কমিউনিস্টদের যৌথ ঘোষণা –

আন্তর্জাতিক ঐক্যের জন্য দরকার হচ্ছে এভাকিয়ানবাদী সংশোধনবাদ, মধ্যপন্থা ও সকল রূপের সংশোধনবাদকে পরাজিত করা!

poster_d3

যৌথ ঘোষণা

কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক ঐক্যের জন্য দরকার হচ্ছে এভাকিয়ানবাদী সংশোধনবাদ, মধ্যপন্থা ও সকল রূপের সংশোধনবাদকেপরাজিত করা!

এক বছর আগে কিছু দেশের নয়টি কমিউনিস্ট পার্টি ও সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে ঘোষণা করেছিল t কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক ঐক্যের জন্য দরকার হচ্ছে সংশোধনবাদ ও মধ্যপন্থাকে পরাজিত করা! [১] আবারো তারা নিন্দা জানিয়েছেন নেপালে বিপ্লবের সংশোধনবাদী বিশ্বাসঘাতকতাকে, এক নেতৃত্বকারী কেন্দ্র হিসেবে বিপ্লবী আন্তর্জাতিকতাবাদী আন্দোলনের বিলোপ ঘটেছে – এই সত্য প্রকাশ করেছেন তারা নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)র ও সেইসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি [আরসিপি ইউএসএ]র সংশোধনবাদী তত্ত্বকে প্রত্যাখ্যান করে-যা ঐ আন্দোলন (রিম)কে দেউলিয়া হওয়ার পথে চালিত করেছে। ভূয়া সংশোধনবাদী তত্ত্বমালা ও মধ্যপন্থার সমন্বয়বাদী মতাবস্থানসমূহকে চূর্ণ করে নয়া আন্তর্জাতিক ঐক্যের জন্য একটা দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাধারণ লাইনের পথে মার্কসবাদ ও সুবিধাবাদের মধ্যে এক গভীর পার্থক্যরেখা সৃষ্টি করে কমিউনিস্টদের আন্তর্জাতিক ঐক্যের জন্য সংগ্রাম করতে তাঁরা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদীদের আহ্বান জানান।

সেই সঠিক লাইন অনুসরণ করে আজকে, সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রামের শিক্ষক সভাপতি মাওয়ের নতুন জন্মবার্ষিকীতে আমরা নিন্দা জানাচ্ছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি কর্তৃক যা ২০০৮ সালে গৃহিত হয়েচিল সেই তথাকথিত এভাকিয়ানের নয়া সংশ্লেষণকে  যা হচ্ছে সংশোধনবাদের একটি রূপ হিসেবে আমাদের কালে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের ঐক্যের জন্য প্রধান বিপদ।

এটা প্রচণ্ডবাদী সংশোধনবাদের চেয়ে এমনকি অধিকতর সংশোধনবাদী এক লাইন যতদূর পর্যন্ত এটা নিজেকে “সাম্যবাদের এক অধিকতর রেডিকেল দর্শন” হিসেবে প্রকাশ করে।  আরসিপি ইউএসএ-র অনুসারে t “দর্শন ও পদ্ধতিতে নয়া সংশ্লেষণ, এক গুরুত্বপূর্ণ বোধ থেকে তার বৈজ্ঞানিক শিকড়সমেত মার্কসবাদকে অধিকতর সার্বজনীন ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে”। এভাকিয়ানের নিজ ভাষায় সে এভাবে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সমগ্র অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করছে t “ঐসকল ভুলভ্রান্তির দিকে যা চালিত করেছিল সেই ধারণা ও পদ্ধতির যতদূর ভুল ও দুর্বলতা ছিল সেগুলিও আমি সমগ্রভাবে বিশ্লেষণ করেছি।  সেই ভিত্তিতে আমি একটা সুসংবদ্ধ, সামগ্রিক ও সার্বজনীন তত্ত্বগত কাঠামো বিনির্মাণ করেছি যা হচ্ছে সংশ্লেষণ।  যদিও এই বিকাশ উদ্ভূত হয়েছে এর আগে পরে যা ছিল তার ধারাবাহিকতায়, যা কিনা এক নির্ধারক উপাদান হিসেবে পূর্বতন ধারণা ও অভিজ্ঞতার সাথে এক সত্যিকার বিভক্তি ঘটিয়েছে, আর এ কারণে আমরা একে এক নয়া সংশ্লেষণ বলি।”

