কমরেড মাও সে তুঙের গুরুত্বপুর্ণ রচনা: বর্তমান পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়

mao-tse-tung

মাও সে তুঙ

বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের করণীয়*

ডিসেম্বর ২৫, ১৯৪৭

*এই রিপোর্ট কমরেড মাও সেতুঙ কর্তৃক রচিত হয়েছিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির ডিসেম্বর ২৫-২৮, ১৯৪৭-এ উত্তর সেনশীর মিচি কাউন্টির ইয়াঙচিয়াকৌ-এ অনুষ্ঠিত অধিবেশনে। উপস্থিত হতে সক্ষম কেন্দ্রের সদস্য ও বিকল্প সদস্যদের ছাড়াও শেনসি-কানসু-নিঙশিয়া সীমান্ত অঞ্চলের ও শানসি-সুইইউয়ান সীমান্ত অঞ্চলের দায়িত্বশীল কমরেডগণ উপস্থিত ছিলেন। সভা এই রিপোর্ট আলোচনা ও গ্রহণ করে এবং কমরেড মাও সেতুঙ কর্তৃক লিখিত আরেকটি দলিলঃ “বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ণের কিছু পয়েন্ট” (এই chairman-mao-anyuan_smখন্ডের পৃ ৮৭-৮৮ দেখুন)। কমরেড মাও সেতুঙের রিপোর্ট সম্পর্কে সভার সিদ্ধান্ত বলেঃ “এই রিপোর্ট হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল চিয়াং কাইশেক চক্রের উচ্ছেদ এবং একটা নয়া গণতান্ত্রিক চীনের প্রতিষ্ঠার সমগ্র পর্যায়কালের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের কর্মসূচিগত দলিল। সমগ্র পার্টি ও সমগ্র সৈন্যবাহিনীকে এই দলিলের ওপর প্রচণ্ড শিক্ষা চালাতে হবে এবং কঠোরভাবে অনুশীলন করতে হবে, এর সাথে যুক্তভাবে অক্টোবর ১০, ১৯৪৭-এ প্রকাশিত দলিলসমূহ যথা, ‘চীনা গণমুক্তি বাহিনীর ইশতেহার’, ‘চীনা গণমুক্তি বাহিনীর শ্লোগানসমূহ’, ‘তিনটি বৃহত শৃঙ্খলা ও মনোযোগ দেবার আটটি ধারা পুন ইস্যুকরণের ওপর নির্দেশাবলী’, ‘চীনের ভুমিআইনের রূপরেখা’ এবং (চীনের ভুমিআইনের রূপরেখার) প্রচার সম্পর্কে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির সিদ্ধান্ত’ । বিভিন্ন স্থানে কর্মনীতি বাস্তবায়নে এই রিপোর্ট থেকে যে কোন বিচ্যুতিকে ততক্ষণাত শুদ্ধিকরণ করতে হবে।” সভায় গৃহীত অন্য গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত গুলি ছিলঃ

() চীনের গণ বিপ্লবী যুদ্ধকে অব্যাহতভাবে পুর্ণ বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকল প্রচেষ্টা চালাতে হবে। জনগণের ওপর তীব্র আক্রমণ চালানোর জন্য বিশ্রাম ও পুনর্গঠনের জন্য সময় নিতে থামানোর রণকৌশল (শান্তি আলোচনা) ব্যবহারে শত্রুকে অনুমোদন দেওয়া যাবেনা।

() বিপ্লবী কেন্দ্রিয় সরকার গঠণে সময় তখনো পরিপক্ক হয়নি, যা আমাদের বাহিনীর বৃহত্তর বিজয় অর্জনের সাথে বিবেচিত হবে, এবং সংবিধানের প্রচার এমনকি আরো ভবিষ্যতের বিষয়।

সভা পার্টিতে বর্তমান প্রবণতাসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে এবং ভুমি সংস্কার ও গণ আন্দোলনের কিছু কর্মনীতি নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনার ফলাফলসমূহ কমরেড মাও সেতুঙ কতৃক লেখা “পার্টির বর্তমান কর্মনীতির কিছু গুরুত্বপুর্ণ সমস্যা সম্পর্কে” (দেখুন এই খন্ডের পৃ ১৮১-৮৯)-এই রিপোর্ট দিয়ে শুরু হওয়া এবং “পরিস্থিতি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি” দিয়ে শেষ হওয়া, মার্চ ২০, ১৯৪৮ (পৃ ২১৯-২৬) লেখা হয়েছিল ইয়াঙচিয়াকৌ, মিচি কাউন্টি, উত্তর শেনসিতে।

চীনা বিপ্লবী যুদ্ধ এখন একটা ক্রান্তি লগ্নে এসে পৌঁচেছে। তাহচ্ছে, চীনা গণমুক্তি বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পা চাটা কুকুর চিয়াং কাই-শেকের কয়েক মিলিয়ন প্রতিক্রিয়াশীল সৈন্যের আক্রমণ (রণনৈতিক-বাং অনুবাদক) কে পরাজিত করেছে এবং আক্রমণে (রণনৈতিক-বাং অনুবাদক) চলে গেছে। ইতিমধ্যে প্রথম বছরের বর্তমান যুদ্ধে জুলাই ১৯৪৬ থেকে জুন ১৯৪৭ পর্যন্ত গণমুক্তি বাহিনী কয়েকটি ফ্রন্টে চিয়াং কাইশেকের আক্রমণকে পরাজিত করেছে এবং তাকে আত্মরক্ষায় যেতে বাধ্য করেছে। এবং যুদ্ধের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম চতুর্থাংশে, জুলাই-সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭-এ গণমুক্তি বাহিনী জাতীয় পর্যায়ে আক্রমণে চলে গেছে এবং মুক্ত এলাকাগুলিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের লক্ষ্য থেকে সেখানে চিয়াং কাইশেকের যুদ্ধ চালিয়ে যাবার প্রতিবিপ্লবী পরিকল্পনাকে চুর্ণ করেছে। এখন যুদ্ধ প্রধানভাবে আর মুক্ত এলাকাগুলোতে হচ্ছেনা বরং কুওমিনতাঙ এলাকাগুলোতে হচ্ছে এবং গণমুক্তি বাহিনীর প্রধান শক্তি লড়াইকে কুওমিনতাঙ এলাকায় [১] নিয়ে গেছে। চীনের এই ভুমিতে, গণমুক্তি বাহিনী  মার্কিন ও তার ভৃত্য চিয়াং কাইশেক দস্যু দলের প্রতিবিপ্লবের চাকাকে ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং তাকে ধ্বংসের পথে স্থাপন করেছে এবং বিপ্লবের জয়রথকে বিজয়ের পথে চালিত করেছে। এটা ইতিহাসের এক মোড়। এটা হচ্ছে চিয়াং কাইশেকের কুড়ি বছরের প্রতিবিপ্লবী শাসনের বেড়ে ওঠা থেকে বিলোপের মোড়। এটা এখন শত বছর বয়সী চীনে সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বৃদ্ধি থেকে বিলোপের মোড়। এটা একটা দুনিয়া কাঁপানো ঘটনা। এটা দুনিয়া কাঁপানো কারণ এটা সাড়ে ৪৭ কোটি জনসংখ্যার একটা দেশে সংঘটিত হচ্ছে এবং সংঘটিত হয়ে তা নিশ্চিতভাবে দেশব্যাপী বিজয়ের ফল ঘটাবে। অধিকন্তু, এটা দুনিয়া কাঁপানো কারণ তা প্রাচ্যে সংঘটিত হচ্ছে যেখানে ১০০ কোটি জনগণের বাস, মানবজাতির অর্ধেক, সাম্রাজ্যবাদী নিপীড়ণে ভুগছে। মুক্তির চীনা গণযুদ্ধের আত্মরক্ষাত্মক থেকে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে গমন এই নিপীড়িত জাতিসমূহকে আনন্দিত ও অনুপ্রাণিত না করে পারেনা। এটা ইউরোপ ও আমেরিকার বহু দেশে সংগ্রামরত নিপীড়িত জনগণের প্রতিও সহযোগিতা।

