ভারতঃ টাকা নিয়ে মাওবাদী ধরিয়ে দিতে অস্বীকার করায় সাংবাদিকের উপর পুলিসি নির্যাতনের অভিযোগ

POLICE

শহরে সাংবাদিক নিগ্রহের কথা আমরা জানতে পারি। কিন্তু গ্রামে বা যে সব অঞ্চল সশস্ত্র দল প্রভাবিত সেই সব এলাকায় সাংবাদিকতা করা যে কী কঠিন তা আমরা হয়তো কল্পনাও করতে পারিনা। সন্তোষ যাদব। বাস্তরের গ্রামীণ সংবাদদাতা। কোন স্থায়ী সংবাদপত্রে চাকরি না করলেও তিনি একাধিক দৈনিকের হয়ে স্ট্রিংজারের কাজ করেন। গত জুন মাসে তাঁকে থানায় নিয়ে গেয়ে উলঙ্গ করে মারার তোড়জোড় করেছিল পুলিস। শেষ পর্যন্ত তা আর করেনি পুলিস। সন্তোষের অপরাধ সে পুলিসের থেকে টাকা নিয়ে মাওবাদীদের ধরিয়ে দিচ্ছে না। সন্তোষের দুর্ভোগ শুরু ২০১৩ সালে ধরবায় মাওবাদী হানায় মহেন্দ্র কর্মা সহ একাধিক নেতা কর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনার পর। তাঁর অপরাধ ঘটনার রিপোর্টিংয়ের জন্য ধরবায় সেই প্রথম সাংবাদিক যে পৌঁছেছিল। এর পর পুলিস তাঁকে ৫ লক্ষ টাকার টোপ দিয়ে মাওবাদীদের ধরিয়ে দিতে চাপ দেয়। সন্তোষ মাওবাদীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কথা অস্বীকার করলে শুরু হয় পুলিসি হয়রানি। এক মহিলাকে হয়রান করার মিথ্যা মামলায়ও সন্তোষকে ফাঁসানো হয় বলে অভিযোগ। তার পর থেকেই এক আতঙ্কের পরিবেশে থাকতে ও কাজ করতে হচ্ছে সন্তোষ যাদবকে। এই পুরো বিষয়টি বিস্তারিত রিপোর্ট করছে PUCL তাদের অগস্ট বুলেটিনে।

সূত্রঃ http://satdin.in/?p=5243


বাংলাদেশঃ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বাড়িয়ে জনগণের ওপর চাপানো হলো আর এক দফা শোষণ লুণ্ঠনের বোঝা

jonogon

আবারও বৃদ্ধি করা হলো গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য। প্রশ্ন উঠেছে এই মূল্য বৃদ্ধি কার স্বার্থে। মূল্য বৃদ্ধির যুক্তি হিসাবে বলা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ওপর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকার ঋণগ্রস্ত। জনগণের জন্য (!) এই খাতে ভর্তুকি প্রদানের কারণে সরকারের এই বিশাল দায় দেনা। এই দায় কমাতে পারলে সেই অর্থ দিয়ে দেশের প্রভূত উন্নয়নের সহায়ক হবে। সরকারের এই যুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে বিতর্ক উঠেছে। এমনকি খোদ সরকারি দল ও শরীকদের মধ্যে থেকেও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সরকারের উদ্ভাবিত যুক্তি বাস্তবে জনগণ মেনে নিতে পারছেন না। হিসেব নিকেশ করে দেখা গেছে এই খাতে যে ভর্তুকি সরকার প্রদান করে থাকে তার সুফল কখনও জনগণ ভোগ করতে পারে না। কৃষির জন্য বিদ্যুতের যে ভর্তুকি প্রদান করা হয় তা ভোগ করে গ্রামাঞ্চলের সেচ যন্ত্রের মালিক নামে এক শ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগীরা। যখনই বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয় সেচ যন্ত্রের মালিকরাও বর্ধিত হারে কৃষকের ঘাড় ভেঙ্গে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে থাকে। এছাড়া বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার গোটা জাতির ওপর চাপিয়ে দিয়েছে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল নামক বিশাল ব্যয়বহুল এক সিন্দাবাদের দৈত্য। রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকদের বিনা মূল্যে জমি প্রদান, বিনা শুল্কে যন্ত্রপাতি আমদানি, বিনা সুদে নগদ ঋণ, ভর্তুকি মূল্যে অতি সস্তায় জ্বালানি সরবরাহ এবং তাদের কাছ থেকে সরকার অধিক মুনাফা দিয়ে বর্ধিত মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করা সহ এমন কোন সুযোগ নেই যা তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে না। এর ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ৪০ ডলারে নেমে এলেও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা সেখানে সরকারের পদক্ষেপ উল্টো পথে। অথচ অতীতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চালানো হয় গণশুনানীর এক নাটক। সম্প্রতি পরিচালনা করা হয় এই গণশুনানীর নাটক। কিন্তু সেখানেও গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে নেতিবাচক ফলাফল আসে। অথচ তাদের তৈরি করা এই সকল যুক্তি তর্ক উপেক্ষা করে যখন এই মূল্য বৃদ্ধি করা হলো তখন সরকারের নিজস্ব রচিত নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর বিষয়টি প্রমাণ করে।

মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে যত যুক্তি হাজির করা হোক তার সুফল গণমানুষের জন্য নয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্টো মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে নেমে আসবে আর এক দফা বিপুল ব্যয়ের বোঝা। এমনিতেই অতি সম্প্রতি বাজেট নামক ছরওয়ারি ক্রমবর্ধিত এক জগদ্দল পাথর জনগণের ওপর চাপানো হয়েছে। তার ওপর বিদ্যুৎ গ্যাসের বর্ধিত মূল্য জনগণের জন্য গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার সামিল। বর্ধিত হারে গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য তো দিতেই হবে অন্য দিকে এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক ও আর্থিক সকল দায়ও জনসাধারণকে বহন করতে হবে। বৃদ্ধি পাবে পরিবহন (সকল যোগাযোগ মাধ্যমের) ভাড়া। বিশেষ করে গণপরিবহনের মালিকরা একে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত অযৌক্তিক ভাড়া আদায় করবে। প্রতিবারই সরকার ও মালিকপক্ষ বসে ভাড়া নির্ধারিত করলেও বাস্তবে তা কখনও মানা হয় না। এমনিতেই সরকার ভাড়া নির্ধারণের সময় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে অধিক মুনাফা ধরিয়ে দিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। তারপরেও গণপরিবহনের মালিক, শ্রমিক নামক এক ধরনের সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট দিয়ে তাদের পছন্দ মাফিক ভাড়া আদায় করে থাকে। এর ফলে যুক্ত হবে পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা।

শিল্প মালিকরাও উদ্বিগ্ন। জ্বালানির এই মূল্য বৃদ্ধির কারণে শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি বাণিজ্যে সরকারের প্রবৃদ্ধি অর্জনে নতুন করে আর এক দফা সঙ্কট চাপানো হলো বলে শিল্প উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকেরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

এতসব সত্ত্বেও নানা খোড়া যুক্তি উপস্থাপন করে দফায় দফায় বিদ্যুৎ জ্বালানির এই মূল্য বৃদ্ধি কার স্বার্থে? সরকার দায়বদ্ধ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে। বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদের পরিকল্পনা হলো রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাত থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে সরকারের দায় কমানো। অন্য দিকে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের নামে বাজেটে বিপুল ব্যয় বাড়ানো। ধারাবাহিক মন্দাজনিত কারণে সাম্রাজ্যবাদীরা ঋণ সাহায্য আগের মতো দেওয়ার অবস্থায় নেই। একচেটিয়া পুঁজির মালিকদের দেউলিয়াত্বের হাত থেকে রক্ষার জন্য নানাভাবে তাদের পেছনেই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নয়া উপনিবেশগুলোতে সরকারকে একদিকে বাজেটের মাধ্যমে বিপুল ব্যয়ের কাঠামো তৈরি করে এমডিজি অর্জনের জন্য প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর কৌশল চাপানো হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের বিশাল ব্যয়ের অর্থের যোগান দিতে হবে দরিদ্রকিষ্ট সাধারণ জনগোষ্ঠীকেই। এই জন্যই বাজেটে বর্ধিত করের বোঝা এবং করের আওতা সম্প্রসারিত করে জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে নতুন নতুন শোষণ লুণ্ঠনের বোঝা। মোট কথা পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার সঙ্কটের সকল বোঝা শ্রমিক শ্রেণী এবং নিপীড়িত জাতি ও জনগোষ্ঠীর ওপর নিষ্ঠুর শোষণ-নিপীড়ন চাপিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তৎপর। সুতরাং সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণ স্পষ্ট। সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ ও দালাল লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থেই এই মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। সে নিয়ে আর সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না।

