনালিজমো’র সেবায় নিয়োযিত হয়, আর নিজ জাতির শোষকে পরিণত হয়। এই বিষয়টির কেন্দ্রীয় উপাদান হচ্ছে সরকারের কর্মনীতি ও কর্মপ্রক্রিয়ায় আধা-সামন্তীয় এষ্টেটের আধিপত্য।” জে.সি.মেরিয়েতেগুই, পেরুর বাস্তবতার ওপর সাতটি ব্যাখ্যামূলক রচনা, পৃঃ ৩০, উদ্ধৃতি অনুবাদক কর্তৃক সংযুক্ত।] আমাদেরকে বিষয়টিকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সকল দিক থেকে তথা ভিত্তি ও উপরিকাঠামো উভয় দিক থেকে দেখতে হবে। কৃষকরা জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ যারা শত শত বছর ধরে জমিতে কাজ করছেন কিন্তু বড় সম্পত্তির সাথে ও ভূমিদাসত্বে বাঁধা। এছাড়া সংযুক্ত (এসোসিয়েটিভ) অথবা বিক্ষিপ্ত (নন-এসোসিয়েটিভ) বিভিন্নভাবে বিশাল জমি কিছূ মুষ্টিমেয় লোকের হাতে কেন্দ্রিভূত। কৃষকদের নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ গরীব কৃষক যাদের কোন জমি নেই অথবা যদি থাকে খুব কম, এভাবে মিনিফুণ্ডিও [ক্ষুদে জমির মালিক] অবস্থান ল্যাটিফুণ্ডিও [বড় ভূস্বামী]র আগ্রাসী ক্ষুদার কাছে সমর্পিত হয়। এই অবস্থা কৃষকদের ভূমিদাসত্বের একটি ব্যবস্থায় ধ্বংস করে যেমনটা লেনিন শিখিয়েছেন যে এটা হাজারো রকমে আত্মপ্রকাশ করলেও সারবস্তুতে হচ্ছে ব্যক্তিগত অধীনতা। এভাবে আমরা দাসসুলভ সম্পর্ক কেন্দ্রীক বিভিন্ন রকমকে দেখি যেমনটা এস এ আই এস [কৃষি সমাজ]-এ অদেয় কাজ, ক্যাপ্স, কৃষক গ্র“প, জনপ্রিয় সহযোগিতা [বেলেন্দের শাসনের সরকারী কাজে দাসসুলভ শ্রম], পিএআইটি [সহযোগিতার কর্মসূচী], প্রোয়েম [সরকার কর্তৃক পরিচালিত জরুরী কর্মসূচী] প্রভৃতিতে। এছাড়া সবাই জানেন যে গ্রামাঞ্চলে কর্মক্ষম প্রতি তিনজনের একজন মাত্র কাজ করে, আর রাষ্ট্র অব্যবহৃত শ্রমকে অদেয় মজুরীর মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে নিজ মুনাফা লুটতে চায়। আমরা আরো দেখতে পারি যে [নির্দিষ্টভাবে সিয়েররা অঞ্চলে] জাতীয় অর্থনীতির বাইরে স্বাভাবিক অর্থনীতি বিরাজ করছে। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ-এ নিজ আস্থাকে পুনঘোষণা করে সভাপতি গনসালো এই নীতি প্রস্ফুটিত করেন যে সামন্তীয় ভূস্বামী সম্পত্তির ধ্বংসের মধ্যে কৃষিসংস্কার নিহিত; ‘যে জমি চাষ করে তার হাতে জমি’ শ্লোগানের অধীনে আলাদা আলাদা কৃষকদের মধ্যে জমি বন্টন যা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন গণযুদ্ধ ও নয়া ক্ষমতার দ্বারা অর্জিত হয়। এটি লেনিনের কৃষিতে দুই পথের থিসিসের সমতুল্য। ভূস্বামী পথ প্রতিক্রিয়াশীল সামন্তবাদকে টিকিয়ে রাখে আর পুরোনো রাষ্ট্রকে সমর্থন করে এবং কৃষক পথ যা অগ্রসর, সামন্তবাদকে ধ্বংস করে ও একটি নতুন রাষ্ট্রের দিকে এগোয়। তিনি পুরোনো রাষ্ট্র কর্তৃক পাশ করা কৃষি আইনের চরিত্র ও ফলাফল বিশ্লেষণ করেন আধা সামন্তবাদের অস্তিত্বের নিশ্চিত প্রমাণ দিয়ে যা আজ প্রায়শই অস্বীকার করা হয়। এভাবে ১৯৬২ সালের পেরেজ গডয় এর ল অব বেসেস, ১৯৬৪ সালের ১৫০৩৭ আইন ও ১৯৬৯ সালের ১৭৭১৬ আইন [ আবশ্যিকভাবে কর্পোরেটিভ (যৌথ সংস্থাবাদীমূলক) যা বৃহr সংঘসম্পত্তি [বিগ এসোসিয়েটিভ]-এর উrসাহ যোগায় তিনটি ক্রয়/বিক্রয়ের আইন হিসেবে চিহ্নিত হয় যা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ বিকাশের জন্য আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যন্ত্র কর্তৃক পেশ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন যে ১৯৮০ সালের গবাদি পশু খামার উন্নয়ন আইন ভুমি সমস্যা সমাধা হয়েছে এমনভাবে দেখায় এবং তা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদকে উৎসাহিত করতে সংঘসম্পত্তি [এসোসিয়েটিভ] ও গ্যামোনেলদের ফেরত আসার প্রবক্তা যা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বড় ব্যাংকারদের নিয়ন্ত্রণাধীন। এ হচ্ছে সেই পথ যা ফ্যাসিস্ট কর্পোরেটিভিস্ট (যৌথ সংস্থাবাদী) আপ্রিস্টা সরকার গ্রহণ করে [ ১৯৮৮ সালের সরকারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে-ইংরেজী অনুবাদক] যা ভ্যালেস্কোর ফ্যাসিস্ট কর্পোরেটিভিস্ট “কৃষি সংস্কার”-এ পুনরাগমন যা কৃষির বিপ্লবীকরণের চিrকার করে এবং এভাবে গ্যামোন্যালদের শক্তিশালি করে, এটা ভূমি সমস্যাকে সমাধিত হিসেবে দেখে, উrপাদনশীলতাকে কেন্দ্রবিন্দু করে, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদকে গভীর করতে ও একে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সম্প্রদায় আইন কৃষক-রোন্ডা আইন প্রবর্তন করে [পেরুর বিপ্লব দমনে সরকার একটি প্রতিক্রিয়াশীল ভাড়াটে বাহিনী গঠন করেছিল যা রোন্ডা নামে পরিচিত-বাংলা অনুবাদক] কৃষকদের কর্পোরেটিভ (যৌথ সংস্থামূলক) উদ্যমের ভিত্তি হিসেবে কৃষক-সম্প্রদায়কে লক্ষ্য বানায় যা কেবল ক্ষুদে অঞ্চল (মাইক্রো রিজিওন), অঞ্চল (রিজিওন), র্কোড্স [একটি উন্নয়ন কর্পোরেশন] সৃষ্টিতে ও অন্যান্য ফ্যাসিবাদী ও কর্পোরেটিভ সৃষ্টিতে সেবা করে। এসবই আর কিছূ নয় পুরোনো ল্যাটিফুণ্ডিস্টা সম্পত্তির কেন্দ্রিভূত নতুন ধরণ যা এখনো ধ্বংস হয়নি, এটা সেই সমকালীন পেরুতে অনুসৃত ভূস্বামী পলিসি যা ১৯২০ দশকে গড়ে তোলা হয়েছে, ১৯৫০ দশকে গভীরতর করা হয়েছে বিশেষত ১৯৬০ দশকে, যা আজকে নতুন শর্তাধীনে অনুসৃত হচ্ছে, ভূস্বামী পথ রাজনৈতিকভাবে পুরোনো রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয় গ্যামোনালিজমোর মাধ্যমে। যেমন মেরিয়েতেগুই বলেন গ্যামোনালিজমো স্রেফ একটি সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বর্গকে প্রতিফলিত করেনা বরং একটি সমগ্র বস্তু যা শুধু গ্যামোনালদের দ্বারা প্রতিনিধিত্ব হয় না বরং যা অফিসার, মধ্যবর্তী এজেন্ট, পরজীবি প্রভৃতিদের একটি বৃহr উচ্চস্তর নিয়ে গঠিত, এবং বিষয়টির কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে রাজনীতি ও রাষ্ট্রের কার্যে বৃহr আধা-সামন্তবাদী সম্পত্তির একাধিপত্য, যাকে এর মূলে আঘাত হানতে হবে। সভাপতি গনসালো রাজনীতি ও রাষ্ট্রের কর্মপ্রক্রিয়ায় আধা সামন্ততন্ত্রের প্রকাশের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন এই মত রেখে যে, গ্যামোনালিজমো হচ্ছে আধা সামন্ততন্ত্রের রাজনৈতিক প্রকাশ যর ওপর ভর করে ভূমিদাসত্বের শাসন দাঁড়িয়ে, যাতে প্রভু ও ভৃত্যরা যারা সরকারের পালা বদলের সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে দল বদল করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পুরোনো রাষ্ট্রযন্ত্রকে প্রতিনিধিত্ব করে। যেহেতু এ হচ্ছে একটা কৃষক যুদ্ধ, এটা হচ্ছে সেই উপাদান যা গণতান্ত্রিক বিপ্লবের বর্শার নিশানা। কেন এটি আধা-উপনিবেশিক? আধুনিক পেরুর অর্থনীতির জন্ম হয়েছে সাম্রাজ্যবাদ (পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায়) এর অধীনতায়, যাকে পাণ্ডিত্যপুর্ণভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে একচেটিয়াবাদী, পরজীবি ও মৃত্যুপথযাত্রী হিসেবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তার স্বার্থকে সেবা করে ততক্ষণ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদ যদিও আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার অনুমোদন দেয়, সে এখনো গোটা পেরুর অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, রপ্তানী, উrপন্ন দ্রব্য, শিল্প, ব্যাংক লগ্নি সব। সংক্ষেপে, এটা আমাদের জনগণের রক্তকে শোষণ করে, একটি জাতির সজ্জিত শক্তিকে গ্রাস করে এবং আজকে সর্বাধিক প্রচণ্ডভাবে আমাদের ও অন্যান্য নিপীড়িত জাতিসমূহকে বৈদেশিক ঋণ দ্বারা পিস্ট করে। আমাদের সমাজের আধা-উপনিবেশিক চরিত্র সংজ্ঞায়িত করতে চেয়ারম্যান গনসালো লেনিনের সেই থিসিসের ওপর নিজ আস্থা পুনস্থাপন করেন যা পরবর্তীতে মাও কর্তৃক নির্ভুলভাবে বিকশিত হয়েছিল। সংশ্লেষণে, লেনিন উদঘাটিত করেন যে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে, কিন্তু দুটো হ্েচছ আদর্শঃ

