‘সাইবার হামলার মহাপ্রলয়ে অচল হবে আমেরিকা’

জেমস ক্ল্যাপার

জেমস ক্ল্যাপার

আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স-এর প্রধান জেমস ক্ল্যাপার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সাইবার হামলার মহাপ্রলয়ে অচল হয়ে যাবে আমেরিকার সব অবকাঠামো।

মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা সংক্রান্ত কমিটিকে তিনি এ কথা বলেন। ক্ল্যাপার বলেন, তিনি গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে গত ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে জড়িত রয়েছেন। আঞ্চলিক এবং বিশেষ ধরণের বিভিন্নমুখী বড় বড় চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি আমেরিকাকে ছেঁকে ধরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমনটি আগে কখনোই দেখা যায় নি। এর মধ্যে নিচু এবং মধ্যম পর্যায়ের সাইবার হামলা আমেরিকার জন্য প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি।

ক্ল্যাপার বলেন, সাইবার হামলার ফলে আমেরিকার প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিকে বর্ধিত ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকেও একই ধরণের ব্যয়ের মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

হ্যাকারদের নাম মাত্র শাস্তির মোকাবেলা করতে হয় বা কখনো কখনো তাও করতে হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে আমেরিকার বিরুদ্ধে সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতা হয়ত বাড়বে। এ  অবস্থা প্রতিরোধে মার্কিন আইন প্রণেতাদের প্রতি কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বানও জানান ক্ল্যাপারসহ অন্যান্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

মার্কিন বৃহত্তর স্বার্থের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে গোয়েন্দা তৎপরতায় জড়িতদের অন্যতম চীন বলেও সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন ক্ল্যাপার। তিনি বলেন, সক্ষমতার দিক থেকে সাইবার ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন অত্যাধুনিক ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু চীনা হ্যাকাররা অত্যাধুনিক সক্ষমতা ব্যবহার না করেই তাদের লক্ষ্যবস্তু গুলোতে সাইবার হামলা চালাতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

সূত্রঃ http://economictimes.indiatimes.com/news/defence/cyber-threat-cannot-be-eliminated-says-us-intel-chief-james-clapper/articleshow/48905111.cms

Advertisements

বাংলাদেশঃ বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন জাতীয় কমিটির বিবৃতি

images2

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন জাতীয় কমিটির বিবৃতি – 

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফায় ছাত্রলীগ-পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

গত বুধবার ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ও বৃহস্পতিবার ধানমণ্ডিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৭.৫% ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগ-পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক বিপ্লব ভট্যাচার্য এক বিবৃতিতে বলেন বর্তমান এই ফাসিস্ট সরকার তার পেটোয়া বাহিনী ও পোষা গুণ্ডাদের দিয়ে হামলা করিয়ে ছাত্রদের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলন দমন করতে পারবে না। বর্তমান সরকার একদিকে দফায় দফায় গ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে জনগণের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে অন্যদিকে জনগণের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে দমন পীড়নের মাধ্যমে তার ফাসিস্ট চরিত্রকে নগ্নভাবে উন্মোচন করছে।আজ আমরা পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি শিক্ষা ব্যবস্থাকে পণ্যে পরিণত করার সব রকমের বন্দোবস্ত এই রাষ্ট্র করে ফেলেছে।অতীতে আমরা সকল সরকারকেই দেখেছি এমন গনবিরোধি সিদ্ধান্ত নিতে।সুতরাং এটা আজ নক্ষত্রের আলোর মত পরিস্কার যে আমাদের আন্দোলনকে আরও দীর্ঘস্থায়ীভাবে এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর আঘাত হানার আন্দোলনের দিকে নিয়ে যেতে হবে।আমরা শুধু মার খেতে জানি না,আমরা পাল্টা আঘাত দিতে জানি।আমাদের গৌরবময় ইতিহাস তার সাক্ষী দেয়।সুতরাং ভয়ের কিছু নেই এই রাষ্ট্রের দমনকে মোকাবেলা করেই ৭.৫% ভ্যাট প্রত্যাহারের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন,সরকার ও তার দালালদের কোন ফাঁদে পা না দিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরা চলবে না।আর আমাদের সহযোদ্ধাদের উপর হামলার ন্যায্য বিচাররের দাবিতে সোচ্চার থাকতে হবে।

বার্তা প্রেরক

আহনাফ আতিফ অনিক

সহ-আহ্বায়ক

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন

জাতীয় কমিটি


সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার (৮ম পর্ব)

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) দেয়া সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতির সাক্ষাৎকারটি ধারাবাহিক ভাবে বাংলায় প্রকাশ করছে লাল সংবাদ

c

comrades-ka7g-621x414livemint

(অষ্টম পর্ব)