যেদিন থেকে চিয়াঙ কাইশেক প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধ শুরু করেছে, আমরা বলছি যে তাকে যে আমাদের অবশ্যই পরাজিত করতে হবে শুধু তাই নয় তাকে পরাজিত করতে আমরা সক্ষম। তাকে অবশ্যই আমরা পরাজিত করবো কারণ সে যে যুদ্ধ শুরু করেছে তা চীনা জাতির স্বাধীনতা ও চীনা জনগণের মুক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কর্তৃক পরিচালিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি এবং জাপ সাম্রাজ্যবাদের উচ্ছেদের পর চীনা জনগণের কর্তব্য ছিল চীনকে একটি কৃষীয় দেশ থেকে শিল্পীয় দেশে রূপান্তর করতে জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে এবং সাংস্কৃতিকভাবে নয়াগণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্পূর্ণ করা। কিন্তু সেসময় ফ্যাসিবাদ-বিরোধী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী সমাপ্তির পর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও বিভিন্ন দেশে তার দালালরা জার্মান ও জাপানী সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দালালদের জুতা পায়ে দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে, ইউরোপের জনগণতন্ত্রসমূহের বিরুদ্ধে,পুঁজিবাদী দেশসমূহের শ্রমিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে, উপনিবেশ ও আধা উপনিবেশসমূহের জাতীয় আন্দোলনসমূহের বিরুদ্ধে এবং চীনা জনগণের মুক্তির বিরুদ্ধে একটা প্রতিক্রিয়াশীল শিবির গঠণ করেছে। ঠিক এমনই এক সময়ে চিয়াং কাই-শেককে শীর্ষে রেখে চীনা প্রতিক্রিয়াশিলরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পা চাটা কুকুর হিসেবে কর্মরত হয়েছে, যেমনটা ওয়াঙ চিঙ-ওয়েই জাপানী সাম্রাজ্যবাদের জন্য করেছে, চীনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রয় করেছে এবং চীনা জনগণের মুক্তির অগ্রযাত্রাকে রোধ করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ শুরু করেছে। এমন একটা সময়ে আমরা যদি দুর্বলতা প্রদর্শন করতাম অথবা জমি ছেড়ে দিতাম এবং প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধকে বিপ্লবী যুদ্ধ দিয়ে বিরোধিতার জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর সাহস না করতাম, চীন এক অন্ধকার জগতে পরিণত হত এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যত শৃঙ্খলিত হয়ে পড়তো। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি চীনা গণমুক্তি বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছে চিয়াং কাই-শেকের আক্রমণের বিরূদ্ধে একটা দেশপ্রেমিক, ন্যায্য ও বিপ্লবী যুদ্ধ পরিচালনায়। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিজ্ঞানের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ও দেশিয় পরিস্থিতির একটা স্পষ্ট নির্দিষ্ট মূল্যায়ণ রচনা করার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিল যে দেশে ও বিদেশে প্রতিক্রিয়াশীলদের সকল আক্রমণকে যে শুধু পরাজিত করতে হবে তাই নয়, বরং পরাজিত করা সম্ভব। যখন আকাশে কাল মেঘ দেখা দেয় আমরা একে বলেছিলাম এটা কেবল অস্থায়ী এবং অন্ধকার শীঘ্রই দূরীভূত হবে আর সূর্য উদিত হবে। যখন চিয়াং কাই-শেক দস্যুদল জুলাই ১৯৪৬-এ দেশব্যাপী প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধ পরিচালনা করলো, তারা মনে করেছিল গণ মুক্তিবাহিনীকে পরাজিত করতে তাদের কেবল তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগবে। তারা হিসেব করে করে যে তাদের বিশ লাখের নিয়মিত বাহিনী রয়েছে, দশ লাখের বেশি অনিয়মিত এবং আরো দশ লাখ অথবা বেশি লোক সামরিক স্থাপনা অথবা পশ্চাদ এলাকার সশস্ত্র ইউনিটগুলোতে রয়েছে চল্লিশ লাখের বেশি সামগ্রিক সামর্থের অংশ হিসেবে, তারা আক্রমণে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সময় নিয়েছে; তারা বড় বড় শহরের ওপর পুননিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেছে; তারা দশ লক্ষ জাপানী দখলদার বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র দখল করেছে; এবং তারা মার্কিন সরকারের তরফ থেকে প্রচুর সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য পেয়েছে। তারা আরো হিসেব করে যে গণমুক্তি বাহিনী আটবছর জাপান-বিরোধী প্রতিরোধ যুদ্ধের পর ক্লান্ত এবং সংখ্যায় ও অস্ত্রশস্ত্রে কুয়োমিনতাং বাহিনীর চেয়ে অনেক কম, মুক্ত এলাকাসমূহের জনসংখ্যা দশকোটির অল্প কিছু বেশি, এই এলাকাসমূহের বেশিরভাগেই প্রতিক্রিয়াশিল সামন্তশক্তিকে এখনো পরিষ্কার করা হয়নি এবং ভুমিসংস্কার এখনো সার্বজনীনভাবে ও সমগ্রভাবে পরিচালনা করা হয়নি; নির্দিষ্টত, গণমুক্তিবাহিনীর পশ্চাদএলাকা এখনো সুসংহত করা হয়নি। এই মূল্যায়ণ থেকে অগ্রসর হয়ে চিয়াঙ কাই-শেক দস্যুবাহিনী চীনা জনগণের শান্তির আকাঙ্খাকে অগ্রাহ্য করলো এবং জানুয়ারী ১৯৪৬-এ স্বাক্ষরকৃত কুওমিনতাঙ ও কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে শান্তিচুক্তিকে ভঙ্গ করলো এবং সর্বদলীয় রাজনৈতিক পরামর্শক সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্তবলীকে এবং হঠকারি যুদ্ধ পরিচালনা করলো। আমরা তখন বললাম যে সামরিক শক্তিতে চিয়াং কাইশেকের শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে কেবল ক্ষণস্থায়ী একটা উপাদান যা কেবল সাময়িক সুবিধা দিতে পারে, একইভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী সহযোগিতাও তেমনি একটা উপাদান যা কেবল সাময়িক ভুমিকা নিতে পারে, যেখানে চিয়াং কাইশেকের যুদ্ধের জনগণ-বিরোধী চরিত্র এবং জনগণের অনুভূতি হচ্ছে সেই উপাদান যা অবিরাম ভুমিকা পালন করবে এবং ঠিক এই দিক থেকেই গণমুক্তিবাহিনী শ্রেষ্ঠতর অবস্থানে রয়েছে। গণমুক্তিবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত দেশপ্রেমিক, ন্যায্য ও বিপ্লবী চরিত্রের যুদ্ধ সারা দেশের জনগণের সমর্থন জয় করতে বাধ্য। এটাই ছিল চিয়াং কাইশেকের ওপর বিজয়ের রাজনৈতিক ভিত্তি। আঠারো মাসের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আমাদের বিচারকে পুরোপুরি নিশ্চিত করেছে।

সতের মাসের লড়াইয়ে (জুলাই ১৯৪৬ থেকে নভেম্বর ১৯৪৭ পর্যন্ত; ডিসেম্বরের হিসাব এখনও পাওয়া যাচ্ছেনা), আমরা চিয়াং কাইশেকের ১,৬৯০,০০০ নিয়মিত ও অনিয়মিত সৈন্যকে খতম, আহত ও বন্দী করেছি যার মধ্যে ৬,৪০,০০০ নিহত ও আহত এবং ১,০৫০,০০০ বন্দী হয়েছে। এভাবে আমরা চিয়াং কাইশেকের আক্রমণকে পরাজিত করতে, মুক্ত এলাকাসমূহের প্রধান অঞ্চলগুলোকে রক্ষা করতে এবং আক্রমণাত্মক পর্যায়ে যেতে সক্ষম। সামরিক দিক থেকে বলতে গেলে আমরা এটা করতে সক্ষম কারন আমরা সঠিক রণনীতি প্রয়োগ করেছি। আমাদের অপারেশনের মূলনীতিমালা নিম্নরূপঃ

.          বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত শত্রুবাহিনীকে প্রথমে আক্রমণ করো: কেন্দ্রিভূত শক্তিশালি শত্রুবাহিনীকে পরে আক্রমণ করো

images111.          ছোট, মাঝারি শহর ও বিশাল গ্রামাঞ্চলকে প্রথমে দখল করো, বড় শহরগুলিকে পরে দখল করো

.         শত্রুর কার্যকরী শক্তিকে ধ্বংস করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করো, কোন শহর অথবা স্থানকে দখল করা অথবা বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য করোনা। কোন শহর বা স্থান দখল করা বা বজায় রাখা হচ্ছে শত্রুর কার্যকরি শক্তি ধ্বংস করার ফল, এবং একটা শহর অথবা স্থান প্রায়শ বারবার হাত বদলের মধ্য দিয়ে দখল অথবা বজায় রাখা যায়।

প্রতিটি লড়াইয়ে চরমভাবে উতকৃষ্ট শক্তি কেন্দ্রিভূত করো (শত্রুর দুই, তিন, চার এবং কখনো কখনো এমনকি পাঁচ অথবা ছয় গুণ), শত্রুবাহিনীকে পুর্ণরূপে ঘেরাও করো, তাদের পরিপুর্ণভাবে ধ্বংস করতে সচেষ্ট হও এবং তাদেরকে জাল থেকে পালিয়ে যেতে দিওনা। বিশেষ পরিস্থিতিতে শত্রুর ওপর মরণ আঘাত হানার পদ্ধতি ব্যবহার করো, অর্থাত আমাদের সকল শক্তিকে একত্রিত করে

.     সম্মুখভাগে (ফ্রন্টাল) আক্রমণ করা এবং একটি অথবা উভয় পার্শ্ব (ফ্ল্যাঙ্ক) কে আক্রমণ করো শত্রুর একটি অংশকে উতখাত করে অপর অংশের পিছু ধাওয়া করার লক্ষ্য থেকে যাতে আমাদের বাহিনী অন্য শত্রুবাহিনীকে ধ্বংস করতে দ্রত সৈন্যদল প্রেরণ করতে পারে। ধ্বংসাত্মক লড়াই এড়াতে চেষ্টা করো যেখানে আমরা যা অর্জন করি তার চেয়ে বেশি খোয়াই অথবা এমনকি ভেঙে যায়। এইভাবে, সমগ্রভাবে আমরা দুর্বল হলেও (সংখ্যার দিক থেকে), প্রতিটি অংশে ও প্রতিটি নির্দিষ্ট অভিযানে আমরা শ্রেষ্ঠতর এবং এটা অভিযানে বিজয় নিশ্চিত করে। কালক্রমে সমগ্রভাবে আমরা শ্রেষ্ঠতর হবো এবং শেষপর্যন্ত সকল শত্রুকে উতখাত করবো।

.     অপ্রস্তুত অবস্থায় যুদ্ধ করবেনা, বিজয় নিশ্চিত না হলে কোন যুদ্ধ করবেনা, প্রতিটি খন্ডযুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ভালভাবে প্রস্তুত হওয়ার জন্য সকল প্রচেষ্টা চালাও, শত্রু ও আমাদের মধ্যে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী বিজয় নিশ্চিত করতে সকল প্রচেষ্টা চালাও।

.     আমাদের লড়াইয়ের স্টাইলের পুর্ণ প্রয়োগ ঘটাও—-যুদ্ধে সাহসিকতা, আত্মত্যাগে ভীত না হওয়া, ক্লান্তিতে ভীত না হওয়া এবং অব্যাহত লড়াই (অর্থাত স্বল্পসময়ের মধ্যে বিশ্রামহীন ধারাবাহিক খন্ডযুদ্ধসমূহ)

.     শত্রুকে চলমান যুদ্ধের মাধ্যমে উতখাতের প্রচেষ্টা চালান। একইসাথে, অবস্থান যুদ্ধের রণকৌশল এবং শত্রুর সুসজ্জিত অবস্থান ও শহরসমূহকে দখলের দিকে মনোযোগ দাও।

.     শহর আক্রমণের ক্ষেত্রে, দুর্বলভাবে রক্ষিত শত্রুর স্থাপনা ও শহরগুলিকে দৃঢ়তার সাথে দখল করো। পরিস্থিতি অনুমোদন করলে যথেষ্ট শক্তিশালীভাবে রক্ষিত শত্রুর সকল স্থাপনা ও শহরগুলিকে সুবিধাজনক সময়ে দখল করো। অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে রক্ষিত শত্রুর স্থাপনা ও শহরগুলির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো এবং দখল করো।

.     শত্রুর সকল অস্ত্র ও অধিকাংশ বন্দীযোদ্ধার দ্বারা আমাদের সামর্থ পুর্ণ করো। আমাদের জনশক্তি ও সামগ্রীর প্রধান উতস হচ্ছে সম্মুখভাগ (ফ্রন্ট)।

.     আমাদের বাহিনীর অভিযান থেকে বিশ্রাম, ট্রেনিং এবং সুসংহতকরণের মধ্যে বিরতিসমূহের সদ্ব্যবহার করুন। বিশ্রাম, ট্রেনিং এবং সুসংহতকরণ সাধারণভাবে খুব দীর্ঘ হওয়া উচিত হবেনা এবং যতদূর সম্ভব শত্রুকে নিঃশ্বাস ফেলার সময় দেওয়া যাবেনা।