■          উপনিবেশ, যা হচ্ছে নিপীড়িত জাতি ও জাতিসমূহের ওপর সাম্রাজ্যবাদের পূর্ণ আধিপত্য, এবং একটি মধ্যবর্তী ধরণ।

          আধা-উপনিবেশ, এতে নিপীড়িত জাতি রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে শোষিত। এটা হচ্ছে একটা স্বাধীন প্রজাতন্ত্র, কিন্তু তা সাম্রাজ্যবাদের মতাদর্শিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধীনতায় নিবেদিত, তার একটি সরকার থাক আর না থাক।

 এভাবে ১৯৬০ দশকে সংশোধনবাদ কর্তৃক ব্যবহৃত ‘নয়া উপনিবেশ’ সূত্র প্রত্যাখ্যাত হলো। এটা এই ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল যে সাম্রাজ্যবাদ এক নরম ধরণের আধিপত্য চালায়, যা তাদের ‘নির্ভরশীল দেশ’ সূত্রায়ণে চালিত করে। তাই বিশ্বকে পুনর্বন্টনের লক্ষ্যে দুই পরাশক্তির মধ্যকার সংঘাত-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামের একটা পর্যায় সমাগত, যেখানে কে এই মুহুর্তে প্রধান শত্র“ তা চেয়ারম্যান মাওয়ের এই থিসিস প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট করতে হবে। তিনি নির্ধারণ করেন যে মার্কিন (ইয়াঙ্কি) সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে প্রধান সাম্রাজ্যবাদ যা পেরুতে আধিপত্য করে, কিন্তু তিনি তুলে ধরেন যে আমাদেরকে রুশ সামাজিক সাম্রাজ্যবাদকেও প্রতিহত করতে হবে যে প্রতিটি দিন আরো বেশী বেশী করে প্রবিষ্ট হচ্ছে আর তাদের সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে যারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি কিন্তু পরাশক্তি নয়। এভাবে, গণতান্ত্রিক বিপ্লবে নেতৃত্ব দানে সর্বহারা শ্রেণী কোন পরাশক্তি অথবা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথেই বাঁধা থাকবে না এবং অবশ্যই তার মতাদর্শিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে। উপসংহারে তিনি বলেন যে, পেরুভিয়ান সমাজের জাতি হিসেবে গঠন অব্যাহত রয়েছে এবং আধা উপনিবেশিক চরিত্র বজায় রয়েছে যা সকল ক্ষেত্রে ও সকল নতুন পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রদর্শন করেছে।

আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ। চেয়ারম্যান গনসালো বলেন যে পেরুর সমাজকে গভীরভাবে বুঝতে এই ইস্যুটা বোঝা হচ্ছে চাবিকাঠি। চেয়ারম্যান মাওয়ের থিসিসকে অনুসরণ করে তিনি পাঁচটি বৈশিষ্ট নিরূপণ করেনঃ

.          আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ হচ্ছে সেই পুঁজিবাদ যা সাম্রাজ্যবাদ পশ্চাৎপদ দেশগুলিতে গড়ে তোলে, যা বৃহৎ ভূস্বামী, বৃহৎ ব্যাংকার এবং বড় বুর্জোয়া ধনকুবেরদের নিয়ে গঠিত।

         এটা সর্বহারা শ্রেণী, কৃষক ও ক্ষুদে বুর্জোয়াদের শোষণ করে, মাঝারি বুর্জোয়াদের পিষ্ট করে।

