শিক্ষায় গৈরিকিকরনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ- পূনে থেকে কোলকাতা

CM7pO62VAAAFwDg

  পূনে ফিল্ম আন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান পদে বিজেপীর সদস্য গজেন্দ্র চৌহান ও সোসাইটি সদস্যদের মধ্যে আরো চারজন সঙ্ঘ পরিবার ঘনিষ্ঠদের মনোনীত করেছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। ভারতীয় ফিল্ম ও সিনেমার ক্ষেত্রে যাদের অবদান কিছুই নেই। এদের অনেকের যোগ্যতা নিয়ে মুম্বই হাইকোর্টও প্রশ্ন তুলেছে। সেই নিয়োগগুলি নিছকই ফিল্ম ও টেলিভিশনের ওপর হিন্দুত্ববাদী নিয়ন্ত্রন কায়েমের চেষ্টা। কারন এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে বেরোনো ছাত্র-ছাত্রীরাই মূলতঃ ভারতের প্রধান ফিল্ম ও টেলিভিশন শিল্পে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা নিয়ে থাকেন। এমনকি বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী স্বাধীনভাবে প্রগতিশীল ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানানোর দিকেও চলে যান। তাঁদের সবার মগজ ধোলাই করে এই মাধ্যমটীকেই হিন্দুত্ববাদ প্রচারের অস্ত্র হিসাবে গড়ে তুলতে চায় সঙ্ঘ পরিবার ও তার নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় সরকার। এমনিতেই ভারতের প্রধান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিগুলিতে হিন্দুত্ববাদী নিয়ন্ত্রন বেশ ভালো করেই আছে। এ হলো আরো গভীরে গিয়ে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা। এই নিয়োগগুলির বিরুদ্ধে পূনে ফিল্ম আন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার ছাত্র-ছাত্রীরা একশো দিনেরও বেশি ধর্মঘট করে ফেলেছেন। ধর্মঘট না তুলে নিলে প্রতিষ্ঠানের বেসরকারীকরন থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়েও কেন্দ্র সরকার ধর্মঘট ভাঙতে পারেনি। এমনকি রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাসে পুলিশি অভিযান ও মিথ্যা মামলায় ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেপ্তারীর মাধ্যমে ভয় দেখানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আদূর গোপালকৃষনন, আনন্দ পাট্টবর্ধন, ওম পুরি, নাসিরুদ্দিন শাহ এর মতো ফিল্ম দূনীয়ার নামী ব্যাক্তিত্ব থেকে অরুন্ধুতি রায়ের মতো সমাজকর্মীরাও। মুম্বই-দিল্লি-ব্যাঙ্গালোর-কোলকাতার ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী-শিল্পীরাও আন্দোলনটির সমর্থনে পথে নেমেছেন। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা আমরণ অনশনে বসেছেন।

11825970_806577356126198_1331712012940568570_n

    কোলকাতায় এই আন্দোলনের শুরু থেকেই বিভিন্ন সমর্থনমূলক কর্মসূচী নিয়েছেন প্রথমে ফিল্মের ছাত্র-ছাত্রীরাই, তারপর প্রগতিশীল ছাত্রসমাজ। বারবার মিছিল, পথসভা, বিজেপীর পার্টি অফিস অভিযান, একদিনের প্রতীকী অনশন, প্রতিবাদী ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ধর্মঘটের একশো দিন পূর্তিতে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সংহতি জানিয়েছেন তাঁরা। এখন পরিকল্পনা চলছে সারা দেশ থেকেই আন্দোলনের পাসে দাঁড়ানো ছাত্র-ছাত্রী ও শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের কিছু কিছু অংশকে পূনেতেই কোনো অনুষ্ঠানে সামিল করার। এই আন্দোলন চলার মাঝেই খবর পাওয়া যাচ্ছে এবার জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে আরেক বিজেপী নেতা সুব্রামানিয়াম স্বামীর নাম প্রস্তাব হতে চলেছে। ফলে এই শিক্ষায় গৈরিকিকরনের বিরুদ্ধে আন্দোলন যে আরো তীব্র হবে সেটা বলাই বাহুল্য।

arundhati-roy.jpg.image.784.410

Advertisements