নেপালের মাওবাদীদের লাল সংবাদ

12011KM-_Pyuthan_jagga-kabja-35

ধান্দিংয়ে সিপিএন মাওবাদীর ক্যাডার গ্রেফতার

মেপালে গত ২৯শে নভেম্বর ভারতের অবরোধের বিরুদ্ধে নেত্র বিক্রম চাঁদ নেতৃত্বাধীন সিপিএন মাওবাদীর ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের সময় মালেকু-ধান্দিং রোডে ইট বহনকারী একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিপিএন মাওবাদী কুম্পুর গ্রামের সম্পাদক  শঙ্কর নারায়ণ শ্রেষ্ঠ (৩৮) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সিপিএন মাওবাদীর বিক্ষোভ

এ ছাড়া গত রবিবার ভারত কর্তৃক দামাউলি, তানাহুন সীমান্ত অবরোধের বিরুদ্ধে নেত্র বিক্রম চাঁদ নেতৃত্বাধীন সিপিএন মাওবাদী একটি গণ বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে বিপুল সংখ্যক জনগণ ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড সহকারে শহর প্রদক্ষিণ করে আসান চকে মিলিত হয়ে সভা করে। অংশগ্রহণকারীরা সীমান্ত অবরোধ সমাপ্ত করার দাবিতে শ্লোগান দেয়। এ সময় বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী বিক্ষোভে অংশ নেয়। এসব ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল এবং অবরোধের কারণে তারা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।

অনুবাদ সুত্রঃ

http://kathmandupost.ekantipur.com/news/2015-12-05/cpn-maoist-cadre-held-over-arson.html

CPN M demonstrates

Advertisements

ছবিঃ তুরস্কের মাওবাদী নারী গেরিলারা

12355127_442247332630493_151716518_n


কলকাতাঃ ১৩ই ডিসেম্বর নকশালপন্থীদের ডাকে ‘হুকুম চাঁদ চলো’

12345499_218578945139878_8447508119349985375_n

বন্ধ হয়ে যাওয়া হুকুম চাঁদ জুটমিলে সেখানকার শ্রমিকদের অবস্থা ও জুট শিল্পের সমস্যা নিয়ে তথ্যানুসন্ধানের জন্য RADICAL এর একটি টিম 6.12.15, রবিবার হালিশহর গিয়েছিল নভেম্বর বিপ্লব শতবর্ষ প্রস্তুতি কমিটির পক্ষ থেকে। সকাল থেকেই তথ্যানুসন্ধান টিমকে তাঁদের কাজে বাধা দেয় পুলিশ, শ্রমিকদের সাথে কথা বলা আটকাতে তাঁদের পেছনে পেছনে ঘুরে শ্রমিকদের ও টিমকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করতে থাকে। তাতেও আমাদের টিম ও শ্রমিকরা বিরত না হলে তথ্যানুসন্ধান টিমকে আটক করে নৈহাটি থানার পুলিশ। প্রায় ৫ ঘন্টা নৈহাটি থানায় বসিয়ে রেখে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী, এলাকার শ্রমিক, নভেম্বর বিপ্লব শতবর্ষ প্রস্তুতি কমিটি ও RADICAL এর কর্মীরা থানায় একপ্রকার অবস্থান শুরু করার পর সন্ধ্যা ৭.৩০ নাগাদ টিমের সদস্যদের PR bond এ ছাড়তে বাধ্য হয় পুলিশ। মিল বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের জীবন অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া এখন অপরাধ নয়, অপরাধ শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো। মিলমালিক ও প্রশাসনের যোগসাজশে এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। নীরবতার অর্থ সম্মতি দেওয়া। কতটা গণতন্ত্র বিরাজ করছে সারা দেশে-রাজ্যে(ক্ষমতায় যেই রাজনৈতিক দলই থাকুক) আর তারা কতটা ভীত শ্রমিক আন্দোলনের ভয়ে তারই প্রমান পাচ্ছি আমরা আবার। আসুন আমরা হুকুম চাঁদ সহ সমস্ত কারখানা, চা বাগান, কয়লা-পাথর খাদানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রমিক আন্দোলণের নতুন রূপরেখা প্রস্তুত করি।

আগামী ১৩.১২.২০১৫, রবিবার, সকাল ১১টায় সবা হুকুম চাঁদ জুটমিল(নৈহাটি) চলুন

সূচনা হোক বিকল্প শ্রমিক আন্দোলনের, আসুন রাষ্ট্রকে জানিয়ে দিই আমরা সবাই আঘাত নেমে এলে পাল্টা আঘাত ফিরিয়ে দিতে আমরা জানি, আমরা জানি আমরা জানি জনগণ যোদ্ধা, আক্রান্তের কান্নাকে তাঁরা ঘৃণা করেন।