.         এটা এমন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ রাষ্ট্রের ক্ষমতার সাথে যুক্ত হচ্ছে ও রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদের জন্ম দিচ্ছে যা একই সাথে মুrসুদ্দী ও সামন্তীয়, যার থেকে বলা যায় যে প্রথমকালে এটা অরাষ্ট্রীয় বড় একচেটিয়া পুঁজিবাদ জন্ম দেয় এবং দ্বিতীয়কালে যখন তা রাষ্ট্র ক্ষমতার সাথে যুক্ত হয় তা রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে;

         এর বিকাশের শিখরে পৌঁছে এটা গণতান্ত্রিক বিপ্লবের শর্তসমূহকে পরিপক্ক করে;

        আমলাতান্ত্রিক পুঁজির বাজেয়াপ্তকরণ হচ্ছে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের শিখরে পৌঁছার চাবিকাঠি, আর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে যাওয়ার এটা হচ্ছে নির্ধারক ব্যাপার।

উপরের নীতিমালা প্রয়োগ করে তিনি প্রকাশ করেন যে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ হচ্ছে সেই পুঁজিবাদ যা পশ্চাদপদ দেশগুলিতে সাম্রাজ্যবাদ সৃষ্টি করে যা ক্ষয়িষ্ণু সামন্তবাদের সাথে যুক্ত সাম্রাজ্যবাদের অধীনতায় আবদ্ধ পুঁজিবাদের শেষ পর্যায়। এই প্রক্রিয়া জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে সেবা করেনা বরং সাম্রাজ্যবাদীদের, বড় বুর্জোয়াদের ও ভূস্বামীদের সেবা করে। মেরিয়েতেগুই ইতিমধ্যে দেখিয়েছেন যে বুর্জোয়ারা উদাহারণস্বরূপ ব্যাংক সৃষ্টি করে এক পুঁজির জন্ম দেয় যা সাম্রাজ্যবাদের কাছে ঋণী থাকে এবং সামন্তবাদের সাথে সংযুক্ত। চেয়ারম্যান গনসালো কর্তৃত্বপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা করেন যে পেরুতে যে পুঁজিবাদের উদ্ভব ঘটেছে তাহচ্ছে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ, টিকে থাকা আধা-সামন্ততন্ত্রের ফাঁসে আটকা পড়ে এটা একদিকে তার দ্বারা বাঁধা আছে, অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা নিপীড়িত। যা তাকে জাতীয় অর্থনীতি গড়ার অনুমতি দেয়না। তাহলে, এটা হচ্ছে একটা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ যা সর্বহারা শ্রেণী, কৃষক ও ক্ষুদে বুর্জোয়াদের শোষণ ও পীড়ণ করে আরা মাঝারী বুর্জোয়াদের পিস্ট করে। কেন? কারণ যে পুঁজিবাদ বিকশিত হয় তা হচ্ছে একটা বিলম্বিত প্রক্রিয়া যে তার অর্থনীতিকে কেবল সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থকে সেবা করতেই অনুমোদন দেয়। এই পুঁজিবাদ বড় বুর্জোয়া, ভূস্বামী ও পুরোনো ধরনের ধনী কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব করে যে শ্রেণীগুলো সংখ্যালঘু হয়েও বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে শোষণ ও নিপীড়ন করে। তিনি সেই প্রক্রিয়া বিশ্লেষন করেন যা পেরুতে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ অনুসরণ করেছে। প্রথম ঐতিহাসিক কাল, যাতে ১৮৯৫ সাল থেকে ২য় বিশ্বযুদ্ধ কাল পর্যন্ত এটা বিকশিত হয়, যাতে ১৯২০ দশকের সময়কালে দৃশ্যতঃ মুৎসুদ্দী বুর্জোয়ারা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভূস্বামীদের সরিয়ে কিন্তু তাদের স্বার্থ রক্ষা করে। দ্বিতীয় কাল হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত, একটি বিস্তারের পর্যায় যখন বড় বুর্জোয়াদের একটি শাখা আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদে আবির্ভূত হয় যা ১৯৩৯ সালে প্রাদোর (প্রথম) সরকারে শুরু হয়, এ হচ্ছে সেই সময়কাল যখন অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ শুরু হয়। ফলত, এই অংশ গ্রহণ আরো বেড়েছে একারণে যে বড় বুর্জোয়ারা পুঁজির অভাবে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ গভীর করতে সক্ষম ছিল না! এভাবে বড় বুর্জোয়াদের উভয় উপদলের মধ্যে, আমলা ও মুrসুদ্দীদের মধ্যে সংঘাত জন্ম নেয়। ১৯৬৮ সালে আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়ারা ভেলেস্কোর সামরিক ক্যুর মাধ্যমে সশস্ত্র শক্তির দ্বারা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব কব্জা করে যা একপর্যায়ে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির বিরাট বৃদ্ধি ঘটায়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানীর সংখ্যা ১৮ থেকে ১৮০ তে বৃদ্ধি পায়, রাষ্ট্রীয় অনুমোদন হয়ে দাঁড়ায় আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়াদের নেতৃত্বে পরিচালিত অর্থনীতির মটর (চালিকাশক্তি)। ঠিক এই কালেই অর্থনীতি গভীর সংকটে প্রবেশ করে। তৃতীয় কালটি হচ্ছে ১৯৮০ থেকে সামনের দিকে যাতে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ একটি সাধারণ সংকট ও চুড়ান্ত ধ্বংসে প্রবেশ করে, এই কাল শুরু হয় গনযুদ্ধের সাথে সাথে। যেহেতু এ হচ্ছে সেই পুঁজিবাদ যা জটিলতাযুক্ত, অসুস্থ আর পঁচা হিসেবে জাত, সামন্তবাদের সাথে বাঁধা, সাম্রাজ্যবাদের অধীনস্থ, আর এখন যখন এটা একটা সাধারণ সংকটে ও চুড়ান্ত ধ্বংসে প্রবেশ করেছে আর কোন উপায় বা সংস্কারই তাকে রক্ষা করতে পারবেনা। এটা বড় জোর তার মৃত্যু যন্ত্রণাকেই দীর্ঘায়িত করতে পারে। অন্যদিকে মৃত্যু যন্ত্রণাকাতর পশুর মত বিপ্লবকে ধ্বংস করার আকাংখায় সে তার নিজ প্রতিরক্ষা করবে। আমরা যদি এই প্রক্রিয়াকে জনগণের পথ থেকে দেখি প্রথমকালে ১৯২৮ সালে পিসিপি মেরিয়েতেগুইর সাথে গঠিত হয়, আর দেশের ইতিহাস দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। দ্বিতীয় কালে, চেয়ারম্যান গনজালোর সাথে পিসিপি নতুন ধরণের পার্টি (এ পার্টি অব নিউ টাইপ) হিসেবে পুনর্গঠিত হয়, আর সংশোধনবাদ বর্জিত হলো, এবং তৃতীয়কালে পিসিপি গণযুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে প্রবেশ করে, একটা অপরিসীম গুরুত্ববহ মাইলফলক যা সশস্ত্র শক্তি ও গণযুদ্ধের পথের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের একটা বাস্তবতার চমrকার গুণগত উলম্ফনের মাধ্যমে ইতিহাসের রেডিকেল পরিবর্তন ঘটায়। এসবই কেবল আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের রাজনৈতিক উপাদানকেই প্রমাণ করে যাকে গুরুত্ব দেয়ার ঘটনা বিরল, কিন্তু একেই চেয়ারম্যান গনজালো চাবিকাঠি বিবেচনা করেনঃ আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ বিপ্লবের শর্তকে পরিপক্ক করে, আর আজ সে যখন তার চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করেছে বিপ্লবের বিকাশ ও বিজয়ের শর্তকে পরিপক্ক করে। এটা লক্ষ্য করাও গুরুত্বপুর্ণ যে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ অরাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদ ও রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদ দ্বারা কীভাবে আকৃতি লাভ করে। এ হচ্ছে সেই কারণ যেজন্য তিনি বড় বুর্জোয়াদের দুই উপদলের মধ্যে পার্থক্য করেন-আমলাতান্ত্রিক আর অন্যটি হচ্ছে মুৎসুদ্দী-যাতে একটি বা অন্যটির লেজুড়বৃত্তি পরিহার করা যায়–একটা সমস্যা যা ৩০ বছর আমাদের পার্টিকে ভুল রণকৌশলে চালিত করেছে। এটিকে এইভাবে উপলব্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ কারণ নয়া ক্ষমতার দ্বারা আমলাতান্ত্রিক পুঁজির বাজেয়াপ্তকরণ গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পূর্ণতায় আর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে। যদি কেবল রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদকে নিশানা করা হয়, অন্য অংশঃ বিরাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদ মুক্ত থাকবে আর বড় মুrসুদ্দী বুর্জোয়ারা বিপ্লবের নেতৃত্ব চুরি করে নিয়ে যাওয়া আর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দিকে এগোবার পথ প্রতিরোধ করতে মাথা তুলে দাঁড়াবার মত অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম থাকবে। অধিকন্তু চেয়ারম্যান গনজালো সাধারণীকরণ করেন যে আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ চীন বা পেরুর স্রেফ অদ্ভূত কোন প্রক্রিয়া নয় বরং এটা অনুসরণ করে বিলম্বিত পরিস্থিতি যেখানে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদীরা এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার নিপীড়িত জাতিসমূহকে অধীনস্ত করে যখন নিপীড়িত জাতিগুলো সামন্তবাদের অবশেষকে ধ্বংস করেনি, পুঁজিবাদকে বিকশিত করেছে অনেক কম। সংশ্লেষণে, সমকালীন পেরুভিয়ান সমাজ ও বিপ্লবের চরিত্রকে বোঝার চাবিকাঠি এই মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী, গনসালো চিন্তাধারার আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ সংক্রান্ত তত্ত্ব হচেছ বিশ্ব বিপ্লবে এক অবদান; যা আমরা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদীরা গনসালো চিন্তাধারা সহকারে দৃঢ়ভাবে মনে করেছি। আধা-সামন্তবাদী ও আধা-উপনিবেশিক সমাজ কর্তৃক কী ধরণের রাষ্ট্র রক্ষিত হয় যার ওপর আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ বিকশিত হয়? সমকালীন পেরুভিয়ান সমাজের বিশ্লেষণ ও পান্ডিত্যপূর্ণ মাওবাদী থিসিস ‘নয়াগণতন্ত্র সম্পর্কে’র ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাবিত হয় যে বিশ্বে রাষ্ট্রব্যবস্থাসমূহকে শ্রেণী চরিত্র অনুযায়ী তিনটি মৌলিক ধরণে ভাগ করা যায়ঃ

