‘ভারতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত চলছে’

ecc7a31398626a33ca7e19e61e2ba614_XL

ভারতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অঘোষিতভাবে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়া। দেশে দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু হত্যা এবং নিগ্রহের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আজ (বৃহস্পতিবার) কোলকাতায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়েলফেয়ারের কেন্দ্রীয় সম্পাদক শ্রী শুভ্রমনী আরমুগাম।

তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘দেশে গেরুয়া বাহিনী আদিবাসী, দলিত এবং সংখ্যালঘু নিধনে নেমে পড়েছে। দেশের বুদ্ধিজীবী তথা সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের সিউড়িতেও গত ২৪ অক্টোবর এক আদিবাসী যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেশজুড়ে অঘোষিতভাবে দলিত আদিবাসী, সংখ্যালঘু, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত চলছে।’

তিনি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান তুলে  ধরে দেশে কিভাবে দলিত, আদিবাসীদের নির্যাতন এবং অত্যাচার করা হচ্ছে তা জানান। শুভ্রমনী আরমুগাম বলেন, ২০১০ সালে ৫৭০ জন দলিতকে মহিলাকে ধর্ষণ করা হলেও ২০১৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২২৩ জন।

ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া’র মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মোকতার হোসেন জানান, ‘দলের পক্ষ থেকে দলিত আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। আগামীতে রাজ্যজুড়ে বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে পথে নামা হবে। দল মনে করে ঐক্য এবং মূল্যবোধ ভিত্তিক নীতি আদর্শের রাজনীতির প্রয়োজন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়া’র পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হাসান, রাজ্য সভানেত্রী শাহজাদী পারভীন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নইমুদ্দিন সেখ এবং রাজ্য ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জালালুদ্দিন।


মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের

farc members

কলম্বিয়ায় দেশটির বামপন্থী মার্কসবাদী ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সানটোস।

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন তিনি। সেই সঙ্গে, যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব মেনে নেয়ার মাধ্যমে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান হবে বলেও এসময় আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রায় তিন বছর ধরে চলা কলম্বিয়া সরকারের সঙ্গে ফার্ক গেরিলাদের ছয় ধাপের শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত ধাপে এসে যৃদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব দিল দেশটির সরকার।

গত জুলাইয়ে গেরিলাদের পক্ষ থেকে কলম্বিয়া সরকারকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তাদের ওপর স্থল অভিযান অব্যাহত রাখে দেশটির সেনাবাহিনী। যদিও, ওই প্রস্তাবের পর বিমান হামলা বন্ধ রাখে দেশটির সরকার।


ভারত: মাওবাদী গেরিলাদের প্রশিক্ষণ

বেশ কয়েক মাস ধরে ভারত সরকার মাওবাদী নিয়ন্ত্রিত এলাকা সমূহে মাওবাদীদের দমনের লক্ষ্যে হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। হেলিকপ্টার থেকে এই ধরণের এয়ার স্ট্রাইক প্রতিহত করতে মাওবাদী গেরিলাদের একটি প্রশিক্ষণ ভিডিও-


Non Net Fellowship বাতিল – শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছাঁটাই : কর্পোরেট পুঁজির প্রবেশ ও বৌদ্ধিক পশ্চাদপদতার প্রকল্প

a

কিছুদিন আগে UGC চেয়ারম্যান ঘোষনা করেছেন NON NET দের ক্ষেত্রে গবেষনার কাজে বরাদ্দ স্কলারশিপ আর দেওয়া হবে না আর। অর্থাৎ গবেষনার কাজে স্কলারশিপ পেতে হলে NET থাকা জরুরি। এতদিন NON NET M.PHIL গবেষকদের মাসে ৫০০০ টাকা এবং P.HD দের ক্ষেত্রে মাসে ৮০০০ টাকা দেওায়া হত;যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। সেটিও আবার ছাঁটাই হচ্ছে।
এমনিতে ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ হয়েছে ৬৯,০৭৪ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ৩%।কিন্তু মাস দুয়েক আগে সেই বরাদ্দ থেকে ছাঁটাই হয়েছে আবার তিন হাজার কোটি টাকার মত।এই অর্থ মূলত বরাদ্দ করা হয়েছিল IIT, NIT র পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এবং আরও ৭টি IIT গড়ে তোলার জন্য। এই ছাঁটাই এর ফলে NIT তে ফী বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩০০% এর মত। অন্যদিকে এই কর্পোরেট প্রেমী মোদী UGC র বরাদ্দ কমিয়েছে ৩২% এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ন গবেষনা সংস্থা ‘ ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন এন্ড রির্সাচ’(CSIR) এর বরাদ্দ কমিয়েছে ২৫%।সার্বিকভাবে এ বছর শিক্ষাখাতে প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকার মত ছাঁটাই করা হয়েছে আগের বছরের বাজেটের তুলনায়।
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছাঁটাই এবং কর্পোরেট পুঁজির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করার প্রবনতা নতুন কিছু নিয়। সেই বৃটিশ আমল থেকেই এর চলন। আসলে ঔপনিবেশিক শক্তি যেমন স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির উপর কব্জা করতে চাই তেমনি জ্ঞানভান্ডারও নিজের মুষ্টিবদ্ধ করে রাখতে চায়।

