ফিলিপিনের মাওবাদী গেরিলা দল ‘নিউ পিপলস আর্মি (এনপিএ)’র পরিচিতি-

08_33892

২০ মিলিয়ন ইউ এস ডলারের বিনিময়ে স্পেন ১৮৯৮ সালে আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দেয় ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জকে! একই বছরে দেশটি প্রথম রিপাবলিক সরকার গঠন করলেও স্পেনের এই অমানবিক আচরণে সহজেই অনুমেয় হয় যে এত সহজে স্বাধীনতার স্বাদ তারা পাবে না। ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ১৮৯৯ সালেই। দীর্ঘ তিন বছর এক মাস দুই দিনের এই যুদ্ধে ফিলিপাইনকে পরাজিত করে গোটা দেশটিকে কুক্ষিগত করে নেয় আমেরিকা। আমেরিকা নানা শোষণ-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ফিলিপাইনকে নিজেদের একটি অলিখিত ঔপনিবেশিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করতে লাগল। আমেরিকার সুবিধামতোই ফিলিপাইন তথাকথিত রিপাবলিক সরকার গঠিত হতে লাগল। এই টানাপড়েনের মধ্যেই শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যার পরপরই ১৯৪৬ সালের ৪ জুলাই জাপানের সহযোগিতায় সর্বপ্রথম দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই স্বাধীন দেশটির সামনে তখন অসংখ্য সমস্যা কিন্তু কোনো কিছুরই যখন যথাযথ সুরাহা পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন স্পষ্ট হতে লাগল যে ক্ষমতাসীন দল পরোক্ষভাবেও আমেরিকার হয়েই কাজ করছে। ফিলিপাইনের আপামর জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি বা স্বাধীনতা তখনো অনেক দূর। তৎকালীন সেই বিরাজমান পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্ম ও নবীন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ তীব্র আকার ধারণ করে। দেশপ্রেমের তাগিদেই ১৯৬০ সালে ‘নিউ পিপলস আর্মি (এনপিএ)’ নামে এই গেরিলা দলটির অভ্যুত্থান ঘটে। দলটি মূলত ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য ফিলিপিন (সিপিপি)’-এর আর্মড উইং। যার মূল আদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ। ১৯৬৯ সালের ২৯ মার্চ ৭২ জন যোদ্ধা ও হালকা অস্ত্র নিয়েই দেশপ্রেমের তাগিদে প্রথম মিশনে নামেন ‘সর্বহারা বিপ্লব’ কায়েম করতে চাওয়া এই গেরিলা দলটি। ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনীতে নিয়োজিত আমেরিকান কর্নেল জেমস এন রোইয়েকে হত্যার মধ্য দিয়েই দলটি তার আত্মপ্রকাশ করে। এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্য ও আমেরিকা দলটিকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী দলের তকমা লাগালেও দেশের মানুষ তাদের সমর্থন করে যাচ্ছে দ্বিধাহীনভাবে। এমনকি তাদের অর্থনৈতিক সহায়তা ও সামরিক সহায়তাও আসে দেশটির ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।

Advertisements

সেপ্টেম্বরে ৬টি সামরিক অ্যাকশন করেছে ফিলিপিনের মাওবাদীরা

ফিলিপিন মাওবাদী

ফিলিপিন মাওবাদী

ফিলিপিনের মাওবাদী দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ ফিলিপিনের সামরিক শাখা নিউ পিপলস আর্মির(NPA) উত্তর কেন্দ্রীয় মিন্দানাও অঞ্চলের মুখপাত্র কা এল্লান যুয়ানিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এ বছরে সেপ্টেম্বরের ১৩, ১৯, ২০, ২১, ২২ ও ২৯ তারিখে তারা তিনটি প্রদেশে রাষ্ট্রের ৪র্থ ID সেনা ও প্যারামিলিটারি ফৌজের  বিরুদ্ধে ৬ টি সামরিক অ্যাকশন করেছেন। এই অ্যাকশনগুলোর উল্লেখযোগ্য একটি উদাহরণ হচ্ছে, ২৬তম ID সেনাবাহিনীর সার্জেন্টকে বন্দী করা। এই সময়ের অ্যাকশন গুলোর মধ্যে একজন মাওবাদী কমরেড শহীদ হন। যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই ধরণের হয়রানি মূলক অ্যাকশন শুরু করা হয়েছে।