         বুর্জোয়া একনায়কত্বধীন প্রজাতন্ত্রসমূহ যেখানে পুরনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহ রয়েছে আবার ভূস্বামী ও বড় বুর্জোয়াদের যৌথ একনায়কত্বধীন রাষ্ট্রসমূহও রয়েছে।

.          সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কত্বধীন প্রজাতন্ত্রসমূহ

.         বিপ্লবী শ্রেণীসমূহের যৌথ একনায়কত্বধীন প্রজাতন্ত্রসমূহ।

চেয়ারম্যান গনসালো প্রতিষ্ঠা করেন যে পেরুর পুরোনো প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্রের চরিত্র হচ্ছে প্রথম ধরণের, ভূস্বামী ও বড় বুর্জোয়াদের যৌথ একনায়কত্ব যেখানে বড় বুর্জোয়া আমলাতান্ত্রিক অথবা মুৎসুদ্দিরা পরস্পর সহযোগিতা ও দ্বন্দ্বের সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে কে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে তাই নিয়ে। যেহেতু পেরুতে ঐতিহাসিক প্রবণতা হচ্ছে আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়ারা নিজেদের আরোপ করে যা আবশ্যিকভাবে একটি তীক্ষè ও দীর্ঘ সংগ্রামের ইঙ্গিত দেয়; বিশেষত যেহেতু আজকে আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়ারা পুরোনো ভূস্বামী আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক। সেই সাথে রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও সরকার-ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তারা হচ্ছে একই বিপরীতের ঐক্যের অংশ। রাষ্ট্র ব্যবস্থা হচ্ছে রাষ্ট্রের মধ্যে শ্রেণীসমূহ যে জায়গা দখল করে তা, আর সরকার ব্যবস্থা হচ্ছে যে রূপে ক্ষমতা সংগঠিত হয় তা। চেয়ারম্যান মাও শিখিয়েছেন মূল বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের শ্রেণী চরিত্র নিরূপণ করা।

সরকারের রূপ সামরিক অথবা বেসামরিক, নির্বাচিত অথবা অধ্যাদেশ জারীকৃত, উদার-গণতান্ত্রিক অথবা ফ্যাসিবাদী হতে পারে কিন্তু তারা সর্বদাই প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণীসমূহকে প্রতিনিধিত্ব করে। এভাবে পুরোনো রাষ্ট্রকে না দেখা হচ্ছে একনায়কত্ব নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে শুধু সামরিক শাসনকে দেখা আর এটা ভাবার ফাঁদে পা দেয়া যে একটি বেসামরিক সরকার একনায়কত্ব নয়, এভাবে ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ অথবা ‘সামরিক ক্যু এড়ানো’র ছুতোয় বড় বুর্জোয়াদের একটি উপদলের লেজুড়বৃত্তির মতো অবস্থানগুলো হচ্ছে পুরোনো রাষ্ট্রের ধ্বংসের পরিবর্তে একে সমর্থন ও রক্ষা করা, যেমনটা পেরুতে ঐক্যবদ্ধ বাম-এর সংশোধনবাদী ও সুবিধাবাদীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

পুরোনো রাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদের অধীন, আমাদের ক্ষেত্রে মার্কিন (ইয়াঙ্কি) সাম্রাজ্যবাদ যা এর মেরুদন্ড প্রতিক্রিয়াশীল সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে যা অব্যাহত বেড়ে চলা আমলাতন্ত্রের ওপর ভরসা রাখে। সশস্ত্র বাহিনী যে রাষ্ট্রকে সমর্থন ও রক্ষা করে তার যে চরিত্র, তারও সেই একই চরিত্র রয়েছে।

