তুরস্কে কুর্দিদের সিজর নগরীতে আবারো কারফিউ জারি

2

প্রত্যাহারের ১ দিন পরেই আবারো কারফিউ জারি করা হল তুরস্কের সিজার নগরীতে।

তুর্কি নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

অথচ, তুরস্ক রাষ্ট্র কমিউনিস্ট কুর্দি ‘পিকেকে’ গেরিলাদের মোকাবিলা করতে গিয়ে তুর্কি কুর্দিস্তানের ‘Cizre/সিজর‘ শহরে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সামরিক হামলা ও আইন জারী করে রেখেছে। তুর্কি রাষ্ট্র কুর্দি জনগণের উপর গত ৪৮ ঘণ্টায় সেনা ও বিমান সহযোগে এই পর্যন্ত ৩০৮বার ভয়াবহ আক্রমণ করেছে। এতে হাজার হাজার কুর্দি জনগণ রাস্তায় নেমে এসে তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাচ্ছে। জনগণ বলছে, এটি আমাদের ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ ।

রোববার দেশটির দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে কুর্দি কমিউনিস্টদের হামলায় ৩ তুর্কী পুলিশ সদস্য নিহত হয়। এরই মধ্যে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী। প্রায় তিন দশক ধরে নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে কুর্দিরা।

গত জুলাইয়ে তুর্কী সরকার ও কুর্দিস্তান ওয়াকার্স পার্টি-পিকেকে’র মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে পড়ার পর দেশটিতে সংঘাতের মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে।

তুরস্কের সেনাবাহিনীর হামলায় ২৩ জন বেসামরিক কুর্দি নিহত হয়েছে, তার উপর চলছে ৮ দিনের কারফিউ, বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, ফোন সংযোগ নেই,
কিন্তু ‘সিজার‘ অপরাজেয়!

Advertisements

ব্যালট যুদ্ধের উপর লাল ছায়া

b

একজন সিনিয়র মাওবাদী নেতা বলেছেন, তার দল বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন বয়কট করবে।  এর ফলে কমিউনিস্ট প্রভাবিত এলাকায় সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।

পাটনা থেকে ২০০ কিমি দূরে কাইমুর মালভূমির এক গোপন স্থান থেকে সিপিআই(মাওবাদী) সোন-গঙ্গা-বিদ্যাচল বিভাগের এরিয়া কম্যান্ডার অজয় রাজভর(৪০),  TOIকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন-

“অতীতের মতই এবারো আমরা নির্বাচন বয়কট করবো। জনগণ নির্বাচনে ভোট দেয়, কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পায় না। সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত ভাবে তারা জীবনযাপন করে।অবস্থাটা এমনি যে, পশুদের স্নান যে জলাশয়ে হয়, গ্রামবাসীরা একই জলাশয়ে থেকে পানি পান করতে বাধ্য হয়।”

রাজভর বলেন, “আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই, কিন্তু এখানে জনগনের কিছুই নেই। তারা পর্যাপ্ত খাদ্য, স্কুল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, সড়ক ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় অধিকার ছাড়াই বেঁচে আছে।” তিনি আরো বলেন, রাজনীতিবিদরা শুধু মাত্র ভোট ভিক্ষা চাইতেই কেবল জনগণের কাছে যায়। এই বছর, কাইমুর অঞ্চলের ৩০০টি গ্রামের জনগণ রাজনীতিবিদদের এই গ্রামগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। তিনি পরিস্কার ভাবে বলেন যে, গ্রামবাসীরা তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই রাজনীতিবিদের থামাবে, “আমাদের কারণে নয়।”

রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিউনিস্টরা নির্বাচনের সময়কালীন এলাকায় তাদের প্রভাব বা আধিপত্য বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। রাজভর বলেন, “সরকার অবশ্যই বুঝতে চেষ্টা করবে যে, কেন আমরা অস্ত্র হাতে নিয়েছি? এটাও জানা উচিত, কেন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে ? আমাদের ২৫কিমি. হেঁটে গিয়ে ভোট দেয়ার কোন কারণ আছে কি ? গ্রামবাসীরা কেন এত কষ্ট করবে ? আমরা নিশ্চিত করব যে, এই বছর কেউই তাদেরকে পোলিং বুথে নেয়ার চেষ্টা করবে না।”