তাই প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যতক্ষণ না শ্রমিক কৃষক জনগণের প্রকৃত স্বার্থের সরকার উপস্থিত হবে এভাবেই জনজীবনে দফায় দফায় সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণে নানা দায় চেপে বসবে। সুতরাং শোষণ লুণ্ঠন এবং দফায় দফায় অহেতুক দায় ও বোঝা থেকে রেহাই পেতে শ্রমিক কৃষক জনগণের স্বার্থের সরকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস ভিন্ন বিকল্প কিছু নেই। এমনটাই বাস্তবতা বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৫।।সংখ্যা-০৭, রোববার।। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫।।


বাংলাদেশঃ সাম্রাজ্যবাদী প্রভুর পরিকল্পনায় দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান দেখানো হচ্ছে

An artist perception of state-sponsored ISIL Takfiri terrorism

বাংলাদেশের সরকার বার বার ঘোষণা করছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে খুবই স্বোচ্চার বলে মনে হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময়ে দুই পক্ষের আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল জঙ্গিবাদ। বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো চোখ বুলালেই মনে হয় এদেশে যেন শুধু জঙ্গি আর জঙ্গি। জঙ্গিতে গোটা দেশটাই ভরে গিয়েছে। এদেশে আর জনগণ বাস করে না; সবাই জঙ্গি। টেলিভিশন সেটের সামনে বসলেই দেখা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একের পর এক জঙ্গিদের ধরছে, বিভিন্ন বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করছে, আর জঙ্গিদের আইনের হাতে সমর্পণ করছে।

দেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকার পাতা উল্টালেই জঙ্গিবাদের খবর আসে। হরেক রকমের জঙ্গি তৎপরতা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সব খবরাখবর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ধরছে, বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করছে। আবার এই সমস্ত নতুন পুরাতন জঙ্গি সংগঠন হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করছে। এই সকল খবরাখবর অবশ্য পত্রিকাগুলোর নিজস্ব সূত্র থেকে সংগ্রহ করা বলে দাবি করছে না। পত্রিকাসমূহের দাবি অনুযায়ী এসব খবরাখবর সবই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র উদ্ধৃত করা পত্রিকায় লেখা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যে সব জঙ্গিগোষ্ঠীর তৎপরতা গোয়েন্দা নজরদারীতে এসেছে, ২০০৫ সালের পর বিগত নয় বছরে এমনটা আর দেখা যায়নি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিবরণ মতো শত শত জঙ্গিকে ধরা হচ্ছে।

পত্রিকারগুলোর খবর মতো এই জঙ্গি সংগঠনের রয়েছে সব বিচিত্র নাম। আবিষ্কার হচ্ছে নতুন নতুন সব নাম। কখন যে কী নাম হচ্ছে কার তা গণমাধ্যমের খবর বার বার পড়েও মনে রাখা খুবই মুশকিল হয়ে পড়েছে। বিশেষত মুশকিল বেশি হচ্ছে এই কারণে যে জনগণ এই সব জঙ্গি সংগঠনের নাম জানে না। মনে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর কিছু গণমাধ্যই এই সব নাম ধাম জানে। পত্রিকায় সে সব খবর আসে তাদের মধ্যে আলোচিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লা বাংলা টিম, জুনুদ আত-তাওহিদ ওয়াল খিলাপা, জিহাদী গ্রুপ, শহীদ হামজা ব্রিগেড, ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট (আইএলএফ), আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ, আনসার বাংলা সেভেন, বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ, জামায়াতুল মুসলেমিন ইত্যাদি ইত্যাদি কত সব যে বিচিত্র নাম প্রকাশিত হচ্ছে তা জানার বোধ হয় শেষ নেই। পুরাতন সব জঙ্গি সংগঠন না কি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নতুন নতুন নামে সংগঠিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, গ্রেফতার এড়াতে, তারা পুরাতন নাম ব্যবহার করছে না।