চেয়ারম্যান গনসালো আমাদের পরিষ্কারভাবে বলেনঃ “এটা হচ্ছে সেই সামাজিক ব্যবস্থা যা পরের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অধিকার অনুশীলন করে, যা শাসক শ্রেণীসমূহ ও তাদের প্রভু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ রক্ত ও আগুনের দ্বারা রক্ষা করে, তাদের ভূস্বামী আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র দ্বারা, তাদের প্রতিক্রিয়াশীল সশস্ত্র শক্তির দ্বারা রক্ষিত হয়ে, অব্যাহতভাবে তাদের শ্রেণী-একনায়কত্ব অনুশীলন করে (বড় বুর্জোয়া ও ভূস্বামী), হতে পারে তা একটা ডি ফ্যাক্টো সামরিক সরকার অথবা নির্বাচন থেকে উদ্ভূত সরকার আর তথাকথিত সাংবিধানিক একটি” এবং “… এই ক্ষয়িষ্ণু শোষণের পদ্ধতি জনগণের প্রচন্ড সৃজনশীল শক্তিকে ধ্বংস করে ও থামিয়ে দেয় যা কিনা সর্বাধিক গভীরতম বিপ্লবী রূপান্তর চালাতে সক্ষম একমাত্র শক্তি…।”

. গনতান্ত্রিক বিপ্লবের নিশানাসমূহ29

চেয়ারম্যান গনসালো আমাদের শিক্ষা দেন যে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের তিনটি নিশানা রয়েছেঃ সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও আধা-সামন্তবাদ; যাদের মধ্যে একটি হয় প্রধান লক্ষ্যবস্তু যার সাথে বিপ্লব মুখোমুখি হয়। আজকে কৃষক যুদ্ধের পর্যায়ে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে আধা-সামন্তবাদ। সাম্রাজ্যবাদ, প্রধানত মার্কিন হচ্ছে আমাদের জন্য প্রধান সাম্রাজ্যবাদ যে শাসন করে, যে অধীনতা রাখার অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করতে চায় এবং আমাদের পরিস্থিতিকে একটি আধা-উপনিবেশিক দেশ হিসেবে উত্তমরূপে উপলব্ধি করায়। কিন্তু আমাদের অবশ্যই রুশ সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের অনুপ্রবেশ রোধ করতে হবে আর অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহেরও। আমাদেরকে পুরনো রাষ্ট্রের বিভিন্ন উপদলের অস্তিত্বকে ব্যবহার করতে হবে যাতে তাদের দ্বন্দ্বসমূহকে তীক্ষ্ণ তর করা যায় আর প্রধান শত্রুকে পরাজিত করার জন্য তাকে যাতে বিচ্ছিন্ন করা যায়। আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ হচ্ছে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের স্থায়ী প্রতিবন্ধক যা সাম্রাজ্যবাদের সেবায় আধা-সামন্তবাদ ও আধা-উপনিবেশবাদকে বজায় রাখতে কাজ করে। আর আধা-সামন্তবাদ নতুন ধরণসমূহ নিয়ে আজ অস্তিত্বশীল কিন্তু দেশের জন্য একটি মূল সমস্যা।

. গণতান্ত্রিক বিপ্লবের করণীয়সমূহ

১মঃ সাম্রাজ্যবাদী অধীনতা, পেরুর ক্ষেত্রে প্রধানত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধীনতা ধ্বংস করা যেখানে অন্য পরাশক্তি রাশিয়ান সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ ও অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহেরও তrপরতা রুখতে হবে।

২য়ঃ আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ধ্বংস করা, বৃহr রাষ্ট্রীয় ও বিরাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজির বাজেয়াপ্তকরণ।

৩য়ঃ সামন্ত ভূস্বামীদের সম্পত্তি ধ্বংস করা। বৃহr সংস্থা ও অ-সংস্থাগত উভয় সম্পত্তিই বাজেয়াপ্ত করা। “যে জমি চাষ করে তার হাতে জমি” শ্লোগানের ভিত্তিতে মাথাপিছু জমি বন্টন, প্রাথমিকভাবে ও প্রধানত গরীব কৃষকদের জন্য।

৪র্থঃ মাঝারি পুঁজিকে সমর্থন দেয়া যাকে আরোপিত শর্তে কাজ করতে দেয়া হয়। এসবই সশস্ত্র বিপ্লবী বাহিনী সহকারে গণযুদ্ধের মাধ্যমে একটি নয়া রাষ্ট্রু গড়ে তোলায় কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে পুরোনো রাষ্ট্রের ধ্বংসের ইঙ্গিত বহন করে।

.         গণতান্ত্রিক বিপ্লবে সামাজিক শ্রেণীসমূহ

চেয়ারম্যান গনসালো সামাজিক শ্রেণীসমূহের চরিত্র বিশ্লেষণ করেন যাদেরকে অবশ্যই বিপ্লবের পরিস্থিতি অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ করতে হবেঃ সর্বহারা শ্রেণী, কৃষক (প্রধানত গরীব কৃষক), ক্ষুদে বুর্জোয়া এবং মাঝারী বুর্জোয়া। যে শ্রেণীগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের নিশানাঃ পুরোনো ও নয়া ছাঁচের ভূস্বামী এবং বৃহৎ আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া অথবা মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া। চেয়ারম্যান গনসালো বলেনঃ “… কৃষকরা হচ্ছে প্রধান চালিকাশক্তি… যারা শত শত বছর ধরে মৌলিকভাবে দাবী করে ‘যে জমি চাষ করে তার হাতে জমি’, যা তাদের সাহসী সংগ্রাম সত্ত্বেও এখনো অর্জিত হয়নি” … “সর্বহারা শ্রেণী… আমাদের বিপ্লবের নেতৃত্বকারী শ্রেণী … যে তার দীর্ঘ কষ্টকর সংগ্রামে ভূখা মজুরীই কেবল কেড়ে আনতে পেরেছে এবং শোষক শ্রেণীর কাছ থেকে রুটির টুকরোই কেবল জয় করতে পেরেছে সমাজ যে প্রতিটি অর্থনৈতিক সংকটে ভোগে তাতে তা কেবল হারানোর জন্যই, একটি সর্বহারা শ্রেণী যে ভয়ংকর লৌহবৃত্তের মধ্যে বিতর্ক করে …” “… ব্যাপক স্তরসহ একটি ক্ষুদে বুর্জোয়া যারা একটি পশ্চাদপদ দেশের সাথে সম্পর্কিত, যারা দেখে  অপ্রত্যাশিত যে নিঃস্বকরণ সামাজিক ব্যবস্থা তাদের ওপর আরোপ করে তাতে তাদের স্বপ্ন বিলীন হয়ে যেতে” এবং “একটি ক্ষুদে বুর্জোয়া, একটি জাতীয় বুর্জোয়া যে দুর্বল আর যার পুঁজির অভাব রয়েছে, যে অসমভাবে বিকশিত হয়, আাঁকাবাঁকাভাবে এবং বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লবের মাঝখানে বিভক্ত হয় …” । “এই চার শ্রেণী, যাদের নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে জনগণ ও বিপ্লবের চালিকাশক্তি গঠিত হয়, এদের মধ্যে প্রধানত গরীব কৃষকরাই হচ্ছে প্রধান চালিকাশক্তি।”