এগুলো হচ্ছে সেই প্রধান প্রধান পদ্ধতি যা গণমুক্তিবাহিনী চিয়াং কাইশেককে পরাজিত করতে প্রয়োগ করেছে। এগুলো হচ্ছে দেশী ও বিদেশী শত্রুদের বিরুদ্ধে বহু বছরের লড়াইয়ে গণমুক্তিবাহিনীর পোড় খাওয়ার ফল এবং আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপুর্ণ। চিয়াং কাইশেক দস্যুদল আর চীনে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী সামরিক কর্তাব্যক্তিরা আামাদের এই সামরিক পদ্ধতির সাথে সুপরিচিত। সেগুলোকে মোকাবেলা করার পথ খুঁজে পেতে চিয়াং কাইশেক প্রায়ই তার জেনারেল ও ফিল্ড অফিসারদের ট্রেনিংয়ের জন্য সমাবেশিত করেছে এবং যুদ্ধে দখলকৃত আমাদের সামরিক সাহিত্য ও দলিলসমূহ তাদের অধ্যয়নের জন্য দিয়েছে। মার্কিন সামরিক কর্তাব্যক্তিরা চিয়াং কাইশেকের প্রতি একের পর এক রণনীতি ও রণকৌশলের পরামর্শ দিয়েছে গণমুক্তিবাহিনীকে ধ্বংস করতে; তারা চিয়াং কাইশেকের সৈন্যদলকে ট্রেনিং দিয়েছে এবং সামরিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছে। কিন্তু এর কোনটিই চিয়াং কাইশেক দস্যুদলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনা। কারণ হচ্ছে, আমাদের রণনীতি ও রণকৌশল গণযুদ্ধভিত্তিক, জনগণবিরোধী কোন বাহিনী আমাদের রণনীতি ও রণকৌশল ব্যবহার করতে পারেনা। গণযুদ্ধের ভিত্তিতে এবং সৈন্যবাহিনী এবং জনগণের মধ্যেকার, কমান্ডার ও যোদ্ধাদের মধ্যেকার এবং শত্রুসৈন্যদলের ভেঙে দেওয়ার ঐক্যের নীতিমালার ভিত্তিতে গণমুক্তিবাহিনী প্রচণ্ড বিপ্লবী রাজনৈতিক কাজ বিকশিত করেছে যা হচ্ছে শত্রুর ওপর বিজয় অর্জনের একটা গুরুত্বপুর্ণ উপাদান। যখন আমরা অনেক শহর নিজেদের উদ্যোগে ছেড়ে দিলাম উতকৃষ্টতর শত্রুবাহিনীর বিপজ্জনক আক্রমণ এড়াতে এবং শত্রুকে চলমান যুদ্ধে ধ্বংস করতে আমাদের বাহিনীকে স্থানান্তর করলাম, আমাদের শত্রুরা অহংকারী হয়ে উঠলো। তারা একে তাদের বিজয় এবং আমাদের পরাজয় হিসেবে নিল। এই ঐতিহাসিক “বিজয়”-এ তারা দুর্বল হয়ে পড়লো। যে অপরাহ্নে সে চ্যাঙাচিয়াকৌ দখল করলো, চিয়াঙ কাইশেক তার প্রতিক্রিয়াশিল জাতীয় সম্মেলন (এসেম্বলী) আহ্বানের আদেশ দিল। যেন সেই মুহুর্ত থেকে তার প্রতিক্রিয়াশিল শাসকগোষ্ঠী তাইশান পর্বতের মতো স্থায়ী হয়ে গেছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরাও আনন্দে নেচেছে, যেন চীনকে মার্কিন উপনিবেশ বানানোর তাদের বন্য পরিকল্পনা এখন বাঁধাহীনভাবে বাস্তবায়িত হতে পারবে। কিন্তু কিছু সময় যেতে না যেতেই চিয়াং কাইশেক ও তার মার্কিন প্রভুরা তাদের সুর পরিবর্তন করতে শুরু করলো। এখন আমাদের দেশি বিদেশি সব শত্রুই হতাশাবাদে আচ্ছন্ন। তারা একটা সংকট নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে আর বিলাপ করছে এবং আনন্দের কোন চিহ্নই আর প্রকাশ করছেনা। অতীত আঠার মাসে যুদ্ধে চিয়াং কাইশেকের প্রায় সকল উচ্চ পদস্থ ফিল্ড কমান্ডারকে যুদ্ধে পরাজয়ের কারণে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে লিউ ছিহ (চেঙচৌ), শুয়েহ ইউয়েহ (সুচৌ), উ-চি-ওয়েই (উত্তর কিয়াংসু), তাঙ এন-পো (দক্ষিণ সানতুঙ), ওয়াঙ চুঙ লিয়েন (উত্তর হুনান), তু ইউ-মিঙ এবং সিউঙ শিহ-হুই (সেনিয়াঙ) এবং সুন লিয়েন-চুঙ (পিপিঙ)। চেন চেঙকেও চিয়াং কাইশেকের চিফ অব স্টাফ হিসেবে অপারেশনের সামগ্রিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে উত্তর-পুর্বাঞ্চল[২)-এ একটা একক ফ্রন্টকে পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োযিত করে পদাবনতি ঘটানো হয়েছে। যাহোক, এটা এমন একটা সময়ে যখন সামগ্রিক কমান্ডের দায়িত্ব চিয়াং নিজ হাতে নিল চেন চেঙের স্থলে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে এবং তার বাহিনী আক্রমণাত্মক অবস্থা থেকে আত্মরক্ষার অবস্থায় নেমে গেছে, যেখানে গণমুক্তিবাহিনী আত্মরক্ষার অবস্থা থেকে আক্রমণাত্মক পর্য়ায়ে প্রবেশ করেছে। এখন প্রতিক্রিয়াশিল চিয়াং কাইশেক চক্র ও তাদের মার্কিন  প্রভুদের উচিত তাদের ভুল বুঝতে পারা। তারা শান্তির জন্য ও গৃহযুদ্ধের বিরুদ্ধে সকল প্রচেষ্টাকে কাপুরুষোচিত ও দুর্বলতা হিসেবে দেখেছে যাকে চীনের জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি জাপানের আত্মসমর্পণের পর দীর্ঘ পর্যায়কাল ধরে। তারা নিজেদের সামর্থের অতিমূল্যায়ণ করে, বিপ্লবের শক্তির অবমূল্যায়ণ করে তড়িঘড়ি যুদ্ধের সূচনা ঘটায় এবং এভাবে নিজেদের ফাঁদে আটকা পড়ে। আমাদের শত্রুর রণনৈতিক হিসাব নিকাশ ব্যর্থ হয়েছে সম্পূর্ণভাবে।