সূত্রঃ http://www.philippinerevolution.net/statements/20151003_six-military-actions-launched-by-npa-ncmr-on-september


বাংলাদেশঃ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রেস বিজ্ঞপ্তি

12122667_631170290358220_2918040289454810695_n

তারিখঃ ০৬/১০/২০১৫ইং

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মালিক গোষ্ঠির স্বার্থে সরকারের পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির গণ বিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টে কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আজ বিকাল ০৫টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ সকল জনস্বার্থ ও গণ বিরোধী ভূমিকার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহব্বান জানিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান খান। বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেঃ জেঃ (অব) এম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সহ সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন, বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আখতারুজ্জামান খান। পরিচালনা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি, গ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সহ একের পর এক জন স্বার্থে বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলায় মানুষের জীবন জীবিকার সংকট তীব্র হচ্ছে। তার পরও সরকার উন্নয়নের গাল ভরা বুলি আওড়াচ্ছে। অপর দিকে প্রভু সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস সর্বাত্মক করছে। আজ ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার ও ক্ষমতা প্রত্যাশী বিএনপি নেতৃত্রে ১৪ দলীয় জোট উভয়েই আজ ষড়যন্ত্র- চক্রান্তের মাধ্যমে লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। আজ তাই প্রয়োজন শ্রমিক কৃষক জনগনের রাষ্ট্র সরকার সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সা¤্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে সংগ্রাম বেগবান করা।

বার্তা প্রেরক
প্রকাশ দত্ত
সহ সাধারণ সম্পাদক


পলপট ও মাও সে তুং এর কথোপকথন

krchinaderon11

বেইজিং, ২১শে জুন ১৯৭৫

গণতান্ত্রিক বিপ্লব থেকে সমাজতান্ত্রিক পথ অবলম্বনের ক্রান্তিকালে দুইটি সম্ভাবনা রয়েছেঃ একটি সমাজতন্ত্র অপরটি পুঁজিবাদ। আমাদের পরিস্থিতি এখন এরকম। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পর কিংবা একশো বছর পর দুই লাইনের দ্বন্দ্ব থাকবে। এমনকি আজ থেকে দশ হাজার বছর পরেও দুই লাইনের দ্বন্দ্ব থাকবে। কমিউনিজম সম্পন্ন হবার পরেও দুই লাইনের সংগ্রাম থাকবে। নইলে মার্ক্সবাদী হওয়া যায় না। এটি হল বৈপরীত্যের একত্ব। দুটি দিকের কেবল একটির উল্লেখ করাকে অধিবিদ্যা বলে। মার্কস এবং লেনিন বলেছিলেন, পথটা আঁকাবাঁকা; আমি সেটাই বিশ্বাস করি।

লেনিনের আমল থেকে ক্রুশ্চেভ ও ব্রেঝনেভের আমল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন বদলে গেছে। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে এটি লেনিনের পথে ফিরে আসবে। চীনের ক্ষেত্রেও তাই। চীন ভবিষ্যতে সংশোধনবাদের দিকে যেতে পারে কিন্তু ধীরে ধীরে তাকে মার্কস ও লেনিনের পথে ফিরে আসতে হবে। লেনিনের ভাষায়, আমাদের রাষ্ট্রটি এখন একটি পুঁজিবাদীহীন পুঁজিবাদী রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পুঁজিবাদীদের অধিকার রক্ষা করে এবং বেতন সমান নয়। সাম্যের স্লোগানের আড়ালে অসাম্যের ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছে। কমিউনিজম নিষ্পন্ন হবার পরেও দুই লাইনের সংগ্রাম, অগ্রসর ও অনগ্রসরের সংগ্রাম থাকবে। আজ আমাদের পক্ষে এটা পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখা করা সম্ভব নয়।

……

চীনের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি নকল না করে নিজে চিন্তা করা উচিত। মার্ক্স বলেছেন,তার তত্ত্ব অনুশীলনের পথে একটি দিক নির্দেশনা,কোন মতবাদ নয়।


ভারত/মুম্বাইঃ ৮ই অক্টোবর সিপিআই(মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় সদস্য ‘শ্রীধর শ্রীনিবাসন’ স্মরণে সভা

Sridhar_Srinivasan