পলপট ও মাও সে তুং এর কথোপকথন

krchinaderon11

বেইজিং, ২১শে জুন ১৯৭৫

গণতান্ত্রিক বিপ্লব থেকে সমাজতান্ত্রিক পথ অবলম্বনের ক্রান্তিকালে দুইটি সম্ভাবনা রয়েছেঃ একটি সমাজতন্ত্র অপরটি পুঁজিবাদ। আমাদের পরিস্থিতি এখন এরকম। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পর কিংবা একশো বছর পর দুই লাইনের দ্বন্দ্ব থাকবে। এমনকি আজ থেকে দশ হাজার বছর পরেও দুই লাইনের দ্বন্দ্ব থাকবে। কমিউনিজম সম্পন্ন হবার পরেও দুই লাইনের সংগ্রাম থাকবে। নইলে মার্ক্সবাদী হওয়া যায় না। এটি হল বৈপরীত্যের একত্ব। দুটি দিকের কেবল একটির উল্লেখ করাকে অধিবিদ্যা বলে। মার্কস এবং লেনিন বলেছিলেন, পথটা আঁকাবাঁকা; আমি সেটাই বিশ্বাস করি।

লেনিনের আমল থেকে ক্রুশ্চেভ ও ব্রেঝনেভের আমল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন বদলে গেছে। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে এটি লেনিনের পথে ফিরে আসবে। চীনের ক্ষেত্রেও তাই। চীন ভবিষ্যতে সংশোধনবাদের দিকে যেতে পারে কিন্তু ধীরে ধীরে তাকে মার্কস ও লেনিনের পথে ফিরে আসতে হবে। লেনিনের ভাষায়, আমাদের রাষ্ট্রটি এখন একটি পুঁজিবাদীহীন পুঁজিবাদী রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পুঁজিবাদীদের অধিকার রক্ষা করে এবং বেতন সমান নয়। সাম্যের স্লোগানের আড়ালে অসাম্যের ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছে। কমিউনিজম নিষ্পন্ন হবার পরেও দুই লাইনের সংগ্রাম, অগ্রসর ও অনগ্রসরের সংগ্রাম থাকবে। আজ আমাদের পক্ষে এটা পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখা করা সম্ভব নয়।

……

চীনের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি নকল না করে নিজে চিন্তা করা উচিত। মার্ক্স বলেছেন,তার তত্ত্ব অনুশীলনের পথে একটি দিক নির্দেশনা,কোন মতবাদ নয়।

Advertisements


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.