11012053_905329912893032_1587487116223284801_n
বৃটিশ সাম্রাজ্য ভারতে সায়েন্স অ্যান্ড রির্সাচ ছিল খুবই সীমাবদ্ধ; উপনিবেশ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যতটুকু প্রয়োজন ছিল ততটুকুই চালানো হত। স্বাধীন ভারতে এসে সেই চিত্র খুব একটা বদলায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে বড় বড় কতগুলি গবেষনা কেন্দ্র খোলা হলেও তা কর্পোরেট পুঁজির দাসত্ব করেগেছে। ১৯৬৪ সালে কোঠারী কমিশন সুপারিশ করেছিল, শিক্ষাকে লাভজনক ক্ষেত্র হিসাবে দেখা উচিতনা। পরবর্তী বি জি খের কমিশনের বক্তব্য ছিল GDP এর ১০% শিক্ষাখাতে খরচ করা হোক। কিন্তু সমস্ত কিছুকে ডাস্টবিনে ফেলে বেসরকারিকরণের গতি বেড়েছে বহুগুন। A.R RAJESWARI -র ‘RESEARCH AND DEVLOPMENT EXPENDITURE- DATA COLLECTION AND RELEVENT ISSUES’ প্রবন্ধে দেখা যাচ্ছে ১৯৭৬-৮৮ সালের মধ্যে বেসরকারি বরাদ্দ বেড়েছে ৪৮.৪২% থেকে ৩৬৩.৭৯ কোটি টাকা। বিষয়টি বেশ পরিষ্কার।
এবার বর্তমান দশকের কথায় আসা যাক; রির্সাচ এন্ড ডেভলপমেন্ট খাতে ভারতে খরচ করা হয় বাজেটের .9% । অনান্য দেশের মধ্যে রাশিয়া করে ১.১২%, ব্রাজিল- ১.২৫% এবং চিনের ক্ষেত্রে ১.৮৪%। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী যা অন্তত ২% হওয়া দরকার মোট GDP –র।(nature.com) এই বিশাল ঘাটতি ঢাকার জন্য 12th Five year planning এর সময়সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ছিল রির্সাচ এন্ড ডেভলপমেণ্ট খাতে সরকার ১% ব্যয় করবে এবং Private Investment হবে ১%।
এছাড়াও UGC চেয়ারম্যানের NON NET স্কলারশিপ বন্ধের পিছনে যে ‘মেধা’র যুক্তি দিচ্ছেন; NET না পাশ করলে স্কলারশিপ মিলবে না। সেটি আদতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্রছাত্রীকে গবেষনা ক্ষেত্র থেকে দূরে রাখার এবং জ্ঞানকে পুঁজির কুক্ষিগত করে রাখার প্রচেষ্টা তা প্রমাণ হয় RICHARDA VAN NOORDEN এর সমীক্ষা থেকে; যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রতি ১০০০০ জন জীবিকানির্বাহীর মধ্যে ভারতে ৪ জন গবেষণা ক্ষেত্রে আসেন যা রাশিয়া বা আমেরিকার ক্ষেত্রে ৫৮ ও ৭৯ জন।
অন্যদিকে ভারতে গবেষনার আউটপুটের দিকে নজর দিলে সরকারের সব ঢাক ফেঁসে যায়; ২০১৩ সালে সাউথ কোরিয়া পেটেন্ট ফাইল করেছে ৪৪০০ টি, আমেরিকা ৯১০,চীন ৫৪১ টি ভারতের সংখ্যা সেখানে ১৭। কাছাকাছি থাকা দেশ বলতে অর্থনৈতিকভাবে জর্জরিত ব্রাজিল, যদিও তাদের পেটেন্ট সংখ্যা ভারতের দ্বিগুণ- ৩৪টি।