ঝাড়খণ্ডের পালামুর বাসিন্দা রাজভর জানান, কি ভাবে সে মাওবাদী হয়ে উঠে। “যখন মাওবাদীরা ২০০৫ সালে আমার শ্যালককে খতম করে, তখন তার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্য আমি তাদের সাথে যোগ দিই। কিন্তু আমি তাদের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ি।”

২০১৪ সালে ২ মাসের জন্যে কেন তিনি অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম সরকারের আত্মসমর্পণ নীতি ভাল, কিন্তু আমি সরকারের কাছ থেকে কোন সাহায্যই পাইনি। যার ফলে জামিন পাওয়ার পরপরই আমি আমার কমরেডদের কাছে ফিরে গিয়েছিলাম।”

সাম্প্রতিক মাস গুলোতে বিহারের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাইমুর, রোহতাস এবং গয়ার মত অনেক এলাকাতে মাওবাদীদের প্রভাব ও অ্যাকশন বেড়ে গেছে। কাইমুর মালভূমির ২টি ব্লক মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কাইমুর  ও  রোহতাস মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬০,০০০ এর উপরে।

অনুবাদ সূত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/patna/Red-shadow-on-battle-of-ballots/articleshow/48939434.cms


তুরস্কের Democratic Peoples’ Federation (DHF) এর সাথে ফরাসী মাওবাদীদের সাক্ষাৎ

ফরাসী মাওবাদীরা ও DHF সদস্যদের আলোচনা

ফরাসী মাওবাদীরা ও DHF সদস্যদের আলোচনা

ফরাসী মাওবাদীরা তুরস্কের Democratic Peoples’ Federation (DHF) এর সাথে সাক্ষাৎ করে সার্বিক পরিস্থিতি ও DHF এর রাজনৈতিক লাইন সম্পর্কে জানেন। সাক্ষাৎকারটি ফরাসী মাওবাদীদের পত্রিকায় প্রকাশিত হবে।

 ৩০/০৮/২০১৫-

সুরুক গণহত্যা পরবর্তী Socialist Party of the Oppressed (Turkish: Ezilenlerin Sosyalist Partisi, ESP) এর আহত সদস্যদের সাথে ও The Socialist Youth Associations Federation (SGDF) Socialist Party of the Oppressed (Turkish: Ezilenlerin Sosyalist Partisi, ESP) এর হাসপাতালে ভর্তিকৃত সদস্যদের সাথে PCMF (The Maoist Communist Party of France) এর সদস্যরা সাক্ষাৎ করে সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করে।

আলোচনার সার সংক্ষেপ উল্লেখ করা হলঃ

পুঁজিবাদ এক নতুন সংকটে প্রবেশ করেছে এবং ইউরোপে যেখানে এর জন্ম সেখানে এবং বিশ্ব জুড়ে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে। এই সংকট ও সংঘাতের স্পষ্ট প্রকাশ হল সিরিয়ার যুদ্ধ। সিরিয়ার যুদ্ধ হল সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের যুদ্ধক্ষেত্র। ইউরোপের অর্থনৈতিক সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিল উপস্থাপন করা হচ্ছে শ্রমজীবী শ্রেণীর কাছে।

শ্রমজীবীদের জীবনযাত্রার নিম্নগামী মান ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দারিদ্র্যের প্রতি দিকনির্দেশ করে ইউরোপে ফ্যাসিবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়েছে বলে ফরাসি মাওবাদীরা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

‘সিরিজা’ হল সংস্কারবাদের ব্যর্থতার উদাহরণ। তারা আরো উল্লেখ করেন, ইউরোপে ফ্যাসিবাদী মতাদর্শ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর প্রেক্ষিতে প্রলেতারিয়েত ও শ্রমিকদের থেকে অনুকূল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