দারিদ্রের বৈজ্ঞানিক সংগঠন সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়, যে থিসিস মার্কস থেকে আসে এবং এটা আমাদের ইঙ্গিত দেয় যে প্রধান গরীব কৃষকদের শহরে দরিদ্রতম জনগণকে একটি কমিউনিস্ট পার্টিতে, একটি গণগেরিলাবাহিনীতে আর গণকমিটিসমুহের মারফত মূর্ত এক নয়া রাষ্ট্রে সংগঠিত করতে হবে। এভাবে একসারি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে, কৃষক প্রশ্নের কথা বলা মানে ভূমি সমস্যার কথা বলা,ভূমি সমস্যার কথা বলা মানে সামরিক প্রশ্নের কথা বলা, সামরিক প্রশ্নের কথা বলা মানে ক্ষমতার কথা বলা, এক নয়া রাষ্ট্রে যাতে আমরা পৌঁছবো সর্বহারা নেতৃত্বে তার পার্টি কমিউনিস্ট পার্টির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। গণযুদ্ধে কৃষক প্রশ্ন হচ্ছে ভিত্তি এবং সামরিক প্রশ্ন হচেছ পথনির্দেশক। অধিকন্তু সশস্ত্র কৃষক জনগণ ছাড়া ফ্রন্টে কোন একাধিপত্য থাকেনা। তাই কৃষক প্রশ্ন যে মূল প্রশ্ন এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সব তrপরতাকে যে এটা টিকিয়ে রাখে তা বোঝা মহা গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবেও এটা গুরুত্বপূর্ণ। সর্বহারা শ্রেণী হচ্ছে নেতৃত্বকারী শ্রেণী। এটা হচ্ছে সেই শ্রেণী যে বিপ্লবে কমিউনিস্ট পথের গ্যারান্টি দেয়, যে কৃষক জনগণের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয় আর কৃষক-শ্রমিক জোট গঠন করে যা হচেছ ফ্রন্টের ভিত্তি।

পেরুভিয়ান সর্বহারা শ্রেণী রাজধানীতে বিরাট আকারে কেন্দ্রীভূত আর আনুপাতিকভাবে তা চীনের চাইতে বড়, কিন্তু শতকরা অনুপাতে তা দিন দিন কমে চলেছে, এটা একটা বিশেষ পরিস্থিতি যা নিজেকে প্রকাশ করে যখন আমরা গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পাদন করি, সেজন্য আমরা বড় বড় শহরে গণযুদ্ধ পরিচালনা করি একটি সম্পূরক কাজ হিসেবে। একটি শ্রেণী যে আজ একটি কমিউনিস্ট পার্টি, একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী, গনসালো চিন্তাধারার পার্টি গঠনে উপনীত হয়েছে, যে একটি গণগেরিলা বাহিনী গঠন করেছে যাকে সে পরিপূর্ণভাবে নেতৃত্ব করে এবং একটি নয়া রাষ্ট্রকে যে যৌথ একনায়কত্বে পরিচালনা করে, একটি পার্টি যে প্রায় ২০ বছর পুনর্গঠন ও ৭ বছর গণযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে জনগণকে একটি মহান ঐতিহাসিক উলম্ফণ প্রদান করেছে। গণতান্ত্রিক বিপ্লবে এর নেতৃত্বকারী ভূমিকাকে বোঝা হচ্ছে পরম গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা কমিউনিজমের দিকে সঠিক পথের গ্যারান্টি দেয়, আর সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্ব ছাড়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব হয়ে দাঁড়াবে বুর্জোয়া নেতৃত্বে সশস্ত্র এ্যাকশন, আর তা একটি পরাশক্তি অথবা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অধীনতায় নিপতিত হবে।

উপরের দুটো শ্রেণীর সাথে ক্ষুদে বুর্জোয়ারা যুক্ত হলে একত্রিতভাবে তারা বিপ্লবী ফ্রন্টের কঠিন মেঝে সৃষ্টি করে যা গণযুদ্ধের জন্য ফ্রন্ট এবং নতুন রাষ্ট্র গঠনকারী শ্রেণীসমূহের জোটের একটি কাঠামো ছাড়া বেশী কিছুই নয়, গ্রামাঞ্চলে গণকমিটি আর শহরে বিপ্লবী প্রতিরক্ষা আন্দোলন। মাঝারী বুর্জোয়াদের কথা বলতে গেলে, আজকে তারা বিপ্লবে অংশ গ্রহণ করেনা কিন্তু তাদের স্বার্থ রক্ষিত হয়। সে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের নিশানা নয়, এটা একটা শ্রেণী যে প্রতিক্রিয়াশীলদের তরফ থেকে প্রতিনিয়ত আরো বেশী বিধিনিষেধ প্রাপ্ত হয়, কিন্তু এর রয়েছে দ্বৈত চরিত্র এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রক্রিয়ায় সে বিপ্লবে যোগ দিতে পারে যে কোন মুহুর্তে। যদি মাঝারী বুর্জোয়াদের স্বার্থকে হিসেব করা না হয়, তাহলে বিপ্লবের চরিত্র পাল্টে যাবে, এটা আর গণতান্ত্রিক বিপ্লব থাকবে না, তাহবে সমাজতান্ত্রিক। মোটকথা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবে আমরা যে নয়া রাষ্ট্র গড়ছি তা হবে একটি যৌথ একনায়কত্ব, তার পার্টি কমিউনিস্ট পার্টির মাধ্যমে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বে শ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদে বুর্জোয়া এবং কিছু শর্তাধীনে জাতীয় ও মাঝারী বুর্জোয়াদের, এই চার শ্রেণীর একটি জোট, একটি একনায়কত্ব যা আজকে তিন শ্রেণীর, কারণ মাঝারী বুর্জোয়ারা বিপ্লবে অংশ গ্রহণ করেনা, কিন্তু তাদের স্বার্থ রক্ষিত হয়। এই শ্রেণীগুলি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নয়াগণতন্ত্রের একনায়কত্ব কায়েম করে আর সরকারের একটি সিস্টেম হিসেবে গণসংসদ গঠন করে।

.         গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মৌলিক দ্বন্দ্বসমূহ

গণতান্ত্রিক বিপ্লবের তিনটি মৌলিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। জাতি ও সাম্রাজ্যবাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, জনগণ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, এবং  জনগণ ও সামন্তবাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব। বিপ্লবের পর্যায়সমূহের ওপর নির্ভর করে এদের মধ্যে যে কোনটি প্রধান দ্বন্দ্ব হতে পারে। যেহেতু আমরা আজকে একটি কৃষক যুদ্ধ গড়ে তুলছি, আমরা যদি সযতনে এই তিনটিকে পর্যালোচনা করি, এভাবে আমাদের ক্ষেত্রে জনগণের সাথে সামন্তবাদের দ্বন্দ্ব, জনগণের সাথে সরকারের দ্বন্দ্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা পরবর্তীতে হবে নয়ারাষ্ট্র বনাম পুরোনো রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আর এর অন্তসার হল কমিউনিস্ট পার্টি বনাম প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী।