প্রতিবছর ভারতে ‘নেট’ নামক গবেষনার জন্য বাছাই করার পরীক্ষা হয় বছরে দু’বার। এই পরীক্ষার ব্যাপারটা অনেকটা হাতি-গরু-ঘোড়া-বাঘকে বট গাছে চড়ে যোগ্যতা প্রমান করতে বলার মত। বছরের পর বছর গবেষনাকে সঙ্কুচিত করে এক জায়গাতে রাখতে এই পরীক্ষাটি সফল। সুতরাং, ‘নেট’ পাশ করলে তবে স্কলারশিপ পাওয়া যাবে- এই বক্তব্য রেখে, মেধার নাম করে শিক্ষার অধিকার হরণ করা ছাড়া আর কিছুনা। এই ভাঁওতাবাজির বাইরে চোখ ঘোরালে দেখি; ভারতের অন্যতম গবেষণা কেন্দ্র CSIR এর ৩৫টি গবেষনাগারের মধ্যে ২৫টি তে ফুলটাইম ডিরেক্টার আছে। দিল্লীর CSIR হেডকোয়ার্টাসেও ফুল টাইম ডিরেক্টার নেই।এমনকি গবেষনার জন্য গবেষক ছাত্রছাত্রীরা নূন্যতম সুযোগসুবিধাও পাইনা।গবেষনার সুবিধার জন্য বিদেশ ভ্রমনে যেতে চাইলে বা কোনো সেমিনারে যোগ দিতে চাইলে কোনো প্রকার সরকারি সুবিধা তারা পাইনা। আসলে পরিকাঠামো-অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে গবেষণা ক্ষেত্রকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি পর্দা এই NET নামক ধাপ্পাবাজি এবং UGC এর নতুন নিয়ম। মেধা নিয়ে প্রচুর কচকচানি আবার ফাঁপা হয়ে পড়ে এবং আসল চেহারা সামনে এসে পড়ে যখন দেখা যায় ৫ বছরের Doctorates program শেষে Post doc. করার সময় প্রায় ৮২% ‘BRAIN DRAIN’ হয় বিদেশে।
সামনের ডিসেম্বরে নাইবেরিয়াতে World Trade Org(WTO) এর সম্মেলন। দালাল মোদির প্রভুরা বসে থাকবেন উপহারের আশায়। ভক্ত মোদীও উপহার তৈরি করে ফেলেছেন অনেকগুলি- কৃষক শ্রামিক বিরোধী আইন, গেরুয়াকরণ এবং সর্বপরি NON NET FELLOWSHIP বন্ধ করে গবেষনা ক্ষেত্রেকে সঙ্কুচিত করা কর্পোরেটের দাপট বৃদ্ধির রাস্তা প্রশস্ত করা। আর আমাদের সামনের দিন জোর লড়াই।এই লড়াইটা সবার, কারণ শিক্ষা বাজারে কেনাবেচার জিনিস না আমাদের অধিকার । এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার মানুষের হাজার হাজার বছরের শ্রমের দান।বিশ্বের শিক্ষাক্ষেত্র জুড়ে কর্পোরেট হাঙরদের দাপট চূর্ণ করে এগিয়ে চলা চিলির এবং আফ্রিকার  ছাত্র আন্দোলনই দিশা দেখাচ্ছে আমাদের। বিশ্বজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসাবে- কর্পোরেট প্রভুদের ‘আচ্ছে দিন’ রুখে দিয়ে, দেশের মেহনতি জনগনের ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘আচ্ছে দিন’ নিয়ে আসার লড়াই চলছে।

লেখকঃ শুভ দীপ (United Student’s Democratic Front-USDF এর কমরেড)