ভারত, ফিলিপিন ও তুরস্কে/উত্তর কুর্দিস্তানে চলমান গণযুদ্ধের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি জ্ঞাপনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন ফরাসী মাওবাদীরা। তারা একটি আন্তর্জাতিক বিপ্লবী কেন্দ্র সৃষ্টির ব্যাপারে Democratic Peoples’ Federation (DHF) এর সাথে সম্মতি প্রকাশ করেন এবং বলেন যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফরাসী মাওবাদীরা বলেছেন, ফ্রান্সের দুটি মাওবাদী দল অল্প কিছুদিনের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত করতে চলেছে। কংগ্রেসটি নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে করে তারা আরো নতুন ও ব্যাপক প্রক্রিয়ার মাঝে প্রবেশ করবে। তারা বলেন, ইউরোপে একটি শক্তিশালী বিপ্লবী আন্দোলন সৃষ্টি করা তাদের প্রধান কাজ।

সংগঠন দুটির মাঝে সংহতি ও কমরেডিয় সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভা সমাপ্ত হয়।

অনুবাদ সুত্র/Translated from : http://www.halkingunlugu.net/index.php/man%C5%9Fet/1899-frans%C4%B1z-maoistler-dhf-ile-r%C3%B6portaj-ger%C3%A7ekle%C5%9Ftirdi.html

https://nouvelleturquie.wordpress.com/2015/09/05/the-french-maoists-conducted-an-interview-with-dhf/


ভারতঃ বিহারে মাওবাদীদের লাল অঞ্চলের উপর নজর রাখবে ‘ড্রোন’

heron-164956_copy1

বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের সময় মাওবাদীদের উপর নজর রাখতে ড্রোন ব্যবহার হবে।

নির্বাচনের সময় মাওবাদীদের নড়াচড়া ট্র্যাক করা ও সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করার জন্যেই নির্বাচন বুথ ও সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর উপরে বিভিন্ন বেস স্টেশনকে কেন্দ্র করে ১৫০০-২০০০ মিটার উচ্চতায় ৫ টি  ড্রোন প্রদক্ষিণ করবে। এই ড্রোন গুলো ভিডিও তুলে সাথে সাথে বেস স্টেশনে পাঠাবে, যাতে করে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষনিক মাওবাদীদের বিরুদ্ধে বাহিনী পাঠিয়ে দ্রুত অ্যাকশন নিতে পারে।

বিহার সেক্টরের সিআরপিএফ এর আইজি অরুণ কুমার বলেন, “এটা সম্ভবত দেশের ভেতরে ড্রোনের প্রথম ব্যবহার, যা বিহারে নির্বাচনে মাওবাদীদের ঠেকাতে ব্যবহৃত হবে।

গঙ্গা ও অন্যান্য বড় নদী বরাবর অবস্থিত বিহারের দিয়ারা (নদী) এলাকায়  মাওবাদীদের আনাগোনা বেশি কিন্তু পুলিশ সাধারণত রাস্তার অভাবে এই জায়গায় যেতে পারে না। নকশাল প্রভাবিত এই সব এলাকা জুড়েই ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে” বলেছেন অরুণ কুমার।

 একজন বর্ষীয়ান আইপিএস অফিসার বলেন, মাওবাদীদের পক্ষে গুলি করে ড্রোন ভূপাতিত করার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ ড্রোন গুলো উড়বে ১৫০০ মিটার উচ্চতায়, আর মাওবাদীদের AK 47 এর গুলির দূরত্ব ৫০০ মিটারের বেশি নয়।

সূত্রঃ http://timesofindia.indiatimes.com/city/patna/Drones-to-keep-watch-on-Red-zone/articleshow/48949185.cms


সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন জাপানের চর: মার্কণ্ডেয় কাটজু

katju-655x360

[ব্লগ থেকে হুবহু অনুবাদ করে দেওয়া হল]

আমি বাঙালিদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি৷ তাঁরা অত্যন্ত ধীশক্তিসম্পন্ন, উচ্চ সংস্কৃতির মানুষ৷ সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন ও সামাজিক সংস্কারে মহান অবদান রয়েছে তাঁদের৷

পরিতাপের বিষয় যে, সেই তাঁদেরই অনেকের মধ্যে কিছু অন্ধত্ব রয়েছে৷ বহু বাঙালির সঙ্গেই কোনও বাঙালি ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে যুক্তি সহকারে কথা বলা এক কঠিন ব্যাপার৷ বিশেষ করে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা সুভাষ চন্দ্র বসু সম্পর্কে কোনও প্রশ্নই তোলা যাবে না৷ কারণ, বাঙালিদের চোখে তাঁরা ঈশ্বরতুল্য৷এঁদের সামান্যতম সমালোচনা করা মানে বাঙালিদের নিন্দামন্দ, বিদ্বিষ্ট কটুকাটব্য ও গালমন্দের শিকার হওয়া৷

