স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধে অংশ নেয়া এক রুশ সেনার স্মৃতিচারণ

soviet snipers

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্তালিনগ্রাদ শহরের দখল নিয়ে জার্মান নাৎসি বাহিনী এবং তার মিত্রদের সঙ্গে সোভিয়েত বাহিনীর যুদ্ধের সময় নাৎসি বিমান হামলা থেকে নারী ও শিশুদের রক্ষায় নিজেদের বুক দিয়ে তাদের আগলে রাখেন সোভিয়েত সেনারা। স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধটি ছিল দুই পক্ষের অনেকগুলো সামরিক অভিযানের মিলন। ওই যুদ্ধে একদিনেই নাৎসি বিমান হামলায় ৪০ হাজার বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারায়। স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা নিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে এসব বলেন সেদিন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়া সাবেক এক সোভিয়েত সেনা। এ্যালেক্সি স্টিফানভ নামে ৯০ বছর বয়সী সাবেক এই সেনাসদস্য বলেন, সেদিন নাৎসি সেনারা সোভিয়েত সেনাদের পেছন থেকে আক্রমণ করলেও সোভিয়েত সেনারা পালিয়ে যায়নি। স্তালিনগ্রাদের লড়াই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। খবর ওয়েবসাইটের।
তিনি বলেন, রেড আর্মিরা নাৎসি সেনাদের সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে হটানোর আগে ২শ’ দিনে নাৎসি প্রায় ২০ লাখ লোককে হত্যা করে। আর এই ঘটনাটি পুরো যুদ্ধের হিসাব নিকাষ পাল্টে দেয়। ২ ফেব্রুয়ারি স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধের ৭০তম বার্ষিকী পালন করে রাশিয়া। রাশিয়ার ভলগা নদীর তীরের পশ্চিমদিকে অবস্থিত সে সময়ের স্ট্যালিনগ্রাদ শহরের বর্তমান নাম ভলগোগ্রাদ। শনিবারের ওই অনুষ্ঠানে রাশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও যোগ দেন। ১৯৪২ সালের আগস্টে স্তালিনগ্রাদে আসেন নৌ সেনা এ্যালেক্সি স্টিফানভ। এর কয়েক মাস পরই শহরটিতে হামলা শুরু করে হিটলার বাহিনী। ওই সময় তিনি স্তালিনগ্রাদের মতো একটি বিকাশমান শিল্প শহরকে নাৎসি রুমানীয়, ইতালীয়, হাঙ্গেরীয় এবং স্প্যানিশ সেনাদের গোলা ও বিমান হামলায় ধ্বংস হতে দেখেছেন। ওই সময় শহরটি থেকে মাত্র এক লাখ লোককে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছিল। আর বাকিরা পরিখা তৈরি করতে প্রাণপণ চেষ্টা করে।
যুদ্ধের সময় স্তালিনগ্রাদ থেকে রেড আর্মিকে সরে না যেতে নির্দেশ দেন যোশেফ স্তালিন। শুধু নারী, শিশু, আহত সেনাকে নিরাপদে যাওয়ার অনুমতি দেন তিনি। ১৯৪২ সালের ২৩ আগস্ট স্তালিনগ্রাদে নাৎসি বাহিনীর হামলার চিত্রটি এখনও পুরোপুরি মনে করতে পারেন স্টিফানভ। তিনি বলেন, সেদিন নাৎসি বাহিনীর বিমান ও গোলা হামলায় পুরো স্তালিনগ্রাদ জ্বলন্ত পুরীতে পরিণত হয়। শত শত সোভিয়েত সেনা গুরুতর আহত হন। তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত দালানের মধ্যে আটকে পড়া নারী ও শিশুদের উদ্ধার পর্যন্ত করতে পারছিল না। এক পর্যায়ে তারা আহতদের ভলগা নদী পার করতে ফেরিতে করে নিয়ে যায়। পানিতে গ্যাসোলিন এবং জ্বালানি তেল মিশে যাওয়ায় পানির ওপর আগুন জ্বলছিল। নাৎসি বিমান থেকে ফেরিটির ওপর বোমা ফেলা হয়। ওই সময় সোভিয়েত সেনারা নিজেদের বুক দিয়ে নারী ও শিশুদের আগলে রাখেন। তিনি বলেন, আমার আশপাশে অনেক সেনা গুলিতে প্রাণ হারায়। বিষয়টি আমাকে এখনও তাড়িত করে। ওই সময় কয়েক হাজার সেনার মৃতদেহকে কবর দেয়া যায়নি। আগস্ট মাসের প্রচণ্ড গরমে অনেক লাশ পচে মাটিতে মিশে যায়। সোভিয়েত ট্যাঙ্ক বাহিনী প্রচণ্ড যুদ্ধ করে জার্মান ট্যাঙ্ক বহরকে হটিয়ে দেয়। ওই সময়টি সত্যিই নরকতুল্য ছিল। ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বরে বাম হাতে আঘাত পান এই যোদ্ধা। বিষয়টি এখনও তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ্যালেক্স স্টিফানভ। পুরস্কারগুলোর মোট ওজন প্রায় ১১ কেজি। যুদ্ধের পর লুদামিলা নামে অপর এক সুপরিচিত যোদ্ধাকে বিয়ে করেন। মোট ৬৭ বছর এক ছাদের নিচে রয়েছেন তাঁরা।
জীবনের এই শেষ প্রান্তে বসে যুদ্ধ সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন, যুদ্ধ কোনও খেলা নয়, এটি সবচেয়ে ভয়ানক বিষয়। তরুণদের সবসময় এ বিষয়টি অনুধাবন করা উচিত।

সূত্রঃ http://oldsite.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=17&dd=2013-02-03&ni=124461



Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.