গণমুক্তিবাহিনীর পশ্চাদএলাকাগুলো এখন আঠার মাস আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। কারণ হচ্ছে আমাদের পার্টি কৃষকদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ভুমি সংস্কার চালিয়েছে। জাপান বিরোধী প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় আমাদের পার্টি তার নিজ উদ্যোগে এবং কুওমিনতাঙের সাথে জাপ বিরোধী যুক্তফ্রন্ট গঠণের জন্য এবং সেসব লোকের সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে যারা তখনো জাপান সাম্রাজ্যবাদকে বিরোধিতা করে, ভূস্বামীদের ভুমি বাজেয়াপ্ত করে কৃষকদের মধ্যে বিতড়নের যুদ্ধপূর্ব কর্মনীতি পরিবর্তন করে খাজনা ও সুদ কমানোর কর্মনীতি আনে। এটা ছিল সমগ্রভাবে প্রয়োজনীয়। জাপানীদের আত্মসমর্পণের পর কৃষকরা জরুরীভাবে ভুমি দাবী করলো এবং আমরা একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের ভুমি কর্মনীতি খাজনা ও সুদ হ্রাস থেকে পরিবর্তন করে ভুস্বামীদের ভুমি বাজেয়াপ্ত করে কৃষকদের মধ্যে বিতড়ণের। মে ৪, ১৯৪৬ [৩] তারিখে আমাদের পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটি কর্তৃক ইস্যুকৃত নির্দেশনা এই পরিবর্তনকে সূচিত করে। সেপ্টেম্বর ১৯৪৭-এ আমাদের পার্টি জাতীয় ভুমি সম্মেলন আহ্বাণ করে এবং চীনের ভুমি আইন রূপরেখা [৪] রচনা করে যা তড়িত সকল এলাকায় বাস্তবায়ন করা হয়। এই মানদন্ড গত বছরে তুলে ধরা “৪ঠা মে নির্দেশনা” কর্মনীতিকে পুননিশ্চিতই শুধু করেনা বরং সেই নির্দেশনার সামগ্রিক কিছু ঘাটতিকেও খোলামেলাভাবে সংশোধিত করে। ভুমি আইন রূপরেখা মাথাপিছু ভুমির সমবন্টন [৫] যোগান দেয় সামন্তীয় ও আধা-সামন্তীয় ভুমিব্যবস্থা বিলোপের নীতির ভিত্তিতে এবং যে চাষ করে তার হাতে জমির নীতি কার্যকর করে। এটা হচ্ছে সেই পদ্ধতি যা সর্বাধিক সমগ্রভাবে সামন্তব্যবস্থাকে বিলোপ করে এবং চীনের ব্যাপক কৃষক জনগণের চাহিদাকে সম্পূর্ণভাবে পুরণ করে। ভুমিসংস্কার দৃঢ়ভাবে ও সমগ্রভাবে চালাতে গ্রামাঞ্চলে সংস্কার চালাতে আইনি কাঠামো হিসেবে সংগঠিত করা প্রয়োজন, খামার মজুর, গরীব কৃষক, মাঝারি কৃষক ও তাদের নির্বাচিত কমিটিসমূহসমেত ব্যাপকতম গণভিত্তির কৃষকসংস্থাই শুধু নয় বরং সর্বাগ্রে গরীব কৃষক ও খামার মজুরদের নিয়ে গঠিত গরীব কৃষক লীগ ও তাদের নির্বাচিত কমিটি, এবং গরীব কৃষক লীগকে হতে হবে সকল গ্রামীন সংগ্রামের মেরুদন্ড। আমাদের কর্মনীতি হচ্ছে গরীব কৃষকদের ওপর নির্ভর করা এবং মাঝারি কৃষকদের সাথে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া যাতে ভুস্বামী ও পুরোনো ধরণের ধনী কৃষকদের কর্তৃক চালিত সামন্তীয় ও আধা-সামন্তীয় শোষণের ব্যবস্থা বিলোপ করা যায়। ভুস্বামী অথবা ধনীকৃষকদের কৃষক জনগণের চেয়ে বেশি ভুমি ও সম্পত্তি দেয়া যাবেনা। কিন্তু ১৯৩১-৩৪-এ পরিচালিত ভ্রান্ত অতিবাম “ভুস্বামীদের কোন জমি নয় এবং ধনীকৃষকদের খারাপ জমি বন্দোবস্ত দেয়া”র কর্মনীতির পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। যদিও গ্রামীণ  জনসংখ্যার মধ্যে ভুস্বামী ও ধনীকৃষকদের অনুপাত স্থানভেদে ভিন্ন হয়, সাধারণভাবে তা শতকরা ৮ ভাগ (গৃহস্থালির দিক থেকে) যেখানে তারা সকল ভুমির ৭০ থেকে ৮০ শতকরার মালিক। তাই, আমাদের ভুমি সংস্কারের নিশানা হচ্ছে কতিপয়, যেখানে গ্রামের জনগণ যারা ভুমি সংস্কারের জন্য যুক্ত ফ্রন্টে অংশ নিতে পারে ও নেওয়া উচিত–হচ্ছে বহু–৯০ শতকরার বেশি (গৃহস্থালি হিসেবে)। এখানে দুটি মৌলিক নীতিকে অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে। প্রথমত, গরীব কৃষক ও খামার মজুরদের চাহিদাকে অবশ্যই পুরণ করতে হবে;এটা হচ্ছে ভুমি সংস্কারে সবচাইতে মৌলিক কাজ। দ্বিতীয়ত, মাঝারি কৃষকদের সাথে অবশ্যই দৃঢ় ঐক্য থাকতে হবে, এবং তাদের স্বার্থের ক্ষতি করা যাবেনা। যতক্ষণ পর্যন্ত এই দুটি মৌলিক নীতিকে আঁকড়ে ধরবো, আমরা নিশ্চিতভাবে আমাদের ভুমিসংস্কারের কর্তব্যগুলিকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবো। যে কারণে সমবন্টনের নীতির অধীনে বাড়তি ভুমি এবং পুরনো ধরণের ধনী কৃষকদের সম্পত্তির অংশ বন্টনের জন্য হস্তান্তর করতে হবে তাহচ্ছে চীনে ধনীকৃষকদের সাধারণভাবে এবং বিরাট মাত্রায় সামন্তীয় ও আধা-সামন্তীয় শোষক চরিত্র রয়েছে; তাদের অধিকাংশই জমির খাজনা নেয় এবং সুদী কারবার করে এবং তারা আধা-সামন্তবাদী নিয়মে শ্রমিক ভাড়া করে [৬]। অধিকন্তু, যেহেতু ধনী কৃষকদের অধিক ও অধিকতর ভাল জমি রয়েছে [৭], গরীব কৃষক ও খামার মুজরদের চাহিদা পুরণ হবেনা যদিনা এই ভুমি বন্টন হয়। যাহোক, ভুমি আইনের রূপরেখার সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণভাবে ধনীকৃষকদেরকে ভুস্বামীদের থেকে ভিন্নভাবে সাধারণভাবে দেখতে হবে। ভুমিসংস্কারে মাঝারি কৃষকরা সমবন্টনকে অনুমোদন করে কারণ এটা তাদের স্বার্থের কোন ক্ষতি করেনা। সমবন্টনের অধীনে, মাঝারি কৃষকদের একটা অংশের ভুমি অপরিবর্তিত থাকে এবং আরেকটি অংশের ভুমি বৃদ্ধি পায়, কেবল স্বচ্ছল কৃষকদের একটি অংশের রয়েছে সামাণ্য বাড়তি ভুমি এবং তারা একে সমবন্টনের জন্য হস্তান্তরে ইচ্ছুক কারণ তাতে তাদের ভুমি করের বোঝা লাঘব হবে। তাসত্ত্বেও, বিভিন্ন স্থানে ভুমির সমবন্টন চালানোর সময়, মাঝারি কৃষকদের মতামত শোনা দরকার এবং  তারা আপত্তি করলে তাদের ছাঁড় দিতে হবে। সামন্ত শ্রেণীর ভুমি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বন্টন করার সময় কিছু মাঝারি কৃষকদের প্রয়োজন মনোযোগ পেতে হবে। শ্রেণীচরিত্র নির্ধারণের সময় যতন নিতে হবে যাতে মাঝারি কৃষকদের ধনী কৃষক হিসেবে শ্রেণীবিন্যাস করা না হয়। সক্রিয় মাঝারি কৃষকদের কৃষক সহযোগিতা কমিটি-তে এবং সরকারে নিতে হবে। ভুমিকরের বোঝা এবং যুদ্ধকে সহযোগিতা করার দিক থেকে নীতিসম্মত ও যুক্তিযুক্ত কিনা তা অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে। মাঝারি কৃষকদের সাথে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার রণনৈতিক কর্তব্য বাস্তবায়নে এগুলো হচ্ছে নির্দিষ্ট কর্মনীতি যাকে আমাদের পার্টিকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। সমগ্র পার্টিকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে ভুমি ব্যবস্থার পুর্ণাঙ্গ সংস্কার হচ্ছে চীনের বিপ্লবের বর্তমান স্তরে একটা মৌলিক কর্তব্য। আমরা যদি ভুমি সমস্যাকে সার্বজনীনভাবে ও পুর্ণাঙ্গভাবে সমাধান করতে পারি আমাদের সকল শত্রুদের পরাজিত করার সবচাইতে মৌলিক শর্ত আমরা অর্জন করবো।

দৃঢ়ভাবে ও সমগ্রভাবে ভুমিসংস্কার চালাতে ও গণমুক্তিবাহিনীর পশ্চাদএলাকাকে সুসংহত করতে আমাদের পার্টির সকল স্তরকে শিক্ষিত ও পুনর্গঠিত করা প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে, জাপবিরোধী প্রতিরোধযুদ্ধের সময়কালে পার্টির ভেতরে শুদ্ধি আন্দোলন [৮] ছিল সফল। এর প্রধান সফলতা ছিল এই যে আমাদের নেতৃস্থানীয় সংস্থাগুলো এবং বিপুলসংখ্যক কেডার ও পার্টিসদস্য আমাদের মূল ধারার ওপর দৃঢ়তর আত্মস্থকরণ অর্জন করেছে, যাহচ্ছে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের সার্বজনীন সত্যকে চীনের বিপ্লবের মূর্ত অনুশীলনের সাথে ঐক্যবদ্ধ করা। এই দিক থেকে এটা প্রতিরোধযুদ্ধের পুর্বেকার সকল ঐতিহাসিক স্তরের তুলনায় আমাদের পার্টির একটা বড় অগ্রপদক্ষেপ। যাহোক, পার্টির স্থানীয় সংগঠণসমূহে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্তরে সংগঠনসমূহে আমাদের স্তরসমূহের শ্রেণী-গঠণে ভেজাল সমস্যা এবং আমাদের কাজের স্টাইল এখনো অমীমাংসিত। ১৯৩৭-৪৭ এই এগার বছরে আমাদের পার্টির সদস্যসংখ্যা কয়েক দশক সহস্র থেকে ২,৭০০,০০০-এ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আর এটা একটা বড় উলম্ফণ। এটা আমাদের পার্টিকে চীনের ইতিহাসের যেকোনটির চেয়ে অধিক শক্তিশালি পার্টিতে পরিণত করেছে। এটা জাপানী সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করতে, চিয়াং কাইশেকের আক্রমণকে প্রতিহত করতে এবং ১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার মুক্ত এলাকাকে নেতৃত্ব করতে এবং বিশ লাখের শক্তিশালি গণমুক্তিবাহিনীকে নেতৃত্ব করতে সক্ষম করে তুলেছে। কিন্তু সীমাবদ্ধতাও জন্ম নিয়েছে। বহু ভুস্বামী, ধনীকৃষক ও বদমাইসরা সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের পার্টিতে অনুপ্রবেশ করেছে। গ্রামাঞ্চলে তারা বেশকিছু পার্টি, সরকার ও গণ সংগঠণ নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের ক্ষমতা অন্যায়ভাবে অসদ্ব্যবহার করে, জনগণের ওপর ছড়ি ঘোরায়, পার্টির কর্মনীতিকে বিকৃত করে এবং এভাবে এসব সংগঠণকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং ভুমিসংস্কারের সামগ্রিক হওয়াকে প্রতিরোধ করে। এই মারাত্মক পরিস্থিতি আমাদের পার্টির স্তরসমূহকে শিক্ষিতকরণ ও পুনর্গঠণের কর্তব্য আমাদের প্রদান করে। এই কর্তব্য সম্পাদন না করে গ্রামাঞ্চলে আমরা অগ্রসর হতে পারিনা। পার্টির জাতিয় ভুমি সম্মেলন এই সমস্যাকে সমগ্রভাবে আলোচনা করেছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ ও পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এগুলো এখন সবজায়গায় দৃঢ়ভাবে প্রযুক্ত হচ্ছে ভুমির সমবন্টনের সিদ্ধান্তের সাথে একত্রিতভাবে। সবার আগে আসে পার্টির মধ্যে সমালোচনা ও আত্মসমালোচনা গড়ে তোলা এবং স্থানীয় সংগঠণের পার্টি-লাইনের থেকে বিচ্যুত ভ্রান্ত চিন্তা ও মারাত্মক পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্মোচন। সকল পার্টিসদস্যকে অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে যে ভুমি সংস্কারের সমাধান এবং দীর্ঘকালব্যাপী চালিত যুদ্ধের সমর্থনের জন্য নির্ধারক যোগসূত্র হচ্ছে পার্টির সংগঠন থেকে ভেজাল অপসারণ করা এবং পার্টির স্তরসমূহের শিক্ষা ও পুনর্গঠন, যাতে পার্টি ও ব্যাপকতম মেহনতী জনগণ সকলে একই দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং পার্টি জনগণকে সম্মুখে এগিয়ে যেতে নেতৃত্ব দিতে পারে।