আমি যখন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলাম তখন আমারই এক সহকর্মী বিচারপতির বাড়িতে একবার আড্ডা মারছিলাম৷ সেখানে আরও কয়েকজন বিচারপতি ছিলেন৷তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন বাঙালি৷কথায় কথায় আমি বলি, সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন জাপানিদের এজেন্ট৷ শোনামাত্র সেই বাঙালি বিচারপতি এমন খেপে গেলেন যে, তিনি প্রচণ্ড চিৎকার করতে আরম্ভ করলেন এবং পাগলের মতো হাত-পা ছুঁড়তে শুরু করে দিলেন৷আসর পাছে ভেঙে না যায়, সে কথা মাথায় রেখে আমি তৎক্ষণাৎ তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই৷

আচ্ছা, কেউ যদি যুক্তিসম্মতভাবে রবীন্দ্রনাথ কিংবা সুভাষ চন্দ্র বসুর সমালোচনা করে, তাহলে তাতে বাঙালিদের এত চটে ওঠার কী আছে বলতে পারেন? তাঁরা কি বাঙালিদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি? রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমি আমার চিন্তাভাবনা এর মধ্যেই আমার ব্লগ justicekatju.blogspot.in-এ তুলে দিয়েছি৷তাতে বলেছি যে, রবীন্দ্রনাথ কার্যত ব্রিটিশের একজন সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছিলেন৷তাঁকে ব্রিটিশরা অত্যন্ত সুকৌশলে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল (তাদের এজেন্ট কবি ইয়েটসের মাধ্যমে)৷উদ্দেশ্য ছিল, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’-র মতো বিপ্লবী সাহিত্যধারাকে তার অভিমুখ থেকে বিচ্যুত করা৷সাহিত্যকে নিতান্ত নিরামিষ, মরমীয়া এবং বোধগম্য নয় এমন আধ্যাত্মিকতার দিকে ঠেলে দেওয়া (যেমন, গীতাঞ্জলি)৷আর তাতে ব্রিটিশেরই লাভ৷

একইভাবে আমি আমার ব্লগে সুভাষচন্দ্রকে কার্যত জাপানের চর বলেও উল্লেখ করেছি৷

খবরের কাগজে পড়লাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজ্য প্রশাসনের এক্তিয়ারভুক্ত ‘নেতাজি’র সম্পর্কিত যাবতীয় দলিলপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করার কথা ঘোষণা করেছেন৷

আমার মতে, এ হল জনসাধারণের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার এক পপুলিস্ট পদক্ষেপ৷বাংলা (তথা ভারতের) মানুষ যাতে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, স্বাস্থ্য পরিষেবা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অপুষ্টির মতো প্রকৃত সমস্যাগুলি নিয়ে না ভাবে, সে কারণেই এহেন সিদ্ধান্ত৷

সর্বোপরি, এই ‘জাতীয় মনীষী’দের (যে ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন) বাস্তবিক মূল্যায়নের জন্য বাঙালি (এবং অন্যান্য ভারতীয়) জনসাধারণের সামনে এটাই প্রকৃষ্ট সময়৷

জার্মানিতে সুভাষচন্দ্র বসুর দহরম-মহরম কেবল হিটলারের সঙ্গেই হয়নি, হিমলারের সঙ্গেও তাঁর যথেষ্ট খাতির ছিল৷ বিশ্বের সব চাইতে পাষণ্ড ব্যক্তির তালিকায় এই দুজন পড়ে (এদের ছবি এখন ইন্টারনেটেও দেখতে পাওয়া যায়), লক্ষ লক্ষ মানুষকে তারা গ্যাস চেম্বারে পাঠিয়েছিল৷আর তাদের সাহায্য নিয়ে যুদ্ধের সময় ধরা-পড়া ভারতীয় ফৌজিদের নিয়ে বাহিনী গড়ে সুভাষচন্দ্র নাৎসিদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়তে চেয়েছিলেন৷কিন্তু হিটলার যখন এ ব্যাপারে কোনও আগ্রহ দেখাল না, তখন তিনি জাপানে গেলেন এবং আনকোরা-অগোছালো ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ গড়ে তুলে জাপানের সাহায্যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন৷

