জরুরী ভিত্তিতে জামিনে মুক্তির আবেদন কোবাদ গান্ধীর

12299229_1718015231755204_2719172647013927682_n

শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০১৫

বয়স ও গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরী ভিত্তিতে জামিনে মুক্তির আবেদন কোবাদ গান্ধীর

২০১৫ সালের ১০ই নভেম্বর কোবাদ গান্ধী এই লেখাটি যত দ্রুত সম্ভব প্রকাশের উদ্দেশ্যে আমাদের কাছে পাঠান। ২১শে নভেম্বর লেখাটি আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়। আমাদের সাম্প্রতিক সংখ্যায় লেখাটি আমরা প্রকাশ করছি যাতে করে পাঠকগণ তার আহ্বানে জরুরী ভিত্তিতে সাড়া দিতে পারেন।সম্পাদক ( mainstreamweekly)

RTI(Right To Information) এর জবাবে আমাকে ঝাড়খন্ড FIR এর একটি কপি পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে আমাকে গ্রেফতার করার পর এই মামলায় আমাকে জড়ানো হয়। এতে বলা হয়, ২০০৭ সালে বোকারোতে প্রায় ৫০০ এর মত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একট পুলিশ ক্যাম্পে হামলা করে। এতে অংশ নেয়া তো দূরের কথা এই হামলার কথা আমি এই প্রথম শুনলাম। এই দুর্ঘটনা যখন ঘটে সে সময় আমার নামে কোন FIR করা হয়নি। আর আজ ঘটনার নয় বছর পর ঝাড়খণ্ড পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে আসে।

অন্ধ্র প্রদেশে পুলিশ একটি ভুয়া জবানবন্দী তৈরি করে (তেলেগু ভাষায়, যে ভাষাটি আমি জানিনা) এবং এর ভিত্তিতে ১৯৯০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত প্রায় ১৫টি মামলায় আমার নাম যুক্ত করে। এই মামলায় আমার নাম জড়ানোর জন্য এই ধরনের কোন ‘জবানবন্দী’ ঝাড়খণ্ড পুলিশের কাছ থেকে কখনো আসেনি। এর আইনী সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।

পশ্চিমবঙ্গের মামলা, পাতিয়ালা ও সুরাটের মামলার বিষয়গুলিও একইরকম (এখনো এর FIR আমি পাইনি)। পাতিয়ালার মামলায়, প্রাতঃকালীন ভ্রমণে বেরিয়ে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভাষাটা তারা উল্লেখ করেনি, আর আমি পাঞ্জাবি জানিনা) মাঠে দুইজন ব্যক্তি আপাতদৃষ্টিতে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে ‘জ্বালাময়ী’ ভাষণ দিতে দেখেছে। সেই সময় ঐ ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে কোন FIR করা হয়নি। কিন্তু আমি তিহারে আসার পাঁচ মাস পর ২০১০ এর ফেব্রুয়ারি মাসে আমার বিরুদ্ধে FIR কর হয়। কোন প্রমাণ ছাড়াই কেবল গুজবের উপর ভিত্তি করে গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দিল্লির LG (Lieutenant Governor) আমার বিরুদ্ধে ২৬৮ ধারা জারী করেছে, তাই দিল্লির মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি এই মামলাগুলোতে উপস্থিত হতে পারব না; দ্রুত বিচার পাওয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার আমার আছে সেটি থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারাগারে ছয় বছর কাটানোর পরেও এই মামলাগুলোর একটিও শুরু হয়নি।

এখন দিল্লির মামলাটি শেষ হলে আমাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে আর তা হতে হবে ৬৯ বছর বয়সে গুরুতর হৃদরোগ, কিডনি ও আর্থরাইটিসের সমস্যার মধ্য দিয়ে। কার্ডিওলজিস্ট মনে করেন আমার নাড়ীর গতি ৪০ এর নিচে নেমে এলে আমার হয়তো একটি পেস মেকারের প্রয়োজন হতে পারে।

দিল্লির বিচার কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসছে এমন সময় বিজ্ঞ বিচারক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমার শারীরিক অবস্থাকে গুরুতর বিবেচনা করে তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। এই জামিনে যথাযথ চিকিৎসা (যা কিনা কারাগারে অসম্ভব) তো দূরের কথা, আমাকে এখন সারা দেশে এক আদালত/কারাগার থেকে আরেকটিতে নেয়া হবে যা আমাকে হত্যার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

উপরে উল্লেখিত সবগুলো ‘মামলাগুলোর’ (কেবল দিল্লির মামলাটি ছাড়া) প্রশ্নবিদ্ধ আইনী প্রক্রিয়া, দ্রুত বিচারের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং সর্বোপরি, আমার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করে স্বাস্থ্য/মানবিক কারণে আমাকে জামিনে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জরুরী ভিত্তিতে একটি আবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। অনুগ্রহ করে বিষয়টিকে জরুরী বিবেচনা করবেন।

কোবাদ গান্ধী

তিহার জেল ৩

উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড

হরি নগর

নয়া দিল্লি-১১০৬৪

অনুবাদ সূত্রঃ http://www.mainstreamweekly.net/article6110.html

Advertisements