সামন্তশ্রেণীর ভুমি বাজেয়াপ্ত করুন এবং কৃষকদের অর্পণ করুন। চিয়াং কাইশেক, টি.ভি সুঙ, এইচ.এইচ.কুঙ এবং চেন-লি-ফু শীর্ষক একচেটিয়া পুঁজিবাদ বাজেয়াপ্ত করুন এবং নয়াগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নিকট তা অর্পণ করুন। জাতীয় বুর্জোয়ার শিল্প ও বাণিজ্য রক্ষা করুন। এগুলোই হচ্ছে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক কর্মনীতি। তাদের কুড়ি বছরের শাসনে চার বৃহত পরিবার চিয়াং, সুঙ, কুঙ ও চেন দশ থেকে কুড়ি মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মূল্যমাণের বিপুল বিত্ত জমা করেছে এবং সমগ্রদেশের জীবনধারাকে একচেটিয়াকরণ করেছে। একচেটিয়া পুঁজিবাদ রাষ্ট্রক্ষমতার সাথে একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদে পরিণত হয়েছে। এই একচেটিয়া পুঁজিবাদ বিদেশী সাম্রাজ্যবাদ, দেশীয় সামন্তশ্রেণী এবং পুরোনো ধরণের ধনীকৃষকদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে মুতসুদ্দি, সামন্তীয় ও রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া পুঁজিবাদে পরিণত হয়েছে। এমনই হচ্ছে চিয়াং কাইশেকের প্রতিক্রিয়াশিল শাসকগোষ্ঠির অর্থনৈতিক ভিত্তি। এই রাষ্ট্রিয় একচেটিয়া পুঁজিবাদ শ্রমিক ও কৃষকদেরই কেবল বিরোধিতা করেনা বরং শহুরে পেটিবুর্জোয়াদের এবং তা মাঝারি বুর্জোয়াদের আহত করে। এই রাষ্ট্রীয় pingjin_campaign__one_of_the_three_major_campaigns_in_the_chinese_civil_war13dce37c7e975d23dbf4একচেটিয়া পুঁজিবাদ প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় এবং জাপানী আত্মসমর্পণের পর তার বিকাশের শিখরে পৌঁচেছে, তা নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য চমতকার বস্তুগত শর্ত প্রস্তুত করেছে। এই পুঁজি আমলাতান্ত্রিক পুঁজি নামে জনপ্রিয়। আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী শ্রেণী হিসেবে পরিচিত এই পুঁজিবাদী শ্রেণী চীনের বড় বুর্জোয়া। চীনে সাম্রাজ্যবাদের বিশেষ সুবিধা বিলোপ করার পাশাপাশি দেশে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্তব্য হচ্ছে ভুস্বামীশ্রেণীর ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী শ্রেণীর (বড় বুর্জোয়া) র শোষণ ও নিপীড়ণ বিলোপ করা। উতপাদনের মুতসুদ্দি, সামন্তীয় সম্পর্কের পরিবর্তন করা এবং উতপাদিকা শক্তির বাঁধা মুক্ত করা। ভুস্বামী ও বড় বুর্জোয়া এবং তাদের রাষ্ট্রক্ষমতার দ্বারা নিপীড়িত ও আঘাতপ্রাপ্ত উচ্চ পেটিবুর্জোয়ারা–যদিও তারা নিজেরা বুর্জোয়া নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবে অংশ নিতে পারে অথবা নিরপেক্ষ থাকতে পারে। সাম্রাজ্যবাদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই, অথবা তুলনামূলক কম এবং তারা হচ্ছে প্রকৃত জাতিয় বুর্জোয়া। যেখানেই নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্প্রসারিত হবে তাকে দৃঢ়ভাবে ও দ্বিধাহীনভাবে তাদের রক্ষা করতে হবে। চিয়াং কাইশেকের এলাকায় উচ্চ পেটিবুর্জোয়া ও মাঝারি বুর্জোয়ার দক্ষিণপন্থী অংশ যারা হচ্ছে এই শ্রেণীর ক্ষুদ্র অংশ, যাদের প্রতিক্রিয়াশিল রাজনৈতিক প্রবণতা রয়েছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং চিয়াং কাইশেক চক্র সম্পর্কে মোহ ছড়ায় এবং নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবকে বিরোধিতা করে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের প্রতিক্রিয়াশিল প্রবণতা জনগণকে আক্রান্ত করে আমাদেরকে তাদের প্রভাবাধিন জনগণের সামনে তাদের উন্মোচন করতে হবে, এই প্রভাবকে আক্রমণ করতে হবে এবং জনগণকে এর থেকে মুক্ত করতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক আক্রমণ আর অর্থনৈতিক খতম হচ্ছে দুই ভিন্ন জিনিস, এই দুইকে মিশিয়ে ফেললে আমরা ভুল করবো। নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের নিশানা হচ্ছে কেবল সামন্তবাদ ও একচেটিয়া পুঁজিবাদ উতখাত করা, কেবল ভুস্বামী শ্রেণী এবং আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী শ্রেণী (বড় বুর্জোয়া) উতখাত করা এবং সাধারণভাবে পুঁজিবাদ উতখাত নয়, উচ্চ পেটি বুর্জোয়া অথবা মাঝারি বুর্জোয়া নয়। চীনের অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতার দিক থেকে, এমনকি দেশব্যাপি বিপ্লবের বিজয়ের পরও বিপুল উচ্চ পেটিবুর্জোয়া ও মাঝারি বুর্জোয়াদের দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা একটা পুঁজিবাদী সেক্টরের অস্তিত্ব অনুমোদন বেশ একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য এখনো প্রয়োজন। জাতিয় অর্থনীতিতে শ্রমবিভাজনের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণভাবে জাতিয় অর্থনীতির জন্য উপকারী পুঁজিবাদী সেক্টরের সকল অংশের কিছূ বিকাশ এখনো প্রয়োজন হবে। পুঁজিবাদী সেক্টর সমগ্র জাতীয় অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ হিসেবে এখনো থাকবে। এখানে উচ্চ পেটিবুর্জোয়াদের কথা বলা হচ্ছে , তারা হচ্ছে ক্ষুদে শিল্পপতি ও বণিক যারা শ্রমিক ও সহকারী নিয়োগ করে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষুদে স্বাধীন কারুজীবি ও ব্যবসায়ী রয়েছে যারা কোন শ্রমিক অথবা সহকারী নিয়োগ করেনা এবং বলা নি®প্রয়োজন যে এদেরকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে। দেশব্যাপী বিপ্লবের বিজয়ের পর, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিপতি শ্রেণীর কাছ থেকে কেড়ে নেয়া বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রীয় সংস্থার মালিক হবে নয়াগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যা দেশের অর্থনৈতিক জীবনধারা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সামন্তবাদ থেকে মুক্ত একটা কৃষি অর্থনীতি হবে যদিও এটা মূলগতভাবে বিক্ষিপ্ত ও স্বতন্ত্র থাকবে বেশ দীর্ঘসময় যাবত, পরে ধাপে ধাপে সমবায়ের দিকে বিকশিত হতে থাকবে। এই পরিস্থিতিতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পুঁজিবাদী  সেক্টরের অস্তিত্ব ও বিকাশ কোন বিপদ হাজির করবেনা। একই কথা সত্য নয়া ধনী কৃষক অর্থনীতির ক্ষেত্রে যা অনিবার্যভাবে গ্রামাঞ্চলে উদ্ভূত হবে ভুমিসংস্কারের পর। উচ্চ পেটি বুর্জোয়া ও মাঝারি বুর্জোয়া সেক্টরের প্রতি ১৯৩১-৩৪ সালে আমাদের পার্টি যে ভ্রান্ত অতিবাম কর্মনীতি গ্রহণ করেছিল (অন্যায্যভাবে শ্রমশর্ত আরোপ, অতিরিক্ত আয়কর আরোপ, শিল্পপতি ও বণিকদের লাভের ওপর দখল নেওয়া ভুমি সংস্কারের সময় এবং তথাকথিত “শ্রমিক কল্যাণ”-এর লক্ষ্য গ্রহণ) যা ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উভয়ত সাধারণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রতি বিবেচনা ও উভয়ত শ্রম ও পুঁজির লাভ আনয়নের মাধ্যমে উতপাদন বিকাশের লক্ষ্যের বদলে একটা অদূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও একতরফা ধারণা। এই ধরণের ভূলের পুনরাবৃত্তি নিশ্চিতভাবে উভয়ত শ্রমজীবি জনগণ ও নয়াগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বার্থের ক্ষতি করে। চীনের ভুমি আইন রূপরেখার অন্যতম ধারায় বলা হয়েছে, “শিল্পপতি ও বণিকদের সম্পত্তি ও বৈধ ব্যবসাকে অবৈধ দখল থেকে রক্ষা করা হবে।” “শিল্পপতি ও বণিক” বলতে ক্ষুদে স্বাধীন কারুজীবি ও ব্যবসায়ি এবং সেইসাথে সকল ক্ষুদে ও মাঝারি পুঁজিবাদী উপাদানসমূহ। সারসংকলনে, নয়া চীনের অর্থনৈতিক কাঠামো গঠিত হবেঃ (১) রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি–যাহচ্ছে নেতৃত্বকারী সেক্টর (২) ধাপে ধাপে স্বতন্ত্র থেকে যৌথে বিকশিত কৃষি অর্থনীতি (৩) ক্ষুদে স্বাধীন কারুজীবি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যক্তি পুঁজির অর্থনীতি নিয়ে। এগুলো নয়াগণতান্ত্রিক জাতীয় অর্থনীতি সম্পূর্ণ গঠণ করবে। নয়াগণতান্ত্রিক জাতীয় অর্থনীতির পরিচালনাকারী নীতিমালাকে অবশ্যই উতপাদন বিকাশ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিকাশ , উভয়ত সাধারণ ও ব্যক্তি লাভের প্রতি বিবেচনা এবং শ্রম ও পুঁজির উপকার করে এই সাধারণ লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ হতে হবে। সাধারণ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত যে কোন নীতি, কর্মনীতি অথবা মানদন্ড হচ্ছে ভুল।

অক্টোবর ১৯৪৭-এ গণমুক্তিবাহিনী এক ইশতেহার ইস্যু করে, যার অংশে বলা হয়েছেঃ

শ্রমিক, কৃষক, সৈন্যবাহিনী, বুদ্ধিজীবি, ব্যবসায়ী, সকল নিপীড়িত জাতিসমূহ, সকল গণসংগঠনসমূহ, গণতান্ত্রিক পার্টি, সংখ্যালঘু জাতিসমূহ, প্রবাসী চীনা এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিকদের ঐক্যবদ্ধ করুন; একটা জাতীয় যুক্তফ্রন্ট গঠণ করুন; একনায়কত্ববাদী চিয়াং কাইশেক সরকারকে উচ্ছেদ করুন এবং একটি গণতান্ত্রিক সম্মিলিত সরকার প্রতিষ্ঠা করুন।

এটাই হচ্ছে গণমুক্তি বাহিনী ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মৌলিক রাজনৈতিক কর্মসূচি। উপরিতলে, আমাদের বিপ্লবী যুক্তফ্রন্ট বর্তমান পর্যায়কালে সংকীর্ণ হয়েছে মনে হয় প্রতিরোধ যুদ্ধের পর্যায়কালের তুলনায়। বস্তুতঃ চিয়াং কাইশেক জাতীয় স্বার্থকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে বিক্রী করার পর এবং জনগণের বিরূদ্ধে গৃহযুদ্ধ পরিচালনার পর এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীল চিয়াং কাইশেক চক্রের অপরাধ চীনা জনগণের কাছে সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত হওয়ার পর সুনির্দিষ্টভাবে এই বর্তমান পর্যায়েই আমাদের যুক্তফ্রন্ট প্রকৃতপক্ষে ব্যাপকতর হয়েছে। প্রতিরোধ যুদ্ধের সময়কালে চিয়াং কাইশেক ও কুওমিনতাং তখনো সম্পূর্ণভাবে খাটো হয়নি জনগণের মধ্যে এবং তাদেরকে বহুভাবে প্রতারণা করতে সক্ষম ছিল তখনো। এখন তা ভিন্ন; তাদের সকল প্রতারণা তাদের নিজ কর্ম দ্বারা উন্মোচিত হয়েছে; তাদের কোন জনসমর্থন নেই; তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কুওমিনতাঙের বিপরীতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি মুক্ত এলাকায় ব্যাপকতম জনগণের আস্থাই শুধু অর্জন করেনি বরং কুওমিনতাঙ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ও বড় শহরসমূহের ব্যাপক জনগণের সমর্থনও জয় করেছে। যদি ১৯৪৬-এ চিয়াং কাইশেক শাসনের অধীনে উচ্চ পেটিবুর্জোয়া ও মাঝারি বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবিদের একটা অংশ তথাকথিত তৃতিয় পথ [৯]-এর মতকে এখনো তুলে ধরে এই মত এখন দেউলিয়া। কারণ আমাদের পার্টি একটা সামগ্রিক ভুমি কর্মনীতি গ্রহণ করেছে বলে সে প্রতিরোধ যুদ্ধের চেয়ে অধিক ব্যাপকতর কৃষক জনগণের আন্তরিক সমর্থন অর্জন করেছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, চিয়াং কাইশেকের নিপীড়ণ এবং জনগণের স্বার্থকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার আমাদের পার্টির সঠিক কর্মনীতির কারণে আমাদের পার্টি চিয়াং কাইশেকের এলাকার শ্রমিক শ্রেণী, কৃষক এবং শহুরে পেটি ও মাঝারি বুর্জোয়াদের ব্যাপক জনগণের সহানুভূতি অর্জন করেছে। জীবনকে যা অসম্ভব করে তুলেছে সেই ক্ষুধা, রাজনৈতিক নিপীড়ণ ও চিয়াং কাইশেকের বিরূদ্ধে গৃহযুদ্ধ দ্বারা চালিত হয়ে জনগণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও চিয়াং কাইশেকের প্রতিক্রিয়াশিল সরকারের বিরূদ্ধে বিরামহীন সংগ্রাম চালাচ্ছেন; তাদের মূল শ্লোগান ক্ষুধা, লাঞ্চনা-বঞ্চনা ও গৃহযুদ্ধের বিরূদ্ধে এবং চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরূদ্ধে। আগে কখনোই তাদের সচেতনতা এমন স্তরে পৌঁছেনি না প্রতিরোধ যুদ্ধের আগে না সময়কালে না জাপানিদের আত্মসমর্পণের অব্যবহিত পরের সময়কালে। তাই আমরা বলি যে আমাদের নয়াগণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট আগের যেকোন সময়ের চেয়ে অধিকতর ব্যাপক ও সুসংহত। এই বিকাশ শুধু আমাদের ভুমি ও শহুরে কর্মনীতির সাথেই য্ক্তু নয় বরং সমগ্র রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথেও-গণমুক্তিবাহিনীর বিজয়সমূহ, চিয়াং কাইশেকের আক্রমণাত্মক থেকে আত্মরক্ষাত্মকে গমন, গণমুক্তিবাহিনীর আত্মরক্ষাত্মক থেকে আক্রমণাত্মকে গমন, চীনা বিপ্লবের একটা নয়া উচ্চ জোয়ায়ের সাথে জড়িত। চিয়াং কাইশেক শাসকগোষ্ঠী অনিবার্যভাবে ধ্বংস হচ্ছে, এই উপলব্ধি থেকে জনগণ এখন চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও গণমুক্তি বাহিনীর ওপর তাদের আস্থা স্থাপন করেছে, এটা খুবই স্বাভাবিক। জনসংখ্যার নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠের ব্যাপকতম যুক্তফ্রন্ট ব্যতিত চীনের নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবে বিজয় অর্জন করা অসম্ভব হবে। এই যুক্তফ্রন্টকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দৃঢ় নেতৃত্বের অধীনে হতে হবে। পার্টির দৃঢ় নেতৃত্ব ছাড়া কোন বিপ্লবী যুক্তফ্রন্টই বিজয় অর্জন করতে পারেনা। যখন উত্তরাভিযান ১৯২৭ সালে শিখরে পৌঁছলো, পার্টির নেতৃস্থানীয় কাঠামোর বিশ্বাসঘাতকতাবাদীরা স্বেচ্ছায় কৃষকজনগণ, শহুরে পাতিবুর্জোয়া ও মাঝারি বুর্জোয়াদের নেতৃত্ব পরিত্যাগ করলো, নির্দিষ্টভাবে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর পার্টির নেতৃত্ব ত্যাগ করলো ও এভাবে বিপ্লবের পরাজয় ডেকে আনলো। প্রতিরোধ যুদ্ধের সময় আমাদের পার্টি বিশ্বাসঘাতকতাবাদীদের ঐসবের মতো একইরকম মতকে লড়লো, তাহচ্ছে কুওমিনতাঙের জনগণবিরোধী কর্মনীতির প্রতি ছাঁড় দেওয়া, জনগনের চেয়ে কুওমিনতাঙের প্রতি অধিক আস্থা রাখা, গণসংগ্রামকে জাগ্রত করতে ও পুর্ণ গুরুত্ব দিতে সাহস না করা, জাপানী অধিকৃত এলাকাসমূহে মুক্ত এলাকার ও গণবাহিনীর সম্প্রসারণে সাহস না করা, প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্ব কুওমিনতাঙের হাতে হস্তান্তর করার মতো মত। আমাদের পার্টি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিরূদ্ধে যায় এমন অক্ষম ও অধঃপতিত মতের বিরূদ্ধে দৃঢ়সংগ্রাম চালালো, “প্রগতিশীল শক্তিসমূহ বিকশিত করা, মাঝারি শক্তিগুলোকে জয় করা এবং কট্রর শক্তিগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা”র রাজনৈতিক লাইন দৃঢ়ভাবে পরিচালনা করে এবং দৃঢ়ভাবে মুক্ত এলাকা ও গণমুক্তিবাহিনীকে সম্প্রসারিত করে। এটা নিশ্চিত করে যে জাপানী আগ্রাসনের সময় আমাদের পার্টি যে শুধু জাপানী সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করতে সক্ষম ছিল তাই নয়, বরং জাপানী আত্মসমর্পণের পরের পর্বে যখন চিয়াং কাইশেক তার প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধ চালালো আমাদের পার্টি চিয়াং কাইশেকের প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধকে একটা বিপ্লবী যুদ্ধ দ্বারা বিরোধিতার প্রক্রিয়ায় মসৃন ও ক্ষতিবিহীন সূচনায় সক্ষম ছিল এবং স্বল্পসময়ে বিজয় অজনে। সকল কমরেডকে ইতিহাসের এইসব শিক্ষাকে দৃঢ়ভাবে মনে রাখতে হবে।

যখন প্রতিক্রিয়াশিল চিয়াং কাইশেক চক্র ১৯৪৬ সালে জনগণের বিরূদ্ধে দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধ পরিচালনা করে, যেকারণে তারা এই ঝুঁকি নিতে সাহস করলো তারা স্রেফ তাদের উতকৃষ্ট সামরিক সামর্থের উপর ভিত্তি করেই নয় বরং পারমাণবিক বোমাসমেত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের উপর ভিত্তি করেও-যাদের তারা “ব্যতিক্রমী শক্তিধর” এবং “বিশ্বে বিরল” মনে করে। একদিকে তারা মনে করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাহিদাকে যোগানের প্রবাহ দ্বারা পুরণ করতে পারে। অন্যদিকে, তারা বন্যভাবে গুজব ছড়ায় যে “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে য্দ্ধু অনিবার্য” এবং “একটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাদুর্ভাব অনিবার্য।” মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভরতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে সকল দেশের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিসমূহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এটা প্রতিফলণ ঘটায় যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্বপুঁজিবাদ কী মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এটা সকল দেশে প্রতিক্রিয়াশিল শক্তিসমূহের দুর্বলতার প্রতিফলন ঘটায়, তাদের ভয় ও আস্থা হারানো, এবং এটা বিশ্ব বিপ্লবী শক্তিসমূহের শক্তিময়তার প্রতিফলন ঘটায়-এসবই সকল দেশের প্রতিক্রিয়াশিলদের এই ভাবনায় চালিত করে যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোন উপায়565924862_91359da4f2নেই। কিন্তু বস্তুত, চিয়াং কাইশেক ও অন্যান্য দেশের প্রতিক্রিয়াশিলরা যতটা মনে করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ততটা শক্তিশালি? সেকি তাদের জন্য যোগানের একটা ধারা প্রবাহিত করতে পারে? না, তা নয়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের যে অর্থনৈতিক শক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালে জন্মেছিল তা অস্থায়ী ও দৈনন্দিন অবনতিশীল দেশী-বিদেশী বাজারের মোকাবেলা করছে। এই বাজারসমূহের অধিকতর অবনতি অর্থনৈতিক সংকটের প্রাদুর্ভাব ঘটাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের য্দ্ধু উন্মাদনা ছিল কেবল অস্থায়ী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য হচ্ছে কেবল ভাসাভাসা ও অস্থায়ী। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অমীমাংসেয় দ্বন্দ্বসমূহ আগ্নেয়গিরির মতো সন্ত্রস্ত করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে প্রত্যহ। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এই আগ্নেয়গিরির ওপর বসে আছে। এই পরিস্থিতি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে পরিকল্পনা রচনা করতে চালিত করেছে বিশ্বকে দাসত্বের শৃংখলে বাঁধতে, ইউরোপ, এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অংশে বন্যপশুর মতো ছুটাছুটি করতে, সকল দেশের জনগণ কর্তৃক বর্জিত আবর্জনাঃ প্রতিক্রিয়াশিল শক্তিগুলোকে জড়ো করতে–সোভিয়েত ইউনিয়নকে শীর্ষে রেখে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির বিরূদ্ধে একটা সাম্রাজ্যবাদী ও গণতন্ত্রবিরোধী শিবির গঠণ করতে এবং একটা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া এই আশায় যে ভবিষ্যতে একটা উপয্ক্তু সময়ে কোন একদিন তারা গণতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে পরাজিত করতে একটা তৃতিয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে পারে। এটা একটা হাস্যকর পরিকল্পনা। বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তিকে অবশ্যই এই পরিকল্পনাকে পরাজিত করতে হবে এবং নিশ্চিতভাবে তা তারা করতে পারেন। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী শিবিরের শক্তি সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের শক্তিকে অতিক্রম করেছে। শত্রু নয়, আমরাই উতকৃষ্ট অবস্থানে রয়েছি। সোভিয়েত ইউনিয়নকে শীর্ষে রেখে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধি শিবির ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন সংকট থেকে মুক্ত, উদীয়মান এবং বিশ্বের ব্যাপক জনগণ কর্তৃক উচ্ছাসিত; এর সামর্থ ইতিমধ্যেই সংকটে জর্জরিত অবনতিশীল বিশ্বের ব্যাপক জনগণ কর্তৃক বিরোধিতাপ্রাপ্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করেছে। ইউরোপের জনগণতন্ত্রগুলো আভ্যন্তরীণভাবে নিজেদের সুসংহত করছে এবং একে অপরের সাথে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। ইউরোপিয় পুঁজিবাদী দেশগুলোতে জনগণের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শক্তিগুলো বিকশিত হচ্ছে যাতে ফ্রান্স ও ইতালির শক্তিগুলো নেতৃত্ব দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জনগণের শক্তিগুলো রয়েছে যা প্রতিদিন শক্তিশালিতর হচ্ছে। লাতিন আমেরিকার জনগন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বাধ্যগত দাস নয়। এশিয়ায় বিপুল সংখ্যক জাতিয় মুক্তি আন্দোলনের আবির্ভাব ঘটেছে। সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধি সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে ও এগিয়ে চলেছে। নয়টি ইউরোপিয় দেশের কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের তথ্য ব্যুরো গঠণ করেছে বিশ্বের জনগণের কাছে এই আহ্বাণ ইস্যু করেছে দাসত্বের সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার বিরূদ্ধে উঠে দাঁড়ানোর জন্য [১০]। যুদ্ধের এই আহ্বাণ বিশ্বের নিপীড়িত জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে, তাদের সংগ্রামের পথপ্রদর্শন করেছে এবং বিজয়ে তাদের আস্থাকে শক্তিশালি করেছে। এটা বিশ্বপ্রতিক্রিয়াকে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করেছে। প্রাচ্যের সকল দেশের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধি শক্তিরও উচিত ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দেশীয় প্রতিক্রিয়াশিলদের নিপীড়ণকে বিরোধিতা করা এবং প্রাচ্যের ১০০ কোটি নিপীড়িত জনগণের মুক্তিকে তাদের সংগ্রামের লক্ষ্য করা। আমাদের ভাগ্যকে আমাদের নিজেদের হাতে নিশ্চিতভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। আমাদের স্তরসমূহকে সকল অক্ষম চিন্তাধারা থেকে মুক্ত করতে হবে। শত্রুর শক্তিকে অতিরঞ্জিত করে আর জনগণের শক্তিকে খাঁটো করে দেখে এমন সকল মত হচ্ছে ভ্রান্ত। যদি প্রত্যেকে প্রচণ্ড প্রচেষ্টা চালায়, আমরা বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক শক্তির সাথে একত্রিতভাবে নিশ্চিতভাবে দাসত্বের সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনাকে পরাজিত করতে পারি, একটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাদুর্ভাবকে রোধ করতে পারি, সকল প্রতিক্রিয়াশিল শাসকগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করতে পারি এবং মানবজাতির জন্য স্থায়ী শান্তি আনয়ন করতে পারি। আমরা ভালভাবে সচেতন যে আমাদের পথে এখনো সকল ধরণের বাঁধা-বিপত্তি থাকবে এবং দেশী-বিদেশী শত্রুর সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ও মরিয়া সংগ্রামকে আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু যতক্ষণ আমরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিজ্ঞানকে আঁকড়ে থাকবো, জনগণের ওপর আস্থা রাখবো, জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে একত্রিত থাকবো এবং তাদেরকে সামনে এগিয়ে নেবো, আমরা যেকোন বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে সক্ষম হবো। আমাদের শক্তি হবে অপরাজেয়। এটা হচ্ছে সেই ঐতিহাসিক যুগ যাতে বিশ্ব পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ তাদের ধ্বংসের মুখে চলেছে এবং বিশ্ব সমাজতন্ত্র ও জনগণতন্ত্র বিজয়ের পথে চলেছে। সামনে ভোর, আমাদের অবশ্যই ওঠে দাঁড়াতে হবে।

নোট

[] গণমুক্তি বাহিনী বিবিধ ফ্রন্টে ধারাবাহিকভাবে কীভাবে কোন পরিস্থিতিতে আক্রমণাত্মকে গেছে এবং কুওমিনতাঙ এলাকায় যুদ্ধ চালিয়েছে দেখুন, “উত্তর পশ্চিমে আমাদের মহান বিজয় এবং মুক্তি বাহিনীতে নতুন ধরণের মতাদর্শিক শিক্ষা আন্দোলন।” (নোট ৪, এই খন্ডের পৃ ২১৫-১৬ [পৃ.১৫৭]

[] হুনান প্রদেশের চেঙচৌ-এ কুওমিনতাঙ শান্তি সদর দফতরের পরিচালক লিউছি ১৯৪৬-এর নভেম্বরে অপসারিত হয় দক্ষিণ পশ্চিমে শানতুঙ প্রদেশের তিঙশাও যুদ্ধে পরাজয়ের কারণে। কিয়াংসু প্রদেশের সুচৌ-এ কুওমিনতাঙ শান্তি সদর দফতরের পরিচালক সুয়েহ ইয়েহকে মার্চ ১৯৪৭-এ অপসারণ করা হলো তার কমান্ডের অধীনে কুওমিনতাঙ সৈন্যদলের একঝাঁক মারাত্মক পরাজয়ের কারণেঃ ডিসেম্বর, ১৯৪৬-এ কিয়াংসু প্রদেশের উত্তর সুচিয়েন এলাকায় অভিযানে; জানুয়ারি ১৯৪৭-এ দক্ষিণ সানতুঙ-এর অভিযানে; এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭-এ কেন্দ্রিয় সানতুঙ এর লাইউ অভিযানে। সুচৌ-এর কুওমিনতাঙ শান্তিু সদর দফতরের উপপরিচালক উ চি-ওয়েইকে মার্চ ১৯৪৭-এ অপসারণ করা হলো ডিসেম্বর ১৯৪৬-এ উত্তর সুচিয়েন এলাকায় অভিযানে তার পরাজয়ের কারণে। কুওমিনাতাঙের ১ম বাহিনীর কমান্ডার তাঙ এন-পোকে জুন ১৯৪৭-এ অপসারণ করা হলো কারণ মে-তে দক্ষিণ সানতুঙের মেঙলিয়াংকুর যুদ্ধে কুওমিনতাঙের পুনর্গঠিত ৯৪-তম ডিভিশনকে ধ্বংস করা হলো। কুওমিনতাঙের ৪র্থ বাহিনীর কমান্ডার ওয়াঙ চুঙ-লিয়েনকে আগস্ট ১৯৪৭-এ অপসারণ করা হলে জুলাইয়ে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শানতুঙ অভিযানে তার পরাজয়ের কারণে। উত্তর-পুর্বে কুওমিনতাঙের শান্তিরক্ষী দফতরের কমান্ডার তু ইউ-মিং এবং সিইউং সি-হুই, উত্তর পূর্বে কুওমিনতাঙ জেনারেল সদর দফতরের পরিচালক উভয়ে অপসারিত হল ১৯৪৭-এর জুনে গণমুক্তিবাহিনীর উত্তরপুর্বাঞ্চলে গ্রীস্মকালীন আক্রমণ অভিযানে মারাত্মকভাবে পরাজিত হওয়ার কারণে। কুওমিনতাঙের ১১-তম যুদ্ধ জোনের কমান্ডার সুন লিয়েন-চুঙকে পাওতিঙে হোপেই প্রদেশে শান্তি সদর দফতরে পরিচালক হিসেবে পদাবনতি ঘটানো হলো জুন ১৯৪৭-এ চিঙ-সান অভিযানে এবং পাওতিঙের উত্তরে সুশি এলাকার অভিযানে পরাজয়ের কারণে। চিয়াং কাই-শেকের চিফ অব স্টাফ চেন চেঙকে আগস্ট ১৯৪৭-এ উত্তর পূর্বাঞ্চলে গভর্নর জেনারেল হিসেবে পদাবনাতি ঘটানো হলো সানতুঙ প্রদেশে পরিচালিত অভিযানে তার ধারাবাহিক পরাজয়ের কারণে।[পৃ১৬৩]

[] নির্দেশাবলীর জন্য দেখুন, “তিন মাসের সারসংক্ষেপ”, এই খন্ডের নোট ৪, পৃ১১৮[পৃ১৬৪]

[] চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাতিয় ভুমি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সেপ্টেম্বর ১৯৪৭-এ হোপেই প্রদেশের পিঙশান কাউন্টির সিপাইপো গ্রামে। সেপ্টেম্বর ১৩-তে সম্মেলনে গৃহিত চীনের ভুমি আইন রূপরেখা প্রকাশিত হয় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটি কর্তৃক অক্টোবর ১০, ১৯৪৭-এ । এটা নিচের বক্তব্য প্রদান করেঃ

সামন্ত ও আধা-সামন্ত শোষনের ভুমি ব্যবস্থা বিলোপ কর এবং যে চাষ করে তার হাতে ভুমি কার্যকর কর। গ্রামের ভুস্বামীদের সকল ভুমি এবং সকল সাধারণ জমি (পাবলিক ভুমি) অন্য সকল ভুমি সহকারে স্থানীয় কৃষক সংস্থা কর্তৃক দখলকৃত হবে এবং সমগ্র গ্রামিন জনগণের মধ্যে সুষমভাবে বন্টিত হবে লিঙ্গ অথবা বয়স নির্বিশেষে। গ্রামের বর্তমান সংস্থা সামন্ত ভূস্বামীর সকল গবাদিপশু, চাষাবাদের যন্ত্রপাতি, ঘরবাড়ি, শস্য এবং অপরাপর সম্পত্তি দখল করবে,ধনী কৃষকদের এমন সম্পত্তির উদ্বৃত্ত অধিগ্রহণ করবে এবং এসকল সম্পত্তি বন্টন করবে কৃষকদের মধ্যে ও অন্য দরিদ্র জনগণের মধ্যে যাদের এটা প্রয়োজন এবং ভুস্বামীদের জন্য সমান ভাগ প্রদান করবে।

এভাবে ভুমি আইন রূপরেখা “১৯৪৬-এর ৪ঠা মে’র নির্দেশনা”য় ব্যক্ত “ভুস্বামীর জমি দখল করে কৃষকদের মধ্যে বন্টন”-এর নীতিকেই শুধু নিশ্চিত করেনা বরং সেই নির্দেশনার গভীরতার অভাবকেও পুরণ করে যা কিছূ ভুস্বামীর জন্য অতিরিক্ত বিবেচনা দেখিয়েছিল। [পৃ১৬৪]