গত দশকের নতুন, অনন্য ও অভূতপূর্ব অর্জনের উপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় বিপ্লব নিশ্চিতভাবেই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নতুনতর, বৃহত্তর ও গৌরবতর বিজয় লাভের পথে এগিয়ে যাবে “

ঐক্যবদ্ধ পার্টির দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সিপিআই(মাওবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড গণপতি মাওবাদী তথ্য বুলেটিনকে (MIB) সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন-

মাওবাদী তথ্য বুলেটিনঃ পার্টি যাচাই করে দেখেছে যে বিশ্ব পরিস্থিতির অবজেকটিভ বাস্তবতা বিপ্লবের অনুকূলে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে International Communist Movement (ICM) আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের অবস্থান কী? আভাকিয়ানিজম ও প্রচণ্ড-ভট্টরায় জোট কর্তৃক নেপাল বিপ্লবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার কী ধরনের প্রভাব ICM এর উপর পড়তে পারে বলে আপনি মনে করেন?

গণপতিঃ বিপ্লবের অগ্রগতির পক্ষে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি চমৎকার। আগেই উল্লেখ করেছি, মহা মন্দার (Great Depression) পর সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা ভয়াবহতম সংকটের মধ্য দিয়ে চলেছে। যার ফলে প্রচুর পরিমাণে কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে। একদিকে আছে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য ও অন্যদিকে শ্রমজীবী শ্রেণীর উপর শোষণ ও নিপীড়িত জনগণের দেশসমূহে নয়া ঔপনিবেশিক লুণ্ঠন। রাষ্ট্র দখলের যুদ্ধ স্তিমিত হবার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; ইরাক, আফগানিস্তান ও অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আটকে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাম্রাজ্যবাদ ও তার গৃহপালিত দোসরদের বিরোধী বিপ্লবী, গণতান্ত্রিক ও জাতীয় স্বাধীনতাকামী বাহিনী শক্তিশালী হচ্ছে। শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত শ্রেণী,কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসী, মুসলিম ও অন্যান্য নির্যাতিত সম্প্রদায়,নারী,শিক্ষার্থী,তরুণ ও আরো অনেক নিপীড়িত শ্রেণী ও গোষ্ঠী পথে নেমে আসছে।

চাকুরী থেকে ছাঁটাই,বেকারত্ব ও আংশিক বেকা্রত্ব,প্রকৃত মজুরী কর্তন,সামাজিক নিরাপত্তা খরচ প্রত্যাহার এবং সরকারের অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানা দেশে শ্রমিকদের বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও ধর্মঘট সংঘটিত হয়েছে যা দেশগুলোকে নাড়া দিয়েছে। ধনী ও গরীবের ব্যবধান যত বাড়ছে ও শ্রেণী দ্বন্দ্ব যত তীব্রতর হচ্ছে, পুঁজিবাদী দেশগুলোর জনগণ তত বেশি সংগ্রামে যোগদান করছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ জনগণ, মুসলিম, অভিবাসী ও অন্যান্য নিপীড়িত জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য বিক্ষোভ করছে। পশ্চাদপদ দেশগুলোতেও শ্রমজীবী জনগণের সম্পদের অসমতা,দারিদ্র্য, অভাব ও রাজনৈতিক নিপীড়ন গণ অভ্যুত্থানের জন্ম দিচ্ছে। এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গণহত্যা ও রক্তের বন্যার মধ্য দিয়েও ইরাকি, আফগান,কুর্দি ও অন্যান্য জনগণের সশস্ত্র জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রগতি ঘটছে।

স্কটিশ, ক্যাটালনিয় ও ইউরোপের অন্যান্য জাতীর জাতীয় আকাঙ্ক্ষা অব্যাহত আছে। ব্রাজিলের মত গণ বিরোধী নয়া উদারবাদী নীতিমালা গ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আমেরিকায় জনগণ বৃহদাকারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।তবে বর্তমান বিশ্বের অনুকূল অবজেকটিভ পরিস্থিতি থেকে ICM এর সাবজেকটিভ শক্তিগুলো গুরুতরভাবে পিছিয়ে আছে। অবজেকটিভ পরিস্থিতির সম্ভাবনা ও বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অগ্রগতির জন্য একে সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাওবাদী বাহিনীর সাবজেকটিভ ক্ষমতার মধ্যে একটি বৈপরীত্য রয়েছে। ইতিহাসের শিক্ষা থেকে আমরা জানি যে, প্রধানত প্রতিটি দেশের বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী বিপ্লব সংঘটনের মাধ্যমে এই সাবজেকটিভ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠা যায়।