ছাত্র-যুব-শ্রমিক-কৃষক ঐক্য জিন্দাবাদ
ইনকিলাব জিন্দাবাদ

R A D I C A L


কলকাতাঃ হুকুমচাঁদ জুটমিলে FACT FINDING TEAM এর একটি অভিজ্ঞতা ।। জুবি সাহা

201508131618215622_Situation-of-Hukumchand-jute-mill-is-not-normal-still-now_SECVPF
কাল(৬ই ডিসেম্বর) আমরা র‍্যাডিকাল এর উদ্যোগেনভেম্বর বিপ্লব শতবর্ষ প্রস্তুতি কমিটি’র পক্ষ থেকে ৫ জন ছাত্রছাত্রী হুকুমচাঁদ জুটমিলে যাই। আমরা ছিলাম সৌম্যদীপ (রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ),বাবু (সেতু প্রকাশনীর সাথে যুক্ত), সুব্রত ও গুপী(চাঁদপাড়া, ‘হককথা’ পত্রিকার সাথে যুক্ত) আর আমি জুবি(যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়)
আমরা গিয়েছিলাম একটা fact-finding team হিসেবে। এই জুটমিলে কতজন কাজ করেন, তাদের মধ্যে কতজন পার্মানেন্ট আর কতজন ঠিকা শ্রমিক, এখানকার শ্রমিকদের মধ্যে নারী-পুরুষ শ্রমিক কতজন, তাদের বেতন আদৌ সমান কি না, কারখানার ভেতরে কাজের পরিবেশ কতটা স্বাস্থ্যকর, মিল বন্ধ হওয়ার পর যে আন্দোলন চলছে তাকে ওনারা কিভাবে দেখছেন, মালিকপক্ষ কি বলছে, সরকারের কি মনোভাব, এই আন্দোলনের সাথে আশেপাশে যে আরও অনেক জুটমিল আছে সেখানকার শ্রমিকদের কিরকম সম্পর্ক- এ জাতীয় নানান বিষয় আমরা শ্রমিক বন্ধুদের কাছ থেকে জানব, এমনটাই ভাবনা নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম। প্রয়োজনে যদি সম্ভব হয় মালিক বা যেকোনো union এর নেতাদের থেকেও তাদের মনোভাব আমরা জানব।
কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল একেবারে নতুন ধাঁচের। হালিশহরে নেমে অটো চেপে দুপুর ১২ টা নাগাদ হুকুমচাঁদের গেটে পৌছতেই দেখলাম যে সেখানে প্রায় ৩০-৪০ জন পুলিশ পুরো গেটটিকে ঘিরে রেখেছে। আমরা যেতেই একজন মহিলা পুলিশ আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বললেন, “আপনারা এখানে কি করছেন?” আমরা পাল্টা জিজ্ঞেস করাতে উনি বললেন, ওনাদের কাছে বিশেষ খবর আছে, তাই এখানে দাঁড়ানো চলবে না। আমরা জানতে চাই এখানে কি ১৪৪ ধারা আছে? উত্তর আসে ‘না’, কিন্তু এখানে দাঁড়ানো চলবে ‘না’। ওখানে তখন তেমন মানুষজন ছিল না। তাই খুব বেশী বাকবিতন্ডায় না জড়িয়ে আমরা পাশেই শ্রমিক মহল্লার দিকে চলে যাই। এরপর রাস্তায় স্থানীয় কিছু ছেলেদের সাথে যেই আমরা কথা বলতে যাই, দেখি আমাদের ঠিক পেছনে (প্রায় ঘাড়ের ওপর) একটা বড় গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১৪-১৫ জন পুলিশ, র্যা ফ সমেত। এদের মধ্যে ৪ জন ক্যামেরা দিয়ে আমাদের ভিডিও করছে। আমরা জিজ্ঞেস করি, এটা কি করছেন? কিন্তু ওদের মুখে কুলুপ আঁটা। যে ছেলেরা আমাদের সাথে কথা বলছিল তারা ভয়ে চুপ করে যায়। এরপর হাঁটতে হাঁটতে আমরা এক বাড়িতে ঢুকি। ঐ পরিবারটি হুকুমচাঁদের সাথেই যুক্ত। ওনারা আমাদের সাথে কথা বলতে রাজি হন। কিন্তু নিমেষে দেখি, বাড়ির দরজায় পুলিশ ক্যামেরা আর লাঠি হাতে ঘিরে ধরেছে। আমাদের এবং ঐ পরিবারের পুরো ভিডিও হচ্ছে। এবার আমরা ওদের পরিস্কারভাবে বলি এটা কি করছেন আপনারা? কেন করছেন? আপনাদের মধ্যে কে কথা বলবেন? কিন্তু আগের মতই নিরুত্তর। শুধুমাত্র আমদের সমস্ত চলাফেরা রেকর্ড হতে থাকে। আমরা বুঝতে পারি, এভাবে যে কাজে আমরা এসেছি, সেটা আজ আর করা সম্ভব নয়। কারণ এভাবে কেউ ভয়ে মুখই খুলতে চাইবে না। সিদ্ধান্ত নেই, আমরা এই মুহূর্তেই বাইরের বন্ধুদের, APDR, MEDIA সহ সমস্ত জায়গায় জানাবো এটা। একটা চায়ের দোকানে বসে ফোন করতে শুরু করি। সেটাও অবশ্য ক্যামেরাবন্দী অবস্থাতেই!