মার্কসবাদী দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী পদ্ধতি বর্জনকারী এ এক বিপজ্জনক সংশোধনবাদী তত্ত্ব যা একইসাথে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের সংগ্রামে সর্বহারার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা বর্জন করে আর মার্কসবাদ ও সুবিধাবাদের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয়ের চাবিকাঠি সর্বহারা একনায়কত্বকে প্রত্যাখ্যান করে।

এ এক বিপজ্জনক সংশোধনবাদী তত্ত্ব কারণ এটা মার্কসবাদের কথিত ভুল ত্রুটিসমূহকে অতিক্রম করে এর উত্তরাধিকার হিসেবে আবির্ভাবের ভাণ করে, আসলে যা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের সাথে বিভাজন ঘটানো এক উত্তর মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী তত্ত্ব – পুরোনো ও পঁচা সুবিধাবাদী সারবস্তুসমেত এক নয়া রূপের সংশোধনবাদ।

আত্মগত ভাববাদকে আলিঙ্গন করতে আরসিপি (ইউএসএ)-এর “নয়া সংশ্লেষণ” বিপ্লবী বস্তুর গতিধারায় নির্ধারকত্বকে পাশ কাটিয়ে মার্কসবাদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে বর্জন করেছে যেখানে পুঁজিবাদের মুমূর্ষু পর্ব সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্র দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে এটা ঐতিহাসিকভাবে নির্ধারিত। এটা বিভিন্ন দেশের সমাজ ও বিপ্লবী প্রক্রিয়ার আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের নির্ধারক প্রকৃতিকে বর্জন করে বিপ্লবের প্রকৃত শক্তিসমূহকে আড়াল করে বিপ্লবী রণনীতি ও রণকৌশল নির্ধারণে অক্ষমতার দিকে চালিত করে।

“নয়া সংশ্লেষণ”-এর আত্মগত ভাববাদী পদ্ধতি তার অনুসারীদের কাছে এসেছে আজকের একমাত্র ধারাবাহিক বিপ্লবী শ্রেণী সর্বহারা শ্রেণীর বিষয়গত অস্তিত্বকে খাটো করার জন্য, একে স্রেফ একটা আদর্শ-তে নামিয়ে এনে–যা বড়জোর “নয়া সংশ্লেষণ”-এর স্বার্থের সামাজিক ভিত্তি ক্ষুদে বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায় কর্তৃক প্রতিনিধিত্ব হতে পারে, যার জন্য খোদ মার্কসের সময় হতে মার্কসবাদ বিশেষত কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক সর্বহারা শ্রেণীকে “প্রতিনিধিত্ব” করেছে। ফলতঃ “নয়া সংশ্লেষণ”-এর নির্দেশাবলীতে তরলীকৃত “বিপ্লবের জন্য একটা আন্দোলন” মতবাদ হয়ে সর্বহারা পার্টির প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়ায় স্রেফ এক আনুষ্ঠানিকতায়।

আরসিপি ইউএসএ-র “নয়া সংশ্লেষণ” হচ্ছে একটা বিপজ্জনক সংশোধনবাদী তত্ত্ব যা “পূর্বতন সকল অভিজ্ঞতার আর তার সাথে সংশ্লিষ্ট তত্ত্ব ও পদ্ধতিসমূহের প্রতি ধর্মীয়ভাবে দৃঢ়” না থাকার আবরণে বিশ্ব সর্বহারার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার ব্যাপারে দোদুল্যমান হয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক এবং রাশিয়া ও চীনে সমাজতন্ত্র বিনির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে বর্জন করে।  তাই মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী তত্ত্ব বর্জন করে যেহেতু “তত্ত্ব হচ্ছে সকল দেশের শ্রমিকদের অভিজ্ঞতার সার” [২] তাই, আরসিপি ইউএসএ বিভক্ত করে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রথম পর্ব যা মার্কস ও এঙ্গেলস কর্তৃক কমিউনিস্ট ইশতেহার দিয়ে শুরু হয়েছে এবং শেষ করে চীনে ১৯৭৬ সালে সর্বহারা শ্রেণীর পরাজয় দিয়ে; এবং আরসিপি ইউএসএ-র “নয়া সংশ্লেষণ” এবং “নয়া ইশতেহার”-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দ্বিতীয় স্তরকে তুলে ধরা হয়েছে পুরোনো মার্কসবাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর হিসেবে, আর পুরোনো ইশতেহারকে বাতিল বিবেচনা করা হয়েছে।  [৩]

