ভারতঃ জেলে পড়ায় ব্যস্ত বন্দী মাওবাদীরা

alipore-jail-300x169

আলিপুর জেলে এই মুহূর্তে বন্দী মাওবাদীরা উদয়াস্ত পড়াশোনায় ব্যস্ত। পয়লা বাইশ সরগরম। কেউ স্নাতক স্তরের প্রস্তুতি, কেউ আইনের ভারী ভারী বই প্রায় মুখস্ত করে ফেলেছেন। কার্যত পরিস্থিতি যা, রোজ সকালে ৯ জন মাওবাদীই একেবারে ছাত্রের মতো রোদে পিঠ দিয়ে শব্দ করে পড়াশোনা করছেন। পয়লা বাইশ সেলের এখন অন্য বন্দীদের কাছে ‘কোড নাম’ স্কুলপাড়া। স্নান, খাওয়া আর ঘুম বাদে, তারা কোনও আমোদ–প্রমোদে যাচ্ছেন না। কারও আবার খবরের কাগজ ও ইংরেজি ম্যাগাজিন পড়ে ঠোঁটস্থ দেশ–বিদেশের হাল–হকিকত। এঁদের মধ্যে নজর কেড়েছেন পুরুলিয়ার একসময়ের মাওবাদী নেতা অর্ণব দাম। একসময় খড়্গপুর আই আই টি–র পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়াশোনা বন্ধ। এখন ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাসে স্নাতক হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অসীম ভট্টাচার্য অবশ্য একসময় তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন। এখন আইনের বই পড়ে মুখস্থ করছেন। সময় পেলেই অন্য বন্দীরা তাঁর কাছে গিয়ে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন। অর্ণব দাম কারা কর্তৃপক্ষের কাছে এখনই আবেদন জানিয়ে রেখেছেন, গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার পর তাঁর উচ্চতর পড়াশোনা যেন বন্ধ না করা হয়। সদানালা রামকৃষ্ণ (এক সময় দলের আর্টিলারি কমান্ডার) সকালে উঠেই ইংরেজি খবরের কাগজ নিয়ে পড়া শুরু করেন। তার পর ইংরেজি ম্যাগাজিন। সমমতাদর্শের বন্দীদের সঙ্গে দেখা হলে দেশ, রাজনীতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়ে যায়। পতিতপাবন হালদার, মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলির মাওবাদী নেতা দীপক কুমার (তেলুগু দীপক নন), সুকুমার হালদার, বাপি মুদি, সন্তোষ দেবনাথ— প্রত্যেকেই লেখাপড়ায় ব্যস্ত। মাঝখানে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী সন্তোষ দেবনাথের পেসমেকার বসল বুকে। তিনি এখন সুস্থ। সুস্থ হয়েই পড়াশোনা শুরু করেছেন। বাপি মুদির মাঝখানে চোখের সমস্যা হয়েছিল। একেবারেই দেখতে পাচ্ছিলেন না। এখন চোখ খানিকটা ভাল। তিনিও বই নিয়ে ব্যস্ত। বাপি মুদি একসময়ের তাত্ত্বিক নেতা মাওবাদীদের। ভাষণ শুরু করলে দুই থেকে দুশো লোক মুগ্ধ হয়ে শুনতেন। পুলিস এমনই রিপোর্ট দিয়েছিল এক সময়। পয়লা বাইশ সেলের মাওবাদী বন্দীদের অন্যরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। কারারক্ষীরাও মাঝে মাঝে তাদের থেকে জানতে চান কী বই, কী লেখা পড়ছেন। অর্ণব দাম অবশ্য একেবারেই বইপোকা। কথা কম, পড়া বেশি। তাকে খুব তাড়াতাড়ি স্নাতক হতেই হবে— জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষকে।

সূত্রঃ http://aajkaal.in/kolkata/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%AC/

Advertisements

আমেরিকায় বন্দুকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ হচ্ছেনা কেন ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সে দেশে আগ্নেয়াস্ত্র আইন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বহুবার কথা বলেছেন। কিন্তু আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা যাচ্ছেনা।

২০১৫ সালে আমেরিকায় বন্দুক হামলায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার।

বড় ধরনের যেসব ঘটনা ঘটে – অর্থাৎ কোন স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, অথবা কোন বড় জমায়েতে হামলার মতো ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে খবর হয়।

কিন্তু প্রতিদিন আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে এমন অনেকে মারা যায়, যেটি কোন খবর হয়না।

পলিটিফ্যাক্ট-এর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে ১৯৬৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বন্দুক বা পিস্তলের গুলিতে আমেরিকায় ১৪ লাখ মানুষ মারা গেছে।

বন্দুকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার ক্ষোভ এবং হতাশা বেড়েই চলেছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর থেকে মি: ওবামা এনিয়ে ১৫বার বন্দুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকায় বন্দুকধারীদের হামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি বরাবরই উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছেনা।