ইতিমধ্যে প্রথমে আমরা যে ছেলেদের সাথে কথা বলেছিলাম, তাদেরই মধ্যে একজন আমাদের কাছে এসে বলে, তোমাদের ওরা তুলবে। তোমরা চায়ের পয়সা দিও না। আমরা দেবো। আমরা বুঝতে পেরেছি, তোমরা ক্রান্তিকারী। এই অল্প সময়ে এটা আমাদের কাছে সত্যিই বড় পাওনা এবং উনি এটা আশেপাশের সবাইকে বলতে থাকেন। উনিও ক্যামেরার আওতাতেই ছিলেন!
পুলিশ চেয়েছিলো এলাকায় একটা মারাত্মক আতঙ্ক তৈরি করে কথাবার্তার সমস্ত পথ বন্ধ করতে আর এই খবরটা যাতে বাইরে না ছড়ায়, সেই ব্যবস্থা করতে। কিন্তু যখন দেখে তা হচ্ছে না, ওখানকার মানুষেরাও জানছেন আর এদিকে বাইরেও এটা সবাই জানছে, তখন ওরা সিদ্ধান্ত নেয় আমাদের তোলার, নিমেষে বড় বড় ৩টে গাড়ি ঢোকে, সঙ্গে প্রচুর force এবং বড়বাবু। গাড়ি থেকে পুরো DABANG এর কায়দায় বড়বাবু নেমে বললেন,“১ মিনিটের মধ্যে এখান থেকে বেড়িয়ে যা!” আমরা যখন বলি ‘কেন?’, উত্তর আসে ‘তোল সবকটাকে।’ শুরু হয় ঘুষি, লাথি, মার। তোলে গাড়িতে। থানায় নেমেই আমদের সবার ফোন, ব্যাগ কেড়ে নেয়। তারপর চলতে থাকে দফায় দফায় জেরা, ছবি তোলা আর Address বলা। প্রত্যেককে প্রায় ৩-৪বার করে জেরা করেছে ACP, STF, SPECIAL BRANCH এর অফিসার। জেরার সময় আমার ফোনের মেসেজ পুলিশ নিজের ফোনে আমকে দেখাচ্ছে। বুঝলাম ফোনের সবকিছু ওদের আওতায়। এরপর শুরু হয় প্রত্যেকের বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি। সৌম্যদীপের পাড়ায় তো পুলিশ ওকে ISIS এর চর বলে রটিয়ে দিয়েছে। কারণ ওর মুখে হাল্কা দাড়ি আর ও হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। ইতিমধ্যে বাইরে আমাদের অনেক বন্ধু অপেক্ষা করছিলো। তাদের এবং আমাদের প্রতিনিয়ত চাপের মুখে আমরা রাত ৮.৩০টায় মুক্তি পাই।
এই শ্রেণীবৈষম্যে ভরা সমাজের যে প্রান্তে আমরা থাকি তার উল্টো দিকের চেহারাটাকে আমরা জানতে গিয়েছিলাম, মেলাতে চেয়েছিলাম এই দুই প্রান্তকে। শ্রমিক-কৃষক-ছাত্রের যে ঐক্যের কথা আমরা মুখে বলি, তাকে বাস্তবায়িত করতে। আর এই ঐক্যকে যে রাষ্ট্রব্যবস্থা কতটা ভয় পায়, তা খুব ভালোভাবে আরও একবার টের পেলাম। তাই সেই ঐক্য গঠনের ন্যূন থেকে ন্যূনতম সম্ভাবনাকে সে গোড়াতেই মেরে ফেলতে চায়। কিন্তু পারবে কি? আমাদের চ্যালেঞ্জ এখন একটাই হওয়া উচিত যে সে ঐক্য আমরা গড়বোই। গণতন্ত্রের যে রিসার্ভ ফরেস্টে আমরা থাকি সেখান থেকে বেরিয়ে সেই সমস্ত জায়গায় আমরা যাবো যেখানে গণতন্ত্রের ‘গ’ নেই। ইতিমধ্যে অনেকেই হুকুমচাঁদে গেছেন, তাদের সবার কাছে আবেদন রইল চলুন আবার আমরা সবাইমিলে একসাথে আগামী ১৩ তারিখ হুকুমচাঁদে যাই। আর রাষ্ট্রের চোখরাঙ্গানির মুখে থুতু ছিটিয়ে বলে আসি
শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুব ঐক্য জিন্দাবাদ।’