সংশোধনবাদী ও সংস্কারবাদীরা জনগণের সমস্যা সমাধানে অসমর্থ হওয়ায় মাওবাদী শক্তির সাথে তাদের পুনরায় একত্রিত হবার সম্ভাবনা বাড়ছে। অনেক দেশে মাওবাদী পার্টি ও সংগঠন শক্তি অর্জন করছে এবং নতুন কিছু পার্টি গঠিত হবার প্রক্রিয়া চলছে। মাওবাদী পার্টি, সংগঠন ও বাহিনীর ভেতরে ঐক্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশ কিছু বিতর্কের মধ্য দিয়ে ফিলিপিন ও ভারতের দীর্ঘস্থায়ী গণযুদ্ধ চলমান রয়েছে। অন্যান্য বেশ কিছু দেশেও মাওবাদী পার্টিরা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের গণযুদ্ধের সমর্থনে আন্তর্জাতিক মাওবাদী শক্তিগুলোর সংহতি কার্যক্রম, বিপ্লবী বিরোধী অপারেশন গ্রিন হান্ট ও ওপলান বায়ানিহানের (ফিলিপিনের বিপ্লবী বিরোধী অপারেশন)বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত, রাজবন্দীদের অধিকার নিশ্চিতকরণের সংগ্রাম ইত্যাদি চলমান রয়েছে। সুতরাং, ICM ও মাওবাদী শক্তিগুলোর গণ সংগ্রামে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারাটা সম্ভব এবং এই পথ ধরে ভবিষ্যতে একটি বিপ্লবী জোয়ারের সূচনা ঘটবে।

প্রচণ্ড-ভট্টরায় জোটের সংশোধনবাদ ও নেপালি জনগণের সাথে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা অবশ্যই ICM কে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই বিশ্বাসঘাতকেরা গৌরবময় গণযুদ্ধকে ভেতর থেকে ধ্বংস করেছে এবং নিপীড়িত নেপালি জনগণের উপর কঠোর দমন পীড়ন অব্যাহত রাখতে শত্রুকে সাহায্য করেছে। শুধু নেপালি জনগণের জন্যই নয়, পুরো ICM এর জন্য এটি একটি উলট পালট ঘটিয়েছে। অবশ্য, প্রচণ্ড-ভট্টরায় জোটের বিরুদ্ধে প্রকৃত মাওবাদী শক্তির তিক্ত লড়াই, সাম্রাজ্যবাদী ও তার দালালদের কাছে তাদের নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ এবং সর্বোপরি, এই বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে নেপালি জনগণের নিজেদের সংগ্রাম এই জোটের প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রকে উন্মোচন করেছে এবং মার্কসবাদ- লেনিনবাদ- মাওবাদকে সমৃদ্ধ করার নামে এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতার চিত্রকে উন্মোচন করেছে।

সাম্রাজ্যবাদ, গৃহপালিত সামন্তবাদী ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী বেনিয়া ও ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের সব থেকে বিশ্বাসী পা চাটা কুকুরে পরিণত হয়েছে এই আধুনিক সংশোধনবাদীরা। তাদের শ্রেণী সহযোগীদেরকে নেপালি জনসাধারণ ও ICM সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখান করেছে এবং এইসব বিশ্বাসঘাতকদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে জনগণ নিশ্চিতভাবেই বিপ্লবের পথে অগ্রসর হবে। একইভাবে, আভাকিয়ানিজমের তথাকথিত নয়া সিনথেসিসও কিছু মাওবাদী পার্টিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ ছদ্মবেশী সংশোধনবাদ ও লিকুইডেশনিজম (liquidationism) ছাড়া আভাকিয়ানিজম আর কিছুই নয়। ICM এর উপর ক্ষণস্থায়ীভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও এটি অবশ্যই পরাজিত হবে। আভাকিয়ানিজম ও সব ধরনের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ও দেশের ভেতরে কমিউনিস্ট আন্দোলনে বিশ্ব প্রলেতারিয়েতের অংশ হিসেবে  আমাদের পার্টি সংগ্রাম করে যাবে।

(চলবে)


মাটি খুঁড়ে কমরেড লেনিনের মাথাটি উদ্ধার করলেন শ্রমিকরা

Lenin

Lenin2

Lenin3

lenin-1-03-newsnextbd

বার্লিন: রুশ বিপ্লবের প্রাণপুরুষ ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের বিশাল মূর্তির মাথার অংশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করেছেন শ্রমিকরাই। যে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার আদায়ের জন্যে বিপ্লবে নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই শ্রমিকরাই উদ্ধার করলেন তাদের কমরেডের মূর্তির মাথা।