আমার মতে, সুভাষচন্দ্র ছিলেন একজন অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি৷ গান্ধী কিংবা হিটলার, কারও সঙ্গেই তাঁর ‘ভাব’ না জমায় তিনি শেষ পর্যন্ত জাপানের এজেন্টে রূপান্তরিত হন৷ তাঁর সামনে আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না৷

ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াইতে জাপানের ফ্যাসিস্তরা তাঁকে কাজে লাগায়, কিন্তু যে মুহূর্তে সুভাষচন্দ্রের উপযোগিতা তাদের কাছে ফুরিয়ে গিয়েছিল, তৎক্ষণাৎ তারা তাঁকে ঘাড়ধাক্কা দিয়েছিল৷

কেউ কি কখনও ভেবে দেখেছে যে, ব্রিটিশদের হারালে জাপান ভারতকে আদৌ তার স্বাধীনতা দিত কি না? দিত না৷ ভারতকে তারা তাদের আর একটা কলোনিতে পরিণত করত (ঠিক যেমনটা তারা করেছিল কোরিয়াকে, মাঞ্চুরিয়া সহ চিনের বিস্তীর্ণ অংশকে কিংবা ভিয়েতনামকে) এবং আমাদের লুট করত৷আমরা যদি তাতে বাধা দিতাম, তাহলে আমাদের দেশের মানুষকে জাপানিরা নির্বিচারে হত্যা করত৷ যেভাবে তারা নরমেধযজ্ঞ চালিয়েছিল সাংহাই, নানকিংয়ে, ঠিক তেমনটাই করত এদেশেও (সেই গণহত্যালীলার ছবি চাইলে যে কেউ ইউ-টিউবে দেখতে পারে)৷

সুভাষচন্দ্র যদি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীই হবেন, তাহলে তিনি জাপানিদের আত্মসমর্পণের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ক্ষান্ত দিলেন কেন? ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তো তাঁর গেরিলা কায়দায় যুদ্ধ চালানো উচিত ছিল?….তা কিন্তু তিনি করেননি৷ এ থেকেই বোঝা যায়, তাঁর ভিতরটা আসলে ছিল ফোঁপরা৷প্রথমে তিনি নাৎসিদের এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁকে লবডঙ্কা দেখায়৷তার পরে তিনি জাপানিদের এজেন্টে পরিণত হন, কিন্ত তারা তাঁকে প্রভুভক্ত দৌড়বাজ কুকুর হিসাবেই গ্রহণ করে৷

কিছু মানুষ জাপানের সঙ্গে সুভাষচন্দ্র বসুর এই আঁতাঁত সমর্থন করে৷তাদের মতে, তাঁর নীতিই ছিল শত্রুর শত্রু আমার মিত্র৷ কিন্তু এই নীতি কখনই সর্বজনীন বিশ্বজনীন পন্থা বলে গণ্য হতে পারে না৷তাছাড়া তখনই এই আঁতাঁতের সারমর্ম বোঝা যেত, যদি তার দরুন জাপান ভারতকে স্বাধীনতা দিত৷কিন্তু তার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না৷আবারও বলছি, আইএনএ-র সহায়তায় জাপানি ফৌজ যদি ব্রিটিশদের পর্যুদস্তও করত, তাও তারা আমাদের স্বাধীনতা দিত না৷তারা ভারতকে তাদের আর একটা কলোনিতে রূপান্তরিত করত৷জাপানের সেই সময়কার ফ্যাসিবাদী রূপ থেকেই সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল৷

সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন হল, তিনি ছিলেন একজন যারপরনাই উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং বিভ্রান্ত ব্যক্তি৷নিজের অভিলাষ এবং অহং চরিতার্থ করতে যিনি ফাউস্টের মতো এমনকী শয়তানের সঙ্গেও হাত মেলাতে প্রস্তুত ছিলেন৷বাঙালি (এবং সেইসঙ্গে অন্যদেরও) সে কথা হৃদয়ঙ্গম করার এটাই মোক্ষম সময়৷

লেখক: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/the-japanese-agent-subhas-chandra-bose.html