.        বিপ্লবের স্তরসমূহ

চেয়ারম্যান গনসালো আমাদের শিক্ষা দেন যে নিপীড়িত জাতিসমূহের জন্য গণতান্ত্রিক বিপ্লব হচ্ছে অপরিহার্য প্রথম স্তর যা এই দ্বন্দ্বসমূহের সমাধানের পদ্ধতি অনুসারে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করবে। গণতান্ত্রিক বিপ্লব ও দ্বিতীয় স্তরÑসমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্যে একটি অবিভাজ্য সম্পর্ক ও একটি বাঁধাহীন পথ রয়েছে এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের উদ্দেশ্য হচ্ছে কমিউনিজমে পৌঁছতে বিশ্ববিপ্লবকে সেবা করার মাধ্যমে একঝাঁক সাংস্কৃতিক aee84ff90bf273858524c5e1127feaafবিপ্লবের জন্ম দেয়া। যেমন আমাদের রয়েছে একটি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কর্মসূচি। সর্বনিম্ন কর্মসূচী হচ্ছে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচী যাকে প্রতিটি পর্যায়ে নির্দিষ্টকরণ করা হয়েছে, আর যা এক নয়া রাজনীতির ইঙ্গিত দেয়ঃ চার শ্রেণীর যৌথ একনায়কত্ব; একটি নয়া অর্থনীতিঃ বৃহr সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও বৃহr সামন্ত ভূস্বামী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, প্রধানত গরীব কৃষকদের প্রতি মাথাপিছু বরাদ্দ করার মাধ্যমে; একটি নয়া সংস্কৃতিঃ জাতীয় অথবা বরং সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী, গণতান্ত্রিক অথবা বরং জনগণের জন্য, বৈজ্ঞানিক অথবা আমাদের মতাদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারাভিত্তিক।

সর্বোচ্চ কর্মসূচি দেখায় যে আমরা কমিউনিস্ট হিসেবে তিনটি অসাম্যঃ শহর ও গ্রামের মধ্যে, বুদ্ধিবৃত্তিক ও দৈহিক শ্রমের মধ্যে, আর শ্রমিক ও কৃষকের মধ্যকার বিলোপ করতে চাই। এই দুই কর্মসূচীর জন্যই আমরা আমাদের জীবন দেই যে কোন প্রকার আঘাত, উপহাস ও দুর্দশাকে মোকাবেলা করে। কেবলমাত্র কমিউনিস্টরাই তাঁদের পথ রক্ষায় বিপ্লবের জন্য লড়াই করতে পারে। চেয়ারম্যান গনসালো বলেনঃ “গনতান্ত্রিক বিপ্লব সারবস্তুতে কী? তা হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে একটা কৃষক যুদ্ধ যা চার শ্রেণীর সমন্বয়ে একটি নয়া রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে চায়, তার চার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে সাম্রাজ্যবাদ, বড় বুর্জোয়া ও ভূস্বামীকে ধ্বংস করতে চায়। গণতান্ত্রিক বিপ্লবের একটি প্রধান ধরণের সংগ্রাম রয়েছে তা হচ্ছে গণযুদ্ধ এবং প্রধান ধরণের এক সংগঠন রয়েছে তা হচ্ছে বাহিনী, যা হচেছ ভূমি সমস্যার সমাধান, জাতীয় সমস্যার সমাধান এবং ভূস্বামী-আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও তার মেরুদন্ড, তার রক্ষাকারী প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনীর ধ্বংসের প্রশ্ন, একটি নয়া রাষ্ট্র, একটি নয়াগণতন্ত্র-এর রাষ্ট্র গড়ার রাজনৈতিক লক্ষ্য পুরণ করতে, আর নয়াগণতন্ত্রের গণপ্রজাতন্ত্র গড়তে যা অচিরেই সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের দিকে অগ্রসর হবে। সংশ্লেষণে, গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে মূর্ত করা যায় কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে চালিত কৃষক যুদ্ধ দ্বারা, আর অন্য কোন ধরণ হচ্ছে ভূস্বামী আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত।” সংশ্লেষণে, চেয়ারম্যান গনসালো নিপীড়িত জাতির বিপ্লবের দুইস্তরের শক্তিসমূহ বর্ণনা করেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন যে বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের তিনটি ধরণ রয়েছে, যেমন গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পাদন করার মাধ্যমে পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি বিশ্ব বিপ্লবকে সেবা করছে এবং চেয়ারম্যান গনসালো বিশ্ববিপ্লবে অবদান রাখছেন। আমরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনসালো চিন্তাধারা সহকারে চেয়ারম্যান গনসালো প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক বিপ্লবের লাইনে রয়েছি।

.         আজকে গণতান্ত্রিক বিপ্লব কীভাবে প্রযুক্ত হচ্ছে?

পেরুতে ৭ বছরের গণযুদ্ধের শেষে গনসালো চিন্তাধারার ন্যায্যতা ও সঠিকতা প্রকাশিত হয় এবং আমরা দেখি পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি সভাপতি গনসালোর নেতৃত্বে সশস্ত্র গরীব কৃষককে নেতৃত্ব দিচ্ছে, সর্বহারা কর্তৃত্বে শ্রমিক-কৃষক-ক্ষুদে বুর্জোয়াদের যৌথ একনায়কত্ব গঠন করছে, মাঝারি বুর্জোয়াদের স্বার্থ দেখছে আর তের শতাব্দীর প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র ধ্বংস করছে। এটা হচ্ছে একনায়কত্ব যা গনকমিটির মাধ্যমে এগিয়ে যায়, আজকে যা গোপন, যা হচ্ছে নয়া রাষ্ট্রের প্রকাশ, যা গনসংসদের মাধ্যমে ক্ষমতা অনুশীলন করে যাতে প্রত্যেকে মত প্রকাশ করে, পছ্ন্দ করতে পারে, বিচার বিবেচনা করতে পারে অথবা মঞ্জুর করতে পারে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রয়োগ করে। তারা একনায়কত্ব ব্যবহারে ও প্রয়োজনে বল প্রয়োগে দ্বিধা করেনা তাদের ক্ষমতাকে রক্ষা করতে এবং শোষক শ্রেণীসমূহের থেকে অথবা তাদের অত্যাচারী, গ্যামোনেল অথবা দালালদের হাত থেকে রক্ষায়। এভাবে একটা নয়া রাজনীতি নির্দিষ্ট করে আর নীচ থেকে ক্ষমতা দখলে অগ্রসর হয়। এটা সমাজের ভিত্তি আধা-সামন্ততন্ত্রকে ধ্বংস করছে এবং একটা নয়া অর্থনীতি প্রয়োগ করার মাধ্যমে উrপাদনের নয়া সামাজিক সম্পর্ক সূচিত করছে, আধা-সামন্ততন্ত্রের বিবর্তনকে মোকাবেলার কৃষি কৌশল হিসেবে যৌথ সম্পত্তির লক্ষ্যে ও অযৌথ সম্পত্তি পরিহার করে, ধনী কৃষকদের নিরপেক্ষ বানিয়ে, মাঝারী কৃষকদের জয় করে এবং গরীব কৃষকদের ওপর ভিত্তি করে “যে জমি চাষ করে তার হাতে জমি” কৃষি কর্মসূচী, বাজেয়াপ্তকরণ ও মাথাপিছু বন্টনের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেঃ ধ্বংসের পরিকল্পনা,যার নির্দিষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে আধা-সামন্তবাদী সম্পর্ক ধ্বংস করা,উৎপাদিকা শক্তিসমূহকে বাঁধামুক্ত করতে সশস্ত্র এ্যাকশনের সাহায্যে গ্যামোন্যালদের ক্ষমতাচ্যুত করতে বিপ্লবের বর্শাফলক তাক করা। বীজ বপন করা এবং যৌথ ফসল কাটা অনুশীলন করা, যদিও এখনো আমাদের ক্ষমতা নেই আর ইজিপি পর্যাপ্ত বিকশিত হয়নি, সকল কৃষক যার যার জমিতে কাজ করে, সবসময় যৌথভাবে প্রধানত গরীব কৃষকদের পক্ষে। এসব ঘটনায় উদ্বৃত্তের প্রক্রিয়ায় ট্যাক্্েরর একটি রূপ হিসেব হয় আর উrপন্ন অথবা বীজ সবচেয়ে গরীব ও মাঝারী কৃষকদের মাঝে বন্টিত হয়। ধনী কৃষকদের জমি স্পর্শ করা হয়না যদিনা এসব জমি প্রয়োজন হয়, কিন্তু তাদের ওপর শর্ত আরোপ করা হয়।