ফলতঃ চীনের ভুমি আইন রূপরেখায় ভুমির সমবন্টনের যে পদ্ধতি ছিল প্রয়োগে তার কিছূ পরিবর্তন হলো। ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮-এ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটি তার “ভুমিসংস্কার কাজ এবং পুরোনো ও আধা-পুরোনো এলাকায় পার্টি সংহতকরণের নির্দেশনা”য় মূর্ত করলো যে পুরোনো ও আধা পুরোনো  মুক্ত এলাকাগুলিতে যেখানে সামন্তব্যবস্থাকে ইতিমধ্যেই উচ্ছেদ করা হয়েছে, ভুমির আর কোন সমবন্টন হবেনা বরং গরীব কৃষক ও খামার মজুর যারা এখনো সামন্তীয় জোয়ালে থেকে মুক্ত হয়নি, পরিস্থিতি দাবী করলে তাদেরকে কিছু পরিমাণ ভুমি ও উতপাদনের অন্য উপকরণ দেওয়া হবে পুনসমন্বয়সাধন করার মাধ্যমে, যাদের উদ্বৃত্ত আছে তাদের থেকে নিয়ে যাদের অভাব আছে তাদের দেওয়া এবং যাদের ভাল আছে তাদের থেকে নিয়ে যাদের খারাপ আছে তাদের দেওয়ার পদ্ধতি দ্বারা যেখানে গড় গরীব কৃষকের চেয়ে মাঝারি কৃষক বেশি জমি রাখার অনুমোদন পাবে। যেসব এলাকায় সামন্ত ব্যবস্থা এখনো অস্তিত্বশীল, সমবন্টন আবদ্ধ ছিল প্রধানভাবে ভুস্বামীর ভুমি ও সম্পত্তি এবং পুরোনো ধরণের ধনী কৃষকদের ভুমি ও সম্পত্তিতে। সকল এলাকায় পুনসমন্বয়ের জন্য, প্রকৃতপক্ষে কেবল প্রয়োজন হলেই এবং মালিকরা মত দিলে মাঝারি কৃষক ও নতুন ধরণের ধনীকৃষকদের উদ্বৃত্ত জমি নেওয়া অনুমোদনীয়। নয়া মুক্ত এলাকাসমূহে ভুমিসংস্কারে মাঝারি কৃষকদের থেকে জমি নেওয়া হবেনা।

[] চীনের ভুমি সংস্কারে ধনী কৃষকদের প্রশ্ন তার বিশেষ ঐতিহাসিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত একটা অদ্ভূত বিষয় ছিল। চীনের ধনী কৃষকরা পুঁজিবাদী দেশসমূহের ধনী কৃষকদের চেয়ে ভিন্ন ছিল দুই দিক থেকেঃ প্রথম,  সাধারণভাবে এবং বিরাট মাত্রায় তাদের সামন্তীয় ও আধা-সামন্তীয় শোষক চরিত্র ছিল এবং দ্বিতীয়ত, এই ধনীকৃষক অর্থনীতি দেশের কৃষি অর্থনীতিতে কোন গুরুত্বপুর্ণ স্থান দখল করেনি। চীনের ভুস্বামী শ্রেণীর সামন্ত শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ব্যাপক গরীব কৃষক জনগণ ও খামার মজুরেরা ধনী কৃষকদের সামন্তীয় ও আধা-সামন্তীয় শোষণের বিলোপেরও দাবী জানিয়ে আসছিল। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ধনী কৃষকদের উদ্বৃত্ত ভুমি ও সম্পত্তি কৃষকদের মধ্যে বন্টনের জন্য অধিগ্রহণ করার কর্মনীতি গ্রহন  করে আর এভাবে ব্যাপক গরীব কৃষক জনগণ ও খামার মজুরদের দাবী মেটায় আর গণমুক্তিযুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত করে। যুদ্ধ বিজয়ের পথে অগ্রসর হলে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটি ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮-তে নয়া মুক্ত এলাকাসমূহে নয়া কর্মনীতি গ্রহণ করে। এই সংস্কার দুই ভাগে বিভক্ত ছিলঃ প্রথম স্তরে, ধনী কৃষকদের নিরপেক্ষ করা এবং ভুস্বামীদের ওপর, মুখ্যত বৃহত ভুস্বামীদের ওপর আক্রমণ কেন্দ্রিভূত করা; দ্বিতীয় স্তরে ভুস্বামীদের ভুমি বন্টন করার সময় ধনীকৃষকদের কর্তৃক ভাড়া নেওয়া ভুমি ও তাদের উদ্বৃত্ত ভুমি বন্টন করা কিন্তু ধনীকৃষকদেরকে ভুস্বামীদের থেকে ভিন্ন ভাবে বোঝাপড়া করা অব্যাহত রাখা। (দেখুনঃ “নয়া মুক্ত এলাকাসমূহে ভুমিসংস্কারের জরুরী পয়েন্টসমুহ”, পৃ২০১-০২, এই খন্ডে)। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার পর কেন্দ্রিয় গণ সরকার ১৯৫০-এর জুনে ভুমি সংস্কার আইন প্রচার করে যা বলে যে ভুমি সংস্কারে ধনীকৃষকদের কেবল ভাড়া নেওয়া জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তাদের বাকী ভুমি ও সম্পত্তি রক্ষা করা হবে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পরবর্তী স্তরে কৃষি সমবায় আন্দোলন গভীরতর হলে গ্রামীন অর্থনীতি বিকশিত হলো এবং ধনীকৃষক অর্থনীতি বিলুপ্ত হলো [পৃ১৬৫]।

[] তাই বলতে গেলে, ধনী কৃষক গৃহস্থালী গড়ে গরীব কৃষক গৃহস্থালীর চেয়ে বেশি ও ভাল ভুমির মালিক ছিল। সারাদেশকে সমগ্রভাবে ধরলে, চীনের ধনীকৃষকদের মালিকানাধীন উতপাদন উপকরণ এবং তাদের খামার উতপাদের আকার উভয়ই ছিল ক্ষুদ্র। চীনের গ্রামীন অর্থনীতিতে ধনীকৃষক অর্থনীতি কোন গুরুত্বপুর্ণ স্থান দখল করে ছিলনা।

[] এটা নির্দেশ করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টিতে ১৯৪২-৪৩ সালে সমগ্র পার্টিব্যাপী পরিচালিত কাজের স্টাইল শুদ্ধিকরণ আন্দোলনের প্রতি। এর সারবস্তু ছিল আত্মমুখীনতা, সংকীর্নতা এবং একঘেয়ে রচনার বিরুদ্ধে লড়াই। কমরেড মাও সেতুঙের নেতৃত্বাধীনে এই শুদ্ধি আন্দোলন “অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পুনরাবৃত্তিকে এড়ানোর এবং রোগ সারিয়ে রোগীকে বাঁচানোর” নীতি গ্রহণ করে এবং “কমরেডদের সাথে ঐক্যবদ্ধ থেকে ভুল চিন্তা দুর করা”।

সমালোচনা-আত্মসমালোচানর পদ্ধতির মাধ্যমে, আন্দোলন “বাম” ও দক্ষিণ বিচ্যুতি সংশোধন করে যা পার্টির ইতিহাসের বিবিধ ক্ষণে ঘটেছে, তার মতাদর্শিক শেকড়ে পৌঁছে পার্টির ব্যাপক স্তরের ক্যাডারদের মতাদর্শিক স্তরকে বিরাটভাবে উন্নীত করে, মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে পার্টির অভ্যন্তরে চিন্তার ঐক্য সাধনে প্রচণ্ডভাবে সাহায্য করে এবং এভাবে সমগ্র পার্টিতে উচ্চ মাত্রার ঐক্য বয়ে আনে।

[] মুক্তির গনযুদ্ধের প্রথম স্তরে দেশীয় কিছু ব্যক্তি কল্পনা করে যে তারা একটা তৃতিয় পথ বের করতে পারবে কুওমিনতাঙের বৃহত ভুস্বামী ও বৃহত বুর্জোয়াদের একনায়কত্ব এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন জনগণের গনতান্ত্রিক একনায়কত্বের বাইরে। এই তৃতিয় পথ ছিল বস্তুত বৃটিশ ও মার্কিন ধরণের বুর্জোয়াদের একনায়কত্বের পথ। [পৃ১৭০]

[১০] কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টিসমূহের তথ্য ব্যুরো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পোল্যান্ডের ওয়ারশতে সেপ্টেম্বর ১৯৪৮-এ বুলগেরিয়া, রুমানিয়া, পোল্যান্ড, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স, চেকোস্লাভিয়া, ইতালি ও যুগোস্লাভিয়ার কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টিসমূহের প্রতিনিধিসমুহের দ্বারা। পরে জুন ১৯৪৮-এ রুমানিয়ায় এক সভায় ব্যুরো যুগোস্লাভ কমিউনিস্ট পার্টির বহিস্কার ঘোষণা করে কারণ সে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ বিরোধি অবস্থায় ছিল এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক শিবির-বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছিল। তথ্য ব্যুরো বিশ্বের সকল জনগণকে সাম্রাজ্যবাদের দাসত্বের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বাণ জানায়, যা এখানে কমরেড মাও সেতুঙ উল্লেখ করেছেন তথ্য ব্যুরোর ১৯৪৭-এর সেপ্টেম্বর সভায় গৃহীত “আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর ঘোষণা”। [পৃ১৭৩]

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=581

(পূবাসপা এমইউজি কর্তৃক আগষ্ট ১৬, ২০০৯ প্রকাশিত)

Advertisements

কুর্দি কমিউনিস্ট পিকেকে’র দমনে স্থলসেনা পাঠিয়েছে তুরস্ক

পিকেকে'র স্পেশাল ফোর্স

পিকেকে’র স্পেশাল ফোর্স

ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি কমিউনিস্টদের দমনে সেখানে তুরস্ক স্থলসেনা পাঠিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। তুরস্কের বিশেষ বাহিনীর দু’টি ইউনিট উত্তর ইরাকে ঢুকে পড়েছে।

কতজন সেনা ইরাকে প্রবেশ করেছে তা না জানালেও সরকারি কর্মকর্তারা এ অভিযান স্বল্পমেয়াদী বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইরাকের উত্তরাঞ্চলে পিকেকের অবস্থান লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালায়।

মঙ্গলবার তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে ইদগীর প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি মিনিবাসে বোমা হামলায় অন্তত ১৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। এই হামলার পেছনে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি-পিকেকের হাত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছে দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

সূত্রঃ http://www.msn.com/en-us/news/world/turkey-deploys-forces-into-iraq-to-hunt-down-pkk-rebels/ar-AAe3Fhf