ভারতঃ মাওবাদী মাথাচাড়ায় চিন্তিত কেন্দ্র

maoists-kerala-forests.jpg.image_.784.410

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে সম্প্রতি সুনির্দিষ্ট তথ্য এসেছে যে, ঝাড়খণ্ড থেকে বেশ কিছু মাওবাদী গেরিলা জঙ্গলমহল এলাকায় ঢুকে পড়েছে। ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরে সেখানে মাওবাদী দমন অভিযান শুরু হয়। তার জেরে ওই রাজ্য থেকে কমপক্ষে কুড়ি-পঁচিশ জন মাওবাদীর একটি দল জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে অবস্থান করছে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি এসে মমতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে এ বিষয়ে তাঁর উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্রও লিখিত ভাবে বেশ কিছু তথ্য কেন্দ্রকে জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে ফের মাওবাদীদের গতিবিধির খবরে চিন্তিত রাজনাথও। তিনি ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসকে ফোন করে পশ্চিমবঙ্গের সমস্যা ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ঝাড়খণ্ড সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, কোনও রাজ্য চাইলে মাওবাদী দমন অভিযান চালাতেই পারে। কিন্তু তাদের এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে, সেই অভিযানের ধাক্কায় গেরিলারা যেন পড়শি রাজ্যে পালিয়ে যেতে না পারে।

অতীতে অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু যখন মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিলেন, তখন সে রাজ্যের মাওবাদীরা রেড করিডর দিয়ে পালিয়ে ওড়িশায় চলে এসেছিল। সেই দলে পরবর্তী কালে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব পাওয়া কিষেণজি-সহ মাওবাদীদের অধিকাংশ পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন। এখন আবার ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদীরা পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় ঢুকে পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে নবান্নের দাবি, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা সিল করে দেওয়া হোক। বিশেষ করে মাওবাদী অভিযান চালানোর সময়। সেই কাজের জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে জানানো হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে পুরুলিয়া বা পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলার সীমানা শুধু পুলিশ দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা রাজ্যের দায়িত্ব হলেও মাওবাদী দমনের দায় কেন্দ্রও এড়াতে পারে না। নজরদারির পাশাপাশি রাজ্যের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের সমন্বয়ে ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে নবান্ন।

ইউপিএ আমলে দিল্লিতে মাওবাদী সংক্রান্ত বৈঠকগুলিতে নিয়মিত ভাবে হাজির থাকত পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু গত তিন বছরে রাজ্যে সেই অর্থে কোনও উপদ্রব না-হওয়ায় মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যগুলির তালিকা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তবে মাওবাদীরা ফের পশ্চিমবঙ্গে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে, এই খবর সামনে আসার পরে আগামী দিনে ফের ওই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। পাশপাশি, রাজনাথ তাঁর মন্ত্রকের আধিকারিকদের বলেছেন পশ্চিমবঙ্গ তালিকায় থাকুক বা না-থাকুক, সমন্বয়ের কাজে যেন সর্বদা পশ্চিমবঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূল এবং বিজেপির রাজনৈতিক বিবাদ থাকতেই পারে। কিন্তু মাওবাদী দমনের ক্ষেত্রে আমরা রাজনৈতিক ঐকমত্য রচনায় বিশ্বাসী। অতীতে যখন মনমোহন সিংহ ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ছত্তীসগঢ়ে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংহ কিন্তু তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্দে বা পি চিদম্বরমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলতেন। এখনও সেই পরম্পরা জারি রয়েছে।’’ রাজনাথ জানাচ্ছেন, তাঁর সঙ্গে মমতার নিয়মিত ফোনে কথা হয়। জঙ্গলমহলে যে আবার মাওবাদীরা তৎপরতা বাড়াতে চাইছে, সে বিষয়েও তিনি ওয়াকিবহাল।

রাজ্যের শাসক দলের বক্তব্য, মাওবাদী সমস্যা মোকাবিলার শ্রেষ্ঠ রাস্তা হল অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন। গত চার বছরে জঙ্গলমহল এলাকায় যা সফল ভাবে করা হয়েছে। তবে এই কাজে কেন্দ্রীয় সাহায্যও দরকার। প্রণব মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন অনুন্নত এলাকার উন্নয়ন খাতে রাজ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছিল। কিন্তু একটি বড় অংশ এখনও রাজ্যের হাতে আসেনি বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

অর্থাভাবের কারণে জঙ্গলমহলে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম খানিকটা বাধা পাওয়া ছাড়াও চার বছরের শাসনের পর প্রকৃতির নিয়মেই সেখানে খানিকটা প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মানসিকতা তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে চাইছে মাওবাদীরা। তাদের চিরাচরিত কৌশল হল, বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজেদের জনভিত্তি বাড়ানো। মহারাষ্ট্রে বিদর্ভ আন্দোলনের সময় মাওবাদীরা