এই রাজনৈতিক কর্মনীতি উচ্চ ইতিবাচক ফলাফল সৃষ্টি করেছে; এটা গরীবতমদের লাভবান করেছে, উrপন্ন দ্রব্যের মান বৃদ্ধি করেছে এবং সর্বোপরি এটা ভালভাবে রক্ষিত হয়। এই পলিসির সার হলো জমি দখল ও মাথাপিছু বরাদ্দ। সেই সঙ্গে, নির্দিষ্টভাবে নয়া কৃষক অঞ্চলসমূহে আমরা জমি দখল ও মাথাপিছু বরাদ্দ প্রয়োগ করেছি গ্রামাঞ্চলে সংগ্রামের আলো জ্বালিয়ে এবং পুুরোনো রাষ্ট্রের পরিকল্পনাসমূহ বাঁধাগ্রস্থ করার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি সরকারের, প্রতিটি মূর্ত সন্ধিক্ষণে সশস্ত্র প্রতিরক্ষা সংগঠিত করার মাধ্যমে।

আজকে আমরা দেশব্যাপী জমি দখলকে সাধারণীকরণ করেছি। অধিকন্তু সমগ্র জনগণের উrপাদন সংগঠন অর্জিত হয়েছে উrপন্ন দ্রব্য অথবা বীজ, জ্বালানীর সংগ্রহ অথবা কোচিনিল্লা (রং তৈরিতে ব্যবহৃত একধরণের চারা) এর বিনিময় সহকারে, উদাহারণস্বরূপ, সাম্প্রদায়িক দোকান, ব্যবসা এবং সূতাকাটার কারখানা। এই প্রক্রিয়া শহরে এ্যাকশনে সহায়তা করে, ডেমো-বুর্জোয়া অথবা কর্পোরেটিভ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় অথবা প্রাইভেট ও সাম্রাজ্যবাদী ব্যাংক, সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির কেন্দ্রগুলো অথবা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কেন্দ্রগুলো, শিল্প ও ‘গবেষণা’ কেন্দ্রগুলো, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদের ব্যবসাসমূহ, এবং উদাহারণস্বরূপ সেন্ট্রোমিন পেরু-এর ওপর ধ্বংসাত্মক আক্রমণ; প্রতিক্রিয়াশীলদের নির্বাচিত খতম, বিক্ষোভ প্রচারাভিযান ও সশস্ত্র প্রচার।

এবং এই নয়া রাজনীতি ও নয়া অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি নয়া সংস্কৃতি জন্ম নিচ্ছে যা প্রধানত গরীব কৃষকদের হৃদয়ে আলোড়ন তুলছে; মৌলিক শিক্ষা হচ্ছে একটি সমস্যা যা আমাদের মৌলিক দৃষ্টি আকৃষ্ট করে, আর তা সহশিক্ষা, শিক্ষা ও কাজের মাধ্যমে উৎসারিত হচেছ এবং শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ও সাধারনভাবে জনগনের জন্য একটি মূল কর্মসূচী। এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের স্বাস্থ্যসমস্যা ও বিনোদনও মহাগুরুত্বপূর্ণ। এভাবে জনগন সংগঠিত হচ্ছে, তাদের সমাবেশ গড়ে তুলছে সশস্ত্র জনতার সমুদ্রের লক্ষ্যে, সেইসাথে রাজনীতিকরণ, সংগঠিতকরণ ও সামরিকীকরণ  করে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ, গনজালো চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে পার্টির নেতৃত্বে গণযুদ্ধের অভিজ্ঞতা সহকারে এবং সর্বোপরি এবং প্রধানত নয়া ক্ষমতাসহকারে তা গণকমিটি হিসেবে সমর্থনের ঘাঁটি হিসেবে একে অনুশীলন করা, জয় করা, রক্ষা করা ও বিকশিত করার মাধ্যমে নয়াগণতন্ত্রের গণপ্রজাতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়া। এটা হচ্ছে গণতান্ত্রিক বিপ্লব যা পার্টি পেরুর সমাজের জন্য নির্দিষ্ট করেছে এক ঐক্যবদ্ধ গণযুদ্ধের মাধ্যমে প্রধানত গ্রামাঞ্চলে ও সম্পূরকভাবে শহরে চালিয়ে সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও আধা-সামন্তবাদকে দেশ থেকে উrখাত করার মাধ্যমে। এ সেই চলতি ফ্যাসিবাদী কর্পোরেটিভিস্ট আপ্রিস্টা সরকারের ভুঁয়ো ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লব’ নয় যে পেরুর সমাজের শ্রেণী ও শ্রেণীসংগ্রামের চরিত্রকে বিশেষত পুরোনো রাষ্ট্রের ভূস্বামী-আমলাতান্ত্রিক একনায়কত্ব চরিত্রকে আর একে উrখাত করতে হিংসার প্রয়োজনকে অস্বীকার করে। এটা একটা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী, গনসালো চিন্তাধারা গণতান্ত্রিক বিপ্লব, যা বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবকে সেবা করে ও সভাপতি গনসালোর কর্তৃত্বব্যাঞ্জক নেতৃত্ব দ্বারা নিশ্চয়তা প্রাপ্ত হয়ে গঠন করে প্রদীপ্ত ও বাড়ন্ত অগ্নিশিখা।

ভূস্বামী আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিপাত যাক!

নয়াগণতন্ত্রের গণপ্রজাতন্ত্রের জন্য!

পেরুভিয়ান বিপ্লব জিন্দাবাদ!

সূত্রঃ

পূবাসপা এমইউজি নেতৃত্ব কমিটির অনুবাদ সাহিত্য বিভাগ কর্তৃক মার্চ, ২০০৪ হাতে লেখা প্রকাশ- 

http://sarbaharapath.com/?p=494


ভারতঃ কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশ করায় ৪ দলিত মহিলাকে জরিমানা উচ্চ বর্ণের

rgW3006_caste_wideweb__470x293,0

কর্ণাটকের এক মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য ৪ দলিত মহিলা প্রবেশ করায় তাঁদের উপর জরিমানা ধার্য্য করেছে গ্রামের উচ্চবর্ণের লোকেরা। যদিও ওই মহিলার জরিমানা দিতে অস্বীকার করেছেন। কারণ মন্দিরে তাঁরাও চাঁদা দেন, তাঁদেরও অধিকার আছে। এই কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালুরুর আইটি অগ্রগতি নিয়ে এরপরও বড়াই করার কোন মানে হয় কি?

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=4631