একুশ শতকে বিপ্লবের সমস্যাসমূহ সমাধানে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ অপর্যাপ্ত-এই ঘোষণা করার মধ্যে প্রচণ্ডবাদী সংশোধনবাদ ও এভাকিয়ানবাদী সংশোধনবাদ যে মিলে যায় তা কোন দুর্ঘটনা নয়, আর তাই তারা সাম্রাজ্যবাদ তথা পুঁজিবাদের ক্ষয় আর তার অনিবার্য পরিণতি বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লব ও সমাজতন্ত্র–এই লেনিনবাদী তত্ত্বকে ভিত্তিহীন ঘোষণা করে। সাম্রাজ্যবাদের যুগের মার্কসবাদের বিরুদ্ধে আরসিপি ইউএসএ-এর “নয়া সংশ্লেষণ” কাউrস্কিবাদী অতি-সাম্রাজ্যবাদ-এর সাথে যুক্ত পুরোনো সংশোধনবাদী তত্ত্বমালার পুনরুজ্জীবন ঘটায়; “ভূমণ্ডলীকরণ”-এর বুর্জোয়া বুলি গ্রহণ করে; মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতি নত হয় যার কথিত অপরাজেয়তাকে কেবল বিশ্ব সর্বহারা ও জনগণ প্রতিহত করতে পারে।

সর্বহারা একনায়কত্বের দিকে শ্রেণীসংগ্রামের অনিবার্য বিকাশ এবং চীনে মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব যাতে সর্বহারা একনায়কত্বাধীনে বিপ্লব অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা মার্কসবাদের চাবিকাঠি হিসেবে নিশ্চিত করে তত্ত্বে ও অনুশীলনে শিক্ষিত হয়েছে–এসবের বিরুদ্ধে আরসিপি ইউএসএ-র “নয়া সংশ্লেষণ” প্রতিক্রিয়াশীল জন স্টুয়ার্ট মিলের কাছ থেকে ধার করা “ভিন্নমত করা অধিকার”-এর বুর্জোয়া তত্ত্ব প্রস্তাব করে যা “বহুদলীয় গণতন্ত্র”-এর প্রচণ্ডবাদী শোধিত সংস্করণে তুলে ধরা হয়েছে সমাজতন্ত্রের অধীনে বুর্জোয়াদের পুর্ণ স্বাধীনতা, মিডিয়া প্রচার ও স্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন প্রদান করতে।

আরসিপি ইউএসএ-র “নয়া সংশ্লেষণ”-এর কাছে সমাজতন্ত্রের অধীনে সর্বহারা একনায়কত্ব স্রেফ একটা “বাঁধা বুলি”, যেখানে কাউrস্কি যেমনটা বলেছে, কেবল “জনগণ” রয়েছে নেই কোন বৈরি শ্রেণীসংগ্রাম, আর বিপ্লবের অব্যাহত রাখাকে কল্পনা বিলাস ও ক্ষুদে বুর্জোয়াদের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলনে নামিয়ে আনা হয়েছে যেখানে শ্রমিক ও কৃষকরা যন্ত্র ও মৃত্তিকার লেজুড় মজুরি দাস হয়ে থাকে।  [৪]

আরসিপি ইউএসএ কর্তৃক ভণ্ডামীপূর্ণভাবে উপস্থাপিত “সাম্যবাদের নয়া পর্ব” হিসেবে “নয়া সংশ্লেষণ” আসলে বিপ্লবী মার্কসবাদের বর্জন, খোদ রিমের ১৯৯৩ সালে ঘোষণা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ জিন্দাবাদ!-এর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা; এটা হচ্ছে সর্বহারা শ্রেণীর বিপ্লবী সংগ্রামকে পরিচালনা করার পথে বাঁধা উত্তর মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ সংশোধনবাদ, আর সবচেয়ে বড় বিপদ প্রকৃত মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদীদের  ঐক্যের পথে-যারা ওদের বক্তব্যসমূহ চূর্ণ করতে এর প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র প্রদর্শন করে পুরোনো বুর্জোয়া ধ্যান ধারণার সাথে এর ঘোঁট ও ক্ষয়িষ্ণু সুবিধাবাদী তত্ত্বমালার সাথে এর একত্ব আবিষ্কার করে  নির্মম সংগ্রাম চালাতে বাধ্য।

বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবের বিজ্ঞান হিসেবে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের প্রযোজ্যতাকে আমরা পুননিশ্চিত করছি।  আমরা রক্ষা করি আমাদের মহান শিক্ষক মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্ট্যালিন ও মাওয়ের ঐতিহ্যকে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাকে, কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার, নয়া গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের বিপ্লবের বিজয়ের দিক জনগণকে নেতৃত্বে দেয়ার এবং সর্বহারা একনায়কত্বের নয়া রাষ্ট্র বিনির্মাণের মহা যুদ্ধসমূহে তার বিজয় ও পরাজয়সমূহ থেকে শিক্ষা নিয়ে।  মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের ভিত্তিতে এক নয়া কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকে ঐক্যের জন্য লড়াই করার আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা আমরা পুননিশ্চিত করছি, যা সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার ওপর বিশ্ব সর্বহারা বিপ্লবকে বিজয়ের দিয়ে নিয়ে যেতে পরমভাবে প্রয়োজন।

আরসিপির সংশোধনবাদী “নয়া সংশ্লেষণ”-এর বিরুদ্ধে t মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদ জিন্দাবাদ!

মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের ভিত্তিতে এক নয়া কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের দিকে এগিয়ে চল!

২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

আফগানিস্তানের ওয়ার্কার্স অর্গানাইজেশন (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী, প্রধানতঃ মাওবাদী)

আরব মাওবাদী

মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী কেন্দ্র–বেলজিয়াম

শ্রেণীঘৃণা কালেক্টিভ¬–স্পেন

কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী–বাংলাদেশ

পুনর্গঠন গ্রুপ–পেরু সিআরপিএম–স্পেন

লাল পতাকা কমিউনিস্ট সংগঠন–স্পেন

ইকুয়েডরের কমিউনিস্ট পার্টি–লাল সূর্য

পানামার কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)

পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি–মানতারো লাল ঘাঁটি

কমিউনিস্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী)–কলম্বিয়া

1476372_577475858991503_1672069083_n

নোটঃ ১। আরব মাওবাদী, শ্রেণী ঘৃণা কালেক্টিভ–স্পেন, কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী লেনিনবাদী মাওবাদী–ফ্রান্স, ইকুয়েডরের কমিউনিস্ট পার্টি–লাল সূর্য, পেরুর কমিউনিস্ট পার্টি–মানতারো লাল ঘাঁটি, আর্জেন্টিনার পিপল্স কমিউনিস্ট পার্টি মাওবাদী, পানামার কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী), পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি মাওবাদী একতা গ্রুপ–বাংলাদেশ ও কলম্বিয়ার ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী) কর্তৃক স্বাক্ষরকৃত যৌথ ঘোষণা

২।, জে, স্তালিন, লেনিনবাদের ভিত্তি

৩। দেখুন “কমিউনিজমt এক নয়া স্তরের সূচনা”

৪। দেখুন বৈচারিক চিন্তা ও সত্যের সন্ধান t আজকে ও সমাজতান্ত্রিক সমাজে—রেমন্ড লোট্রা