অপসারণের ২৪ বছর পরে বৃহস্পতিবার বার্লিনের বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকের এক নির্জন জঙ্গলের ভেতর থেকে গ্রানাইটের ওই মূর্তির মাথাটি উদ্ধার করা হয়। সম্পূর্ণ মূর্তিটির সন্ধান না পেলেও স্পাদনদাউ সিতাদেল জাদুঘরে স্থান পাচ্ছে ওই মূর্তির সাড়ে তিন টন ওজনের মাথা।

বেশ কয়েক বছর ধরেই ঐতিহাসিকরা এই মূর্তি উদ্ধারের জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে শ্রমিকরাই মাটি খুঁড়ে কেবলমাত্র মাথাটি উদ্ধার করেন।

তৎকালীন কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রসঙ্গত, লেনিনের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৭০ সালের ১৯ এপ্রিল পূর্ব জার্মানিতে ২ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে ৬২ ফুট(১ দশমিক ৭ মিটার।) উচ্চতার এই মূর্তিটি উদ্বোধন করা হয়। ইউক্রেনের গোলাপী গ্রানাইট পাথর খোদাই করে তৈরি হয়েছিল ওই মূর্তির মাথা। শরীরের পাথুরে ব্লকগুলো রাশিয়া থেকে নেওয়া হয়েছিল।

কিন্ত ১৯৯১ সালে পুঁজিবাদী দুই জার্মানির পুনর্মিলনের অংশ হিসেবে বার্লিন দেয়ালের পতন ঘটে। সেসময় পুঁজিবাদী শাসকদের নেতৃত্বে লেনিনের মূর্তিটি ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং ধ্বংসাবশেষ নির্জন বনের মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

৩.৫ টন ওজনের লেনিনের বিশাল মাথাটি শ্রমিকরা ক্রেনে করে মাটি থেকে উদ্ধার করেন।

পুঁজিবাদী পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি একীভূত হওয়ায় ১৯৯১ সালে লেনিনের মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বার্লিনের তৎকালীন মেয়র। পাথরের তৈরি ওই মূর্তি ভাঙতে কয়েক মাস সময় লেগেছিল। লেনিনের মূর্তিকে ১২০ টুকরো করার পর একটি জঙ্গলে বালুর ভেতর পুঁতে রাখা হয়েছিল এর মাথাটি।

সূত্র: এনডিটিভি


ভারতঃ দুই জন মাওবাদী সমর্থক গ্রেফতার

3337.the-rebel-2

চাইবাসা(পিটিআই)– পশ্চিম সিংভূম জেলার মনোহরপুর থানার তিরলা গ্রাম থেকে সিপিআই (মাওবাদী) এর দুই সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে. হাবিল হোরো’র ঘরে মাওবাদীদের একত্রিত হচ্ছে- এই তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল এলাকায অভিযান চালিয়ে ওই ঘর ঘেরাও করে এবং তাকে ও তার সহযোগী শংকর সিং মুন্দারিকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার মাইকেল রাজ এস বলেন, তাদের কাছ থেকে মাওবাদী সাহিত্য, চিঠি প্যাড, মানচিত্র, রসিদ বই, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

এসপি বলেন- হাবিল, মাওবাদী নেতা সন্দিপজীর পক্ষে কাজ করছিল এবং সংগঠনের জন্যে অর্থ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিল।

সূত্রঃ http://www.sify.com/news/two-maoist-supporters-held-news-national-pjkwEkcgigiaa.html


ভারতঃ মাওবাদী দম্পতি ৫ মিনিটের জন্য দেখা করার অনুমতি পেলেন

roopesh-shyna

কোয়েম্বাটুর: প্রধান জেলা জজ (PDJ) আদালত, মাওবাদী দম্পতি সাইনা এবং রূপেশকে আদালত কক্ষে পাঁচ মিনিটের জন্য একে অপরের সাথে দেখা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ ও এসকর্ট পুলিশ তাদের সাক্ষাৎ করতে দিচ্ছেন না, এই প্রেক্ষিতে মাওবাদীদের পক্ষ থেকে হাজির অ্যাডভোকেট বালামুরুগানের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই অনুমতি দেয়।

কারাগার নিয়ম অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জেল কমপ্লেক্সের মধ্যেই দেখা করতে পারেন. কিন্তু সাইনাকে গত দুই সপ্তাহ ধরে তার স্বামীর সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সাক্ষাতের পরে, পাঁচ মাওবাদীকে আদালত থেকে কোয়েম্বাটুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মামলার সকল কার্যক্রম অক্টোবর ৭ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।

সূত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/coimbatore/Maoist-couple-permitted-to-meet-for-5-minutes/articleshow/48894601.cms