এছাড়াও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার তৎপরতা সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যক্তিদের গ্রেফতারের তথ্যও প্রকাশিত হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জঙ্গি সংগঠন হিসাবে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে আইএস। বাংলাদেশের জঙ্গিরা এই আইএস এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বলে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। আল কায়দা ও আইএস নামের সংগঠনের যে বিশ্বব্যাপী তৎপরতা আছে তা কারো কাছেই হয়তো অজানা নয়। সেই সাথে আইএস, আল কায়দা সংগঠনের স্রষ্টা ও পরিচালনাকারী যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তাও এখন কারো কাছে হয়তো অজানা নয়। কিন্তু বাংলাদেশে যে সব জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতার বিষয়ে উল্লেখ করা হচ্ছে, এই সংগঠন ও তাদের তৎপরতা সম্পর্কে জনগণের সূত্র থেকে কিছু জানা যায় না। জঙ্গিদের এত বড় সংগঠন, এত তৎপরতা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ইত্যাদি ইত্যাদি তার পরও এইসব জনগণের দৃষ্টিতে কেন পড়ে না তা জনগণের কাছে অজানা। এই সব জঙ্গি তৎপরতার সাথে জনগণের কোন সম্পর্কও নেই। জনগণের সাথে সম্পর্ক না রেখে, জনগণের দৃষ্টির অগোচরে কিভাবে এই ধরনের তৎপরতা চালানো সম্ভব হচ্ছে- তা এক পরম রহস্যই বটে!

বিগত বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময়ে বাংলা ভাই, হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি ইত্যাদি জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা ছিল, যা জনগণের দৃষ্টিতে এসেছে এবং জনগণ এই সমস্ত জঙ্গি তৎপরতায় ভুক্তভোগী হয়ে ভীত, সন্ত্রস্ত্র, উদ্বিগ্ন ছিল। একদিনে এক সাথে সারা দেশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো, আদালতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিচারক হত্যা ইত্যাদি ঘটনা এই সময়েই ঘটেছে। বাংলা ভাই নামধারীরা জনগণের ওপর অকথ্য নির্যাতন, হত্যাকান্ড চালিয়েছে। বিএনপি জামাত জোট সরকারের সময়ে এই সব তৎপরতাকে জঙ্গিদের কাজ হিসাবে চিহ্নিত করে। আর এই সব মোকাবেলার নামে দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চালু করে ও জোরদার করে। বিএনপি জামাত জোট সরকারের পতনের পর আসল সত্য বেরিয়ে আসে। এই সব ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা যে বিএনপি জামাত জোট সরকারের পরিকল্পনায় ও মদতে পরিচালিত তৎপরতা ছিল এটা এখন কারো কাছে অজানা নয়। এই সব তৎপরতার সাথে তৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল এটা এখন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

10170871_525689207564644_4123077172012668702_n

সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালরাই যে দেশে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদের জন্ম দিচ্ছে তা আমরা আগেও আলোচনা করেছি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদই আল কায়দা, আইএস ইত্যাদি সৃষ্টি করেছে। আবার এই আল কায়দা ও তার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে দমনের নামে আফগানিস্তানে আগ্রাসন, দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা ও ঘাঁটি স্থাপন করেছে। আবার আফগানিস্তানের সামরিক ঘাঁটির ওপর ভিত্তি করে মধ্য এশিয়ার অন্যান্য দেশেও মার্কিন আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। ইরাক ও সিরিয়াতে আইএস মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সৃষ্টি করে আবার আইএস দমনের নামে ইরাকে মার্কিন উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। মার্কিন সাসম্রাজ্যবাদ প্রথমে বলেছিল, আইএস দমনে তিন বছর লাগবে। এখন বলছে আইএস দমনে ১০ বছর লেগে যেতে পারে। একদিকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আইএসকে সার্বিক সহযোগিতা করছে, অপর দিকে আইএস দমনের নামে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপন ও দীর্ঘ স্থায়ীভাবে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পাঁয়তারা করছে। ইরাককে কেন্দ্র করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য রয়েছে ইরাক সরকারকে পরিপূর্ণভাবে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনা; সিরিয়াতে আসাদ সরকারের পতন ঘটিয়ে মার্কিনের দালাল সরকার প্রতিষ্ঠিত করা; ইরানে ক্ষমতার পটপরিবর্তন করা বা ইরানের শাসক শোষক গোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে মার্কিন আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনের দালাল সরকারগুলোকে রক্ষা করা; মধ্যপ্রাচ্যের দালাল সরকারগুলোর প্রভু পরিবর্তনের যে কোন প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা; গোটা মধ্যপ্রাচ্য এলাকা থেকে প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদীদের অবস্থান নির্মূল করে নিজেদের অবস্থান নিরঙ্কুশ করারও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অন্যতম লক্ষ্য। আর এই সব লক্ষ্য অর্জনে মার্কিনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে আইএস।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান ও রণনৈতিক গুরুত্বের কারণে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে এদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঘোষিত নতুন রণনীতিতে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে নিয়ে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিগত ২০০১ সালেই সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঘোষণা হলো যেখানেই সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থের ওপর আক্রমণের সম্ভাবনা আছে সেখানেই তারা আগাম আক্রমণ করবে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এদেশে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের ইস্যু তৈরি করে সরাসরি আগ্রাসন, দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা ও সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া বিষয়টি কোনভাবেই বাতিল করে দেওয়া যায় না। তাই বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ নিয়ে যে হৈচৈ সৃষ্টি করা হচ্ছে তার পেছনে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসহ অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনা যুক্ত রয়েছে কি না তা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে সাথে ভারতের শাসক শোষক শ্রেণীর রয়েছে বিভিন্ন পরিকল্পনা। পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রানাধিকারের সংগ্রাম দমনে বাংলাদশের ভূখন্ড ব্যবহার, পূর্ব ভারতের জনগণের ওপর ভারতের সামন্ত-মুৎসুদ্দি শ্রেণীর শোষণ, নিপীড়ন, লুণ্ঠন জোরদার করার জন্য তাদের নিকট বাংলাদেশের ভূখন্ডের গুরুত্ব রয়েছে। সম্প্রতি ভারত সরকারও জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। পৃথিবীর যেখানেই ভারতের স্বার্থের ওপর আঘাত আসার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানেই তারা আক্রমণ করবে বলে ঘোষণা করেছে। ভারত সরকার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের জন্য সেনা অভিযান চালিয়েছে এবং আরও অন্যান্য দেশে এই ধরনের আক্রমণ চালাবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণের সাথে বাংলাদেশের জঙ্গিরা জড়িত রয়েছে বলে ভারত সরকার ঘটনার পর থেকেই দাবি করে আসছে। বর্ধমান বিস্ফোরণ নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ এর প্রকাশিত রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, বিগত ২০০৫ সালে বাংলাদেশে একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার বিস্ফোরক ভারত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারতের মাটিতে তৎপর বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন হুজির শাখা এই বিস্ফোরক সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। এই সকল তথ্য বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগজনক। দুই দেশের সরকারের পরিকল্পনায় সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ ইস্যুতে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সমন্বিত করা হচ্ছে। ভারতের শাসক শোষক শ্রেণী জঙ্গিবাদ ইস্যুতে বাংলাদেশকে যুক্ত করে জঙ্গিবাদ দমনের নামে কোন ষড়যন্ত্র করছে কি না তা নিয়ে জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

বিগত ১৯৯১ সালে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের পতন ও একক পরাশক্তি হিসাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আত্মপ্রকাশের পর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির ঘোষণা দেয়। তার এই ঘোষণাকে দেশে দেশে কার্যকরী করতে বিভিন্নভাবে শিক্ষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালায়। সেই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদেরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। বাংলাদেশও এর আওতায় ছিল। বাংলাদেশের এই প্রশিক্ষিত সাংবাদিক মহল ও তাদের গণমাধ্যমগুলো এখন দেশে শুধুই জঙ্গিবাদ আবিষ্কার করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত। জঙ্গিবাদ ইস্যুতে বাংলাদেশ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিভিন্নভাবে সমন্বিত করার প্রচেষ্টা চলছে। এই সময়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোও ব্যাপকভাবে এদেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আবিষ্কার করছে। একদিকে সাম্রাজ্যবাদের প্রশিক্ষিত গণমাধ্যম কর্মীরা ও একইভাবে সাম্রাজ্যবাদের প্রশিক্ষিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একযোগে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আবিষ্কার করছে। এর প্রকৃত তাৎপর্য কি তা জনগণের কাছে অজানা। এই সব প্রশ্নে জনগণের স্তরে অস্বচ্ছতা রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে।

আবার রহস্যজনক ঘটনা হলো দেশে যে এত এত জঙ্গি ধরা হচ্ছে তাদের বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। পত্র পত্রিকার বিভিন্ন খবর থেকে জানা যায় ধরা পড়া জঙ্গিদের অনেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়ে আবার তাদের তৎপরতা চালায়। গত ৭ জুলাই যুগান্তর পত্রিকায় ‘বিচার বন্ধ জঙ্গিদের!’ শিরোনাম করে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এই রিপোর্টে লেখা হয়েছে, “সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৩৬টি মামলায় বিচার কাজ শুরু করতে পারছে না ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। অথচ তদন্ত শেষে সবগুলো মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এসব মামলার অপরাধ আমলে নেওয়ার আগে বিধান অনুযায়ী সরকারের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। আর এ কারণেই অনুমোদন নিতে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে একের পর এক চিঠি দিচ্ছেন আদালত। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অদ্যাবধি কোন জবাব মেলেনি। এসব মামলায় যে ৪০৮ জন আসামী রয়েছে তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র ঘেটে এবং যুগান্তরের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। প্রসঙ্গত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৪০(২) ধারায় বলা আছে, সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কোন আদালত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কোন অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহণ করিবে না।” (সূত্রঃ যুগান্তর; ৭ জুলাই ২০১৫, প্রথম পাতা)।

এইভাবে ঝাকে ঝাকে জঙ্গি ধরা, দেশে ব্যাপক জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আবিষ্কার করা, অথচ তাদের বিচারের মুখোমুখি না করা বা শাস্তি না দেওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জঙ্গিবাদ দমনের নামে দেশে দেশে আগ্রাসন চালানো, প্রতিবেশী নয়া ঔপনিবেশিক ভারতের জঙ্গিবাদ দমনের নামে সামরিক অভিযান, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ দমনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার প্রচেষ্টা সব কিছু মিলে জনগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দেশের জনগণ নতুন আশঙ্কায় ভুগছে যে, জঙ্গিবাদের নামে এ দেশে সাজ্যবাদ ও তার দালাল শাসক শোষক শ্রেণী আবার কী ধরনের ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে! বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ দমনের নামে আবার কোন বিদেশি শক্তি এদেশে আগ্রাসন চালাবে কী না তা নিয়ে জনগণের মাঝে বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: সাপ্তাহিক সেবা, বর্ষ-৩৫।।সংখ্যা-০৭, রোববার।। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫।।


ভারত/পশ্চিমবঙ্গ: জীবিকা এবং বিকল্প রাজনীতি অনুসন্ধানের জন্য রাজ্য ব্যাপী প্রচারণা, অক্টোবর ১-৯

Poster--663x1024


ভারত/পশ্চিমবঙ্গঃ খাদ্য ও কাজের অধিকার অভিযান

image-300x198


ভারত/আসামঃ মাওবাদী নেতা আদিত্যকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে

01-10-15-Golaghat-Three-maoists-with-arms-arrested

শনিবার স্থানীয় একটি আদালতে হাজির করা হলে গোলাঘাট পুলিশ মাওবাদী নেতা আদিত্য বোরার দশ দিনের জন্য রিমান্ডের অনুমতি পেয়েছে। তার দুই সহযোগীকেও অধিকতর রিমান্ডের জন্যে দেরগাও থেকে পুলিশের হেফাজতে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে।

এদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি দল শনিবার থেকে আদিত্য ও তার দুই সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে কর্মকর্তারা রাজ্যের ক্রমবর্ধমান মাওবাদী কার্যক্রম উপর অনেক গোপন তথ্য হাতে এসেছে বলে দাবি করেন।

সূত্রঃ http://www.assamtimes.org/node/15347


কলকাতাঃ ৫ই অক্টোবর এপিডিআর এর প্রতিবাদ মিছিল

1336263185

৩ অক্টোবরের নির্বাচনে সংবাদ মাধ্যমের উপর শাসকদলের দুস্কৃতিদের ব্যাপক আক্রমণ,

নির্লজ্জভাবে ভোটদান ও মতপ্রকাশের অধিকার হরণ ও

বামপন্থীদের মিছিলে হিংস্র পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদে

এপিডিআর এর আহ্বানে-

প্রতিবাদ মিছিল

সোমবার ৫ অক্টোবর

বিকেল ৪ টা

জমায়েত কলেজ স্কোয়ার