আমেরিকায় এখন কতগুলো পিস্তল বা বন্দুক ব্যবহার করা হচ্ছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই।

তবে ধারনা করা হয়, এই সংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি। এই সংখ্যা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার সমান।

প্রেসিডেন্ট ওবামা বন্দুকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও সেটি সম্ভব হচ্ছেনা। কারণ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আইনপ্রণয়ন করেতে মার্কিন কংগ্রেসে যথেষ্ট সমর্থন নেই।

এমন প্রেক্ষাপটে হতাশ প্রেসিডেন্ট ওবামা সংবাদমাধ্যমকে একটি বিষয় তুলনা করার আহবান জানিয়েছেন। সেটি হচ্ছে- সন্ত্রাসী হামলায় আমেরিকার কতজন নাগরিক মারা গেছে আর অন্যদিকে নিজ দেশে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে কতজন মারা গেছে?

তিনি বলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর সন্ত্রাসী হামলা থেকে নিজেদের নাগরিকদের রক্ষা করতে এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে।

অথচ সন্ত্রাসী হামলায় যে পরিমাণ লোক মারা যায়, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় আমেরিকার অভ্যন্তরে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে।

বিভিন্ন জরিপের কথা উল্লেখ করে মি: ওবামা বলেন, আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পক্ষে।

যেখানে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট এবং দেশের অধিকাংশ জনগণ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে, তারপরে সেটি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন করা যাচ্ছেনা। সমস্যাটা কোথায়?

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে বলা হচ্ছে ,আমেরিকার ৮০ শতাংশ জনগণ মনে করে যে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা উচিত নয়।

কিন্তু সাধারণ মানুষের মতামত এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের মতামত এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কংগ্রেস আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে।

অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের চিন্তাভাবনাকে কংগ্রেস গুরুত্ব না দিলেও চলে। সেজন্য জরিপের ফলাফলের তেমন গুরুত্ব নেই।

নির্বাচনের দিন যেসব আমেরিকান ভোট দিতে যায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিলেই চলে।

মার্কিন সিনেটে বর্তমানে পিাবলিকান সদস্য ৫৪জন এবং ডেমোক্রেটস সদস্য ৪৬জন। এখানে প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ওআয়ামিং জনসংখ্যা ছয় লাখের মতো । সেখানকার মানুষ বন্দুক ব্যবহারের পক্ষে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের জনসংখ্যা তিন কোটি ৮০ লাখ। সেখানকার মানুষ চায় বন্দুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হোক।

কিন্তু জনসংখ্যা কম হলেও ওআয়ামিং –এর দুজন সেনেটরের কংগ্রেসে যে অধিকার আছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও ক্যালিফোর্নিয়ার দুজন সিনেটরের একই অধিকার আছে।

মার্কিন কংগ্রেসের ‘জটিল হিসেব- নিকেশের’ কারণে অনেক সময় কংগ্রেসম্যানদের চিন্তাধারায় সার্বিকভাবে আমেরিকার অধিকাংশ জনগণের মনোভাবের প্রতিফলন হয়না।

সেজন্যই বন্দুকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধের জন্য প্রেসিডেন্টর আগ্রহ থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সূত্রঃ http://www.bbc.com/bengali/news/2015/12/151204_us_gun_control


নেপালের মাওবাদীরা ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে

onlinesangbad12233

নেপালের ক্যাবল টেলিভিশন অপারেটররা বলছেন, মাওবাদীদের একটি দল ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। মাওবাদী দলটি গত রবিবার নেপালে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। ভারত বিক্ষোভের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মঘটের সময় যানবাহনে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছিল। ভারতের ৪২টি টিভি চ্যানেল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নেপালে দেখা যেত। ভারতের ‘অঘোষিত অবরোধের’ পর নেপালের মাওবাদী দলটি ভারতীয় সিনেমা এবং টিভি চ্যানেল সে দেশে সম্প্রচারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। মাওবাদীরা বলছে, দেশের স্বার্থেই ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। নেপালের উপর ভারতের অঘোষিত অবরোধের কারণেই মাওবাদী এই দলটি ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার সে দেশে বন্ধ করার জন্য ক্যাবল টিভি অপারেটরদের বাধ্য করেছে। নেপালের উপর কোন ধরনের অঘোষিত অবরোধ চাপিয়ে দেবার বিষয়টি ভারত বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। এই অবরোধের কারণে নেপালে জ্বালানী তেল এবং অনেক পণ্যের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ভারত বলছে নেপালে সংবিধান সংশোধন করে হিন্দু রাষ্ট্র বাতিলের প্রতিবাদে দক্ষিণ নেপালের কিছু গোষ্ঠি এই অবরোধ করেছে। নেপালের ক্যাবল টিভি এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিবিসিকে জানিয়েছেন ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, নেপালের সার্বভৌমত্বে ভারতের ‘হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ করা হয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি