বলরামপুরের এই গ্রামেই রবিবার ভোরে পাওয়া গিয়েছিল সিপিআই(মাওবাদী)-র পোস্টার।

বলরামপুরের এই গ্রামেই রবিবার ভোরে পাওয়া গিয়েছিল সিপিআই(মাওবাদী)-র পোস্টার। 

আজ সোমবার সিপিআই(মাওবাদী)-র প্রতিষ্ঠা দিবস। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই মাওবাদীরা পোস্টার লাগিয়ে দিল জঙ্গলমহলের বলরামপুরে কানহা গ্রামে। ঝালদা বাসস্ট্যান্ড এলাকতেও লাল কালিতে লেখা একটি পোস্টারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। জেলা পুলিশসুপার রূপেশ কুমার অবশ্য ওই পোস্টার মেলার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘পোস্টারের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু কোনও পোস্টারই পাওয়া যায়নি।’’

জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের পোস্টার মেলার খবর নতুন নয়। এর আগে পোস্টার মিলেছে বান্দোয়ান, বাঘমুন্ডি, বারিকুল, বলরামপুরেও। রবিবার সকালে বলরামপুরের গেঁড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কানহা গ্রামে লাল কালিতে লেখা মাওবাদীদের একাধিক পোস্টার দেখতে পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। পোস্টারগুলিতে ২১ সেপ্টেম্বর সিপিআই মাওবাদীর প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পোস্টারে লেখা ছিল প্রয়াত দুই নকশাল নেতা চারু মজুমদার, কানাই চট্টোপাধ্যায়ের নামও। গ্রামে গঞ্জে সিপিআই মাওবাদীর সংগঠন গড়ে তোলারও আহ্বান ছিল পোস্টারগুলিতে। যদিও জেলা পুলিশ এ দিন এমন কোনও পোস্টার মেলার খবর মানতে চায়নি।

বছর পাঁচেক আগে যখন এলাকায় মাওবাদীরা সক্রিয় ছিল, তখন জঙ্গলমহলের এই গ্রামগুলিতে বিভিন্ন সময় তাঁদের পোস্টার মিলত। বলরামপুরের ঘাটবেড়া-কেরোয়া লাগোয়া এই গেঁড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কানহাতেও মিলেছে পোস্টার। ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর বামনি ঝোরার কাছে যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল মাওবাদীদের দুই স্কোয়াড সদস্য  বিপ্লব ও রিমিলের। রিমিল অর্থাৎ ধীরেন মুর্মুর বাড়িও কানহা লাগোয়া বেড়সা গ্রামে। অদূরে, অযোধ্যা পাহাড়ের ঢালে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষও হয়েছে। আর গত ১৫ অগস্ট এই গেঁড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গড়গা গ্রামে ও বলরামপুর-বাঘমুন্ডি সীমানায় মাওবাদীদের একাধিক পোস্টার মিলেছে। সেই ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

এ দিন কানহা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পোস্টার মেলাকে ঘিরে গ্রামে চাঞ্চল্য রয়েছে। এই গ্রামেই বাড়ি গেঁড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য পুষ্পবালা রজকের। এ দিন তাঁর বাড়ির অদূরেও কয়েকটি পোস্টার পড়েছিল। কয়েকটি পোস্টার গ্রামের রাস্তাতেও পড়ে ছিল। পুষ্পবালাদেবীর স্বামী শরত রজক বলেন, ‘‘এগুলি স্থানীয় কোনও লোকের কাজ। মাওবাদীদের নয়।’’ তাহলে কি মাওবাদী সমর্থিত জনগণ পোস্টার গুলো লাগিয়েছে?

ঘটনা হল, এই এলাকাটি ঝাড়খণ্ডের মধ্যে হলেও বান্দোয়ান থেকে খুব দূরে নয়। গত বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলার টিকরি পাহাড়ে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই হয়েছে। মাওবাদীদের একাধিক শীর্ষনেতা টিকরি পাহাড়ের শিবিরে রয়েছে এমন খবর পেয়েই যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। তবে কোনও মাওবাদী নেতাকেই পুলিশ ধরতে পারেনি। এই শিবিরে মাওবাদীদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক আকাশ, রাজ্য কমিটির সদস্য অতুল, রঞ্জিত এবং বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির সদস্য সচিন ও বেলপাহাড়ি স্কোয়াডের মদন মাহাতো ছিল বলে জানতে পেরেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। গোয়েন্দাদের দাবি, পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে বাহিনী সক্রিয় থাকায় ও একদা মাওবাদীদের অবাধ বিচরণ ছিল যে সমস্ত এলাকায় সেই এলাকাগুলিতে এখনও সেভাবে সমর্থন না পাওয়ায় তাঁরা ঘাঁটি গাড়তে পারছে না। তবে তা না পারলেও লিঙ্কম্যানদের কাজে লাগিয়ে পোস্টার লাগানোর কাজ করছে বলে খবর গোয়েন্দাদের কাছে।

পোস্টার পড়ার বিষয়টি আমল না দিলেও, জেলা পুলিশ মাওবাদীদের প্রতিষ্ঠা দিবসকে খাটো করে দেখছে না। পুলিশসুপার বলেন, ‘‘জেলাজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’’