সেই আন্দোলনে ঢুকে গিয়েছিল। এ রাজ্যেও তৃণমূল যখন বিরোধী দল, তখন তাদের আন্দোলনে মাওবাদীদের উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছিল। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে মাওবাদীরা ছিল বলে একাধিক বার রিপোর্ট দিয়েছেন গোয়েন্দারা।

এখন তৃণমূলের অভিযোগ, সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মমতাকে নিশানা বানাতে চাইছে মাওবাদীরা। বাম আমলে স্থানীয় সিপিএমের কর্মীরা শান্তিবাহিনী গঠন করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখত। তৃণমূলের বক্তব্য, তারাই এখন মাওবাদীদের সঙ্গে আঁতাঁত গড়ে তুলে জঙ্গলমহল অশান্ত করতে চাইছে।

এই চাপানউতোরের মধ্যে না-ঢুকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র বলছে, মাওবাদী দমনের প্রশ্নে সিপিএমের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য ছিল।
কিন্তু তৃণমূলে যেহেতু মমতাই শেষ কথা, তাই এ বিষয়ে কোনও মতের অমিল নেই। মমতা ক্ষমতায় আসার পরেই মাওবাদীদের সম্পর্কে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। যার জেরে মৃত্যু হয়েছে কিষেণজির।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/national/%E0%A6%AE-%E0%A6%93%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%AE-%E0%A6%A5-%E0%A6%9A-%E0%A6%A1-%E0%A7%9F-%E0%A6%9A-%E0%A6%A8-%E0%A6%A4-%E0%A6%A4-%E0%A6%95-%E0%A6%A8-%E0%A6%A6-%E0%A6%B0-1.230021


ভারতঃ লাতেহারে মাওবাদী-পুলিশ সংঘর্ষ, জখম ১ পুলিশ

26_04_59_35_Maoist_guerrillas

পুলিশের সঙ্গে মাওবাদীদের সংঘর্ষ হল লাতেহারের বারেসার থানা এলাকার লাটুগাঁওয়ের জঙ্গলে। পুলিশ জানিয়েছে, মাওবাদী নেতা অরবিন্দ লাতেহারের জঙ্গলের লাটুগাঁওয়ের জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর মিলেছিল। বুধবার সকালে যৌথবাহিনী সেখানে হানা দেয়। মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও মাওবাদী ধরা পড়েনি। এক পুলিশকর্মী গুলিতে সামান্য জখম হয়েছেন। মাওবাদীদের গোপন ডেরা থেকে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সূত্রঃ http://www.anandabazar.com/national/%E0%A6%AE-%E0%A6%93%E0%A6%AC-%E0%A6%A6-%E0%A6%AA-%E0%A6%B2-%E0%A6%B6-%E0%A6%B8-%E0%A6%98%E0%A6%B0-%E0%A6%B7-%E0%A6%B2-%E0%A6%A4-%E0%A6%B9-%E0%A6%B0-1.230676#


ভারতঃ ‘দণ্ডকারণ্য আদিবাসী কিষান মজদুর সংগঠন’ এর সভাপতি গ্রেফতার

343670-339001-maoists-2

রায়পুর: অস্ত্র এবং বিস্ফোরক সহ এক মাওবাদীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে ছত্তিশগড়ের কেরলাপাল-কৌয়াবেকুর এলাকা থেকে ওই মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, আটক ওই মাওবাদী দণ্ডকারণ্য আদিবাসী কিষান মজদুর সংগঠন DAKMS-এর সভাপতি। তার কাছ থেকে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোমা এবং অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে এবং পুলিশের উপর হামলা চালানোর অভিযোগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এএসপি সন্তোষ সিং জানান, মাওবাদীদের ধরতে বুধবার রাতে ছত্রিসগড়ের কেরলাপাল, কৌয়াবেকুর, ফুলবগড়ি সহ কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। তখন কেরলাপাল-কৌয়াবেকুর এলাকা থেকে ঐ মাওবাদীকে আটক করা হয়। এই মাওবাদী বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল বলে থানায় অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রঃ http://www.bengali.kolkata24x7.com/maoist-arrest-from-chattisgarh.html