সূত্রঃ http://sarbaharapath.com/?p=291

Advertisements

গেরিলা দল ‘মন্টোনেরস’ পরিচিতি –

200px-Seal_of_Montoneros.svg

Roberto-Perdia-Montoneros_CLAIMA20130607_0183_24

১৯৬০ থেকে ‘৭০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার রাজনীতির অঙ্গন দাপিয়ে বেড়িয়েছিল মন্টোনেরস নামের একটি গেরিলা দল। ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির রেশ লাতিন আমেরিকার প্রায় সব কটি দেশেই। ক্ষমতাসীন জনবিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছিল বাম দলগুলো। তেমনি একটি গেরিলা দল মন্টোনেরস। সত্তরের দশকে আর্জেন্টিনার গণতান্ত্রিক সরকারের আড়ালে চরম আকার নেয় ফ্যাসিবাদী সরকার। প্রায় একনায়কতন্ত্রী সরকার হিসেবেই ক্ষমতার যথেচ্ছ অপব্যবহার করছিল সরকার। ফলস্বরূপ, শ্রেণীবৈষম্য ও অরাজকতা প্রকট আকার ধারণ করে। তার প্রতিবাদেই সাধারণ মানুষদের নিয়ে গড়ে ওঠে মন্টোনেরস। মূলত তরুণ ও যুবকরাই ছিল এর মূল শক্তি। প্রথম দিকে সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে চাইলেও তা ডানপন্থী সরকারের অনিচ্ছায় সম্ভব হয়নি, উল্টো অনেক ক্ষেত্রেই সরকার বেইমানি করে। অবশেষে বাধ্য হয়েই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আনুমানিক ১৯৭০ সালে গঠিত হয় মন্টোনেরস গেরিলা দলটি। সরকারের ফ্যাসিবাদী কাজে অনাস্থা জানিয়ে সরকারি ভবন ও করপোরেট কোম্পানিগুলোতে আকস্মিক হামলা চালায়। দলটির উপর্যুপরি হামলা ও জনগণের ক্ষোভের মুখে আর্জেন্টিনার স্বেচ্ছাচারী সরকার প্রায় বাধ্য হয়েই ১০ বছর পর সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করে। ১৯৭৩ সালের ওই নির্বাচনে বাম দল জনগণের রায়ে অগ্রাধিকার পেলে ১৮ বছর নির্বাসিত হওয়া অন্যতম নেতা পেরন দেশে ফিরে আসেন। তার আগমন উপলক্ষে প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন মানুষের জমায়েতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। যেখানে ডানপন্থী দলগুলো পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্নাইপারদের মাধ্যমে ওই জমায়েতের ওপর গণগুলি চালায়। যার ফলে বেশ কয়েকজন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়। আগে মিলিটারি হামলা চালালেও নির্বাচনের পর থেকে তা ভয়াবহ রূপ নেয়। গুপ্তহত্যা, শুট এট-সাইটসহ নির্মম অত্যাচার নিপীড়ন নেমে আসে বাম ওই গেরিলা দলটির ওপর। এক রকম নির্বিচারে ও গণহারে হত্যা করা হয় ওই দলের সব সদস্যকে। একদিকে সরকারি হত্যা, অন্যদিকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে বিভীষিকা ছড়ানো- সব দিকেই সচেষ্ট ছিল ডান দলগুলো। তার খানিকটা সফলতাস্বরূপ ১৯৭৯ সাল থেকে এই নামের গেরিলা দলটির আর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

 220px-Flag_of_Montoneros.svg


তুরস্কঃ কারারুদ্ধ মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MKP)-র সদস্য Hüseyin Dinçer শহীদ হয়েছেন

মাওবাদী কমরেড Hüseyin Dinç

মাওবাদী কমরেড Hüseyin Dinç

তুরস্কের কান্দিরা কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি(MKP)-র সদস্য Hüseyin Dinçer, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শহীদ হয়েছেন।

তুর্কি সরকারের হত্যার মেশিন বিপ্লবী বন্দী, সমাজতন্ত্রী ও দেশপ্রেমিকদের বিরুদ্ধে তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।  অসুস্থ বন্দীদের ‘সমাজের বিপদ’ আখ্যা দিয়ে কারাগারে তাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। সরকারের দমনমূলক রাজনীতির পরিণতি হিসেবে গতকাল এই মাওবাদী শহীদ হয়েছেন।

কারারুদ্ধের এই সময়টিতে তাকে Ümraniye কারাগার থেকে স্থানান্তর করে Tekirdağ কারাগারে, সেখান থেকে Edirne কারাগারে। সর্বশেষে এই মাওবাদী কমরেডকে আঙ্কারার কোচেলিস্থ কান্দিরার F টাইপ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

গতকাল বিকেল ৪ টার পর এই মাওবাদীর মৃতদেহ কারাগারের মর্গ থেকে আলেভি অঞ্চলে একটি স্মরণ অনুষ্ঠানের পর তার গ্রামের বাড়ীতে দাফনের জন্যে পাঠানো হয়।

সূত্রঃ http://www.nouvelleturquie.com/en/guerilla-en/imprisoned-mkp-member-huseyin-dinc-has-been-martyred/


ভারতঃ কেরলে পুলিস-মাওবাদীদের গুলির লড়াই

26_04_59_35_Maoist_guerrillas

ফের কেরলে মাওবাদীদের সঙ্গে পুলিসের সংঘর্ষ। কেরলের পালাক্কাড জেলার আত্তাপাদ্দি অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক আদিবাদী গ্রামে আজ শনিবার দুপুর নাগাদ পুলিসের সঙ্গে মাওবাদীদের গুলির লড়াই হয়। মিডিয়াকে এমনটাই জানিয়েছেন কেরলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা। গুলিতে কারো হতাহত হওয়ার খবর নেই। কেরল মাওবাদী নেতা রূপেশ সহ বেশ কয়েকজন মাওবাদীকে  পুলিস গ্রেফতার করার পর জোর ধাক্কা খায় মাওবাদীদের সংগঠন। তারপরেও আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে মাওবাদীরা।

সূত্রঃ http://indianexpress.com/article/india/india-news-india/gang-of-5-suspected-maoists-open-fire-at-police-in-kerala/


কমরেড অজিতকে মুক্ত করুন!

a

b

c

d

freeajith